এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পালকের নাম মাশরেফা (তৃতীয় পর্ব) - অরিত্র আহমেদ 

    Aritra Ahamed লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩ বার পঠিত
  • দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব
    ১৩।
    তোমার বিষাদ শুধু ভালোবাসি, হাজার বিষাদ
    তোমার দু'চোখে মুখে ভরপুর জটলা করে আছে!
    এখন যেদিকে যাও, যেখানেই, পূর্বে পশ্চিমে
    সবকিছু মনে হবে প্রেম, যেনো সবকিছু স্মৃতি!
    তুমি কিন্তু কারো নাও, তুমি কিন্তু বেবাক অতিথি,
    দু’দিকে উত্তাল নদী, হতভম্ব, সাঁতার জানো না!

    চোখ বুজে তা-ও ভাসছো, যদি কোনো স্মৃতির কুমীর
    তোমাকে, সুযোগ বুঝে, নিমেষে আকণ্ঠ গিলে ফেলে!
    তুমি বড়ো ভুলতে চাও প্রেমময় উত্তরে দক্ষিণে
    কষ্টের পর কষ্ট, অভিমান, দুঃস্মৃতি, যন্ত্রণা!
    তোমার জীবন যেনো তোমাকেই নিঃস্ব করে গেছে!

    মানুষ নিকটে নেই, মানুষের অন্তঃস্থ কুমীর
    দেখে, ডেকে, বড়ো শ্রান্ত, অতএব, কাউকে চাও না!
    তোমার বিষাদ তবু ভালোবাসি, তোমার ভেতরে
    যে বিষাদ উথাল-পাতাল ঘোরে, ভেঙে টুকরো টুকরো করে স্মৃতি!
    ভালোবাসি তোমার মুখের কালো দাগ আর নিঃস্ব তাকানো!

    ১৪।
    আমার সন্ন্যাস ভাঙো, ভেঙে দাও, পরিযায়ী পাখি
    যেমন ভাঙায় ঘুম হাওড়ের; আমাকে বিগত
    কালের কবল থেকে রক্ষা করো, দাও বর্তমান,
    দাও দূরে যাওয়ার সম্বল, সাহস দাও, নিরাসক্তি দাও!
    এই সন্নত মুখ তুলে ধরো পর্যাপ্ত আকাশে!
    পাখিরা তো উড়ে গেছে, পাখিরা তো সঠিক সময়ে
    কদাচিৎ আসে; পড়ে আছি আমি, অসংখ্য নুড়ির মতো,
    জনতা, জড়তা, ভয়, সারা মুখে বিপরীত মেঘ!
    আমার আলস্য ভাঙো, ভেঙে দাও, সর্বনাশ করো,
    দ্বীপের গহীন থেকে নিয়ে আসো সম্পূর্ণ সততা,
    দেশের গহীন থেকে নিয়ে আসো আনন্দের ঢল;
    একবার হাওড়ের ঘুম ভাঙলে শিয়রে যে পাখি
    নামে, তার মতো আসো, থেকে যাও, আমৃত্যু, অটুট;
    আমার সন্ন্যাস ভেঙে থেকে যাও সর্বনাশা হয়ে!

    ১৫।
    [ যদি দরকার হয়, মাশরেফা, কাছে
    একিলিস না থাকুক, প্যাট্রোক্লাস আছে।]

    আজ তুমি চলে যাও, প্যাট্রোক্লাস।
    অন্য কোনো এপ্রিলে, বিদায়ের আগের রাতে,
    আবার আমি তোমার কথা ভাববো;
    আবার লিখবো, বা নিছক লিখতে চাইবো;
    যে বড়ো বড়ো নায়কদের কথা আমি বারবার বলি,
    ধরো, ওডেসীয়ুস, কিংবা ঈডিপাস,
    এবং নিজের ভেতরে কখনো না কখনো অনুভব করেছি যাদের অস্তিত্ব,
    তাদের মতো কেউই তুমি নও, কারণ তোমার বীরত্বের চেয়ে
    তোমার মৃত্যু বেশি স্মরণীয়, তোমার বন্ধুত্বের চেয়ে
    অনেক বেশি বিখ্যাত তোমার বন্ধু,
    তাই, সঙ্গত কারণেই, চাইলেও তোমাকে নিয়ে খুব বেশি লেখা যায় না;
    যদিও লিখতে চাওয়া যায়, ভালোবাসা যায়,
    আর আমি আসলে তোমাকে ভালোই বাসি, প্যাট্রোক্লাস;
    তুমি, তোমার মৃত্যু ও তোমার বন্ধু- তিনই আমি ধারণ করি নিজের ভেতরে,
    আর হঠাৎ হঠাৎ, যখন নিঃসঙ্গতার চূড়ান্ত জেঁকে বসে আমার ওপর,
    আর প্রিয় নায়কেরা এগিয়ে আসে না বাঁচাতে,
    তখন আমি খুঁজে বেড়াই অখ্যাত, অথবা অন্যের সূত্রে বিখ্যাত, কোনো নায়ক,
    কিংবা আমারই অস্তিত্বের অচেনা আর অতীত কোনো মুহূর্ত,
    কিংবা ভবিষ্যতের এক ঝলক হাওয়া; ইচ্ছে হয়, ভালোবাসি সব কিছুতেই,
    সব কিছুকেই; আর ঈশ্বরের মতো ঢুকে পড়ি মহাজগতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, এই মধ্যরাতে;
    প্যাট্রোক্লাস, তুমি হারিয়ে যাও;
    প্রায় শেষ হতে চললো এপ্রিল, আমাকে বিদায় নিতে হবে,
    কাল থেকে হতে হবে অতিনাগরিক এবং বিনা কারণে ব্যস্ত;
    তোমাকে আর মনে পড়বে না বহুদিন, হয়তো আরেক এপ্রিল এসে পড়বে
    তোমার কথা ভাবতে ভাবতে;
    ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে, খুব ভয় পাচ্ছি, প্যাট্রোক্লাস;
    কাল থেকে অন্য কোনো মানুষ, অন্য কোনো ঈশ্বরের বাহক হবো আমি,
    যদিও আমার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই এই এপ্রিল ছেড়ে এক কদমও দূরে যাওয়ার,
    কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না আমার, এবং আসলেই আমি কখনো কোথাও সত্যিকার অর্থে যাই না,
    কারণ আমার কোনো নায়ক নেই, আর তা থাকার প্রয়োজনও নেই; কিন্তু, প্যাট্রোক্লাস,
    তুমি চাইলে আমরা বন্ধু হতে পারি একে অন্যের;
    স্মৃতি-বিস্মৃতি মিলিয়ে,
    আসছে এপ্রিলে বুকে জড়িয়ে ধরার মতো; কিন্তু তার আগে
    আমাদের চলে যেতে হবে যার যার ঠিকানায়, যার যার অস্তিত্বে, যার যার যুগে ও যৌবনে;
    এবং ফিরে আসতে হবে নায়কের মতো, নেহাত মৃত্যুর কথা ভেবে কাঁদার জন্য,
    যাবতীয় শূন্যতা আর ক্ষুদ্রতার কথা ভেবে হাহুতাশ করার জন্য,
    কারণ শূন্যতার বাইরে ও বিপরীতে কিছু নেই শূন্যতার ভাবনা ছাড়া, প্যাট্রোক্লাস;
    তুমি আমার, এবং আমি তোমার শূন্যতাকে অতিক্রম করে কিছুটা দূরে যেতে পারলেই আমরা সার্থক।
     

    ১৬।
    এরকম একটা দিন সহজেই পচে-গলে যায়,
    কোনো কারণে, বা নিতান্তই কারণের অভাবে,
    দু’দিনের বাচ্চার মতো, নামহীন, ঝরে যায় পঞ্জিকা থেকে;
    আর আমি লাজুক অস্তিত্বে, ভাষার বিবরে শুয়ে শুয়ে,
    দিবাস্বপ্ন দেখি না-হওয়ার, না-থাকার; চারিদিকে অগণিত অপসম্ভাবনা
    খেলা করে বাতাসের সঙ্গে; ‘আমি জন্মদিন', ‘আমি মৃত্যুবার্ষিকী’ বলে
    ধেয়ে আসে একেকটা তারিখ, আর আমি, হাজারো কর্তব্য সত্ত্বেও,
    কিচ্ছু না করেই শুয়ে থাকি; খালি সন্দেহ হয়, সে আসবে,
    তারিখহীন একটা দিনে, সকাতরে, গুরুদুয়ারার সাপ্তাহিক কীর্তনের মতো-
    আর সেই একটিমাত্র ঘটনার দিকে তাকিয়ে, লক্ষ্মী ছেলের মতো,
    ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখি ক্যালেন্ডার, যদিও প্রায় প্রত্যেকটা তারিখকেই
    মনে মনে লাথি মেরে উড়িয়ে দিয়েছি আমি; কারণে হোক, অকারণে হোক,
    এরকম একটা দিনে খড়ের চালের মতো ভেঙেচুরে যেতে ইচ্ছে করে
    ন্যূনতম আলিঙ্গনে; সকাল হারিয়ে ফেলে তার অন্তর্গত সকালতা;
    এরকম একটা দিন সহজেই ঝরে যেতে পারে।

    ১৭।
    হয়তো এখন অনেক দূরে চমৎকার একটা স্বপ্ন
    আমার ঘুমের মধ্যে ঢুকে পড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে;
    হয়তো স্বপ্নটা সুন্দর, কিংবা স্বপ্নটা হতে পারে অত্যন্ত বীভৎস,
    হয়তো স্বপ্নটার পাখা আর ধারালো নখ আছে, রিরংসা আছে,
    হয়তো স্বপ্নটা আমার চেয়ে, বা আমার ঘুমের চেয়ে শক্তিশালী,
    কিন্তু আমি যতক্ষণ জেগে আছি, চাইবো না স্বপ্নটা কোনোমতেই আসতে পারুক;
    বিষণ্ণ একটা ঘুম, রাতের আকাশের কালো মেঘের মতো সঘন আর ভীষণ একটা ঘুমের অভাবে
    আমি কষ্ট পাচ্ছি, আর কোনো স্বপ্নই জানে না এই যন্ত্রণার কথা, এই অভাবের কথা;
    কোনো স্বপ্নই জানে না যে, মানুষ মরতে চায় প্রতিদিন, কিছুক্ষণের জন্য, পারলে ঘুমাতে চায়
    চোখ খোলা রেখে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে; জানে না যে, রাত আসে মৃত্যুর জন্য, বিস্মৃতির জন্য;
    আর তাই যেসব স্বপ্ন স্কুলড্রেস পরে স্কুলভ্যানের জন্য এখন অপেক্ষা করছে,
    আমি তাদেরকে বলে দিতে চাই, আজ স্কুল ছুটি, আজ স্কুল ক্লান্ত, দরজা-জানালা ক্লান্ত;
    আজ স্কুল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুমোবে, কাঁথা মুড়ি দিয়ে মড়ার মতো
    থাকবে শুয়ে, কেননা স্কুলেরও ঘুমের দরকার, পালিয়ে যাওয়া দরকার, সত্যি বড়ো দরকার!

    ১৮।
    আজ অবধি কেউ কোনো নাম ধরে ডাকেনি,
    কারণ আমি ঝরে পড়ি উচ্চারণের আগমুহূর্তে;
    যখন উঠে দাঁড়াই, তখন স্মৃতি বলে কারো কিছু থাকে না,
    কেউ কাউকে সম্বোধন করে না; অথচ সুযোগ পেলেই
    অনেকক্ষণ আগে চলে যাওয়া রিকশার মতো খোঁচা মারে অবচেতনে,
    ‘হায় রে আহাম্মক! রাস্তায় নামা তোর কাজ না, তুই দাঁড়িয়েই থাক,’
    আর আমি দাঁড়িয়েই থাকি, মোড়ে মোড়ে, অলিতে-গলিতে, বাসস্ট্যান্ডে,
    যেনো নিখুঁতভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জন্যই আমার জন্ম,
    আর রিকশা আদতে কখনোই আসবে না, নাম ধরে ডাকবে না কেউ,
    কারণ আমি ধূসরতম সম্ভাষণের সন্তান, উচ্চারণেই আগেই
    যার পা পিছলে যায়, আর যে ঢলে পড়ে ভিড়ে, নর্দমায়, আপতনে;
    পচাগলা নামের অ্যাকুয়ারিয়ামে, পরিণতিশীল, লঘু, ভেল্কিবাজ মাছের মতন।

    ১৯।
    কোনো তুষারই ঝরতে চায় না, কক্ষনো পারে না তা চাইতে;
    সকাল হয়ে গেলো, অথচ চোখে এক ফোঁটা ঘুমের দেখা নেই,
    আমার ভেতরে-বাইরে ছারপোকাদের কিচিরমিচির, ডিগবাজি খেয়ে
    ওরা লাফিয়ে পড়ছে আমার নাজেহাল মাংসে, আর আমি দিলদার হ’য়ে শুয়ে আছি,
    যেনো এই মাংস অসীম, যেনো এই রক্ত অফুরান, যেনো প্রেম আসবেই পিলপিল পায়ে হেঁটে;

    কোনো ছারপোকাই চায় না কামড়াতে, উল্টো মারণ কামড় খায়
    নিজেরাও, খুনী মনে করে নিজেদের; দিনের বেলায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে শত শত;
    কাল রাতে এক মিলনোৎসব থেকে পেট পুরে খেয়ে ফিরেছি, আর ভেবেছি
    আমিও বোধ হয় হতে পারলাম পালের গরু, ঝাঁকের কই, উচ্ছল, সম্পূরক, মামুলি;
    অথচ ঠিকই ঘুম আসলো না, বেজায় নিষ্ঠুর হয়ে আমি ঠিকই জেগে রইলাম ভরপুর;

    আর অন্তত অনন্তকাল ধরে এইভাবে না ঘুমোতে না ঘুমোতে শুয়ে শুয়ে ভেবেছি
    কাল সারাটা দিন কীভাবে কাটবে, আমি বেঁচে থাকতে পারবো তো, নাকি কালকেও তুষার ঝরবে
    অনিচ্ছা সত্ত্বেও, আর আমার দোলনা থেকে কবর অব্দি ঢেকে যাবে আন্তরিক তুষারে তুষারে?
    নাকি আমি মাথা হেঁট করে, ছারপোকাদের কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ডিগবাজি খেয়ে
    ভুলে যাবো সবকিছু, আর হঠাৎ প্রেম আসবে ধেয়ে, আর আমি চাইলেও একা থাকতে পারবো না?

    কোনো তুষারই কখনো ঝরতে চায় না, কস্মিনকালেও কোনো সূর্য চায় না
    তাকে সূর্যাস্ত বলে ডাকা হোক; নেহাত ঘুমোতে পারছি না বলে এইসব আবোল-তাবোল,
    পচা-গলা কিচিরমিচির আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখছে, আমি নেহাত জেগে থাকতে থাকতে হতাশ,
    জেগে থাকাই আসল ছারপোকা; আর বাইরে সমস্ত চরাচর থরথর করে কাঁপলেও কিছু টের পাই না,
    কারণ আমি নিজেও আরো বেশি করে কাঁপছি, আরো বেশি করে কান্না আমার চোখ-মুখ চেটে খাচ্ছে;

    আমি চাইনি মানুষ হতে, কেউই তা চায়নি; অথচ ঘুম-না-পড়া ভূতের মতো
    ঠিকই পায়চারি করছি, প্রায়শ্চিত্ত করছি অতীতের, এইভাবে ভয়ানক জেগে থেকে থেকে,
    আর মাংসের ভেতর থেকে আঁশটে গন্ধ টেনে টেনে, কোনো রকমে মানুষ হয়ে বাঁচছি
    ছারপোকাদের উৎসবে, আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছি, ভাবছি আর হাসছি,
    এ কী তেলেসমাতি তোমার! যার কিচ্ছু হওয়ার কথা নয়, সে মানুষ; আর যার মানুষ হওয়ার কথা, সে?

    ২০।
    অসম্ভবের গন্ধ পাচ্ছি চারিদিকে।
    আরো একটা সকাল হতে চললো:
    আরো একটা দীর্ঘ সকাল;
    মিনিটে মিনিটে এপাশ ওপাশ করতে করতে
    আমি গুটিয়ে যাচ্ছি পচা কেন্নোর মতো বিশ্রীরকম।

    যেনো কেউ কিছু রান্না করছে আশেপাশেই কোথাও।
    অসম্ভবের গন্ধ ম ম করছে হাওয়ায়,
    আর আমি আজকের পুরনো সকাল থেকে ফিরে যাচ্ছি
    পুরনো দিনের কোনো নতুন সকালে, মাশরেফা।
    এইবার শান্তি লাগবেই লাগবে। কাজ হবেই হবে ওষুধে।

    অস্ত যাচ্ছি আমি। অস্ত যাচ্ছে ঘড়ি।
    অস্ত যাচ্ছে দেশ-বিদেশ, অস্ত যাচ্ছে পাসপোর্ট।
    আমি আর কোনো সম্ভাব্যতায় নেই, সুযোগে নেই;
    আস্তরণ খসে পড়ে গেছে, কাছা খুলে গেছে আমার ভাগ্যের।

    গভীর গন্ধে দু’চোখ আসছে জড়িয়ে
    যদিও ঘুম অসম্ভব, যেমন তুমি অসম্ভব,
    আর হাওয়ায় এই অসম্ভবের গন্ধ আসলে তোমারই গন্ধ, মাশরেফা;
    সূর্য উঠছে, অথচ আমি ক্রমশ অস্ত যাচ্ছি,
    নরকের মতো অন্তহীন এই সকালে, স্বপ্ন দেখছি মাপজোখহীন।

    আমার যখন ঘুম আসবে, মাশরেফা,
    তখন মধ্যগগন নক্ষত্রের উষ্ণ চুমোয় কাঁপতে কাঁপতে
    ঢলে পড়বে দিগন্তহীন, ঝানু শহরের স্যাতসেতে তক্তপোশে;
    যদিও আমার চারপাশ তখনো অসম্ভবের ভারি গন্ধে ভরপুর;
    আর খাট-পালঙ্ক, ল্যাপটপ আর ধ্বংসের যাবতীয় উপকরণে
    নেমে আসছে কালঘুম আর হাজার হাজার জোনাকির মতো ব্যাহত দিনের গরিমা।

    ২১।
    তোমার মুখের দিকে তাকাবো যে সে উপায় নেই।
    কী বিষাদ মেখে আছো, কী যে বর্ষা, কী যে হাহাকার;
    ওই দু'টি চোখে যেনো অনেক দিনের সজলতা;
    তাকালেই মনে হয় এই একটু আগেই কেঁদেছো।

    এই ক'টা দিনে যেনো আরো বেশি রহস্যে উন্মনা-
    হাজার হলুদ পাতা সারা মুখে, দুর্বোধ্য চিবুকে;
    আমি প্রস্তুত; কিন্তু এতো ঝরা পাতার আড়ালে
    কোনটা তোমার তুমি, কী করে যে জানবো, বুঝি না!

    এতো আকুলতা নিয়ে বসে আছো দু’হাত সামনেই-
    তবু তোমার মুখের দিকে তাকাবো যে সে বিশ্বাস নেই!
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন।