এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • বহ্নি মধুময় অথবা মধু বহ্নিময়ঃ (উপন্যাসিকা ঃ পর্ব ৭) 

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৩০ বার পঠিত
  • | | | | | | |
    অনাদিবাবুর ঘর। পুজোর পর দেড় মাস কেটে গেছে। আজ এখানে ডবল ফিষ্টি। কারণটা আর কিছুই নয়। এবার পুজোয় ছেলেরা দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। আর ‘পারসন অফ দি পুজো’ হয়েছে মধু। স্পনসর অনাদিবাবু, চারুবাবু। পুরুতমশাই দই-মিষ্টির পয়সা দিয়েছেন।সবাই প্রায় হাজির। ঠাকুর দিয়ে চলছে রান্না। তদারকি করছে পলতেদা। কী যেন একটা স্পেশাল বিরিয়ানী বানানো হবে। সঙ্গে ফিশ ফ্রাই, ফিশ কবিরাজী, ফিশ ফিলে। তিন-চার রকমের স্যালাড। ফচকা, মংকারা হেল্পারের কাজ করছে। রান্নাও চলছে, মুখও চলছে। বিল্কু মাংসের ডেকচিটা রিক্সো করে এনে নামিয়ে বলল, “অ্যাই বাপ। আমি আর কোনো কাজ করব না। এই একটা ফিসফ্রাই ছাড় তো”।

    ঘরের ভিতরে অনাদিবাবু আর চারুবাবু দাবা খেলায় মত্ত। পুরুতমশাই দু’দিকই সামলাচ্ছেন। রান্নার ঠাকুর বিরিয়ানীর ভাত সেদ্ধ করে এইমাত্র হাওয়ায় শুকোতে দিল।

    পুরুতমশাই সব কিছু দেখে পলতেদাকে বলল, “সবই তো ঠিক হচ্ছে.....। কিন্তু আমাদের আসল লোক কোথায়.....?। যার অনারে এতো আয়োজন..?”।

    মাংস ধুতে ধুতে মংকা জবাব দিল, “তার খোঁজ এখন একজনই জানে। তার সাথেই তো দিনরাত্তির এক হয়ে গেছে”। বলেই খ্যাক খ্যাক করে হেসে উঠল।

    পুরুতমশাই-এর চোখেও যেন দুষ্টুমির দৃষ্টি। চোখ নাচিয়ে, মুখ ঝাঁকিয়ে ইশারায় জানতে চাইলেন।মংকাও জবাব দিল, “হ্যাঁ”।

    ব্যাস হাসিতে ফেটে পড়ল সবাই। পলতেদা চারুবাবুকে দেখিয়ে ইশারায় সবাইকে চুপ করতে বলল।

    পুরুতমশাই মুখ চেপে হাসতে হাসতে একটা প্লেটে কটা ফিশ কবিরাজী তুলে নিতে নিতে বলল, “যাই, মধুর হবু শ্বশুড়কে খাইয়ে আসি”।

    ঘরের ভিতর দাবা খেলায় তখন তুমুল অবস্থা। দু’জন এমন মত্ত হয়ে আছেন যে ঘরের জিনিসপত্র চোরে এসে নিয়ে গেলেও তারা টের পাবেন না। চারুবাবু চাল দিয়ে বললেন, “আপনার ঘোড়া সামলান অনাদিদা”।

    অনাদিবাবু খুব অবাক হওয়ার ভান করে বললেন, “তাই নাকি? ওদিকে আপনি যে ঘোড়াকে ধরেছেন তাই দিয়ে আপনাকে কিস্তি দিয়ে দিলাম। এই নিন”। অনাদিবাবু ঘোড়াটির স্থান বদলালেন।

    চারুবাবু প্রথমে তুচ্ছতাচ্ছিল্ল করছিলেন। পরে দেখলেন সত্যিই তো! একবার অনাদিবাবুর মুখের দিকে তাকালেন, একবার বোর্ডের দিকে। বললেন, “কিস্তি ...?”।

    অনাদিবাবু শেষ করলেন, “... মাত”।

    চারুবাবু মেনে নিলেন যে অনাদিবাবু ভালই খেলেন। তার সিসিলিয়ান ডিফেন্সও ভেঙে দিলেন। প্রশংসা করে হাত মেলাচ্ছিলেন। পুরুতমশাই থালা নিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে হাত মেলানো দেখলেন। ভাবলেন এখানেও তাহলে কথা পাকা। একগাল হেসে বললেন, “সবাই যখন রাজী, তাহলে ‘মুখ নোনতা’ হয়ে যাক”।

    “মুখ নোনতা? সবাই রাজী! ..... আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না”, চারুবাবু তো অবাক।

    অনাদিবাবু গোটা ব্যাপারটা সামলালেন। তাড়াতাড়ি করে পুরুতমশাইকে ঘর থেকে টেনে বের করে ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন যে চারুবাবু এখনও এই বিষয়ের বিন্দু-বিসর্গও জানেন না। তারপর ফিসফিস করে বললেন, “আপনি আবোল-তাবোল বলে দয়া করে গোটা ব্যাপারটা ভেস্তে দেবেন না”। পুরুতমশাই মাথা নেড়ে সায় দিলেন। তারপর ঘরে গিয়ে অনাদিবাবু সামলালেন চারুবাবুকে।

    ফিশ কবিরাজী খেতে খেতে চারুবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, “কই, আজকের হিরোকে তো দেখছি না?”।

    “বোধহয় কাজে গেছে”। অনাদিবাবু জবাব দিয়েই জিভ কাটলেন।

    ফিশ কবিরাজীর টুকরো মুখে ঢোকাতে গিয়েও থেমে গেলেন চারুবাবু, “কাজে! আজ রবিবার, সব বন্ধ! আজকে, কাজ?”।

    অনাদিবাবু বোঝান শুরু করলেন, “ওভার টাইম হতে পারে? মানে আজকে কে যে কী কাজ করছে তা স্বয়ং বিশ্বকর্মাও জানেন না। কারণ যাদের ওপর খবর দেওয়ার ভার ছিল তারা সব তো ফাঁকি মারছেন কী না”।

    “হ্যাঁ, তা যা বলেছেন। দলের ছেলেগুলোকে দেখছি তো। আজকাল কেউ কাজ করতে চায় না, ওদিকে মাতব্বরিতে আছে। তারপর দেখুন না..”, আরেকটা ফিশফ্রাই গলাধকরণ করলেন, “সরকারী চাকুরেদের কথাই ধরুন না”।

    অনাদিবাবু চারুবাবুর কথা সমর্থন করে বললেন, “তার ওপর আবার সব কাজ তো আর বিশ্বকর্মার ডিপার্টমেন্টের অধীনে নেই। বেনামে অনেক ডিপার্টমেন্ট চলছে কী না”।

    “কিন্তু, মধু এখন কী কাজ করতে পারে বলুন তো?”, চারুবাবুর শঙ্কা কিন্তু গেল না।

    ************

    বেলার দিকটায় পুকুরের এই ধারটায় লোকজন তেমন আসে না। পাশে বুড়ো শিবের পোড়ো মন্দির। কে জানে, কবে কেউ হয়তো সরল ধর্মবিশ্বাসে এই মন্দিরটা বানিয়েছিলেন। আগে অনেক ভিড় হত। মানত করত এলাকার মেয়ে-বউরা। এখন অবশ্য শুধু শিবরাত্রির দিন আশেপাশের ঝোপঝাড় পরিস্কার করে পাড়ার ছেলেরা ম্যারাপ বেঁধে পুজো করে। মেয়ে-বউয়েরা দল বেঁধে ঢালতে আসে জল। এই শিবরাত্রিতে ছেলেরা লাভবান হয় দু’ভাবে। এক পুজোর প্রণামী, ফলপ্রসাদ। আর যদি বাবা মহাদেব সত্যিই প্রসন্ন থাকেন তাহলে প্রেমিকাও জুটে যেতে পারে।

    কার্তিক মাসের শেষ দিকটায় একটা ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে ক’দিন ধরে। এই সময়টায় পুজোর একটা ধারাবাহিক চলে। থামে সেই সরস্বতী পূজাতে গিয়ে। জগদ্ধাত্রী পূজো শেষ। তবুও রয়ে গেছে হ্যাংওভার। মনে একটা রিমঝিমে ভাব খেলা করছে। তার ওপর একটা কাতিল হাওয়া বইছে থেকে থেকে। অনেকেই হয়ে যাচ্ছে বেসামাল, উড়ে যাচ্ছে আকাশের সাদা তুলোট মেঘের মতো।

    বহ্নির দশাও এইরকম। গতমাসটা যেন ঘোরের মধ্যে কেটে গেল। মন প্রাণ জুড়ে শুধু মধু আর মধু। দূর্গাপুজোর পর যত সময় গেছে মধুর সাথে দেখা করার মাত্রাও ঠিক বেড়েছে সেই হারে। আজও চলে এসেছে এই মন্দিরের ধারে। দেখে বেশ উৎকন্ঠিত লাগছে। ঘন ঘন দেখছে হাতের ঘড়ি। মধু এখনও পৌঁছয় নি এসে। বুড়ো শিবের মন্দিরের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে প্রণাম করল বহ্নি। মনে মনে জানাল যেন তার মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। প্রণাম করে ঘুরে দাঁড়াতেই দেখে মধু। সাইকেল করে এসে হাঁফাচ্ছে। স্ট্যান্ড করে কানে হাত দিয়ে দেরী করে আসবার জন্য ক্ষমা চাইল, বলল “আর বোলো না। তোমার সাথে দেখা করবার জন্য আসছি ....., যে পারছে দাঁড় করাচ্ছে আর জিজ্ঞাসা করছে চারুবাবু তোকে কী দিল রে? ..... আমি বলতে যাচ্ছিলাম যে তোমাকে দিয়েছে......., কিন্তু তোমার কথা ভেবে বল্লাম না”।

    মধু আস্তে করে হাতটা ধরল বহ্নির। হাত ছাড়িয়ে নিল বহ্নি। মুখটা শক্ত, কঠিন। “যাব্বাবা, কী হল?”,এই বিঘ্নে প্রস্তুত ছিল না মধু।

    “কী হয় নি? বাবা আমার বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আজ এক ছেলের ছবি আনছে, তো কাল অন্য ছেলের ...। একজন ডাক্তার, তো অন্যজন ইঞ্জিনিয়ার”।

    “সেই, সেখানে কোথায় লাগে বি.এ. পাশ করা একটা বেকার ছেলে”, ঘাসে শুয়ে পড়ল মধু।হতাশ হয়ে বলল, “দেবদাস হয়ে যাব বুঝলে ...., তোমাকে না পেলে, দেব্দাস...। কী হবে গো আমার কেউ বলে দাও..”

    “দুর ছাই। এখন কোথায় সিরিয়াসলি কথা বলবে তা না। খালি কী হবে গো আমার, কী হবে গো আমার ...”

    “কিচ্ছু ভাবতে পারছি না যে”, উঠে বসল মধু। বলল, “কত কী স্বপ্ন দেখেছিলাম। তুমি গান গাইবে, আমি সরোদ বাজাব ....., কত নাম হবে ....কত ....। তারপর বাচ্চা হবে ..”

    “ধ্যাৎ, ভালো লাগছে না কিন্তু বলে দিচ্ছি। এই রকম করলে, এই রকম করলে চলে যাব বলেদিলাম”।

    এই নশ্বর পৃথিবীতে যে বস্তুকে তুমি নিজের মতো করে পেয়েছ, যে তোমার প্রাণের ধন, মনের প্ল্যাটিনাম, তাকে হঠাৎ আর পাবে না, সে হারিয়ে যাবে শুনলে বুকের ভিতর যে রকম হু হু করতে থাকে, তার থেকেও যদি বেশি কিছু থাকে তবে সেইরকম বুকের ভিতর হতে থাকল মধুর। কথা হারিয়ে গেছে, চোখে জল। দেখে বড় মায়া হল বহ্নির। মুচকি হেসে ওড়না দিয়ে চোখ মুছিয়ে দিল মধুর। কাছে টেনে গালে আলতো করে খেল চুমু। মধু মাথা নিচু করে আছে।

    বহ্নি বলল, “বাব্বা, এত্তো রাগ? শোনো না, এই, তোমার পলতেদাকে বল না। যদি উনি কোনো প্ল্যান ট্যান করে কিছু করতে পারেন.., একটু বুঝেশুনে। দেখো বাবাকে আঘাত করতে চাই না, আবার তোমাকেও হারাতে চাই না”।

    তাইতো? পলতেদার কথা মনেই হয় নি এতোক্ষণ মধুর। চোখ মুছে একগাল বোকা বোকা হাসি হেসে মাথা চুলকে সাইকেল নিয়ে লাগাল দৌড়। মধুর এই তাড়াহুড়োতে গাছের কটা কাক গেল উড়ে, একটা ব্যাঙ টুপ করে লাফিয়ে পড়ল পাশের পুকুরে। বহ্নি অস্ফুট স্বরে বলল, “সাবধানে যেও..”। তারপরব আবার বুড়ো শিবকে প্রণাম করে বলল, “দেখো ঠাকুর”।

    ওদিকে অনাদিবাবুর ওখানে সবাই প্রায় খেতে বসে পড়েছে। খালি পলতেদা, ফচকা, মংকা এবং আরো দু’জন বসে নি। মধু এলে একসাথে বসে খাবে, কিন্তু গেল কোথায় ছেলেটা? ঠাকুর পরিবেশন করা শুরু করে দিয়েছে। পুরুতমশাই চেয়েচিন্তে খান কতক ফিশফ্রাই নিলেন। অনাদিবাবু তাই দেখে ভ্রু কোঁচকালেন। চারুবাবু একটা ফিশফ্রাই এ কামড় বসিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কোথায় গেল বলুন তো ছেলেটা?”

    অনাদিবাবুর কপালেও ভাঁজ। এতো দেরীতো করে না মধু, হ’লটা কী?

    হঠাৎ পলতেদা, ফচকা, মংকা হইচই করে উঠল। মধু এসে গেছে কিন্তু মুখটা ব্যাজার। ওরা কারণ জিজ্ঞাসা না করে নিজেদের দিকে মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে থাকল। চারুবাবু মধুকে দেখে বললেন, “কই হে? ছিলে কোথায়? আজ দেখব তুমি কেমন খাও, দেখি সেখানেও তুমি চ্যাম্পিয়ান হতে পার কী না?”

    মধু তাচ্ছিল্লের ভঙ্গিমায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাসল। বলল, “কি হবে তাহলে?”।

    অনাদিবাবু আলতো করে বকা দিলেন কিন্তু একটা কিছু যে হয়েছে সেটা আঁচ করতে পেরে আর কথা বাড়ালেন না। বললেন, “নে, ওরা তোর জন্য কখন থেকে বসে আছেন। খেতে বসে পড়”। তারপর পুরুতমশাই এর দিকে তির্যকভাবে তাকিয়ে বললেন, “উনি তো কোয়ার্টার সেঞ্চুরি করে ফেললেন”।

    অন্যেরা হাসল, মধুর হাসি পেল না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেতে বসল। পাতে খাবার নিয়ে আঙুল দিয়ে বিলি কাটছিল। চোখে আবার জল চলে এসেছে। পাশেই বসেছিল পলতেদা। বিবিয়ানীটা যে ভাল হয়েছে বলতে গিয়ে মধুর দিকে তাকাতেই বুঝে গেল কেস জন্ডিস। চাপা গলায় বলল, “সীন করিস না। খেয়ে নে তারপর বসব”।

    অনেকক্ষন আগেই খাওয়া শেষ হয়েছে। চারুবাবু, পুরুতমশাই, জয়ন্তদা, বরুনদা এবং আরও অনেকে চলে গেছেন। যাবার আগে অবশ্য করে গেছে রান্না এবং আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা। ঘরে বালিশে আরাম করে শুয়ে আছেন অনাদিবাবু, পান চিবোচ্ছেন। দূরে মধু গোঁজ হয়ে দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন শাস্তি দিয়েছে। পলতেদা, মংকা, ফচকে ঘরে ঢুকল। পলতেদা অনাদিবাবুকে ইশারায় বোঝাল সবাই চলে গেছে। অনাদিবাবুও ইশারায় মধুকে ডাকতে বলল।

    পলতেদা মধুকে বলল, “ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আমরা কি কিছু বুঝতে পারব? নে, এখানে এসে খুলে বল”। মধু এক এক করে সব খুলে বলল। সব শুনে সবাই একটু গম্ভীর হয়ে গেল।

    মংকা মাথা গরম ছেলে। বলল, “কালই তুই বিয়ে করে ফেল, লফড়া খতম হয়ে যাবে”।

    রেগে গেলেন অনাদিবাবু। বললেন, “বিয়ে করে খাওয়াবে কী মধু?”

    পলতেদা বলল, “খাওয়াবে কেন? এখন রেজিস্ট্রি করে রাখুক, গোপনে, পরে সময় মতো খুলে বলা যাবে –

    “হুম, প্ল্যানটা মন্দ নয়; মন্দ নয়।কিন্তু বহ্নি কি মেনে নেবে? কি রে মধু, তোর কি মনে হয়?”

    “কী আবার মনে হবে?”, বললেন অনাদিবাবু। মধু একটু লজ্জায় পড়ে গেছে বিয়ের কথা শুনে। “না। বহ্নি রাজী হবে তো?”, অনাদিবাবু আবার জিজ্ঞাসা করলেন।

    “রাজি করাতেই হবে”, বলে টেবিলে ঘুষি চালালো মংকা।

    “ঠিক আছে বলব..”, মধু জবাব দিল।

    “কবে?”, পলতেদা ঘাড়ের ওপর এসে পড়েছে।

    “সামনের শনিবার, দেখা হওয়ার কথা আছে”।

    “আজ হল রবিবার”।

    “হ্যাঁ”।

    “ঠিক আছে কোনো চিন্তা নেই”।, মধুর পিঠে হাল্কা চাপড় মারল পলতেদা। বলল, “আর মেয়েদের মতো ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কাঁদিস না”।

    আরও লজ্জা পেয়ে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকল মধু। একটা অন্তঃসলিলা আনন্দের স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে সারা শরীর জুড়ে। অনাদিবাবু মুখে আঙুল দিয়ে বললেন, “যাক, কথাটা যেন পাঁচকান না হয়।। ভালোয় ভালোয় একবার রেজিস্ট্রিটা হয়ে যাক,তারপর কোমড় বেঁধে লেগে পড়ে একটা কাজ জোগাড় করে নিবি, ব্যাস। আমরাও দেখছি”।

    (চলবে)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | | | |
  • ধারাবাহিক | ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৩০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন