Aritra Ahamed কে?
Aritra Ahamed কী? ২২।এতো সুন্দর তুমি কখনো ছিলে না। ধরো, ওই চেয়ারে বিশ্রামরতমলিন কাকের কথা; কিংবা অনুগত, প্রিয় ছাত্রের মতনসকালে সংবাদপত্র হাতে বসে থাকে যে উন্মাদ- তোমারই ভেতরে সে কিব্যাপ্ত হয়ে নেই? আছে। সর্বস্ব আগুনে ফেলে যে বুড়ো বিবেক শুদ্ধ রেখেপৃথিবীকে বাঁচানোর ফন্দি আঁটে- সে কি তোমার অনাত্মীয়?আমরা বিভিন্নতম দৃশ্যের কবল থেকে পালিয়ে এসেছি প্রেক্ষাগৃহে, মাশরেফা;কখনো অতীত, আর কখনো না-হওয়া শত-কোটির ভাবনাআমাদের ব্যস্ত করে রাখে; হয়তো প্রকৃতই এক অফুরন্ত বিশ্বকোষ আছে,এক চরিতাভিধান, যেখানে অজ্ঞাত আর নির্ভেজাল, সচ্ছল মৃতরাফুল, ফল, মামুলি মানচিত্র এঁকে বেঁচেবর্তে থাকে; খেলা করেতত্ত্ব, তথ্য, অভিজ্ঞান, ঘটনা-সমেত; আমরা আসলে ওদেরই মতো হতে চাই,একের ভিতরে দশ, দশে বিশ, হাজারে হাজারো; চাই মানুষ ... ...
১৩।তোমার বিষাদ শুধু ভালোবাসি, হাজার বিষাদতোমার দু'চোখে মুখে ভরপুর জটলা করে আছে!এখন যেদিকে যাও, যেখানেই, পূর্বে পশ্চিমেসবকিছু মনে হবে প্রেম, যেনো সবকিছু স্মৃতি!তুমি কিন্তু কারো নাও, তুমি কিন্তু বেবাক অতিথি,দু’দিকে উত্তাল নদী, হতভম্ব, সাঁতার জানো না!চোখ বুজে তা-ও ভাসছো, যদি কোনো স্মৃতির কুমীরতোমাকে, সুযোগ বুঝে, নিমেষে আকণ্ঠ গিলে ফেলে!তুমি বড়ো ভুলতে চাও প্রেমময় উত্তরে দক্ষিণেকষ্টের পর কষ্ট, অভিমান, দুঃস্মৃতি, যন্ত্রণা!তোমার জীবন যেনো তোমাকেই নিঃস্ব করে গেছে!মানুষ নিকটে নেই, মানুষের অন্তঃস্থ কুমীরদেখে, ডেকে, বড়ো শ্রান্ত, অতএব, কাউকে চাও না!তোমার বিষাদ তবু ভালোবাসি, তোমার ভেতরেযে বিষাদ উথাল-পাতাল ঘোরে, ভেঙে টুকরো টুকরো করে স্মৃতি!ভালোবাসি তোমার মুখের কালো দাগ আর নিঃস্ব তাকানো!১৪।আমার সন্ন্যাস ভাঙো, ... ...
১.( নিক্কোলো প্যাগানিনি)ক.একেকটা রাতহতে পারতোএকেকটা মহাসমুদ্র!ওডেসীয়ুসেরও অসাধ্য!যদি তুমি না থাকতে, হে প্যাগানিনি!খ.মেয়েরা তোমাকে চায়, হয়তো চায় না।মেয়েরা ভালোও বাসে, আবার বাসে না।কিন্তু যতদিন রোগা আঙুলে নীলিমারয়েছে উৎকীর্ণ, ফিরে আসবে মেয়েরাবারবার তোমার পায়ের কাছে, শুধুনিশিদিন বেহালায় ঝড় তুলে যেও!২.(এরিক স্যাটি)বিস্মৃতি? সত্যি সে আছে?আমাদেরই প্রাণে?নাকি বিস্মৃতিই আমাদের প্রাণ?৩.(গুস্তাভ মালার)ক.দু'বার, তিনবার নয়, মাঝেমধ্যে নয়,আমৃত্যু অচেনা থাকে মানুষ, অজানা থাকেইহুদির মতো, হে মালার, আগন্তুকের মতো,সর্বত্রই অনুপ্রবেশ তার, কখনো সে কোথাও ‘যায় না', কারো কাছেও না।খ.যখন নামবে বিস্বাদ! মহাধমনীমরা নীলিমার রঙিন কলুষে ভরবে,হাভাতে হৃদয়, যেনো সে গর্ভধারিণী,গাঢ় চুমোকেও নিরাশায় লীন করবে,যখন পৃথিবী, যেনো অতিকায় বেহালা,অনায়াসে হবে ভয়াল সুরের ধাত্রী,দেবতার ভোজসভায় স্বর্ণপেয়ালাচৌচির করে, বাতাসার মতো রাত্রিনামবে, ... ...
৭।দিকে দিকে লোকালয়, পথ ভুলে চোখের পলকেঅন্য পাড়ায় গিয়ে উঠতেই পারো, কিন্তু ঠিকইআপন গন্তব্যে যাবে; তুমি তো নিজের একা নও-তুমি তো লোকেরও! জানি, দিগ্বিদিক ভিড়ভাট্টা, গ্লানি,কর্কশ, বিদেশী রোদ, চোখ পুড়বে, মুখেও ঝুলকালি!যখন যেদিকে যাচ্ছি, সেদিকেই নষ্ট শূন্যতা?মনে হবে, আপন সৌন্দর্য হারিয়েছো, কিন্তু এ নয় হারানো!জানোই না, পাওয়া কাকে বলে, কাকে দেওয়া!দিকে দিকে লোকালয়, তুমি কিছুতেই হারাবে নাপ্রাণ কি তৃষ্ণার জল; যতো দূরে যাও, ততো পাবে!আরো যাও, গেলে দেখবে, তুমি তুমি নও,তুমি ছিন্নতা, আসা, ফিরে যাওয়া, বিশ্রামও তুমিই!পথ ভুলতেই পারো, কে না ভোলে? কিন্তু পথ শেষেমেঘই হয়, বৃষ্টি হয়, রোদ ওঠে এ ঘরে, ও ঘরে!৮।আজকে যে চিঠি লেখে, কালকে সে নিজেই ... ...
১।আজ কোনো শীত নেই, মাশরেফা, আজ এক তুখোড় দিনের শেষেঅতীতের ভূতে-পাওয়া গল্পের মতন মৃদু সন্ধ্যা নেমে আসবে চরাচরে;আজ এতো বিপন্ন, তবুও মনে হচ্ছে ফিরে ফিরে, কিছু একটা বুঝি নেমে এলোগহন, অসহ, একঘেয়ে সমতায়- হয়তো একটা পাখি, হয়তোবা একটা পালকই মাত্র-অথচ তাতেও খুশি আমি; টেবিলে ছড়ানো আগাছার মতো শত শত শত বই,পাণ্ডুলিপি, তেলাপোকা, উঁই; বিকট শব্দে প্রিয়তম অস্তিত্বরা হাসছে হো হো করে,হাসছে শয়তান, হাসছে মাংস, আর মাংসের খুপরিতে আত্মাও খুন হচ্ছে হেসে,হাসছে গাড়ল আবহাওয়া, হাসছে কাগজে লুকিয়ে থাকা ম্লান, নপুংসক দার্শনিক-একটা পালক এসে ঘুমিয়ে গিয়েছে অগোচরে, পালকের নাম মাশরেফা, কিংবা,হতে পারে, নামহীন, অনিশ্চিত; কিন্তু এসেছে তো! আসবে তো! হাসো, আরো হাসো,হে ... ...
*ওই যে মেয়েটা হেঁটে গেলো, আমি ওরই মতোযুবতী ছিলাম, ভালোবেসেছিলাম পুরুষের লাল চামড়া,ঘামের গন্ধ, নীল অট্টালিকা, শীতের সকালে ঘুঘুর ওড়াউড়ি;ওরই মতো স্তন ছিলো আমার, সন্তান ছিলো, বিপুল দুধভাত ছিলো,ভেবেছিলাম মৃত্যুর পরও ওই স্তন, ওই সন্তান, ওই ফুল, ওই দুধভাত,ফিরে পাবো একদিন; কারণ চেষ্টার কমতি করিনি, আর তারপরওআজ যখন আমার নিতম্বে কালো কর্কশ পোকার মোচ্ছব বসেছে,ঝুরি ঝুরি জঙ্ঘা, নাভি, স্তন; আমি লক্কড়-ঝক্কড়, ডালপালা হয়ে পড়ে আছি,আর স্বর্গ-নরক হয়ে গেছে অবান্তর, টিকিট কিনেও কোথাও যেতে পারছি না,তখন, ওই যে মেয়েটা হেঁটে গেলো, আমি ওরই মতোআরেকবার মাংস হতে চাই, যোনি হতে চাই, স্বল্প আর মিথ্যে হতে চাই,আর ছাদে উলঙ্গ দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে চাই ... ...
*হয়তো এখন, এই মুহূর্তে,ঈদিপাস কেঁদে আকুল স্বর্গে,হাতে একখানা খামসোনার কাটায় চোখের রক্তসেই রক্তেই প্রেমের পত্রলিখেছেন তিনি- খামের উপরে ইয়োকাস্তার নাম!*ইয়োকাস্তার কপালটা একটু বেশিই খারাপ:তার জীবনের অনুপম, ইউরেকা মুহূর্তগুলিতাকে ভয়, যন্ত্রণা আর লজ্জা ছাড়া কিচ্ছু দেয়নি।সোনা খাঁটি কিনা জানতে গিয়ে বারবার সে দেখেছেসমূহ ভেজাল তার নিজেরই লড়াইয়ে, জ্ঞানে, দূষিত স্বজ্ঞায়।*(আরো ঈদিপাস)আমার মা ছিলেন জলকন্যা!আমার একান্ত সমুদ্রে বিদ্যুৎফলকের মতোহাজারো শুক্লপক্ষ তিনি সাঁতরে বেড়িয়েছেন শ্যাওলায়, প্রবালে;কখনো ভেসে বা কখনো ডুবে। যেমন কোনো কোনো সুররং বিস্তার করে দিগন্তে, বসন্ত-জলধারে, তেমনি আমার মাআমার দিগন্ত ভরে তুলেছিলেন সোনাখঁচা তুষারে, পাগল ঝড়ে।কেননা তিনি ছিলেন জলকন্যা!আর হঠাৎ একদিনআমার মা হ’য়ে উঠলেন আমার প্রিয়তমা!আমি তাকে ভালোবাসলাম, তিনি আমাকে।আমি তাকে চুম্বন ... ...
স্নাতক_______________তার মুসাফির-দশা কখনো কাটে না;যদিও তলে তলে সে পলায়মান, যেহেতু আঙুল কাটলেবেরোয় কাগজি লেবুর গন্ধ, সামুদ্রিক নীল;সে যেখানেই যায়, দশ মিনিটের ব্যর্থতা তার পায়ে পায়ে ছোটে,এবং সে-ও আগলে রাখতে চায় আনকোরা-ভাবালুতা,লঘুচণ্ডালী, তার প্রিয় কাওয়ার্ডিস, ;জীবনের তিতা এলিমেন্টগুলি এক মুঠ চিনি ও লেবুয় গুলেগলা-জল ব্যর্থতায় স্নান করে সে-ওমিহিন লেমন জুসে ডুবে থাকে চিরায়ত পায়রা-চত্বরে! ... ...
*বেলা, যে গান গাইছো তুমি, রক্তে তোমারযে সুর মাছের মতো সাঁতরাচ্ছে ঘূর্ণিপাকে,ফেলে রাখো যে শব্দমালা তোমার আত্মারএকটি কোণে- আমি সব লিখে নিচ্ছি, জেনো,তোমার সুঘ্রাণ, সিক্ত নামাবলি, তৃপ্তি, জীবনেরমিথ্যা বালুকারাশি, যৌবনের বিষণ্ণ বিস্ময়!*যখন রুপালি বেলা খুলে দিলো তুষারের মতো গাঢ় চুল,যখন তুষার বেলার হাসিতে মিশে ঝরে ঝরে পড়লো,যখন অ্যাপোলো চাইলেন বেলা ফুলশয্যায় ডুবে যাক,যখন বেলাও চাইলো অ্যাপোলো বুকের বোতাম খুলে নিক,যখন তুষারে বেলা ভিজে গেলো, অ্যাপোলো দিলেন আশ্রয়,যখন অ্যাপোলো হলেন ক্ষুধাতুর, বেলা হেসে খুলে দিলো নিজেকে-তখন আমার কিছু নেই, আমি গান, আমি তখনো গানের রাজা!বৃথাই গাইছি, হে তুষার, হে তুষার, তুমি আমার ঊষর জীবনেকী চাষ করবে, কী ফোঁটাবে? বেলা সমস্ত ফুল ... ...
[রচনাকাল: ৩১ অক্টোবর, ২০১৯][শ্রী বিভুপদ কীর্ত্তি কর্তৃক লিখিত ‘মিলারেপা: তিব্বতের প্রাণপুরুষ’ গ্রন্থ পঠিতব্য]*তোমার আশ্বিন ফুরালো, মিলারেপা;ফের আরম্ভ হলো আমার নির্মাণ!এখন বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাবে না তোমার সৃষ্টি;এখন মার্পার ক্রোধ নয় আর তুষার করকা।তোমার তপস্যায় মিললো নির্বাণ;আমার অবিশ্বাস বৃথাই, মিলারেপা!*ঘন, ঘোর, বিদুষী রাত, স্বপ্নের আর্তস্বর,মাদকে মদির গন্ধ, মধু পৃথিবীর বুকে;অথচ আমার অদৃষ্টে শ্রম শ্রম শ্রম, গুরুমার্পার পরিত্যক্ত সাধনার ভার; কবেশেষ হবে অজাত স্বপ্নের হর্ম্য- ভাবনা ভাবনা!নিকটে জলধি নেই, সমুদ্রের কোনোই নিশানাগোচরে পড়ে না, তবু দুঃস্থ নই, মেলে যদিদেবীর সুমতি, পাবো, পাবোই বিপুলা স্রোতেপ্রাণের সোনালি মৎস্য, স্বচ্ছ জল; কিংবা পাবোঅজলে সপিত ঝর্ণা, কালের কঙ্করে ঢেলেসেই জল, মেলে দেবো আকাশে উত্তুঙ্গ সৃষ্টি, মার্পার ... ...