এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্কুলের খাতা

  • শিক্ষায় সফলতা এবং সফলতার শিক্ষা।

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    স্কুলের খাতা | ১৭ মে ২০২৬ | ২২৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • শিক্ষায় সফলতা এবং সফলতার শিক্ষা।

    ১.

    সেদিন কানে এলো আমার প্রতিবেশী এক মা - ছেলের কথোপকথন। মা যশোদা দেবী তাঁর গোপালকে উদ্দেশ্য করে বলছেন –
    – “বাবা,গোপাল! আমার কথা মন দিয়ে শোন। আমি লক্ষ করছি তুই কিন্তু ইদানিং ভীষণ রকমের অমনোযোগী আর চঞ্চল হয়ে উঠেছিস্। রনি দাদাকে দেখেছিস্ ? তোর্ মতো সে সারাদিন খেলে বেড়ায় ? এভাবে চললে জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারবি না,এ কথা আমি তোকে সাফ বলে দিলাম। কান খুলে শুনে রাখ্। মনে রাখিস, তোকে সফল হতে হবে।”

    মা যশোদার এমন আক্রমণাত্মক ঝোড়ো ইনিংসের পর গোপালের মুখ থেকে কথা সরে না। সে টানটান শরীরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু সে আর কতক্ষণ! ঝড় সামলে নিয়ে মা যশোদা একটু ধাতস্থ হয়েছে দেখে গোপাল খুব শান্ত গলায় বলে –
    – “মা একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?”-- গোপাল এখন ব্যাকফুটে।
    ছেলের মুখে এমন কথা শুনে মা যশোদা মনে মনে এক প্রস্থ হেসে নিলেন। কিন্তু মনের ভাব মুখে প্রকাশ করা চলবে না। তাহলেই ওষুধের গুণ কেটে যাবে। গম্ভীর গলায় মা যশোদা বললেন –
    – “তোর আবার কী কথা শুনি? আমার মেলা কাজ বাকি আছে। যা বলার তাড়াতাড়ি বল্। ”
    – “না, তেমন কিছু নয়। বলছিলাম কি, ‘সফলতা অর্জন’ মানে কী ? তুমি তো আগে কখনো এই শব্দটা আমাকে বলনি। বলনা মা,সফল হ‌ওয়া বলতে তুমি ঠিক কী বলতে চাইছো ?”

    বছর সাতেকের ছেলে গোপালের মুখে এমন একটা প্রশ্ন শুনে মা যশোদা দেবীতো রীতিমতো হতবাক। সফলতা মানে কী ? মা যশোদা আমতা আমতা করতে থাকেন? স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননা। মাকে অপ্রস্তুত হতে দেখে গোপাল বেশ মজা পায়। আপাতত গোপাল আর যশোদাকে ছেড়ে একটু অন্য গল্প ফাঁদি।

    ২.

    বেশ পুরনো এক অভিজ্ঞতার কথা বলি বরং। এক শিক্ষক ওয়ার্কশপে গিয়েছি। কলকাতার সব নামীদামি স্কুলের মাস্টারমশাই দিদিমণিরা হাজির সেখানে। বিশেষজ্ঞদের মুখে জ্ঞানগর্ভ আলোচনার ফাঁকে সামান্য ফুরসৎ মিলতেই সবাই নিজেদের স্কুলের গরিমা প্রকাশে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। চুপ করে বসে এই তরঙ্গিত কথালাপ শুনতে শুনতে কেমন একটা ঘোর লাগে। আমাকে ওভাবে বসে থাকতে দেখে এক মাস্টারমশাই বলে ওঠেন – “আরে স্যার! আপনি কিছু বলছেন না তো !” আমি মৃদু হেসে বললাম – আপনারা সবাই যেই মাপকাঠিতে আপনাদের স্টুডেন্টদের সফলতাকে মাপছেন, আমরা ঠিক সেইভাবে আমাদের সফলতাকে দেখতে চাইনা। ঠিক কতজন পড়ুয়া ইন্জিনিয়ারিং অথবা মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সফল হলো তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় কতজন শিক্ষার্থী পরবর্তী জীবনে সচেতন নাগরিক হয়ে উঠবে তার সম্ভাবনার ওপর। ছাত্রদের মনে এই ভাবনাটা গেঁথে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। তারপর কে কোন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করলো, সেটাতো একান্তই তাদের নিজস্ব উদ্যোগের, উদ্যমের বিষয়।” এতোক্ষণ কলকলিয়ে কথা বলতে থাকা স্যার আর ম্যডামেরা সবাই চুপ করে গেলেন। আড্ডা ছেড়ে আমরা সবাই আবার সেমিনারে মন দিলাম।

    ৩.

    আজ থেকে কমবেশি দুই দশক আগে সফলতা প্রসঙ্গে যে কথাগুলো নিশ্চিন্তে বলতে পেরেছিলাম,আজ আর সেভাবে বলতে পারবো বলে আমার মনে হয় না। আসলে এই সময়ের সমাজের চোখে সফলতার মাপকাঠি শুধু বদলে যায়নি, সফলতার সংজ্ঞাও অনেক অনেক বদলে গিয়েছে। হয়তো এই কারণেই শিক্ষার্থী,শিক্ষক এবং অভিভাবকরা সফলতাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছেন স্বাভাবিক নিয়মেই। শিক্ষার্থীদের সফলতা নির্ণয়ের আবহমানকালের প্রচলিত ধারণাটি ছিল এই রকম – ভালো ডিভিশনের পুঁজি নিয়ে পাশ করলে ভালো কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ মিলবে। আর সেই সূত্রেই মিলবে ভালো তনখার চাকরি। জীবন তরী বেশ স্বচ্ছন্দ গতিতে এগিয়ে যাবে। ফল দিয়ে যেমন গাছ চেনা যায়, ছাত্রদের ফলাফল দেখেই বোঝা যেত স্কুলের দর, কৌলিন্য। তখন বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেতেই দেখা যেত মেধা তালিকা আলো করে রেখেছে খোদ সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সফলতার এক আশ্চর্য রসায়ন ধরা থাকতো সেই ফলাফলে। অভিভাবকরাও সন্তানদের নম্বর দেখে মেপে নিতেন সফলতার কাঙ্ক্ষিত মাত্রাটিকে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এই ভেবে নিজেদের সফলতা নিয়ে গদগদ হয়ে উঠতো যে স্যার বা ম্যাডামের পরামর্শ মেনে সবকিছু ঠিকঠাক মুখস্থ করে খাতায় লিখে আসতে পেরেছে বলেই আজ তাদের সাফল্য এভাবে ছুঁয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই সহজ সমীকরণ মেনেই আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সফলতা অর্জনের বিষয়টিকে মাপতে চেয়েছি। সময়ের সাথে সাথে এই ভাবনার স্তরেও পরিবর্তন এসেছে।

    ৪.

    ক্লাসঘর, বাড়ি, স্কুলের স্টাফ রুম – সর্বত্রই এখন নতুন স্বরের কথালাপ শুরু হয়েছে। হয়তো আগের মতো উচ্চকিত নয় তবে অনেকটাই স্বচ্ছন্দ ও খোলামেলা। নিজেদের সন্তানদের ভাবী সাফল্য নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ, চিন্তা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বটে, তবে তাঁরা উচ্চাশার পথ থেকে সরে যাননি। মা- বাবার গুঁজে দেওয়া স্বপ্ন মাথায় ভরে নিয়ে ছোট্ট গোপাল এখন‌ই ভবিষ্যতে কীভাবে সফল হবে তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। তবে এমন সফলতা অর্জন করাটা কেন খুব জরুরি সে সম্পর্কে তার স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। পিছিয়ে নেই তাবৎ শিক্ষককুল। তাঁরাও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন সফলতার বিষয়টিকে যথাবিহিত আলোচনার ভিত্তিতে। নিজেদের মতো করে সফলতার কথা বললেও একটা বিষয়ে তাঁরা সকলেই একমত যে “ভালো করা”র ব্যাপারটিকে এখন আর একদিক থেকে দেখলে চলবে না, ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তাকে বিচার করতে হবে।

    ৫.

    এমন সব কথা উঠে এসেছে এক সমীক্ষার ফলাফলে। Student Sync Index 2026 : Inside the New School Reality শীর্ষক এক দেশজোড়া সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই সময়ের শিক্ষা পরিবেশের অন্তর্লীন ভাবনার কিছু একান্ত অনুভবের কথা। এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দেশের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে যুক্ত প্রায় ৩৭০০ এর বেশি সুবিধাভোগীরা – শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠকরা যাঁরা অসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষা ও তথাকথিত সফলতার সাঙ্গীকরণ নিয়ে তাদের কথা আমরা শুনবো এই সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্যসূত্র থেকে।

    শিক্ষার্থীদের চোখে সফলতার মাপকাঠি :--

    এই সময়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে শিক্ষা ও সফলতা হলো একান্তই বাইরের বিষয়। সমীক্ষিত ৬৭% শিক্ষার্থী মনে করে স্কুলের পাঠ শেষ করে একটা নামীদামি কলেজে ভর্তি হ‌ওয়াই হলো সফলকাম হবার প্রধান শর্ত। ৫৯% শিক্ষার্থীদের কাছে সফলতা অর্জন করা মানে ভালো নম্বর পাওয়া যা তাদের সামাজিক পরিচিতি দেবে। ৬৩% শিক্ষার্থীদের কাছে সফলতা অর্জন করার তাৎপর্য হলো আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাধীন জীবন যাপন করতে পারার ক্ষমতা অর্জন করা। মাত্র ২% শিক্ষার্থী মনে করে সফলতা হলো এমন কিছু শেখা যা নিজেদের বোধকে উন্নীত করে প্রতিদিনের জীবনে পথ চলতে সাহায্য করবে।

    শিক্ষার্থীদের অভিমত পড়ে অবাক হবার কিছু নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে যে এমন অভিমত ব্যক্ত করার মধ্যেও একধরনের নতুন শিক্ষা বোধের প্রকাশ ঘটেছে। এড়িয়ে যাবার উপায় নেই যে,আসলে এই সময়ের শিক্ষার্থীরা এক বাণিজ্যিক সামাজিক বাতাবরণের মধ্যে বেড়ে উঠছে। ব্যবসায়ী যেমন কারবারে মুনাফা অর্জন করাকেই তার মুখ্য উদ্দেশ্য বলে মনে করেন, এক্ষেত্রেও শিক্ষায় সফলতা বলতে এই সময়ের শিক্ষার্থীরা বোঝে নম্বর পাওয়াকে। সাফল্যের এই নয়া মডেলে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা নম্বর শোভিত পরীক্ষার ফলাফলকেই সবথেকে বড়ো পাওয়া বলে মনে করে,ওটাই তাদের স্বীকৃতি আদায়ের অভিজ্ঞান। আর তাই হয়তো আমরা দেখি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে নিজেদের কৃতিত্বকে ফলাও করে প্রচার করতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত নয় তাঁরা। তাই নিজেদের আন্তর সত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ এখন আর শিক্ষার অভিপ্রায় নয়। শিক্ষার্থী জীবনের ঔৎসুক্য, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, রসবোধ সব আজ পিছনের সারিতে ঠাঁই নিয়েছে। একালের শিক্ষার্থীদের একটা বড়ো অংশের কাছে সফলতার অর্থ হলো নম্বরের পুঁজি সংগ্রহ করা, নামীদামি ব্র্যান্ডের কলেজে ভর্তি হ‌ওয়া আর নিজেদের সাফল্যের সূত্রে সামাজিক মান্যতা অর্জন করা।

    ৬.

    অভিভাবকের চোখে সন্তানদের সফলতা :--

    নাবালক সন্তানকে ঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও জীবনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার কাজ যিনি করেন তিনিই হলেন অভিভাবক। প্রাথমিক ভাবে এই দায়িত্ব সামলান মা ও বাবা। যে বাহ্যিক সফলতা অর্জনের ভাবনাকে মাথায় নিয়ে একজন শিক্ষার্থী নিরন্তর ছুটে চলেছে,এ যুগে তার পুষ্টিসাধন করাই হলো এই মুহূর্তে অভিভাবকের প্রধান কাজ। কোন পথে হাঁটলে সাফল্য আসবে তা নিয়ে চলে বিস্তর আলোচনা, পরিকল্পনা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান বা বিনিয়োগ। অভিভাবকরা জানেন সন্তানের সাফল্য‌ই বৃহত্তর সমাজে গণ্য হবে তাঁদের সাফল্য হিসেবে। সুতরাং সন্তানকে তথাকথিত সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হলো তাঁদের একমাত্র ধ্যান জ্ঞান ও সাধনা। এখানে খুব বেশি নতুনত্ব হয়তো নেই, তবে আছে নিবিড় তত্ত্বাবধান।

    এসবের পাশাপাশি চলে সন্তানের সামাজিকীকরণের তালিম। কলেজে গিয়ে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে, নিজের লক্ষ্যে কীভাবে অবিচল থাকতে হবে, নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হলে কী কী করা উচিত, মানসিক স্থিরতা কীভাবে বজায় রাখতে হবে, পাঠ্য বিষয়ের প্রতি কীভাবে ভালোবাসা তৈরি করা যায় – এই সব বিষয়েও সচেতন অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হয়। একালে প্যারেন্টিং বা অভিভাবকতার নতুন নতুন কায়দা কানুন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রফেশনাল এডুকেটররা শিক্ষার্থীদের নিত্যনতুন কৌশল রপ্ত করাতে উদগ্রীব। আসলে সাবেকি অভিভাবকতা আজকের দুনিয়ায় কেবলমাত্র মা আর বাবাতেই আটকে নেই। সন্তানদেরকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন অভিভাবকরা তাকে সাকার করে তোলাই যে প্যারেন্টিং মূল এবং একমাত্র লক্ষ্য। নিত্যনতুন গালভরা নামের আড়ালে গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য প্রফেশনাল এডুকেটিং সংস্থা। তাঁরা ঘোষণা করছে – সন্তান আপনার, গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের।

    একালের শহুরে অণু পরিবারের প্রাত্যহিক জীবন অনুবর্তিত হয় সন্তানের সর্বাঙ্গীন সাফল্যের স্বপ্নকে ঘিরে। সন্তানের আত্ম উন্মোচন মানে হলো অভিভাবক হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে লালিত স্বপ্নের যথাসম্ভব রূপায়ণ। সন্তানের সাফল্য‌ই যে পারিবারিক সাফল্যের নির্ণায়ক।

    ৭.

    শিক্ষার্থী জীবনের সাফল্য এবং শিক্ষকদের ভূমিকা

    বিদ্যালয় কেন্দ্রিক পঠনপাঠন ব্যবস্থায় শিক্ষক - শিক্ষিকাদের ভূমিকা আজ‌ও অপরিসীম। সামাজিক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিটি বিদ্যালয় বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। ফলে শিক্ষার্থীর সাফল্যের বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেন শিক্ষকরা। তাঁদের অনেকের কাছে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর বা গ্রেড প্রধান বিচার্য নয়, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীর আগ্রহ,উন্মুখতা, শ্রদ্ধা ও বিনম্রতার সঙ্গে তাকে আত্মস্থ করার মানসিকতাকেই আজ‌ও সাফল্যের প্রধান শর্ত বলে মনে করেন অনেকে। আলোচ্য সমীক্ষা সূত্রে দেখা গেছে –

    ৬৩% শিক্ষক উদ্যমী শিক্ষার্থীদের পছন্দ করেন যাঁরা সামগ্রিক পঠনপাঠন ব্যবস্থায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

    ৫৫% শিক্ষক চান শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে যাক্।

    ৫৩% শিক্ষক মনে করেন পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকতা এবং দায়িত্ববোধ‌ই হলো প্রধান বিচার্য।

    ৪৭% শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করেন তাঁদের লক্ষ্য ও আগ্রহ দেখে।

    সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সফলতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গির যত‌ই বহির্মুখীকরণ হোক না কেন শিক্ষকরা এখনও শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত বোধ ও বিশ্বাসের উন্মীলনকেই সাফল্যের সবথেকে বড়ো স্মারক বলে মনে করেন। ইন্ধন না থাকলে যেমন গাড়ি চলেনা,আত্মপ্রত্যয়, লক্ষ্য সামনে রেখে অবিচল প্রচেষ্টা চালানোর মানসিকতা না থাকলে শিক্ষার্থীর জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের বাইরের সাফল্য‌ও যে তাঁদের অন্তরের ঐশ্বর্যের ওপর নির্ভর করে এই সত্যকে উপেক্ষা করি কি করে? পরীক্ষায় অনেক অনেক নম্বর পাওয়া বা নামীদামি কলেজে ভর্তি হ‌ওয়াই শিক্ষায় সফলতা অর্জন নয়। আন্তর সত্তার পরিপূর্ণতাই হলো সফল শিক্ষার্থীর সাফল্যের লক্ষণ।

    ৮.

    শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বরূপ নিয়ে একটা বিপরীত ভাবনা যে কাজ করছে তা নিয়ে বোধহয় কাররোই সন্দেহ নেই। শিক্ষার্থীরা যেন তেন প্রকারেন নম্বরের পুঁজি সংগ্রহ করতে ব্যস্ত কেননা প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে তাদের সাফল্যের স্বরূপ। এই বিষয়টিকে শিক্ষার বাইরের ঐশ্বর্য বলা হচ্ছে। অভিভাবকরা এই বিষয়টিকেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন সামাজিক চাওয়া পাওয়ার কথা মাথায় রেখে ; অন্যদিকে শিক্ষকদের বৃহত্তর অংশ এখনও শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত শক্তির উন্মেষের ওপর জোর দেন সফলতার সূচক হিসেবে, কেননা এই অন্তর্লীন ঐশ্বর্য‌ই হলো মানুষ হিসেবে সফলতার সবথেকে বড়ো পরিচয়।

    মনে রাখার বিষয় হলো এই যে, এখানে কোনো বাঁধাধরা ফর্মুলা নেই। এই ইকোসিস্টেমের অপরিহার্য অংশ হয়েও তিনটি পক্ষ তিনটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিতে সফলতাকে মাপছেন, সংজ্ঞায়িত করছেন। আর তাই শিক্ষার্থীদের উচ্চাশা, অভিভাবকদের নিরলস বিনিয়োগ এবং শিক্ষকদের শিকড়ের সন্ধান প্রয়াস স্বতন্ত্র ভাবেই ক্রিয়াশীল রয়েছে।

    ৯.

    এখানেই খুব বড়ো হয়ে ওঠে বিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা। ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যে ছুটে যাওয়া তিন দলের ভাবনাকে একসূত্রে গাঁথার কাজটা করতে হয় স্কুলগুলোকে। যে সব শিক্ষার্থী নম্বরের পুঁজির প্রতি অনেক বেশি সতর্ক তাঁদের মধ্যে অন্তরের আলো প্রজ্জ্বলনের দায়িত্ব একান্ত ভাবে বর্তায় স্কুলগুলোর ওপর। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা আরও সর্বাত্মক হ‌ওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কেবলমাত্র পুঁথির পাতায় মনকে আটকে না রেখে তাঁদের সমস্ত নিহিত সম্ভাবনার স্ফূরণ ঘটাতে হবে। অভিভাবকদের বুঝতে হবে কেবল নম্বরমুখী পঠনপাঠন কখনোই একজন মানুষ হয়ে ওঠার মন্ত্র নয়। আমরা কিন্তু মানুষ গড়তে চাই।

    ** যাঁরা শিক্ষা বিষয়ক লেখা পড়তে চান, তাঁদের জন্য র‌ইলো স্কুলের পাতায় প্রকাশিত লেখাগুলো। পড়ে ছড়িয়ে দিন।

    https://www.guruchandali.com/forum.php?forum=3&cat=%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE

    সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
    মে ১৪. ২০২৬.
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্কুলের খাতা | ১৭ মে ২০২৬ | ২২৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | 119.*.*.* | ১৮ মে ২০২৬ ০৬:৪১740690
  • মনোজ্ঞ আলোচনা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এবং শিক্ষক, শিক্ষাজগতের ত্রয়ীদের যে "সাফল‍্য" বিষয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে, এতে আশ্চর্যের কিছু হয়ত নেই, এবং সামাজিক চিন্তাধারার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এখানে যেটি আশা জাগায়। তা হল শিক্ষকরা মোটের ওপর শিক্ষায় সাফল‍্যকে কীভাবে ব‍্যাখ‍্যা করছেন বা ভাবছেন। এই প্রসঙ্গে অবধারিতভাবে Carol Dweck এর Growth versus Fixed Mindset এর প্রসঙ্গটি বিবেচ‍্য। Dweck তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছিলেন দু রকমের মানসিকতা সম্পন্ন ছাত্র: একদল challenge ভালবাসে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়লে উদ্ভাবনী ক্ষমতায় তাকে জয় করতে চায়, এরাই Growth Mindset এর অধিকারী; অপরদল challenge দেখলে ঘাবড়ে যায়, বিরক্তবোধ করে, চেনা ছকের বাইরে ভাবতে চায় না, এদের fixed mindset। এখন প্রথাগত সাফল‍্য যদি ধরেন, অনেক ক্ষেত্রেই fixed mindset এর ছাত্ররা ভালই করে, কিন্তু যেখানে উদ্ভাবনা বা প্রথার বাইরে বেরিয়ে নতুন কিছু করার ব্যাপার রয়েছে, সেখানে growth mindset সম্পন্ন মানুষের প্রয়োজন। এখন ছাত্রদের বিভিন্ন উপায়ে growth mindset এ উদ্বুদ্ধ করা যায়, এবং কার্যক্ষেত্রে শিক্ষকদেরকেই সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। বিগত শতকে পশ্চিমবঙ্গে ছাত্রাবস্থা কাটানোর সুবাদে জানি যে আমাদের মাস্টারমশাইদের বহু গুণ থাকলেও বেশীর ভাগই সেভাবে আমাদের মধ‍্যে Growth Mindset তৈরী করেন নি, মুষ্টিমেয় যে সব শিক্ষকদের পেতাম, যাঁরা কঠিন সমস‍্যার সমাধান করতে বলতেন, ছাত্র এবং অভিভাবক সমাজে তাঁদের বিশেষ সুনাম ছিল না।
     
    ফলত, আজকের ভারতে তথা বাংলায় "কোচিং" সেন্টারের রমরমা ব্যবসার পেছনে এই Fixed Mindset রপ্ত করিয়ে পরীক্ষা পাস বা competitive পরীক্ষা পাস করানোর কাণ্ডারীদের বিশেষ কদর।
     
    এর প্রেক্ষিতে যে সমস্ত শিক্ষক আজও মানুষ গড়া শিক্ষার সাফল‍্য বলে বিবেচনা করেন, তাঁদের আভূমি কুর্নিশ। এঁরা সংখযায় বাড়ুন এই কামনা করি।
  • Somnath mukhopadhyay | ১৮ মে ২০২৬ ০৭:০১740691
  • এমন আলোচনা আরও হোক। বেশ কিছুদিন দেখা না পেয়ে সত্যিই মনে মনে হতাশ হয়েছিলাম। মাস্টারমশাইরা সবাই যদি বাজারি ফরমাইশ মেনে কলের পুতুল তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তা হলে কালের গতি নিয়ন্ত্রণ করবে কে? শিক্ষা এখন বিনিয়োগের বাজার। অভিভাবকরা এখন সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্মাণের নামে যথেচ্ছভাবে বিনিয়োগ করতে পিছপা নন। ফলে ছেলেপিলেরাও একসময় জ্ঞাতসারে বা না বুঝেই এই ব্যবস্থায় পণ্য হয়ে উঠছে। পাতা ভরা বিজ্ঞাপণে যখন শিক্ষার্থীদের ছবি ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠান তাদের সম্পন্নতাকে জাহির করে তখন তাকেই সাফল্য বা সফলতা বলে সমাজ মান্যতা দেয়। আমরাও মাথা ঝুঁকিয়ে তাতে সিলমোহর দিই।
     
    ভালো থাকবেন সবসময়।
  • সৌমেন রায় | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ১৮ মে ২০২৬ ০৮:০৫740692
  • মাস্টারমহাশয়দের যে গুরুদায়িত্বের কথা বলেছেন তার সঙ্গে একমত।কিন্তু অন্তর্নিহিত গুণাবলীর বিকাশ কিভাবে করা যাবে যদি স্টুডেন্টরা স্কুলেই না আসে ? স্টুডেন্ট, অভিভাবকরা অন্যরকম ভাবছে।তারা দেখছে স্কুলে 4- 5 ঘণ্টা ধরে যা পড়ানো হয় সেই তথ্যগত পাঠ 2 ঘণ্টায় বাড়িতে হবে। অন্য ধরনের শিক্ষা তো তারা চায়না। তাই একেবারে অনিয়মিত উপস্থিতি। অবস্থা যে দিকে যাচ্ছে কিছুদিন পর বিল্ডিংগুলির অন্তরের বিকাশ ঘটাতে হবে।
  • অরিন | 119.*.*.* | ১৮ মে ২০২৬ ১২:২৪740693
  • ইশকুলকে যদি আদ‍্যিকালের কলকারখানায় মজুর তৈরীর মডেলে চালানো হয় (ঘড়ি ধরে ক্লাসে আসা, এক ঘন্টার টিফিন, ঘন্টা বাজিয়ে ছুটি, সবাইকে সমবেত করে দাঁড় করানো), শিশুরা এমনিতেই উৎসাহ পাবে না। আজকালকার ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তির কল্যাণে তাদের মাস্টার মশাইদের থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে বৈকি। এই ব‍্যাপারটিকে উপলব্ধি করে ক্লাস নির্মাণ করুন, "তারাও আসিবে বন্ধ নাশিবে, যাবে না ফিরে"। না করতে পারলে যেমন চলছে তেমন চলবে।
  • সৌমেন রায় | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ১৮ মে ২০২৬ ১৩:৫০740694
  • মাননীয় অরিন বাবু
    1.আপনি ধরেই নিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গের কোন শিক্ষকই গতানুগতিকতার বাইরে বেরোতে পারেন নি।কারণ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল বাদে সর্বত্র একই অবস্থা। আর শিক্ষকের এই ত্রুটি অনুপস্থিতির এক এবং একমাত্র কারণ বলে আপনি মনে করেছেন। আপনার এই মতামতের উপর আমার কিছু বলার ইচ্ছে নেই।
    2. আপনার ব্র্যাকেটের মধ্যে বলা বিষয়গুলি কিভাবে শেখার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেটিও ঠিক বোধগম্য হচ্ছেনা।মনে হচ্ছে মুক্ত শিক্ষা বা এই রকম কিছু বলতে চাইছেন।খানিকটা রুশোর লেখা এমিলের আভাস পাচ্ছি। নাকি আপাত দৃষ্টিতে যেটাকে ডিসিপ্লিন মনে হচ্ছে সেটাকে বোরিং বলতে চাইছেন ?
     
    যাই হোক স্কুলের আদর্শ কাঠামো তাহলে কেমন হবে সেই বিষয়ে এখানে বা কোন পৃথক নিবন্ধে যদি আলোকপাত করেন বুঝতে সুবিধা হবে।
     
    3. প্রযুক্তিতে নূতন প্রজন্ম সব কালেই এগিয়ে থাকে। প্রযুক্তিগত নির্মাণ শিক্ষক এককভাবে কতটা করতে পারেন? শুধু প্রযুক্তিগত ভাবে ক্লাস নির্মিত হলেই সমস্যা মিটে যাবে বলে যদি মনে করেন তাহলে এখানেও আমার আর কিছু বলার নেই।
    নমস্কার নেবেন
  • অরিন | 119.*.*.* | ১৮ মে ২০২৬ ১৪:৪১740696
  • আমি একটি ব‍্যাপারকে ধরে নিয়েই লিখেছি যে আজকালকার ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তি তাদের শিক্ষকদের তুলনায় ব‍্যবহার করতে অধিক পটু, আপনিও দেখলাম তাই একরকম লিখলেন। শিক্ষক এককভাবে কি বা করতে পারেন?
     
    Factory model schooling নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছে, এত ক্ষুদ্র পরিসরে সবটা লেখা সম্ভব নয়, তবে ঐভাবে inflexible classroom এর ফলে শিশুদের সহজাত উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে অনেকটা খাটো করে একধরণের "গতে ধরা" শিক্ষাকে promote করা হয়, এ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা ও মন্তব‍্য আছে। তাতে কার উপকার হয় বা কতটা শিক্ষা হয়, এ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে (ইচ্ছে হলে)। নানা রকমের মতামত থাকে তো। Sir Ken Robinson এর এ নিয়ে একটি লেকচার আছে, লিঙ্ক দিলাম,
     
     
  • সৌমেন রায় | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ১৮ মে ২০২৬ ১৫:৪১740697
  • শুনলাম।ব্যাপারটা নিয়ে অনেক পড়াশোনা নেই।তবে যেকোন সেনসিটিভ শিক্ষক এই বিষয়ে অবগত।সবার গায়ে একই মাপের জামা ফিট করেনা।এতে ক্রিয়েটিভিটি কমে নিশ্চয়। কিন্তু বিকল্প মডেলগুলি কি পুরো ব্যবস্থার ভার বহন করতে সক্ষম? আমি সন্দিহান।
    তাছাড়া আমরা অনেক তত্ত্বগত দিকে চলে যাচ্ছি।গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আমি এখানে বলে বোঝাতে অক্ষম। একদম প্রাথমিক আনন্দময় শিক্ষার স্বাদ দেওয়ার পরও কেউ যদি ভেতর থেকে শিখতে না চায় কোন ব্যবস্থাই তাকে শেখাতে পারেনা।
  • Bratin Das | ১৮ মে ২০২৬ ১৫:৫৭740698
  • খুব ভালো লাগলো
     
    দাবা খেলাকে নিজের ক্যারিয়ার করবো ভেবেছিলাম আমার সেই সেই যোগ্যতাও ছিল। কিন্তু আমাদের সময়ে দাবা কে জীবিকা হিসাবে নেওয়া চাপ ছিল। কাজেই সেই হিসাবে ঠিকই আছে
  • প্রসূন | 103.*.*.* | ১৯ মে ২০২৬ ২২:২৫740726
  • "সফলতা" সত্যিই খুব গোলমেলে একটি শব্দ!

    সিলেবাসের কেতাবের সঙ্গে সে সফলতার তেমন কোনো যোগ নেই। বিশেষত আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়ার রীল ভিত্তিক যাপনে।

    পরীক্ষার ফলাফলের নাম্বার আর তার দৌলতে পেয়ে যাওয়া ভালো মাইনের একটি চাকরি যদি সফলতার শেষ কথা হয়!

    একজন ট্রাক ড্রাইভার আজ তার নিজের রান্নার ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে লাখ টাকা রোজগার করেন!

    সামাজিক স্তর বিন্যাসে কেতাদুরস্ত হোয়াইট কলার ওয়ার্কারের সঙ্গে মুটে মুজুরের তফাত এ সমাজে খুব নতুন কোনো ঘটনা নয়! তফাত ওটুকুই! তার বেশি কিছু নয়!
     
    অবশ্য বর্তমান শাসক দলের রাজ্য সভাপতি সম্প্রতি এমনটা নাকি বলেছেন যে এখানে স্কুলে সেইসব পড়ানো শেখানো হয় যা বাকি বিশ্বে প্রায় অহেতুক, তামাদি!
     
    রাজ্যের শিক্ষাকাঠামো কোনপথে উন্নত হবে সেটুকুই শুধু দেখার!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন