এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পালকের নাম মাশরেফা (চতুর্থ পর্ব)

    Aritra Ahamed লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৪৯ বার পঠিত
  • ২২।
    এতো সুন্দর তুমি কখনো ছিলে না। ধরো, ওই চেয়ারে বিশ্রামরত
    মলিন কাকের কথা; কিংবা অনুগত, প্রিয় ছাত্রের মতন
    সকালে সংবাদপত্র হাতে বসে থাকে যে উন্মাদ- তোমারই ভেতরে সে কি
    ব্যাপ্ত হয়ে নেই? আছে। সর্বস্ব আগুনে ফেলে যে বুড়ো বিবেক শুদ্ধ রেখে
    পৃথিবীকে বাঁচানোর ফন্দি আঁটে- সে কি তোমার অনাত্মীয়?
    আমরা বিভিন্নতম দৃশ্যের কবল থেকে পালিয়ে এসেছি প্রেক্ষাগৃহে, মাশরেফা;
    কখনো অতীত, আর কখনো না-হওয়া শত-কোটির ভাবনা
    আমাদের ব্যস্ত করে রাখে; হয়তো প্রকৃতই এক অফুরন্ত বিশ্বকোষ আছে,
    এক চরিতাভিধান, যেখানে অজ্ঞাত আর নির্ভেজাল, সচ্ছল মৃতরা
    ফুল, ফল, মামুলি মানচিত্র এঁকে বেঁচেবর্তে থাকে; খেলা করে
    তত্ত্ব, তথ্য, অভিজ্ঞান, ঘটনা-সমেত; আমরা আসলে ওদেরই মতো হতে চাই,
    একের ভিতরে দশ, দশে বিশ, হাজারে হাজারো; চাই মানুষ ব্যতীত অন্য কিছু,
    অন্য কোনো রূপ, কিংবা অন্যতর প্রাণ হয়ে ঢুকে যেতে ম্লান বিশ্বকোষে,
    এক যোগে; তাই ওই আহত মাতাল দেখি, অহমিকা দেখি; পোকার মিলনে খুঁজি
    গূঢ় বাৎসায়ন; হৃত কিংবা অপহৃত পাখির মতন উড়ে যাই
    ভিন্ন ত্রিসীমায়; খুঁজি নতুন ডানার বীজ আজকের ব্যবহৃত ডানার গহনে,
    সম্প্রচারে; তোমারও ভিতর থেকে অলীক প্রচ্ছদ খুঁজে আনি:
    ধেয়ে যাই দিকচক্রবালে, মাশরেফা, লীন হই হাওয়ায়, যখন ফের
    শক্তি পেয়ে জেগে ওঠে কুয়াশায় হাস্যরত ভূতের মতন দার্শনিক, যার দশ দিকে
    সৌন্দর্য না হলে বাঁচা ব্যর্থ হয়ে যায়; তোমার অস্তিত্বে যার অগণন চোখ
    সমূলে নিবিষ্ট হয়ে কিছু একটা খোঁজে, হাতড়িয়ে- হয়তো মাস্তুল, হয়তো এক গাছা দড়ি-
    তুমি যেনো সমস্ত ধারণ করে নীরবে প্রস্তুত হয়ে আছো, তাই আজকে তোমাকে
    এতোই বিভিন্ন লাগে, সুন্দর লাগে, মাশরেফা; সম্প্রসারিত, নত, প্রতীক্ষাপ্রবণ মনে হয়।

    ২৩।
    মহিমার মতো রোদ পড়েছে তোমার শরীরে।
    চারদিকে অগণন ছদ্মবেশী মানুষ, তুমি মেট্রোর নিচে,
    সবান্ধব, দাঁড়িয়ে রয়েছো পুরান ঢাকার পরীক্ষিত গাইডের মতো।

    দূর থেকে তোমার, তোমাদের ঝলসে যাওয়া দেখছি;
    ইচ্ছে হচ্ছে ফাঁস করে দিই, প্রমাণ করে দিই, যে,
    তোমার সঙ্গে যারা ঘুরছে, তারা হয় তোমার শত্রু,
    নয়তো তোমার অযোগ্য; ইচ্ছে হচ্ছে, কুৎসা রটাই সবার নামে;
    অথচ আমি তা পারবো না; আমি আসলে কিছুই প্রমাণ করবো না;
    এমনকি কারো নাম পর্যন্ত জানার চেষ্টা করবো না কস্মিনকালেও।

    কেবল এই মধ্যদুপুরে আচমকা তোমার মুখ দেখে,
    নক্ষত্রের অলিন্দে ঘূর্ণনরত গ্রহাণুর মতো তীক্ষ্ণ রোদে মিশে গিয়ে
    ঝলসে দিতে চাইবো তোমার আঙুল, ছাতা ভেদ করে ওই চুলভরা মাথা;
    আর একটি মেয়ের চুলে-চোখে-চর্বিতে গলে-পচে মিশমার হতে পেরেছি-
    এই তুমুল সান্ত্বনাটুকু লুফে নিতে চাইবো সবার অলক্ষ্যে এই কয়েক মিনিটে।

    কিন্তু আমি জানি, মাশরেফা, তুমি দাঁড়াবে না;
    এই কয়েকটি মিনিট কয়েক সেকেন্ডের মতো কয়েক মিনি-সেকেন্ডেই
    হাপিশ হয়ে যাবে; তুমি দাঁড়িয়ে আছো রিকশার জন্য;
    তোমার বন্ধুরা হাসছে, লাফাচ্ছে, ঠাট্টা করছে আর সবক দিচ্ছে প্রেমের;
    আর তুমি সবার কথায় সাড়া দিচ্ছো, যে যেটা চাইছে, করছো; আর ফাঁকে ফাঁকে
    কথা বলছো অযোগ্য, অবান্তর, পর, নাবালক, কিন্তু অবিচ্ছেদ্য এক পুরুষের সঙ্গে।

    মহিমার মতো রোদ পড়েছে তোমার শরীরে;
    আমার কানে কিছু আসছে না,
    আমি কোনো জিগীষায় ভুগছি না, মাশরেফা,
    খালি মূর্তিমান রোদের মতো দূর থেকে দেখছি তোমার ঠোঁটের সন্তরণ,
    আধো-অচেতন হয়ে তুমি কথা বলছো তো বলেই যাচ্ছো,
    আর বলেই যাচ্ছো-

    কারণ, তোমার ঠিক তীরে, চোখে চোখ থুয়ে,
    সবার থেকে কিঞ্চিৎ আলাদা ও সুবিধাজনকভাবে-

    তোমার প্রেমিক ঠিকই দাঁড়িয়ে রয়েছে সন্নিকটে।
    তোমার প্রেমিক সেজে দাঁড়িয়ে রয়েছে সন্নিকটে।

    ২৪।
    বৃষ্টিহীন, ব্যস্ততাহীন অজস্র দিন ঢাকা পড়ে গেলো নিমেষেই
    তাবৎ মহল্লা জুড়ে ভূমি-চাপা দু’হাজার মানুষের মতো;
    অবশেষে ঝড় হচ্ছে; হিম, সুপ্রচুর; যেনো নির্ভেজাল ক্ষতস্থান থেকে
    ফিনকি দিয়ে আসছে ঢল নেমে; শুনতে পাচ্ছি ঘোর আর্তনাদ
    ভেতরে, কিংবা বাইরে, থেকে থেকে; প্রতিকূল জমিনের কৃষকের মতো,
    দেখি, অস্তিত্বের পাদদেশে রয়েছে দাঁড়িয়ে কেউ, ম্লান, মূহ্যমান,
    হয়তো সমূহ ক্ষতি হয়ে গেছে তার ফসলের; হয়তো বানের টানে
    ভেসে গেছে বোবা চতুষ্পদ; কিংবা সে শিলাধ্বসে অন্তর্হিত কেউও হতে পারে;
    বস্তুতঃ তাকে চেনা দায়, সে আমারই কোনো উত্তরপুরুষ, নাকি
    আমারই ভৌতিক স্পৃহা; গূঢ়, বেনামি, অনাত্মীয়? তাকে দেখামাত্র
    মায়ের, ধাইয়ের কিংবা আমারই জঠর ফুঁড়ে সভয়ে বাইরে চলে আসি-
    ছাঁদে যাই, বৃষ্টিতে ভিজি; অনন্ত কাঁপুনি দিয়ে নড়ে ওঠে গহন কলিজা,
    আর, ফিরে ফিরে, তোমার ধৈর্যের কথা, মাশরেফা, মনে পড়ে যায়;
    বহু আলস্যের পর কথা ছিলো ভীষণ ব্যস্ত, ব্যস্ততম এক দিন কাটানোর,
    কাজ ছিলো, এমনকি স্পৃহারও অভাব ছিলো না; তবু আজকেই
    বৃষ্টি হতে হলো, ঝড় হলো; অথচ তোমারও কতো কাজ আছে, জানি,
    এমনকি আজো তুমি গলা অব্দি কাজে ডুবে আছো, এই প্রচ্ছন্ন বৃষ্টির দিনে
    তোমার বুকের ঘাগু ভূত এসে পাল্লা দিয়ে তোমাকে খোঁজে না,
    তোমার মহল্লা জুড়ে বেজে ওঠে বিপ্রতীপ শাঁখ; আসো, বাইরে আসো, দেখো,
    ভবনের পাদদেশে দাঁড়ানো মানুষ, আমি তাদেরই মধ্যে আছি, মাশরেফা,
    ঢের বেঁচেবর্তে আছি; যদিও বিষম ক্ষতি ঘটে গেছে আমারও জগতে;
    যদিও অজস্র ভূতে খণ্ড খণ্ড উড়ে গেছি পশলার পর পশলায়;
    তবুও তোমার ধৈর্য, মাশরেফা, তবু ফের তোমার জানালা লক্ষ্য করে
    আজকে অজ্ঞাত কোনো শিলার অহম নিয়ে আমিও সখেদে ঝরে যাবো;
    আজকে প্রথম সত্যি সত্যি মনে হবে: শুধু তোমার আনন্দ নয়,
    বৃষ্টি নয়, ব্যস্ততাও নয়; তোমার উপেক্ষা, আমি তোমার উপেক্ষা ভালোবাসি!

    ২৫।
    কিছুই জানে না আলজিভ,
    কিছুই জানে না তার পিঠ;
    সে এতো বাতিল হয়ে গেছে?
    সে কি বি. কে. গাঙ্গুলী রোডে
    সকালে কাকের মতো রোদ খেয়ে ঘোরে?
    সে কি শুধু নিজের ভেতরে
    কেল্লা গড়তে জানে একের পর এক?
    সে কি তবে অন্তিম পেরেক
    চিনে গেছে? সে কথা কি জানে
    তার বুক, পেট, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস?
    কিছুই কি জানে মাশরেফা?
    কী ঘটে চলেছে তার ভিতরে, আত্মায়?
    কিছুই কি জানে আলজিভ?

    ২৬।
    আকাশ তার পাণ্ডুলিপি মেলে দিয়েছে, দেখো,
    শত শত অক্ষর; কিছু অস্পষ্ট; আবার কিছু অক্ষর
    আয়নার মতো পরিষ্কার...

    আমি ক্ষমা করবো না এই ভাষাকে;
    মানবো না অপরিসীম এই তথ্য; কেবল ছিঁড়ে ফেলবো,
    পারলে টুকরো টুকরো করে ফেলবো যতিচিহ্ন-সমেত
    পাণ্ডুলিপির প্রতিটা হরফ- আমার বেদনার মতো টকটকে লাল নক্ষত্রগুলো
    আকাশে যে হুলস্থুল বাঁধিয়েছে, তার একটা মীমাংসা আমি চাই;

    দরকার হলে নিজে উড়ে যাবো, তৈরী করবো কক্ষপথ
    আমারই ভেতরে, যেমন অন্তঃসত্ত্বা মাছি ঘোরে চক্রাকারে
    তার ভবিতব্যকে ঘিরে; যদিও স্বপ্নের ভেতরেই পতন হবে আমার;
    আমি মুছে যাবো, শামিল হতে পারবো না অপরূপ সূচীপত্রে;

    তবু ক্ষমা করবো না এই বিস্তর, বেশরম সীমাহীনতাকে;
    বিশাল একটা মিছিলের মতো ওই আকাশ, যে মিছিলে আমি নেই,
    তুমিও নেই, মাশরেফা; আমাদের প্রাণ আজ উল্কার মতো
    কক্ষচ্যুত, হাস্যকর; আমরাও তো আদতেই খসে গেছি,
    বুড়ো হয়ে গেছি...

    না, মেনে নিতে পারবো না লাখো অক্ষরে লেখা
    এসব অপারগতা, ভয়, শোক, দ্বিধা; আর তবুও আকাশ তার
    পাণ্ডুলিপি মেলে দিয়েছে, দেখো, মাশরেফা, সে-ও আমাদেরই মতো
    আবছা হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, হারিয়ে যাচ্ছে ক্ষীণ নক্ষত্রের মগডালে।

    ২৭।
    খুব শীতল, খুব শীতল অভিলাষ
    ওত পেতে আছে সমস্ত উদাসীনতার মধ্যে;
    পাতারা যেমন হলুদ হলে মগ্ন হয় আত্মহত্যায়,
    কিংবা দায়সারা বাঙলা বলতে বলতে উর্দুভাষী বিহারীর মুখ
    হয়ে ওঠে পনিরের চেয়ে লবণাক্ত-
    তেমনই খুব নীরব, খুব ধারালো এক অনুভব
    মাঝেমাঝে হাত মিলিয়ে যায় হাতে, বুকে চুমো খেয়ে যায়
    সৈকতে অপেক্ষমান নগ্ন নারীর উর্বরতায় আচ্ছন্ন হয়ে:

    আমি কোথায়ই বা যেতে পারি?
    কোনো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি কি অবশিষ্ট আছে আর?
    আমার সময়টুকু কোথায়? স্থানটুকু কোথায়?
    নাকি আমি পুরান ঢাকার বিস্মৃত কেল্লার
    চিরঘুমন্ত সুড়ঙ্গের মতো শুয়ে থাকবো লক্ষ লক্ষ বছর,
    জংধরা তলোয়ার আর মুমূর্ষু অতীতের সাক্ষী গোপাল হয়ে?

    এই তন্দ্রা, নাম-না-জানা মৃত্যুর অভিলাষ
    ক্রমশ হলুদ করে তুলছে আমাকে; টের পাচ্ছি, একটা সুচ,
    একটা ভয়াল খুনের দৃশ্য ভেদ করে যাচ্ছে আমার থরোথরো সত্তাকে,
    অথচ আমি বিড়বিড় করে মিষ্টি মিষ্টি গান গাইছি, তো গেয়েই চলেছি
    (যেনো লক্ষ্যভ্রষ্ট, মরণোন্মুখ নাজিয়া হাসান),
    পাগলের মতো শীতলতা থেকে বাঁচার জন্য, লোনা পনিরের বিষাদ মোছার জন্য।

    ২৮।
    কারো কাছে হেরে যাবো হয়তোবা; বৃষ্টিভরা রাতে
    রক্তাক্ত পালক, কিংবা নিঃসঙ্গ, এতিম ঝরা পাতা কাঁদে যেরকম
    জানালায় মুখ রেখে, ডাকে, আসো, আজান হচ্ছে, আসো, চলে যাই,
    মরে যাই, ঝরে যাই ক্রমাগত এদিকে ওদিকে: আমি শুনবো না হয়তোবা;
    হঠাৎ কিছুটা স্বাদ যেনো পেয়ে গেছি অস্তিত্বের; কিছু রক্তিমাভা
    আমার গালেও যদি ফুঁটে ওঠে, যদি প্রেমে পড়ি ফের, ক্ষতি নেই;
    যতক্ষণ পারি সাঁতরাবো, ডুবে যাবো নিতান্তই হেসে; তবু ঝরা পাতা
    আজকে হবো না, হয়তো কিছুদিন বাদে, বৃষ্টির আমিষে মগ্ন, টইটম্বুর হয়ে
    ভেসে যাবে দুর্দান্ত পৃথিবী, আর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জানালার কাঁচে বাড়ি খেয়ে
    আহত পাখির মতো ঝরে যাবে আমার শরীর, তার হাজারো পালক
    সহসাই উড়ে যাবে ঠাণ্ডা বাতাসে, ভিড়ে, রূপকথাময় আলোয়ানে,
    অনেক আজানে; সেই ফাঁকে আমি ঝরে যাবো সবিনয়ে, আমি হেরে গিয়ে জিতে যাবো।

    ২৯।
    উন্মাদের মতো বৃষ্টি ঝরেছে সারা রাত;
    কোথাও পা দেবার জায়গা নেই, এমনকি আমার খাটের নিচেও পানি,
    আর পানির ভিতরে পচা ময়লার দানা, ময়লার কিচিরমিচির-
    আমি, নিরুপায়, শুয়ে আছি গ্রামীণ, অলক্ষুণে ডাক্তারের মতো,
    আমার কোমরে ঝিনুকের মতো ক্ষত, ক্ষতের ভিতরে ঝিনুকের মতো ফুল,
    বেশ একটা উগ্র, অক্ষম যন্ত্রণা- বৃষ্টিবাহিত শীতের রেশ আমি এখনো পাইনি,
    হয়তো এ বছর শীতই আসবে না, হয়তো উন্মাদের মতো দিনের পর দিন
    মদ খাবে কালো মেঘ, আর উগরে দেবে পেটের ভিতরকার পুরাতন সব কথা-
    আর আমিও অচল হয়ে থেকে যাবো, রুগীহীন ডাক্তারের মতো, তব্দা খেয়ে,
    ক্ষত দিয়ে সারাবো ওষুধ, বৃষ্টিবাহিত যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে দেখবো
    জানালায় অলৌকিক ঘোড়া, আর আমার ভেতরে ঈশ্বর হাঁক দিচ্ছেন,
    চলো, চলো; কিন্তু আমি যাবোটা কোথায়? কেনো? ঢাকার সমস্ত শীত আজ টেকনাফে,
    সমস্ত মেঘ টেকনাফে; এমনকি সে-ও ওখানেই; গেলে টেকনাফে যাবো, তার জন্য,
    আগামসি লেন থেকে পঙ্খীরাজে উড়ে, কিংবা ছাতা মসজিদের কবুতর হয়ে
    চলে যাবো এই ময়লা ফেলে, এই বৃষ্টি, ব্যর্থ কাদাজল ফেলে; আমি উন্মাদের মতো
    সারা রাত কান্না করেছি, সারা রাত বৃষ্টি ঝরেছে, আর আমার কোমরের মোক্ষম ঝিনুক
    গড়িয়ে পড়েছে পানিতে, আর পানিও গড়িয়ে পড়েছে আরো পানিতে, আরো পানিতে, আরো পানিতে...

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন।