এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কালবেলার রৌদ্রছায়া  - ১৪ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ মার্চ ২০২৬ | ২০ বার পঠিত
  •                             ( ১৪ )  

    শিঞ্জিনীদের সংগঠনের নাম পাল্কী। সামনের রবিবার  পাল্কীর একটা অনুষ্ঠান আছে শিশির মঞ্চে।  তিনটে একাঙ্ক নাটক হবে তিনটে উঠতি  প্রতিশ্রুতিবান নাট্যগোষ্ঠীর।  সেটা নিয়ে ক'দিন ধরে খুব ব্যস্ত আছে সে।  তার ওপর একটা বড় দায়িত্ব  পড়েছে ।  এই নাটকের দলের সদস্যদের প্রয়োজনীয়  দেখভালের ব্যবস্থা করা,  অনেকটা লিয়াজঁ অফিসারের মতো ।  কাজটা কঠিন কিছু নয়,  কারণ নাটক দলের লোকেরা এদিক ওদিক থেকে ম্যানেজ করে নিজেদের ছোটখাটো দরকার মিটিয়ে নেয়।  তারা এসবে অভ্যস্ত।  সিনেমাওয়ালাদের মতো কোন জমিদারি   চালচলন তাদের নেই ।  তারপরেও যদি কিছু দরকার হয় তার জন্য শিঞ্জিনী রইল ।  সে খুব ব্যস্তভাবে ঘোরাঘুরি করতে লাগল।  এর ওর কাছে গিয়ে খোঁজ নিতে লাগল।  তেমন দরকার না থাকলেও জিজ্ঞাসা করতে লাগল।  এই  ছুটোছুটিতে সে বেশ স্ফূর্তি বোধ হচ্ছে যেন । জীবনে এই  প্রথম  বেশ একটা দায়িত্বপূর্ণ কাজে লিপ্ত হতে পেরে বেশ ফুরফুরে লাগতে লাগল শিঞ্জিনীর ।  
    সে যাই হোক, প্রথম দল প্রমা-র শো শুরু  হয়ে গেল।  কোন একটা জনপদের পটভূমিতে নানা ধরণের চরিত্রের বুনটে রূপকধর্মী নাটক। ফ্যাসিবাদ যে নানা ধাঁচে আমাদের দেশে এখনও সচল আছে সেটাই নাটকটার সার কথা ।   আর একটা নাটক মহাভারতের গান্ধারী ধৃতরাষ্ট্রের দাম্পত্যজীবনের জটিল নক্সা নিয়ে।  এটাও রাজনৈতিক নাটক।  অদ্ভূত উদ্ভাবনী উপস্থাপনা। নাটকের নাম শকুনি।   
    তৃতীয়  নাটকটি একটা গ্রীক নাটকের ছায়ায় তৈরি। নাটকের নাম আফ্রোদিতি। মূল চরিত্র  সৌন্দর্য, কামনা ও যৌনতার দেবী আফ্রোদিতির ভূমিকায় যে মেয়েটি অভিনয় করছে তার অভিনয় দক্ষতা এবং দেহসৌষ্ঠব অতি চমৎকার এবং  হৃদয়স্পর্শী । তার চোখের মায়াময় বিলোল দৃষ্টিপাত এবং শারীরিক বিভঙ্গ দর্শকদের আপ্লুত  ও আবিষ্ট করে ফেলল। অবশ্য এর পেছনে মেক আপ শিল্পীর কারিগরি এবং যথাযথ কস্টিউমের ভূমিকা  অনস্বীকার্য। আলোর খেলা তো আছেই ।   সে যাই হোক, মঞ্চ জুড়ে   মেয়েটির স্বচ্ছন্দ ইন্দ্রিয়জ লাবণ্য  নিঃসরণ এক চৌম্বক আকর্ষণের সৃষ্টি করেছে ।  শিঞ্জিনী লক্ষ  করল দর্শকরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে নাটকে আবদ্ধ হয়ে গেছে।  গ্রুপের নাম চার্বাক।  
    শিঞ্জিনী নাটক দেখার ফাঁকে একবার  বাইরে গিয়ে দাঁড়াল।  অনুমিত আসবে বলেছিল।  শিঞ্জিনী  ছেলে আসার আশায় বসে আছে।  তার খুব ইচ্ছে ছিল  অনুমিত তাদের আজকের অনুষ্ঠানটা দেখে।  নাচ গানের প্রোগ্রাম তো অনেক হয়।  কিন্তু এরকম উঁচু মানের নাটকের অনুষ্ঠান অতি বিরল ।   
    তবে,  ছেলের জন্য মায়ের অপেক্ষা করাই সার  হল।  অনুমিতের দেখা পাওয়া গেল না।  শিঞ্জিনীর অবশ্য বেশিক্ষণ দাঁড়ানো হল না।  ভিতরের নাটকটা, মানে আফ্রোদিতি  তাকে টানছে।  সে আবার হলের ভিতরে চলে এল।  
    আরও প্রায় চল্লিশ মিনিট পরে নাটকটা শেষ  হল। আজকের অনুষ্ঠান শেষ।  প্রেক্ষাগৃহে আলো জ্বলে উঠল।  
    একাঙ্ক নাটকের পক্ষে এই অন্তিম নাটকটার  সময়কাল বেশ দীর্ঘ বলা যায়।  কিন্তু আফ্রোদিতি যে দর্শকদের মনে যথেষ্ট আবেশ সৃষ্টি করেছে তা তাদের চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।  
    শিঞ্জিনী গ্রীনরুমে গেল।  হয়ত আফ্রোদিতির টানে, মানে ওই মেয়েটার টানে।
    গিয়ে দেখল সে শান্তভাবে আয়নার সামনে বসে  মেক আপ তুলছে।  আফ্রোদিতির সাজ থেকে বেরিয়ে এসেছে।  চোখ মুখের সে বিলোল ভাব উধাও। নিপাট শান্ত ধীর কথাবার্তা। দেখে বোঝার উপায় নেই কিছুক্ষণ আগে এ-ই ছিল এক কুহকিনী যৌনতার প্রতীক।   
    শিঞ্জিনী একটু দোনামোনা করে এগিয়ে গেল।  আরও অনেকে ব্যস্তভাবে ঘোরাঘুরি করছে।  রাত হয়ে যাচ্ছে দ্রুতবেগে প্যাক আপের কাজে ব্যস্ত। 
    মেয়েটির চেয়ারের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। সে মুখ ঘষতে  ঘষতে ঘাড় ঘুরিয়ে শিঞ্জিনীর মুখের দিকে তাকাল।  দেখল প্রায় তার মায়ের বয়সী এক ভদ্রমহিলা স্মিত হেসে তার দিকে তাকিয়ে আছে। 
    সেও শিঞ্জিনীর দিকে তাকিয়ে হাসল সপ্রতিভ ভঙ্গীতে ।   
    শিঞ্জিনী বলল, ' খুব সুন্দর।  ভীষণ ভাল...  '
    সদ্য আফ্রোদিতির খোলস ছাড়া তরুণীটি  শিঞ্জিনীর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। 
    সে বলল, ' তোমার পারফর্মেন্স...  সুপার্ব।  ইউ লুকড সো বয়্যান্ট অ্যান্ড লাইভলি অলটুগেদার ।  নাইস...  '  
    ----- ' থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ ম্যাডাম...  '
    মেয়েটি একগাল হেসে শিঞ্জিনীর দিকে তাকিয়ে রইল ।  
    ---- ' ঠিক আছে। আজ তুমি টায়ার্ড আছ, তোমাকে ডিসটার্ব  করব না।  আবার হয়ত কোথাও দেখা হয়ে যাবে। তখন কথা হবে ।   তুমি এই গ্রুপে রেগুলার তো...  '
    ----- ' না রেগুলার ঠিক না ম্যাডাম।  মাঝে মাঝে করি।  পড়াশোনার প্রেসার আছে।  এ গ্রুপটা  আমার মামা চালায়।  খুব ফিনান্সিয়াল ক্রাঞ্চ আছে ...  প্রবলেম আছে,  বুঝতেই তো পারছেন...  
     ----- ' হ্যাঁ,  বুঝতে পেরেছি ... এ সব আর্টের অডিয়েন্স তো লিমিটেড ।  দেখ... হাল ছেড়ে দিও না।  একটা বড় শিল্প...   আর ইয়ে...  আমার ফোন নাম্বারটা রেখে দাও।  যদি কখনও তেমন দরকার হয়....  ডোন্ট হেজিটেট ...  আয়্যাম রিয়েলি ইমপ্রেসড উইথ ইউ...  ' 
    ----- ' অনেক ধন্যবাদ ম্যাডাম। নাম্বারটা বলুন...   মিসকল দিচ্ছি...  ' 
    মেয়েটি মোবাইল বার করল।   শিঞ্জিনীর বলা নম্বরে মিসকল দিল। 
    শিঞ্জিনী বলল, ' ঠিক আছে ...  কী নামে সেভ করব ?  '  
    আফ্রোদিতি বলল, ' মনোমিতা দত্ত...  ' 

     শিঞ্জিনী বাড়ি ফিরল রাত এগারোটায়।  ওপরে উঠে দেখল অনিন্দ্যবাবু তখনও জেগে আছেন। একটা বই পড়ছেন।    
    শিঞ্জিনী ঘরে ঢুকে বলল, ' অনু বাড়ি ফিরেছে ? '
    অনিন্দ্যবাবু বইয়ের পাতা থেকে চোখ না তুলে বললেন, ' না বোধহয় ... ' 
    ----- ' সেকি.... এখনও ফেরেনি ! কোথায় যে যায়....  '
    অনিন্দ্যবাবু বই বন্ধ করে দিলেন।  খাটের বালিশে হেলান দিলেন।  
    ----- ' মাঝে মাঝে খোঁজ খবর তো নিতে পার...  কোথায় কোথায় যায়,  কার কার সঙ্গে মেশে...  '
    ---- ' তাই তো...  দরকার।  মাঝে মাঝে খুব চিন্তা হয় ওর জন্য। পাপুন আর বুটানের জন্য আমাদের কোন চিন্তা করতে হয়নি...  '  শিঞ্জিনী বললেন কানের দুল খুলতে খুলতে ।  
     ----- ' আমাদের অনেক আগে থেকেই  কশাস হওয়া উচিৎ ছিল...  বায় দা বায়,  তোমাদের প্রোগ্রাম কেমন হল ?  '
    ----- ' ফ্যানটাস্টিক।  রিয়েলি মাইন্ড ব্লোয়িং।  তোমাকে তো যেতে বললাম,  কিন্তু তুমি তো এসব...  অনু যাবে বলেছিল,  কিন্তু গেল  না ... ভাল লাগত গেলে ...  ' 
    ---- ' দেখ,  কোন মহৎ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে,  কখন বাড়ি ফেরে...  ' অনিন্দ্যবাবু পাশ ফিরে শুলেন।  
    ----- ' সত্যি চিন্তার ব্যাপার...  অ্যাগনাইজিং...  '
    অনিন্দ্যবাবু আবার চিৎ হয়ে ভ্রু ওপরে তুলে বললেন, '  রিয়েলি সো ?  তুমিও তাহলে ছেলেকে নিয়ে চিন্তা কর ! '
    শিঞ্জিনী কথাটার কোন উত্তর না দিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলেন।  
    রাত প্রায় দেড়টা বাজে । গেটে কে কলিং বেল বাজাল।  অনিন্দ্যবাবু ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।  ঘুম ভেঙে গেল।  আপনমনে বিড়বিড় করলেন, ' এতক্ষণে বোধহয় তিনি বাড়ি ফিরলেন...  ' 
    শিঞ্জিনী বলল, ' দিস ইজ টু মাচ।  লাইন ইজ টু বি ড্রন সামহোয়্যার...  '
    ----- ' তবেই  বোঝ....  '
    নিদ্রাজড়িত গলায় কথা ক'টা শেষ হলে  অনিন্দ্যবাবুর আবার মৃদু নাসিকাগর্জন শোনা যেতে লাগল।  

     ( ক্রমশ )  

    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন