এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কালবেলার রৌদ্রছায়া - ৩১

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৪৫ বার পঠিত
  • ( ৩১ )  

    অনুমিত বেশ বুঝতে পারছে একটা কিছু করার দরকার।  আর্সোলার দলের সবাই সাঙ্ঘাতিক ভাল ছাত্র।  খুব মেধাবীরা জোট বাঁধলে তার তাগদ হয় মারাত্মক।  কী হয় তা তো দেখে এসেছে সে দিল্লিতে।  কিন্তু সে নিজে কী ?  সে কিসের জোরে আওয়াজ  তুলবে ? সে নিজে তো ছাত্র নয়।   তার নিজস্ব দাবিটা কী হবে ?  চাকরি ?  রোজগার ?  প্রতিষ্ঠা ? 
    অনুমিত নিজে ভালোই বোঝে তার তেমন তাগিদ থাকলে  ওগুলো পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা তার আছে।  এত সুযোগ সুবিধা ক'জনেরই বা থাকে।  তাহলে সিজেপির প্রতি তার এত তীব্রভাবে আকৃষ্ট হওয়ার কারণটা কী ?  
    জোরাল 'অ্যান্টি কোরাপশান ইমোশান' ?  হয়ত তাই।  অবচেতনে ঘুমিয়ে ছিল।  এখন আগুনের স্ফূলিঙ্গ পড়ায় জেগে উঠেছে।  হাজার হোক সে   তো জাস্টিস অনিন্দ্য বোসের ছেলে।  রক্তের প্রভাব তো একটা থাকবেই।  ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে...  এরকম কী একটা কবিতার লাইন আছে না।  সেটাই হবে হয়ত।  অনুমিত ঠিক বুঝতে পারে না।  আর একটা কারণ হতে পারে।  কারণটা ভেবে বেশ সংকোচ বোধ করল।  সেটা হচ্ছে মনোমিতা।  তেলাপোকার দলের দিকে ছুটে যাচ্ছে মনোমিতার টানে।  হবেও বা।  অনুমিত কোন কিছু ঠিকমতো বুঝতে পারে না।  কিন্তু সে যে আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে সেটা সে অনুভব করতে পারছে।  
     
     পরদিন দুপুরবেলায় বন্ধু সঞ্জীব, মানে সঞ্জীব খান্না বলল, ' এখন আর সুইস ব্যাঙ্কে বা দুবাই সিঙ্গাপুরে  হাওলার টাকা যায় না জানিস তো ?    
    এখন মানি সাইফনিং হয় কেম্যানস আইল্যান্ডে।   দুনম্বরী টাকার একদম সেফেস্ট ফিনান্সিয়াল হ্যাভেন। টোটালি ট্যাক্স ফ্রি...  '  
    অনুমিত বলল, ' নাম শুনেছি।  জায়গাটা কোথায় বলতো...  '
    ----- ' ওই তো...  ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডসের মধ্যে।  মানে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ...  ' 
    ---- ' হ্যাঁ বুঝেছি।  কিন্তু আগে ফান্ডটা তো জেনারেট করতে হবে...  '
    ----- ' ইয়েস অবভিয়াসলি।  পাওয়ারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে পারলেই ওটা হয়ে যাবে।  একটু ব্রেনস্টর্মিং দরকার। রিস্ক আছে কিন্তু।  সেটা অ্যাবসর্ব করতে পারলে প্রবলেম নেই।   তবে আবার প্রবলেম আছেও।  এ লাইনে কেউ কারও নয়।  ফাঁসিয়ে দেবার লোকের অভাব নেই। '
    ----- ' কক্রোচ পার্টির এই মুভমেন্ট সম্বন্ধে তোর কী ধারণা ?  '   
    ------ ' ঠিকই তো আছে মনে হচ্ছে।  কানিং  পলিটিকাল তিমিদের কোন বিশ্বাস নেই।  এরা গিলে নেওয়ার মানে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করবেই।  সেটা ট্যাকল করে চলতে পারলে ভাল।  একটা এফেক্টিভ অ্যাপলিটিক্যাল আউটফিট হয়ত উঠে আসতে পারে ...  '  
    অনুমিত বলল, ' তা ঠিক...  '
    সে ভাবল সঞ্জীব কত ম্যাচিওরড। তারই তো বয়সী কিন্তু কত কী বোঝে, খবর রাখে।  তার নিজের অপদার্থতায় এক এক সময়ে নিজেরই খারাপ লাগে। ক'দিন ধরে খালি মনে হচ্ছে নিজেকে এবার বদলাবার সময় এসেছে।  একটা নতুন হাওয়া যেন গায়ে লাগছে।  
    সঞ্জীবকে বলল, ' তোরা তো বিজনেস কমিউনিটির লোক।  কিছু চেঞ্জ দেখতে পাচ্ছিস আগের সঙ্গে ?  ' 
    ----- ' কী ব্যাপারে ?  '
    ----- ' ধর এই...   তোদের যে প্রবলেমটা রেগুলারলি ফেস করতে হয়....  '
    সঞ্জীব ল্যাপটপটা বন্ধ করে হতাশামিশ্রিত হাসি হেসে বলল, ' আর বলিস না...  ' 
    ----- ' কী ?  '
    ---- ' আরও বেড়েছে। এখনই এই...  পরে কী হবে,  ভগবানই ভরোসা।  তবে সিস্টেমের ডেভালাপমেন্ট  হয়েছে। তোলা আগে ছিল মান্থলি,  এখন হয়েছে  উইকলি।  তিমি আর তিমিঙ্গিলে যা ডিফরেন্স...  হাঃ হাঃ...  '
    ----- ' তাই নাকি ?  ' 
    ----- ' এগুলো আবার পাবলিক করতে যাস না।  পাবলিক কিছুদিন পরে এমনি জানতে পারবে।  আমি অবশ্য কোন পার্টির ফেভারে বা এগেনস্টে  কথা বলছি না।  গভর্নমেন্ট হয়ত এখনও এসব ইস্যুতে নজর দেবার সময় পায়নি।  এনিওয়ে...  তুই কিন্তু এসব পাবলিক করতে যাস না...  ' 
    ----- ' আরে না না ... আমি আবার কোথায় বলতে যাব ? শুনলাম তোর কাছে...  ' 
    ----- ' এর মধ্যে ট্রিঙ্কার্সে গিয়েছিলি নাকি ?  ' 
    ----- ' না না...  ওসব এখন ভাল লাগে না...  ' 
    ---- ' কেন কী হল ?  '
    ----- ' কিছু না।  জাস্ট বোরিং লাগে...  '
    ---- '  ওক্কে...  কিছু একটা কাজ  ধর না...  '  
    ----- ' হ্যাঁ বল না...  কিভাবে স্টার্ট করব ? ' 
    ---- ' ঠিক আছে।  তোকে বলেছিলাম না একটা 
    নতুন ইউনিট খোলার কথা।  তুই এটায় জয়েন কর না। থাকতে থাকতে কাজ শিখে যাবি।  সবই এক্সপিরিয়েন্সের ব্যাপার।  ভেবে দেখ।  যদি ডিসাইড করিস তা'লে সোমবার যাব তোকে নিয়ে। 
    ----- ' কোথায় ?  '
    ---- ' আমতায়...  হাওড়ায়...  '
    ----- ' ঠিক আছে।  কখন ?  '
    ----- ' টাইমটা জানাব ....  ' 

       প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বাজার যাবার রাস্তায় সাবিত্রীর দেখা হয়ে গেল।  সাবিত্রী  অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী প্রায় বিশ বছর ধরে।  তাড়াতাড়ি পা চালাচ্ছিল।    কাজের তাড়া  আছে নিশ্চয়ই।  প্রিয়াঙ্কাকে দেখে একটু  দাঁড়িয়ে গেল।  প্রিয়াঙ্কা হেসে বলল, ' কিগো সাবিত্রীদি কী খবর...  তোমাদের তো টাকা বেড়ে গেল...   ' 
    সাবিত্রী বলল, ' দাঁড়াও হাতে পাই আগে।  বিশ্বাস নেই কিছু। ন' হাজার টাকায় সংসার চলে বলতো ?  কাজের ঝক্কিটা তো কিছু কম না।  এই যদি সরকারি চাকরি হত গায়ে হাওয়া লাগিয়ে মাসে  তিরিশ হাজার পেতাম...  আমরা হলাম না ঘরকা না ঘাটকা।  না সরকারি  না বেসরকারি...  বেজন্মা বেজন্মা...  ' 
    ----- '  কী বলব বল...  খুব খারাপ লাগে।  তা কত হল যেন এবার ?  '  
    জীবনের নানা টানাপোড়েনে পোড় খাওয়া সাবিত্রী সংশয়মাখা স্বরে বলল, ' বলছে তো চোদ্দ হবে নাকি। এখন দেখ...  '
    ----- ' না না হবে হবে।  দেখ না একটু ...  '  
    সাবিত্রী বলল, ' না যাই...  বৈঁচিপাড়ায় একটা ডেলিভারি কেস আছে।  দেরি হয়ে যাচ্ছে...  যাই।  এতখানি বয়েস হয়ে গেল শুধু লড়াই করতে করতে।  একমাত্র ছেলে। তারও অইরকম অবস্তা।  কোনরকমে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে।  ঘরের  লোকটাও একেবারে নাহাক।  না হোমে  না যজ্ঞে।  শরীরেও জোর পায় না।  কী হয়েছে কে জানে।  কোন ডাক্তারই তো কিছু ধরতে পারে না। জামাই মারা গেল পুজোর ঠিক আগে। মেয়ে এসে বসে আছে আমার কাছে।  চেষ্টা করছি তাকে যদি   ঢোকাতে  পারি কোথাও। এতজনের ভার  আমার একার ওপর। আমার যে কী যাচ্ছে আমিই জানি।   আচ্ছা চলি এখন...  দেরি হয়ে যাচ্ছে।  পরে সব বলব'খন ...  '  
    প্রিয়াঙ্কা একদৃষ্টে সাবিত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।  তার জীবনের গ্লানি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছিল।   
    শান্তস্বরে বলল, ' সময় পেলে একদিন বাড়িতে এস না। আমি তো সবসময়ই থাকি ...  ' 
    সাবিত্রী সাগ্রহে বলল, ' যাব যাব।  অনেক কথা কথা জমে আছে ...  ' 
    প্রিয়াঙ্কা ভাবল, এরকম কত লোকের মনে কত কথা জমে আছে।  তা শোনার আর কেই বা আছে।  আর শুনেই বা কে কী করতে পারে। কথার ভার সে নিজেই বয়ে নিয়ে বেড়ায় যতদিন বাঁচে।    যাদের এই ভার কমাবার ক্ষমতা আছে তারা সব   অশিক্ষিত চোর  জালিয়াত লম্পট মোদো মাতাল।  মেয়েছেলের জন্য সব সময় ছুঁকছুঁক করছে।  এগুলো সব লুটেপুটে খাচ্ছে আর বড় বড় শিক্ষিত অফিসাররা তাদের জুতো পালিশ করছে কিছু উচ্ছিষ্ট পাবার আশায়।  
    প্রিয়াঙ্কা বাজারের দিকে হাঁটতে লাগল সাবিত্রীর কথা ভাবতে ভাবতে। ভাবছে, সত্যিই তো  সাবিত্রীদির কথা  শোনার জন্য কেই বা আছে।  হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একজনের কথা মনে পড়ে  গেল তার  ---- বিজয় গিরি। সুভাষ গিরির ছেলে।   

    ( ক্রমশ )  

    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন