এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কালবেলার রৌদ্রছায়া - ১৮ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২৭ বার পঠিত
  • | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮
    ( ১৮ )  

    অনুমিতের একটা জেদ চেপে গেছে।  যে করেই হোক মনোমিতাকে অন্তত একদিনের জন্য হলেও পেতেই হবে।  আগে কখনও এমন হয়নি।  হয়নি,  কারণ সে মেয়েগুলো টাকার টানে আত্মসমর্পণ করেছিল।  কিন্তু এটা একটা শক্ত গাঁট হয়ে যাচ্ছে।  এর বাবাটাও একটা ঘাওড়া মাল আছে।  সোজা বাবার কাছে গিয়ে প্যানপ্যান করেছে।  করে কেসটা জট পাকিয়ে দিয়েছে।  জজসাহেব সব জেনে ফেলেছে  তাই।  নাহলে কবেই বেঁকিয়ে দিত।  টাকাটা তো কিছু কম অফার করেনি।  তিরিশ  হাজার তো কিছু কম অ্যামাউন্ট নয়।  আরে বাবা, টাকার ভাগ তো তুইও পাবি।  এত সতীপনা কিসের?  টাকায় কথা বলে।  আচ্ছা আচ্ছা পাবলিক গলে আইসক্রিম হয়ে যায়।  টাকার টানে হেভিওয়েট মালগুলো এবেলা ওবেলা পাল্টি  খাচ্ছে,  আর এ তো কোন ইয়ের চাঁট।  মটকা গরম হয়ে যায় বাঁ...।  
    অনুমিত এইসব ভাবতে ভাবতে শরত বোস রোডের মোড়ে এসে দাঁড়াল।  মোটামুটি এই টাইমেই এখান দিয়ে পাস করবে মেয়েটা বাসস্টপে যাওয়ার জন্য।  আজকেই একটা ফয়সালা করতে হবে ব্যাপারটার।  আজ যদি রিফিউজাল আসে সে যা করবার করবে।  ছোড়নেওয়ালা নেই।  বাবার কথা পরে ভাবা যাবে।  অনুমিত জেদ এবং উত্তেজনা দুটোই বোধ করতে লাগল।  
    দশটার একটু আগেই মেয়েটা এখান দিয়ে যায়।   অনুমিত ঘড়ি দেখল এখন সাড়ে দশটা বাজে।  কলেজে অবশ্য প্রথম দিকে অফ পিরিয়ড থাকতে পারে।  এই গরমে এখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে 
    বোকা বোকা লাগছিল।  সামান্য একটা মেয়ের জন্য এরকম ঝামেলা...  এঃ বুলশিট...  যদি বন্ধুরা কেউ এখানে এ অবস্থায় দেখে বেইজ্জতির ব্যাপার হবে।  গাড়ি আনতে পারেনি অনুমিত।  বাবা আর মা কোথায় যেন বেরোবে।  বাবার এক এক্স কলিগের নাতির পৈতে আছে।  সেখানে যাবে। অনুমিতের অনেক দিন ধরেই মনে হচ্ছে তার একটা নিজস্ব গাড়ি দরকার।  নাহলে সবদিক দিয়েই অসুবিধে হচ্ছে।  কার ইজ আফটার অল এ সিম্বল অফ স্ট্যাটাস।  ইট কাউন্টস সো মাচ  স্পেশালি হোয়েন ইট কামস টু অ্যাপ্রোচিং গার্লস।  কিন্তু তার তো কোন আর্নিং নেই।  মিস্টার অনিন্দ্য বোসের কাছে হাত পাততে হবে এবং সেটা করলে যেসব কথাবার্তার সম্মুখীন হতে হবে  তার বাবার কাছ থেকে সেটা হবার কোন ইচ্ছে নেই  তার।  
    কব্জি  উল্টে ঘড়িতে সময়  দেখল অনুমিত।   পৌনে এগারোটা বাজে।  না, আজ আর হল না।  
    আর দাঁড়ানো ঠিক হবে না এখানে।  প্রচন্ড বিরক্তিতে তার গা চিড়বিড় করতে লাগল।  
    ভাবল, মেয়েটাকে একবার গ্রিপে পাই, তারপর কিভাবে সব হয়রানি কিভাবে উসুল করতে হয় তার জানা আছে।  ওর ওই  মাকড়া বাবাটাকেও সে ছাড়বে না।  
    অনুমিত পকেট থেকে মোবাইল বার করল রেপিডোর বাইক বুক করার জন্য।  মন মেজাজ চিড়বিড় করছে। স্কুলের ছেলেদের মতো একটা মেয়ের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা,  কোনদিন ভাবেনি সে। 
     গাড়ি বুক করা হয়েছে।  এখন ওরা খোঁজাখুঁজি চালাচ্ছে।  এই এক যন্ত্রণা।  ক'টা বাতিল হয় তার  ঠিক নেই।  অনুমিত মোবাইলের পর্দার দিকে চোখ ফেলে দাঁড়িয়ে রইল।  সড়সড় করে নেট  কানেকশানের  লাইন এগোচ্ছে,  আবার গুটিয়ে  যাচ্ছে। আবার শুরু থেকে খোঁজাখুঁজি...    কী বিরক্তিকর !  কিছু করার নেই।  অফিস টাইম চলছে।  পরিষেবার টানাটানি এখন। হাউ ন্যাগিং অ্যান্ড বাগিং ...  অনুমিতের ভ্রু কুঁচকে উঠেছে।   কপালে ঘাম  জমছে। মিস্টার অনিন্দ্য বোস তাকে বারবার চাপ  দিচ্ছেন কিছু একটা কাজকর্ম শুরু করার জন্য।  মানে,  তাকে টাকা রোজগার করতে হবে।  সে যে কোন কাজকর্ম করে টাকা রোজগার করবে এটা এখনও তার ভাবনা চিন্তার বাইরে।  নানা ধরণের লোকজনকে সে টাকা রোজগার করার জন্য খাটা খাটনি করতে দেখে,  তা সে চাকরি বাকরিই হোক কিংবা ব্যবসা ট্যাবসাই হোক।  এগুলো যে তার পক্ষে সম্ভব সেটা তার বিশ্বাসই হয় না।  তার বাবা তাকে চাপাচাপি করছে সফটওয়্যারে কী সব ট্রেনিং ফ্রেনিং নেবার জন্য।  
    তাতে তার মাথা আরও গরম হয়ে যাচ্ছে।  কোথায় সে ভেবে চলেছে নিউ দীঘার তার জানাশোনা  একটা ঝাঁ চকচকে হোটেলের এসি রুমে মনোমিতাকে নিয়ে গিয়ে তুলবে।  সেই চিন্তায় সে বিভোর হয়ে আছে।  সেখানে এসব কাজকর্মের শুখনো কথা হজম করা মুশ্কিল হয়ে যাচ্ছে। ওই হোটেলে সে আগেও মেয়ে নিয়ে উঠেছে কিন্তু তাদের তো একরকম বাজারি মেয়ে বলা যায়।  যদিও বিবাহিত এবং  অবিবাহিত দুরকমই আছে এবং সকলেই  ঘর সংসারওয়ালা। 
    অনুমিত রুমাল বার করে কপাল আর গলার ঘাম মুছল।  রুমাল পকেটে রেখে রাস্তার ডানদিকে তাকাল।  দেখল মোটামুটি একশ মিটার দূরে ম্যাজেন্টা নীল রঙের আভাস দেখা যাচ্ছে। ঠিক মিস্টার অনিন্দ্য বোসের গাড়ির রঙ।  এদিকে এগিয়ে আসছে মসৃন গতিতে নানা গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে।  অনুমিত একটু পিছিয়ে গিয়ে একটা বাড়ির গেটের আড়ালে দাঁড়াল।  ভাবল, নিশ্চয়ই বাবা মা পৈতের অনুষ্ঠানে যাচ্ছে। এখানে তাকে না দেখাই ভাল।  প্রায় তিরিশ  মিটার বাঁ হাতে একটা ট্রাফিক সিগন্যাল আছে।  সিগন্যাল লাল হয়ে গেল। গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে পড়ছে পরপর।  ম্যাজেন্টা   নীল গাড়িটা এসে দাঁড়িয়ে গেল 
    ঠিক ওই জায়গাটায় যেখানে অনুমিত দাঁড়িয়ে আছে।  হ্যাঁ,  এটা তাদেরই গাড়ি এবং এখান থেকে 
    পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে গাড়ির পিছনের সিটে দুজন বসে আছে।  একজন তো তার মা শিঞ্জিনী বসু আর অন্যজন...  অনুমিত চমকে উঠল। 
    তার মায়ের পাশে বসে আছে মনোমিতা দত্ত। মনে হচ্ছে দুজনে বেশ ঘনিষ্ঠ ভঙ্গীতে কথাবার্তা বলছে  নিজেদের মধ্যে।  অনুমিত আন্দাজ করল বসু দম্পতির পৈতের অনুষ্ঠানে যাবার প্রোগ্রামটা কোন কারণে বাতিল হয়েছে। কিন্তু তারপর ...  

       দেবাশিসের সঙ্গে প্রসূন প্রামাণিকের দেখা হয়ে গেল রাস্তায়।  প্রসূন তার ছোটবেলার স্কুলের বন্ধু।  সকলেই  জানে প্রসূন পার্টি করে।  আর কিছু করে না। দামী বাইক চালিয়ে যাচ্ছিল।  আগে ভাঙা সাইকেলে ঘুরত দরকচা মারা চেহারা নিয়ে।     বছর তিনেক আগে পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছে।  এখন চেহারায় কেমন জেল্লা খেলছে।  তাও তো পঞ্চায়েত প্রধান টধান নয়,   সামান্য সদস্য মাত্র।  আগে এক ঝান্ডা নাড়াত।  বছর তিনেক আগে চাকরি বদলাল, মানে ঝান্ডা বদলাল।  তার পরই কপাল খুলে গেল।  সঠিক  সময়ে এক গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে উঠে যাওয়ার সময়জ্ঞান যার আছে তার উন্নতি কেউ ঠেকাতে পারবে না। জুতসই ঝান্ডা পছন্দ করতে পারাটাই  আসল কথা। মাথা খেলিয়ে  প্রসূন এতদূর উন্নতি করেছে  যে স্থানীয়  ব্লকের সিন্ডিকেটের মাথা হয়ে বসেছে
    দু তিন বছরের মধ্যেই।  নির্মল করন সেদিন বলছিল,  'যাই বল আর তাই বল, শালা কিন্তু করিতকর্মা লোক।  চার চাকা কিনল বলে। এ বিজনেসে হেবি প্রফিট।  তা যা করেছে বেশ করেছে। দু পার্টির দাদারা আপস করে মিলেমিশে মাল কামাবে আর টিভিতে ঝগড়ার নাটক করবে আর অন্যরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আঙুল চুষবে ?  যা করেছে শালা বেশ করেছে।  আমার কলজে শক্ত হলে আমিও করতাম।  আদর্শ মাড়িয়ে আর লাভ আছে ?  '
    সে যাক, প্রসূনের কিন্তু বাল্যবন্ধুদের ওপর টান এখনও আছে।  দেবাশিসকে দেখে সে বাইক থামাল।  বলল, ' কিরে...  কেমন আছিস ?  ' 

       ( ক্রমশ )  

    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন