এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

  • মুক্তচিন্তার বিকেন্দ্রীকৃত সামাজিক মাধ্যম : তৃতীয় পর্ব 

    অরিন লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১০৬ বার পঠিত
  • "পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
    স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে,
    ড্রয়িংরুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দি।
    ...ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে
    যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে,
    ঘুচে গেছে দেশ-কাল সীমানার গণ্ডি।
    আ হা হা হা, আ হা, আ হা হা হা, আ হা, আ হা হা হা…"
    (পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে, মহীনের ঘোড়াগুলি :গৌতম চট্টোপাধ্যায় / পল্লব রায় )
     
    গত পর্বে ফেসবুক নিয়ে লিখেছিলাম | এক সময় যা ছিল উন্মুক্ত সার্বজনীন, সেই ওয়েব কে কেন্দ্র করেই ফেসবুক শুরু হয়েছিল কিন্তু প্রথম থেকেই তাকে বেঁধে ফেলা হয়েছিল নিজস্ব ঘেরাটোপে এবং তার নানাবিধ অজুহাত ও হয়তো ছিল অন্তত ফেসবুকের পক্ষ থেকে, তবুও বাস্তবিক যে ফেসবুক কোনোদিন ই মুক্ত প্রোটোকলকে নিজের স্বার্থের বাইরে, নিজেদের ব্যবসায়িক সাফল্যের বাইরে মানুষের বা গ্রাহকের উপকারে ব্যবহার করেনি, বরং প্রথম থেকেই ফেসবুক ও মার্ক জুকারবার্গের উদ্দেশ্য ছিল যে একটি "দেয়াল ঘেরা বদ্ধ বাগান " এর মতো সিস্টেম তৈরী করার, মানুষ কে তাদের ফাঁদে বেঁধে রাখার |

    অথচ এ কথা কিন্তু হবার ছিল না | ওয়েব শুরু হয়েছিল মুক্ত ও অবাধ চিন্তা ভাবনার সম্প্রসারণ এর ভিত্তিতে যে উদ্দেশ্যে টিম বার্নার্স লি ওয়েব কে মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন | 2010 সালে ওয়েব এর 20 বছরের বছরপূর্তি উপলক্ষে টিম বার্নার লি লং লিভ দ্য ওয়েব (https://www.scientificamerican.com/article/long-live-the-web/ ) নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন | সেই প্রবন্ধটিতে বার্নার্স লি লিখেছিলেন, সেই সময়তেই যে ওয়েবকে আমরা চিনি, তার প্রতি নানান রকমের বিপদ আসছে, তার মধ্যে দুটির কথা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সবথেকে প্রাসঙ্গিক, অন্তত আমার এই লেখাটার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক তো বটেই, একটা ছিল বড় বড় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট কিভাবে ওয়েব এর ওপর দেয়াল তুলে দিচ্ছে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁর উপলব্ধি, আর দ্বিতীয় টি আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য যেখানে তাঁর আশংকা ছিল যে যারা ওয়্যারলেস ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদান করে তারা কিভাবে প্রভাবশালীদের অঙ্গুলিহেলনে ট্র্যাফিক এদিক ওদিক করে দিতে পারে | আমরা কয়েকদিন আগেই প্রত্যক্ষ করেছি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আরশোলা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ওয়েবসাইট ব্লক করে দিয়েছিলেন, শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় ভারতে সরকারের পরিপন্থী ওয়েবসাইট ব্লক করার খবর পাওয়া যায়, কাশ্মীরে যেমন দীর্ঘকাল ধরে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ রাখা ছিল | এই লেখাটা শুরু করেছিলাম ভারত সরকারের ইনস্টাগ্রামের ওপর খবরদারি আর সৈকত বন্দোপাধ্যায়ের খেদোক্তি দিয়ে যে একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র গোষ্ঠী ফেইসবুক কে নালিশ করে সৈকত কে প্লাটফর্মের বাইরে বার করে দেবার চেষ্টা করেছিল |

    ওয়েবের প্রণেতার কথায়, "Governments—totalitarian and democratic alike—are monitoring people’s online habits, endangering important human rights"
    এই বলে তিনি লিখেছিলেন, "If we, the Web’s users, allow these and other trends to proceed unchecked, the Web could be broken into fragmented islands. We could lose the freedom to connect with whichever Web sites we want. The ill effects could extend to smartphones and pads, which are also portals to the extensive information that the Web provides." ("আমরা যারা ওয়েব ব্যবহার করি, আমার যদি এই ব্যাপারগুলোকে চলতে দিই, ওয়েব একদিন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপে বিভক্ত হয়ে যাবে | ওয়েবসাইট এ ওয়েবসাইট এ অবাধ যাতায়াতের আজকে যে স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা আমরা হারাব | এই অসুস্থতা স্মার্টফোন আর প্যাড, যাদের সূত্রে ওয়েব এর তথ্য আহরিত হয়, তার সমূহে ছড়াবে "), ওয়েব প্রণেতার মনোবেদনা বোঝা যায় |
    ফেসবুক আর সামাজিক মাধ্যম এর কথা উঠলে অন্য আরেকটি যে সাইট এর কথা অবধারিত ভাবে আসে তার নাম টুইটার এবং এই নাটকের অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র জ্যাক ডরসি র কথা |

    ফেসবুক যেমন হার্ভার্ডের ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছিল, টুইটারের গপ্পো ঠিক সেরকম নয় | একেবারে শুরুতে ছিল ব্লগার, যার কথা ইতিপূর্বে লিখেছি, ইভ উইলিয়ামস মেগ হুরিহানদের তৈরী কালানুক্রমিক লেখালিখির মাধ্যম, এবং ব্লগ কথাটির স্রষ্টাও সেই উইলিয়ামস ই | 2003 সালে উইলিয়ামস ব্লগার গুগল কে বিক্রি করে দিলেন, এবং 2005 সালে, আপনাদের হয়তো মনে থাকতে পারে odeo নাম একটি ওয়েব সার্ভিস জনপ্রিয় হয়েছিল, সে অবিশ্যি নেহাতই ক্ষণস্থায়ী, অডিও সত্যি বলতে কি আজকের যুগে পডকাস্টিং এর আদিরূপ | সেই সময় odeo তে আপনি কথা বা গান যেরকম লেখা ব্লগ করতে পারতেন, সেই রকম, গল্প, কথা, আলাপ আলোচনা ও রাখা যেতে পারত | ইভ উইলিয়ামস ও নোয়া গ্লাস একে 2005 এর শুরুতে এবং পরে ইভ উইলিয়ামস গুগল থেকে Biz Stone কে নিয়ে আসেন | তার সঙ্গে জ্যাক ডরসি যোগ দেন | তরুণ ডরসি এর আগে মোবাইল ফোন এ SMS (শর্ট মেসেজ সিস্টেম) এর সফটওয়্যার এর প্রণেতা রূপে টেক মহলে জনপ্রিয় |

    সেই একই সময়ে Apple কোম্পানির iPod বাজারে সাংঘাতিক জনপ্রিয়, এবং ipod এর সূত্রে আপেল এর itunes ও, এবং itunes শুধু ipod বলে নয় যেকোনো কম্পিউটার এই প্রায় ব্যবহার করা যেত | 2006 সালের শুরুতে আপেল ঘোষণা করলো যে iTunes দিয়ে পডকাস্টিং করা যাবে, অতএব ওডিও র বাজার আর সেভাবে টিকবে না কারণ ওই বাজারে আপেল এর সঙ্গে যুঝে ওঠা প্রায় অসম্ভব বুঝে Odeo কে নতুন কিছু করতে হবে ভাবতেই হয় | সেই মিটিঙে Dorsey বললেন যে বহুদিন ধরে তাঁর মাথায় ঘুরছে যে একটা SMS গোছের সার্ভিস লিখলে কেমন হয় যেখানে ব্লগ এর মতো স্টেটাস আপডেট করাও যাবে এবং বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়াও যাবে? 2006 সালের মার্চ মাসে জ্যাক dorsey প্রথম টুইট করেছিলেন, "জাস্ট সেটিং উপ ময় twttr", তার মাস তিনেকের মাথায় জুলাই মাসে টুইটার জনসমক্ষে আসে | প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তার মাস তিনেকের মধ্যে বাজারে ফেসবুকও আত্মপ্রকাশ করে |

    এইবার এই দুটি সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপারে কয়েকটি বিষয় বিচার করে দেখুন |twitter দিয়ে শুরু করি | প্রথম দিকে, যখন টুইটার শুরু হয়েছিল, তখন টুইটার আপনি ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে ব্যবহার করতে পারতেন, বা আপনার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারতেন | মোবাইল ফোন দিয়ে ব্যবহার করতে গেলে আপনি আপনার মাইক্রোব্লগিং এর মেসেজ আমেরিকায় থাকলে 40404 নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে করা যেত | কিন্তু আমার যতদূর মনে আছে, ভারতে আমরা এইভাবে টুইট করতে পারতাম না, যদিও টুইটার হয়তো BSNL
    এর সঙ্গে কোন চুক্তি করে থাকতে পারে, আমাদের ক্ষেত্রে শুধু ওয়েব ব্রাউসার দিয়েই করা যেত | সে আমলে যে সমস্ত ফোন পাওয়া যেত যেমন ধরুন মটোরোলা বা নোকিয়া সে সমস্ত ফোন এ এখনকার মত স্ক্রিন এ টাইপ করার ব্যবস্থা ছিল না,
    ধরণের ফোন এ কীবোর্ড দেওয়া থাকতো তাই দিয়ে টাইপ করে পাঠাতে হতো, মোবাইল এ WAP ব্রাউজার ব্যবহার করতে হত | সে ও অতি আদিম ব্রাউজার, তাতে আপনি কোনমতে টেক্সট হয়তো পড়তে পারবেন, ছবি বা ভিডিও দেখা দূরস্থান, যতদূর মনে পড়ে | অতএব টুইটার করা 2007 অবধি অন্তত মূলত ডেস্কটপ ওয়েব ব্রাউজার নির্ভর ছিল, কেউ কেউ মোবাইল ফোন এ নিশ্চিত ভাবে টুইটার ব্যবহার করতেন, তবে তাঁদের সংখ্যা আমার মনে হয় না আজকের দিনের মতো এতো ব্যাপক ছিল | আমার মনে পরে না প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্রিকেটার, বলিউডি নায়ক ইত্যাদিদের ব্যাপক ভাবে টুইট করতে |

    এতদসত্ত্বেও একটি ব্যাপার টুইটার এর ছিল, যে ব্যাপারটি আমাদের আলোচনায় সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ | আপনি যে কোন টুইট বিশেষ করে পাবলিক প্রোফাইল পেজ সাধারণ ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে এক্সেস করতে পারতেন, তার জন্য আপনার টুইটার এ একাউন্ট না থাকলেও চলতো | এই ব্যাপারটি যতদিন না Elon Musk টুইটার কিনেছেন, ততদিন অবধি বলবৎ থেকেছে, এখনকার কথা জানি না, 2013 সাল অবধি অন্তত আমি যতদূর জানি আপনি টুইটার এ লগইন না করেও যে কোন user এর টুইট আপনার RSS ফিড দিয়ে দেখতে পেতেন, এবং টুইটারের একটি সার্বজনীন উন্মুক্ত API ছিল | API ব্যাপারটি খুব সংক্ষেপে যদি বোঝানো যায় বা যাকে বলে application programming interface মানে এর সাহায্যে টুইটার এর ডাটা নিয়ে আপনি নানান রকমের প্রোগ্রাম করতে পারতেন, যেমন এক সময় বহু গবেষক টুইটার এ কে কতবার কোথায় জ্বরের কথা লিখেছে বা বলেছে, সেই থেকে রীতিমতো ইনফ্লুয়েঞ্জার মহামারী ট্র্যাক করতে পারতেন | সবথেকে বড় কথা, টুইট আপনি টুইটার এ একাউন্ট না থাকলেও দেখতে পেতেন এমনকি সেযুগের প্রাচীন মোবাইল ফোনেও সম্ভব ছিল | টুইটার শুরু হয়েছিল একটি উন্মুক্ত মাধ্যম রূপে, যে কেউ দেখতে পেত একাউন্ট থাকে না থাক, RSS দিয়ে আপনার পছন্দের রিডার এ টুইট পড়তে পারতেন, ব্লগে লিখতে পারতেন, গুগল দিয়ে সার্চ করতে পারতেন, মানে একটি মুক্ত সার্বজনীন ওয়েব যার কথা টিম বার্নার্স লি লিখেছিলেন টুইটার তার প্রথম অবতারে তার আদর্শ উদাহরণ ছিল, অথচ প্রথাগত অর্থে সে তো সামাজিক মাধ্যম ই ছিল | আজকে টুইটার কে দেখলে বোঝার উপায় নেই সে একসময় মুক্ত সার্বজনীন ওয়েব কে আঁকড়ে বেঁচে ছিল | 2013 সালের পর থেকে টুইটার এর ক্রমশ অবনতি হতে থাকে, আসছি সে কথায় | আপাতত টুইটার এর বিপ্রতীপে ফেসবুকের দিকে দেখা যাক |

    টুইটার এর বিপ্রতীপে ফেসবুক তার জন্মলগ্ন থেকেই কিন্তু বিধিবদ্ধ | জুকারবার্গ ফেসবুক কে শুরু থেকেই একটি প্রাইভেট ব্যক্তিগত কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, আজ তার ব্যতিক্রম হয়নি | ফেসবুকে সবসময় লগইন ছিল, লগইন না করে আপনি কিছু দেখতে পেতেন না, RSS ফিড পাওয়া যেত না, সার্চ করে কিছু দেখতে পাবার সম্ভাবনা ছিল না, মানে কোনোদিন ই ফেসবুক মুক্ত ও অবাধ ওয়েব প্রোটোকল কে মেনে নেয়নি এমনকি তার API ও ছিল ফেসবুকে আপনি যতটুকু যা গড়বেন তার ওপর নির্ভর করে | মানে যে অর্থে মুক্ত ও অবাধ সার্বজনীন ওয়েব কে আমরা জানি, তার কোনো শর্তই ফেসবুক মানেনি | শুধু তাই নয়, ব্যবহারকারীদের ডাটা ও বেচাকেনা হত | 2013 সালে আলেক্সান্ডার কোগান নামে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মনোস্তত্ববিদ "thisisyourdigitallife" নাম দিয়ে একটি app লিখেছিলেন এবং সেই আপা ব্যবহার করে প্রায় ৮-৯ কোটি মানুষের ডাটা নিয়ে গবেষণা করে দেখিয়েছিলেন কাকে বা কার প্রতি কোন ধরণের রাজনৈতিক মেসেজ পাঠানো চলে (https://www.nytimes.com/2018/04/04/us/politics/cambridge-analytica-scandal-fallout.html ), এই করে 2016 র প্রথম ট্রাম্প জমানার আমেরিকান নির্বাচন প্রক্রিয়া কে প্রভাবিত করেছিল, খুব সম্ভব 2017 র কেনিয়া র নির্বাচন এবং Brexit, যাই হোক এখানে বক্তব্য যে সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা আমাদের সামাজিক জীবনকে সাংঘাতিক রকম প্রবাহিত করে, এবং টেকনোলজি র অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তার রূপ বদলেছে |

    পাঠক, দুটি ব্যাপার লক্ষ্য করুন | টুইটার ও ফেসবুক, দুটিই সমসাময়িক, একটি জীবন শুরু করেছিল সম্পূর্ণ মুক্ত ও অবাধ ওয়েব কে মেনে নিয়ে তার শর্ত পূর্ণ করে, কিন্তু কালক্রমে সে আমাদের সঙ্গে মানে যারা টুইটার ব্যবহার করতাম তাদের সঙ্গে বিশ্বাস ভেঙে দেয়, একের পর এক মুক্ত ও অবাধ সার্বজনীন প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ করে দিতে থাকে, একটি মুক্ত সিস্টেম বন্ধ হয়ে গেল | ফেসবুকের সে বালাই নেই, সে প্রথম থেকেই দ্বার রুদ্ধ করে রেখেছে, কিন্তু দুই জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ই ওয়েব কে আশ্রয় করেছে বটে কিন্তু ওয়েব এর মুক্ত ও অবাধ স্বাধীনতা কে মেনে নেয়নি, ব্যবহারকারীদের আটকে রেখেছে | আজকাল একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, সামাজিক মাধ্যমে আপনি যদি পয়সা না দেন, তাহলে আপনি নিজেই তাদের পণ্য | কথাটা নিঃসন্দেহে রূঢ়, তার থেকেও বড় কথা, এমনটি কিন্তু হবার কথা নয়, এবং এই বন্ধ সমাজমাধ্যম কে মেনে নেবার কোনো কারণ নেই, কোন অজুহাত নেই |
    কেন এ কথা বলছি, সে প্রসঙ্গে আসছি | তার আগে আরেকটা বিষয়ের অবতারণা করি |

    তো যেখানে শুরু করেছিলাম, 2007 সালের আগে অবধি মোবাইল ফোন এ সামাজিক মাধ্যম যে জনজীবনে কি পরিবর্তন আনবে এ কথা বললে লোকে উন্মাদ মনে করতো, কারণ আজকের দিনে শুধু মোবাইল ফোন নির্ভর সামাজিক মাধ্যম ও তার দাপট তখন মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল |

    2007 সালের 9 ই জানুয়ারী | সান ফ্রান্সিস্কো র মস্কোনি সেন্টার এ MacWorld
    conference এ স্টিভ জোবস এলেন এবং একটি ছোট্ট ফোন, সেটির নাম iPhone, প্রকাশ করে বললেন তিনটে বৈপ্লবিক যন্ত্র একসঙ্গে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম, একটি আইপড, একটি মোবাইল ফোন, এবং ইন্টারনেট বলা ভালো ওয়েব দেখার মাধ্যম, এই সেই ভিডিও



    তিনি বলেছিলেন এই ফোন নাকি আমাদের পকেটে, আমাদের নাগালের মধ্যে, মুক্ত অবাধ ওয়েব কে নিয়ে আসবে |
    কেউ কথা রাখেনি, কেউ কথা রাখেনা |
    তার পরের বছর 2008 সালের জুলাই মাসে আপেল App স্টোরে চালু করলো, এক সপ্তাহের মধ্যে 500 app এক কোটি ডাউনলোড | তাদের মধ্যে বলা বাহুল্য টুইটার আর ফেসবুক তো ছিলই | সেই একই বছর বাজারে এলো Android
    ফোন |
    একদা যা ছিল ওয়েব নির্ভর, ডেস্কটপ নির্ভর, সে এখন হয়ে গেল App, মোবাইল এর ঘেরাটোপে বন্দী | মানুষের সর্বক্ষণের সঙ্গী |
    স্মার্টফোন হয়তো ওয়েব কে বহু মানুষের কাছে খুলে দিল, আবার একই সময় মানুষকে শিকলবন্দী ও করল এক রকম |

    কিন্তু আমরা তো মানুষ | আমাদের কি শিকলে কি বেঁধে রাখা যায়? সেই শিকল ছেঁড়া হাতের খোঁজ আর তার গল্প এর পরের বার |
    (চলবে )
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১০৬ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    মাংস - অরিন
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন