এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  সমোস্কিতি

  • বাঁকিপুর

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    সমোস্কিতি | ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ৮৭ বার পঠিত
  • বাঁকিপুরে বিজেপির লজ্জাজনক পরাজয়ের পরেও দেখছি, উল্টো শিবিরে অনেকেই খুঁতখুঁত করছেন। কারণ প্রশান্ত কিশোর জিতেছেন।মানে, সেই বি-টিমের গল্প আর কি। নতুন কিছু না। এর আগে সোনম ওয়াংচুক ছিলেন বি-টিম, তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারও আগে অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এবার, সত্যি বলতে কি, ক্ষমতার অলিন্দে কে কার সঙ্গে গুজগুজ করে, কে কার এ-টিম বি-টিম আমি জানিনা। যাঁরা খুঁতখুঁত করছেন, তাঁরাও না। কিন্তু একটা জিনিস জানি। যে বি-টিম তৈরি করতে হলে সেটা হতে হবে ঋতব্রতর মতো। মানে দুগ্ধপোষ্য আর কি। সাধ করে কেউ নিজের দলের বিরুদ্ধেই বাঁশ দিয়ে সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনে বসিয়ে দেয়না। সাধ করে কেজরিওয়ালের মতো বি-টিমের নেতাদের জেলের ঘানি টানায়না। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বাঙালি ঠ্যাঙানো তৃণমূলকে জেতানোর জন্য হয়নি। আর নিজের জেতা আসনে গোহারান কেউ সাধ করে হারেনা। ওসব শুধু হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' চ্যাপ্টারে লেখা থাকে। হ্যাঁ, কোথায় কার কী বোঝাপড়া থাকতে পারে, এ আমি জানিনা। কিন্তু নিজের পশ্চাদ্দেশে ছুঁচোবাজি জ্বালিয়ে দেওয়াকে মাস্টারস্ট্রোক বলেনা, এইটা বিলক্ষণ জানি। এই সোনম ওয়াংচুকই ধরুন, লাদাখ চলে গেছেন। কিন্তু ছুঁচোবাজি যা জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন, তাই যথেষ্ট।

    তাই ইতিবাচক দিকটা দেখুন। হ্যাঁ, এটা উপনির্বাচন ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, বিজেপি, কেউই সেভাবে ঝাঁপায়নি। বড়ো নির্বাচনে ঝাঁপাবে। কিন্তু তাও এই ফলাফল ফেলনা না। বাঁকিপুর বিজেপির গড়। ১৯৯৫ সালের পর থেকে এখানে বিজেপি কখনো হারেনি। এবং ২০০০ সাল থেকে বিজেপি এই আসনে কোনোদিন ৫০ শতাংশের নীচে ভোট পায়নি। কীরকম ভোট পেয়েছে কবে দেখুনঃ

    ২০০০ঃ ৫৪.৯
    ২০০৫ঃ ৫৯.১
    ২০০৬ উপনির্বাচনঃ ৮২.৩
    ২০১০ঃ ৭২.১
    ২০১৫ঃ ৬০.২
    ২০২০ঃ ৫৯.১
    ২০২৫ঃ ৬২.৭

    এবার ২০২৬ এ সেই শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৪.৪। ২৮ শতাংশ ভোট গায়েব।

    কে জিতেছেন, বড় কথা না। এই বিপুল ভোট হারানো, একটা জিনিসই দেখায়। বিজেপির জনসমর্থনে শুধু ধ্বস না, সঙ্গে সাইক্লোনেরও বড় ধাক্কা লেগেছে। এর একটা বড় কারণ ছাত্র-যুবদের আন্দোলন। সেটাকে স্বীকৃতি না দেবার কিছু নেই। এবং আরও একটা জিনিস মনে রাখতে হবে। প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৫০% ভোট আর তেজস্বী যাদবের দল পেয়েছে ১০%। বিজেপি-বিরোধীতার ভোট ৬০%। এখানে বিজেপিই ২০০৫ থেকে ৬০% বা তার বেশি ভোট পেয়ে আসছে। উপনির্বাচনে তো আরও বেশি। কিন্তু ফল পুরো উল্টে গেছে এই নির্বাচনে। বিজেপির দুর্গ ভেঙে গেছে শুধু না, একদম পতন হয়েছে।

    এই পুরোটাকে যদি জনতার রায়ের নিরিখে দেখেন, তো দুটো জিনিস দেখবেন। এক, জনতা শুধু বিজেপি-বিরোধিতা করেনি। একজন বিরোধীকে জিতিয়ে ছেড়েছে। রীতিমতো ব্লক ভোটিং করে। দুই, এলাকাটা শহুরে। ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব নিঃসন্দেহে বেশি। তারা বেছে নিয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে। আন্দাজ করতে পারি, ভবিষ্যতে এইভাবেই বিজেপি-বিরোধী দলকে বেছে নেবেন ভোটাররা। কোথায় কাকে নেবেন জানিনা। কিন্তু বিজেপি-বিরোধিতা যেখানে পৌঁছেছে, সেখানে ভোটাররা একদম জোট বেঁধে একের বিরুদ্ধে এক ভোট দেবেন। সে যদি বি-টিম হয় তো তাইই সই, বিজেপিকে চাইনা। এই হল মুড।

    এই জায়গাতেই আমাদের বিরোধী নেতারা পিছিয়ে আছেন। এই মুডটা ২০২৪ সালেও খানিকটা ছিল। এতটা না, তখনও তো এই আন্দোলন হয়নি, কিন্তু অনেকটাই ছিল। বিরোধী নেতারা হাওয়াটা তুলতে পারতেন, কিন্তু না তুলে এ-টিম বি-টিম চুলোচুলি করে গেছেন। আমরা কিছু লোক চেঁচিয়েছি, ফল হয়নি। অবশেষে ছাত্র আন্দোলন ঘাড়ে ধরে দেখিয়েছে, যে, ওটা পথ না। সবাইকে এক জায়গায় আসতেই হবে। এবং এখন বিহারের একটা উপনির্বাচন সেই একই জিনিস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সঙ্গে আরেকটা জিনিসও দেখাল, যে, যদি নেতারা নিজের কর্তব্য না করতে পারেন, ১-১ লড়তে না পারেন, তো কোনো একজনকেই বেছে নেওয়া হবে। তাঁরাও কার্যত হারবেন। হ্যাঁ, পুরোদস্তুর নির্বাচনে বিজেপি জোর দিয়ে নামবে। কিন্তু ৬০-৪০ বা ৭০-৩০ এর ব্যবধান কোন জ্ঞানেশই মেটাতে পারবেন না।

    ফলে সঙ্কেতটা শুধু বিজেপির জন্য না। বিরোধীদের জন্যও। সারা ভারতে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গেও যাঁরা লাফাচ্ছেন, অমুককে মেরেছে তো ঠিক আছে, তাঁরা এই ব্যাপারটা এইবার বুঝে নিলেই মঙ্গল।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • সমোস্কিতি | ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ৮৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন