এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • বিশ-একুশ

    ভবঘুরে
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক




    কালচক্রে ঘুরছে দিন --রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শেষের কবিতা

    ১৮৯০-১৯০০ নাগাদ বাংলায় সাইকেল আসে। সাহেবরাই চড়তেন। সাইকেলের দাম ছিল কেরানির তিন চার মাসের মাইনে। সাহেবদের দেখে জমিদাররাও কিনতে শুরু করলেন। ব্রিটিশ অফিসারদের এ সি আর বা গোপন রিপোর্টে লিখতে হতো, অফিসার কি সাইকেল চড়তে জানেন না ঘোড়া। এখনো সে নিয়ম বহাল আছে। ১৯২০-৩০ নাগাদ শ্রমিকরাও কারখানা যেতে সাইকেল ব্যবহার শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দুনিয়া বদলে দেয়। গ্রাম বাংলাতেও ধনীরা সাইকেল কিনতে থাকেন। বিয়েতে পণ হিসেবে সাইকেল চাওয়া দস্তুর হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭০ এর দশকেও এটা ছিল। আশিতেও। নবাব এবং মামুন গ্রামীণ বিচারে ধনী ঘরের ছেলে। দুজনেই মাঝারি জমিদার পরিবারের। ২৫০ থেকে ৫০০ বিঘে জমির মালিক ছিল ব্রিটিশ আমলে। জমিদারি বিলোপ আইন হলেও জমি আছে, এ নামে সে নামে। সাইকেল। বর্ষার দিনে সাইকেল ঘরের খড়ের চালের বাতার সঙ্গে বেঁধে তুলে রাখা হয়। মামুন আর নবাবের সাইকেলের বয়স আর বন্ধুত্বের বয়স প্রায় এক। কম বেশি ১৪ বছর। ১৯৫২তে বর্ধমান শহরে সাইকেল কিনে দুজনে বাদশাহি সড়ক ধরে চালিয়ে ফিরেছিল। দাম পড়েছিল ৫০ আর ৫২ টাকা। মামুনের সেন রালে ৫০। নবাবের ফিলিপস ৫২। সেন রালে তৈরি করেন এক বাঙালি। সুধীরকুমার সেন। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে সাহেবদের কাছে সাইকেল দেখে তাঁর সাইকেল তৈরির ইচ্ছে হয়। ১৯১২তে গেলে ব্রিটেন। তারপর জার্মানি। প্রথমে জার্মান কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। পরে আসান্সোলের কাছে কন্যাপুরে হল কারখানা। ১৯৫২তে। সাইকেলের জন্য আগাম বায়না দিয়ে রাখতে হয়েছিল। মামুন রেখেছিল। দু টাকা অগ্রিম।

    মামুন বিদেশি কোম্পানির জিনিস কিনতে চায় না শুনে অবাক হয়েছিল নবাব। ভালো জিনিসের আবার দেশি বিদেশি কী? নবাবকে একটা ছোটখাটো লেকচার দেয় মামুন। বিদেশি বই পড়ব, কিন্তু দেশি জিনিস থাকলে বিদেশি কিনবো কেন?

    এসব মামুনের শেখা বিমল মাস্টারের কাছে। বিমল মাস্টারমশাই লাল পার্টি করতেন গোপনে। থাকতেন ছেলেদের সঙ্গে হোস্টেলে। মামুনদের সঙ্গে বন্ধুর মিশতেন। ফুটবল কবাডি খেলতেন। নাটক করাতেন। গান শেখাতেন। সেই বিমলবাবু রাতের আঁধারে খবরের কাগজে হাতে লেখা পোস্টার মারতে গিয়ে ধরা পড়ে মার খান। স্বাধীনতার বয়স তখন এক বছর। মামুনরা ঘোর কংগ্রেস ভক্ত। বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামে ছিলেন। নেতাজির ভক্ত। বিমলবাবুর মার খাওয়া ছেলেরা ভালোভাবে নেয়নি। সবাই মিলে পরদিন বাজারে টিনের চোঙ্গা ফুঁকে দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। হেডমাস্টারকে দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি চাপ দেয়, ক্ষমা চাইতে। ছেলেরা রাজি হয়নি। বিমলবাবুকে বরখাস্ত করার চেষ্টাও রুখে দিয়েছিল মামুন আর বিনয়রা। বিমলবাবুর শেখানো কথাই উগরে দিল, মামুন। যদিও সে নিজে বিমলবাবুর সঙ্গে এনিয়ে তর্ক করে বলেছিল-- আপনাদের নেতাও তো বিদেশি। মার্ক্স লেনিন স্তালিন মাওসেতুং।

    বিমলবাবু হেসে বলেছিলেন, ভালো জিনিসের দেশি বিদেশি হয় না। খেটেখাওয়া মানুষের দেশ নেই জাত নেই ধর্ম নেই দেশ বিদেশ নেই সীমান্ত নেই।

    তাহলে বিদেশি জিনিস কেন খারাপ কেন?

    কারণ এতে দেশের শ্রমিকদের কাজের সু্যোগ কমে। দেশের টাকা বিদেশে যায়। সেসব কথাই বলেছিল মামুন নবাবকে। সে থেকেই বন্ধুত্ব। সাইকেল পছন্দ করে সাইকেল জোড়ার সময় কোহিনুর হোটেলে মাংস ভাত খেয়ে দুজনে সিনেমা হলে সিনেমা দেখেছিল, এক নতুন নায়কের ছবি। বসু পরিবার। নায়কের নাম উত্তমকুমার। দুজনের পছন্দ হয়ে যায় উত্তমকুমারকে। মামুনের বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তুলসী চক্রবর্তী ছিলেন ছবিতে। ফিরে এসে দাদিকে গল্পটা বলেছিল মামুন। তুলসীর কথা শুনে দাদির ইচ্ছে হয় ছবিটা দেখতে। তুলসী বড় ভালো ছেলে। মামুনের বাপ চাচার খেয়াল রাখতো কলকাতায়। পেয়ারাবাজারে টিনের হলে গোরুর গাড়ি করে দাদি, মা, বউ আর বোনকে ছবিটা দেখিয়ে নিয়ে এসেছিল মামুন। মামুনের খুব ইচ্ছে ছিল নতুন বউকে সাইকেলের সামনের রডে বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার। হয়নি। বউ রাজি হয়নি। লোকে নিন্দে করবে তাহলে। হোক এই গাঁয়েরই মেয়ে। তবু তো সে এখন নতুন বউ।

    আগের দিন মামুন বাজারে গিয়ে বৃষ্টিতে পড়েছিল। সাইকেল রাখা ছিল তাঁর মিল মালিক বন্ধু হরিপ্রসন্নের বাজারের দোকানে। সেখান থেকে সাইকেল নিয়ে সে বিডিআর রেল লাইনের পাশ দিয়ে এসে স্টেশন মাস্টারের বারান্দায় রেখে এসেছে চেন তালা দিয়ে। স্টেশনের জমাদার ভুলুয়া গোপনে পার্টির সমর্থক। তাঁর ছিল চুল্লুর নেশা। বহু কষ্টে ছাড়িয়েছে মামুন আর নবাব। সেজন্য ভুলুয়ার বউ রামি খুব খুশি। মামুন আর নবাব এলে সে খুব খুশি হয়। কিছু না কছু খাওয়ায়। এরা নাকি কমুনিস। ছোঁইয়াছুঁইয়ি মানে না। ভুলুয়ারা যাতে চামার। সেজন্য ঘেন্নাপত্তি নাই। কমুনিস কেমন জাত বা ধম্ম? সবাই যদি কমুনিস জাতে জম্মাত?

    বলেছিল ভুলুয়াকে। ভুলুয়া হেসে বলেছিলে, তুই বুঝবিক নাই। কমুনিস ধরম লয়। এটা পাটি। কমুনিস হয়ে কেউ জম্মায় না। কমুনিস হতে হয়। ছোটখাটো একটা লেকচার দিয়ে দিয়েছিল ভুলুয়া। বউকে।

    ভুলুয়ার এখন যাত্রার নেশা ধরেছে। মামুনের কাছে সে কথা আদায় করেছে, একটা পার্ট সে পাবে মাঘ মাসের যাত্রায়। যে পার্ট-ই হোক, সে করবেই। বিহারে থাকার সময় রামযাত্রা দেখে দেখে তাঁর খুব ইচ্ছে পার্ট করার। বিহারে জাতপাতের ঝামেলা আছে। এখানে অনেক কম। আর সে তো এখন গোপন কমুনিস। কমুনিসের আবার জাত ধম্মো কী? এসব গোপন মিটিংয়ে শুনে এসে সে বউকে বলে, আর শোনায় তাঁদের ছেলেকে সে সাচ্চা কমুনিস বানাবে। মামুনদাদের মতো। রামিরও খুব ইচ্ছে ছেলে,কমুনিস হোক। চামার বলে তাহলে কেউ ঘেন্না করবে না। দুচ্ছাই করবে না। সবার সঙ্গে বসে একসঙ্গে খেতে পারবে। স্কুলে যাবে।

    নবাব কাল স্টেশনে সাইকেল রেখেই ফিরেছিল। বৃষ্টিতে কে আর মাথায় করে বয়ে আনে। দুজনে এক মাইল হেঁটে স্টেশনে এসে কলের জলে পা কাদা পা ধুয়ে হাত থেকে জুতো নামিয়ে পরে সাইকেলে চড়ে বসলো। ভুলুয়া চুল্লু ছেড়ে চা আর চুট্টার নেশা ধরেছে। তামাক পাতা পাকিয়ে চুট্টা খায়। ভুলুয়া ছিল স্টেশন মাস্টারের ঘরে। সেখান থেকে মামুন আর নবাবকে দেখে ছুটে এল, চা হোক এট্টুস।

    মামুন নবাব দুজনেই ঘাড় নাড়লেন। এখান থেকে সুরপুর হয়ে গাঁয়ে ফিরবেন। তার আগে সুরপুর বাস রাস্তার ধারে মিলের শ্রমিকদের কাছে কিছু লিফলেট আর পোস্টার রেখে যাবেন। অন্য এলাকার কমরেডরা নিয়ে যাবেন।

    ফসলের ন্যায্য দাম, আর কৃষকের ঘরে ঘরে লেভি চাপানোর বিরুদ্ধে একটা জমায়েত আছে। এছাড়াও আরো কিছু গোপন চিঠি দিয়েছেন পাঁচুদা সেগুলো দিতে হবে। মঙ্গল সরেন বিশ্বস্ত ছেলে। আদিবাসী। সাঁওতাল ঠিক ঠাক কাজে লাগাতে পারলে এ ছেলে পার্টির সম্পদ হয়ে উঠবে। মামুনের খুব পছন্দ মঙ্গলকে। কিন্তু সবাই কি চাইবে মঙ্গলকে নেতা বানাতে?

    ******



    ও নদীরে, একটু কথা শুধাই শুধু তোমারে

    ধানের মিল ঠিক বলা চলে না। মিনি মিল। ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করে। একটা বড় চাতাল। সেখানে ধান শুকানো হয়। পাশেই ছোট ছোট কুঁড়ে ঘরে। খড়ের চাল। বাঁশ, বাঁশের কঞ্চি আর কাদামাটি দিয়ে গড়া কুঁড়ে। ছোট দুটো জানালা। বাঁশের টাটি ব্যবহার হয় দরজা হিসেবে। চারটি পরিবার থাকেন। মিলের ম্যানেজার থাকে্ন টিনের চাল দেওয়া ঘরে। ইটের গাঁথনি। প্ল্যাস্টার ভেতরে থাকলেও বাইরে নেই। একদিকে খাতাপত্তর থাকে টেবিলে। সেখানেই একপাশে চৌকি। তাতেই শোওয়া। ঘরে একটা জনতা স্টোভ আছে। সেখানেই দুটো চাল ডাল আলু ফুটিয়ে নেন অলক সরকার। মাসের শুরুতে কয়েকদিন ডিম খান। মাইনে পেয়ে। আণ্ডাওলা আসে। সাঁওতাল মেয়েরা এটা সেটা কেনে ফিতে চিরুনি। আণ্ডাওলা সুরপুর বা আশপাশের গ্রাম থেকে মাথায় ঝাঁকা করে ডিম কেনে। অনেরকটাই বিনিময়। ডিম দাও ফিতে চিরুনি দুল নকল গয়নার হার কেনো। ছুঁচ সুতো তাও রাখে। ওলক নগদ পয়সায় ডিম কেনেন। এক টাকায় দেড়গন্ডা। ছ পয়সায় একটা। অলক কায়েতের ছেলে। মায়ের আদেশ, সাঁওতালদের ছোঁয়া খাবি না। জাত যাবে। হেসেছেন অলক মনেমনে। সাঁওতাল মেয়েকে চুমু খাওয়া যাবে মা? না ছুঁলে?

    একটা মেয়ে এসেছে বছর খানেক। লম্বা। টানাটানা চোখ। সাঁওতাল মেয়েদের মতোই ব্লাউজ পরে না। বুক তেমন উঁচু নয়। ভারি মিষ্টি দেখতে। গায়ের রং আশ্চর্যভাবে, কালো নয় ফর্সা। কয়লাখাদানে কাজ করতো বাপ মা। কয়লা খনিতে জল ঢুকে ভেসে গেছে দুজনেই। দিদির কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নাম নদী। নদী মুর্মু। বাপের নাম ছিল দামুদর। দামোদর নদের নামে নাম। নদের মেয়ে নদী। নদী খুব তেজালো মেয়ে। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়িয়েছে বাপ। টেন পাশ করে পেরাইমারি স্কুলে চাকরির খুব ইচ্ছে ছিল নদীর। হল না। দিদি জামাইয়ের সংসার চলে না। সেখানে সে জুটেছে। মিলে কাজ করে মন দিয়ে। নদীর কাজ এবং নদী অলকের খুব পছন্দ। ভাবে একদিন বলবে? বলতে পারে না। কুলি কামিন মানেই পয়সা দিলে সব মেলে এসব কিছু বাংলা উপন্যাসে পড়েছে অলক। কিন্তু বাস্তবে তা বলে না। এদের ইজ্জতবোধ খুব প্রখর। অলক গভীর চোখে তাকায়। নদী উদাসীন। নদীর মন পাওয়ার জন্য অলক খুব ব্যাকুল।

    নদীকে একদিন অফিস ঘরে একলা পেয়েছিল অলক। জিজ্ঞেস করেছিল বাপ মায়ের কথা। তখনই শুনেছিল নদীর পূর্বপুরুষ থাকতো বিহারের বারহেটের কাছে। সিধু কানুর নেতৃত্বে ভগনাডিহির মাঠের লড়াইয়ে ছিল। ধরা পড়েছিল। পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল দাদুর দাদুকে। তবু মুখ খোলেনি।

    নদীও তেমন চাপা স্বভাব। এবং তেজি। মিশনারি স্কুলে পড়েছে। খ্রিস্টান হয়নি। অলক মনে মনে ভয় পায় নদীকে।

    নদীর প্রতি তাঁর দুর্বলতার কথা দু একজন জানেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মামুন আর নবাব। অলকের পছন্দের মানুষ। ঘরের খেয়ে বনের মোষ লোক কম। এঁরা কমদের দলে। নিজেদের ডাকে কমরেড। অলকের মালিক সতর্ক করেছেন, ওঁরা ভাল লোক। আড্ডা দাও, চা পানি খাওয়াও--সব ঠিক আছে দলে ভিড়ো না। বিধবা মা আছে ঘরে। অনেক কষ্টে তোমাকে মানুষ করেছে। মামুনদের দলে ভিড়ে সব্বোনাশ করো না। ওরা বড়লোকের ছেলে। ওদের কছু হলে দেখার লোক আছে, তদ্বির তদারকের লোক আছে। তোমার কছু হলে ভাসে যাবে।

    সাইকেলের আওয়াজ পেয়ে বাইরে এল অলক।

    নদীতে মন ডুবিয়েছো! জলে পা ডুবাতে পারলে? ঠাট্টা করলেন মামুন।
    তোমার যেমন কথা মামুনভাই। ছাড়ান দাও। বলেই কথা ঘোরাতে বলল, চা খাবে?
    না সুরপুরে যাবো। তাড়া আছে।
    সাইকেল থাকবে তো এখানে?
    হ্যাঁ। কাল আসবো জমিয়ে আড্ডা দেবো। বলে মিলের শ্রমিক মঙ্গলের ঘরের দিকে এগোল মামুন আর নবাব। মঙ্গলের শালি নদী। আর তাই মামুন ভাই আর নবাবকে নিজের অজান্তেই একটু বেশি খাতির করে অলক।

    অলক ঠিক করল, মামুনভাইকে একবার বলবে, যদি তাঁর হয়ে নদীকে বলে।
    বলতে রাজি হবে মামুন?


    ক্রমশঃ
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন