এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বল্লালবাটি  -  ২

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ৪০ বার পঠিত
  • ( ২ )

    বাইরেও নিঝুম রাত।
    ঝিঁঝিঁ ডাকছে একটানা। ক'টা কুকুর হঠাৎ ডাকতে আরম্ভ করল। অন্ধকার ঘরে টিকটিক টিকটিক করে শব্দ হচ্ছে মাঝেমাঝে। ভাস্বরবাবু ভাবলেন টিকটিকি ডাকছে নিশ্চয়ই। রাতের স্তব্ধতায় মৃদু শব্দই বিকট গা ছমছমে শোনাচ্ছে।
    একজন শোয়ার মতো দুটো খাট। রাজর্ষির বিছানা থেকে কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘুমিয়ে পড়েছে নিশ্চয়ই। ভাস্বরবাবু ভাবলেন, রাজর্ষি নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে। তবু তিনি মৃদুস্বরে বললেন, ' রাজর্ষি ঘুমোলে নাকি ? '
    কোন উত্তর পাওয়া গেল না। ঘুমন্ত মানুষের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া যাবেই বা কী করে। ঘরে কোন
    ঢিমে আলো নেই, ঘুটঘুটে অন্ধকার, এমনই ব্যবস্থাপনা ! রাজর্ষি সাড়া দিল না বটে, তবে একটা টিকটিকি আবার টিকটিক টিকটিক করে উঠল।
    বাইরে কুকুরগুলো ডাকা থামিয়েছে। তার ফলে স্তব্ধ ঘরে ঠাসা আঁধার আরও ঘন লাগছে। ভাস্বরবাবুর মনে হল বাইরে এলোমেলো ঝোড়ো হাওয়া বইছে। গাছগুলোর পাতাপত্তরের মধ্যে দিয়ে সড়সড় সড়সড় করে হাওয়া দৌড়চ্ছে ছটফটে বালকের মতো। ভাস্বরবাবুর হঠাৎ কন্দর্প সেনের কথা মনে পড়ল। অতি রহস্যময় চরিত্র। প্রাসাদের একটা অংশ ভেঙে অতিথিশালা তৈরি হয়েছে তাতে সে নাকি অত্যন্ত রুষ্ট। সে নাকি সেনবংশের বংশধর। ফলে তার রুষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। সহদেব তো তাই বলল। কিন্তু সে যে কোথায় থাকে, কোথায় তার ঘর সেটা সহদেবেরও অজানা। হঠাৎ ছুটে আসা দমকা বাতাস শান্ত হয়ে গেল। আবার নেমে এল থমথমে নিঃশব্দতা।
    ভাস্বরবাবুর মনে হল ঘরের আলোটা জ্বালিয়ে দেন। কিন্তু শরীরটা কেমন যেন আটকে আছে বিছানার সঙ্গে। উঠতে পারছেন না। তিনি কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে একপাশ দিয়ে শরীর তোলার চেষ্টা করলেন। পারলেন না। পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো পড়ে গেলেন বিছানায়।
    সহদেবের কথাটা হঠাৎ বিদ্যুতের মতো ঝিলিক দিল মাথায় ---- ' দুজনের মধ্যে একজন থাকে, একজন যায়... যে দেখে সে ফেরে... '। কথাগুলোর মানে কী ? এটা কি একটা বিশ্বাসযোগ্য কথা, নাকি একটা ভিত্তিহীন স্থানীয় জনবিশ্বাস। যদি সত্যি হয়, সেটা তাহলে কে, তিনি না রাজর্ষি ? ভাস্বরবাবুর সারা শরীর অসাড় লাগতে লাগল। ঘুমের কোন লক্ষণ নেই। তিনি চোখ মেলে চিৎ হয়ে শুয়ে রইলেন অনড় পাথরের মতো।

    অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলেন একটানা।
    কয়েক মিনিট পরে দেখলেন, তার চোখের সামনে অন্ধকার ফিকে হয়ে গেল। কালো দেয়ালের গায়ে যেন এক পোঁচ হাল্কা আলোর চুনকাম পড়ল।

    মাথায় মকুট পরে তরোয়াল হাতে দাঁড়িয়ে আছে অতি গৌরবর্ণ কন্দর্প সেন। স্পষ্ট দেখলেন ভাস্বরবাবু। বংশের প্রাসাদের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নয় সে। চোখে জেগে আছে জ্বলন্ত উষ্মা। সহদেবের কথা মনে পড়ল ভাস্বরবাবুর। সেনবংশের শেষ বংশধর সে। বংশের জমিতে কারও পা ফেলা তার পছন্দ নয়। দুজন এলে নাকি একজন ফেরে একজন ফেরে না। আর একজন এলে ? সে ফেরে না। একজন ঠিকাদার নাকি ঘরে ফেরেনি এখান থেকে। সে একাই ছিল।

    ভাস্বরবাবুর সারা শরীরে সিরসিরিয়ে কাঁটা দিতে লাগল। অসহায় চলৎশক্তিহীন অবস্থায় কন্দর্পের দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি। তার খুব ভয় করতে লাগল। মনে হল স্বপ্ন দেখছেন ঘুমের ঘোরে। ভাস্বরবাবু প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠতে চাইলেন। কোন আওয়াজ বেরল না।

    এক সময়ে রাত গেল, ভোরের আলো ফুটল।
    রাজর্ষি চোখ মেলল। আড়ামোড়া ভেঙে বলল, ' ঘুম ভাল হয়েছে স্যার ? আমি কিন্তু একটানা ঘুমিয়েছি ... ফার্স্ট ক্লাস... '
    ওদিকের বিছানা থেকে কোন সাড়া এল না। রাজর্ষি উঠে বসল। দেখল ভাস্বরবাবুর বিছানা ফাঁকা। রাজর্ষি ভাবল, স্যার বোধহয় আরও আগে উঠে পড়েছেন। বাথরুমে গেছেন হয়ত। বাথরুমের দিকে তাকিয়ে দেখল দরজা খোলা। তার মানে স্যার ওখানে নেই। হয়ত বাইরে মর্নিং ওয়াক করতে গেছেন। এত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। কিন্তু স্যারকে এত ভোরে উঠে প্রাতভ্রমণে যেতে দেখেনি আগের কোন সাইটে। দরজার দিকে চোখ পড়ল রাজর্ষির। দরজার খিল এবং ছিটকিনি খোলা। দরজা ভেজানো।

    বুঝল, ভাস্বর স্যার বাইরেই গেছেন। কিচির মিচির করে নানা পাখির ডাক আসছে বাইরে থেকে। জানলাটা খুলে দিল রাজর্ষি। ভোরের নরম আলো এসে পড়ল ঘরে। রাজর্ষি ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। কী সুন্দর লাগছে চারিদিক। অনেক পাখি ওড়াওড়ি করছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। ওই দূরে সবুজ আভা দেখা যাচ্ছে। ওটাই ওই জঙ্গল হবে। জঙ্গলের পাশেই এই সাইটটা যেটা সার্ভে করতে এসেছে তারা। সকাল নটার মধ্যে বেরোতে পারলে ভাল হয়। কিন্তু ভাস্বর স্যার গেলেন কোথায় ? রাজর্ষি নীচে এদিকে ওদিকে দেখতে লাগল। কিন্তু ধারে কাছে দেখা গেল না তাকে। রাজর্ষি ভাবল, উনি হাঁটতে হাঁটতে হয়ত খানিকটা দূরে চলে গেছেন। কিন্তু আগে কোন সাইট ভিজিট করতে গিয়ে তাকে মর্নিং ওয়াক করতে দেখেনি। এ জায়গাটা হয়ত তার খুব ভালো লেগেছে। তার মনে হল, ঘরে তালা মেরে
    সেও একটু হেঁটে আসে। তারপর ভাবল, তালা লাগিয়ে আবার যদি খোলা না যায় কালকের মতো। সে এক বিভ্রাট। কোথা থেকে হঠাৎ কন্দর্প এসে হাজির না হলে খুব মুশ্কিল হত। কী করা যায় চিন্তা করতে লাগল রাজর্ষি। বারান্দার সামনে রাস্তার উল্টোদিকে একটা তেঁতুল গাছ রয়েছে। ভোরের হাওয়ায় তেঁতুলের পাতাগুলো ঝিরঝির করে কাঁপছে। গাছটার তলায় একটা সাদা গরু বাঁধা রয়েছে খোঁটায়। মাথা নীচু করে ঘাস খাচ্ছে। রাজর্ষি গরুটার দিকে তাকিয়ে রইল। ভাবল, এটা তো মাঠ নয়। এখানে খোঁটায় গরু বাঁধল কে ? সে যখন বারান্দায় এসে দাঁড়াল তখন তো ছিল না। ভাবল, ছিল হয়ত আগে থেকেই। সে খেয়াল করেনি। তাকিয়ে থাকতে থাকতেই তার চোখে কেমন ধাঁধা লাগল। রাজর্ষি দেখল
    সাদাচুলো ফর্সা কন্দর্প তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। চোখ কচলে নিয়ে আবার দেখল। ভাবল, অদ্ভুত ব্যাপার। সে কি এতই ভুল দেখল। ছিল গরু, হয়ে গেল মানুষ ! ভাবল, আজ যদি কাজটা গুটিয়ে ফেলা যায় আজ বিকেলেই রওয়ানা দিতে পারলে ভাল হয়। সহদেবের ' যে দেখে সে ফেরে...' কথাটা মনে পড়ে গেল। দেখা মানে কী ?
    এইসব উল্টোপাল্টা দেখা... শরীরে ডোপামাইনের হেরফের। কলকাতায় ফিরে সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু 'যে দেখে সে ফেরে ' ব্যাপারটা মাথায় ঘুরতে লাগল রাজর্ষির। দেখেছে তো শুধু সেই। তবে কি...। রাজর্ষি অকারণেই শিউরে উঠল একবার।
    ঝটকা মেরে নিজের মধ্যে ফিরে এল। ভাবল, এসেছে সরকারি দপ্তর থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষার কাজে, এসব আজগুবি ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানো হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে।
    সামনের তেঁতুল গাছের তলায় তাকিয়ে দেখল। গরু বা কন্দর্প সেন কাউকেই দেখতে পেল না রাজর্ষি। ব্যাপারটা মন থেকে ঝেড়ে ফেলল রাজর্ষি। কী দেখতে কী সব দেখছে। চোখের ডাক্তারও দেখানোর দরকার বলে মনে হল তার।
    সে যাক, এখন কথা হচ্ছে ভাস্বর স্যার গেলেন কোথায় ? তাড়াতাড়ি বেরিয়ে সাইটের কাজটা দুপুরের মধ্যে সেরে নিতে পারলে বিকেল পড়ার আগেই বেরিয়ে পড়া যেত। আজ এখানে রাত কাটানোর ইচ্ছে নেই একদম।

    রাজর্ষি ঘরে চলে গেল, প্রাতঃকালিন কাজকর্ম সেরে নিল। চা খাওয়া হল না। চায়ের কোন ব্যবস্থাই নেই। একটাই তো লোক, ওই সহদেব। সে হয়ত দুপুরবেলার খাবার নিয়ে আসবে। তার আগে দেখা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।
    সে যাক, রাজর্ষি ভাবল এখন একটু বেরিয়ে দেখা যাক ভাস্বর স্যার এত সকালে কোথায় গেলেন।
    দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়ল রাজর্ষি।

    পশ্চিমে ওই পেখমের দিকে আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগল। রাস্তার ডানদিকে পরপর কটা শিউলি ফুলের গাছ। শিশির ধোয়া শুভ্র কুসুমে ছেয়ে আছে গাছের তলা। ভোরের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কেমন নির্মল গন্ধ। মনের ভিতরে একটা মায়াময় আবেশ বয়ে যেতে লাগল রাজর্ষির। ওই দূরে একটা মাটির ঢিপি দেখা যাচ্ছে। বেশ উঁচু। তার ওপর ঘাস এবং দুটো বাবলা গাছ গজিয়েছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে একটা ছোট্ট সবুজ টিলা উবু হয়ে বসে আছে। ভাস্বর ব্যানার্জী কোথায় যে গেলেন। রাজর্ষি ভাবল, ওই ঢিপিটা পর্যন্ত গিয়ে দেখা যাক। তারপর নয় উল্টোদিকে গিয়ে খোঁজা যাবে। নির্জন পরিপার্শ্ব। লোকজন কাউকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। পেলে, জিজ্ঞেস করা যেত কাউকে ওদিকে যেতে দেখেছে কিনা। রাজর্ষি দেখতে পেল উল্টোদিক থেকে সাদাচুলো ফর্সা লোকটা আসছে। কন্দর্প সেন না কী যেন নাম। সেন বংশের বংশধর। সেই সাদা ধবধবে পাঞ্জাবী পরা। এদিকেই আসছে টুকটুক করে। রাজর্ষি ভাবল, এর কি আর কোন কাজকর্ম নেই। রাত পোহাতেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে। যাক ভালই হল, রাজর্ষি ভাবল, ওকেই জিজ্ঞাসা করা যাক,
    ভাস্বরবাবুকে ওদিকে যেতে দেখেছে কিনা। ওনাকে পেয়ে গেলে বলবে, এখানকার কাজটা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে প্যাক আপ করে নেওয়ার জন্য। এখানে আজ আর রাত কাটাবার ইচ্ছে নেই।
    কন্দর্প সেন রাজর্ষির পনের ফুটের মধ্যে এসে পড়েছে। তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। হাসির মধ্যে সেই একইরকম তামাসা মাখানো।
    মুখোমুখি হবার পর দুজনেই থেমে গেল। কন্দর্প মুখে একইরকম হাসি ঝুলিয়ে রেখেছে।
    রাজর্ষির কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছিল। সে বলল, ' আমার সঙ্গে যিনি এসেছেন তাকে দেখলেন নাকি ওদিকে ? '
    কন্দর্প হাসিমুখে ডানদিকে ঘাড় কাৎ করলেন।
    ----- ' কোথায় বলুন তো ? '
    কন্দর্প সেন কোন কথা না বলে হাত তুলে ঢিপির দিকে দেখালেন।
    ---- ' ওখানে ? '
    কন্দর্প আবার ঘাড় কাৎ করে ডান হাত দিয়ে দুবার হাওয়ায় ঠেলা মারলেন। মানে, যান যান... যান না .... ওখানেই পাবেন।
    ----- ' আচ্ছা... ধন্যবাদ... '
    রাজর্ষি আর না দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল। ঢিপির ঠিক পাশে পৌঁছে দেখল সামনের দিকে একটা বেদীর মতো জায়গায় চুপচাপ বসে আছেন ভাস্বর স্যার।
    একদৃষ্টে প্রায় ধ্যানস্থ হয়ে দূরের জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে আছেন। ওপরে নরম আলো ধোয়া অবারিত খোলা আকাশ। হয়ত একমনে ওই খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাজর্ষি ভাস্বর ব্যানার্জীর কখনও এমন প্রকৃতি তন্ময়তা দেখেনি। একটু কেঠো প্রকৃতির মানুষ। রাজর্ষি বেশ অবাক হয়ে গেল ভাস্বরবাবুকে নির্জনে এভাবে বসে থাকতে দেখে।
    সে যাই হোক, সে ভাস্বরবাবুর পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
    ----- ' স্যার আপনি এখানে বসে আছেন এত ভোরে! কখন এলেন ? '
    ভাস্বরবাবু ঘুরে তাকালেন রাজর্ষির দিকে। বললেন, ' ও, তুমি এসে গেছ... যাক ভালই হয়েছে। তোমার কথাই ভাবছিলাম। এতদিনের সম্পর্ক তো... চট করে কাটানো মুশ্কিল... '
    কথাটার মাথামুণ্ডু কিছু বোঝা গেল না।
    রাজর্ষি বলল, ' চলুন স্যার... রেডি হয়ে নিই। অ্যাসাইনমেন্টটা কমপ্লিট হয়ে গেলে আজই চলে যাওয়া যায়। কেন জানি না একদম থাকতে ইচ্ছে করছে না এখানে... '
    ----- ' তা ঠিক... তা ঠিক। চল যাই... তোমার তো বাড়ি ফেরার দরকার। মা আছে, বাবা আছে... ফ্যামিলি আছে... '
    ----- ' সে তো আপনারও আছে... '
    ----- ' তা ঠিক... তা ঠিক। চল যাই... '
    ভাস্বরবাবু উঠে পড়লেন। আবার বললেন, ' চল যাই... যতদূর যাওয়া যায়... তোমায় দেখিয়ে দিয়ে আসি... '
    ----- ' কী দেখাবেন স্যার ? ', রাজর্ষির কেমন বিভ্রান্ত লাগল।
    ভাস্বরবাবু আবার বললেন, ' চল যাই ... চল যাই ... '

    বাইরের প্রাসাদ দিয়ে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে পিছন দিকের বাড়ির ওপরে উঠল দুজন। এরপর লম্বা বারান্দা। একটা সজনে গাছ বারান্দার ধার ঘেঁসে। পাতা সমেত একটা ডাল এলিয়ে পড়েছে বারান্দার গায়ে। তার পাশ দিয়ে রাজর্ষি আর ভাস্বরবাবু এগিয়ে যাচ্ছে।
    ঘরের সামনে এসে রাজর্ষি বলল, ' দাঁড়ান, তালাটা খুলি... '
    ভাস্বরবাবু রাজর্ষির প্রায় তিন ফুট পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন।
    তিনি বললেন, ' হ্যাঁ খোল। নইলে দেখবে কী করে? '
    চাবি ঢুকিয়ে ঘোরাতে সহজেই খুলে গেল তালা। দরজা ঠেলবার আগে রাজর্ষি বলল, ' কী দেখব স্যার ? '
    পিছন থেকে ভাস্বরবাবু বললেন, ' কে আছে, কে নেই... '
    রাজর্ষি দরজায় ঠেলা মারল। একদম সামনেই ভাস্বরবাবুর খাট।
    পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল রাজর্ষির শরীর। খাটে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে ভাস্বর ব্যানার্জীর নিস্পন্দ দেহ। সিলিং-এর দিকে মেলা আছে ঠেলে বেরিয়ে আসা নিষ্প্রাণ দুটি চোখের তারা।
    প্রাণপণ চেষ্টা করে ঘাড় ঘুরিয়ে রাজর্ষি দেখল পিছনে কেউ নেই। ভোরের হাওয়ায় তিরতির করে কাঁপছে বারান্দা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে থাকা সজনে গাছের পাতা।

    ( সমাপ্ত )
    ********************************************

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • rina chakraborty | ২৬ আগস্ট ২০২৬ ২২:০৪742389
  • গল্পের চমৎকার ক্লাইম্যাক্স! সহদেবের সেই লোককথা—'দুজনের মধ্যে একজন থাকে, একজন যায়'—একদম হাড়হিম করা সত্যি হয়ে সামনে এলো, যা পড়ার পর বেশ কিছুক্ষণ রেশ থেকে যায়।
  • Anjan Banerjee | ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৩০742395
  • rina chakraborty
     
    অনেক অনেক ধন্যবাদ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন