এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বাপকা ব্যাটা- অরিত্র আহমেদ 

    Aritra Ahamed লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৮ বার পঠিত
  • *
    আমি prodigal son, কানামাছি, আত্মনিপীড়ক,
    দিনের পর দিন, দু'হাতে ওড়াচ্ছি বাবার রক্তঘামানো পয়সা,
    একের পর এক অজুহাত খাড়া করছি নিজের সীমাছাড়া চলাফেরার পক্ষে,
    যদিও মনে মনে নিজেকে প্রবোধও দিচ্ছি, 'আর যাই করি,
    বাবার কষ্টে কেনা জমি আমি কখনো বেঁচবো না;
    বাবার মৃত্যুর পরও বাবাকে এই কষ্ট কোনোক্রমেই দেবো না;'
    উপরন্তু, একদিন না একদিন আমি তো ভালোই হয়ে যাবো,
    বাপকা ব্যাটা,
    কৃপণ হয়ে যাবো,
    বাবার পছন্দসই মানুষ হবো, আজ অথবা কাল,
    সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা ও সঞ্চয়প্রিয়;
    আমি prodigal son, জীবনে এতোবার লাগাম ছিঁড়েছি যে
    বাবাকে বললে বাবা মানবেই না যে,
    আমি আসলেই ভালোবাসি বাবার জীবনশিল্প, মধ্যবিত্তপনা,
    বাবার সুচারু কৃপণতা!

    *
    থাকবে বাবার গলা খাঁকারিটা, থাকবে
    মায়ের মাটির উনুন, চাপ্টা, পাটকাঠি, ছাই থাকবে;
    থাকবে বাবার ঘোলাটে চশমা, অর্থলিপ্সা,
    কিংবা মায়ের আয়ুমুখরিত আল্লা-মাবুদ, তুচ্ছ জীবন,

    পণ্ড উঠোন, মরা আমগাছ, ঘোল, টুনি পাখি,
    তিক্ত ধর্ম মধুর ধর্ম কঠিন ধর্ম বিপুল ধর্ম
    কপাল-টিক্কি হালখাতা আর গদগদ থুড়ি থাকবে
    ধীর সংসার, চালের ফুটোয় বৃষ্টির জল থাকবে,
    আমার গানের মালা আর সেই মল্লিকাদিও থাকবে;

    থাকবে বাবার শস্তা জুতার থপথপথপ,
    সুন্দরী মা'র জীর্ণ শাড়ির ফুল, পাতা, পাড়, রঙের বাহার
    শাদা তমা আর শাপলা কিংবা বিষ-খাওয়া জ্যোতি,
    হত্যা, আত্মহত্যা, মৃত্যু, সাপের কামড়, শ্মশানের ঢোল,
    হারাপতি আর তার বিধর্মী প্রার্থনাটুকু থাকবে;

    কোনায় কোনায়, ছড়িয়ে ছাপিয়ে, রাস্তার বাঁকে, শহরে, বাজারে
    আমার বাবার থাকবে, আমার থাকবে, মায়ের থাকবে, যা কিছু থাকবে,
    আল্লা-মাবুদ, হোমিওপ্যাথিক, নাক-ডাকা ঘুম, স্মৃতির পাখিরা থাকবে।

    *
    এই বইটা আমার বাবার লেখা;
    অপ্রকাশিত;
    প্রুফ দেখছি, শব্দ-বাক্য ধরে ধরে,
    খুব যত্ন করে,
    যে যত্ন আমি কখনো বাবাকে দিইনি;
    বাবাও হয়তো কখনো চাননি
    আমি তাকে যত্ন করি,
    অন্তত মুখ ফুটে কখনো বলেননি, 'যত্ন করো,
    দয়া করো!'
    কিন্তু আজ, এই বইটার প্রুফ দেখতে দেখতে,
    আমার মনে হচ্ছে আমি বাবাকে স্পর্শ করছি,
    বাবাকে পাঠ করছি,
    পরীক্ষার আগের রাতে
    সিলেবাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মতো
    বাবার চুল, বাবার চোখ, বাবার অস্তিত্ব, বাবার চামড়া, বাবার ক্ষোভ
    খুলে-মেলে দেখছি, মুখস্থ করে নিচ্ছি অনন্তকালের জন্য;
    মনে হচ্ছে বাবা কথা বলছেন,
    আর আমি শুনছি, আমরা শুনছি,
    আমরা, অর্থাৎ আমারই ভেতরের হাজার হাজার আমি,
    যাদের কেউ কেউ বাবাকে ভালোবেসেছে,
    আর কেউ কেউ ঘৃণা করেছে তাকে চিরশত্রুর মতো:
    যেনো অনেক দূর থেকে,
    আড়াল থেকে,
    বাবা এমন কিছু কথা বলছেন,
    যে কথাগুলো এই বইয়ের পাঠকেরা কখনো শুনবে না,
    কখনো বুঝবে না;
    স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি
    বাবার প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ,
    আজ থেকে আটত্রিশ বছর আগে
    আলোর মুখ দেখার পর
    ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে যে বই;
    বত্রিশ বছর ধরে, উইপোকাদের কল্যাণে
    এমনকি বাবা নিজেও যে বই নিজের চোখে দেখতে পান না,
    আমরা কেউ কখনো যে বইয়ের কথা তার মুখে শুনিনি,
    আর তিনি নিজেও যেনো ভুলে যেতে চান
    তার সত্তার হারানো যে অংশের কথা;
    সেই বই, সেই অখ্যাত বইটাও
    স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি
    এই প্রুফের ভেতর দিয়ে;
    আমার নাকে আসছে পুরনো বইয়ের গন্ধ,
    আর ভাবছি,
    আজ থেকে আটত্রিশ বছর পরে
    এই অক্ষর, বাবার এই নির্মম, নিঃসঙ্গ প্রজ্ঞান,
    এই অলংকার-বহুল বঙ্কিমী বাঙলা,
    আর পুঁজি, ব্যবসা, ধর্ম, সস্তা ও আক্রার হাজারো মামলা পেরিয়ে
    বাবাকে কেউই চিনতে পারবে না,
    যে বাবা হয়তো যত্ন চাইতেন,
    বিশ্রাম চাইতেন,
    নিজের মনে না বকে কাউকে বলতে চাইতেন তার বলবার কথাগুলো;
    যে কথাগুলোর বেশির ভাগই এই বইয়েই হয়তো লেখা;
    কিন্তু আমি জানি, কেউ সেসব বুঝবে না,
    বুঝতে চাইবেও না,
    কিংবা, বুঝলেও নিজের মতো করে বুঝবে,
    কারণ এ যুগে ঈশ্বরের মতোই লেখকরাও নির্বিশেষে মৃত,
    ভক্তের মুখাপেক্ষী;
    তবু হয়তো বাবা থাকবেন, হয়তো থাকবেন না,
    আমিও হয়তো থাকবো, কিংবা থাকবো না,
    আমার মনের দুশ্চিকিৎস্য অনুতাপ
    সেদিন হয়তো থাকবে না,
    আর আজকের রাত হারিয়ে যাবে
    হাজার হাজার সাপের মধ্যে দেখতে হুবহু একইরকম
    একটা সাপের মতো;
    আর তবুও হয়তো মহাবিশ্বের কোনো এক সুগোপন কন্দরে
    সময়ের অতীত হয়ে,
    ডালপালা মেলে,
    বেঁচে থাকবো আমরা প্রত্যেকেই;
    চোখ, মুখ, লালা আর গলা-খাকারি সমেত
    হয়তো বেঁচে থাকবে আমার বাবাও,
    আজকের রাতের মতোই,
    শব্দ-বাক্য ধরে ধরে,
    সন্তানদের থেকে অনেক দূরে,
    নিরালাপ, নিঃসঙ্গ, ধ্যানের গভীরে সমাহিত,
    আর হাতে তিনটি বই,
    তারই লেখা,
    তারই মতো দেখতে, শুনতে, পড়তে,
    বঙ্কিমী বাঙলায় ঠাসা;
    আর আমি হয়তো সেই দিনও
    আজকের রাতের মতোই
    প্রুফ দেখবো বাবার বইয়ের,
    দাঁড়ি-কমা সমেত
    পাঠ করবো বাবাকে,
    ইচ্ছে হবে অনেক কিছুই বদলে দেবার;
    যদিও সিলেবাসের সব আমার মুখস্থ,
    আর পরীক্ষাটাও শেষ হয়ে গেছে ততোদিনে
    চিরকালের জন্যই!

    *
    সেই মুরুব্বির কথা মনে করি,
    যিনি ২০২৫ সালেও স্কুলকে বলেন ইশকুল,
    মানিব্যাগকে মনিব্যাগ,
    নামাজকে নমাজ,
    এবং ইশকুল মনিব্যাগ আর নমাজ-সমেত যে ইউনিক দুনিয়াটা
    উনি ধারণ করেন বুকের মধ্যে,
    ওই দুনিয়াটাকেও আমি স্মরণ করি,
    এবং আমার চোখের সামনে ভাসে কুরআন শরীফে চুমু দিয়ে
    সকাল সকাল টাকার তাগাদায় সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়া
    এক স্কুলমাস্টারের ছবি, অর্থাৎ, সেই মুরুব্বির ছবি,
    যিনি হয়তো বিলুপ্তপ্রায় এক মানব-প্রজাতির শেষ সদস্যদের একজন,
    যারা স্কুলকে ইশকুল বলেন,
    নামাজকে নমাজ,
    এবং কুরআন শরীফে চুমু খেয়ে ভোট দিতে যান দলেবলে,
    ভোট দিতে ভালো লাগে বলে-
    হয়তো বছর দশেক পরে এই প্রজাতির কোনো সদস্যই
    ইহলোকে বিচরণ করবে না আর,
    ফলে ওই মুরুব্বির কথা আমি প্রায়ই স্মরণ করি,
    এবং তার ওই ইউনিক দুনিয়াটায়ও ঘুরে আসি সুযোগ হলেই,
    যেইখানে মনিব্যাগ, ইশকুল আর নমাজ একসঙ্গে বাস করে,
    পরম ও শান্তিপূর্ণভাবে;
    এবং তার রক্ত আর আত্মা আর শান্তি আর ভর্ৎসনা আর কষ্ট
    কিছু কিছু করে টুকে নিই,
    এমনকি মুখস্থ রাখারও চেষ্টা করি-
    যদিও আজ থেকে ত্রিশ বছর পরে উনি আর থাকবেন না,
    কোনো মনুষ্য সন্তান তার ওই ইউনিক দুনিয়াটা যাপন করবে না আর,
    এমনকি আমিও না, কারণ আমার সবসময়ই কোনোটা না কোনোটায় বেশি হয়ে যায়,
    কোনোটা না কোনোটায় কম হয়ে যায়;
    ইশকুল বেশি তো মনিব্যাগ ফাঁকা; আবার মনিব্যাগ বেশি তো ইশকুল কম,
    আর নমাজ তো থাকে কদাচিৎ;
    মুরুব্বি এগুলো পছন্দ করেন না, কিন্তু তিনিও জানেন, তার দিন শেষ;
    তার মাটি মাটি গলা দিয়ে ডোডো পাখি হয়ে
    দুনিয়ার যাবতীয় নয়া হুংকারের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব না কোনোভাবেই;
    ফলে আমি ওনাকে একটু করুণাও করি,
    একটু ভালোও বাসি;
    সমস্যা হলো, এই করুণা আর ভালোবাসাটাও ওনার সঙ্গে যায় না,
    উনি অখুশি হবেন বলে মুখ ফুটে কক্ষনো ওনাকে বলি না যে,
    ‘আপনারে আমি ভালোবাসি।‘

    কক্ষনো বলিনি।

    *
    বাবাকে নিয়ে যখনই লিখতে যাই,
    লেখাটা আস্তে আস্তে ফুলে ফেঁপে ওঠে,
    লিরিকের গণ্ডি ছেড়ে বাবা ছড়িয়ে পড়েন
    সাহিত্যের নয়া ফর্মে, নয়া আঙিনায়:
    ছোট্ট কবিতায় বাবা আঁটে না।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন।