এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অবাক বাংলা  -  ১ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২৬ বার পঠিত
  • ( ১ )

    বসন্তের সকাল। শীতের গাড়ি স্টেশান ছেড়ে চলে গেছে। আর্সিয়ানাদের গাড়ি এসে থামল এক নির্জন পাথুরে জায়গায়। রোদ্দুরে উজ্জ্বল প্রচুর ছোটবড় গাছে ভরা। জায়গাটা শিমূলতলা... ও..ই লাট্টু পাহাড়ের কাছাকাছি। বালি কাঁকড়ে ভরা পথ আর এট্টুখানি হেঁটে যেতে হবে। গাড়ি আর যাবে না। আর্সিয়ানা, সৌমিনি আর বজ্র টাটা সুমো থেকে নেমে আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগল। চিরচিরে সব পাখির ডাকে ঝিরঝিরে হাওয়া কুটিপাটি হচ্ছে। শৌভিক, মানে শৌভিক চ্যাটার্জী খুব বড় সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত আছে। তুখোড় ছেলে। তরতর করে ওপরে উঠছে। শৌভিক কিন্তু আর্সিয়ানার গুনমুগ্ধ। শিমূলতলায় ছাতিমতলা বাংলা সেই ঠিক করে দিয়েছে।
    যে ছেলেটা গাড়ি চালাচ্ছিল সে বেশ স্মার্ট গোছের। পরনে নীল জিনস আর লাল টি শার্ট। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ গাঁয়ের রঙ। মুখের গড়ন অনেকটা আমির খানের মতো।কথা বলে খুব। বলল, ‘ এখানে এসেছেন খুব ভাল করেছেন। জায়গাটা খুব সুন্দর। আমাদের অমিত স্যারও খুব শরীফ আদমি। মগর একটু সামহালকে থাকবেন। বদমাশ লোক ভি বহুৎ আছে এখানে।’
    —-‘ তাই নাকি ? ‘ আর্সিয়ানা নির্বিকারভাবে জিজ্ঞাসা করে।
    —- ‘ হ্যাঁ ম্যাডাম। খুন খারাবা ভি আখছার হয়। আমি অবশ্য বেশিদিন আসিনি এখানে। এই এক সালের মতো হবে।আগে দেওঘরে থাকতাম। এখানে শীতকালটা খুব ভাল লাগে আমার। এই গরম আসছে... বহুৎ পরেশান হবে এবার।যাই হোক আপনারা ভাল সিজনেই এসেছেন। এনজয় করতে পারবেন....। ’ অনর্গল বকবক করতে লাগল ও। বাংলা বেশ পরিষ্কার, তবে দেহাতি টান আছে।সৌমিনি হাঁ করে তাকিয়ে রইল আমির খান মার্কা যুবকের দিকে। আর্সিয়ানা ভোলাভালা সৌমিনির উরুতে একটা চিমটি কাটল।
    সৌমিনি চমকে ওঠে....’আ...হ ! ‘
    আর্সিয়ানার দিকে তাকায় ঝট করে। আর্সিয়ানা ঠোঁটে গূঢ় হাসি ঝুলিয়ে এক চোখ টেপে।
    সৌমিনি অপ্রস্তুত স্বরে অস্ফুটে বলে, ‘ ধ্যাৎ ! ‘ হেসে গড়িয়ে পড়ে গাড়ির সিটে। বজ্র, মানে টাটা সুমোর ড্রাইভার কিন্তু একবারও মুখ ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল না।
    এখানে শশীভূষণ মিত্রের এক পেল্লায় বাগানবাড়ি আছে এক বিশাল পাথুরে প্রান্তরে। ওখান থেকে দূরে দূরে আবছা ছবির মতো ঝাড়খন্ড অঞ্চলের পাহাড়ের সারি দেখা যায়। শশীভূষণ তো আর এখন বেঁচে নেই। তার ছেলে মেয়েরাও সকলেই পরলোকগত। আছে দুই নাতি আর এক নাতনি। সকলেই ছেলের দিকের। তাদের বয়েস পঞ্চান্ন থেকে ষাটের মধ্যে। এদের মধ্যে বয়েসে সবচেয়ে বড় অমিতাংশু। তারপর সুপ্রভা।
    সবার ছোট অজিতাভ। তার পঞ্চান্ন হল। এদের মধ্যে শুধু অমিতাংশুবাবু শিমূলতলার এই খামারবাড়িতে থাকেন। তিনি অবিবাহিত। সঙ্গে থাকত মালি ঝগরু আর তার পরিবার। পরিবার মানে, ঝগরু আর তার বৌ। বৌ কমলার বয়েস তিরিশের বেশি নয়। মারা যাবার সময় ঝগরুর বয়েস ছিল পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা বলা যায়। ওদের কোন ছেলেপুলে নেই। ঝগরু এখন আর নেই। সে খুন হয়েছিল বছর দেড়েক আগে।
    বাড়ির নাম ছাতিমছায়া। লোকে বলে ছাতিমতলা।বাড়িটা প্রায় দেড়শো বছরের পুরণো। চারদিক ঘেরা দেড় মানুষ সমান পাঁচিলে। পাঁচিল অবশ্য বারংবার মেরামত হয়েছে। তবু পাঁচিলের একপাশে বেশ বড়সড় ক্ষত। সেখান দিয়ে সেঁধিয়ে আসে শেয়াল, বুনো ভাম কিংবা বনবিড়াল। আর বেজির আনাগোনার তো শেষ নেই।একসময়ে এখানে প্রচুর ছাতিম গাছ ছিল। এখনও বেশ কিছু আছে। সেজন্য ভিলার নাম ছাতিমতলা। বাড়ির চারপাশে জঙ্গুলে আবহ।অার ভেতরে তো নাম জানা ও নাম না জানা গাছগাছালির ইয়ত্তা নেই।
    বজ্র আর কমলা হাতে হাতে মহাদেবদের মালপত্র বয়ে এনে ছাতিমতলার একতলার বারান্দায় এনে রাখল। বাড়িটা দোতলা। একতলায় আটখানা ঘর আছে। দোতলাতে ছ খানা। অমিতাংশুবাবু দোতলার একটা ঘরে থাকেন। অমিতাংশুবাবুর ঘরের পাশের দুটো ঘরে অার্সিয়ানা এবং সৌমিনির থাকবার ব্যবস্থা হয়েছে। অার্সিয়ানারা দুজনে অবশ্য একই ঘরে ঢুকল।পুরণো দিনের বাগানবাড়ি। কোন ঘরের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট গোসলখানা নেই। এয়ার কন্ডিশনারও নেই। বাথরুম ওপাশে একটু তফাতে। অমিতাংশুবাবুও অ্যাটাচড্ বাথ নির্মাণের আগ্রহ দেখাননি। কমলার থাকার ঘর মূল বাড়ির পেছন দিকে দশ পনের ফুট দূরে।ঢালাই ছাদের পাকা ঘর। টালি বা অ্যাসবেসটসের ছাদ নয়।
    ঝগরুর বিধবা ঘরনি কমলা আর্সিয়ানাকে সিগারেট টানতে দেখে বেশ মজা পেল। হাসিমাখা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কৌতুকি দৃষ্টিতে আর্সিয়ানা আর সৌমিনিকে দেখতে লাগল।

    বাড়ির হাতায় গাছগাছালির ইয়ত্তা নেই। আম লিচু সবেদা জাম আর অনেক কাঁঠাল গাছ আছে।পাঁচিল ঘেঁসে গোটা তিনেক বেশ ফলন্ত সজনে গাছও আছে।
    সেই ভোর থেকে গাছের ডালে ডালে পাতার আড়ালে শ’য়ে শ’য়ে পাখির কলকাকলি। সারা দিনভর চঞ্চল চপল আনাগোনা। ওদের পারিবারিক ব্যস্ততার শেষ নেই।
    এখানে বিদ্যুতের আগমন বেশিদিন হয়নি। এই বছর পাঁচেক হবে। তার আগে সন্ধের পর হত ঘুরঘুট্টি আঁধার। দেহাতিদের ঘরে জ্বলত ঢিমে আলো। ঝোপঝাড় থেকে শেয়ালের পাল তুলত এককাট্টা একটানা ডাক। জোনাকির আলো চুমকি ছড়াত রাতের শরীরে। এখন নরম সরম হলেও রাতের গায়ে পড়ে মৃদু ভোল্টের আভা।
    রাত্রে কমলার পাকানো দেশি মুরগির ঝোল, ফুলকপির তরকারি আর গরম ভাত আর্সিয়ানা সৌমিনির যেন অমৃত মনে হল। অমিতাংশুবাবুও একসঙ্গে খেতে বসলেন। খাওয়াদাওয়া চলাকালীন কমলা সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকল। ঘরে দুটো সিঙ্গল খাট আছে। দুটো চেয়ারও আছে। একটা বড় টেবিল আছে দেয়াল ঘেঁসে এবং টেবিলের ওপর একটা বড় আয়না দাঁড় করানো আছে দেয়ালে ঠেস দিয়ে। প্রায় পনের ফুট উঁচু সিলিং। ঘরের আকার কমপক্ষে পনের ফুট বাই বারো ফুট। কমলা নৈশভোজ তত্ত্বাবধানের ফাঁকে কৌতুকভরা চোখে শার্ট প্যান্ট পরা আর্সিয়ানা সৌমিনিকে দেখে চলেছে। খাওয়া শেষ হলে কমলা এঁটো বাসনপত্র তুলে নিয়ে চলে গেল।
    এসব জায়গায় সকালবেলাটা যেন স্বর্গীয় সুষমা মাখান। একটা মোরগ ডাক ছাড়ল সনাতন ভৈরবী মায়ায়।অমল উদার আলোয় মাখামাখি শিথিল অলস হাওয়ায় ছড়িয়ে গেল সে তান। গাছের পাতায় নরম লাবন্যময় আলো পড়ে চিকচিক করতে লাগল একটু পরে। কমলা একটা বড় ঝুড়ি মাথায় চাপিয়ে কোথায় বেরিয়ে গেল হন্তদন্ত হয়ে। বোধহয় স্টেশনের পাশে হাটে বসে মুরগির ডিম বিক্রি করে। বাড়ির পুব দিকে একটা ছোটখাটো দেশি মুরগির খামার আছে। সকালবেলায় দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। রঙ বেরঙের মুরগির দল বাড়ির সামনে নিশ্চিন্তে ঘুরঘুর করছে। খুঁটে খুঁটে কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে মাটিতে ঘাসে।
    আর্সিয়ানার সকালবেলায় এক কাপ কফি খাওয়ার অভ্যেস। কিন্তু এখানে তা পাওয়া যাবে না। অগত্যা কমলার এনে দেওয়া এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় বসল।সৌমিনি এখনও ঘুমোচ্ছে বিছানা আঁকড়ে। সৌমিনিকে আর্সিয়ানার বন্ধুও বলা যায়, ভক্তও বলা যায়। আর্সিয়ানার হাত পাকড়ে এখানে চলে এসেছে শুধুমাত্র ভ্রমণবিলাসে। আর্সিয়ানার ডাকাবুকো জীবন ও ক্ষুরধার মানসিকতার সঙ্গে তার কোন দিক দিয়েই কোন মিল নেই। কিন্তু বিপরীত মেরুদ্বয়ই তো একে অপরকে টানে। আর্সিয়ানা সৌমিনির জোড় লাগা বোধহয় সেইভাবেই।দুজনেরই বয়েস সাতাশ অতিক্রান্ত।

    একতলার বারান্দায় খান চারেক প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা আছে। একটা ছোট টেবিলও আছে। আর্সিয়ানা একটা চেয়ারে বসে চা খেতে লাগল। বারান্দাটা একটু উঁচু। উঠোনে পা দিতে গেলে তিনধাপ আধচাঁদা সিঁড়ি নামতে হবে। তিননম্বর সিঁড়িটার নীচে বসে আছে একটা কুকুর।চেহারা দেখে মনে হয় অ্যালসেসিয়ান আর দেশি কুকুরের সংকরজাতীয়। দু’পা সামনে রেখে বসে জিভ বার করে শ্বাস ফেলছে। সামনের দিকে চেয়ে বসে আছে যেন কিসের প্রতীক্ষায়।মাঝে মাঝে ঘাড় ঘুরিয়ে আর্সিয়ানার দিকে তাকিয়ে থাকছে কয়েক সেকেন্ড। কয়েকবার এরকম তাকাবার পর কুকুরটার চোখে চোখ পড়ল আর্সিয়ানার।
    দূর দিগন্তে দেখা যাচ্ছে নীলাভ পাহাড়ের সারি। নি:শব্দ চারিধার।
    সৌমিনির ঘুম ভেঙে গেছে। দেখল আর্সিয়ানার বিছানা ফাঁকা। আড়ামোড়া ভাঙতে ভাঙতে বারান্দায় এল। এসে দেখল ও অলস ভঙ্গীতে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে।
    — ‘ হাই আর্সি... গুড মর্নিং...’
    — ‘ হাই ডার্লিং... গুড মর্নিং... ঘুম ভাঙল ? ‘
    সৌমিনি আর্সিয়ানার পাশে এসে বসল। সামনের আবছা নীল পাহাড়ের দিকে উদাস চোখ মেলে তাকিয়ে রইল খানিকক্ষণ।
    — ‘ হোয়াট আ বিউটিফুল ল্যান্ডস্কেপ .... না আর্সি ? ‘
    — ‘ ইয়েস, রিয়েলি ...’
    দুজনে আবার খানিকক্ষণ চুপচাপ।
    কুকুরটা বারান্দার নীচে ঠায় বসে আছে। ঘাড় ঘুরিয়ে ওদের দুজনের দিকে তাকাল আবার। কেমন যেন আবেদনের বার্তা মাখা দৃষ্টি। আর্সিয়ানা তাকিয়ে রইল নির্লিপ্তভাবে।
    — ‘ আচ্ছা অমিতাংশুবাবুর সমস্যাটা কি সেটা তো বললি না !
    কি জন্য তোকে ডেকেছেন এখানে ?’ সৌমিনি জিজ্ঞাসা করে।
    — ‘ মূল সমস্যাটা হল কমলাকে নিয়ে। পরে বলব সব কথা।’ আর্সিয়ানা সংক্ষেপে জবাব দেয়।
    খানিকক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে দুজনে। একটা বছর পঁচিশের সুঠাম চেহারার ছেলে সামনের টেবিলে আর এক কাপ চা এনে রাখল। সেই নীল রঙা জিন্স এবং লাল রঙের টিশার্ট পরা আমির খান মার্কা ড্রাইভার ছেলেটা। বেশ সপ্রতিভ ভঙ্গীতে সৌমিনির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ ম্যাডাম চা ... ‘। আদিবাসিসুলভ শক্তপোক্ত শরীরি কাঠামো, কিন্তু রঙ কালো নয়। বরং বেশ ফর্সা।
    আর্সিয়ানা জিজ্ঞাসা করল, ‘ তোমার নাম কি ?’
    ছেলেটা বলল, ‘ বজ্র। আমি অমিতাংশু স্যারের গাড়ি চালাই।’
    — ‘ ও আচ্ছা, ঠিক আছে। দরকার হলে ডাকব। ‘
    ছেলেটা চলে গেল।
    দুপুর একটা নাগাদ কমলা হাট থেকে ফিরল। তারপর চটপট দুপুরের খাবার লাগিয়ে দিল ভেতরের তিন নম্বর ঘরে পাতা টেবিলে। মটর ডাল, পোস্ত মাখানো আলু ভাজা আর দেশি চিকেনের কারি। আর শেষে সাদা মিষ্টি দই। অপূর্ব স্বাদ।

    অমিতাংশুবাবু বললেন, ‘এই বাড়িটা বিক্রি করে দিতে পারলে সব দিক দিয়েই ভাল হয়। কিন্তু মন সাড়া দেয় না। কি মায়ায় যে জড়িয়ে আছি এই খামারবাড়িটার সঙ্গে। কমলা আর বজ্রই এ বাড়ির সব কিছু সামলায়। বজ্র অবশ্য বছর দেড়েক হল এখানে এসেছে।তার আগে কমলা একাই সব সামলাত।
    অমিতাংশুবাবু আর্সিয়ানাকে বললেন, ‘ কে বা কারা যেন ঝগরুকে মেরে ফেলেছিল। মার্ডার করেছিল। তারপর ওই দক্ষিনদিকে পাঁচিলের ধারে যে আমগাছটা রয়েছে তার ডালে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। খুন করার কারণটা আজও পরিষ্কার হয়নি।পুলিশি তদন্ত এখনও চলছে। ঝগরুর বউ কমলার ছেলেপুলে হয়নি। প্রথমদিকে খুব কান্নাকাটি করত। তারপর সামলে নিল।ওর তো নিজের লোক বলতে তেমন কেউ নেই। মা বাবা দুজনেই মরে গেছে। কমলা আবার তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে গেল। শুধু স্বাভাবিক জীবনেই ফিরে গেল না। অসম্ভব প্রগলভ হয়ে উঠতে লাগল দিনকে দিন।কেমন একটা ব্যধি ওর ওপর চেপে বসল। একটু আকর্ষণীয় মহিলা দেখলেই তাকে পাবার জন্য ও ক্ষেপে ওঠে। ‘
    আর্সিয়ানাকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অমিতাংশুবাবু বলে উঠলেন, ‘ হ্যাঁ হ্যাঁ ম্যাডাম ঠিকই শুনছেন.... পুরুষে নয়, নারীতে তীব্র আকর্ষণ। অথচ ও একেবারেই এরকম ছিল না। একেবারেই সহজ সরল একটা দেহাতি মেয়ে..... ‘
    একটু চুপ করলেন অমিতাংশু। আর্সিয়ানাকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন, ‘ জানি কি ভাবছেন।আমি কমলাকে টলারেট করছি কেন।ওকে এখান থেকে তাড়িয়ে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। হ্যাঁ তা দিতেই পারতাম। মুশ্কিল হল, আমি ওকে নিজের মেয়ের মতো ভালবাসি। আমার তো পুত্র কন্যা কেউ নেই। তাই....। কিন্তু ব্যাপারটা দিন দিন ইনটলারেবল হয়ে উঠছে।....এই যে আপনারা দুজন মেয়ে এখানে এসেছেন আমি শিওর ও সুযোগ খুঁজছে আপনাদের ঘনিষ্ঠ হবার জন্য।আর একটা ব্যপার হল ফিজিক্যাল স্ট্রেংথ। সেটা মাঝে মাঝে কি করে বেড়ে যায় কে জানে।আবার অন্য সময়ে একদম নর্মাল। ভারি ওজন একদম বইতে পারে না। সেদিন ষাট কেজির একটা সিমেন্টের বস্তা অনায়াসে তুলে নিয়ে গোডাউনে ঢোকাল। .... আপনার কি মনে হয় এটা কোন সাডেন হর্মোনাল বা ক্রমোজোমিক মেটামরফোসিস ?
    আমি খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’
    — ‘ আমি তো এ ব্যাপারে এক্সপার্ট নই ....’, আর্সিয়ানা বলে। ‘....তবে সো ফার অ্যাজ আই নো এরকম অ্যাবরাপ্ট মেটামরফোসিস ইজ কোয়াইট আনলাইকলি। দেয়ার মাস্ট বি সামথিং আনক্যানি বিহাইন্ড দা অকারেন্স।
    যাই হোক, আমি চেষ্টা করব টু দা বেস্ট অফ মাই ক্যাপাসিটি টু আনভেল দা মিস্ট্রি।’ তারপর ট্রেডমার্ক গোয়েন্দাসুলভ লব্জে জিজ্ঞাসা করল, ‘ এ ব্যাপারে আপনার কাউকে সন্দেহ হয় ? ‘
    —- ‘ না:, কাকে সন্দেহ করব বলুন তো। সন্দেহ করার মধ্যে তো এক ওই বজ্র। কিন্তু কমলার কান্ডকারখানার জন্য তো সে রেসপনসিবল হতে পারে না। তাছাড়া ঝগরু যখন মার্ডারড হয় সে তো এখানে আসেইনি।’
    — ‘হুমম্ ... আচ্ছা কুকুরটা কতদিন ধরে এখানে আছে ? ‘ অনিলিখা আচমকা প্রশ্ন করে।
    — ‘ কোন কুকুরটা বলুন তো ?’
    — ‘ ওই যে অ্যালসেসিয়ানের মতো দেখতে ‘
    — ‘ ও আচ্ছা ....টমি... ‘ একটু ভাবতে লাগলেন। ‘ ওটা .... ওটা যদ্দুর মনে পড়ছে এখানে এসেছে ঝগরু মারা যাবার মাসখানেক পর। এক শীতের রাতে হঠাৎ এল গেট দিয়ে ঢুকে। তারপর থেকে গেল এখানে। কমলাই খেতে দেয়। আমি আর তাড়াইনি ওটাকে।’
    — ‘ও আচ্ছা। আচ্ছা ঠিক আছে। দেখা যাক হাউ ইট প্যানস্ আউট।’
    —- ‘ হ্যাঁ থ্যাঙ্ক ইউ। দেখুন কি করতে পারেন। .... আর হ্যাঁ, একটা কথা। আপনারা কিন্তু রাত্রে দরজা জানলা ভাল করে আটকে শোবেন।’
    — ‘ ওক্কে ‘

    নিশুতি রাত। ফাঁকা জায়গা। নিস্তব্ধ পরিবেশ। বেশ বড় মাপের ঘরের দুপাশে দুটো সিঙ্গল বেড। প্রায় পনের ফুট উঁচুতে সিলিং।ঘরে ঢিমে বালব্ জ্বলছে।সাতফুট উচ্চতার সেগুন কাঠের দরজার ছিটকিনি এবং খিল বন্ধ।অমিতাংশুবাবুর কথামতো আর্সিয়ানা যেদিকে শুয়েছে সেদিকের বড় বড় দুটো জানলা বন্ধ করা আছে। তেমন গরম এখনও পড়েনি এখানে।মাঝরাতের পর গায়ে কিছু টেনে নিতে হয়।নি:শব্দ তল্লাটে হঠাৎ একপাল শেয়াল সমবেত স্বরে ডাকতে আরম্ভ করল। আর্সিয়ানার চোখে ঘুম নেই।মাথায় নানা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।ওদিকের খাটে সৌমিনি বেশ খানিকক্ষণ আবোলতাবোল বকবক করার পর এখন ঘুমিয়ে কাদা।হাল্কা নাকও ডাকছে। আর্সিয়ানা ভাবে, সত্যি... সৌমিটা ছেলেমানুষই থেকে গেল।
    মোবাইল খুলে সময় দেখল আর্সিয়ানা। একটা বাহান্ন। এরপর আরও মিনিট পাঁচেক কাটল। চোখের পাতা একটু জুড়ে আসছে যেন।
    একটা চাপা গোঙানিতে ঘুম ছুটে গেল তার। ধড়মড় করে উঠে বসল আর্সিয়ানা। তার বালিশের তলায় রিভলভার আছে। পাশে টর্চ। অবশ্য মৃদু বাতিতে সবই দেখা যাচ্ছে। চিৎ হয়ে শোয়া সৌমিনির দেহে উপুড় হয়ে দখল নিতে চাইছে কে একজন। আর সৌমিনি ছটফট করছে নিজেকে ছাড়াবার জন্য।দরজা জানলা সব ভেতর থেকে বন্ধ। ভয়ে বিষ্ময়ে কন্ঠরোধ হয়ে গেল তার।কিন্তু আর্সিয়ানার স্নায়ু অন্য ধাতুতে গড়া। কয়েক সেকেন্ড লাগল বুকের চাপটা কাটাতে। ঝট করে টর্চের আলো ফেলল সৌমিনির বিছানায়। সৌমিনির শরীরে ওপর অস্থির আকুলিবিকুলিরত এক নগ্ন নারীদেহ। দেখে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল আর্সিয়ানা যে, নগ্ন নারীটি কমলা। আর্সিয়ানা তার আঠাশ বছরের বৈচিত্রময় এবং দু:সাহসী জীবনে এ ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি কখনও। কিন্তু সে অন্য মশলায় তৈরি। এর মধ্যেই আত্মবিশ্লেষণ করে ফেলল। সে সিদ্ধান্তে পৌঁছল যে এটা একটা অ্যাকিউট কেস অফ পেরিফেরাল হ্যালুসিনেশান। সে তাড়াতাড়ি সুইচ বোর্ডের কাছে গেল এবং সুইচে চাপ দিল। আলোয় ভরা ঘরে আর্সিয়ানা কোথাও কাউকে দেখতে পেল না। সৌমিনি চিৎ হয়ে শুয়ে আছে তড়িতাহত এবং বিদ্ধস্ত ভঙ্গীতে। উদভ্রান্ত ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিছানার পাশে দাঁড়ানো আর্সিয়ানার দিকে। আর্সিয়ানা কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় না হয়ে ঢাকা গ্লাস থেকে জল নিয়ে সৌমিনির চোখেমুখে জলের ছিটে দিতে লাগল। তারপর ওই রাতদুপুরেই মোবাইলে ডাক দিল অমিতাংশুবাবুকে। দরজা বা জানলা কিছুই খুলল না সে।
    মোবাইলে রিং হয়ে যেতে লাগল। কেউ ফোন ধরল না। স্লিপিং পিল খেয়ে বিছানায় যাওয়া অমিতাংশুবাবুর বোধহয় ঘুম ছুটল না।

    পুব আকাশে সূর্য উঠে যথারীতি ভোর হল। আর্সিয়ানা দরজা খুলে বারান্দায় এল। দেখল, গাছকোমর করে শাড়ি বেঁধে নীচে চাতালে শুকনো পাতা ঝাঁট দিচ্ছে কমলা। আর্সিয়ানার সব কিছু কেমন গুলিয়ে যেতে লাগল।সৌমিনি এখনও ট্রমায় আচ্ছন্ন।ঘরে শুয়ে আছে।
    সকাল প্রায় নটা নাগাদ একজন ডাক্তারবাবু এলেন। কমলাই ডেকে নিয়ে এল। আর্সিয়ানার অবাক হওয়ার মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ডাক্তারবাবুর ঝাঁঝায় বাড়ি। শিমূলতলায় প্র্যাকটিস করেন।তিনি অবশ্য বিশেষ কিছু বুঝতে পারলেন না।একটা ট্র্যাঙ্কুইলাইজার প্রেসক্রাইব করে গেলেন। ডাক্তারবাবু যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন অ্যালসিসিয়ান মার্কা কুকুরটা ব্যস্তভাবে ছোটাছুটি শুরু করল কমলার আশেপাশে।শান্তশিষ্ট কুকুরটা কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠল।
    আর্সিয়ানা দোতলার বারান্দায় বসে রইল দূরে আবছা নীল পাহাড়ের সারির দিকে চেয়ে। ভাবল, সৌমিনিকে কি আজ রাতে এখানে রাখা ঠিক হবে ! বেচারা এমনিতেই ট্রমাটাইজড হয়ে আছে।সে কিন্তু আজ রাতে কি ঘটে দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। কাল রাতের ঘটনাটা সত্যিই কি হ্যালুসিনেশান ছিল ? নানা চিন্তা ঘোরে আর্সিয়ানার মাথায়। একবার ভাবল, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যাপারটা জানিয়ে রাখবে কিনা। ফাঁড়ির ফোন নম্বর আর্সিয়ানা যোগাড় করেই রেখেছে। তারপরই মনে হয়, এরকম একটা ঘটনায় পুলিশের কি করার আছে। অনেকক্ষণ ধরে সাতপাঁচ ভাবার পর আর্সিয়ানা থানার বড়বাবুকে একটা কল দিল। ওদিকে কে একজন হ্যালো বলার পর একটা ঘড়ঘড় শব্দ হয়ে ফোন কেটে গেল। তারপর বেশ কয়েকবার ডায়াল করার পর হাল ছেড়ে দিল আর্সিয়ানা। প্রত্যেকবারই ঘুরে আসে একই কথা— ডায়াল করা নম্বর নাকি উপলব্ধ নেই, পরিষেবা সীমার বাইরে। ও: ডিজগাস্টিং.... আর্সিয়ানা বিরক্তিতে খানখান হয়। বড়বাবু কি জবাব দিলেন ঠিক শোনা গেল না। ঘড়ঘড় করে আওয়াজ হয়ে লাইনটা কেটে গেল। ওফ্, এই নেটওয়ার্কের সমস্যায় জীবন ঝালাপালা হয়ে গেল। বিরক্তির চিহ্ন ফুটে ওঠে আর্সিয়ানার চোখেমুখে।
    কুকুরটাকে দেখা যাচ্ছে না কোথাও। কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কে জানে। কাকে একটা দেখা গেল ওই দূরে একটা আমগাছের তলায় ঠিক যেন আমগাছটার ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাল্কা ধোঁয়া উড়ছে মনে হচ্ছে এখান থেকে। কোন ব্যাটা বোধহয় ওখানে দাঁড়িয়ে বিড়ি খাচ্ছে।
    টমিকে দেখা যাচ্ছে না অনেকক্ষণ ধরে। বিদ্যুৎতরঙ্গের মতো আর্সিয়ানার মাথায় একটা চিন্তা ছিটকে উঠল। সে তাড়াতাড়ি দোতলা থেকে নীচে নেমে এল। কুঠির চারদিকের বিশাল কম্পাউন্ড ঘুরে কুকুরটাকে খুঁজতে লাগল। না:, কোথ্থাও নেই। আর্সিয়ানা আপনমনে বোকার মতো হাসে। তাই তো ! সে কুকুরটাকে খুঁজে মরছে কেন। দক্ষিণদিকের ওই আমগাছটার দিকে হাঁটতে লাগল শুকনো পাতা মাড়িয়ে মাড়িয়ে যেখানে কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিড়ি খাচ্ছে। মশ্ মশ্ করে আওয়াজ হতে লাগল।নীরব আবহে ওইটুকু আওয়াজই বাতাসে ছলকে ছলকে উঠছে।আমগাছটার তলায় পৌঁছল আর্সিয়ানা। কেমন নির্জন সিরসিরে পরিবেশ।কোন গাছের পাতার আড়ালে বসে একটা পাখি ডাকছে। বাতাস কেটে ভেসে ভেসে চলে যাচ্ছে কুঁড়ুর কুঁড়...... কুঁড়ুর কুঁড় ..... অসীম নীরবতায় রহস্যময় শব্দের মতো।
    অবাক কান্ড। ওখানে কাউকে দেখতে পেল না আর্সিয়ানা। কেউ নেই ধারে কাছে। এ জায়গাটায় আম জাম কাঁঠাল লিচু গাছ যেমন আছে, তেমনি শাল গাছও আছে বেশ কিছু। বেশ ঘন জঙ্গল মতো হয়ে আছে এক জায়গায়। কেমন যেন ঝুঁঝকো আঁধার ওখানে। আর্সিয়ানা ওই দিকেই তাকিয়ে রইল। হঠাৎ দেখে ওই শাল গাছগুলোর আড়াল থেকে অ্যালসেসিয়ানের মতো দেখতে টমি বেরিয়ে এল।

    ( এরপর পরের পর্বে )

    ************************************************







     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন