*
শূন্যতা ভালোবাসি আমি
শূন্যতা আমাকে ভালোবাসে
যেমন টেবিলে আমি পড়ি
টেবিলও আমাতে পড়ে, লেখে-
বোতলে অমৃত খাই
বোতলও আমাতে খেতে থাকে-
মৃত্যু!
*
আহা, এইসব জনসমাগম
রৌদ্রবিতাড়িত রাস্তা
ভালোবাসলে মোক্ষ পাবো-
ভেবে
ঘরের বাইরে বেরেলো
এক আপাদমস্তক নিঃসঙ্গ
গরমিলে-ভরা ভবঘুরে
*
বেলা বাড়লেই চায়ের জন্য
সুড়সুড় করে ওঠে
ঠোঁট- চা না হোক, একটু গরম পানি
যদি গালে পড়ে, মন্দ হয় না-
নাইবা থাকলো চিনি,
নাইবা থাকলো যথাযথ পাতি-
বেলা বাড়লেই এমনকি নোটবুকও
হয়ে ওঠে খাসা চায়ের দোকান।
*
পারতপক্ষে রমণীবক্ষে মুখ রাখবো না:
এর চেয়ে ভালো খিদের শরীর, রাত বারোটায়
শহীদ মিনারে হালকা চালের ফষ্টিনষ্টি;
এর চেয়ে ভালো জামশেদপুরী কৌরব আর
কী পার্থক্যে ঢাকা হয় না তো কলকাতা, সেই
চড়া কুতর্কে সন্ধ্যাযাপন; ঈশ্বর থেকে
ঈশ্বরে ঘুরে নিজের বেগানা অস্তিত্বের ব্যালকনিকেই
মক্কা-মদিনা ঠাউরে আত্মজিকিরে রাত্রে মশগুল হওয়া;
এর চেয়ে ভালো শিশুকাল আর নস্টালজিক মাতৃবক্ষস্মৃতি!
*
ঈশ্বর হিসেবে মানুষ ঈশ্বরের চেয়ে নিকৃষ্ট। মানুষ ঈশ্বরের ভার বইতে পারে, কেননা ঈশ্বরের ভার ঋনাত্মক। তিনি মানুষের নিজের ওজনের সঙ্গে নতুন করে কোন ওজন যোগ করেন না। বরং তিনি ঋণাত্মক বলে মানুষের ওজনই খানিকটা কমিয়ে দেন। ঈশ্বরের অনুপস্থিতিতে মানুষ নিজের ভার নিজে বইতে বাধ্য হয়, এবং নিজের ভার নিজে বওয়া মনুষ্যসন্তানের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।
*
ওর বসে থাকা দেখলে মনে হয়
কোনোরকমে শেষ হওয়া
আলুথালু একটা গল্প,
নাতিদীর্ঘ,
যাকে সর্বোচ্চ খসড়া বলে বিবেচনা করা যায়,
ও সেটা জানে,
ও জানে ওর চুল ওর চোখ ওর খিদে
বমি বমি ভাব
সবই এখনো আংশিক,
অপেক্ষমান,
একটা ভালো সমাপ্তির জন্য
যেনো সর্বশেষ পাতায় রঙিন কলম দিয়ে ‘The End' লিখে
ফূর্তি করা যায়
ও অবশ্য জানে না ওর খসড়া-দশা কবে শেষ হবে।
*
ডান চোখের উৎপাতে ঘুমাতে পারছি না
একটু জিরিয়ে নেবার জন্য
কুঁজো হয়ে শুয়ে আছি অনেকক্ষণ ধরে,
এদিকে এক বেরসিক ফাটল
আমার ডান চোখের জলায় ছটফট করছে কইমাছের মতো
আমি আমার ভিতরের চোখ দিয়ে
তার সেই ছটফট করা দেখছি-
ইচ্ছে হচ্ছে ফাটলটা চিরে ফাক করে দেখি
কী হচ্ছে সেখানে-
ইচ্ছে হচ্ছে কালো চশমা পড়ে মাইকেল ফেলপসের মত
সাঁতরাতে শুরু করি কোথাও-
ধরা যাক, এই বিছানাতেই, কিংবা এই স্বল্প মেঝেতেই,
ইচ্ছে হচ্ছে একটা ফুল গাছ লাগিয়ে
গোড়ায় মাটি দিয়ে বুজিয়ে দিই ফাটলটা-
কেননা ইতোমধ্যেই মাথা ভেদ করে ফাটলটা
আমার স্বপ্ন অব্দি উঠে গেছে
আর আমি শুয়ে আছি নিরুপায় নির্ঘুম
হেমন্তের ছানিপড়া দুপুরবেলায়
*
সারাক্ষণই মনে হয় এক দানব আমার কানে ফিসফিস করে বলছে, ‘তুই যা, তোকে তা থাকতে দেবো না'; মনে হয় সে আমার রক্তে মিশে গেছে, আমার চৈতন্যে সাঁতার কাটছে ইচ্ছামতো। যখন খুশি ডুব দিচ্ছে, যেনো আমি ভাবি সে নেই। যখন খুশি ভেসেও উঠছে। এই দানবকে খুন করার সামর্থ্য আমার নেই, তাই আমি আদর দিয়ে হলেও তাকে নিস্ক্রিয় করে রাখতে চাই। স্বপ্ন দেখি, ‘তুই আমি দুজনেই ঘুমপাড়ানি গান'- কে যেনো এই গান গেয়ে কোলের দুষ্টু শিশুকে ঘুম পাড়তে চাইছে। শিশুটা কে? আমিই বা কে? আর দানব কোনটা? দানবের দানবিকতার প্রতিকার সম্ভব। কিন্তু দানবের দুষ্টুমি? ভাবাই যায় না।
*
কোনো কোনো শিশু আছে,
যাদের হেঁটে যাওয়া দেখলেও মনে হয়
তারা কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।
আর কোনো কোনো কাঁথা আছে,
দায়িত্বের চেয়ে ভারি-
গায়ে জড়ালেই মনে হয় তীব্র শীতে
হেঁটে যাচ্ছি শহরতলীর পাশ দিয়ে:
নিঃসঙ্গ পিতার মতন।
*
এতই কুয়াশা যদি ভালোবাসো
তাহলে তো
কুয়াশার ভনভন শুনতে শুনতে শুনতে
চলে যেতে পারো
পার্ট ছেড়ে
আশরীর বিরানতাময় হয়ে কুলুকুলুকুলু দরিয়ায়!
*
তার ভয় হয়:
যেদিন তার মৃত্যুভয়ও থাকবে না,
সেদিনই হয়তো সে মারা যাবে:
যেনো মৃত্যুও ঘুষখোর আমলা,
যেনো মৃত্যুকে তোয়াজ করে চললেই
মৃত্যু আর আসবে না...
*
যতই ম্যাজম্যাজ করো না কেন,
আজ বিকেলে আমি ঘুমাবো না, শরীর।
*
একে তো সে নাগরিক, তাতে ফের
শর্ত চেপে আছে সন্ন্যাসের;
ফলে তার ব্যস্ত সমস্ত চলে যাওয়া,
নিরন্তর দোষারোপ,
কুহকের মতো বৃষ্টিপাত;
আজ কোনো প্রগলভতা ভালো লাগবে না,
আজ ভালো লাগবে পিছুটান।
*
সকালবেলায় ঘুম ভাঙলে ইদানীং অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়। বিশেষ করে, হাঁটতে বের হলে। বোঝা যায় না, এই অনুভূতির গোড়া কোথায়? সকালে? না তার নিজেরই ভিতরে? কে কার ভেতরে ঘাঁটি গেড়েছে? সকাল তার ভিতরে নাকি সে সকালের ভিতরে? এই যে এক ধরনের মায়া, ‘জীবনই শ্রেয়তর’- এই ধরনের এক নির্মম নিঃসঙ্গ উপলব্ধি, এর সঙ্গে তার সন্ধ্যাবেলার বিষণ্নতার আদৌ কোনো মিল নেই। তার জীবন আসলে ভাগ হয়ে গেছে- সে নিজেও ভাগ হয়ে গেছে- সকালে আর সন্ধ্যায়। লড়াই চলছে: সকাল বনাম সন্ধ্যা।
*
তার ভুলগুলোই তাকে মনে করিয়ে দেয় যে,
সে বেঁচে আছে।
তার পাপগুলো তাকে জানিয়ে দেয়,
মূলতঃ সে নিষ্কলুষ প্রাণ।
*
যুক্তির চেয়ে স্মৃতিকে আমার বেশি ভয়,
কারণ যুক্তির প্রতিকার আছে,
বিকল্প আছে-
স্মৃতির নেই; স্মৃতি অবিচল।
*
তার শিরায় রক্তের চেয়ে কুয়াশা বেশি;
চোখ লাল,
মনে হয় কেউ আঙুল দিয়েছে,
আর সে মজা পেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটা চোখ,
যেন আরো কিছু রক্ত এসে চোখে জমে-
যেন আরো বেশি কুয়াশায় সয়লাব হয়ে যায় তার অন্তপুর।
*
সব কবিতা শেষ করা লাগবে কেন?
সব কবিতা প্রকাশ করা লাগবে কেন?
অমরত্বও আসলে দুইদিনেরই-
সময়বাবুর সঙ্গে ঘোড়দৌড়ে অমরত্বও পিছিয়ে পড়ে,
কেননা মোল্লার দৌঁড় মসজিদ পর্যন্ত,
এবং আমি গত সাত বছর ধরে মসজিদে যাই না!
*
টিএসসি হল ডাক্তারবাড়ি
ওষুধে কাজ হয় না
কিন্তু ডাক্তারবাড়ি যেতে ভালোই লাগে।
*
এই মুহূর্তে যদি ভারত যুদ্ধ লাগায়
তো বাংলাদেশ হেরে যাবে;
এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশ যুদ্ধে না যায়,
তো ভারত হেরে যাবে;
এই মুহূর্তে যদি কেউই যুদ্ধের কথা না ভাবে,
তো দুনিয়াটাই শেষ হয়ে যাবে।
*
এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় পাকাপাকিভাবে যাওয়ার মাঝখানের রাস্তায়, মানে মাঝখানের ভাষায়, লেখা কবিতাগুলো হয়তো খুব একটা ভালো হয় না। কবিতাগুলো অপ্রকাশ্য ও বিস্মরণীয়। তবু মূল্যবান। অন্তত কবির কাছে। এরা হচ্ছে সেই নারীদের মতো, যারা আমাদের গন্তব্য নয়, যাদের যোনির আস্বাদ আমরা কখনো পাবোনা- যারা আমাদেরকে টানে না- কিন্তু ‘নারী’ যে কী, তারাই সেটা জানিয়ে যায় মোক্ষমভাবে। কারণে অকারণে, পথিমধ্যে, পীড়াদায়কভাবে।
*
এইভাবে
মরতে মরতে মরতে
একদিন ঢিলেঢালাভাবে
বাঁচার শক্তি পাবো
বাঁচার শান্তি পাবো
বাঁচার মানুষ পাবো
এখন
মৃত্যু মৃত্যু মৃত্যু
আর আমিষাশী
হতাশার
ছোবলে ছোবলে
ছিন্ন হওয়ার ঋতু
এখন
ভিতরের পুরুষের হাতে
বাইরের নারীর
বাইরের পুরুষের হাতে
ভিতরের নারীর
খুন হওয়ার ঋতু-
তীব্র দাবানলে শীতঘুমের ঋতু
*
সারা দুনিয়া ডুবে গেছে;
আমি,
আমি শুধু ভাসমান।
*
আমার এমন লাগে কেন
আমি তো বেশি কিছু ডিজার্ভ করিনা
বেশি কিছু ডিজার্ভ করতেও চাই না
তবু আমার এমন লাগে কেন
ভার্টিগো ভার্টিগো ফিল হয় কেন?
*
‘আজ এখানে
কাল ওখানে
মানুষই মূলতঃ পাখি,
পাখিরে কি পাখি কওয়া যায়?’
এই প্রশ্ন মা করেন
যখন তোমার পাশে
কোনো পাখি উড়ে এসে বসে,
তখন আমারও লাগে
এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি পাখি
সারাদিন ঝিঝিপোকা ধরে খায় তোমার ভিতরে
আর তুমি আমার মায়ের মত
আজ এখানে কাল ওখানে ছুটে যেতে যেতে ভাবো:
সমূহ পাথর যেন গলে গেছে এক ঝাঁক পাখির ডানায়।
*
হে আনন্দ,
আমাকে গ্রহণ করো,
ভোগ করো
কানামাছি প্রেমিকার মতো।
*
স্বমেহন মূলত স্বহনন;
ভাষার বাইরে কোন জীবন আছে কি?
আমি সময়ের চেয়ে ধীর, চতুষ্পদ,
মহিমা-রহিত লগ্ন- চোখের পলকে
মরে যাবো, তবে তার আগে
চোখ বুজে কিছুক্ষণ নারীর পেখম মেলে ধরি।
*
অর্ধেক তার হাটখোলা চেনে
অর্ধেক চেনে বাড়ি;
আগাপাশতলা মফস্বলেই মোড়া;
ঘিলু ছারখার
উসকোখুসকো চুল;
অর্ধেক তার ভুল করে ঠিক,
বাকি অর্ধেক ভুল;
বাকি অর্ধেকে মিছে হুড়োতাড়া,
নাছোড়, মূলত থানা-পলাতক
ডুব-মারা রাজহাঁস;
ডুবতে ডুবতে বাঁচে;
অর্ধেক তার উকিল, বেচারা,
বাকি অর্ধেকে জীবনানন্দ দাশ!
*
State is a masculine superpower.
State is masculinity systemised and weaponised.
State must be castrated.
*
আপনার এই একাকীত্বের চেয়ে
ঢাকা মেডিকেলের সামনে
মানুষ আর কুকুর মিলে
একসাথে এক কম্বলে ঘুমিয়ে থাকা ভালো
আপনার একাকীত্ব এমন একটা কম্বল
যেটা ঘুমের ঘোরে বারবার মুখে এসে পড়ে
আর দম আটকে যায়
কিংবা শেষ রাতে সরে যায় গা থেকে
চোরা শীতে
পড়ে থাকেন আপনি
কুকুরের গা থেকে কম্বলটা কখনোই সরে যায় না কিন্তু।
*
এত অধৈর্য হলে চলবে না;
অতীশ দীপঙ্কর বলছেন ধৈর্য ধরতে,
আর তুমি অতীশ দীপঙ্করই পড়ছো
তাড়াহুড়ো করে।
*
জিনিসটা সিম্পল।
সে তার বয়ফ্রেন্ডের জন্য গিফট কেনে
বসুন্ধরা থেকে
দেখা করতে যায় ক্যান্টনমেন্টে
আর আপনার জন্য
সামান্য রাইফেল রোটি আওরাত
কেনার টাকা তার কাছে থাকে না,
থাকবেও না কোনদিন
জিনিসটা সিম্পল।
খুবই সিম্পল।
*
ভীষণ ভীষণভাবে জেগে থাকা
এবং ভীষণভাবে ঘুমানো
দু’টো তার কাছে একই;
সে না চায় জাগতে,
না চায় ঘুমাতে,
সে চায় হয় ভীষণভাবে জাগতে,
নয়তো ভীষণভাবে ঘুমাতে,
সে চায় ভীষণ ভীষণভাবে ঘুমানোর পর
ভীষণ ভীষণভাবে জেগে উঠে চোখ কচলাতে।
*
না থাকার মত যারা থাকে
যারা না থেকেও থাকে
সবাই থাকুক; শুধু আমার না-থাকা
ঝরে যাক বিসংবাদী পাতার মতন।
*
হিম হিম শীত শীত,
শীত বুড়ি এলো রে;
কনকনে প্যানিকে
দম বুঝি গেল রে।
*
দিনকে দিন আয়নাটা বড়ো হচ্ছে
মেলে দিচ্ছে ডালপালা, প্রভূত শিকড়,
দেয়ালে, বেসিনে, আত্মায়-
দেখতে দেখতে চোখ লাল হয়ে যায়,
তবু সে থামেনা-
একটা বাকল কিংবা একটা শিকড়ে
সে আমার ছবি এঁকে চলে:
‘নররাক্ষস’
এটাই কি আমি?
যতো দেখি, বিশ্বাস হয় না;
আয়নাটা উপড়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়,
কিন্তু ততক্ষণে আমার সারা গায়ে গজিয়ে উঠেছে শ্বাসমূল।
আয়নার উপনিবেশ হয়ে, কেনা গোলাম হয়ে
শুয়ে থাকি আমি, ডালপালা মেলে দিই স্বপ্নে
তবে সুযোগ পেলেই
রাতের বহতা বাতাসে পায়রার মতো হয়ে যাই নিষ্পালক, নিশ্চিহ্ন!
*
[শীতকাল থেকে শীতকাল]
কিচ্ছু না।
এরকমই এক শীত শীত রাতে
খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘুম ঘুম মনে হবে সারা দেহ,
আমি গায়ে কাঁথা দিয়ে চুপচাপ
এক শীত শীত সকালে জেগে উঠবার স্বপ্ন দেখতে দেখতে
মারা যাবো-
রাত শেষ হয়ে যাবে-
ঘুম ঘুম শীত টুপটাপ করে ঝরে পড়বে দুনিয়ায়-
কিন্তু আমার ওই জেগে উঠবার স্বপ্নটা কখনোই শেষ হবে না।
*
তার সঙ্গে
কথা বলার পর
ভয়কেও বন্ধু মনে হয়,
ব্যর্থতাকে প্রেম।
*
অন্য কোন সত্তা নেই,
যে আজান দেয়,
সে-ই করে ইমামতি,
আর সে-ই নামাজে দণ্ডায়মান মুসল্লী, হাজারো,
যেদিক থেকেই তার ডাক আসে, যায়,
ছুটে যায় তৎপর খলিফার মতো।
*
সবচেয়ে বীভৎস যে স্বপ্ন,
সেটাও তো কেউ না কেউ দেখে;
সবচেয়ে বিকলাঙ্গ যে সন্তান,
তাকেও তো কেউ না কেউ ধারণ করে দশ-দশটা মাস;
আমাকে যে কেউই ভালোবাসবে না,
এই সত্যটা এখনো সহজে মেনে নিতে পারছি না।
*
আবারও রাত্রি। আমার ভিতরে লাফিয়ে উঠছেন ঈশ্বর।
আমার মুখে বিভীষিকা,
মনে হচ্ছে মৃত্যু সমাগত;
পৃথিবীর সব প্রাণী একে একে আত্মহত্যা করবে এখনই;
আজ রাতে ঈশ্বর হানা দেবেন প্রতিটা দেহে, প্রতিটা স্বপ্নে,
হাভাতে পোকার মতো-
আমি মরে যাবো আরো একবার;
পড়ে থাকবো হলুদ পাতার মতো, কুয়াশা আর ঘাসের গন্ধের মতো
ঈশ্বরের সম্ভোগের শেষে।
*
The thought of being a father makes me apocalyptic-
The thought of being a partner makes me loyal
To myself and to all eternity; so i feel a dream inside me,
A certainty, that, some day a sin will love me, and i will be
Her fate, her father. Nemesis. And this fate kindles in me a father,
And i face the unfathomable fatherness to defeat my inner solitude.
*
এইখানে দিনের পর দিন কাটায়ে দিবা তুমি,
এইখানেই ঘুরবা, ফিরবা,
মেয়ে দেখবা গমনরত
এইখানেই মরবা, এরকম সম্ভাবনাও আছে- স্টিল
তোমার মনে হয়, এইখানে মানুষ যেমনে কথা বলে,
তোমার উচিত না তেমনে কথা বলা,
তোমার উচিতই না এইখানকার তৈল আর কাচা খিস্তি মুখস্থ করা
এইখানকার উঠানহীন পায়চারি আর আলগা ধান্ধাবাজি
তোমার মজা লাগে না, মরতে ইচ্ছা হয় না
বাঁচতে ইচ্ছা হয় না এইখানে
এইখানকার লোকের মতো, অথচ তোমার ধৈর্য্য নাই অন্য কোথাও যাওয়ার
তোমার ঠ্যাং বাঁধা তোমারই ভিতরের কোনো খুঁটিতে,
তুমি প্রায় ছাগলের মতো দাঁড়ায়ে আছো কুরবানির হাটে, ডিসিশনহীন,
যেনো তোমারে ডাকলেই তুমি যাবা, থাকতে বললে থাকবা
যেনো তুমি এইখানের আবার ওইখানেরও
এইখানের না আবার ওইখানেরও না
যেনো তোমারই থাকা উচিত আলাদা ক্রিয়াপদ, আলাদা উঠান, আলাদা খিস্তি,
আলাদা ঘুম আর ধান্ধাহীন ধান্ধাবাজি-
এইখানকার কারো মতো তুমি না, ফলে স্রেফ গমনরত মেয়ে
আর হাওয়ায় ভাসমান আকাশ দেখতে দেখতে নিজস্ব ক্রিয়াপদের স্বপ্ন দেখা ছাড়া
তোমার বাদবাকি সবই বাতুলতা
*
আমি যে কী হিপনোসিস,
আমিই জানি না-
শুধু হিপনোসিসের মানে জানি।
*
পাতকুয়ায় পড়ে গেছে এক বুড়ো। চিৎকার করছে, কিন্তু আশেপাশে কেউ নেই। একটা ছোটো ছেলে কোত্থেকে যেনো উদয় হলো। বেচারার গায়ে বল কম। দেখলে কোনক্রমেই মনে হবে না যে এই ছেলে বুড়োকে পাতকুয়া থেকে টেনে তুলতে পারবে। কিন্তু সে পারলো। কারণ সেখানে ‘না’ বলার কেউ ছিল না। ঠিক/ভুল সম্ভব/অসম্ভব বিচার করার কেউ ছিলনা। পাতকুয়া, ছেলে, আর বুড়ো- এগুলো তো একেকটা ধারণা ছাড়া কিছু না।
*
কাঁপি টলোমলো দুঃস্বপ্নে
ইচ্ছা বাড়ে বেঁচে থাকবার
কেউ হয়তো হেঁটে যাচ্ছে আমাকে অগ্রাহ্য করে,
প্রাজ্ঞ পশুর মত ঢুকে পড়ছে কসাইখানায়;
আমার হাত পা রাগে অঙ্গারের মতো জ্বলে
নিজেকে গিলে খাওয়ার আগুনে,
ঠিক সেইসময়
আয়না থেকে বেরিয়ে আসে আমার প্রতিবিম্ব
আমি পড়ে যাওয়ার আগেই,
সে আমাকে ধরে ফেলে,
অর্থাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়
ততক্ষণে আমি ঢুকে গেছি অন্য কোন দেহে
জড়িয়ে ধরেছি অন্য কোন আত্মা,
আর আমার দুঃস্বপ্নের পশুরা হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে
কসাইখানার দিকে এগোচ্ছে-
আমার হাতে ছুরি।
*এইরকম ক্যাপিটাল না থাকাই ভালো
কোথাও না কোথাও ডেইলি আঙুলে ছ্যাচা খাচ্ছি,
একটা মেয়েকেও ভালো লাগছে না,
পছন্দের কোনো পর্নো ভিডিও খুঁজে পাচ্ছি না,
আর একটু নতুন, একটু ফ্রেশ যেকোনো কিছুই
ঘন কাঁটাতারে ঘেরা, মানে কাঁটাতার না পেরিয়ে
দেখবার কিছু নেই, স্রেফ বিজ্ঞাপন আর
দুর্গম উঁচু বুক ছাড়া, ফলে এইরকম ক্যাপিটালে
ঘুমাতে গেলেও ঘুম ভেজালে হারিয়ে যায়
এইরকম ক্যাপিটালে না থাকাই ভালো
*
শীতের রাতের ধোঁয়াশার চেয়ে
একাকীত্বকর আর কিছু নেই,
দু’ঘন্টার বাস জার্নি শেষে
বেনজির ধোঁয়াশার মধ্যে একা একা বসে থাকা:
অসহ্য!
*
Truth betrayed you like a characterless husband,
whose extramarital affairs were exposed
only after his wife had already borne him three children.
*
আত্মহত্যা; দুচোখ বন্ধ হয়ে আসছে;
ঝরা ফুলের মতো হয়ে শিথিল যাচ্ছে আমার অস্তিত্ব;
স্বাদ পাচ্ছি; একটা তেতো স্বাদ, নোংরা স্বাদ, কড়া স্বাদ,
আমার নিজেরই পঁচে যাওয়া চর্বির স্বাদ;
গলা শুকনো, আওয়াজ হচ্ছে না,
চোখের সামনেই আমার নাবালক অস্তিত্বকে কবরে নামানো হচ্ছে,
অথচ প্রতিবাদ করছি না, কেননা সেটা আমার ধাতে নেই;
অন্তহীন: ঈশ্বর আমার দিকে তাকিয়ে আছেন;
বলছেন, অন্তহীন এই প্রাণ, অন্তহীন তোমার আত্মবোধ,
যে তুমি আমার জ্যামিতির সন্তান,
যে তুমি আমার অস্তিত্বের তাড়না,
যে তুমি আমার নীরবতা আর শব্দ, ক্ষতি আর বৃদ্ধি,
আমি তোমারই জন্য জেগে আছি, আমার সকল দেশে তুমি নাগরিক,
আমার সকল নরকে তুমি শাস্তিপ্রাপ্ত; পতিত; আমার সমস্ত অস্তিত্বে তুমি বিদ্ধ!
কিন্তু ভয়। আমি উড়ে যেতে পারবো না পাখিদের মতো;
ফুল-বসানো চাদর গায়ে মা বসে আছে, দেখতে পাচ্ছি,
সন্তানসম্ভবা বোন নতুন উৎসবের খুশিতে অপেক্ষমান,
আর প্রৌঢ় বাবা এখনো স্বপ্ন দেখছে সমৃদ্ধির:
ভয় হয় আমি তাদের মতো নই, ভয় ছিলো যে তাদের মতো বাঁচতে পারবো না,
আমার সমুদ্রগামী ভাইয়ের রূপসী জীবনের সাক্ষাৎ আমি কখনো পাবো না,
ভয় ছিলো পঁচে মরবো, আর পচেই মরছি, বয়োবৃদ্ধ মালোর মতো।
নির্মম। আমার চোখ উল্টে যাচ্ছে, আমি হালকা হয়ে যাচ্ছি,
ক্রমশ আমার চেহারা হয়ে উঠছে বধ্যভূমির মতো;
জাদুঘরের মমির মত। শয়তানকে দেখতে পাই,
সে আসে, বসে আমার পেটের ওপর, তাকিয়ে থাকে আমার মুখের দিকে,
বলে, ‘আমি তোমার অভিলাষ, তোমার স্মৃতি, তোমার প্রেম, তোমার প্রবাস-বাসনা,
আমি তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলাম হাজার বছর বিভিন্ন অজুহাতে,
তোমাকে পচে যেতে দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বুঝতে পারোনি,
কেননা মজ্জা থেকে শুরু হয়েছিল তোমার পচন,
আমি তোমার সেই পচে যাওয়া মজ্জা, তোমার নারী, তোমার রুটি,
আজ নির্মম হাতে তোমাকে কবরে নামাবো,
তোমাকে পুঁতে রাখবো গাছের মতো, তুমি আবারও জন্মাবে, আবারও ভুগবে!
চুপচাপ। আমি সব দেখে-শুনে-বুঝে বেসামাল;
ঈশ্বর, শয়তান আর অতীতের যাবতীয় অর্গল থেকে আমি মুক্ত;
আমি চুপচাপ; মরতে চাই, মরছি; কুকুর যেমন ধীরে ধীরে মরে যায়;
নিশ্চিত শূন্যতা থেকে অনিশ্চিত শূন্যতায় ঝাঁপিয়ে পড়ছি ক্রমশ,
ভিতরে আবার ডালপালা গজায় ঈশ্বর, ধর্ম, শয়তান- তাদের সাথেই
যেনো বেঁচে ফিরতে চাই আরেকবার; যদিও মনে মনে বলছি,
হে আত্মবিশ্ব, মরে যাও; অনেক ধকল সহ্য করেছো;
হে অতৃপ্ত প্রেম, ঘুমিয়ে যাও; তোমার জেগে থাকা তোমাকেই ব্যথা দেবে;
হে ধর্মলিপ্সা, আমার শূন্যতার কারণ ও ফল, আমাকে পরিত্যাগ করো,
যেমন সাপ ঝেড়ে ফেলে খোলস, মা-বিড়াল বাচ্চাকে
হে শীতকাল, হে মেঘ, হে সারাদিনের হিম, আমার মৃত্যুর সহযোগী হও,
হে নিঃশেষিত জীবন, ক্ষীণ হও, ক্ষীণতর হও, অতীত হও,
হে মৃত্যু, হে খরখোশ, হে ঘুলঘুলি, ছুটে এসো দ্রুত পায়ে
আমার অস্তিত্ব লক্ষ্য করে; আমি ঝুলে আছি; প্রায় অনন্তকাল; আত্মহত্যার আত্মহত্যায়।
*
কতোই বা রাত হবে? দশটা? বারোটা?
মরতে যে চায়, তার জন্য যেকোনো রাতের
যেকোনো ঘণ্টাই শ্রেয়-
তালা মেরে বের হয়ে আসি;
আমার গায়ে কসাইখানার গন্ধ,
কেননা এই ঘরেই প্রতিরাতে আমি নিজেকে জবাই করে আসছি,
পিস পিস করে বিলিয়ে দিয়ে আসছি বহুদিন ধরে;
ফলতঃ ঘরে তেমন কিছুই নেই;
গুড়ো গুড়ো হাঁড়
আর কালো রক্তের ছোপ ছাড়া,
এই ঘরে কিছুই না আমি-
তার চেয়ে এই রাত, এই ছাঁদ, এই আত্মহত্যার খোয়াব দেখতে
ভালো লাগে আমার-
মরি আর না মরি, মরার কথা ভাবাও খানিকটা মরাই-
এই খোয়াব দেখতে দেখতে টানা ৮৮০ বছর কেটে গেলেও
আমি কিচ্ছু টের পাবো না-
কেননা ৮৮০ বছর ধরেই আমার মনে হবে:
‘কতোই বা রাত হলো? দশটা? বারোটা?’
*
অতি সত্বর একটা নতুন ডায়েরীতে লেখা শুরু করবো;
অতি সত্বর ফুরিয়ে যাবে বর্তমান কলমের কালি,
হাতে নেবো নতুন একটা জেলপেন;
অতি সত্বর নতুন মেয়ের কথা ভাববো, ভুলেও যাবো দ্রুত;
অতি সত্বর বর্ষাকাল আসবে, বৃষ্টির আগের বাতাসে উড়ে যাবে ছাঁদের শুকনো কাপড়,
বিরিয়ানির ডেকচি, আর আমার ছোট্ট বিড়ালছানাটা;
অতি সত্বর মরে যাবো বজ্রপাতে- লিখতে গেলেও ভয় করে;
অতঃপর শুরু করবো নতুন জীবন, গুছিয়েগাছিয়ে, অর্কেস্ট্রায় বাখের সোনাটা;
আর আঙুল তুলে কথা বলবো বৃষ্টিকালের সঙ্গে, পুলিশের সঙ্গে,
ঝুটা, নিহিলিস্ট সব দার্শনিকের সঙ্গে;
অতি সত্বর আমি ঢুকে পড়বো চোর আর সম্পাদকহীন দুনিয়ায়।
*
ধরাচরা না থাকে তো,
বাপেরও অধিক যেই বাপ আছে,
তার কাছে
ধরা খেতে হবে।
তবে সঠিক দেয়ালে যদি
মাথা ঠুকে মরো,
কিংবা বাঁচো,
নিশ্চয় তোমার চির-পরিত্রাণ হবে।
*
তুই তোর তাবৎ নিঃশ্বাস ইস্টিশনে ফেলে রাখ,
ও কেউ ছোঁবে না!
ওতে আবিস্কার নেই, নতুনত্ব নেই;
মানুষ ইস্টিশনে যা যা পেতে চায়,
কিছু ওতে নেই-
ও শুধুই উচ্ছিষ্ট, যান্ত্রিক গণনা:
পুতুল নিতেও পারে, কুকুর নেবে না;
তুই তোর তাবৎ অস্তিত্ব ইস্টিশনে ফেলে রাখ,
ও কেউ ছোঁবে না, চেখে দেখা দূরে থাক।
*
সুযোগ পেলে পাথরও উপচে পড়ে।
তুচ্ছ পাথর,
বালিগাদা থেকে কুড়িয়ে আনার পর থেকে
তিলে তিলে বড়ো হতে হতে মালিকের ঘাড় থেকে
ঢুকে পড়ে মালিকের আত্মায়,
কথা বলে মালিকের ঠোঁটে পাথরের অদ্ভুত ভাষায়।
সুযোগ পেলে পাথরও ভাষণ দিতে পারে।
*
এবং এই শেষ রাত্তিরেও কারো কারো মনে হবে
বাহুবল সকল রোগের সমাধান
একের পর এক পার্টিশন সূক্ষ্ম চূড়ান্ত ভায়োলেন্স,
ছুরির আগায় তাজা রক্ত
দেখে আনন্দে লিঙ্গ উত্থিত হবে কারো কারো-
তাদের কৌতুকে আমি চমকিত, তবু বরাবরের মতোই
ময়লা বিছানায় শুয়ে একটা কথাই শুধু ভাবি:
এতো অ্যাবস্ট্রাক্ট কেনো এতো মাথামুণ্ডুহীন কেনো ইতিহাস?
*
জন ও নির্জন দুই-ই প্রতারক। শান্তির অর্থ হচ্ছে হয় এই বিশাল পৃথিবীকে এর যাবতীয় তথ্য ও সত্য-সমেত গিলে ফেলা, নয়তো এই পৃথিবী থেকে নিঃশব্দে হারিয়ে যাওয়া। কোনোটাই সম্ভব নয়। এতোটা অহংকারী আমরা কখনো হতে পারবো না, যার দ্বারা পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষকে খুন করে ফেলা যায়। আবার এতোটা নিরহংকার হওয়াও সম্ভব নয়, যতোটা নিরহংকার হলে পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই আমাকে (আমাদেরকে) একবার বা কয়েকবার খুন করে ফেলতে পারে।
*
নিঃসঙ্গের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা
দেখতে ভালো না লাগলেও
ফ্যাসিস্টদের নিঃসঙ্গ হয়ে যাওয়া
ও তাদের প্রেমিকাদের মুখ চুন হয়ে যাওয়া
দেখতে আমার ভালোই লাগে!
*
আজ রাতে নববর্ষের খাদ্য হয়ে
যত পাখি মারা যাবে
তারা সবাই আমাদের ভাই আমাদের বোন
তারাই আমরা
তারা সবাই শহীদ।
*
রাত পার না হতেই এমনই ধূসর এক শব্দ এসে
সপাটে জড়িয়ে ধরে,
যে, আত্মার ফুসফুসে চাপ লাগে,
ভূয়সী চোখের রং আমূল গুলিয়ে যায়-
বোধের ভিতর থেকে এমনই উৎক্ষিপ্ত হয়ে মেঘে রৌদ্রে
জায়মান মহা-মহা-শহরের ভোর-গালিচায়
স্থান পাই, যে, কেবল এক সকালেই আমি অঘারাম থেকে
ক্রমশই তরতাজা নবী হয়ে উঠি!
*
সুন্দরী নারীদের ক্রিকেট শটের মতো লাগে।
কেউ হয়তো সুইপ। কেউ মোক্ষম কাভার ড্রাইভ।
টিএসসিতে আসে কেউ কেউ: হুক শট, লফটেড।
তবে সকলেই বড়ো বেশি লঘু। শূন্য। রঙিন মোড়ক।
নিজের নিস্পৃহা দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাই।
*
যে পাথুরে, পাথরেই তার ভেসে থাকা
কচুরিপানার মতো; মাটির মানুষে
তার রুচি নেই; তার কপালই পাথর থেকে
আরোই পাথর হয়ে ওঠা,
আরো ভেসে থাকা ফাঁদ হয়ে, যেনো তাকে স্পর্শমাত্রই
লঘু, কোমলতাকামী মাটির মানুষ ফেঁসে যায়!
*
সে ততোটুকুই অদ্ভুত,
যতোটুকু অদ্ভুত তার স্মৃতি,
ততোটুকুই ভারি,
যতোটুকু ভারি তার স্মৃতি
যেমন বেলুনের প্রাণ হাওয়া-
যেমন বেলুনের ডানা হাওয়া-
স্মৃতি তেমনি তার প্রাণ,
স্মৃতি তেমনি তার ডানা,
স্মৃতি ব্যতিরেকে অঘারাম!
*
[প্রজন্ম]
ঝড়ে আমাদের ঘর ধসে পড়েছে। আমি এখন মৃত অকালমৃত বললেও চলে। ঝড় যখন হচ্ছিল, নড়বড় দেয়ালটার পাশে খাটে শুয়ে ছিল বাবা আর মা। আমার খালি ভয় হচ্ছিল দেয়ালটা তাদের উপর ধ্বসে পড়ে কিনা ভেবে। এর মধ্যেই হঠাৎ আমার পাশের দেয়ালটা কেঁপে উঠল, এবং আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোটা দেয়ালটা ধ্বসে পড়লো আমার শরীর বরাবর। আমার এই ‘আমি’-টি দেয়াল চাপা পড়লো, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি অন্তর্হিত হলাম। ঠিক এই মুহূর্তে আমি শুয়ে আছি খাটিয়ায়, আমার বাবা, ভাই আর ভগ্নীপতির ঘাড়ে। একটু পরেই আমার মাটিচাপা হবে। তবে সমবেত সুধীজনের হট্টগোল ও শোকালাপ থেকে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হলাম। আমিই একমাত্র ব্যক্তি নই, যার ঘরের মজবুত দেয়াল কাল রাতের ঝড়ে ধ্বসে পড়েছে। ঝড়টা এসেছিলোই মূলত অত্র এলাকার ও অত্র যুগের মজবুত দেয়ালগুলো লক্ষ্য করে। একটা নড়বড়ে দেয়াল, কিংবা প্রাণও কাল রাতের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমার এই অকালমৃত্যুর বিপরীতে সেটা একটা সান্ত্বনা বৈকি!
*
ঈশ্বর কি জানেন যে,
তিনি নেই?
পুরুষ কি জানে,
তার ভিতরেও আছে
শত শত নারী-
ছদ্মবেশ ধরে?
*
যেকোনো সকাল শুধু যেকোনো সকাল হয়ে
থেকে যায় ভিতরে বাহিরে-
যে কোন রং যেকোনো রঙের মত
শাদা শাদার মত, হালকা নীল হালকা নীলের মত,
রক্ত রক্তের মত; বন্ধুরা বন্ধুর মতো ফিকে হয়ে যায়
পানসে হয়ে যায়,
আমি সমস্ত রং সমস্ত বন্ধু আর সমস্ত সকালের ঠোটে চুমু খেয়ে
ঘুমিয়ে থাকি ৩৬৩ বছর;
ঘুম ভাঙতেই দেখি পুরনো বন্ধুর মতো
যেকোনো একটা সকাল আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে।
*
স্বপ্ন দেখলাম। ঘোড়ার গাড়ি। সালামের ঘোড়া। মানুষজন উঠছে।
কিছুদূর যাবার পর গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলো।
আমি ঠিক করে দিলাম। তবে গাড়িতে উঠতে মানা করে দিলাম সব্বাইকে।
পরে আরেকটা গাড়ি। বাসের মতন। আমি আবারও বললাম গাড়িতে না উঠতে।
কিন্তু কে শোনে কার কথা?
সবাই গাড়িতে উঠলো। গান গাইলো। স্বপ্ন দেখলো।
গাড়িটা সবাইকে নিয়ে গেলো কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের মতো একটা জায়গায়।
শুরু হলো বেদম টর্চার। নৃশংসতা। আমি শুধু দর্শক। দীর্ঘদর্শী। নিরাকার।
*
আরেকটা স্বপ্নে দেখলাম
একটা মিছিল আসছে।
মধ্যরাতে।
সবাই চিৎকার করে বলছে:
‘যারা হারিয়ে গেছে,
তারা তোমাদের রক্তে কি ফিরে আসে?’
এই স্লোগান দিতে দিতেই তারা ভাঙচুর শুরু করলো।
*
তার চারিদিকে নানান স্বাদের
মজার মজার অনিশ্চয়তা-
কখনো করুণ, কখনো ভূতের চেয়েও
ভূতুড়ে, তার চারিদিকে
যা কিছু উছলে ওঠে-
সবই যেনো তার গহনেই ছিলো
দারুণ ঝাপসা হয়ে-
সবকিছু যেনো কেবলই অন্তঃপুর!
*
ঘুমের চেয়ে ভালো কিছু নেই। সবচেয়ে ভালো হলো, হস্তমৈথুন করে ঘুমানোর পর দীর্ঘ স্বপ্নময় ঘুম থেকে জেগে উঠে আবারো হস্তমৈথুন করে আবারও খানিকটা ঘুমিয়ে নেওয়া। অবশ্য সতর্ক থাকবেন, আপনার কার্যকলাপ দেখার ও তার বিচার করার জন্য সারা দুনিয়া শ্যেনদৃষ্টি নিয়ে বসে আছে। সৌভাগ্যের কথা হলো, আপনার কল্পিত পৃথিবীর সঙ্গে আর্কিমিডিসের পৃথিবীর কোন সাদৃশ্য নেই। নইলে পৃথিবীর বাইরের কোথাও মাদুর পেতে আধো চোখ বোজা অবস্থায় আপনি যদি হস্তমৈথুন করতেন, তো পৃথিবী সেটা উঁকি মেরে দেখতো। তবে আপাতত আপনি স্রেফ মা'কে ভয় করলেই যথেষ্ট। কী ভালোই না হতো, যদি মৃতরাও সুযোগ পেতো অনন্তকাল ধরে কবরে নিঃসঙ্গ শুয়ে ইচ্ছেমতো হস্তমৈথুন করে যাওয়ার!
*
অঘারামের চেনা দুনিয়ায়
সে-ই সবচেয়ে বোকা,
সবচেয়ে অহিংস,
যদিও মাঝেমধ্যে চেষ্টাচরিত্র করে
ম্যাকিভ্যালিয়ান হওয়ার,
এবং সেন্স অফ হিউমরও তার ভালোই;
এখন প্রশ্ন হলো:
সব তো মোটামুটি ঠিকই রয়েছে,
তাহলে অঘারাম কেন নররাক্ষস হবে?
[একজন অজানা অচেনা অঘারাম হিসেবে গত ছ-সাত বছর ধরে যে অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বটা আমি যাপন করে আসছি, তারই প্রমাণ এই সংকলনের কবিতা ও না-কবিতাগুলি। পুরনো হাতে-লেখা নোটবুক ঘেঁটে টুকরোটাকরা লেখাগুলি বার করে আনা হলো। ফলে ২০২০ সালের মতো ‘প্রাগৈতিহাসিক’ যুগের কিছু বিচ্ছিন্ন লেখাও এখানে ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব হলো, আর কোনো সংকলনে যাদের জায়গা হতো না। অতিসাম্প্রতিক দু’একটা লেখাও রইলো, কিন্তু যেহেতু এই সংকলনে কোনো টাইমলাইন রক্ষা করা হয়নি, সেহেতু একই নাম ও একই গন্ধ লেগে আছে সব লেখার গায়ে। পাঠক ধরে নিতে পারেন, পুরো সংকলনটাই এক রাতে লেখা!]
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।