এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অবাক বাংলা  - ৩ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১০ বার পঠিত
  • ( শেষ পর্ব )

    সাত মিনিট পুরো হবার আগেই অনিলিখা বেরিয়ে এল। সৌমিনি যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেল।

    আর্সিয়ানা সৌমিনিকে বলল, ‘চল ঘরে যাই। প্যাক আপ করে রাখতে হবে। আজ রাতেই হয়ত এখান থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে। হ্যাঁ, আজ রাতে আর ঘরে শোব না কিন্তু। বারান্দাতেই বসব।’
    — ‘ কেন ? ঘরে কোন ডেঞ্জার আছে ?’ খুব স্বাভাবিকভাবে সৌমিনি জিজ্ঞেস করে।যেন আগে থেকেই জানা ছিল কথাটা।
    — ‘ কিছু জানি না। তবে সাবধানের মার নেই। তাছাড়া তোকে এখানে নিয়ে এসেছি।আমার একটা দায়িত্ব তো আছে...’
    — ‘ কেন আমি কি ভয় পেয়েছি ? আমি কি একবারও কিছু বলেছি ?
    আমি চাই মিস্ট্রিটা আনভেইলড হোক।’ সৌমিনি একটু যেন অভিমানী।
    আর্সিয়ানা অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোল করে নেয়— ‘ ও... কাম অন মাই চাম .... আমি কি একবারও সে কথা বলেছি ? আমি কি জানিনা তুই কি .... কাম অন।’ আর্সিয়ানা সৌমিনির অভিমান ভাঙাতে থাকে।
    এইসময়ে দেখা গেল অমিতাংশু তার সান্ধ্যভ্রমণ সেরে গেট খুলে ভেতরে ঢুকছেন। অালো আরো ধূসর হয়ে গেছে এতক্ষণে। নীরব পরিবেশ।
    খাবার টেবিলে আর্সিয়ানাদের সঙ্গে অমিতাংশুবাবুও খেতে বসলেন।বজ্রও একপাশে এসে খেতে বসল। কমলা যথারীতি পরিবেশন করছে। টমি নাছোড়বান্দার মতো কমলার সঙ্গে লেগে আছে। এক মুহুর্ত কমলাকে কাছছাড়া করতে চাইছে না। আর্সিয়ানা খুব মন দিয়ে ঘরের সবাইকে লক্ষ্য করতে লাগল। মাঝে মাঝে একবার অমিতাংশুর দিকে, একবার বজ্রর সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। চোখে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টি। ওদের যেন সামনাসামনি লড়াইয়ে আহ্বান জানাচ্ছে। কেমন যেন জিঘাংসাভরা চাউনি। আর্সিয়ানার দিকে মেলে ধরা সেই প্রার্থনার দৃষ্টি আদৌ নয়।

    পরিবেশন করা হয়েছে রুটি আর মুরগীর মাংস কষা। আর্সিয়ানার খাওয়ায় মন নেই। সে একবার বজ্রের দিকে, একবার অমিতাংশুবাবুর দিকে গভীর মনোযোগে দেখতে লাগল। দেখল দুজনে দুজনের দিকে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। খাবার পড়ে আছে সামনে। কেউ ছুঁয়েও দেখছে না। দুজনের চোখের তারায় যেন আগুন ঝরছে। মনে হচ্ছে এক্ষুণি দুজন দুজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। দুজনকেই সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক লাগছে। কমলা এখানে নেই। বোধহয় রান্নাঘরে কিছু করছে। টমি হঠাৎ প্রচন্ড আওয়াজে ডাকতে আরম্ভ করল। তার শান্ত চোখ থেকেও যেন আগুন ছিটকোচ্ছে। সৌমিনি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়ে আর্সিয়ানার হাতটা জড়িয়ে ধরল। আর্সিয়ানা কোনদিন এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। তার সব হিসেব গুলিয়ে যাচ্ছে। তবে সে একেবারে অন্য ধাতুতে গড়া বলেই মাথা ঠান্ডা রাখতে পারল। টেবিলের ওপরে রাখা মোবাইলে ঝট করে ও সি-র নম্বরটা ছুঁয়ে দিল। চারপাশে এখন ছেয়ে আছে আমাবস্যার নিকষ কালো আঁধার। মুহুর্তের মধ্যে ছাতিমতলার সব আলো ঝপ করে নিভে গেল। কেন কে জানে !
    টমি উন্মত্তের মতো চেঁচাতে লাগল। একটা ছায়া অমিতাংশুর টেবিল থেকে উঠে এসে আর্সিয়ানাকে জড়িয়ে ধরল। তীব্র আতরের গন্ধে ভরে গেল জায়গাটা। রিভলবারটা আর্সিয়ানার পকেটের মধ্যেই ঘুমিয়ে আছে।

    দুমিনিটের মধ্যে অন্ধকার ভাঙা হেডলাইটের আলো জ্বলা পুলিশের জিপ এসে দাঁড়াল ছাতিমতলার ভাঙাচোরা লোহার গেটের সামনে।

    থানার ও সি সুদীপ্ত সেন প্রবাসী বাঙালী। জোরালো টর্চ জ্বেলে পাঁচজন কনস্টেবলসহ ছাতিমতলা বাংলোর রান্নাঘর থেকে আর্সিয়ানা আর সৌমিনির অচেতন দেহ যখন উদ্ধার করলেন ঘড়িতে তখন সাড়ে নটা বাজে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে দু একটা নিভন্ত অাঁচের আলো জ্বলছে। ছড়ানো খামারে থেকে থেকে দমকা হাওয়া বইছে গাছগুলোর ডালপালার মধ্যে দিয়ে।

    আর্সিয়ানার যখন ঘুম ভাঙল, পুলিশ গেস্টহাউসের দোতলার ঘরের জানলা দিয়ে ঢুকে আসছে আসছে বসন্তের হাওয়া মাখানো রোদ্দুর। এক ডাক্তারবাবু আর্সিয়ানার বিছানার পাশে বসে তার হাতে ব্লাডপ্রেসার মেশিনের প্যাড বাঁধছেন। সৌমিনির এখনও ঘুম ভাঙেনি।
    সুদীপ্ত সেনের বছর বত্রিশ বয়েস। সুঠাম দীর্ঘ শরীর। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলল, ‘ হাই, গুড মর্নিং ম্যাডাম।’
    আর্সিয়ানা ধড়মড় করে উঠে বসে ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া দৃষ্টিতে সুদীপ্তর দিকে তাকিয়ে থাকে, যার মানে হল— এটা কি হল !! তারপর রিভলবারের খোঁজে পকেটে হাত দেয় অভ্যাসবশত:। সুদীপ্ত উত্তমকুমারি স্টাইলে হেসে বলে, ‘ ওটা আপাতত: আমার জিম্মায় আছে।একটু পরেই ফেরত পাবেন। আর এই নিন আপনার মোবাইল। আর এটা বোধহয় ওই ম্যাডামের।
    সৌমিনির এতক্ষণে ঘোর কেটেছে। পিটপিট করে হতভম্বের মতো তাকিয়ে আছে তার পরম ভরসা আর্সিয়ানার দিকে। ডাক্তারবাবু তার যন্ত্রপাতি গোটাতে গোটাতে বললেন বি পি বিলকুল নর্মাল, একশো চল্লিশ বাই আশি। কোন মেডিসিন প্রেসক্রাইব করলাম না।বলে, তিনি সৌমিনির বিছানার দিকে এগোলেন।

    প্রায় ঘন্টা দুই বাদে সুদীপ্ত সেন বলল, ‘ শৌভিক আমার স্কুল লাইফের বন্ধু ছিল। খুব ক্লোজ। ও আমাকে ফোন করে আপনার এখানে আসার কথা বলেছিল।আপনার ফোন নাম্বারও আমাকে দিয়েছিল। কিন্তু আপনি যে ছাতিমতলা বাংলোয় উঠেছেন সেটা আমি একদমই জানতাম না। জানলে, আমি প্রথমেই আপনাকে অ্যালার্ট করতাম।’
    — ‘কেন তার কারনটা কি ?’
    — ‘ কারণ আপনি দেহধারি মানুষের সঙ্গে হয়ত টক্কর নিতে সক্ষম। অশরীরিদের সঙ্গে তো নয়......’
    — ‘ তার মানে ? ‘, আর্সিয়ানার ভুরু কুঁচকে যায়। তারপর বলে, ’ হ্যাঁ, ওই টমি বলে কুকুরটা.....আই ওয়াজ হ্যাভিং আ স্ট্রঙ্গ হানচ অ্যাবাউট ইট...... বাট....
    — ‘ না না বাট টাট কিছু নেই। ওখানে কারোরই শরীর নেই। অর্থাৎ বেশ কিছুকাল আগেই সকলে পরলোকগত।’
    শুনে সৌমিনির চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।সে একদৃষ্টে কোন কথা না বলে সুদীপ্তর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। অার্সিয়ানার ভুরু আবার একবার কুঁচকে ওঠে।
    — ‘ আমার কাছে ছাতিমতলার পুরো কেস হিস্ট্রি আছে।এটা আসলে দুই সেক্স ম্যানিয়াকের গল্প। দুজনেরই সেক্সুয়াল টার্গেট ছিল কমলা। অবশ্য কমলাও কিছু কম যায়না। সে দুজনেরই তৃপ্তি মিটিয়ে চলছিল। অমিতাংশুবাবুকে শরীর দিচ্ছিল টাকার ধান্দায় আর বজ্রের কাছে যেত নিজেরও ক্ষুধা মেটানোর জন্য। অমিতাংশুবাবু আর বজ্র। ভূত হয়েও এরা নারী শরীরের নেশা ছাড়তে পারেনি। অদ্ভুত ব্যাপার হল, যৌনতা মেটাবার জন্য এরা কমলার শরীরে ঢোকে।ইরোটিক অ্যাবারেশান যে কত রকমের হয় ! অশরীরিদেরও অতৃপ্ত কামনা বাসনা থাকে। তারই পরিণতি হল পরশু রাত্রে সৌমিনি ম্যাডামের ওপর অ্যাটাক। এই দুই করাতের মাঝে পড়ে বেচারা ঝগরুকে জান দিতে হল। কে বা কারা গলার নলি কেটে মার্ডার করে, তারপর বাগানের আমগাছের ডালে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। কে মেরেছিল সেই ইনভেস্টিগেশান এখনও চলছে। আপনার ওই টমি কুকুরটা হল ঝগরু। এখনও কমলাকে আগলে চলেছে দুই কামুকের গ্রাস থেকে। বেচারা কমলাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভাল বাসত। একফুল দো মালির গল্পে প্রায়ই এক মালিকে প্রাণ দিতে হয়। কম্পাউন্ডের মধ্যে একটা ছোট্ট ডোবা মত আছে, তার জলে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল বজ্র। অমিতাংশুবাবু স্লিপিং পিল খেয়ে আর কমলা অমিতাংশুর ঘরেই সিলিং ফ্যান থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পৃথিবী থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল। কারণ, আমি যা বুঝেছি দুজনেই প্রচন্ড মেন্টাল স্ট্রেস অ্যান্ড গিল্ট কনসেন্সের শিকার হয়ে পড়েছিল।ওই যে কথায় বলে না পাপ বাপকেও ছাড়ে না। অবশ্য মৃত্যুর কারণগুলো আমার ব্যক্তিগত ধারণা এবং অনুমান। জুডিশিয়াল ইনভেস্টিগেশান ইজ স্টীল অন। ব্যাস ম্যাডাম, আমার কথাটি ফুরলো......এবার একটু ফ্রেশ হয়ে নিন।তারপর ব্রেকফাস্ট করবেন। এ দুদিন তো ভূতের হাতে দিব্যি খাওয়াদাওয়া করে এলেন।’
    —-‘ আরে ... দাঁড়ান দাঁড়ান, কি সব বলছেন..... এই তো কাল দুপুরে দুজন মহিলা মাদুর বিক্রি করতে এসেছিল......’
    — ‘ ইয়েস ইয়েস... বুঝতে পেরেছি.... ‘ অার্সিয়ানার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলে সুদীপ্ত, ‘ ওরা যে রক্তমাংসের মানুষ সে কথা কে বলল আপনাকে ?’
    — ‘ তার মানে ! ! ‘
    — ‘ মানেটা নিজেই বুঝে নিন ....’
    অার্সিয়ানার ভুরু আবার কুঁচকে উঠল। সৌমিনি হাঁ করে তাকিয়ে উঠল। দুজনেরই শিরদাঁড়া বেয়ে কোন হিমশীতল সরীসৃপ সিরসির করে নামতে লাগল পরশু রাতের কথা মনে করে। কপালে ঘাম দেখা দিল দুজনেরই।
    সুদীপ্ত একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘ না:, আপনারা রেস্ট করুন। আধঘন্টা পরে ব্রেকফাস্ট লাগাচ্ছি। আর হ্যাঁ, আপনাদের ট্রেন পাঁচটা তেত্রিশে।আমি গিয়ে আপনাদের ট্রেনে তুলে দিয়ে আসব।ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে যান বাবা। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। আর হ্যাঁ, আপনারা নিশ্চই ভাবছেন, আমি ছাতিমতলার এত কিস্যা জানলাম কি করে। এসব কথা তো পুলিশ ফাইলের কেস হিস্ট্রিতে থাকার কথা নয়।’
    অার্সিয়ানার কানে কিছুই ঢুকছিল না। মাথায় নানা চিন্তা ভোঁ ভোঁ করছে। সৌমিনি পাশ বালিশ আঁকড়ে আবার শরীর ফেলে দিয়েছে বিছানায়। আর্সিয়ানা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে সুদীপ্তর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
    সুদীপ্ত উত্তমকুমারি হাসি হেসে আবার বলে, ‘ সেকথা এখন থাক ম্যাডাম। ক্রমশ: প্রকাশ্য ... ‘

    পরদিন ভোরে বাড়ি পৌঁছল আর্সিয়ানারা। সকাল এগারোটা নাগাদ শৌভিক চ্যাটার্জীকে একটা কল দিল। শৌভিককে একবারেই পাওয়া গেল। হাই হ্যালোর পর শিমূলতলা বৃত্তান্ত আগাপাস্তলা বর্ণনা করে। অবিশ্বাস্য ব্যাপারটা পুরোটা রুদ্ধশ্বাসে শোনার পর বলে ওঠে, ‘ দাঁড়াও দাঁড়াও ....কি বললে ? আমার বন্ধু পুলিশ অফিসার সুদীপ্ত সেন ! ‘
    — ‘হ্যাঁ হ্যাঁ সুদীপ্ত সেন... রিয়েলি এ গ্রেট গায়। হি ওয়াজ, ইন ফ্যাক্ট, আওয়ার সেভিয়ার দেয়ার। ও না থাকলে উই উড হ্যাভ বিন...... ‘ আর্সিয়ানা মুখর হয়।
    — ‘ আরে দু..ৎ, কি সব গাঁজাখুরি গল্প শোনাচ্ছ ! সুদীপ্ত তো এক্সপায়ার করে গেছে মাস ছয়েক আগে কোন এক টেররিস্ট এনকাউন্টারে ওখানে কাছাকাছি কোন এলাকায় ..... ‘
    — ‘ সেকি ! ....’ আর্সিয়ানা আকাশ থেকে পড়ে। ‘ ও তো বলল, তুমি ওকে কল করে আমাদের টেক কেয়ার করার কথা বলেছিলে.....’
    — ‘তাই নাকি ?’ শৌভিক সরস হয়। ‘ আর্সিয়ানা, এর থেকে প্রমাণ হল ভূতেরাও শিভালরাস হয় .... হা: হা: হা: .... আর অমিতাংশুবাবুই তো আমাকে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর অ্যারেঞ্জ করার জন্য। ওহ্ মাই গুডনেস.....কিছু ভূতের, তার মানে, স্বভাব যায় না ম’লেও.....’

    ফোন নামিয়ে রেখে আর্সিয়ানা সিদ্ধান্ত নিল ছাতিমতলায় তাকে আর একবার যেতেই হবে। টমি কাম ঝগরুর প্রতি নিশ্চিতভাবেই তার একটা কর্ত্তব্য রয়ে গেছে।

    ( সমাপ্ত )
    **************************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন