এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দেশের স্বার্থ

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৮৩ বার পঠিত
  • নেতাজির অপমান নিয়ে, আদি "রাষ্ট্রবাদী"দের হাহাকার দেখলে কীরকম গাল টিপে দিতে ইচ্ছে করে। সন্টামনা বলে। কী নিষ্পাপ, কী সরল। আরে বাবা, এ তো কোনো গোপন কথা না, যে, সুভাষচন্দ্র শ্যামাপ্রসাদের সভা ভন্ডুল করে দিতেন, তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীদের একদম দেখতে পারতেন না। এও কোনো গোপন কথা না, যে, এ হেন সুভাষকে রবীন্দ্রনাথ 'দেশনায়ক' উপাধি দিয়েছিলেন, শ্যামাপ্রসাদকে কিসুই দেননি, কারণ তিনি তখন যখন শ্যামাপ্রসাদ ব্রিটিশের পদলেহনে ব্যস্ত ছিলেন। এবং সবচেয়ে বড় কথা, রবীন্দ্রনাথ আরে সুভাষ দুজনেই দেশভাগের চূড়ান্ত বিরোধী ছিলেন, যে বাংলাভাগ আর তাতে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের এত বারফট্টাই। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে, ৪৭ সালে রবীন্দ্রনাথ বা সুভাষ থাকলে বিড়লা-ইস্পাহানিদের সাধের বাংলাভাগের প্রকল্পে তুমুল বাগড়া দিতেন।

    এবং এই আদি রাষ্ট্রবাদীদের আরও ট্র‌্যাজেডি হচ্ছে, এঁদের দলের নেতারা। খোদ মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কৌস্তভ বাগচি কিংবা শিলিগুড়ির শঙ্কর ঘোষ, কোনো না কোনো সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে আরেসেসের ভূমিকা নিয়ে মনোজ্ঞ সব বক্তব্য রেখেছেন। ইন্টারনেটে খুঁজলেই দেখতে পাবেন। এঁদের উপর ভরসা করেই আদি "রাষ্ট্রবাদী"রা চলেছেন, কিন্তু এঁরা কেউ 'সহি' হিন্দুত্ববাদী না। কেউ এসেছেন তৃণমূল কিংবা কংগ্রেসের উপর শোধ নিতে, কেউ এসেছেন ধান্দায়। দোষের কিছু নেই, শ্যামাপ্রসাদও, অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছেন, এইরকম কারণেই মহাসভায় ঢুকেছিলেন। কংগ্রেসে থাকলে তো আর এত সহজে নেতা হওয়া যেতনা। ফলে নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদ, হিন্দুত্ব, প্রশাসন, এই সব নিয়ে এই নেতাদের কোনো মাথাব্যথাই নেই। কী করে ক্ষমতায় এলেন তাও জানেন না। দিল্লি থেকে অর্ডার এলে সেই অনুযায়ী ইয়েস-স্যার বলে দেন, গালও খান। আর যে কোনো সংকটে দিল্লির দিকে 'পার করো মা ভবতারিণী' বলে তাকিয়ে থাকেন।

    দিল্লির আবার একমাত্র ছক হল, কীকরে ডিলিমিটেশন-টেশন করে কোনোক্রমে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া যায়। বাংলায় কী হল, কিসু এসে যায়না। নেতাজিকে ওঁরাও দুচোখে দেখতে পারেন না, নেহরুর চেয়েও বেশি। ফলে একজন নেতাজিকে কার্যত গুন্ডাদলের সর্দার বলছেন, অন্য একজন কী বলছেন বোঝাও ভারি কঠিন, কিন্তু সবই দিল্লির সুতোয়। আর আপনাদের বলা হচ্ছে, দেশের স্বার্থে এদের কিছু করা যাবেনা। যেরকম শুনেছেন, তৃণমূলের সাংসদদের দেশের স্বার্থে দলে নিতে হবে। এর আগে শুনেছেন, দেশের স্বার্থে এসআইআর। এরপর শুনবেন নব্য বিজেপিরা ইন হয়ে আপনাদের আউট করে দিল, সেও দেশের স্বার্থে। তোলাবাজি নিয়ে কিছু বলা যাবেনা, সেও দেশের স্বার্থে। অ্যাকাডেমির দেয়াল গেরুয়া হবে, দেশের স্বার্থে। আর কী কী দেশের স্বার্থে হবে কেউ জানেনা, হয়তো বলল বঙ্গাললোগ বাংলাদেশ যাও। কিংবা শ্রাবণ মাসে নিরামিষ খাও। সবই দেশের অ্যাকাউন্টে।

    তো, দেশের স্বার্থে যতখুশি আত্মত্যাগ করুন, দুচ্ছাই সহ্য করুন, লাথি খান, ঝাঁটা খান, সে আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কোনো সমস্যা নেই। খালি এরকম অবোধ বালকের মতো সরল বিস্ময় প্রকাশ করবেন না। যা হবার তাইই হচ্ছে। আপনাদের বুদ্ধিমত্তার অভাব এরকম প্রকট হয়ে গেলে, দেখতে খারাপ লাগে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০৪:১৫742240
  • আহা, দেশের স্বার্থে "বুদ্ধিমত্তার অভাব এরকম প্রকট হয়ে গেলে, দেখতে খারাপ" লাগলেই বা কি! ওটুকু সয়ে নোবো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন