এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শোৱার সাম্রাজ্য

    upal mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১৫ বার পঠিত
  • - পলাশীর পর ইংরেজ মাফিয়ারা ব্রিটিশ ইনফ্যান্ট্রি আর ব্রাউন বেস বন্দুক - কাস্ট আয়রনের তোপের জোরে ধান চাল সুপুরি, বস্ত্র, অন্যান্য ধাতু সহ সবকিছুর ওপর একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার কায়েম করে……
    - উঁহু হলো না।
    - কী?
    - আসল জিনিসটাই বাদ দিলে।
    - কী?
    - অন্য কিছুর মত, অন্য অনেক কিছুর মতো বা তার থেকেও অনেক গুরুতর কিছু এক মাল, একটা কিছু যার জন্য কালাপানি ঠেলে ঠেলে এখানে আসা।
    - কী সে?
    - আজকের তেল, ইউরেনিয়াম কিম্বা রেয়ার আর্থের মতো।
    - বলবে তো কোন সে মাল?
    - শোরা (saltpetre)! ব্রিটিশ কামানের যে ভেল্কির সামনে আলিনগরের পতন হয় বা পলাশীর যুদ্ধ জয় হয় তাতে সুবে বাংলা শোরার কৃতিত্ব কম কি?

    বারুদে শোরা (পটাশিয়াম নাইট্রেট), গন্ধক(সালফার - brimstone), কাঠকয়লা আছে সেই আদ্দিকাল থেকে। কাঠকয়লায় দহন (combustion), গন্ধকে জ্বলন (ignition) হচ্ছে আর শোরা লাগছে অক্সিজেন যুগিয়ে আকস্মিক দহন জনিত বিস্ফোরণে (deflagaration)। সে যুগের একাধারে গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ম্যাপ প্রণেতা আর সর্বোপরি বিখ্যাত গোলন্দাজ নাথানিয়াল নাইয়ের The Art of gunnery (London, 1647Nathanael Nye) বইটা থেকে জানা যাচ্ছে যে বারুদের কার্যকারীতা সবচেয়ে বেশি হয় শোরার ভাগ ছয় গুন বেশি রাখলে, অর্থাৎ, বারুদ মানে মূলত শোরা যার অন্য দুটি উপাদান সহজলভ্য হলেও শোরার আকাল ছিল। মুশকিলটা হলো এই যে প্রাণীর বর্জ্য নাইট্রেট মাটিতে পড়ে পড়ে যে শোরার উপাদান হয় তা খুঁজে পেলেও, সেই মাটি থেকে উৎকৃষ্ট শোরা বার করার পদ্ধতি জেনে গেলেও কীভাবে, কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সে নাইট্রেশন হয় তা বোঝা যায় নি পাশ্চাত্যেও, ফলে কৃত্রিম শোরার উৎপাদন প্রণালী অধরা থাকে। গোবর রঙা শোরা সমৃদ্ধ মাটি দেখে সে সময়ের দিকপাল বিজ্ঞানী রবার্ট বয়েল বললেন, ”হুঁ, ব্যাপারটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভেবে দেখতে হচ্ছে (may well deseve our serious enquiries)।’’ ( Saltpetre, State Security and Vexation in Early Modern England, David Cresse ) কিন্তু ভেবেও কিছুই হয় না, উল্টে রাজার বারুদের অনন্ত খিদে মেটাতে টিউডর (চোদ্দশ পঁচাশি থেকে ষোলশ তিন) বা স্টুয়ার্ট যুগের (ষোলশ তিন থেকে সতেরশো চোদ্দ) ইংল্যান্ডে প্রজার ঘরবাড়ি, ক্ষেত খালিহান ভেঙেচুরে শোরার কাঁচামাল সংগ্রহ করে আনতে গিয়ে অনেক প্রজা্র সম্পত্তিনাশ, অনেক নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ হতো। এর সমাধানে ব্রিটিশ রাষ্ট্র ইউরোপের অন্য দেশ থেকে আমদানি করত শোরার, কিন্তু তাতে অনেক কড়ি গুনতে হচ্ছে যার জের সেই প্রজাকেই টানতে হয়। ঠিক এখানেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত থেকে আমদানি করে আনা সস্তা শোরার অফুরন্ত সরবরাহের গুরুত্ব, তা বিলেতের অনেক সামাজিক অশান্তি কমিয়ে দিচ্ছে আর গ্রেট ব্রিটেনকে করছে সুরক্ষিত।

    সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে ওলন্দাজদের সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ভারত থেকে ইংল্যান্ডে আনা শোরার গুরুত্ব বেড়ে যায়। নাইট্রেট সমৃদ্ধ মাটি থেকে নুনিয়াদের তৈরি শোরা পাটনা, বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ, করমণ্ডল উপকূল, মালাবার আর মুম্বাই থেকে গিয়ে ইংল্যান্ডের রাজার তোপখানা ভরছে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতে মোট বিনিয়োগের পঞ্চাশ শতাংশ ছিল শোরার ব্যবসায়ে। এক্ষেত্রে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সপ্তদশ শতকের শেষ থেকে অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিলেতে আমদানিকৃত শোরার পরমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলে। পলাশীর পর এখা যাচ্ছে গ্রেট ব্রিটেন পৃথিবীর শোরা উৎপাদনের সত্তর শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে হচ্ছে সর্ববৃহৎ সামরিক শক্তির অধিকারী সাম্রাজ্য যা সোনা–রুপোয় নয় শোরার সঞ্চয়ে ভীতিপ্রদ।

    ভারত থেকে কোম্পানি দ্বারা গ্রেট ব্রিটেনে শোরা আমদানি (টনে)

    ১৬৩০ এর দশকে
    ২৮৮

    ১৬৬৪
    ৫৮৯

    ১৬৬৫
    ৬৫৯

    ১৬৬৯
    ১০৩৭

    ১৬৭০ এর দশকে গড়
    ৬৩২

    ১৬৮০ এর দশকে গড়
    ৭৩৩

    ১৭৩০ এর দশকে গড়
    ৮৪০ এর বেশি

    ১৭৪০ এর দশকে গড়
    ১৩৯৯ এর বেশি
    উপল মুখোপাধ্যায়ের বেগম রানী কম্যান্ডার ডকুফিকশনের অংশ
    সূত্র : Saltpetre, State Security and Vexation in Early Modern England, David Cressey
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন