"এই আমাকেই দেখুন না, থামানোর কত চেষ্টাই না হল। 'চটিচাটা' কুচ্ছো দিয়ে শুরু। বিপুল একটা চ্যানেল গোষ্ঠী সোশাল মিডিয়া থেকে নির্বাসিত করার চেষ্টা করলেন। এইসব।"
এই ব্যাপারটি একটু বিশদে লিখতে পারতেন। সোস্যাল মিডিয়া থেকে কাউকে নির্বাসিত করা যায় কি?
আপনার লেখাটির মধ্যে দুটো বিষয় আসছে, প্রথমত জয় গোস্বামীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা একটা টকিং পয়েন্ট, যা হচ্ছে ক্যানসেলিং এর থেকেও বিশ্রী | জয় গোস্বামীদের মত লোকের কথা শুনব না এক রকম, আর তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিযে অপমান করার সংস্কৃতি (যদি তাকে আদৌ সংস্কৃতি বলা যায়), অন্য রকম। এটা মনে হয় ভারতের টিভি চ্যানেলের অবদান। এঁরা এইটাই দেখতে অভ্যস্ত | বিজেপির আমলে বাক স্বাধীনতায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় নিরন্তর হস্তক্ষেপ হচ্ছে, অনভিপ্রেত। টিভি চ্যানেলে যখন গর্গকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অর্ণব গোস্বামী অপমান করেছিলেন, আমার মনে হয় না কেউ গর্গর বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে প্রতিবাদ করেছিলেন, এই লোক ডেকে নিয়ে এসে অপমান করাটাই এদের ইউএসপি। আটা মারি বালোচের মত কেউ কেউ আবার একই রকম দুর্মুখ, এবং দেখা যায় কিছু লোক আবার সেসব বিস্তর ফলাও করে রিল বানিয়ে প্রচার করেন। দুটিই আপত্তিকর, কিন্তু এই চলছে, এর বিশ্রি বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল জয় গোস্বামীর বিরুদ্ধে আচরণে।
"শুধু তসলিমা কেন, প্রতিটি বুদ্ধিজীবীর দুই বাংলার সর্বত্র অবাধে গিয়ে নিজের কথা বলার স্বাধীনতা থাকা উচিত।"
আপনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি পুরোপুরি সহমত, এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে সমস্যা এক নয়, বহু, সব দেশের তরফেই |
আজ থেকে ২৫ বছর আগে আমি নিজে ভুক্তভোগী, ভারতে থাকার সময় করাচির আগা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারত থেকে আমন্ত্রিত হয়ে লেকচার দেবার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি | পাকিস্তানের ভিসা পাওয়া নিয়ে প্রচুর ঝামেলা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত ভিডিও কনফারেনস করে লেকচার দিয়েছিলাম, অথচ সেই একই ওয়ার্কশপে যারা আমেরিকা বা বিলেত থেকে এসেছিলেন, তাদের বেলায় কোন সমস্যা হয়নি। এই সমস্যা উপমহাদেশের সমস্যা, এর সমাধানের দায় সব পক্ষের। ভিসা পেয়েছিলাম, ওয়ারকশপ শেষ হবার পরের দিন |