এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  বিবিধ

  • মুক্তচিন্তার বিকেন্দ্রীকৃত সামাজিক মাধ্যম : পঞ্চম পর্ব , AT প্রোটোকল

    অরিন লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | বিবিধ | ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১০১ বার পঠিত
  • গত পর্বে শেষ করেছিলাম লিখে যে ফেসবুক ও টুইটার যেমন সামাজিক মাধ্যমকে তাদের অ়্যালগোরিদম আর বিজ্ঞাপণের মাধ্যম রূপে গড়ে তুলেছে ও আমাদের প্রায় তাদের নিজেদের ঘেরাটোপে বন্দী করে ফেলেছে, এর হাত থেকে মুক্তিরও উপায় রয়েছে | শুরু করা যাক অ্যাট প্রোটো নিয়ে | তবে সে কথায় যাবার আগে দু একটি বিষয় একটু দেখে নেওয়া যাক | মানছি আপনি হয়ত ভাবছেন চর্বিত চর্বণ, কিন্তু মুক্তির পথ দেখতে গেলে কারাগারের বদ্ধতা একটু ভাবতেও তো হয়।

    ওয়েব যখন পুরোপুরি সামাজিক মাধ্যম হয় নি

    এই মনে করুন অরুণবাবু একটি ওয়েব সাইট খুললেন, সেই সাইট তিনি পাতা (html page) আর ছবি দিয়ে সাজিয়ে রাখলেন। ওয়েব সাইট খুলতে গেলে অরুণবাবুকে তাঁর ইনটারনেট সার্ভিস যিনি দিচ্ছেন, বা যে কোম্পানী ওয়েব সাইট করতে দিচ্ছেন তাদের কাছ থেকে সার্ভার স্পেস ভাড়া করতে হল, যে নাম তিনি চান সেই নামটিও বছর বছর ভাড়া হিসেবে নিয়ে তিনি অরুণবাবু ডট কম নাম দিয়ে সাইট তৈরী করে তাঁর লেখাপত্র তুলে সাজিয়ে রাখলেন, এবং বন্ধু বান্ধবদের জানালেন যে ওয়েবে তাঁর নতুন ঠিকানা অরুণবাবু ডট কম। অরুণবাবু রোজই প্রায় নিয়ম করে কিছু না কিছু লেখেন, ছবি তুলে আপলোড করেন, এই করে তাঁর একটি ওয়েবে বেশ একটি উপস্থিতি হল।



    বরুণবাবুও, অরুণবাবুর মতই একটি ওয়েবসাইট খুলেছিলেন, তিনিও পাতা, ছবি, ইত্যাদি দিয়ে তাকে সাজিয়ে ছিলেন।



    এরকম আরো বহু লোক নিজেদের মত করে ওয়েব পেজ তৈরী করে কখনো নিজেদের নামে সারভার ভাড়া নিয়ে, কখনো অন্যের সার্ভারে সাজিয়ে রাখলেন। ব্যাপারটি খুব কঠিন কিছু নয়, এক সময় geocities.com খুব জনপ্রিয় হয়েছিল, পরে উঠে যায়, এখনও আপনি চাইলে neocities.org এ নিজের মত করে ওয়েবসাইট তৈরী করতে পারেন, আপনার লেখা বা ছবি সেখানে “হোস্ট” করে রাখলেন, আর তার লিঙ্ক বন্ধুবাবন্ধবদের বিতরণ করতে পারেন, তাঁরা তাঁদের ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে দেখতে পাবেন।

    এখন বহু লোক বা সংস্থা যে যার নিজের মত করে ওয়েবসাইট তৈরী করে ওয়েবে রেখেছে এবং সে সমস্ত সাইট একে অন্যের থেকে আলাদা বা স্বতন্ত্র, তবে এর মানে মনে করার কোন কারণ নেই যে সেই সব সাইটের মধ্যে কোন যোগসূত্র ছিল না। যোগসূত্র তো ছিলই, সেই যোগসূত্রই হল hyperlink, মানে নীল রঙের দাগানো বাক্য যাকে ক্লিক বা স্পর্শ করে আপনি এক পাতা থেকে অন্য পাতায় উন্মুক্ত ওয়েবে কন্বমুনির আশ্রমের নির্ভীক হরিণের ন্যায় বিচরণ করতে পারতেন। যেমন অরুণবাবুর সাইটের পাতা থেকে বরুণবাবুর সাইটের পাতায় তিনি লিঙ্ক করে রেখে দেখতে পেতেন, আবার বরুণবাবু তাঁর সাইটের পাতা থেকে অরুণবাবুর সাইটে ছবি দেখতে পেতেন, এই সমস্ত লিঙ্ক অবাধ ও সার্বজনীন, এবং যে কেউ যে কোন ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে দেখতে পেতেন, কারো কোন বাধা ছিল না |


    এই করে বেশ কিছুকাল কেটে গেল; বেশ কয়েকদিন পর, অরুণবাবু লক্ষ করলেন যে তিনি যে ওয়েব সার্ভিস প্রদায়ী কোম্পানিতে নাম লিখিয়ে ওয়েব সাইট তৈরী করেছিলেন, তারা তাঁর ওয়েবের পাতায় পাতায় বিজ্ঞাপণ দিচ্ছে, আরো নানান রকমভাবে কি করে যেন ট্র্যাক করছে। অরুণবাবুর এ সমস্ত ব্যাপার ঘোর অপছন্দের, যদিও এই কোমপানীটির সার্ভিস খুব ভাল, বেজায় সস্তা, প্রায় বিনি পয়সায় অরুণবাবু হোস্ট করছিলেন, এবং কখনো কেউ অরুণবাবুকে বলেনি যে তারা অরুণবাবুর ওয়েবসাইট দেখতে পায় না, তথাপি অরুণবাবুর এই অকারণ খবরদারী পছন্দ হল না। তাই অরুণবাবু তাঁর ওয়েবসাইট নতুন একটি কোমপানীতে সরিয়ে নিয়ে গেলেন।


    এবার অরুণবাবু নতুন হোস্টিং কোমপানীতে এসেছেন, তাঁর পাতা, ছবি সব পুরনো হোস্ট থেকে সরিয় নিয়ে চলে গেলেন | সব থেকে মজার ব্যাপার, কেউ কিছুই টের পাবে না, কারণ সব কিছুই আগের মত রইল, অরুণবাবু যে তাঁর পুরনো হোস্টের সঙ্গে আর নেই, কারো বোঝার উপায় রইল না। তাঁর সাইটের নাম কোম্পানীর ওপর নির্ভর করে না, তিনি সে নাম ভাড়ায় কিনে রেখেছেন, কাজেই কোন কোম্পানীতে তিনি ছিলেন তার ওপর কিছু নির্ভর করে না। এবং সবথেকে বড় কথা, ওয়েবের যে চালিকা শক্তি, অর্থাৎ লিঙ্ক, যে কে সেই রইল, পুরনো কোম্পানী থেকে নতুন কোম্পানীতে এসে অরুণবাবু যে সব লিঙ্ক হারিয়ে ফেলবেন সে সম্ভাবনা নেই | মানে যে কোম্পানী অরুণবাবুকে তাদের স্পেস দিয়েছে অরুণবাবুর বক্তব্য বা ওয়েবপেজ নির্মাণ করার খাতিরে, অরুণবাবু কার সঙ্গে কোথায় কি লিঙ্ক রাখবেন তার সঙ্গে তাদের ব্যবসার কোন সম্পর্কই নেই |

    এই বিষয়টি একবার ভেবে দেখুন, ব্যাপারটি যদি এইরকম না হত, মানে মনে করুন যদি হোস্ট কোম্পানী ঠিক করত যে অরুণবাবুর সাইটের নাম ওরা ঠিক করে দেবে, যদি মনে করুন পুরনো হোস্ট কোমপানী অরুণবাবুর সাইটের যাবতীয় লিঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করত, বা লিঙ্কের ওপর মালিকানা দায়ের করত, অরুণবাবুর পক্ষে প্রথম হোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হত, এবং ততদিনে আবার কেঁচে গণ্ডুষ করার ঝামেলার কথা ভেবে অরুণবাবু হয়ত পুরনো হোস্টেই রয়ে যেতেন। এবং, সবথেকে বড় কথা লিঙ্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে যে সম্ভব সংস্থা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হোস্টিং সারভিস দেন, তারাই ওয়েব নিয়ন্ত্রণ করত।

    ব্যাপারটি সে রকম নয়। লিঙ্কের ওপর হোস্ট সংস্থার কিন নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই আজও ওয়েব স্বাধীন, সার্বজনীন, এবং যে কেউ, যখন খুশী, কারো অনুমতি ব্যতিরেকে ওয়েব সাইট খুলে নিজের ভাব বিনিময় করত সক্ষম। এবং এতে করে অজস্র হোস্টিম কোমপানী আজ করে খাচ্ছে। এই যে মুক্ত সার্বজনীনতা, মানে যে কেউ ওয়েব সাইট খুলে দিব্য কাহ করতে পারেন, কারো আলাদা করে অনুমতি নেবার দরকার নেই, আদার ব্যাপারী থেকে জাহাজের স্টিভেডোর সব সমান, এই ঘোর সাম্য স্থাপনকারী ব্যাপারটিকেই আমরা বিকেন্দ্রিকৃত বলছি। এখন আপনি বলতে পারেন যে যিনি ওয়েব সাইট নিয়ন্ত্রণ করেন, বা ধরুণ এক্ষেত্রে অরুণবাবু যদি অন্য কাউকে তাঁর সাইটে লিখতে অনুমতি দেন, তাহলে সেই লেখক কি লিখবেন বা কি প্রকাশ করবেন বা আদৌ প্রকাশ করতে পারবেন কিনা (অন্তত অরুণবাবুর সাইট থেকে), তার নিয়ন্ত্রণ অরুণবাবুর হাতে, সেই অর্থে অরুণবাবুর ওয়েবসাইটটি কেন্দ্রায়িত | কিন্তু তাহলেও ওয়েব একটি সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রিক ভাব প্রকাশের মাধ্যম |

    এ হল ওয়েবের একেবারে আদিযুগের কথা, ধরা যাক ২০০৪ বা তার আগের কথা বলছি, যখন এইভাবেই মানুষ ওয়েবে নিজেদের লেখাপত্র প্রকাশ করে রাখত। এখন আমরা সবাই চাই আমাদের লেখা অন্যেরা পড়ুক, আলোচনা করুক, আমাদের পাঠকরা আমাদের জানান তাঁদের কেমন লাগল, আমার লেখা বা ছবি, গান, কবিতা, বা চলমান ছবি, চলচ্চিত্র অন্যরাও দেখুক, আমাদের তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান। হাজার হোক, আমরা সামাজিক প্রাণী, কাজেই যতই আমরা আমাদের লেখাকে লিঙ্কের সূত্রে একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে দিই, সবাই মিলে একসঙ্গে পারস্পরিক মত বিনিময়ের একটা সুপ্ত বা প্রকাশিত আকাঙ্খা আমাদের সকলেরই থাকে।

    অতএব সামাজিক মাধ্যম, এবার কি হল?

    বৈদ্যুতিন সমাজ-মাধ্যম সেই প্রেক্ষিতে বিচার করলে, মনে হয়, একটি নতুন ভাব বিনিময়ের জগতের সূচনা বা উন্মেষ করল। সমাজ মাধ্যমে তখন আর মানুষ আলাদা করে নিজেদের html পাতা লিখে ওয়েব সার্ভারে রেখে দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে লিঙ্ক বিনিময় করার কথা না ভেবে, পাতা অন্যদের সারভারে অন্যভাবে রেখে দিত। এই ব্যাপারটিই যাকে বলে Web 2.0, (জনশ্রুতি এই নামটির জনক টিম ও’রিলি, ইনি একটি প্রকাশনা সংস্থা O’Reillly com এর মালিক, এরা নানান রকমের টেকনোলজি নিয়ে ও তার প্রয়োগ নিয়ে লেখালিখি ও বইপত্র ছাপেন)। ফলত, সমাজ মাধ্যম জনপ্রিয় হবার পর, এবার ওয়েব পেজ লিখেই যে কেবল ভাব প্রকাশ করতে হবে, তার আর প্রয়োজন রইল না, তার বদলে মানুষ আরো সহজে সামাজিক মাধ্যমে প্রোফাইল, পোস্ট, কমেন্ট লিখতে শুরু করল |
     


    এই ব্যাপারটি আমরা একটু ভেবে দেখি | এই ব্যাপারটিও ওয়েব নির্ভর। যেহেতু ওয়েব নির্ভর, সেহেতু ওয়েবের চালিকা শক্তি লিঙ্ক এখানে সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ | এইখানে একটি বিষয় বিচার করার আছে | দেখুন, ওয়েবে আমরা লিখলে লেখার নীচে নীল রঙের দাগ দিয়ে দিই, দিয়ে যে পাতা দেখাতে চাই, তার ঠিকানা লিখে রাখি | সমাজ মাধ্যমে শুধু যে লিঙ্ক রইল তাই নয়, তার জায়গায় এবার “পছন্দ (like)”, “অনুসরণ (follow)”, এগুলোও যুক্ত হল। আপনি আগে যেখানে আপনার পরিচয় আলাদা করে ওয়েব পেজ তৈরী করে লিখে রাখতেন, এখন তার জায়গায় আপনার পরিচয় জানানোর অভিপ্রায়ে “প্রোফাইল” নাম দিযে পাতা লিখলেন, সেখানে আপনি কে, কি কাজ করেন, কি বিষয়ে লিখতে চান, কি পড়তে ভালবাসেন ইত্যাদি প্রভৃতি ফিরিস্তি লিখে রাখলেন। আপনি আগে যেখানে আপনার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য প্রবন্ধ, কবিতা, ছোট ছোট কথা লিখে রাখতেন, এখন সেখানে আপনি “পোস্ট” করলেন, তাদের মধ্যে আবার অনেক পোস্ট নেহাতই ছোটখাট, তার নাম দেওয়া হল “status update”, আপনার দৈনন্দিন দিনের কথা, মনের ভাব প্রকাশ করলেন (তার পোষাকী নাম “lifelogging”), এবং অন্যের লেখার নীচে আপনার বক্তব্য পেশ করলেন (‘কমেন্ট’) করলেন। এখন এর সবকিছুই কিন্তু আদতে ওয়েব পেজ, বাংলায় ওয়েব পাতা |

    সে যা হোক, এইবারে অন্য একটি ব্যাপার হল। আগে যেখানে নীল রঙের দাগ দিয়ে আপনি এক পাতা থেকে অন্য পাতায় সহজে বিচরণ করতে পারতেন, এবারে তাতে যোগ হল অনুসরণ, আপনি কে, আপনাকে অন্য একজন অনুসরণ করতে পারবেন, এবং অনুসরণ করলে আপনি যা যা লিখবেন, যা মন্তব্য করবেন সে তার “দেওয়ালে” দেখতে পাবে | একই ব্যাপার, আপনিও তাই, যাকে অনুসরণ করবেন তার যাবতীয় লেখালিখি আপনি দেখতে পাবেন। এ এক ধরণের লিঙ্ক; তারপর ধরুন আপনার যদি কোন কারো কোন লেখা বা ছবি ভাল লাগে আপনি “পছন্দ” করলেন, এও এক ধরণের যোগসূত্র | মানে এখন আর ব্যাপারটি যে কেবল পাতা থেকে পাতায় বিচরণের তাই নয়, পাতার সূত্রে মানুষে মানুষে যোগসূত্র নির্মিত হল।

    এখন আপনি ভাববেন এ তো বেশ ভাল কথা | তবে এর মধ্যে আরো একটি ব্যাপার নজর করুন | এক, এই প্রোফাইল, পোস্ট, মন্তব্য, এ সমস্ত পাতা আপনি রাখবেন কোথায়? আপনার চেনা সার্ভার যেখানে এতকাল আপনি অন্য লেখা লিখে রাখেন সেখানে রাখলেন না, কারণ ব্যাপারটি ঠিক ঐরকম ওয়েব পেজ লিখবেন যে সেরকম নয়, একটি ডাটাবেস ভাবতে হবে, আপনি অতশত মাথা ঘামান না, তার সময় ও খরচও আপনার নেই। তার পরিবর্তে নানান রকমের প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, যেমন ধরুণ ফেসবুক, টুইটার (আজকালকার দিনে X), ইনস্টাগ্রাম, এই রকম নানান সংস্থা বাজারে এল | আগে যেখানে অর্থের বিনিময়ে আপনি সার্ভার স্পেস নিয়ে নিজের লেখা, তার মালিকানা, লেখা থেকে লেখায় লিঙ্ক তার মালিকানা আপনার নিজের কাছে ছিল, এবং সবচেয়ে বড় কথা পাতা থেকে পাতায় লিঙ্কের ওপর আপনার সার্ভার সংস্থার কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না, যে ব্যাপারটি ওয়েবে মূল চালিকা শক্তি, এখন আর ব্যাপারটি সেরকম রইল না, কারণ আপনি সমাজ-মাধ্যম পরিষেবা প্রদায়নকারী সংস্থাটির কাছে আপনার তথ্য দিয়ে নাম লিখিয়েছেন, এবং তারা আপনার তথ্য থেকে তথ্যে যাবার যে “সংযোগসূত্র” (লিঙ্ক), তাকে নিয়ন্ত্রণ করে | এর অর্থ, মুক্ত ওয়েবের মধ্যে আরেকটি “ওয়েব” তৈরী হল, কিন্তু এই ওয়েব আর কারো নিয়ন্ত্রণাধীন, আগে যেমন বিকেন্দ্রিক ছিল, আপনি যা ইচ্ছা বিচরণ করতে পারতেন, এখন আর পারবেন না


    এবার দেখুন, মুক্ত ওয়েবে ঘরের মধ্যে ঘর তৈরী হল। পাঠক, যদি নজর করে দেখেন, দেখবেন যে এখন অরুণবাবু আর বরুণবাবুর নামের পাশে একটি @server বসল, যে এনারা এই সারভারের অন্তর্গত রয়ে গেলেন, যদিও সারভার নিজে বাইরের ওয়েবে তাদের প্রোফাইল, পোস্ট ইত্যাদি পাঠাতে লাগল, কারণ বাইরের বহির্বিশ্বের ওয়েবকে আশ্রয় করেই তাদের অস্তিত্ব | যে কথাটা এর আগে লিখেছি, দেখুন প্রোফাইল পেজ, পোস্ট এ সমস্তই আদতে ওয়েবপেজ, এর বেশী কিছু নয় তো | তাহলে এই পাতাগুলোর মালিকানা কাদের? এখানে যে ব্যাপারটি লক্ষণীয়, এই যে arunbabu@server ও barunbabu@server, এনাদের মধ্যে যে যোগসূত্র, বা লিঙ্ক, তার মালিকানাও এখন সার্ভারের, যোগসূত্রের মালিকানাও অরুণবাবু বরুণবাবুর হাতে রইল না। কেউ কেউ অভিযোগ করতে পারেন যে এই জায়গাটিতে সমাজ মাধ্যম প্রদানকারী সংস্থারা ওয়েবের শর্ত লঙ্ঘন করল |

    যোগসূত্র অন্যের হাতে নিয়ন্ত্রিত হবার বিপদটি বিচার করে দেখুন, বিশেষ করে সেটি যখন একটি ব্যবসায়িক সংস্থার নিয়ন্ত্রণে যায়। এমন একটি ব্যবস্থাকে কায়েম করে রাখতে গেলে server কে দেখতে হবে যত বেশী মানুষ তাদের “পরিষেবা” ব্যবহার করে, ততটাই তাদের ব্যবসার পক্ষে মঙ্গল। তার দুটো ব্যাপার | এক, যত বেশী সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছন যায়, ফলে ওয়েবসাইটগুলোকে সুন্দর করে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে যাতে মানুষ সহজে আকৃষ্ট হয়ে ব্যবহার করতে প্রলুব্ধ হন। দুই, যেটি তার চেয়েও ব্যবসায়িক কারণে গুরুত্বপূর্ণ, মানুষকে আটকে রাখতে হবে, যাতে তাঁরা এদের আওতা থেকে না বেরোতে পারেন। যে কারণে আপনি ভাববেন যে মুক্ত ওয়েবে যে কেউ যে কোন সারভার থেকে বেরিয়ে অন্যত্র যেতেই পারে, এরা আলাদা করে আটকে রাখে কেন? তার একটি উত্তর তো অবশ্যই, সামাজিক ওয়েবে আপনার মাপকাঠি Aggregated Data, মানে আপনার সমস্ত তথ্য রাশিবিজ্ঞানের আওতায় এনে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ অঙ্ক করার ব্যাপার রয়েছে | কতজন আপনাকে অনুসরণ করে, কতজনের কাছে আপনি বা আপনার মেসেজ পৌঁছয়, এ সমস্ত ব্যাপার এই জাতীয় বাণিজ্যিক সংস্থার কাছে স্বভাবতই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আপনি যাতে এক সংস্থা থেকে “বেরিয়ে” অন্য সংস্থায় না “যেতে পারেন”, তার যাবতীয় ব্যাপার স্যাপার এরা সুনিশ্চিত করে রাখে | আপনি পালিয়ে যাবেন কোথায়? ছেড়ে দিলেই বা আপনাকে কে যেতে দিচ্ছে?

     


    ধরুন অরুণবাবু আর বরুণবাবুর কথা। দুজনেই ফেসবুক করেন, একে অপরকে অনুসরণ করেন কিন্তু একদিন অরুণবাবু ঠিক করলেন তিনি ফেসবুক থেকে “বেরিয়ে” যাবেন | বরুণবাবু ফেসবুকে অরুণবাবুর “বন্ধু”, তিনি ফেসবুক থেকে বেরোতে চান না, তিনি তাই রয়ে গেলেন। অরুণবাবু বেরোনোর আগে তাঁর ফেসবুকের ডাটা (প্রোফাইল, পোস্ট, ইত্যাদির) কপি করে নিজের কাছে নিয়ে নিলেন (অবিশ্যি সে কাজও বেশ সময়সাপেক্ষ ও ফেসবুক মোটেই তাকে খুব সহজ করে না), তো যাই হোক, অরুণবাবু করলেন। কিন্তু একবার বেরিয়ে যাবার পর, অরুণবাবু কিন্তু আর বরুণবাবুকে যে ফেসবুকে অনুসরণ করবেন সেটি হবার নয়। প্রোফাইল, পোস্ট, মন্তব্য নিয়ে গেলেন বটে, কিন্তু ঐ যে লিঙ্কের মালিকানা ফেসবুকের কাছে রয়ে গেল, আর সেগুলো আর তিনি পেলেন না, ফলে একবার ফেসবুক থেকে বেরিয়ে যাওয়া মানে সব কিছু তাঁকে কেঁচে গণ্ডুষ করতে হবে | এ তো মহা মুশকিল!

     


    এই একটি কারণে বহু মানুষ দেখা যায় একবার একটি সামাজিক মাধ্যমে নাম লেখালে আর কিছুতেই বেরোতে পারেন না। অনেকের বহু “অনুসরণকারী” থাকেন, তাঁরাও ঐ একই কারণে, যে সামাজিক মাধ্যমে নাম লিখিয়েছেন, সেখানে থেকে যান | শুধু তাই নয়, মনে করুন অরুণবাবু টুইটার করেন (আপনি এখানে মনে মনে অন্য আরেকটি বাণিজ্যিক মাধ্যমের কথা ভাবতে পারেন যেমন Tumblr বা YouTube, একই ব্যাপার), দেখা যাবে টুইটার থেকেও অরুণবাবু বরুণবাবুকে ফেসবুকে অনুসরণ করতে পারছেন না, একই রকমভাবে বরুণবাবুও অরুণবাবুকে ফেসবুক থেকে টুইটারে অনুসরণ করতে পারছেন না। আপনি বাঁধা পড়ে গেছেন।

     


    মানে ওয়েবের যে মূল চালিকা শক্তি, মুক্ত, অবাধ লিঙ্কিং এর ক্ষমতা, যে য়েখানে খুশী বিচরণ করতে পারে, যাকে আশ্রয় করে এই সামাজিক মাধ্যমগুলো গড়ে উঠেছে, এই নতুন মাধ্যমে, সেই ব্যাপারটির আর কোন মূল্য নেই, এবং সমাজমাধ্যম যদি আমাদের ভাব আদানপ্রদানের আধার বলে আমরা বিবেচনা করি, এতে করে কি সত্যিকারের কোন লাভ হচ্ছে? আমার মনে হয় আখেরে আমাদের সকলের পারস্পরিক ভাব আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে সমাজ মাধ্যম এক ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে |

    অতএব, লহ এ সমাজ মাধ্যম, দাও ফিরে সে ওয়েব

    আগের ছবিটা মনে আছে? যেখানে আমরা দেখেছি যে অরুণবাবু আর বরুণবাবুর মধ্যে সমাজ মাধ্যম দিয়েই পারস্পরিক যোগাযোগ হয়েছে? এবারে সেই মডেলটাকেই আরেকটু দেখি, অবিশ্যি অন্যভাবে:

     

    আগের মডেলের থেকে তফাৎ কোন জায়গায় বুঝতে পারছেন? না হলে আরেকবার দেখুন। আমরা “অরুণবাবু”র জায়গায় একটি @ sign লাগিয়েছি, অর্থাৎ অ্যাট এখানে অরুণবাবুর সারভারকে নির্দেশ করে, ঠিক যেমন ভাবে আমাদের চেনাজানা ওয়েবের যে প্রোটোকল সেখানে আপনার সার্ভার কেন্দ্রিক, এবং এখানে আপনিই মুখ্য চরিত্র, কাজেই আপনার প্রোফাইল, আপনার পোস্ট, আপনার মন্তব্য সবকিছুতেই আপনার মালিকানা স্পষ্ট, শুধু তাই নয়, এই ওয়েবের চালিকাশক্তি লিঙ্ক, এই তাবৎ লিঙ্কও আপনারই আওতায় | এর অর্থ, আজ যদি অরুণবাবু তাঁর অরুণবাবু ডট কম সরিয়ে অন্যত্র নিয়েও যান, বরুণবাবুর সঙ্গে তাঁর যে অনুসরণ, পছন্দ বা লাইক, এসমস্ত কিছুই নষ্ট হবে না, পুরোটাই অরুণ বা বরুণবাবুর নিয়ন্ত্রণে থাকবে | এই দিক থেকে বিচার বিবেচনা করে দেখলে দেখবেন যে এই যে সামাজিক মাধ্যম, সে সম্পূর্ণ ওয়েব কেন্দ্রিক তো বটেই, সে মুক্ত, সে সার্বজনীন, যাকে আমরা অনায়াসে Open Social বলতে পারি | এখানে অরুণবাবুর পরিচয় অরুণবাবু নিজেকে যেভাবে দিতে চান যে সার্ভারে দিতে চান তার ভিত্তিতে হবে, সেক্ষেত্রে যে কোন সারভারে অরুণবাবু তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য, তাঁর প্রোফাইল, লিঙ্ক, মন্তব্য, অনুসরণ (যাদের অনুসরণ করছেন তাদের ও যারা তাকে অনুসরণ করছেন তাদের) তথ্য রেখে দিতে পারেন, তাঁর লাইক, তাঁর পোস্ট, সমস্ত কিছু তাঁর সার্ভারে রেখে দিতে পারেন, অনায়াসে এক সার্ভিসে যেতে পারেন, কারণ তাঁর তথ্যের ওপর তাঁর সম্পূর্ণ স্বাধীন অধিকার। এই যে প্রোটোকল, মানে যে পদ্ধতি বা প্রোটোকল অনুসরণ করে একে তৈরী করা হয়েছে, তার নাম AT Protocol (Authenticated Transfer Protocol), উৎসাহী হলে বিশদে পড়ে দেখতে পারেন
     
    কোথায় এই রকম সমাজ মাধ্যম আছে?

    এই রকম একটি সমাজ মাধ্যমে নাম লিখিয়ে শুরু করতে হলে এক কাজ করুন, নীচের লিঙ্কটিতে গিয়ে নাম লেখান।
    Bluesky

     


    একে নিয়ে আলোচনা করার শুরুতে এক কাজ করুন, বিনিপয়সায় ব্লুস্কাইতে খাতা খুলুন। খাতা খুলতে গেলে (একাউন্ট খুলতে গেলে) আপনাকে আপনার ইমেল এড্রেস দিয়ে খুলতে হবে, তার সঙ্গে আপনি একটি যুৎসই পাসওয়ার্ড বেছে নেবেন, আর জন্মদিন (যে বছর জন্মে ছিলেন), এইটুকু লেখার পর আপনাকে একটি ব্যবহারকারী নাম বেছে নিতে হবে (আপনার পছন্দের) | খেয়াল করুন এ কিন্তু ফেসবুকের মত নয়, আপনার প্রকৃত নাম এখানে মুখ্য নয়, শুধু কি নামে আপনি পরিচিত হতে চান।


    এখানে একটি ব্যাপার বিশেষ করে নজর করুন। আপনি আপনার নাম কি হবে নিজের মত করে স্থির করতে পারবেন, কিন্তু এই যে bsky.social আপনার নামের পর লেগে রইল, এইটি পূর্বনির্ধারিত, এই bsky.social হচ্ছে আপনার personal data server (সংক্ষেপে পিডিএস), আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, আপনার যাবতীয় ওয়েববিশ্বে ভ্রাম্যমাণ তথ্য এখানে রাখা থাকবে, যখন খুশী দেখতে পাবেন | এর ভিত্তিতে আপনার একটি DiD (Decentralised Identity) নির্মিত হল, যাকে দেখতে হবে অনেকটি এইরকম:

    did:plc:usksjtb77lljejrx….

    এই যে আপনার একটি পরিচয়পত্র তৈরী হল, একে আপনার ইন্টারনেটে পাসপোর্ট বলতে পারেন। একে দিয়ে আপনি বিভিন্ন সমমনস্ক ওয়েবসাইটে নাম লেখাতে পারবেন, শুধু আপনার পাসওয়ার্ড টুকু লাগবে | এই ব্যাপারটিই বিকেন্দ্রীকৃত সমাজ মাধ্যমের প্রাণ |
     
    যেখানে সমাজ মাধ্যম বাণিজ্যিক সংস্থার কাছে কুক্ষিগত, সেখানে কেবলই প্রাচীর, “আপন প্রাঙ্গণতলে দিবস শর্বরী, ইহারা ওয়েবকে খণ্ড ক্ষুদ্র করিয়া রাখিয়াছে” | আপনি এই আইডি নির্মাণ করে সেই প্রাচীর ভেঙে দিলেন, অচলায়তনকে সচলায়তন করলেন।

    এবার দেখুন, এতে লাভ কি হল। এতকাল ধরে আপনার টুইটারের পরিচয় (ইউজারনেম/পাসওয়ার্ড) আপনার ফেসবুকে কোন কাজে লাগবে না, কারণ আপনাকে নতুন করে পরিচয়পত্র তৈরী করতে হবে, বা আপনার টুইটারের নাম ইনস্টাগ্রাম করতে কোন কাজে লাগবে না। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি পরিচয়পত্রই যথেষ্ট | এক সাইট থেকে অন্যত্র অবাধে বিচরণ করতে পারবেন, যেহেতু আপনি একটি বিকেন্দ্রীকৃত মুক্ত সমাজ-মাধ্যমে এখন প্রবেশ করেছেন। আপনি এখন মুক্ত, অবাধ, সর্বত্রগামী |

    তো তাতে কি? এখন একটি প্রশ্ন আপনি করতে পারেন যে আর কে কে ব্লুস্কাই ব্যবহার করে? ব্লুস্কাই কি জনপ্রিয়?
    এমনিতে ব্লুস্কাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের কাছে, তারপর বেশ কিছু হলিউডি নায়কদের কাছে, বেশ জনপ্রিয়, যেমন ভারতের রাজনীতিকদের কাছে WhatsApp বা হয়ত ফেসবুক বা অধুনা আরশোলা পার্টির সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম | আপনি Top 1000 Bluesky Users সাইটটি খোঁজ করে দেখতে পারেন আপনার চেনা জানা সেলিব্রিটিরা আছেন কি না। আর না থাকলেই বা কি?

    এই মাধ্যমটি নিয়ে অনেক কিছু লেখার আছে, সব লিখতে গেলে পেরে ওঠা যাবে না | তবে এ মাধ্যম অতি নবীন, মানে ওয়েব টেকনোলজির হিসেবে তো বটেই, ২০২২ এর যাত্রা শুরু, আরো একে নিয়ে পরে লিখব, আপাতত এইখানে থামি | এর পরের বার আরেকটি প্রোটোকল, ফেডিভারস নিয়ে আলোচনা করব, তখন AT Protocol এর সীমাবদ্ধতা নিয়েও কিছুটা আলোচনা করা যাবে |
     
    এর মধ্যে আপনাদের সাড়া পেলে ভারি ভাল লাগবে | আপনি যদি bluesky ব্যবহার করেন, নীচের কমেন্টে জানান | আমার profile যদি follow করতে চান, আমার প্রোফাইল দিয়ে রাখলাম:

    এর পরের বার আলোচনা করব ফেডিভারস নিয়ে | সে আবার আরেক জগত |

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১০১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    মাংস - অরিন
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাঠক | ২২ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১৮742348
  • ফেডভার্সের ওপর লেখাটা পড়ার জন্যে মুখিয়ে আছি। ভাবছি 'সমমনস্ক' কিছু ওয়েবসাইটের নাম তখনই জানা যাবে।
     
    একটু অন্যভাবে ভাবছি। ব্লুস্কাই কে বা কারা ফান্ড করছে! তারাই বা কেন ফান্ড করবে?
  • পাঠক | ২২ আগস্ট ২০২৬ ১৭:২২742349
  • ও হ্যাঁ, এটাতো বলার ছিলই যে এই লেখাটাও ভারি সুপাঠ্য ও সহজ হয়েছে। ইতিমধ্যে উত্তেজিত হয়ে বার্নার্স-লী র সাম্প্রতিক বইটি পড়তে শুরু করলাম।
  • অরিন | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫৮742357
  • heart খুব ভাল লাগল, পাঠক।
    ফেডিভারস, বরং বলা যাক activitypub নিয়ে লেখার সময় আরেকটু লিখব, এখন ছোট করে বলি, ব্লুস্কাই যখন শুরু, তার অর্থ যুগিয়েছিলেন জ‍্যাক ডরসি। তখন পরাগ আগরওয়ালের হাতে টুইটার, এলন মাস্ক কিনতে চলেছে, জ্যাক ডরসি বহুদিন টুইটারকে একটি সার্বজনীন প্রোটোকলের রূপ দেবার কথা ভেবেছিলেন, অন্তত প্রথমে, যদিও হয়ে ওঠেনি। Bluesky এখন একটি PBC রূপে চলে।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন