এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • জোছনায় তোমার সঙ্গে ভিজবো বলে

    ছুটি রায়চৌধুরী
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক


    ১০

    আসাননগর বাউল মেলায় এবার ১৮টা মঞ্চ। এর সঙ্গে বাউলদের নিজস্ব আখড়া। রাত না কাটার কোনও কারণ নেই। এ আখড়া সে আখড়া করে চক্কর দিলে চমৎকার কেটে যাওয়ার কথা। আর সময়টাও সুন্দর। শীত আসতে ঢের দেরি। শরতের মেঘমুক্ত আকাশ। আর আজ উপরি পাওনা পূর্ণিমা। কিছু ধান ফলেছে। গর্ভিনী ধানের একটা মাতাল করা গন্ধ আছে। ধান জমির কাছ ঘেঁষে মঞ্চ হয়েছে। শাহ আবদুল করিম মঞ্চ। সেখানে শুধু আবদুল করিমের গান। এক একজন শিল্পীর নামে মঞ্চে। সেখানে শুধু তার গান।

    জ্যোৎস্নায় ডুবে যেতে ইমুর মনে পড়ছিল চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় জ্যোৎস্নার এক অপরূপ রূপ চোখে পড়েছিল তার। বাবার সঙ্গে গিয়েছিল পিসির দেওরের বিয়েতে। পোলাও-মাংস ছিল দুপুরে। মুসলিম বিয়ের নিয়ম অনুযায়ী দুপুরে বিয়ে। বৈশাখ মাস। প্রচণ্ড গরম। ধূম জ্বর এসেছিল ইমুর। কিছু খেতে ইচ্ছে করছিল না। একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার আসেন। বলেন—হাঁ করো তো খোকা।

    জিভ জ্বলে যায়। কিন্তু অদ্ভুত একটা সুন্দর ভালোলাগার জ্বালা। আশ্চর্যভাবে জ্বর ছেড়ে যায়। ফেরার সময় বাসে করে ফিরে, বিডিআর মানে বর্ধমান-দামোদর রিভার রেলওয়ে ধরে ছোট ট্রেনে এসে গোপীনাথপুরে নামা। ট্রেনে ঘুমিয়েই ছিল সে। স্টেশনে নেমে ট্রেন চলে গেলে সে দেখে সমুদ্র। সমুদ্র এল কোথা থেকে?
    সাদা ফেনার মতো থইথই করছে মাঠ। কিছু বলতেও পারছে না। কোথায় এলো সে? ঘুম-চোখেই স্টেশনের মোরাম ঘেরা পথ মাড়িয়ে রেললাইন পেরিয়ে সাদা সমুদ্রে নামল ইমু।

    সমুদ্রের জল নয়, জ্যোৎস্না সারা মাঠ ভরিয়ে রেখেছে। এই জ্যোৎস্না আর কোনওদিন দেখা যাবে? বিদ্যুৎ আর বাড়ে। জ্যোৎস্নার সর্বনাশ ঘটিয়ে দিয়েছে সভ্যতা। তবে পুরোপুরি পেরেছে বলে মনে হয় না। সারা পূর্ব ভারত যেদিন গ্রিড বিপর্যয়ে ডুবে গিয়েছিল। ভেসে যাচ্ছিল চরাচর। বুনো-জ্যোৎস্নায় বুনোহাঁসেরা চরতে আসেনি। বা ঘোড়ারাও খেতে আসেনি ঘাস। জলহীনতা আর গরমের আতঙ্কে ডোবা কলকাতায় জ্যোৎস্নার চাদর বিছানো মাঠ-বাড়িগুলো অলৌকিক উপাখ্যানের বুনন মনে হয়েছিল ইমুর।

    আজ সে রকম না হলেও অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল বলে সব আলো নিভিয়ে দাও। থামিয়ে দাও মাইকের আওয়াজ। এই মেলার মাঠের সব মানুষ স্নান করুক শারদ জ্যোৎস্নায়। লালনের গানে ভেসে যাক হৃদয়। শুধু মঞ্চ নয়, একটা মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক গান। সবাই মিলে এক সুরে গাইতে গাইতে চলুক ধানের বুনো গন্ধ নিয়ে অনির্দেশ্যতার পথে।

    এই সব এলোমেলো ভাবনার তার ছিঁড়ে দিল মাইকের ঘোষণা—
    — বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও লেখক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ইমুদাকে মঞ্চে এসে কিছু বলার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    বিব্রত ইমু না-না করার মাঝেই তাকে প্রায় ঠেলে মঞ্চে তুলে দিল উদ্যোক্তারা।
    ইমু বলিয়ে ভালো। কিন্তু আজ সে মনস্থির করতে পারছিল না। —কী বলবে। তারপর সাত-পাঁচ না ভেবেই সে বলল তার স্বপ্নের কথা।
    — বলল, লালন যদি বেঁচে থাকতেন তবে এমন মায়াবী জ্যোৎস্নায় কী করতেন? মাইক বেঁধে মঞ্চে গান করতেন? না সবাই মিলে বেরিয়ে পড়তেন গানের পরিক্রমায়? চলুন, আমরা আলো নিভিয়ে জ্যোৎস্নার রেণু গায়ে মেখে লালনের গান গাইতে গাইতে হাঁটি কিছুটা পথ।

    ইমুকে আশ্চর্য করে দিয়ে নেভানো হল আলো। আর সব মঞ্চ থেকে বাউল বাউলানির দল গাইতে গাইতে থেমে গেল—হাতে থাকল কর্ডলেস মাইক্রোফোন…….

    খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়...
    ঘরের পাশে আরশিনগর সেথায় পড়শি বসত করে...

    হচ্ছে টা কী হচ্ছে টা কী বলতে বলতে অন্য মঞ্চের উদ্যোক্তারা এসেও ভেসে গেলেন শ্রোতাদের সম্মিলিত আবাহনে। সে এক আশ্চর্য মিছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষের বড় গানের দল আসাননগরের আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষের ঘুম ভাঙিয়ে দিল। ঘর থেকে একে একে বেরিয়ে এল মেলায় না যাওয়া স্ত্রী-পুরুষের দল। গানের এক মহাযাত্রা।
    জ্যোৎস্না আর গানে অন্য এক আসাননগর। এ আসাননগর আগে কেউ দেখেনি। হয়তো আর দেখবেও না।

    ১১

    ভোর থাকতে থাকতেই বের হয়ে এল ওরা। কারও নেটওয়ার্ক মিলেছে। কারও মেলেনি। সবার বাড়িতে ঠিকমতো খবর পৌঁছেছে কি না সন্দেহ। বাস রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে ভোরের কৃষ্ণনগরের ফার্স্ট বাসের জন্য। এমন সময় একটা অ্যাম্বাসেডর এসে দাঁড়াল। কেউ হাত বাড়িয়ে ডাকছে। ইমু চিনতে পারল অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তী। মেলার অন্যতম প্রধান সংগঠক। পড়ান পদার্থবিদ্যা। চর্চা লোকসংস্কৃতি।

    — আরে ইমু কাল তো কামাল করে দিয়েছো? কলকাতা ফিরবে?

    — হ্যাঁ।
    জানাল ইমু।
    — চলো আমার সঙ্গে, গাড়িতে জায়গা আছে। আড্ডা মারা হয় না অনেক দিন। জমিয়ে গপ্পো হবে। খাওয়াও।
    — না ছেলে-মেয়েরা আছে। ওদের ছাড়া যাওয়া মুশকিল!
    — যাও পিতার কর্তব্য করো। ফোন করো। যোগাযোগ রেখো। উধাও হয়ে যেও না। — দিলীপদা চেঁচিয়ে বললেন।

    — চূর্ণী ফোড়ন কাটল, স্যারের উধাও হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা বিশ্বসুদ্ধ লোক জানে দেখছি!

    অদীন বলল, আহারে যদি তোকে সঙ্গে নিত!
    — একদম ভালো হচ্ছে না, অদীন, মার খাবি। মেয়েদের হাতে মার খেতে দেখলে পাবলিক কিমা বানিয়ে দেবে।

    অদীন জবাব ভালোভাবে দেওয়ার আগেই বাস এসে গেল। সবাই হুড়মুড় করে বাসে উঠে পড়ল। দু-একটা সিট তখনও ফাঁকা। মেয়েদের সেখানে বসতে বলে বাসের লম্বা রডে হেলান দিয়ে ঝিমুতে লাগল ইমু। চোখ মেলল কৃষ্ণনগরে বাস ঢোকার পর।

    কৃষ্ণনগরে একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে দুজন আলাদা মানুষ অর্ধেক-অর্ধেক ভাড়া দিয়ে রিক্সাতে যেতে পারে। বাংলার আর কোথাও এ প্রথা নেই। আবার অচেনা দেখলে মাঝে মাঝে ভালোই গলা কাটে রিকশাওয়ালারা। সে তো সবজায়গায় হয়। নতুন কথা নয়।

    কৃষ্ণনগর কারবালা ময়দানের পর বাস আর যাবে না। টাউন সার্ভিস এখনও চালু হয়নি। অগত্যা জোড়ায় জোড়ায় রিকশায় বসে স্টেশনে এল ওরা।

    স্টেশনে রঘুদার রেলের ক্যান্টিন। কৃষ্ণনগর কলেজে পড়ানোর সময় বেশিরভাগ খেয়েছে এখানে। রঘুদার ভাই ইমুকে বাড়তি ভাত ও সব্জি দেওয়ার সময় বাটিটা ঠক করে নামাত। ছ’টাকায় পেটপুরে সবজি-ভাত। পয়সার অভাবে ইমু সবজি-ভাত খেত। বাকিরা খেত মাছ। সপ্তাহে খাসির মাংসের স্টু। সবজি-ভাত ৬ টাকা। মাছ-ভাত ৮ টাকা। আর মাংসের স্টু-ভাত ১৩ টাকা। সব পেটপুরে। সেসব নব্বই দশকের গল্প। এক সময় লোকে বিশ্বাস করতে চাইবে না।

    ইমু মাছ-মাংস খেতে ভালোবাসলেও খেতে পারতো না। সে সবজি-ভাতই খেত। প্রথমে দাম ছিল ৫ টাকা। পরে এক টাকা বাড়ে।
    ইমু তখন খেতও অনেকটা। ভাতের সঙ্গে সবজিও ফ্রি তাই রাগ হওয়াই স্বাভাবিক। পরে কলেজের বেতন বাড়লে সেও মাছ বা মাংস খেতে থাকে। তবে অন্যদের মতো মাছের ছাল ফেলে দেওয়ার বিলাসিতা করতে পারতো না ইমু। মাছের ভাজা ছাল তার দারুণ লাগতো। মাছ-মাংস খেতে শুরু করার পর বিশুর সঙ্গে ভাব হয়ে গেল ইমুর।

    তারপর একদিন ইমুকে টিভিতে দেখে বিশুর কী হয়ে গেল। বিশুর ধারণা ছিল, এই স্যারটা কিপ্টে, না হলে কেউ সবজি-ভাত খায়। এখন বুঝল সমাজসেবা আন্দোলন এইসব করে খরচ করে লোকটা।

    ভোর।
    ট্রেনের আধঘণ্টা দেরি। কিছু খাওয়া দরকার। কাল রাতের খাবারের দম রাত জেগে শেষ। ক্যান্টিনের দরজায় ধাক্কা দিল ইমু। অনেকবার ধাক্কার পর দরজা খুলল রাঁধুনি নারান। বিশু আর রঘুদা নেই।
    — স্যার এত ভোরে?
    — আসাননগরে মেলায় গেছিলাম। চটপট কী খাওয়াতে পারবে বলতো?
    — এত ভোরে ওমলেট আর পাঁউরুটি।
    — চা হবে না?
    — সেও হবে। তবে সময় লাগবে।
    — করো ২৫ মিনিট সময়।

    নিজেও লেগে গেল নারানদের সঙ্গে। কেরোসিনের স্টোভ জ্বালিয়ে পাঁউরুটি সেঁকে ওমলেট বানিয়ে দিল ছেলে-মেয়েদের। সঙ্গে লিকার চা। নিজে কিন্তু চা খেল না। চা কেন বিড়ি-সিগারেট-মদ কোনও কিছুই খায় না ইমু। ওদিকে ওরা তখন সময় কাটাতে গানের লড়াই শুরু করেছে।

    খাবার নিয়ে যেতেই প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল সবাই। খেল তৃপ্তি করে।
    ট্রেনে উঠে বসেছে দলবল। এমন সময় বেজে উঠল ইমুর ফোন। ওপারে বিপ্লব।
    — সর্বনাশ হয়েছে ইমুদা। আপনি কোথায়?
    — আমি কৃষ্ণনগরে ট্রেনে। কী হয়েছে?
    — দিলীপদার অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। জাতীয় সড়কে।
    একটা লরি সরাসরি মেরেছে।
    — দিলীপদা কেমন আছেন?
    — চালক স্পট ডেড। আর দিলীপদার খবর ভালো নয়। যদি সম্ভব হয় চলে আসুন। আমরা কৃষ্ণনগর হাসপাতালে যাচ্ছি দিলীপদাকে নিয়ে।

    ছাত্র-ছাত্রীদের পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে নেমে এল ইমু। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ লাফ দিয়ে নামল চূর্ণী।
    — কী করলে এটা! দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।
    — আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।
    — কী যে করো—ওরা কী ভাববে বলো তো?
    — সে ভয় আপনার। আমার কিছু যায় আসে না। আর ভুলে যাবেন না, আমি প্রাপ্তবয়স্ক এবং শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, আপনার শেখানো বুলি, প্রাপ্তমনস্ক—মৃদু ধমকাল চূর্ণী।

    একটা রিকশা ধরে ইমু আর চূর্ণী কৃষ্ণনগর হাসপাতালে পৌঁছল, ছুটে এল বিপ্লব।
    হাঁউমাউ করে কেঁদে ফেলল বিপ্লব—
    — সব শেষ হয়ে গেল ইমুদা।

    ইমু ভাবছিল, মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে এই দিলীপদার সঙ্গে যদি ফিরত সে—তাহলে কি এড়ানো যেত দুর্ঘটনাটা। এমনিতে গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়লেও দূরপাল্লার যাত্রায় চালকের পাশে বসে সে। নিজেও ঘুমোয় না, চালককেও অসতর্ক হতে দেয় না।
    ইমু হাহাকার করছিল মনে মনে।
    চূর্ণী সেটাই বুঝে বলল—সব ব্যাপারে নিজেকে দোষ দেবেন না তো।

    হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে জীবনানন্দের 'লাশকাটা ঘর' নয়, টেনিসনের কবিতা মনে পড়ছিল ইমুর।
    'I drink life to the lees'—জীবনের তলপাত্র পর্যন্ত পান করতে চেয়েছিলেন পদার্থবিদ্যার গুণী অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তী। পড়াতেন আশুতোষ কলেজে। মন নিবেদিত ছিল সমাজ ও সংস্কৃতি বিজ্ঞানে। কথায় কথায় তুলতেন আইনস্টাইনের কথা। শোনাতেন উদ্ধৃতি—

    সেই দিলীপদা ঘণ্টাখানেক পরেই ছাই হয়ে যাবেন। কেওড়াতলা বা নিমতলা শ্মশানে। দিলীপদা আইনস্টাইন ছাড়াও নেতাজির অসম্ভব ভক্ত ছিলেন।

    কাটাছেঁড়া দেহ নিয়ে সবাই যখন কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিল, রওনা দিল ইমু আর চূর্ণীও।

    ১২

    কলকাতার ফরওয়ার্ড ব্লক অফিসে সিংহলাঞ্ছিত পতাকাটা দিলীপদার বুকে যত্ন করে ঢেকে দিলেন নবতিপর বৃদ্ধ অশোক ঘোষ। তারপর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বললেন—লাল সেলাম কমরেড।

    নেতাজির স্নেহ পেয়েছিলেন অশোক ঘোষ। বাম রাজনীতির মনস্বী মানুষ।
    অশোক ঘোষ দিলীপ চক্রবর্তীকে খুব ভালোবাসতেন।
    দিলীপদা সুযোগ পেলেই বলতেন, তাঁর অশোকদার স্নেহের কথা।

    মেয়েরা সাধারণত খিদের কথা বলে না। বা খিদে পেলেও স্বীকার করতে চায় না। চূর্ণী মেয়েটা ব্যতিক্রম দেখা গেল।
    কেওড়াতলা শ্মশান থেকে বের হওয়ার পর চূর্ণী বলল—আপনার কি ক্ষুধা-তৃষ্ণা কিছুই নাই।
    — হঠাৎ এত সাহিত্যিক বাক্য প্রয়োগ।
    — সেই তো পাঁচটায় খেয়েছি। আর এখন সন্ধ্যে। কোন মানুষ যে পথে এতক্ষণ না খেয়ে থাকতে পারে আপনাকে দেখে শিখে নিলুম।
    — ছি ছি, খুব ভুল হয়ে গেছে। আমার খেয়াল করা উচিত ছিল।
    — কী খাবে বলতো?
    — সত্যি বলবো আমার বিফ খেতে ইচ্ছে করছে।
    — বিফ? হঠাৎ বিফ কেন?
    — আপনারা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর বিফ খেতে গিয়েছিলেন না দলবল বেঁধে?
    — হ্যাঁ তাতে কী?
    — আমারও বিফ খেতে ইচ্ছে হচ্ছে।

    একটা ট্যাক্সি ডেকে চলে এলেন। নাফিলে ভালো বিফ চাপ বানায়।
    কিন্তু এখনও তৈরি হয়নি।
    সামনে একটা দোকান ছিল। মোড়ের মাথায়।
    ওদের বট তথা নাড়িভুঁড়ির রান্না ছিল ভালো। কিন্তু প্রথম দিন ওইসব ভালো নাও লাগতে পারে।
    দুটো করে শিক কাবাব ফ্রাই অর্ডার দিল।
    — চাপ হবে না।
    — হবে। তবে দেরি হবে। ওয়েটারটি চেনা। মাঝে মাঝেই আসে ইমু এখানে। আগে সে আর তার সহকর্মী কৌশিক যেত সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ মোড়ের আগের গলিতে। চাপটা ব্যাপক বানাত। এখন কালু মিঞা ব্যারাকপুরে দাদাবৌদির হোটেলে বিরিয়ানি বানায়। বিহার থেকে এসে প্রথম এই দোকানে লেগেছিল। বেতন কম। তাই ব্যারাকপুরে দাদা-বৌদির দোকানে গিয়ে ভিড়েছে। পয়সা বেশি, সম্মানও।

    ইমু ভাবে, কালুর সঙ্গে দেখা করে বলবে, তোমার বিফ চাপ বানাতে ইচ্ছে করে না আর, মন খারাপ হয় না চাপের গন্ধের জন্য?

    নাফিল এখনো ভালো চাপ বানায়।
    চাপ হতে একটু দেরি আছে। আস্তে আস্তে খেতে লাগল ইমু। বিফ চাপ না খেয়ে সে খাবে না।


    ক্রমশঃ
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন