এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • বহ্নি মধুময় অথবা মধু বহ্নিময়ঃ (উপন্যাসিকাঃ পর্ব ৫) 

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৭৫ বার পঠিত
  • | | | | |
    দিন দুই পর বাড়িতে এলো পলতেদা। এর মধ্যে মধু না গেছে অনাদিবাবুর ওখানে, না গেছে মাঠের দিকে। বাড়ি থেকেই বেরোয়নি একেবারে।

    পলতে দেখল যে মধুর মুখ বেশ থমথমে। কিছুক্ষণ একথা সেকথা বলবার পর সে বলল, “দেখ মধু, মেয়েদের কাউকে ভালো লাগলেও, তারা দেখে যে ছেলে রোজগার করে কী না। কারণ মেয়েদের অনেক হিপোক্রেসির মধ্যে একটা হল যে ছেলেকে রোজগেরে হতে হবে। হ্যাঁ। আচ্ছা, এবার সেই মেয়ে যদি রোজগার করে, তবে ছেলেকে তার ডবল রোজগার করতে হবে। আরও আছে। ওদিকে বলছে সমান-সমান! তবে ব্যাতিক্রম কি নেই?”।

    “আছে?”

    “খুব কম। যদিও বাড়ির মহিলারা বাড়ির অনেক অনেক কাজ করেন; রান্নাবান্না। তবে সেই ট্রেন্ড কিন্তু ক্রমশ কমছে। আর রোজগার না করলে সংসার চলবে কী করে? তাই না? তারপর প্রাইভেসির একটা ব্যাপার আছে; এটা আছে; সেটা আছে। হ্যাঁ, সেসব ছেলেরা লাকি যাদের ক্ষেত্রে মেয়েরাই তাদের বাবা আর মাকে পটিয়ে ফেলে ঐ রোজগার আর প্রাইভেসি অ্যারেঞ্জ করে ফেলে বা নিজেরাই রোজগার করে করে সংসার চালায়”।

    মধু হেসে বলে, “ঐ তুমি যেমন বলো, শ্বশুর করে কামাই আর খরচা করে জামাই টাইপ?”

    “ঠিক। আর বহ্নিও কোনও চাকরি করে না। কিন্তু ওর বাবা আর মা – দুজনেই কিন্তু, হু, বাওবা! হাই ভোল্টেজ…। সুতরাং, এদিকে যেমন চলছে, চলুক। আর সঙ্গে একটা কাজের…, আমি অনাদিকাকাকে বলছি…আর বহ্নির সঙ্গে তোর হিল্লে হয়ে গেলে ওকে এস.এস.সি দিতে বলবি। পড়াশোনায় ভালো তো।”

    তবুও মধু চুপ করে আছে দেখে ওর পিঠে হাত বুলিয়ে পলতে বলল, “ডারউইনের কথা তো জানিস?”। মধু মাথা নাড়ল। পলতে বলতে থাকল, “তাহলে শোন, ডারউইনের এই যে প্রকৃতি প্রেম, এটা এসেছিল কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক জন স্টিভেন্স হেন্সলোর থেকে। ঐ অধ্যাপক চিনিয়েছিলেন প্রকৃতির খুঁটিনাটি; পাখি; গাছগাছালি; প্রকৃতি প্রেম। কিন্তু ডারউইনের বাবা চেয়েছিলেন যে ছেলে পাদ্রি হোক বা চিকিৎসক। আর তখনকার দিনে ক্লার্জি ম্যান বা চিকিৎসক হওয়াটা ছিল সম্মানের আর ক্ষমতার। কিন্তু …, ডারউইন দুম করে এইচ. এম.এস. বিগল জাহাজে চেপে পড়ল। ভেতরে টগবগ করে ফুটছে পুরো দুনিয়াটাকে দেখবার এক দূর্ণিবার আকাঙ্ক্ষা। তারপর গ্যালাপাগোসে গিয়ে…। মানে ঐ সব স্পেসিমেন, ঐ সব লোকজন… দেখে…”

    “হ্যাঁ। কেন বলো তো? প্রেমে দাগা খেয়ে?”

    “ঠিক প্রেমে দাগা খেয়ে নয়। তখন ওর ২২ বছর বয়স। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের প্রতি ওর আগ্রহ দেখে ঐ অধ্যাপক জাহাজের ক্যাপ্টেন ফিৎজ্রয়ের কাছে ওর নাম প্রস্তাব করেন। সালটা ১৮৩২ কী ৩৩ হবে। তা ডারউইন তখন সেই ভয়েজে। চিঠি পেলেন। ফ্যানি ওয়েন অন্য একজনকে বিয়ে করে নিয়েছে”।

    “ফ্যানি ওয়েন কে?”


    “ওর ফিয়ন্সেঁ। মেয়েটাকে উনি ভালোবাসতেন খুব। আর এই খবরে খুব আঘাত পেয়েছিলেন; কিন্তু একেবারেই ভেঙে পড়েন নি। আর খানিকটা তার জেদেই ঐ যুগান্তকারী আবিষ্কার করলেন। দুটো বই লিখলেন। দুনিয়াকে দেখবার চোখটাই পাল্টে দিলেন মানুষের। যদিও অনেকে মনে করেন তীব্র অনুসন্ধিৎসার থেকেই উনি এইসব আবিষ্কার করেছিলেন; লিখেছিলেন। তবে দাগা খাওয়ার জ্বালা! কাউকে ওপরে তোলে; আবার কাউকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়; শেষ করে দেয়। আর দেখ ইতিহাস কিন্তু ডারউইনকে মনে রেখেছে; ঐ মহিলাকে নয়। কেমন?”

    “তুমি, কী বলতে চাইছ?”

    “তারপর দেখ মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। উনি এদেশে এলেন কেন? নরেন্দ্রনাথের প্রেমে পড়ে। ঐ তেজদীপ্ত চেহারা; ঐ জ্ঞান; ঐ ভঙ্গিমা; ঐ কথা বলার স্টাইল। আহা! কিন্তু নরেন আবার তখন বিবেকানন্দ হওয়ার দিকে পা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মার্গারেট কী করলেন?”

    “কী?”

    “তিনি সিস্টার নিবেদিতা হয়ে গেলেন। প্রেমকে তিনি সাব্লাইম করে ফেললেন; সাব্লাইম। আহা! ভাবা যায় না রে। যাস্ট ভাবা যায় না। তারপর আমাদের কাজী নজরুল ইসলাম; মাইকেল মধুসূদন দত্ত; তারপর আব্রাহাম লিংকন; রাউলিং; বিনয় মজুমদার…, এমন অনেক মানুষ তুই পাবি, ইতিহাসে যাদের নাম পর্যন্ত ওঠেনি।”।

    “তাহলে তুমি বলতে চাইছ…?”

    “কে বলতে পারে যে বহ্নির প্রেমে দাগা খেয়ে তুই নতুন একটা রাগ সৃষ্টি করে ফেলবি না? বা এমন একটা কাজ করে ফেলবি না, যাতে কাকু-কাকীমার গর্ব হয়; আমাদের গর্ব হয়। দেশের মানুষের গর্ব হয়? কি?”

    মধু পলতের দিকে তাকিয়ে থাকল। ভাবল, পলতেদা আবার ইয়ার্কি মারছে না তো? বলল, “তাহলে? সরে আসি?”

    “তা কেন? এগোনো যাক না। দেখাই যাক না”। তারপর মধুর পিঠে চাপড় মেরে বলল, “তুই আর মুখভার করে থাকিস না। জানবি, দুনিয়ায় একটা দরজা না খুললেও, অন্য দরজা কিন্তু তোর জন্য অপেক্ষা করছে। তুই টোকা মারলেই সেটা খুলে যাবে। শুধু ধৈর্য ধরে সঠিক দরজাটাকে চিনতে হবে আর টোকা মারতে হবে, ব্যাস। বুঝলি হতভাগা? আর ‘বিরহেই সে রহে’!”।

    “বলছ?”

    “আলবাত! নে চ, এক হাত ক্যারাম খেলে আসি”

    ****************************



    লেডিস বাস। আজ বেজায় ভিড় হয়েছে। পারমিতা আর বহ্নির জায়গা হয় নি। গুঁতোগুঁতি করে উঠতে হয়েছে। পাশে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল বোরখা পরা একজন দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে আছে পারমিতার গা ঘেঁষে। এর আগে কোনোদিন এই বাসে একে দেখেনি ওরা। পারমিতা ইশারা করে দেখাল। উত্তরে মুখ ব্যাঁকাল বহ্নি। ভাবখানা এমন যে কী জানি কে? পারমিতা বলল, “বাদ দে”। এরপর গল্পে মশগুল হয়ে গেল। বলল, “কী রে? ক’দিন ধরে যে তোর সেই ইয়েকে দেখছি না? গেল কোথায়?”, চোখ নাচাল পারমিতা। বলল, “পেট টেট খারাপ হল না কী রে?”।

    প্রথমে প্রথমে বেশ উত্তেজনা হচ্ছিল মধুর। একেই আছে ধরা পড়ার ভয়, মার খাওয়ার ভয়। তবে তার সাথে আছে একটা অ্যাডভেঞ্চার; একটা ভালোলাগা; একটা রোমাঞ্চ; একটা আড্রিনালিন রাশ।

    এতো কাছ থেকে ওদের পাশে কখনও সে থাকেনি। পরে সয়ে গেল আস্তে আস্তে। আর ওরা যখন মধুর কথা নিয়ে আলোচনা শুরু করল, মনটা গলে গেল। কোনো ভয় নেই, কোনো ভাবনা নেই। ভাবছে, ইসস! নেহাত বোরখা পরা আছে বলে নয়ত এখনই প্রোপোজ করে দিত। তবে পারমিতার শেষ কথাটা শুনে রেগে গেল মধু। কি? আমার পেট খারাপ হয়েছে? আমি কি পেট রোগা? কভী নেহী। লোহা এমন কী রেয়ার আর্থ মেটেরিয়াল পর্যন্ত খেয়ে হজম করে ফেলতে পারি।

    পারমিতার কথা শুনে হেসে ফেলল বহ্ণি। বলল, “যাহ। পেট খারাপ হবে কেন?”

    “ভয়ে, বহ্নি ভয়ে”। হাসিতে যোগ দিল পারমিতা।

    ওদিকে মধু কিছু বলতে পারছে না। মাথা নাড়ল। মানে না। ভয়ে পেট খারাপ করেনি।

    পারমিতা সন্দেহের চোখে বোরখা পরা মহিলার দিকে তাকাল। ভাবল মহিলা আবার অমন করে মাথা নাড়ছে কেন? বহ্নির দৃষ্টিও সেইদিকে। বলল, “কে জানে, মৃগী টিগী আছে বোধহয়। সরে আয়।”

    আরো জোরে মাথা নাড়তে থাকল মধু। মনে মনে বলতে চাইছে যে মৃগী টিগী কিছু নেই, যা আছে সবই তো তোমার।

    এদিকে ভিড় ঠেলে পারমিতা সরে আসতে পারছে না দেখে বহ্নি জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা করল। বলল, “মৃগী নাও থাকতে পারে। কিন্তু যদি বমি করে। জানিস না, বাসে উঠলে অনেকের বমি বমি পায়। সরে আয়”। কিন্তু সরে যাবেটা কোথায়? স্টপেজ আসলে যত মহিলা নামছে, উঠছে তার থেকে বেশি।

    “বলেছিলাম, এই সময়টায় ক্লাস নিস না”, বিরক্তিতে বলে উঠল পারমিতা। “পরে দুপুরের দিকে নিলে ভালো হত”।

    ওদিকে বোরখা পরা মহিলা বমি করতে পারে শুনে বাসে হুলুস্থুলু পড়ে গেল। যেখানে মধু বোরখা পরে দাঁড়িয়ে ছিল তার সামনের সিটে যে দুজন মহিলা চোখ বন্ধ করে ‘সুখ-ন্যাপ’ নিচ্ছিলেন তারা আঁতকে উঠে হুটোপুটি করে বেরোতে গিয়ে ধাক্কা মারল মধুকে। মধুও টাল সামলাতে না পেরে ঢলে পড়ল পিছনে দাঁড়ানো অন্য এক মহিলার গায়ে। সেই মহিলা মধুকে উদ্দেশ্য করে বলল, “এই অজ্ঞান হয়ে গেছে বোধহয়। অজ্ঞান! এই বাঁচাও, থামাও। রোককে, রোককে ...”।

    এদিকে মধুকে বাসে তুলে দিয়ে এলেও চোখের আড়াল করতে চায়নি পলতেদা। ছেলেটাকে বোরখা পড়িয়ে বাসে তোলা ইস্তক বেশ চিন্তায় ছিল। তাই মধু বাসে ওঠা মাত্র স্কুটার করে করছিল ফলো। বেশ চলছিল। বাস থামছিল, মহিলা উঠছিল, মহিলা নামছিল।

    হঠাৎ আবার চিৎকার কীসের রে বাবা!

    বাসটা বেশ জোরে দাঁড়াল ব্রেক কষে। এদিকে বাসের মধ্যে ভয়ানক অবস্থা। কারা যেন বমি শুনতে আবার ‘বোম’ শুনেছে। ব্যাস হুড়োমুড়ি করে সবাই নামতে চাইল। সবাই নামতে চাইছে কিন্তু দরজা মাত্র দুটো। বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টার দৌড় লাগিয়েছে আগেই। ধাক্কাধাক্কি ঠেলাঠেলিতে মধুর অবস্থা বেসামাল। চিৎকার করতে পারছে না, যদি কেউ বুঝে ফেলে। এর মধ্যে একজন হঠাৎ এমন এক ঠেলা মেরেছে যে মধু টাল সামলাতে না পেরে গেল পড়ে। বোরখাটা অন্য এক মহিলা ছিল ধরে। সেটা ফ্যাস করে ছিঁড়ে গেল খুলে। কিছু মহিলার সেদিকে দৃষ্টি পড়তেই চিল চিৎকার জুড়ে দিল।

    পকেটমার, চোর, ডাকাত বলে মারতে উদ্যত হল মধুকে। ওদিকে বহ্নি আর পারমিতাও ভিড় ঠেলে এগোচ্ছিল। হঠাৎ চোর, পকেটমার শুনে পিছনে ফিরে দেখে মধু! ওদের তখন ‘ক্র্যাকদুম’ অবস্থা। অবাক-ভয়-রাগ-ভ্যাবাচ্যাকা মিশিয়ে মুখের একটা মালটি-অবয়ব হয়েছে তৈরী। চোখ গোল গোল। হাতে-পায়ে কোনো সার নেই।

    প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটিয়ে মধু বাসের মেঝে থেকে উঠে ওদের দিকে তাকিয়ে নিজের কান মলল আর তারপর মরিয়া হয়ে দুদ্দার করে এর ওর শরীর মাড়িয়ে, একে ওকে ঠেলে নেমে পড়ল বাস থেকে। পেছনেই ছিল পলতেদা। ডাকতেই টপ করে স্কুটারে চেপে বসল মধু। আর স্কুটার তখন পক্ষীরাজ বেগে ধাঁ।

    এদিকে বাসের মধ্যে হইচই শুনে লোকাল লোকজন এসে হাজির। কারণ জিজ্ঞাসা করাতে কেউ বললেন চোর, কেউ পকেটমার, আবার কেউ বা ডাকাত। কেউ বললেন যে না না। মনে হয় সন্ত্রাসবাদী, বাসে বোম রাখতে্ এসেছিল। ধারে কাছে কোনো পুলিশ না পাওয়াতে লোকজন ক্ষেপে গিয়ে পুলিশের নামে শাপশাপান্ত করতে লাগল। পাওয়া গেল না বাসের ড্রাইভার বা কন্ডাক্টারকেও। এই মওকায় উত্তেজিত জনতা হাতের সুখ মেটাল বাসের ওপর।

    এদিকে রাগে গা জ্বলে যাচ্ছিল পারমিতার। বলল, “কী সাহস দেখ? একেবারে বাসের মধ্যে এসে উঠেছে। ইসস! একবার যদি হাতে পেতাম, দেখিয়ে দিতাম মজা। একটুর জন্য ফস্কে গেল। আগে বাড়ি ফিরি, তারপর পাড়ার ছেলে দিয়ে কীভাবে আচ্ছা করে পেটাতে হয় দেখব ”। পারমিতা ঠেলা মারল বহ্নিকে।

    বহ্নির তখন আর হুঁশ নেই। সেই থেকে চোখে ভাসছে বাসের মধ্যে মধুর কান ধরা মূর্তি। যেন মনের ক্যামেরা নিঃশব্দে তুলে নিয়েছে ছবিটা। আর সাথে সাথেই ডেভেলপ হয়ে হাজির হয়েছে চোখের লেন্সে। বহ্নির মনে হচ্ছে কিছুতেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না এই ছবিটাকে। পলক ফেলছে না পাছে মুছে যায়। রাত্রে যখন ঘুমাতে যাবে তখনই প্রথমবার বন্ধ করবে চোখ আর সাথে সাথে মনের মণিকোঠার গুগুল ড্রাইভে সেই ছবি জমে যাবে চিরদিনের জন্য। আর যখন ইচ্ছে করবে ডাউনলোড করে দেখে নেবে।

    আবার ঠেলা মারল পারমিতা, “কী রে?”। চোখ তুলে আলতো করে হাসল বহ্নি।

    পারমিতার মনে হল বহ্নি যেন আসতে আসতে অচেনা হয়ে যাচ্ছে; সম্পূর্ণ অচেনা।

    *************

    এদিকে টিভি চলছে। অনাদিবাবুর ঘরে খেলা দেখছে সবাই। ভারতের প্রায় সব ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেছে। তেন্ডুলকরের উইকেট আছে বলে যা ভরসা। নইলে কখন বন্ধ হয়ে যেত টিভি। একদিকে টিভিতে তেন্ডুলকর আর অন্যদিকে মধু – অবস্থা বেশ সংকটময়। আগের বার সানগ্লাস ভেঙেছে, এবার না ঠ্যাং ভেঙে ফেরত আসে। এই নিয়ে চলছিল আলোচনা।

    পুরুতমশাই পঞ্জিকা খুলে কী যেন একটা বলতে যাচ্ছিলেন। মংকা হাত থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে মারল বাইরে। ব্যাস, তেলে লংকার ফোড়ন পড়ল। পুরুতমশাই অনাদিবাবুকে বললেন, “দেখলেন, দেখলেন চ্যাংড়া ছেলেদের কান্ড? আমার অমন সাধের নতুন পঞ্জিকাখানা .....। বলেছিলাম, তখন পই পই করে ....”।

    সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে অনাদিবাবু টিভির দিকে তাকিয়ে বললেন, “ইসস! শেষ বলটায় রান নিতে পারলি না”। মংকারা ওদিকে হাসছে খিকখিক করে।

    সেই দেখে আরো জ্বলে উঠলেন পুরুতমশাই, “শেষ বলটায় রান নিতে পারলি না? আচ্ছা, আমিও এর শেষ দেখে ছাড়ব। কি, অনাদিবাবু শুনলেন, আমি কী বললাম?”।

    পুরুতমশাই যতটা উত্তেজিত ভাবে কথাটা বললেন, ঠিক ততটাই নিরুৎসাহিত হয়ে কিছুটা ভৎর্সনার সুরে অনাদিবাবু পুরুতমশাইকে বললেন, “ধুর, দেখছেন রান হচ্ছে না। ওদিকে মধুর আবার কী হল কে জানে, আর ইনি কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর। ..... ও, নতুন একটা এনে দেওয়া যাবেখন”। হঠাৎ টিভির দিকে মনোযোগী হয়ে পড়লেন আর পরক্ষনেই চার, চার, করে উদ্বাহু নৃত্য দিলেন জুড়ে।

    আরও রেগে গেলেন পুরুতমশাই। ধুতির কাছা বেঁধে বললেন, “আমি, আমি ব্রহ্মশাপ দিচ্ছি ......।

    ফচকা হেসে বলল, “আরে যান যান। এসব ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে। শাপ লেলিয়ে আর কিছু হবে না। ধরে ফেললেই সোজা থাইল্যান্ডে এক্সপোর্ট করে দেব। তখন দেখবেন আপনার শাপের মাংস দিয়ে কেমন লোকে মজা করে চাউমিন খাচ্ছে!”।

    “আমি ব্রহ্মশাপ দিচ্ছি ......”।

    ছয়! ছয়! করে উন্মাদ হয়ে গেল সকলে।

    ওপাড়ার ভৌমিকবাবু রসিকতা করে বললেন, “পুরুতমশাই-এর ব্রহ্মশাপ কনসটিপেশনের জন্য আটকে গেছে, একটু ইসবগুলের দরকার ...”।

    বাইরে স্কুটারের আওয়াজে সবার চোখ দরজার দিকে ঘুরে গেল। পলতেদা আর মধুকে দেখে মনে হল কে যেন ওদের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে!

    (চলবে)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | |
  • ধারাবাহিক | ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৭৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন