এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  অন্যান্য  মোচ্ছব

  • ক্যাপিটালিজম কি স্বাভাবিক নিয়ম?

    নিরমাল্লো লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্যান্য | মোচ্ছব | ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২৯০ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • খুব একখানা শিরোনাম দিলাম কি বলুন! শুনেই মনে হচ্ছে ভারী একখানা প্রবন্ধ হবে, খুব জটিল অর্থনৈতিক থিয়োরি নামিয়ে হুদো হুদো স্ট্যাটিস্টিক্স গুঁজে – সে এক গম্ভীর আলোচনা! কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি এক্কেবারে অর্থনীতিতে কাণা। এক্কেবারে অন্ধ বলতে পারি না, তাইলে আর এই মার্কেটে পেটে ভাত জুটত না। দোকানীর কাছে জিনিস কিনে টাকা গুণে ফেরত নিতে পারি ঠিকঠাক। ওর চেয়ে বেশি অর্থনীতি আমার পেটে বোম মারলেও বেরোবে না। তাহলে এমন একখানা প্রবন্ধ লেখার হিম্মত করলাম কি করে? সেটাই বরং বলি এবার। শিরোনামটা দিয়েই শুরু করা যাক কি বলুন।

    প্রথমেই শব্দগুলোকে একটু আঁচিয়ে নেওয়া যাক। 'স্বাভাবিক নিয়ম' বা 'ন্যাচরাল ল' কাকে বলে? যে প্রক্রিয়া প্রকৃতিতে স্বাভাবিক ভাবেই হয়, তাকেই স্বাভাবিক নিয়ম বলে। যেমন ধরুন পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরপাক খায়, আপেল মাটিতে পড়ে, আমরা খাবার খেয়ে শক্তি অর্জন করি ইত্যাদি। কিন্তু ক্যাপটালিজম ত সে সব নয়, এ তো মানুষের বানানো এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যার মূল কথা হল - বাজার নির্ধারিত হয় মূলত স্বাধীন প্রতিযোগিতা, চাহিদা ও জোগানের ওপর। এর উপরে অঢেল টীকা টিপ্পনী আছে আমি সেদিকে ঢুকছি নে। মোটামুটিভাবে যা বোঝানো যায় সেটাই বলছি। মোদ্দা কথা হল বাজারই আমাদের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক, এবং প্রতিযোগিতাই ঠিক করে দেয় যে কে কত টাকা কামাবে। যদি ভুল বলি – গুণীরা ঠিক করে দেবেন, তবে আমি গোটাগুটি এই বুঝেছি।

    এইখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার, বৈদিক যুগে শতপথ ব্রাহ্মণে এবং পরবর্তীতে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে কিন্তু এই ব্যবস্থাকে 'মাৎসন্যায়' বলেছে। প্রথম ব্রাহ্মণের সেই অংশটা একটু তুলে দিই - "যাবন্তো বৈ খুল্লকা ভবন্তি, ভূরি বৈ নস্তাবত্তাবন্নাষ্ট্রা ভবতি, মৎস্য এব মৎস্যং গ্রসতে..." – অস্যার্থ - আমরা যতক্ষণ ছোট থাকি, ততক্ষণ আমাদের ধ্বংসের ভয় চরমে থাকে। এখানে বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে খায় – এবং পরে আবার ষষ্ঠ ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে - যখন সমাজে অনাবৃষ্টি বা সুশাসনের অভাব (মাৎসন্যায়) দেখা দেয়, তখন সবলরা দুর্বলের সবকিছু গ্রাস করে। তাই ধর্ম হল দূর্বলকে রক্ষা করা। ("তস্মাদ্য়দেমং লোকমাপ আগচ্ছন্তি সর্বমেবেদং যথাধর্মং ভবত্যথ যদাবৃষ্টির্ভবতি বলীয়ানেব তর্হ্যবলীয়স আদত্তে ধর্মো হ্যাপঃ")। অর্থাৎ ধরে নেওয়া যায় বৈদিক লেখকরাও ক্যাপিটালিজমে খুব একটা বিশ্বাস করতেন না। [*এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, শ্লোকে খালি অনাবৃষ্টির সময়কার কথাই বলা হয়েছে রূপকের মাধ্যমে – যখন জল যথেষ্ট আছে তখনকার কথা তো বলে নি। আমি তখন হাত তুলে সারেন্ডার করে দেব। সত্যিই – ওনারা সে সব কথা বলেন নি, আমি ভাব সম্প্রসারণ করলুম আর কি!]

    তাহলে মুণি-ঋষিরা যা অধর্ম বলে গেছে তা স্বাভাবিক নিয়ম হল কি করে? কৌটিল্য ত বণিকদের একভাবে চোর ডাকাত বলে বসে আছেন ("বণিজঃ চোরঃ অ-চোরকাঃ")! ক্যাপিটালিজম কি স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছিল তাই এমন কথার অবতারণা? ভয় পাবেন না – আমি ক্যাপিটালিজমের হিস্ট্রি বলব না আপনাদের – বরং একটা বিজ্ঞানের একটা সাধারণ গপ্পো বলব বলেই এই সব গৌরচন্দ্রিকা করছি। আমরা মোটামুটিভাবে এস্টাবিলিশ করেছি যে বড়মাছ ছোটমাছকে খেয়ে ফেলবে এই বৈষম্য পুঁজিবাদে দেখা যায়। প্রশ্ন হল এমন জিনিস নেচারে দেখা যায় কি? ভেবে দেখলে দেখবেন – এর উত্তর আগেই দিয়ে দিয়েছি। আগেই বলেছি বেদকাররা ঐ অরাজক অবস্থাকে মাৎস্য ন্যায় বলেছেন - অর্থাৎ মাছের মত। সে তো নেচারেরই অংশ। বড় মাছ ছোট মাছ খায়, বাঘ হরিণ খায়, আমরা সব খাই – দিব্যি একটা ফুড পিরামিড আছে। এ তো দিব্যি স্বাভাবিক।

    এইখানে অনেকে বলবেন – নেচারে আর পাঁচটা পশু যা করে মানুষ তাই করবে কেন? আমরা তো অনেক বেশি উন্নত। আমাদের কি এদের থেকে উন্নত হবার কথা নয়? আমি বলব – এর চেয়েও একটা গভীর কারণ আছে বড় জিনিস বেশি স্থায়ী হবার। আমি এখানে বড় বিজনেসের কথা বলছি না। বড় পদার্থ বা বড় জড় বস্তুর কথা বলছি। অর্থাৎ ব্যবসা বাণিজ্য ছেড়ে এবার আমরা লম্ফ দিয়ে চল্লুম পদার্থবিদ্যার দিকে। আমরা বলছি অসওয়াল্ড রাইপেনিং-এর কথা, যার ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৮৯৬ সালে উইলহেল্ম অসওয়াল্ড-এর দুটি প্রবন্ধ থেকে। অসওয়াল্ড রাইপেনিং এর ইতিহাস বেশ মজার তবে ভারি লম্বা – আপনাদের মধ্যে যাদের বিজ্ঞানের ইতিহাসে আগ্রহ আছে তারা বালদনের রিভিউ আর্টিকেলটা পড়ে দেখতে পারেন (লিঙ্ক রইল: https://doi.org/10.1023/A:1015388912729)।

    আমরা বরং ফিরি এই প্রক্রিয়ার মূল প্রতিপাদ্যতে। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন যে – যদি তেলে জলে মিশিয়ে দিয়ে খুব কষে ঝাঁকানো হয় – তবে আমরা জলের মধ্যে তেলের ছোট ছোট বুদবুদ দেখতে পাই। কিন্তু খানিকক্ষণ রেখে দিলে আস্তে আস্তে ঐ ছোট বুদবুদ থেকে বড় বুদবুদ, ও ক্রমশ আরো বড় বুদবুদ – এবং শেষমেশ তেলে জলে এক্কেবারে আলাদা হয়ে যায়। থার্মোডিনামিক্সের ভাষায় একেই বলে ফার্স্ট অর্ডার ট্রানসিশান। অসওয়াল্ড এটি প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য করলেও – এর তাত্ত্বিক ব্যখ্যা প্রথম দেন লিফশিজ ও স্লিওজভ, এবং পরবর্তীতে ওয়াগনার ১৯৬০-৬১ সালে। মোটামুটিভাবে তাদের বক্তব্য ছিল এই যে ছোট ছোট জিনিসের স্পেসিফিক সারফেস এরিয়া বড্ড বেশি – ফলে তাদের সারফেস টেনশানও বেশি – ফলে তাদের টিঁকে থাকার জন্য অনেকটা শক্তি ক্ষয় হয়। এই কারণে তেল আর জল ক্রমশ আলাদা হয়ে দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায় – কারণ ঐ অবস্থায় এদের স্পেসিফিক ইন্টারফেসিয়াল এরিয়া সবচেয়ে কম।

    ব্যপারটা একটু বুঝিয়ে বলা যাক – মনে করুন আপনি বনগাঁ লোকালে চড়েছেন – এক্কেবারে তিলধারণের যায়গা নেই, আপনি মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন, ন যযৌঃ ন তস্থৌ হয়ে। এবারে ট্রেনের মাঝে যদি দাঁড়িয়ে থাকেন আপনি একটু গুঁতো খাবেন বটে, কিন্তু পড়ে যাবার ভয় নেই – সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু যদিস্যাৎ আপনি ট্রেনের দরজায় ঝোলেন – তবে আপনার সমূহ বিপদ। সামান্য প্রেশার আসলেই আপনি – পপাত চ মমার চ। আপনার এই অবস্থার গালভরা বৈজ্ঞানিক নাম হল গে – সারফেস টেনশান। সুতারাং আপনাকে টিঁকে থাকার জন্যে প্রবল শক্তিক্ষয় করতে হবে। এবারে যতবেশি লোক এমন ঝোঝুল্যমান অবস্থায় যাবে ততবেশি শক্তিক্ষয় হবে। তাই নেচার বড় বড় জিনিস পছন্দ করে যাতে সারফেস টেনশান কমানো যায়। ঠিক সেই কারণেই যখন একই সিস্টেমে ছোট বড় নানান মাপের একই জিনিস থাকে তখন বড় জিনিস ছোট জিনিসকে গাপ করে। মানে পদ্ধতিটা একেবারে গপ করে গিলে ফেলা নয়, বরং ছোট জিনিস ক্রমশ তার ওজন কমাতে থাকে আর সেই ওজন সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে বড় জিনিসে মধ্যে জমা পড়ে। মেটেরিয়াল সাইন্সে এরই নাম – অসওয়াল্ড রাইপেনিং।

    এতখানি ঘ্যানঘ্যান শোনাবার কারণ আশা করি বুঝতে পারছেন। আবার ঐ মাৎস্য ন্যায়। বড় জিনিস ছোট জিনিসকে শুষে নেয়, বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে ফেলে, বড় বণিক ছোট বণিকের ব্যবসা চৌপাট করে, বাবা ছোট ছেলেকে ঠ্যাঙায় – সব সত্যি সব ন্যাচেরাল। হুঁ হুঁ বাওয়া – নেচারের ল এই ক্যাপিটালিজম। শিখতে তোমায় হবেই – তবে ছাড়ব না।

    লিবারাল পাঠক – আপনার মনের ধন্ধ আমি বুঝতে পারছি৷ আপনি ভাবছেন ব্যটা খুব হাবিজাবি বকে মাথাটা ঘুলিয়ে দিল। সত্যিই কি তবে বড়লোকদের টাকা গরীবমানুষদের দেওয়া যায় না? দুনিয়া কি এতই নিষ্ঠুর? জালিম দুনিয়া!

    তিষ্ঠ – তারও উপায় আছে ঐ ফিজিক্সেই লুকিয়ে। এই পন্থাকে উলটে দেওয়া যায় – তার জন্য লাগে গুচ্ছের সারফ্যাক্ট্যান্ট আর খানিক তাপ। সারফ্যাক্ট্যান্ট কি জিনিস? এ হল এমন বস্তু যার মধ্যে দ্বন্দ্ব লুকিয়ে আছে। ইনি অর্ধনারীশ্বর। এর মধ্যে তেল আর জল দুইয়েরই গুণ আছে। ঐ আলাদা হয়ে যাওয়া জল ও তেলের মিশ্রনের মধ্যে একে ছেড়ে দিলে, এর আদ্ধেক বডি থাকবে তেলে আর আদ্ধেক থাকবে জলে। আরো যদি বেশি সারফ্যাক্টান্ট দিই – তাহলে কি হবে? তাহলে সে আরো ছোট ছোট তেলের বুদবুদ বানানো শুরু করবে। বিজ্ঞানীরা এই কল লাগিয়েই জামা কাপড় থেকে তেলের দাগ তোলেন, তাই সারফ্যাক্ট্যান্টের অন্য নাম হল গে সাবান। সমাজেও মাঝে মাঝে ঐরকম সারফ্যাক্ট্যান্টের মত সমাজ সংস্কারকের দরকার হয়। নইলে সবটা একপেশে হয়ে যায় আরকি।
    ব্যাস, এইবারে আমার বিদ্যে শেষ – নটে গাছটার কপালে কি আছে আমি জানি নে। আপনাদের মধ্যে সারফ্যাক্ট্যান্ট যারা আছেন তারা সমাজ সংস্কার করবেন। আমি জ্ঞান ঝেড়ে কেটে পড়লুম।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • অন্যান্য | ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২৯০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যদুবাবু | ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১৯742437
  • "দোকানীর কাছে জিনিস কিনে টাকা গুণে ফেরত নিতে পারি ঠিকঠাক" -- ওরেব্বাস। এটা কিন্তু ঈর্ষণীয় স্কিল। একটু শিখিয়ে দিস তো।
     
    নিয়মিত লেখ।
     
    আর লেখা নিয়ে বক্তব্য হচ্ছে যে একটু স্টেপ জাম্প তো আছেই, মানে ওইভাবে কী আর ফিজিক্যাল ল ইকোনমিতে হোল্ড করে? কে জানে? আমি তোর চেয়েও বেশি ঝাপসা। তাও, কিছু ডেটল সাবান খুবই দরকার এ ব্যাপারে একমত।
     
    আমি একটা চমৎকার কাজ পড়েছিলাম ইজ ইনিকুয়ালিটি ইনেভিটেবল নামে। সম্ভবত ইউকের কিছু লোকের কাজ। সেও একটা ম্যাথেমাটিকাল মডেল বই কিছু না, কিন্তু ভারী আকর্ষণীয়। হালকা হালকা মনে আছে। খুঁজে পেলে পাঠাবো।
  • Is Inequality Inevitable  | ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪৫742438
  • আপাততঃ এইটে পাওয়া গেল একটু সার্চেই, দিয়ে যাই। পরে হয়ত যদুবাবু উনার উল্লিখিত লিংক সবার সাথে শেয়ার করবেন।
  • যদুবাবু | ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৩742439
  • এই তো এটাই। আমি পেপারটা দেখেছিলাম তার-ও লিঙ্ক দেওয়া, তবে এ তো ছবিটবি এঁকে সুন্দর করে লেখা। থ্যাঙ্কিউ। আমিও পড়ে ফেলি।
  • নিরমাল্লো | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৯742447
  • JD ঠিক বলেছিস রে - প্রচুর স্টেপ জাম্প করেছি - আসলে সবটা বুঝিয়ে বলা খুব চাপের, সহজে বোঝানো যায় না। আসল থার্মোডিনামিক্সটা লুকিয়ে আছে ঐ ছোটো পার্টিকেল বা লার্জার কার্ভেচারের লাপলাস প্রেশার বেশি হবার দরুন যে এনার্জি পেনাল্টি সেইখানে। ঐ একই যায়গা থেকে কাইনেটিক্সটাও কষা যায় - আমি যে লিঙ্কটা দিয়েছি - ওখানেই মোটামুটিভাবে করা আছে এগুলো। সেটাকে রিগোরাসলি বোঝাতে গেলে লেখার ফোকাসটা নড়ে যেত।
     
    আর সত্যি তো ফিজিক্যাল ল তো ইকোনমিতে হোল্ড করার কোন কারণ নেই। যেটা বলার সেটা হল এই যে ডাইনামিক্স আর কাইনেটিক্স এর কানেকশান সেটা তৈরী হয় একটা গ্রেডিয়েন্ট বা অসমতা থেকে। অসমতা = ইনইকুয়ালিটি। এবারে যেই ইকুইলিব্রিয়াম এ পৌঁছে যাবি তখন আর কাইনেটিক্স থাকল না। কিন্তু ইকুইলিব্রিয়াম মানে কিন্তু একেবারেই সমতা না, সকলের সমান অধিকার না, বরং সব কিছু একসাথে হয়ে যাবার একটা পন্থা। এটাও সিম্পলিফিকেশান করলাম - বাড়িয়ে বলতে গেলে বলতে হয় - যারা কাছে আছে তাদের একত্র হতে হবে, একমত হতে হবে, একই রুল ফলো করতে হবে যার ফিজিক্যাল ইকুইভ্যালেন্স হল ফেজ সেপারেশান (এটা খানিকটা ঐ লিঙ্কেও বলা আছে - ম্যাগনেটিজম দিয়ে - লজিকটা সেম)। আর যারা দূরে আছে তারা আরো দূরে সরে যাবে - তাদের রুল অন্য ডোমেনের রুলের থেকে আলাদা হলে ক্ষতি নেই। এর আরো এক্সাম্পম্ল পাবি কসমোলজিতে। আলাদা আলাদা সৌরজগতের আলাদা আলাদা ধর্ম। কিন্তু একটা সূর্যকে ঘিরে ঘুরতেই হবে - এইটেই মুখ্য! অর্থাৎ রুলার একজন (বা অল্প কয়েকজন) - এবং রুল তারই। এই ধর্মটা কতটা স্ট্রং সেটাকেই ঐ ফিজিক্সের ভাষায় পোটেনশিয়াল বলে, হয়তো ইকোনমির ভাষাতেও তাইই বলে।
     
    এবার কাইনেটিক্স হল ঐ সরে যাবার স্পিড। হয়তো ইকোনমতে একে ক্যাশ ফ্লো এর সাথে রিলেট করা যায়। অর্থাৎ যত বেশি পোটেনশিয়াল ডিফারেন্স তত বেশি ক্যাশ ফ্লো। যদি অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হয় মার্কেটে ক্যাশ ফ্লো বাড়ানো তবে ইন ইকুয়ালিটি বাড়বে।
     
    যেটা বলি নি সেটা হল, যখন আমরা রুল সেট করি তখন হয়তো অজান্তেই আমরা ন্যাচেরাল রুলকে ফলো করি। তাই হয়তো আমাদের অর্থনীতিও অজান্তে ঐরকম হয়ে গেছে।
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন