এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কালবেলার রৌদ্রছায়া - ১৩ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ মার্চ ২০২৬ | ৯ বার পঠিত
  •                               ( ১৩ )  

    আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা।  ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে । আকাশে আজ আর আলো ফুটবে বলে মনে হয় না।  অনুমিত আজ বেরোয়নি।  বাড়িতেই  বসে বসে নেটফ্লিক্সে মুভি দেখছে।  একটা দক্ষিণী ছবি দেখছিল।  রোমহর্ষক রক্ত গরম করা লাগাতার অ্যাকশানে ভরভুর।   সাড়ে বারোটা বাজে।  এক মগ কফি করে খেল।  বৈদিক ভিলেজে একটা পার্টি আছে সন্ধেবেলায়।  এক বন্ধুর ব্যবসা উদ্বোধনের পার্টি।  হাওড়ার দিকে কোথায় অ্যালুমিনিয়ামের  জিনিসপত্র তৈরির ফ্যাক্ট্রি খুলবে।  ছেলেটা তারই বয়সী,  গুজরাটি।  নাম মোহন দোশি। কলেজে তার সঙ্গে বি কম পড়ত।  ওর বাবারও দু তিন রকমের ব্যবসা আছে।  ব্যবসা ওদের রক্তে আছে।  
    কফিতে একটা চুমুক দিয়ে অনুমিত ভাবল,  তার রক্তে কী আছে ?  তার দুই  দাদা তো অতি উঁচু মানের শিক্ষিত।  বাবা মায়ের রক্তের ধারা বহন করছে নিশ্চিতভাবেই ।  সে তাহলে বেলাইনের 'প্রোডাক্ট' হয়ে গেল কী করে।  তার না আছে ওরকম মেধা,  না আছে কোন কার্যকরী উদ্যম।  তার কখনই মনে হয় না যে তার দ্বারা বাস্তবসম্মত কিছু করা সম্ভব । 
    যে কোন বয়সের আকর্ষণীয় নারী দেখলে মাত্রাজ্ঞান ভুলে গিয়ে তাকে পাবার ইচ্ছে অদম্য হয়ে ওঠে।  এই উদ্যমে নেমে তার কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে।  টাকা খরচ করতে পারলে এক ধরণের 'মেয়ে' পাওয়া যায়।  তারা অনেকেই সমাজের উঁচু স্তরের বাসিন্দা।  নেহাতই হেঁজিপেঁজি নয়।  এ ব্যাপারে অন্তত চারটে শক্তপোক্ত  অভিজ্ঞতা  হয়েছে।  তার মধ্যে একজন তার চেয়ে বয়সে প্রায় পাঁচ বছরের বড় ছিল। ওর নাম ছিল তাপ্তি । তাপ্তি করঞ্জাই। দুই ছেলেমেয়ের মা।  তাকে নেশাগ্রস্ত করে দিয়ে তার থেকে সরে গেল।  তাপ্তি তার লাখ তিনেক টাকা খসিয়ে দিয়েছে দেড় মাসের মধ্যে।  এন্তার ব্যবহারে
    ঋণভারে ভারাক্রান্ত হয়েছে অনুমিতের ক্রেডিট কার্ড।  এদিকে আসঙ্গ লিপ্সা ক্রমাগত বেড়ে  উঠতে লাগল ।  টাকার বিনিময়ে সবকিছুই পাওয়া যায়,  এ ধারণাটা বদ্ধমূল হয়ে গেল তার মনে। শুধু আগল ভাঙা মহিলা নয়,  তার মনে হতে লাগল মনোমিতার মতো কলেজ পড়ুয়াদেরও পাওয়া  যায়।  এক ট্রিপে ত্রিশ হাজার টাকা কম নাকি ।  অনুমিতের মনে হচ্ছে আর দু একদিন নাড়া দিলে হয়ত নরম হয়ে যেত।  মেয়েটাকে অনেকদিন ধরে ভাল লাগছে।  কিন্তু মাঝখানে ওর বাবা ঢুকে পড়ে ঝামেলা পাকাল ।  একেবারে তার বাবা অনিন্দ্য বোসের কাছে গিয়ে হাজির হল ।       

        আকাশ অন্ধকার করে এসেছে।  দুপুরবেলাতেই মনে হচ্ছে সন্ধে নেমে এসেছে।  রাস্তায় গাড়িগুলোর হেডলাইট জ্বলে উঠেছে ।  
    বৃষ্টির জোর বাড়ল।  চারদিক ভেসে যাচ্ছে বৃষ্টির ঝাপটায় । অনুমিত উঠে গিয়ে ঘরের জানলা দুটো বন্ধ করে দিল।  বাইরে অঝোর বৃষ্টির শব্দ।   

       অনুমিতের মোবাইল বেজে উঠল এইসময়ে। সেন্টু ফোন করেছে।  সেন্টু সিনহা।  অনুমিত ফোন তুলল। 
    ----- ' হ্যাঁ বল...  '
    ---- '   আজকে আসছিস তো ?  ',  সেন্টু বলে।   
    ---- ' কোথায়...  মোহনদের  প্রোগ্রামে ?  ' 
    ----- ' হ্যাঁ হ্যাঁ,  আবার কোথায় ?   বৈদিক ভিলেজে...   ফাটাফাটি লিকারের অ্যারেঞ্জমেন্ট হচ্ছে শুনলাম পবনের কাছে...  '  
    ----- ' বলতে পারছি না...  ওয়েদার খুব খারাপ...  তাছাড়া  এখান থেকে ডিস্ট্যান্সও অনেক ...  '
    ----- ' সো হোয়াট...  গাড়ি  নিয়ে আসবি,   প্রবলেমটা কী ?  আর, বাই দ্যাট টাইম বৃষ্টি নিশ্চয়ই থেমে যাবে...  ডোন্ট ওয়ারি...  চলে আয় চলে আয়...  বহুৎ এনজয়মেন্ট হবে...  '
    ----- ' আচ্ছা দেখি...  চেষ্টা করব... নট শিয়োর... '
    ---- ' বলছি যে, ওদিকে আর কোন গল্প আছে নাকি ?  ' 
    ----- ' কিসের গল্প ?  ' 
    ----- ' আরে,  লেকের ওই মেয়েটার কেসটা...  আর কোন ক্যাঁচাল হয়েছে নাকি ?  ওটা ছেড়ে দে  ছেড়ে দে ...  ' 
    ----- ' দূর...  চুপ কর তো...  তোদের এত হেডেক কিসের ওটা নিয়ে ...  রাখছি আমি...  ' 
    অনুমিত ফোন কেটে দিল।  

         শিঞ্জিনী ঘরে ঢুকে বললেন,  ' আজ আর বেরোস না...  ওয়েদার খুব খারাপ '
    ----- ' হুঁ... দেখি...  '
    ---- ' তোর বাবা তোকে সেদিন কোথায় নিয়ে গিয়েছিল রে ?   ' 
    ----- ' ও...  ওই একটা জবের জন্য...  '  
    ----- ' ও...  কিছু হল ?  ' 
    ----- ' দেখা যাক... '
    ----- ' কথা হয়েছে কিছু ?  '
    ----- ' হ্যাঁ হয়েছে ইনিশিয়ালি...  '
    ----- ' ইনিশিয়ালি...  মিনস ?  ফাইনাল কবে বলবে ?  '
    ----- ' ওই ধর...  উইদিন এ উইক... এগ্জ্যাক্ট বলতে পারছি না।   
    ---- ' দেখ...  যদি কিছু একটা হয় খুব ভাল হয়।  খুব চিন্তা হয়...  এভাবে আর কতদিন কাটাবি।  বয়স বেড়ে যাচ্ছে ...  ',  শিঞ্জিনী মাথা নীচু করে বসে কী ভাবতে লাগল। 
    অনুমিত তার মাকে এরকম মার্কামারা মধ্যবিত্ত পরিবারের এক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মায়ের ভঙ্গীতে কথা বলতে দেখে খুব অবাক হয়ে  গেল।  শিঞ্জিনীর মনে যে এ ধরণের সাধারণ গোত্রের দুর্ভাবনা বাসা বাঁধতে পারে সেটা তার চিন্তার বাইরে ছিল।  তার ধারণা ছিল তার মা এক সাংসারিক দায় দায়িত্ববোধহীন এক  ' পার্টি বাফ ' ।   
    অনুমিত বুঝতে পারছিল না এখন ঠিক কী বলা উচিৎ ।  নতমস্তকে দায় স্বীকার করে নেওয়া তার ধাতে নেই।  কিন্তু মা এবং বাবার কথা ভেবে একটা একটা ছুঁচ ফোঁটার মতো ব্যথার অনুভূতি তার হল এই মুহূর্তে ।   
    সে বলল, ' হ্যাঁ...  ইয়ে...  চিন্তা কোর না।  হবে...  হবে...  ' 
    শিঞ্জিনী একটা ছোট শ্বাস ফেলে বললেন, ' হমম্...  যাই আমি...  কাজ আছে...  ' 
     

        সামনে ভোট।  সব দলই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে ।  হাতে গোনা কিছু দিন বাকি আছে আর।  দেবাশিসের জন্য বিজয় একটা কাজের ঠিক করেছে  একটা রাইস মিলে।  ডিউটির সময়টা অবশ্য একটু বেশি।  তবে রবিবার ছুটি আছে।  মালিক রঞ্জিত বেরা সুভাষ গিরির খুব ভক্ত।  রঞ্জিতের বাবা গদাধর বেরা একসময়ে সুভষবাবুর সঙ্গে পার্টির কাজ করেছেন।  তিনি এখন বেঁচে নেই ।   চালকল অবশ্য তাদের কয়েক পুরুষের ব্যবসা।  এখন রঞ্জিত চালায়।  
    দেবাশিস ভাবল, ' দু সপ্তা হয়ে গেল বিজয়বাবুর
    সঙ্গে দেখা হয়নি।  কাল রবিবার আছে।  ওদিকে যাবে সকালের দিকে।  সুভাষ স্যারের...  না না থুড়ি,  সুভাষদার সঙ্গেও দেখা করবে,  কথা শুনবে । তাছাড়া হয়ত দ্রৌপদি দিদির সঙ্গেও দেখা হবে ওখানে ।    

      ( ক্রমশ )  

    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন