এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক

  • যাবার পথ খাবার পথ

    প্রবুদ্ধ বাগচী লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ৩১ বার পঠিত
  • যাবার পথ খাবার পথ/ (পঞ্চম পর্ব)

    আমাদের কিশোরবেলায় বিলিতি ছবি বা বিদেশি বইপত্র পড়ার তেমন সুযোগ ঘটেনি। টিভিতে বিদেশি চ্যানেলে ইউরোপ আমেরিকার খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন চেখে দেখার অবকাশ ছিল না। তবে বাংলায় লেখা কিছু ভ্রমণ কাহিনি পড়ে মনে হয়েছিল স্যান্ডউইচ ব্যাপারটা আসলে সাগরপারের বাসিন্দাদের নিয়মিত খ্যদ্যের তালিকায় পড়ে। কারণ, আমাদের মতো ভাত জিনিশটা তাঁরা তেমন পছন্দ করেন না বরং আলুটাকে তাঁরা কার্বোহাইড্রেটের মূল উৎস বলে বিবেচনা করেন —-- আমরা যেটাকে সব্জি গোত্রে ফেলে দিয়েছি। আলু জিনিষটা আমাদের দেশে এসেছে পর্তুগিজ বণিকদের হাত ধরে, একইভাবে বেকারি ও পাউরুটির আঁতুড় ঘর আসলে ইউরোপ মহাদেশ। তাই স্যান্ডুইচ জিনিসটা যে ঠিক কী আমাদের ছেলেবেলায় তার কোনো ধারনা ছিল না। বাড়িতে আমরা কখনো কখনো শখ করে পাউরুটি টোস্ট করে মাখন বা জেলি দিয়ে খেতাম। অথবা স্লাইস পাউরুটি ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ভাজলে তাকে বলা হত ফ্রেঞ্চ টোস্ট, যদিও ফরাসি দেশের মানুষরা এমনভাবে কিছু পদ বানিয়ে খান কি না সে বিষয়ে কিছু জানা ছিল না। পরে জেনেছি, এই নামের সত্যিই একটা ঐতিহাসিক যোগ আছে —--- ফরাসি দেশের নাগরিকরা এই পদটা খান, তাদের ভাষায় এই খাবারের নাম pain perdu, ফরাসি ভাষায় নিরক্ষর হলেও অনুমান করি এর বাংলা উচ্চারণ হবে পেঁ পের্দুঁ। কানাডায় এটাকে বলা হয় ‘পেইন ডোরে’ বা সোনালি রুটি। ইদানিং এই খাবারটার একটা ডাকনাম হয়েছে ডিমটোস্ট বা ডিম পাউরুটি, এগ ব্রেড কথাটাও চলে, কেউ কেউ বোম্বাই টোস্টও বলে থাকেন। আমাদের এক ফিচেল বন্ধু একদা-জনপ্রিয় হিন্দি ফিল্ম ‘সাজান’ এর ততোধিক বিখ্যাত গান ‘দেখা হ্যায় পহেলি বার/ সজন কে আঁখো মে পেয়ার’ এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে সুর করে ‘ডিম পাউরুটি, ডিম পাউরুটি’ গেয়ে আমাদের মাত করে দিয়েছিল। খাবার আর সুরের এই বিস্ময়কর যুগলবন্দী র কথা আজও বেশ মনে পড়ে। পথের খাবারে এই আইটেম এখন সুলভ।
    নব্বইয়ের দশকে আমাদের মতো মাঝারি আয়ের পরিবারে স্যান্ডউইচ প্রচল খাদ্য ছিল না —- কিন্তু খাবার পথের অনিঃশেষ পসরায় তখনও দেখেছি তাকে অভিজাত মহিমায়। সত্যি বলতে কি স্যান্ডউইচ জিনগত ভাবেই সাহেবি খাবার। ইউরোপে আমেরিকায় অফিস কাছারিতে কেজো লোকেরা দিনের পর দিন কফি আর স্যান্ডউইচ খেয়েই দিন কাটিয়ে দেন বলে শুনেছি। স্বাভাবিকভাবেই স্যান্ডউইচ জিনিসটার রূপ বদল হয় দুই পিস পাউরুটির গর্ভে কী অন্তর্বস্তু পুরে দেওয়া হয় তার ওপর। সব্জি, নানাবিধ মাংসের কিমা, লেটুস পাতা, কিছু রকমারি সস, অথবা সেদ্ধ মাছ —- প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা নাম। পাউরুটির গর্ভে এগুলি পুরে নিপুণ আঁচে সেঁকে নিলে রুটির ওপরের আস্তরণে মরচে রঙের প্রলেপ, তার পর সবটা মিলিয়ে একটা কিছু —- আর হ্যাঁ, পাউরুটির চারপাশে যে বাদামী রঙের সীমানা থাকে সেগুলোকে নিপুণ হাতে ছুরি দিয়ে বাদ না দিলে স্যান্ডুইচের কিন্তু জাতনষ্ট। কলকাতার অফিসপাড়ার খাবার পথে প্রায় প্রতিমা গড়ার মতো করে স্যান্ডউইচ বানাতেন দুই কারিগর। একজনের অধিষ্ঠান ছিল মিশন রো-র ফুটপাথে পোস্টাফিসের সামনে। পাতলা পাতলা করে কাটা পাউরুটির অন্দরমহলে তিনি ভরে দিতেন সব্জি অথবা চিকেনের কিমা, সঙ্গে পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতা, লেটুস, সামান্য একটু মাখন। তারপর স্যান্ডউইচ টোস্টারের ভিতরে ইলেকট্রিকে তা টোস্ট হত। সুনির্দিষ্ট সময়ে হাল্কা বাদামি আভা নিয়ে সেগুলি বেরিয়ে আসত। এবার খুব যত্নে একটি কাগজের প্লেটে দুরকম সস ও ধনেপাতার সঙ্গে কাঁচা লংকা মেশানো চাটনি সহ পরিবেশিত হত সেই স্যান্ডউইচ। পথের খাবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। কিন্তু তার অপূর্ব নির্মাণ সামনে দাঁড়িয়ে দেখা একটি চিত্রকরের ছবি আঁকা দেখার অভিজ্ঞতার থেকে কম নয়। কপালজোরে একবার প্রকাশ কর্মকারের ছবি আঁকা দেখবার সুযোগ হয়েছিল, সেই সূত্রেই এতটা জোরের সঙ্গে কথাটা বলে ওঠা গেল। আরেকজনের অবস্থান ছিল কাছেই, কার্যত দুজনের কাজের পদ্ধতি ছিল অভিন্ন। তবে এমন সুনিপুণভাবে যে পথের খাবার স্যান্ডউইচ আভিজাত্যের উষ্ণতাকে জিইয়ে রাখতে পারে সেটা এক আশ্চর্য আবিষ্কার।

    এই স্যান্ডুইচকেই আবার কিছুটা সাব-অল্টার্ন চেহারা দিতে দেখতাম লালবাজার পুলিশবাড়ির বিপরীতে বসা এক বিক্রেতাকে। তিনি কোয়ার্টার পাউন্ড পাউরুটিকে দুটুকরো করে কেটে তার মধ্যে পুরে দিতেন হাফ বয়েল অথবা ফুল বয়েল ডিম (খদ্দেরের পছন্দ অনুযায়ী)। এবার সেটিকে বসিয়ে দিতেন ইলেক্ট্রিকে চলা স্যান্ডুইচ টোস্টারে, উত্তমরূপে সেঁকা হয়ে সেটি বেরিয়ে আসত মুচমুচে আস্তরণ নিয়ে। এঁর থেকে অল্প দূরেই বসতেন আরেকজন, তিনি আবার পাউরুটিতে মাখন মাখিয়ে তা সেঁকে দিতেন স্যান্ডুইচ টোস্টারে, কখনো কখনো তার মধ্যে আলুসেদ্ধও থাকত। একই পথের সীমানায় কেবল স্যান্ডুইচেরই কত রকমফের! খাবার পথ যাবার পথের সঙ্গে যত মিশে যায় তত ছড়িয়ে যেতে থাকে তার বৈচিত্র্য।

    পথের খাবারে যে বিষয়টায় রীতিমতো নিষেধাজ্ঞা ছিল তা হল কাটা ফল ও রঙিন সরবত। পুরসভা থেকে বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে বা নানা প্রচার মাধ্যমে জনস্বার্থে জানিয়ে দেওয়া হত, কেউ রাস্তার রঙিন সরবত বা কাটা ফল যেন না খান। মূলত কাটা ফল অনেকক্ষণ খোলা জায়গায় রাখলে তাতে সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ে। গরম বা বর্ষাকালে পেটের রোগ বা আন্ত্রিক বলে যেটাকে চিহ্নিত করা হত তার অন্যতম উৎস রাস্তার খোলা খাবার থেকে তৈরি হওয়া এই সংক্রমণ। আর রাস্তায় বিক্রিত বরফ মেশানো রঙিন সরবত বিষয়ে মূল অভিযোগ ছিল, বরফ যেটা মেশানো হচ্ছে তার গুণগত মান নিয়ে। বাণিজ্যিক প্রয়োজনে তৈরি বরফ খাবারে মেশানো বৈধ নয়, আর সেই সঙ্গে রঙিন সরবতে ব্যবহৃত রংগুলি স্বাস্থ্যবান্ধব কি না তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। এই ধরনের দোকানিদের বিষয়ে পুরসভার পক্ষে কিছু ধরপাকড়ও চলেছিল একটা সময়। যদিও সব স্তরের মানুষের সচেতনতা ছাড়া এই বিধিনিষেধ লাগু করা খুব সহজ নয়। কিন্তু রঙিন সরবত ছাড়াও শুধুমাত্র পানীয় জল নিয়ে আরেকটা চালাকি ছিল পথের দোকানিদের, সেটা খুব বেশি আলোচিত হয় না —--- কারণ যাঁরা এঁদের কাছে ঠকে যান তাঁরা আর তেমন সোচ্চার হতে পারেন না। খোদ কলকাতা পুরসভার কাছেই মেট্রো সিনেমার বিপরীতে এখন যেখানে মেট্রো চ্যানেল সেখানেই দু তিনজন একটা জলের চৌকো গাড়ি নিয়ে বসতেন, গাড়িতে চাকা লাগানো থাকত, অনেকটা আইসক্রিমের গাড়ির মতো। গাড়ির ওপরের অংশে লেখা থাকত ‘লেবু মেশানো ঠান্ডা জল মাত্র পাঁচ পয়সা’ আর তার চারধারে কাঠের খোপে খোপে সাজানো থাকত কাঁচের গেলাস। নিচের বাক্স থেকে জল তুলে আনার জন্য ছোট একটা হাত পাম্প, আর এছাড়া লেবু, বিটনুনের শিশি ইত্যাদি। আশির দশকের মাঝামাঝি পাঁচ পয়সার দাম যে খুব কম ছিল তা নয়, ধাতুর তৈরি পাঁচ পয়সা বাজারে চালুও ছিল। তবু, পাঁচ পয়সায় শীতল লেবুজলের আহ্বান বাজারের সাপেক্ষে আপাতভাবে বেশ সস্তাই বলা যেতে পারে। কিন্তু গোলমালটা ছিল অন্যত্র। একেবারে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এসপ্ল্যানেড এলাকায় যেখানে নানারকম মানুষের আসা-যাওয়া সেখানে গ্রীষ্ম দুপুরে পাঁচ পয়সায় ঠান্ডা জলের লোভে বহু মানুষই ভিড় জমাতেন সেখানে। কিন্তু লেবুর রস, বিট লবণ ও সামান্য চিনি সহযোগে এক গ্লাস ঠাণ্ডা জল পরিবেশন করার পরে তাদের থেকে পঁচিস পয়সা দাবি করা হত। জল খেয়ে প্রাণ জুড়োনোর পর তার দাম নিয়ে এমন জোচ্চুরিতে ক্রেতা অবাক হতেন, কেউ কেউ তর্ক জুড়তেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হওয়ার ছিল না। ধর্মতলা এলাকায় যেসব দোকানি এই ব্যাবসায় যুক্ত ছিলেন, মূলত দেখেছি তাঁরা হিন্দিভাষী আর তাঁরা সকলেই বসতেন ওই একই এলাকায় বা আরেকটু দূরে শহিদ মিনার বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশে। বিক্রেতার সঙ্গে ক্রেতার বিবাদ দেখলে তাঁরা দল বেঁধে এসে ঘিরে ফেলতেন ক্রেতাকে এবং কেন তিনি খাবার খেয়ে দাম দিচ্ছেন না এই নিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেন —-- বাধ্য হয়ে প্রবঞ্চিত ক্রেতা ওই পঁচিশ পয়সার দামই মিটিয়ে দিতেন। কার্যত এটা ছিল একরকম পরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ। কীভাবে এটা জানতে পারলাম ? সে একেবারে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। কলেজ থেকে ফেরত পথে কোনোদিন ধর্মতলা এলাকায় নামলে এই জলব্যাপারীদের দেখেছি নানা সময়, কিন্তু কোনোদিন তাদের কাছে জল খেতে যাইনি। আসলে নিছক জল খাওয়ার জন্য পকেটের পয়সা খরচ করতে হবে এই ভাবনাটাই ছিল কেমন অবান্তর। কিন্তু একবার এক বন্ধুর আগ্রহে ও তার শখ মেটাতে ঠান্ডা লেবুজল খেতে গিয়ে এই জালিয়াতির খপ্পরে পড়ে যাই। শ্রান্ত শরীরে দুজনে দু গ্লাস করে জল খেয়ে ফেলার পরে যখন বিক্রেতা কুড়ি পয়সার বদলে একটাকা চেয়ে বসলেন, আমরা তো প্রায় আকাশ থেকে পড়ি। কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পর যখন দেখলাম অন্য আরও কিছু দোকানি আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জলব্যাপারীর পক্ষ নিচ্ছেন তখন দুই আঠারো পেরোনো কিশোরের একেবারে বেকায়দা অবস্থা। কবি সুকান্ত যতই দাবি করুন আঠারো বছর সব সময় দুঃসহ স্পর্ধা দেখাতে পারে, স্থান কাল পাত্র বিশেষে তা সদা সত্য নয়। বরং সেদিন আমরা ছিলাম রীতিমতো ভীত ও সন্ত্রস্ত—- গোটা একটা টাকা জলের দাম মেটাতে চলে গেলে আমাদের বাড়ি ফেরার বাসভাড়া থাকবে কি না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম সেদিন। তবে পকেটে কিঞ্চিৎ বাড়তি অর্থ থাকায় সেই যাত্রায় রক্ষা পাই। কিন্তু ভাবার কথা, স্থানীয় বাস টারমিনাস ও কলকাতার বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হওয়ায় কলকাতার বাইরের বহু মানুষ নানা প্রয়োজনে এখানে আসেন তাই তাদের প্রবঞ্চনার সুযোগও বেশি। দাদাঠাকুর সে প্রায় কতকাল আগে কলকাতা নিয়ে গান বেঁধেছিলেন ‘কলকাতা কেবল ভুলে ভরা/ হেথা বুদ্ধিমানে চুরি করে/ বোকায় পড়ে ধরা’ —--- ধর্মতলায় যে এই অধর্মের চাসবাস, তা যেন ওই গানেরই প্রতিধ্বনি। আজ প্রায় সাড়ে চার দশক পেরিয়ে এসে আমরা বহুজাতিকের অনুপ্রেরণায় ও অভিসন্ধিতে খাওয়ার জল নিয়ে রীতিমতো ‘জলাতঙ্কে’ ভুগে ভুগে অতিরিক্ত সাবধানী। অনেকেই সঙ্গে জলের বোতল রাখেন বা প্রয়োজনে প্যাকেজড জল কিনে খাওয়াই নিরাপদ বলে মনে করেন কাজেই যুগের ফেরে এই ঠগী জল বিক্রেতারা বিদায় নিয়েছেন খাবার পথ থেকে।

    থেকে গেছেন কাটা ফল বিক্রেতারা। আজকে যেখানে ই-মল মাথা তুলে উঠেছে ঠিক তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকতেন এক ফল বিক্রেতা। পেঁপে, কলা, তরমুজ, শসা, আনারস ইত্যাদি ফল কেটে তিনি বিক্রি করতেন, আজও করেন। শালপাতার ঠোঙায় টুকরো টুকরো করে কাটা ফলের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হত বিট লবণ আর একটা কাঠি দিয়ে ফলের টুকরোগুলিকে বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে খেতেন খদ্দেররা। এটা ঠিক এইভাবে খোলা ফল বিক্রি আইনানুগ নয় কিন্তু আইনের কথা তুললে তো গোটা পথের খাবারই তার অর্থনীতির ভিত্তি হারিয়ে ফেলে। তবে এর একটা ব্যতিক্রম ঘটত বর্ষাকালের একটা সময়ে যখন প্রচুর আনারস বাজারে উঠত। ওই বিক্রেতাটি সেই সময় গোটা আনারস ছাড়িয়ে কেটে বিক্রি করা শুরু করতেন। চোখের সামনে একটি আস্ত আনারস ছাড়িয়ে তা টুকরো করে প্লেটে দিলে তাঁকে আর ঠিক খোলা কাটা ফল বলা চলে না। ফলে এই বিশেষ ঋতুতে তার ডালার সামনে ভিড় জমাতে তেমন আপত্তি ছিল না। আনারস ছাড়ানোর কাজটা তিনি করতেন হাতে রবারের গ্লাভস পরে, ফলে রসালো ফলে প্রত্যক্ষভাবে হাত লাগার বিষয়টাও ছিল না। সত্যি কথা বলতে, পেটভর্তি আনারস খেয়ে তেমন কোনো শারীরিক বিপদ ঘটেছে বলে মনে পড়ে না। অন্যরকম ফলের আরেক আস্বাদ পাওয়া যেত হিন্দুস্থান বিল্ডিং ডাকঘরের সামনে। এখানে দুজন পাশাপাশি মাটিতে ডালা পেতে বসতেন। তাদের কাছে থাকত চমৎকার সুস্বাদু পেয়ারা, সবেদা আর বাতাবি লেবু। ভরন্ত চেহারা পেয়ারা চার টুকরো করে তার মধ্যে লবণ আর লঙ্কা গুঁড়ো লাগিয়ে সে এক অপূর্ব স্বাদ। আর বাতাবি লেবু ? গোটা ছয়েক কোয়ার ওপর হাল্কা বিটনুন, ব্যাস ! স্বল্প দামে এত ভিটামিন সি আর কোথায় পাওয়া যাবে ? তবে যে এলাকার কথা বারবার উঠে আসছে সেখানে আরও এমন বিক্রেতা ছিলেন যারা ওই কাঁচের বাক্সের ভিতর ফল কেটে রেখে বিক্রি করতেন। যেমন মিশন রো, যেমন বেন্টিংক স্ট্রিট। সেগুলি যেহেতু খুব স্বাস্থ্যকর নয় তাদের দরজায় কখনো কড়া নাড়িনি। যাবার পথের খাবারগুলির রামধনু বিন্যাস ক্রমশ ছেয়ে ফেলেছে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মানচিত্র।

    পরের পর্ব প্রকাশিত হবে সেপ্টেম্বর রবিবার

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ৩১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | ২৯ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫০742416
  • ইয়ে, ঐ উচ্চারণটা বাংলা হরফে লিখলে মনে হয় 'পঁ পেয়াদ্যু' হবে। শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় ঐ 'দেখা হ্যায় পহেলি বার' গানটার প্যারোডি খুব চলতো -- "খেয়েছি অনেকবার / কিচেনের পচা খাবার/ ডিম পাঁউরুটি ডিম পাঁউরুটি"। সেইসব কথা মনে পড়ে গেলো। খুব ভালো লাগছে এই সিরিজটা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন