এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাধুনিকতা: নিকোলাস গোমেজ দাভিলা-র নির্বাচিত প্রবচন; ভূমিকা ও অনুবাদ: অরিত্র আহমেদ

    Aritra Ahamed লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ৮২ বার পঠিত
  • প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাধুনিকতা
    নিকোলাস গোমেজ দাভিলা-র নির্বাচিত প্রবচন

    ; ভূমিকা ও অনুবাদ: অরিত্র আহমেদ

    1) বিপ্লবের সামনের সারির দর্শকদের ভেতর থেকেই প্রতিবিপ্লবীদের নিযুক্ত করা হয়।
    2) গণতন্ত্রের সমস্যাগুলো যত গুরুতর হয়, গণতন্ত্র তত বেশি অযোগ্য মানুষকে আহ্বান করতে থাকে সেগুলো সমাধানের জন্য।
    3) শোষকের অনুপস্থিতিতে শোষিতরাই নিজেদের মধ্যে শোষক ও শোষিতে বিভক্ত হয়ে যায়।
    4) বোকামি হলো সকল ধরনের বিপ্লবী নৃশংসতার জননী। বর্বরতা ধর্মমাতা মাত্র।
    5) দার্শনিক তাঁর যুগের মুখপাত্র নন; বরং তিনি সময়ের ভেতরে বন্দী এক ফেরেশতা।
    6) ব্যক্তির অন্তর্গত সবকিছুই স্থান ও কালের মিলন থেকে উদ্ভূত। কেবল ব্যক্তি নিজে ব্যতীত।
    7) আমাদের সমসাময়িকরা এজন্যই অতীতকে হেয় করে কথা বলে, যাতে বর্তমানের দিকে তাকিয়ে লজ্জা আর নস্টালজিয়ায় ভুগে আত্মহত্যা করা না লাগে।
    8) গতকাল অব্দিও আধুনিক সমাজের ভবিষ্যতে আস্থাহীনতা কেবল বুদ্ধিমান লোকেদের মধ্যেই দেখা যেতো। আজ এটা এমনকি মহা-আহাম্মকদের ঘাড়েও চেপে বসেছে।
    9) প্রতিটা অবদমিত ট্যাবুই মানব-অস্তিত্বকে তার প্রবৃত্তির একঘেয়েমির দিকে ঠেলে দেয়।
    10) মরণাপন্ন সমাজে আইনের ছড়াছড়ি দেখা যায়, ঠিক যেমন মরণাপন্ন মানুষের চারপাশে দেখা যায় ওষুধের ছড়াছড়ি।
    11) হাতিয়ার ছিলো ঈশ্বরের উদ্ভাবন; মেশিন হলো শয়তানের উদ্ভাবন।
    12) গতকাল রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় ছিলো ক্ষমতা দখলের অধিকার; আজ রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা দখলের উপায়।
    13) শিল্প হলো সর্বোচ্চ ইন্দ্রিয়জ সুখ।
    14) গুরুতর সমস্যাগুলি বোকাদের বিচলিত করে না। সমাজের গুণগত অবক্ষয় দেখে যারা বিচলিত হয়, বোকারা তাদের দেখে হাসে।
    15) সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করার প্রয়োজন থেকে ধর্মের উদ্ভব হয়নি; পর্যটনশিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য গির্জা নির্মাণ করা হয়নি।
    16) জিনিয়াস হলো এমন এক ক্ষমতা, যা আমাদের শক্ত, জমাটবাঁধা কল্পনাশক্তির ওপর ঠিক সেইরকমই গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, যেরকম প্রভাব ফেলে একটা বই একটা শিশুর কল্পনার ওপর।
    17) নির্বাচনের আগে ভোটে জেতার জন্য যেসব প্রোগ্রামের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, সেসব প্রোগ্রাম বাস্তবায়ম করাতেই একজন গণতান্ত্রিক শাসকের বুদ্ধিবৃত্তিক ট্রাজেডি নিহিত।
    18) যুক্তি কোনোভাবেই বিশ্বাসের বিকল্প হতে পারে না; ঠিক যেমন রং কোনোভাবেই শব্দের বিকল্প হতে পারে না।
    19) আধুনিক মানুষ এই মহাবিশ্বের সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করে, ঠিক যেমনভাবে এক পাগল আচরণ করে এক বেকার সঙ্গে।
    20) যে ব্যক্তি নিজেকে মিথ্যে বলে, এবং যে সমাজ নিজেকে মিথ্যে বলে না, উভয়েই পচন ধরে ও ধ্বংস হয়ে যায়।
    21) স্বাধীনতাকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পর্যায় পর্যন্ত রক্ষা করতে চায় যে আইন, সেই আইনই শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার শ্বাসরোধ করে।
    22) ইতিহাস যে সমস্যাগুলো উত্থাপন করে, সমাধান না করেই সেগুলোকে সে কবর দিয়ে দেয়।
    23) যতো দিন যাচ্ছে, আমরা সমাজের কাছ থেকে দাবি করছি ততো বেশি, ও নিজেদের কাছ থেকে দাবি করছি ততো কম।
    24) বুদ্ধিবৃত্তিক সততা এমন একটা গুণ, যাকে প্রতিটি নতুন প্রজন্মই প্রথম চর্চা করেছে বলে দাবি করে।
    25) আমরা যাকে ভালোবাসি, তার পরিপূর্ণতাগুলি আমাদের ভালোবাসা-ঘটিত কল্পনা নয়; বরং ভালোবাসা মানেই হলো সেই বিশেষ ক্ষমতা, যা অন্যের চোখে অদৃশ্য থাকা পরিপূর্ণতাগুলিও দেখতে পায়।
    26) সবকিছুই নিরর্থক হয়ে যায়, যদি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কোনো অধিবিদ্যাগত অভিযাত্রায় (metaphysical adventure) নিবেদিত না থাকে।
    27) ধর্মের চূড়ান্ত অস্বীকৃতিই আসলে সবচেয়ে গোঁড়া ধর্মীয় অবস্থান।
    28) একটি যুগের বৌদ্ধিক ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই ভাষাতেই লিখতে বাধ্য হয়।
    29) গণতান্ত্রিক নাস্তিকতা ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক করে না; বরং প্রশ্ন তোলে তাঁর পরিচয় নিয়ে।
    30) জনসাধারণের রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রায়ই এক নারকীয় মহাপ্রলয়ে (apocalypse) পর্যবসিত হয়।
    31) অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম যদি পবিত্রতার স্তরে না পৌঁছায়, তবে তা রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে গিয়ে ঠেকে।
    32) প্রজ্ঞাময় রাজনীতি হলো সমাজকে সবল ও রাষ্ট্রকে দুর্বল করার শিল্প।
    33) সমসাময়িক বিশ্ব থেকে যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নেয় না, সে নিজেকেই অসম্মান করে।
    34) কোনো ব্যক্তির ঐতিহাসিক গুরুত্ব খুব কমই তার ব্যক্তিগত চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; ইতিহাস ভরে আছে যুদ্ধজয়ী গাণ্ডু লোকজনে।
    35) ক্ষণিকের ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যই এই মহাবিশ্বে একমাত্র জিনিস, যা আমাদের আত্মার গভীরতম আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
    36) প্রগতিশীলরা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে ভবিষ্যৎ তৈরি করে, তার চেয়েও বেশি জঘন্য হলো সেই ভবিষ্যৎ, যার স্বপ্ন তারা দেখে।
    37) আমাদের ঘৃণার সাথে সাথেই বৃদ্ধি পায় আমাদের সহনশীলতা।
    38) নিজেকে শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি পড়ে, বই তাকে শিক্ষিত করে না।
    39) মধ্যযুগীয় সমাজে সমাজই রাষ্ট্র; বুর্জোয়া সমাজে রাষ্ট্র ও সমাজ পরস্পরের মুখোমুখি; আর কমিউনিস্ট সমাজে রাষ্ট্রই হলো সমাজ।
    40) সমাজের দ্রুত বিবর্তন এর রীতিনীতিগুলিকে ধ্বংস করে ফেলে এবং ব্যক্তির উপর ঐতিহ্যের নীরব শিক্ষার বদলে আইনের জোয়াল ও চাবুক চাপিয়ে দেয়।
    41) সত্য হলো বুদ্ধির আনন্দ।
    42) আমরা যা নই, তা হওয়ার চেষ্টাতেই নিহিত সত্যিকার অশ্লীলতা।
    43) সমাজ উচ্চকণ্ঠ গুণাবলি ও নীরব দোষগুলোকে পুরস্কৃত করে।
    44) আমাদের মধ্যে কেবল সেই গুণ ও ত্রুটিগুলোই থাকে, যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা সচেতন নই।
    45) আত্মা প্রসারিত হয় ভেতরের দিকে।
    46) ক্রমাধিকারতন্ত্র (hierarchy) হলো স্বর্গীয়। কেবল নরকেই সবাই সমান।
    47) মাত্রাতিরিক্তের প্রতি ভয় থেকে নয়, বরং সীমার প্রতি ভালোবাসা থেকে সংযমী হওয়াতেই প্রজ্ঞা নিহিত।
    48) কামনা ও নস্টালজিয়ার পারষ্পরিক সংস্পর্শে যে হাস্যকর স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে, সেটাই আনন্দ।
    49) বিশ্বের বিরুদ্ধে নিজের আক্রমণকে ন্যায্যতা দিতেই মানুষ এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, বস্তু জড়।
    50) অশ্লীলতা দখল করে নিয়েছে সমগ্র পৃথিবী। এর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদমাধ্যম।
    51) আজ আর ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বন্ধুর পর্বতচূড়ায় প্রতিধ্বনিত হয় না; বরং তা গর্জে ওঠে জনমত জরিপের শতকরা হারে।
    52) ক্যাথলিক ধর্মের সমর্থকরা সচরাচর বুঝতে পারে না—কোন জিনিসটাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করা উচিত, আর কোনটাকে ঘৃণার সঙ্গে ভেঙে চুরমার করে ফেলা উচিত।
    53) টাকাপয়সার চিন্তা না থাকলে বোকা মানুষজন একঘেয়েমিতে মারাই যেতো।
    54) প্রকৃত মতবিরোধের কারণে খুব কমই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
    55) নিজেকে আধুনিকায়িত করার আগ পর্যন্ত একটা জাতির জাতীয় ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ থাকে; আধুনিক হওয়ার পর খালি পরিসংখ্যান দিয়েই তার কাজ চলে যায়।
    56) আত্মপ্রতারণা না করে সত্য কথাটাই বলি চলুন: শয়তান যেসব বস্তুগত সম্পদের প্রতিশ্রুতি দেয়, সেগুলো সে আসলেই দিতে পারে।
    57) একটা সমাজে বসবাসরত মানুষের সংখ্যা যতো বৃদ্ধি পায়, তাদের একরূপিতা (homogeneity) ততো বৃদ্ধি পেতে থাকে।
    58) সংস্কার হচ্ছে বিপ্লবে পৌঁছানোর ঢালু পথ।
    59) গসপেল কিংবা কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর দিন শেষ। দুনিয়ার ভবিষ্যৎ এখন কোকা-কোলা আর পর্নোগ্রাফির হাতে।
    60) প্রকৃত প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি লুপ্ত অতীতের স্বপ্নে বিভোর হয় না। বরং শাশ্বত পর্বতে পবিত্র ছায়ার সন্ধান করে বেড়ায়।
    61) সত্য আপেক্ষিক নয়। সত্যের ব্যাপারে যেসব মতামত দেওয়া হয়, কেবল সেগুলোই আপেক্ষিক।
    62) আজকাল ‘ক্ষমা করা' ব্যাপারটা এমন হয়ে গেছে যে, একটা অপরাধ যে ঘটেছিলো, ‘ক্ষমা করা’-র নাম করে সেটাকেই একরকম অস্বীকার করা হয়।
    63) সংযম, আত্মসমর্পণ, নীতিনিষ্ঠা- আধুনিক মতবাদ অনুযায়ী এগুলো সবই ভাবাদর্শিক (ideological) দাসত্বের লক্ষণ।
    64) অনেক জিনিসেরই আমরা কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাই না, কারণ আমাদের উচিত ছিলো ওগুলোর ঠিক বিপরীত জিনিসগুলোর ব্যাখ্যা খোঁজা।
    65) আধুনিক মানস এটা উপলব্ধি করতে অক্ষম যে, অর্থনীতির মেটা-ইকোনমিক লেভেলে সরবরাহের (supply) সঙ্গে চাহিদা (demand) বাড়ে; যে, সেখানে অভাব নয়, বরং প্রাচুর্যের কারণেই ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়; এবং তৃপ্তি যতো বাড়ে, ক্ষুধাও ততোই উদ্দীপিত হয়।
    66) একটা বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আনন্দের জন্ম দেয়।
    67) ক্ষণস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক আর কিছু নেই।
    68) অন্যের চিন্তা কেবল তখনই মূর্খের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন তা তার ব্যক্তিগত দুঃখকষ্টকে স্পর্শ করে।
    69) আমরা সবাই আমাদের জবানকে ঘুষ দিতে চাই, যেনো তা আমাদের পাপকে স্রেফ “ভুল” বা “দুর্ভাগ্য” বলে ডাকে।
    70) ঈশ্বর যদি স্রেফ কোনো যুক্তিতর্কের (syllogism) উপসংহার হতেন, তবে তাঁকে পূজা করার তাগিদ আমি অনুভব করতাম না। কিন্তু ঈশ্বর কেবল আমার আশা-প্রত্যাশার সারবস্তুই নন; তিনি আমার জীবনেরই সারমর্মও বটেন।
    71) আহত অহমিকা কিংবা উপেক্ষিত লোভের বিস্ফোরণ- গণতান্ত্রিক মতবাদ নিজের দাবিকৃত শুভকর্মগুলির ন্যায্যতা প্রতিপাদনের জন্য প্রায়ই সেই অশুভগুলোকেই ডেকে আনে, যেগুলোর নিন্দায় সে সবসময় মুখর থাকে।
    72) নিজ উদ্দীপনাকে অপচয় করার মতো আবেগীয় মূলধন কারোরই নেই।
    73) জীবন গুরুত্বপূর্ণ বলেই বিভিন্ন জিনিস মূল্যবান, ব্যাপারটা একদমই এরকম নয়। বরং জিনিসগুলোর দাম আছে বলেই জীবনটাও গুরুত্বপূর্ণ।
    74) সত্যিকার মানবতাবাদে এক ধরনের সূক্ষ্ম ও আরামদায়ক ইন্দ্রিয়পরায়ণতার উপস্থিতি অনুভূত হয়।
    75) লেখক এমনভাবে একেকটা বাক্য গঠন করেন, যাতে শব্দের কারণে চিন্তার যে সারল্য হারিয়ে গিয়েছিলো, চিন্তাকে সেই সারল্য ফিরিয়ে দেওয়া যায়।
    76) আমার সমসাময়িকদের কাছে অচল ও উদ্ভট মনে হয় না, এমন সমস্ত চিন্তাকেই আমি সন্দেহের চোখে দেখি।
    77) অবজ্ঞা করা বা অবজ্ঞার শিকার হওয়া—এ দুটিই পশুসুলভ জীবনের সাধারণ (plebian) বিকল্প।
    78) সমসাময়িকদের মতো করে চিন্তা করা— সমৃদ্ধি ও বোকামি উভয়েরই প্রেসক্রিপশন।
    79) যা কিছু আমরা ভালোবাসি, তার সারমর্মই হলেন ঈশ্বর।
    80) এমন একটা যুগ, যখন গণমাধ্যম দেদারসে অসংখ্য আজেবাজে জিনিস প্রচার করে চলেছে, তখন শিক্ষিত মানুষকে সংজ্ঞায়িত করতে হয় সে কী জানে তা দিয়ে নয়, বরং সে কী জানে না, তা দিয়ে।
    81) মানুষকে শিক্ষিত করার অর্থ হলো তার “ব্যক্তিত্বের স্বাধীন প্রকাশ”-কে বাধাগ্রস্ত করা।
    82) যে পাঠক পড়তে জানে, তার জন্য যেকোনো যুগের সাহিত্যই সমসাময়িক সাহিত্য।
    83) সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত ইন্দ্রিয়সুখই হলো মহৎ প্রেম।
    84) একটি রাজনৈতিক সংবিধানের শিথিলতা ও অসংগতির মধ্যেই স্বাধীনতার প্রকৃত নিশ্চয়তা নিহিত।
    85) পারস্পরিক তোষামোদই সমাজকে একত্রে ধরে রাখে।
    86) ঈশ্বর ছাড়া অন্য কিছুকে ভালোবাসতে পারার সক্ষমতাই আমাদের অন্তহীন মেডিওক্রিটির এক মোক্ষম প্রমাণ।
    87) আমরা যাদের ভালোবাসি, তাদের অস্তিত্বই আমাদের জন্য যথেষ্ট।
    88) বিনয় যদি আমাদেরকে নরক থেকে রক্ষা না-ও করে, অন্তত মানুষের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ থেকে বিনয় আমাদের রক্ষা করে।
    89) ধর্মের উৎপত্তি বা উদ্ভবের কারণ নয়—বরং ধর্মের অবক্ষয় ও অবহেলার কারণই ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
    90) আমরা কী বিশ্বাস করি, তার চেয়ে আমরা কীভাবে বিশ্বাস করি, সেটাই আমাদেরকে বিভক্ত বা ঐক্যবদ্ধ করায় বেশি ভূমিকা রাখে।
    91) বাগ্মিতা হলো ঔদ্ধত্যের সন্তান।
    92) আমাদের অহংয়ের নিকট যে আত্মোৎসর্গ করে না, তাকেই আমরা অহংকারী বলি।
    93) অধিবিদ্যা (metaphysics)-কে তারা এতো বার কবর দিয়েছে যে একে এখন অমর মনে করা উচিত।
    94) শব্দের আধিক্য নয়, বরং ভাবের অভাবের কারণেই বাগ্বাহুল্য সৃষ্টি হয়।
    95) যে সবচেয়ে কম বোঝে, সে-ই একগুঁয়েভাবে এমন সব জিনিস বোঝার দাবি করে যা বোঝা আসলে অসম্ভব।
    96) চিন্তা মানুষকে বাঁচার জন্য প্রস্তুত করে না, আবার বাঁচাও মানুষকে চিন্তার জন্য প্রস্তুত করে না।
    97) কেবল ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল হওয়ার মধ্যেই নিহিত আছে সত্যিকার স্বায়ত্তশাসন।
    98) মানুষ বোকা বলবে- এই ভয় হলো তারুণ্যের লক্ষণ। সত্যি সত্যিই বোকা হয়ে যাওয়ার ভয় পরিপক্বতার লক্ষণ।
    99) আমাদের নিজস্ব পক্ষপাতগুলো যখন আমাদেরকে অন্ধ করে ফেলে, অন্য যুগের পক্ষপাতগুলোকে তখন দুর্বোধ্য মনে হয়।
    100) অনেকেই মানবতাই বিশ্বাস রাখে স্রেফ পরিষ্কার বিবেকে ঈশ্বরকে ভুলে থাকার জন্য।
    101) মানুষ বিশ্বাস করে, পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করেই সে ভুলগুলো সংশোধন করে চলেছে।
    102) তরুণ আদর্শবাদীদের আক্রমণ থেকে বয়স্করা যা কিছু বাঁচিয়ে রাখতে পারে, তার সমষ্টিই হলো সভ্যতা।
    103) কমিউনিস্টদের প্রলোভন হলো আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা।
    104) প্রেম বা ঘৃণায় মাতাল আত্মার সামনে সবচেয়ে উদ্ধত জ্ঞানও লজ্জিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
    105) সারা জীবন ধরে সঞ্চিত আবর্জনার দায়ভার বার্ধক্যের উপর চাপিয়ে দেওয়াতেই বৃদ্ধরা সান্ত্বনা খুঁজে পায়।
    106) বয়োঃবৃদ্ধি হলো একটা শরীরিক বিপর্যয়। আমাদের কাপুরুষতা একে আত্মিক বিপর্যয়ে পরিণত করে।
    107) আমাদের বোঝাপড়াকে শাণিত করার জন্য এমন মানুষ দরকার, যারা আমাদের বিরোধিতা করবে।
    108) ঈশ্বরকে কাজের নিয়ম না শেখানোর মধ্যেই প্রজ্ঞা নিহিত।
    109) শুরুতে আমাদের ভালো লাগে বলে আমরা একটা জিনিস বেছে নিই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্রেফ জিনিসটা বেছে নিয়েছি বলেই আমরা জিনিসটাকে ভালো বলতে থাকি।
    110) তীব্র আবেগময় পরিস্থিতিতে কেবল ক্লিশে-ই আমাদেরকে সাহায্য করে। একটা সাধারণ, বোকাসোকা গান মহৎ কাব্যের চেয়ে আমাদের গভীর বেদনা ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারে।
    বুদ্ধিমত্তা হলো নির্লিপ্ত সত্তার কার্যকলাপ।
    111) আকস্মিকতার (Chance) আধিপত্য ইতিহাসের উপর সবসময়ই থাকবে, কারণ রাষ্ট্রকে এমনভাবে সংগঠিত করা কখনোই সম্ভব নয় যাতে, কে শাসন করছে সেটা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।
    112) মানুষ তখনই প্রাপ্তবয়স্ক হয়, যখন সে মেনে নেয় যে, রাজনীতি তার কোনো সমস্যা সমাধান করতে পারবে না।
    113) আত্মার অজ্ঞতা কোনো ডিপ্লোমা দিয়েই সারানো যায় না।
    114) স্বাধীনতা কোন লক্ষ্য (end) নয়, বরং একটা উপায় (means); স্বাধীনতাকে যারা লক্ষ্য মনে করে, একবার স্বাধীনতা পেয়ে যাওয়ার পর কী করণীয়, তারা সেটা জানে না।
    115) আধুনিক ইতিহাস হলো দু'জন মধ্যে কথোপকথন: একজন ঈশ্বরে বিশ্বাসী; আরেকজন বিশ্বাস করে যে সে নিজেই ঈশ্বর।
    116) আমাদের যুগে ধর্মত্যাগী মার্ক্সবাদীর চেয়ে জীর্ণ, বাতিল মার্ক্সবাদীর সংখ্যা বেশি।
    117) দুটি সত্তা আজকের যুগে বিশেষভাবে করুণার উদ্রেক করে: বুর্জোয়া রাজনীতিক, যাকে ইতিহাস ধৈর্যের সঙ্গে চুপ করিয়ে রাখে; এবং মার্ক্সবাদী দার্শনিক, যাকে ইতিহাস ধৈর্যের সঙ্গে বারবার ভুল প্রমাণ করে।
    118) স্রোতের গন্তব্য যদি হয় কোনো জলপ্রপাত, তো স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতরানোকে বোকামি বলা যায় না।
    119) আবেগের নির্বুদ্ধিতা মানুষকে তার স্বপ্নের নির্বুদ্ধিতা থেকে রক্ষা করে।
    120) প্রথাগত মামুলি সত্যগুলিই আধুনিক মানুষকে সবচেয়ে বেশি বিচলিত করে। আমাদের যুগের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে বিধ্বংসী বই হবে পুরোনো প্রবাদগুলোর একটি সংকলন।
    121) প্রগতি হলো সেই চাবুক, যেটা ঈশ্বর আমাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন।
    122) প্রত্যেক বিপ্লবই আমাদেরকে আগের বিপ্লবটির জন্য নস্টালজিক করে তোলে।
    123) প্রকৃত বিপ্লবী বিদ্রোহ করে সেই সমাজকে বিলুপ্ত করতে, যাকে সে ঘৃণা করে; আজকের যুগের বিপ্লবী বিদ্রোহ করে সমাজের চালকের আসনে বসতে, যার উপর তার অসীম লোভ।
    124) আধুনিক মানুষ ভালোবাসে না—ভালোবাসার আশ্রয় নেয়; আশা করে না—আশার আশ্রয় নেয়; বিশ্বাস করে না—কোনো মতবাদের (dogma) আশ্রয় নেয়।
    125) ভয় হলো এই শতাব্দীর যাবতীয় সাধনার গোপন ইঞ্জিন।
    126) ঈশ্বরকে মৃত ঘোষণা করা আধুনিকতার সবচেয়ে বড়ো ভুল নয়। আধুনিকতার সবচেয়ে বড়ো ভুল হলো তার এই বিশ্বাস যে, শয়তান মৃত।
    127) প্রতিটি আদর্শবাদী ব্যক্তিই সম্ভাব্য খুনী।
    128) পরিণত হওয়া মানে নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা নয়; বরং এই সত্য মেনে নেওয়া যে, আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা এই দুনিয়ার নেই।
    129) ভালোবাসা হলো একটি দুর্ভেদ্য সত্তার চারপাশে অবিরাম ঘুরে বেড়ানো।
    130) গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড সিস্টেমের নিজস্ব যুক্তি মেনে সংঘটিত হয়। আদিম যুগের হত্যাকাণ্ডগুলি ঘটতো মানুষের অযৌক্তিক আচরণের কারণে।
    131) একসময় সাম্যবাদ (communism) ছিল এক ধরনের ব্রত বা সাধনা; আজ এটা একটা পেশা।
    132) শান্তি বিকশিত হয় কেবল মরণোন্মুখ জাতিগুলোর মধ্যেই— লোহকঠিন আধিপত্যের সূর্যের নিচে।
    133) মার্ক্সবাদ সেইদিনই শান্ত হবে, যেদিন সে কৃষক ও শ্রমিকদের পেটিবুর্জোয়া অফিস-কেরানীতে পরিণত করতে সক্ষম হবে।
    134) বিশৃঙ্খলা ও অন্যায়- এ দু’টোর মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেবার সুযোগ নেই। এ দু’টোই সমার্থক।
    135) আমার বিশ্বাস আমার নিঃসঙ্গতাকে ভরে তোলে অলক্ষ্য জীবনের (invisible life) মৃদু ফিসফিসানিতে।
    136) জনতা যেটা করে, সেটা অশ্লীল নয়। সেটাই অশ্লীল, যেটা জনতার ভালো লাগে।
    137) যাকে আমরা ভালোবাসি, আমাদের ক্লান্তি আর একঘেয়েমির বিরুদ্ধে তার হাসিই হলো একমাত্র কার্যকর প্রতিষেধক।
    138) আধুনিক জগৎকে অপরাজেয় মনে হয়। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসরদের মতোই।
    139) বলপ্রয়োগ (force)-ও হাস্যকর হয়ে উঠতে পারে- এই সত্যটা অনুধাবন করা সবচেয়ে কঠিন।
    140) নিজেকে ঈশ্বর থেকে স্বাধীন না করাতেই সত্যিকারের মেধা নিহিত।
    141) সত্যিকারের সংস্কৃতিতে যুক্তি পরিণত হয় সংবেদনশীলতায়।
    142) কামুকতা (eroticism) প্রতিশ্রুতিতেই নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলে।
    143) জীবন-নাটকের নায়ক হবার জন্য যে কোনো চরিত্রে নিখুঁত অভিনেতা হওয়াই যথেষ্ট। জীবনে কোনো গৌণ চরিত্র নেই—আছে কেবল গৌণ অভিনেতা।
    144) সারাদিনের ক্লান্তি আর একঘেয়েমিকে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি বুদ্ধিদীপ্ত হাসির অবিস্মরণীয় একটুখানি মাধুর্যই যথেষ্ট।
    145) মানুষ নিজেকে যতো স্বাধীন মনে করতে থাকে, তাকে মতবাদগ্রস্ত করাও ততোই সহজ হতে থাকে।
    146) গতকাল পর্যন্তও সমাজে বিশিষ্ট ব্যক্তির অস্তিত্ব ছিল; আজ আছে শুধুই সেলিব্রেটিরা।
    147) আধুনিক রাষ্ট্রে কেবল দুটি পার্টিই আছে: নাগরিক ও আমলাতন্ত্র।
    148) কোন রাজনীতিকই যেটা তৈরি করছেন বা ধ্বংস করছেন, তার ফলাফল আগে থেকে বুঝতে পারেন না।
    149) একটা সভ্যতাকে ধ্বংস করার জন্য সহিংসতার প্রয়োজন নেই। একটা সভ্যতা ধ্বংস হয় তখনই, যখন সেই অসামান্য মূল্যবোধগুলির কথাই সে ভুলে যায়, যেগুলি ওই সভ্যতাটির জন্ম দিয়েছিলো।
    150) আধুনিক জগতের একরূপিতা (uniformity)-র পিছনে প্রযুক্তির চেয়ে ফ্যাশনই বেশি দায়ী।
    151) আধুনিক মেট্রোপলিস কোন নগর নয়; এটা একটা রোগ।
    152) খ্রিস্টানধর্ম থাকে যখন কোথাও থাকে না, তখন যাবতীয় লোভ, ঈর্ষা ও কামুকতা নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য হাজার হাজার আইডিওলজি তৈরী করে নেয়।
    153) কেউ যখন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, তখন স্থূল উপযোগিতাবাদই হয়ে ওঠে তার একমাত্র বিকল্প। বাকি সবই স্রেফ অলংকার।
    154) ভোটার যা চায়, তার জন্য সে ভোট দেয় না: ভোটার ভোট দেয় তার জন্যই, যেটা সে ভাবছে সে চায়।
    155) আজকের গণতান্ত্রিক বিকল্পের দুটি দিক—দমনমূলক আমলাতন্ত্র এবং ঘৃণ্য ধনিকতন্ত্র (plutocracy)—একটি আরেকটিকে বাতিল করে দিচ্ছে। এদের মিলিত রূপ হলো: ঐশ্বর্যশালী আমলাতন্ত্র, যা একই সঙ্গে ঘৃণ্য ও দমনমূলক।
    156) বিশ্বাসের অর্ধেক হলো স্বজ্ঞা (intuition) আর অর্ধেক হলো বাজি (wager)।
    157) নিজেদেরকে প্রতারণা করে কী লাভ? বিজ্ঞান তো আমাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারেনি।
    158) জনগণ যখন ভীত থাকে, তখন তারা কিছু কিছু সঠিক কাজ করে। কিন্তু উৎসাহে উদ্দীপিত জনগণ সবসময়ই ভুল কাজ করে।
    159) রাজনীতির অব্যর্থ মন্ত্র: নামকাওয়াস্তে কিছু পরিবর্তন করো ও সেটা যতটা সম্ভব ধীরে করো।
    160) সাম্য দিয়ে অন্যায় অসাম্যের (unjust inequality) প্রতিকার করা যায় না। ন্যায্য অসাম্য (just equality)-ই এর কার্যকর সমাধান।
    161) একটা সুস্থ সমাজে রাষ্ট্র হলো শাসক শ্রেণীর একটা অঙ্গ। একটা কুঁজো ও পঙ্গু সমাজে রাষ্ট্র হলো আমলাতান্ত্রিক শ্রেণীর একটা হাতিয়ার।
    162) সেই কমিউনিজম-কে আমি স্বীকার করি, যেটা প্রতিবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ; কিন্তু যে কমিউনিজম আমাকে বিভিন্ন রকম আশা দেখায়, তাকে আমি স্বীকার করি না।
    163) রীতিনীতির (customs) পরিবর্তন হয় দেখে বোকারা ভাবে নৈতিকতাও পরিবর্তনশীল।
    164) একটা সত্যিকার সভ্য সমাজে আধুনিক রীতিনীতির বেশিরভাগই অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো।
    165) আমজনতার হাতে ক্ষমতার বিকার তত সহজে ঘটে না, যতটা সহজে ঘটে অর্ধশিক্ষিত লোকজনের হাতে।
    166) ‘মানবতার উপর বিশ্বাস রাখা’ ধর্মদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে না। এটা আরেকটা বোকামি মাত্র।
    167) আধুনিক মানুষ একমাত্র তখনই নিজেকে স্বাধীন বোধ করে, যখন কোনো কিছুকে সম্মান করার তাগিদ তার থাকে না।
    168) সান্ধ্য পোশাক হলো সভ্যতার দিকে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।
    169) প্রতিটি হেরে যাওয়া মানুষই হয়তো ভালো মানুষ নয়, কিন্তু প্রতিটি ভালো মানুষই হেরে গিয়েই দিন শেষ করে।
    170) আধুনিক মানুষ আত্মা হারিয়ে ফেলেছে, এবং এখন সে তার আচার-আচরণের সময় ছাড়া আর কিছুই নয়।
    171) সভ্য সমাজ ও অর্ধসভ্য সমাজের পাশাপাশি ছদ্মসভ্য সমাজ বলেও একটা ব্যাপার আছে।
    172) মানববিদ্যা (Humanities) থাকে না যে শিক্ষাব্যবস্থায়, সেই শিক্ষাব্যবস্থা কেবল দাসসুলভ পেশার জন্যই মানুষকে প্রস্তুত করে।
    173) ইতিহাসের বড়ো বড়ো তত্ত্বগুলো একমাত্র তখনই মূল্যবান হয়ে ওঠে, যখন সেগুলো দিয়ে আর কোনো কিছুকে ব্যাখা করা যায় না।
    174) যে সুখ মানুষ একবার পেয়ে যায়, তার মূল্য সে আর হিসাব করে না।
    175) নিম্নতর সত্যগুলো যেনো উচ্চতর সত্যগুলোকে আস্তে আস্তে ঢেকে ফেলছে।
    176) সংশয়ের নিরসন একটা একটা করে হয় না। বরং, চোখের পলকে সকল সংশয় উধাও হয়ে যায়।
    177) ‘ঐতিহাসিক প্রয়োজন' আসলে মানুষের বোকামিরই অন্য একটি নাম মাত্র।
    178) ধর্মই একমাত্র জিনিস, যেটা স্থূল না হয়েও জনপ্রিয় হতে পারে।
    179) আমাদের যুগে যে বিশেষ ধর্মদ্রোহিতা চার্চকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে, তা হলো ইহজাগতিকতা।
    180) ব্যক্তিবাদ (individualism) হলো অশ্লীলতার আঁতুড়ঘর।
    181) মানুষ হলো এমন এক জীব, যাকে শিক্ষিত করা যায়। প্রগতিশীল অধ্যাপকদের হাতে পড়লে অবশ্য সেটা সম্ভব নয়।
    182) গণতন্ত্রের উপায় হল সন্ত্রাস এবং লক্ষ্য হলো সর্বাত্মকবাদ (totalitarianism)।
    183) যে নির্লজ্জতার সাথে বিপ্লবীরা খুনখারাবি করে, সেইটা এমনকি ওই খুনখারাবির চেয়েও ভয়ংকর।
    184) সাংবাদিকরা হলো মবের (mob) উপদেষ্টা।
    185) বুর্জোয়ারা যাকে পছন্দ করে তাকে নয়, বরং যাকে ভয় পায়, তারই প্রশংসা করে।
    186) সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হলো বিকাশমান গণতন্ত্রের প্রথম দাবি এবং পূর্ণবিকশিত গণতন্ত্রের প্রথম ভিক্টিম।
    187) গণতন্ত্রের বাগানের একমাত্র ফুলের নাম হলো অলংকার (Rhetoric)।
    188) মধ্যপন্থী গণতন্ত্রীরা যে আইন বানায়, সেই আইন দিয়েই বিপ্লবী গণতন্ত্রীরা তাদেরকে খুন করে।
    189) আজকের যুগে যে চিল্লায় না, তাকে না কেউ শুনতে পায়, না কেউ বুঝতে পারে।
    190) বামপন্থীদের চিন্তা ভাবনা থেকে বিপ্লবের জন্ম হয়; আর বিপ্লব থেকে জন্ম হয় ডানপন্থী চিন্তাভাবনার।
    191) একটা কৃষিভিত্তিক সমাজের শাসকগোষ্ঠীকে অভিজাততন্ত্র (aristocracy) বলা যায়; শিল্পভিত্তিক সমাজের শাসক গোষ্ঠী হলো কতিপয় তন্ত্র (oligarchy)।
    192) আমাদের আত্মার একটা ভবিষ্যৎ আছে, মানবজাতির সেটা নেই।
    193) খালি বিপ্লবের নেতাদের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো ছাড়া বিপ্লব আর কোনো সমস্যার সমাধান করে না।
    194) প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লেখেনি, এমন কোনো লেখক এই দুনিয়ায় নেই।
    195) প্রতিটা মানুষই অবদমিত জানোয়ারের মতো বেঁচে থাকে।
    196) আধুনিক পাদ্রীরা দাবি করেন যে, খ্রিস্টানধর্ম মানুষের ইহজাগতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে। এই দাবির মাধ্যমে তারা খ্রিস্টান ধর্মকে একটি ইউটোপিয়ায় পরিণত করেন।
    197) কল্পনাহীন মানুষ আমাদের আত্মাকে হিমায়িত করে ফেলে।
    198) ঈশ্বরকে নিয়ে কথা বলাটা এক ধরনের ঔদ্ধত্য; না বলাটা বোকামি।
    199) ভিন্নমত অগ্রাহ্য করে সাধারণত কেউ কোনো উপসংহারে পৌঁছাতে পারে না।
    200) যে কাজটা করা উচিত, সেই কাজটা করাই ঐতিহ্যের মূল কথা।
    201) যা কিছু অধরা অদৃশ্য ও অনির্বাচনীয়, কেবল তা-ই আমাদেরকে দৈনন্দিন ক্লান্তি ও একঘেয়েমি থেকে রক্ষা করে।
    202) একটা পুরনো সত্যকে নতুনত্ব দেওয়ার জন্য তাকে একটা নতুন মিথ্যার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া যথেষ্ট।
    203) কিছু কিছু অজ্ঞতা আছে যেগুলো আমাদের মনকে সমৃদ্ধ করে। আবার কিছু কিছু জ্ঞান আছে, যেগুলো আমাদের মনকে করে দরিদ্র।
    204) নিজ আত্মার গভীরে যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সন্ধান করে না, সেখানে সে খালি গোবর খুঁজে পায়।
    205) জীবন হচ্ছে আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক বোকামির বিরুদ্ধে চলমান একটি সংগ্রাম।
    206) একটি যুগের মৌলিক সমস্যাগুলো কখনোই ওই যুগের মহৎ সাহিত্যের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হয় না। কেবল ক্ষণস্থায়ী সাহিত্যেই সমাজের সত্যিকার প্রতিফলন দেখা যায়।
    207) মার্কসীয় পরিভাষা মোতাবেক, শ্রেণীসচেতন প্রোলেতারিয়েত হলো এমন একটা গোষ্ঠী, যারা বুর্জোয়া মতাদর্শ গ্রহণ করে নিয়েছে।
    208) শুরুতে তারা লিবারেল প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করতো। এখন তারা গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারকে লিবারেল বলে দাবি করে।
    209) সাহিত্যিক প্রতিভা না থাকলে একজন ইতিহাসবিদ অনিবার্যভাবেই তার লেখা ইতিহাসে মিথ্যার সঞ্চার করবেন।
    210) আধুনিক যন্ত্র দিনকে দিন থেকে জটিলতর হচ্ছে। অন্যদিকে আধুনিক মানুষ হচ্ছে সরল থেকে সরলতর।
    211) মানুষের মধ্যে সংঘাতের যে সহজাত প্রবৃত্তি আছে, অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া, ধর্মীয় পার্থক্য, শ্রেণীবিরোধ, ইত্যাদি তারই অজুহাত হিসেবে কাজ করে।
    212) বোকামি ছড়িয়ে পড়ে আলোর গতিতে।
    213) নরক হলো সেই জায়গা, যেখানে মানুষের প্রত্যেকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।
    214) মানুষ যেসব জিনিসের ‘প্রয়োজন' বোধ করে, তার বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় নয়।
    215) ‘সাধারণ পাঠক' ব্যাপারটা ‘সাধারণ বোধবুদ্ধি’(common sense)-র মতোই বিরল।
    216) সম্পদের মালিকানা ও রাস্তার নাম পরিবর্তনের জন্য বিপ্লব সংঘটিত হয়। মানুষের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বিপ্লবের সূচনা করেছিলো যারা, তারাই শেষ পর্যন্ত ‘প্রতিবিপ্লবী’ হিসেবে গুলি খেয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করে।
    217) রাজনীতিতে বুদ্ধিমান হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য নিজের চেয়ে বেশি বোকা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াই যথেষ্ট।
    218) একজন বুদ্ধিজীবী ও কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার প্রতিটি বিবাহই শেষ পর্যন্ত পরকীয়ায় গড়ায়।
    219) ক্যাথলিক ধর্ম মানুষকে এমন কিছু বিশ্বাস করতে শেখায়, যা সে বিশ্বাস করতে চায়, কিন্তু সাহস করে উঠতে পারে না।
    220) একজন প্রকৃত গণতন্ত্রী যখন সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে পরাজিত হন, তখন কেবল পরাজয় স্বীকার করে নেওয়াই তার জন্য যথেষ্ট নয়। তার বরং এটাও মেনে নেওয়া উচিত যে, তিনি ভুল ছিলেন।
    221) মানুষ কামনার পিছনে ছোটে, আর পায় কেবলই নস্টালজিয়া।
    222) প্রতিবেশীর অভাবে নয়, বরং ঈশ্বরের অভাবেই সবচেয়ে হতাশাজনক নিঃসঙ্গতার জন্ম হয়।
    223) স্বাধীনতার নামের আড়ালে মানুষ তার সার্বভৌমত্বের ক্ষুধা লুকিয়ে রাখে।
    224) নীতিশাস্ত্র ও নন্দনশাস্রের মধ্যে যখন বিচ্ছেদ ঘটে, তখন উভয়েই ক্রমশঃ মানুষের খেয়ালখুশির অনুগত হয়ে যেতে থাকে।
    225) শৃঙ্খলা ততোটা সামাজিক প্রয়োজন নয়, যতোটা এক ধরনের নান্দনিক বাধ্যবাধকতা।
    226) অভিজাত হওয়া মানে এই বিশ্বাস না রাখা যে, সবকিছুই ইচ্ছাশক্তির উপর নির্ভরশীল।
    227) আনুষ্ঠানিকতা (formality)-র প্রতি অবজ্ঞা আসলে মূর্খতারই নিশ্চয়তা।
    228) লেখকের উচিত কেবল নিজেরই মুখপাত্র হওয়া, অন্য কারো নয়।
    229) রাজনীতিতে আপসহীনতা প্রায়ই ব্যক্তিগত দুর্বলতা ঢাকার এক ধরনের ভড়ং ছাড়া কিছুই না।
    230) বিপ্লবীর বক্তৃতা হোক কিংবা প্রেমপত্র হোক—তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ওগুলো পড়ার সময় হাসি চেপে রাখতে পারে না।
    231) ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য সার্টিফিকেট হিসেবে প্রখ্যাত বিশ্বাসীদের নাম হাজির করার চেয়ে হাস্যকর আর কিছুই নেই।
    232) রাজনৈতিক কর্মও শিল্পকর্মের মতোই অননুকরণীয়, এবং সার্থক শিল্পকর্মের মতোই চিরস্থায়ী হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে।
    233) আমরা যাকে ভালোবাসি, তার সুখই একমাত্র পার্থিব কল্যাণ যা আমাদের সীমাহীন তৃপ্তি দেয়।
    234) খুশিতে মাতাল একটা কণ্ঠস্বর হলো এমন এক বাস্তবতা, যা এই দুনিয়ার অস্তিত্বের সারবস্তু-সম্পর্কিত গোপন রহস্য উন্মোচন করে।
    235) বিশ্বাস করার ব্যাপারটা কানে শুনবার মতো নয়, বরং অনেকটা অন্ধকারে পথ হাতড়ানোর মতো।
    236) গণমাধ্যমের কল্যাণে আজ আধুনিক মানুষ সবকিছু সম্পর্কে জানতে পারে বটে, কিন্তু কোনো কিছুই বুঝতে পারে না।
    237) যে ব্যক্তির নিজস্ব কোনো ব্যকরণ নেই, এই মহাবিশ্ব তার কাছে একটি অন্তঃসারশূন্য অভিধানই মাত্র।
    238) “শৃঙ্খলা, কর্তৃত্ব, ঐতিহ্য” শব্দগুলো আজকাল কানে আসলেই মনে হয় কেউ না কেউ মিথ্যা কথা বলছে।
    239) বুদ্ধিবৃত্তিক স্থূলতা ভোটারদেরকে মাছির মতো টানে।
    240) একমাত্র বিপ্লবীদের ছাড়া আর কাউকেই ক্ষমতা অব্যর্থভাবে কলুষিত করতে পারে না।
    241) ইতিহাস অপরিবর্তনীয়। তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
    242) প্রযুক্তির মানবিকীকরণের বদলে আধুনিক মানুষ মানুষেরই প্রযুক্তিকরণ করে।
    243) আজকের যুগে ব্যক্তির মতামতের সমষ্টিকে জনমত (public opinion) বলা হয় না; বরং ব্যক্তির মতকেই জনমতের প্রতিধ্বনি হিসেবে গণ্য করা হয়।
    244) সমস্যার সমাধান করাটা মানুষের জন্য অতো জরুরী নয়। বরং সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, এই বিশ্বাসটাই মানুষের জন্য বেশি দরকারি।
    245) যেমন সমুদ্র অপেক্ষা করে নদীর জন্য, তেমনি বিপ্লবীদের জন্য অপেক্ষা করে আমলাতান্ত্রিক নিয়তি।
    246) আজকের যুগে এমন কেউ আর নেই, যার পক্ষে লড়াই করা যায়। তারাই আছে, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কর্তব্য।
    247) আধুনিক নির্বুদ্ধিতাগুলি প্রাচীন নির্বুদ্ধিতার চেয়ে বেশি বিরক্তিকর, কারণ এগুলির অনুসারীরা যুক্তির নামে এগুলিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে।
    248) ক্ষমতার অপব্যবহার কার্যকর হতে হলে হয় নিপীড়কের পরিচয় গোপন থাকতে হয়, নয়তো নিপীড়িতের পরিচয় গোপন থাকতে হয়। স্বৈরতন্ত্র ব্যর্থ হয় তখনই, যখন স্পষ্ট দু’টি পক্ষ পরষ্পরের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
    249) অশুভ (Evil) এমন প্রতিশ্রুতি দেয়, যা সে কখনো পূরণ করতে পারে না। আর শুভ (Good) এমন কিছু পূরণ করে, যার প্রতিশ্রুতি সে দিতে জানে না।
    250) মানুষ সাধারণত সহজেই তাদের গুরুতর কাজকর্মকে অবজ্ঞা করতে দেয়, কিন্তু তাদের বিনোদন বা আমোদ-প্রমোদকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করতে দেয় না।
    251) সাংবাদিকতা ছিলো সাহিত্যিক সমালোচনার আঁতুড়ঘর। বিশ্ববিদ্যালয় হলো ওটার কবর।
    252) তরুণ মাত্রই বিপ্লবী নয়; তবে তরুণ মাত্রই গোঁড়া (dogmatic)।
    253) একজন দার্শনিককে বোঝার জন্য তার চিন্তাভাবনার তালিকা তৈরী করার প্রয়োজন নেই। আমাদের কাজ হলো সেই দেবদূতকে শনাক্ত করা, যার বিরুদ্ধে ওই দার্শনিক আজীবন লড়াই করে গেছেন।
    254) প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি হলো ঐতিহ্যের রক্ষক। এমনকি বিপ্লবের ঐতিহ্যও প্রতিক্রিয়াশীলরাই রক্ষা করে।
    255) লেখক আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানান তার ভাষাকে বুঝবার জন্য; তার ভাষাকে আমাদের ভাষায় অনুবাদ করে নেবার জন্য নয়।
    256) ‘সামাজিক’ শব্দটা এমনই এক বিশেষণ, যাকে সকল ধরনের চালিয়াতির পক্ষে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
    257) ‘শিল্পভিত্তিক সমাজ' না বলে যে ইদানীং ‘কনসিউমার সোসাইটি' বলার রেওয়াজ চালু হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হলো, সমস্যার সমাধানের নাম করে সমস্যাটাকেই এড়িয়ে যাওয়া।
    258) মহৎ মানুষদের ভুলগুলো আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। কারণ ভুল করার মাধ্যমে তারা বোকাদের একটা সুযোগ দেন তাদেরকে সংশোধন করার।
    259) শিষ্টাচারের বাড়াবাড়ি মানুষকে অচল করে ফেলে (paralyse); আবার শিষ্টাচারের অভাব মানুষকে পশুতে পরিণত করে।
    260) ফ্যাশন কেবল সেই সমস্ত জীবনদর্শনগুলিই লালন করে, যেগুলি জেনেশুনে সমস্যা সৃষ্টি করে।
    261) একজন মার্ক্সবাদী তার নিজের শ্রেণীগত সীমাবদ্ধতার কারণে যে সত্যগুলোকে বুঝতে পারেন না, সেই সত্যগুলোকেই ‘শ্রেণী সত্য’ আখ্যা দেন।
    262) আধুনিক মানুষ যেকোনো জোয়ালই মেনে নিতে রাজি, যদি জোয়াল চাপিয়ে দেওয়া হাতটি নৈর্ব্যক্তিক (impersonal) হয়।
    263) শৃঙ্খলা এক ধরনের ভ্রম। কিন্তু বিশৃঙ্খলা কোনো সমাধান নয়।
    264) যা প্রকৃতই গুরুত্বপূর্ণ, তার জন্য কখনোই খুব বেশি দেরি হয়ে যায় না।
    265) বিনোদন যথেষ্ট রুচিহীন ও স্থূল হলে কেউই প্রতিবাদ করে না।
    266) একসময় ভাষা বিকৃত হতো অশিক্ষিত কৃষকদের কারণে। আজ তা বিকৃত হচ্ছে অসংস্কৃত ও অমার্জিত বিশেষজ্ঞদের পাণ্ডিত্য-জাহির ও অসাবধানতার কারণে।
    267) মানুষ যদি জন্মগতভাবে সমান হতো, তো একঘেয়েমি দূর করার জন্য তারা বৈষম্য আবিষ্কার করত।
    268) যে দেশে নগরগুলোতে উঁচু প্রাচীরঘেরা বাগান নেই, সে দেশের মানুষের কল্পনাশক্তি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়।
    269) সদাসতর্ক কল্পনাশক্তি না থাকলে বুদ্ধি অচল হয়ে পড়ে।
    270) কবিতা হলো মানবজমিনে ঈশ্বরের আঙুলের ছাপ।
    271) সমস্যাটাই যে বোঝে না, তার কাছে প্রতিটি সমাধানই তুচ্ছ বলে মনে হয়।
    272) রাজনীতি হলো অন্তঃসারশূন্য আত্মাদের অবসর-বিনোদন।
    273) মূর্খের কাছে কেবল নিজের সময়ের সমস্যাগুলোকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
    274) প্রগতির উপর বিশ্বাস রাখাকে আশাবাদ বলে না; আশাবাদ হলো অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা।
    275) কল্পনাই মহাবিশ্বের একমাত্র স্থান, যেখানে সত্যিকার অর্থে বসবাস করা সম্ভব।
    276) অতীতের স্বর্ণযুগের রূপকথাকে আধুনিক মানুষ ভবিষ্যতের প্লাস্টিক-যুগের মিথ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেছে।
    277) কোনো বস্তুর জ্ঞানকে বিশ্বাস বলে না: বরং সেই বস্তুর সঙ্গে একাত্মতা বোধ করতে পারাটাই হলো বিশ্বাস।
    278) অনেক কিছুকেই সমর্থনযোগ্য বলে মনে হয়, যতক্ষণ না আমরা তাদের সমর্থকদের দিকে তাকাই।
    279) শিল্পভিত্তিক সমাজ উনিশ শতকে যে রোগীটিকে শারীরিকভাবে আহত করেছিলো, তাকে সারিয়ে তোলার জন্য বিশ শতকে সে তার মনকে অবশ করে ফেলে। আধ্যাত্মিক দুর্দশার মূল্যেই শিল্পের অগ্রগতি সম্ভবপর হয়।
    280) আন্তরিক সংলাপ শেষ হয় ঝগড়ায়।
    281) যে মাটিতে আমাদের জন্ম, সেটা নিয়ে নালিশ না করে বরং আমরা কী ধরনের উদ্ভিদে পরিণত হয়েছি, তা নিয়েই আমাদের মাথা ঘামানো উচিত।
    282) আমরা যখন নিজেদের মাঝারিত্বকে হাসিমুখে মেনে নিই, তখন অন্যের বুদ্ধিমত্তায় যে নির্লিপ্ত আনন্দ অনুভব করি, তা আমাদেরকেও অনেকটাই বুদ্ধিমান করে তোলে।
    283) শিল্পকলায় অনুকরণের চেয়ে নিয়মকানুন বেশি ক্ষতিকর।
    284) সত্য এতটাই সূক্ষ্ম যে, সত্য কখনোই কোনো ভ্রান্ত মতবাদের মতো মানুষের মধ্যে অতো বেশি আস্থা জাগাতে পারে না।
    285) ধনী মানুষের পাপ তার সম্পদে নয়। বরং সে তার সম্পদকে যে গুরুত্ব দেয়, তাতেই তার পাপ।
    286) কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধি মানুষকে মহৎ করে; শিল্পভিত্তিক সমৃদ্ধি তাকে স্থূল ও রুচিহীন করে তোলে।
    287) কোনো শাসককে নির্বাচিত করতে কতো ভোট লাগছে, সেটা তার ন্যায্যতার নয়, বরং তার মাঝারিত্বের (mediocrity) পরিচায়ক।
    288) আধুনিক জগতের পচন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাটাই হচ্ছে সেই পচন কর্তৃক সংক্রমিত হওয়ার একটা লক্ষণ।
    289) ইতিহাস হলো দিন ও রাত্রির এক ধারাবাহিকতা—স্বল্পস্থায়ী দিন আর দীর্ঘস্থায়ী রাত্রির।
    290) আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য আমাদের সংবেদনশীলতার কঠিনীকরণ (sclerosis) এবং চরিত্রের অবক্ষয় প্রয়োজন হয়।
    291) ঈশ্বর খৎনাবিহীন হৃদয়কে (uncircumcised heart) খোজা-করা মনের (castrated mind) চেয়ে বেশি পছন্দ করেন।
    292) যে বইগুলো অন্যরা কেবলই অধ্যয়ন করে, সেগুলোই যে ব্যক্তি আনন্দের জন্য পড়ে, সে-ই হলো প্রকৃত পাঠক।
    293) কোনো জনস্বার্থমূলক লক্ষ্যই একজন বুদ্ধিমান মানুষের সীমাহীন আনুগত্যের যোগ্য নয়।
    294) বিপ্লবের কাজ হলো সেই ভ্রমগুলোকে ধ্বংস করা, যেগুলো তাকে জন্ম দিয়েছিল।
    295) কবিতা এখন মৃত। রূপকের আধিক্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে কবিতার মৃত্যু হয়েছে।
    296) রুচি নামক ধারণাটিই যখন মৃত, তখন আজকালকার লেখকদেরকে রুচিহীনতার জন্য দোষারোপ করা অন্যায়।
    297) আমরা যদি আসলেই ঈশ্বরে বিশ্বাস করে থাকি, তো আমাদের “আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখি” বলা উচিত নয়; বরং বলা উচিত, “ঈশ্বর আমাতে বিশ্বাস রাখেন।”
    298) মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে প্রতিভার অভাব পূরণ করা যায় না।
    299) মিথের শত্রুরা বাস্তবতার বন্ধু নয়; তারা তুচ্ছতার বন্ধু।
    300) আধুনিক স্থাপত্যের ভাষায় জটিল কোনো কথা বলা যায় না।
    301) ব্যক্তি ও জাতি— কিছু বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া—শালীন আচরণ করে কেবল তখনই, যখন পরিস্থিতি তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা রাখে না।
    302) একমাত্র কবিতায়ই ঈশ্বর সম্পর্কে যথাযথ স্পষ্টতা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে কথা বলা যায়।
    303) স্টুপিড আইডিয়াগুলি অমর। প্রতিটি নতুন প্রজন্ম সেগুলো নতুন করে আবিষ্কার করে নেয়।
    304) মহৎ জিনিসকে যারা ঘৃণ্য বলে ঘোষণা করে, তারা শেষ পর্যন্ত ঘৃণ্য জিনিসকেই মহৎ সাব্যস্ত করতে বাধ্য হয়।
    305) আমরা যখন কোনো বোকা মানুষের প্রিয় সমাধানটির অসত্যতা দেখিয়ে দিই, তখন সে চিৎকার করে বলতে থাকে যে আমরা নাকি সমস্যাটিকেই অস্বীকার করছি।
    306) সত্যিকার আধুনিক হওয়ার ব্যাপারটা যেকোনো যুগেই মেডিওক্রিটির লক্ষণ।
    307) বিশ্বাসের মহাসমুদ্রে মানুষ সন্দেহের জাল দিয়েই মাছ ধরে।
    308) প্রত্যেক খ্রিস্টানই কোনো না কোনো অবিশ্বাসীর হৃদয়কে আরও কঠিন করে তোলার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী।
    309) নতুন বস্তু আঁকা নয়, বরং পরিচিত বস্তুকে তার প্রকৃত রঙে দেখানোই দর্শনের লক্ষ্য।
    310) সম্মতি (consent) কর্তৃত্ব (authority) প্রতিষ্ঠা করে না; বরং কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেয়।
    311) যাকে সে অচল বলে ঘোষণা করে, তারই বারংবার পুনরুজ্জীবন প্রগতিবাদীর জীবনকে তিক্ত করে তোলে।
    312) রাষ্ট্র তখনই আবারও সম্মানের যোগ্য হয়ে উঠবে, যখন সে নিজেকে একটি সুগঠিত সমাজের রাজনৈতিক অবয়ব হওয়ার মধ্যেই সীমায়িত রাখবে।



    [ বাঙালি পাঠকমহলে নিকোলাস গোমেজ দাভিলা (১৯১৩-১৯৯৪) কতোটুকু পরিচিত, বা আদৌ পরিচিত কোনো নাম কিনা, তা আমার জানা নেই। কলম্বিয়ার এই প্রগতিবিরোধী, রক্ষণশীল দার্শনিক লাতিন আমেরিকা জুড়ে বিখ্যাত মূলত তার শত শত তীক্ষ্ণ ও ধারালো প্রবচনের জন্য। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ Escolios a un Texto Implícito এবং পরবর্তী Nuevos Escolios ও Sucesivos Escolios মূলত এই ধরনের প্রবচন ও খণ্ডচিন্তারই সংকলন। দাভিলার দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মূলত আধুনিক সভ্যতা, সংস্কৃতি ও রাজনীতির প্রতি গভীর সংশয়। গণতন্ত্র, সমতাবাদ, প্রগতিবাদ, আধুনিক যুক্তিবাদ এবং মানুষের সীমাহীন সরলরৈখিক অগ্রগতির ধারণাকে তিনি শত শত প্রবচনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। নিজেকে ‘reactionary’ বা প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে চিহ্নিত করতেও লজ্জাবোধ করেননি তিনি, যদিও বিশ শতকের দুনিয়ায় দার্শনিক হিসেবে ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ পরিচয় বহন করাটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপারই ছিলো। দার্শনিক হিসেবে দাভিলা ছিলেন স্বাধীন ও স্বশিক্ষিত; জীবনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ডিগ্রি নেননি তিনি; তবে তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে ত্রিশ হাজারেরও বেশি বই ছিলো বলে জানা যায়। নীৎশের সঙ্গে চিন্তা ও শৈলীগত সাদৃশ্যের কারণে তাঁকে কখনো কখনো Nietzsche of Andes বলেও সম্মোধন করেন তার অনেক ভক্ত ও পাঠক।
    অনুবাদক হিসেবে এ কথা জানিয়ে রাখা ভালো যে, দাভিলার বেশিরভাগ বক্তব্যের সঙ্গে আমি মোটাদাগে একমত নই। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কেন আমি দাভিলা অনুবাদ করলাম? উত্তরে বলবো, দু’টি কারণে। প্রথমত, আধুনিক জীবনের বিভিন্ন সংকটের যে বিশ্লেষণ দাভিলা করেছেন, তা মূল্যবান। কার্ল স্মিটের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করলেও আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে সমালোচনা তিনি করেছেন, তা যেমন বিশ শতকের বহু প্রগতিবাদী দার্শনিক স্বীকার করে নিয়েছেন, তেমনি দাভিলার প্রস্তাবিত সমাধান আমরা গ্রহণ না করলেও যে সমস্যাগুলোকে তিনি তাঁর লেখায় তুলে এনেছেন, সেগুলোকে সমস্যা বলে মেনে নিতে আমাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। দ্বিতীয়ত, পূর্ব-অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, বিপরীত চিন্তার কোনো লেখকের লেখা পড়বার সময় বা অনুবাদ করবার সময় আমার নিজের মাথাটাও খুলে যায়, আমি নিজেও লেখকের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে ভাবিত হই, এবং প্রায়শই ফলপ্রসূভাবে চিন্তা করতে থাকি। ফলে, দাভিলা পড়তে পড়তে চিন্তক হিসেবেও আমাকে সক্রিয় থাকতে হয়েছে প্রায় পুরোটা সময়। এটা তো একটা উপকারী দিকই।
    তিনশোর বেশি প্রবচনের অনুবাদ এখানে রইলো। শেষ অব্দি, দাভিলার কতোটুকু নেবেন ও কতোটুকু ছাড়বেন, সে বিচারের ভার একান্তই পাঠকের উপর। অনুবাদক হিসেবে আমি উপলক্ষ মাত্র, পাঠকের লক্ষ্য পাঠকই বুঝে নেবেন। ]

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন