এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিশাখা লজ  -  ১ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৯২ বার পঠিত
  • ( ১ )

    এই দূষণে ভরা পৃথিবীতেও এখানে আকাশ এখনও কত নীল। কত পাখি উড়ছে আকাশে। আর্সিয়ানা সৌমিনিকে বলল, ‘ কি সুদিং অ্যাটমসফিয়ার না .....হাও বিউটিফুল ! ‘
    — ‘ ঠিক বলেছিস। মনে হয় না আমরা মডার্ণ ওয়ার্ল্ডে আছি।হোয়াট আ প্লেজেন্ট এক্সপিরিয়েন্স।’ সৌমিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
    আর্সিদের গাড়ি গিয়ে থামল একটা গাছগাছালিতে ভরা বাগানের সামনে। বাগানের মধ্যে দিয়ে মোরাম ফেলা রাস্তা গেছে বাংলোর দরজা পর্যন্ত। শরতের ঝকঝকে রোদ মেখে বইছে হাওয়া।চারিদিক কি শুনশান। একতলা বাংলো ধাঁচের বাড়ি। কাঁচের জানলায় মোড়া। চমৎকার দেখতে লাগছে।
    জায়গাটা উত্তর বাংলায়। আলিপুরদুয়ার থেকে প্রায় পনের কিলোমিটার দূরে। ও..ই দূরে রহস্যময় স্বপ্নের মতো জেগে আছে ধূসর পাহাড়।
    ঘরে লাগেজ রেখেই আর্সি আর সৌমিনি ছাতে ছুটল। দোতলা ছাত। গোলাকার মস্ত জায়গা।কি মসৃন আর ঝকঝকে। প্যারাফেটের ওপরে এবং নীচে নানান মাপের টবের ওপর নানান কিসিমের পাম গাছ— ব্যাম্বু, বটল, লেডি ফিঙ্গার ইত্যাদি সাজানো। একদম ছবির মতো। ছাদে উঠে দেখা গেল শুধু বাড়ির পিছনে নয়, চারদিক ঘিরেই বাগান। তবে পিছন দিকে দু চারটে বড় গাছ থাকলেও প্রায় পুরো অংশটা জুড়েই সব্জীর চাষ। পটল, ভিন্ডি, ঝিঙে, এছাড়া নানা ধরণের শাক ফলানো হয়েছে। কি মনোরম দৃশ্য। আর্সিয়ানা আর সৌমিনি ছাদের চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। দূরের পাহাড়ের সারিগুলো মনে হচ্ছে যেন কাছে এগিয়ে এসেছে।
    খোলা ছাদে রোদ্দুর এসে পড়ছে।বেশ গরম। তবে রাতের দিকে হাওয়া বেশ ঠান্ডা হয়ে যায় এখানে। ঝিরিঝিরি হাওয়া আসছে ওই পাহাড়ের দিক থেকে। সৌমিনি বাচ্চা মেয়ের মতো ছোটাছুটি শুরু করে দিল।
    আর্সিয়ানা বলল, ‘ চল চল বেলা দুটো বাজতে চলল।চান খাওয়া কিছু করবি না, নাকি !’
    দুজনে নীচে নেমে এল। বারান্দার একপাশে একটা চেয়ারে সতীন্দর বসে আছে। সতীন্দর তিওয়ারি।বাড়ি বিহারে। এখানে কেয়ারটেকার কাম ম্যানেজারের কাজ করে।

    বাংলোটা প্রনবেশ দত্তগুপ্তর। তৈরি করেছিলেন তার ঠাকুর্দা। প্রনবেশবাবু এখানে একবারই এসেছিলেন, সেই ছোটবেলায়, বছর চল্লিশ আগে। প্রনবেশ দত্তগুপ্ত সপরিবারে কলকাতায় কালীঘাটে থাকেন। আর্সিয়ানা প্রনবেশবাবুর একটা জটিল কেসের সমাধান করেছিল।তার পর থেকে প্রনবেশবাবু আর্সিকে প্রচন্ড খাতির করেন। প্রনবেশবাবুর ব্যবস্থাপনার সূত্রেই আর্সিয়ানা এবং তার জিগরি দোস্ত সৌমিনি এখানে এসেছে। এই দুটো মেয়ে জোট বেঁধে কত জায়গায় ঘুরেছে। এই কিছুদিন আগের শিমূলতলার গায়ে কাঁটা দেওয়া কান্ড মনে দাগ কেটে বসে আছে এখনও।
    সতীন্দর ভাল বাংলা বলে। আটবছর কলকাতায় ছিল। বলল, ‘ আপনারা ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে চলে আসুন। রুমালি ওখানে খানা লাগিয়ে দেবে।’
    দুপুরে জব্বর ঘুম হল দুজনেরই। আর্সিয়ানা যখন চোখ মেলল সৌমিনি তখনও ঘুমের ঘোরে। ঘড়িতে প্রায় সাড়ে পাঁচটা বাজে। বেলা ছোট হয়ে গেছে। আকাশ থেকে আঁধারের দোপাট্টা ছড়িয়ে পড়ছে একটু একটু করে। আর্সিয়ানা বিছানায় বসে জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল। বাংলোর পিছন দিকের জমিতে দুজন মালি কাজ করছে।
    একটু পরে সৌমিনিরও ঘুম ভাঙল। ‘ কি রে .... এ তো সন্ধে নেমে গেছে দেখছি.... ডাকিসনি আমাকে।’ সৌমিনি উঠে বসে আড়ামোড়া ভাঙে।

    রাত প্রায় আটটা। চারদিক নি:ঝুম। আর্সিয়ানা ল্যাপটপ খুলে কি সব কাজ করছিল।সৌমিনি একটা বিদেশি পেপার ব্যাক নভেলেট-এ ডুবে আছে একটা আর্মচেয়ারে বসে।এই সময়ে প্রনবেশ বাবুর কল এল আর্সিয়ানার মোবাইলে —
    ‘ ঠিক মতো পৌঁছেছিলেন তো ? কোন অসুবিধে হলে সতীন্দরকে বলবেন। আমাদের খুব ট্রাস্টেড লোক ও.... ‘
    — ‘ আপনি কোন চিন্তা করবেন না মিস্টার দত্তগুপ্ত।আমরা তোফা আরামে আছি। দরকার হলে অবশ্যই আপনাকে জানাব। হ্যাঁ সতীন্দরের হেল্প তো নিতেই হবে .....‘
    — ‘ হ্যাঁ .... প্লিজ। আমি তো অনেকদিন যাইনি ওখানে। সেই ছোটবেলায় একবার বাবার সঙ্গে গিয়েছিলাম। ‘
    —- ‘ কিন্তু পরে আর আসেননি কেন ? এত সুন্দর জায়গা ! ‘ আর্সিয়ানা বিস্ময় প্রকাশ করে।
    — ‘ কি বলব আপনাকে .... এরপর যতবারই ওখানে যাবার অ্যাটেম্পট নিয়েছি কোন না কোন বাধা পড়েছে। একটা আনক্যানি ব্যাপার যেন .... ওসব কথা পরে একদিন বলব আপনাকে। ঠিক আছে এখন এনজয় করুন আপনারা.... গুড নাইট .... ‘

    রাত্রে একটানা ঘুমোল দুজনেই। কাঁচের জানলার ভিতরের দিক ঘষা। বাইরে থেকে ঘরের ভিতরটা দেখা যায় না। সকালের রোদ্দুর ঝলমল করছে বাইরের বাগানে।

    সকাল নটা নাগাদ ব্রেকফাস্ট খেতে খেতে আর্সিয়ানা বলল, ‘ সতীন্দরজী, আমরা একটু ঘুরে আসি এদিক ওদিক। ঘরে বসে থাকতে ভাল লাগছে না।এত সুন্দর জায়গা....’
    সতীন্দর তিওয়ারি বললেন, ‘ হ্যাঁ নিশ্চয়ই। বেড়িয়ে আসুন। তবে খুব সাবধানে থাকবেন। এখানে হাতি বেরোয় মাঝে মাঝেই। এই কালকেই দুটো হাতি চা বাগানের ভেতরে ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে। তাদের খেদানো হলেও জঙ্গলে ফেরত পাঠানো যায়নি।আশেপাশেই কোথাও মজুত আছে।সাবধানে ঘুরবেন।’
    আর্সি হেসে বলল, ‘ না না তিওয়ারিজি কিচ্ছু চিন্তা করবেন না। আমার কাছে অটোমেটিক পিস্তল আছে।অবশ্যই লাইসেন্সড। আর আমার হাতের এইম অনেকেই জানে....’
    এ কথা শুনে হাঁ হাঁ করে উঠলেন তিওয়ারিজি — ‘ না না ম্যাডাম ও কাজ একদম করতে যাবেন না। গুলি যদি মাথায় না লেগে অন্য কোথাও লেগে হাতি চোট খায় তাহলে কিন্তু আপনাকে ছাড়বে না। হাতির ছোটার স্পীড নিশ্চয়ই আপনি জানেন।তাছাড়া সারা এলাকা তোলপাড় করবে ও।আর একটা কথা, হাতি চোট খেলে কিন্তু সরকারের বনদপ্তরের কেস খেয়ে যাবেন। এসব আমি আর কি সমঝাবো আপনাকে। একটু সামহালকে ঘুরবেন ম্যাডাম।’
    আর্সি আবার হেসে বলল, ‘ ও সিওর সিওর.... আমরা সামহালকেই ঘুরব।’
    আর্সিয়ানা আর সৌমিনি বেরিয়ে গেল।
    এ জায়গাটার নাম থিম্পুর। বাজারের আশপাশটা বাদ দিয়ে বাকিটা গ্রামাঞ্চলই বলা যায়। তেমন জরুরী কিছু পেতে গেলে বা কিনতে গেলে আলিপুরদুয়ার টাউনে যেতে হবে।
    গ্রামের একদল ছেলে যাচ্ছে হৈ হৈ করতে করতে। তার মধ্যে একটা কথা কানে আসল— ‘ হাতি দুটা কোথায় লুকাইছে কি জানি.... চা বাগানেই আছে বোধহয়। জঙ্গলে ঢোকে নাই লিচ্চয়.... ‘।
    এখানে কত পাখি ! রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আর্সিরা দেখল একঝাঁক টিয়াপাখি উড়ে গেল ট্যাঁ ট্যাঁ ট্যাঁ করতে করতে ওই বিশাল ঝিলটা পেরিয়ে ধূসর পাহাড়ের দিকে। রাস্তাটা আধকাঁচা আধপাকা। ওই দূরে দেখা যাচ্ছে গ্রামের লোকের ঘরবাড়ি। রাস্তাটা যেন ছবির মতো।রাস্তার দুপাশে নিবিড় গাছের সারি।
    রাস্তাটা ধরে হাঁটতে খুব ভাল লাগছিল। হাঁটতে হাঁটতে দুজনে একটা মোড়ে গিয়ে পৌঁছল।জায়গাটা বেশ নির্জন। রাস্তার ডানদিকে একটা ছোট মন্দির রয়েছে। দু চারটে লোক মন্দিরের বিগ্রহের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এখান থেকে মন্দিরের ভেতরের কালীমূর্তি দেখা যাচ্ছে। মন্দিরের সামনের উঠোনে একজন বছর চল্লিশের লোক দাঁড়িয়ে আছে। বেশ স্মার্ট দেখতে। হলুদাভ সাদা ফুলহাতা শার্ট কালচে রঙের ট্রাউজারের ভেতর গুঁজে পরা।পায়ে পরা স্নিকার শু। আর্সিদের দেখে দুহাত প্যান্টের পকেটে ভরে আস্তে আস্তে এগিয়ে এল। সৌমিনি রাস্তার ধারে একটা গাছ থেকে কাঞ্চন ফুল পাড়তে ব্যস্ত ছিল। ভদ্রলোক আর্সিয়ানার কাছে এসে স্মিত হেসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ কলকাতা থেকে বুঝি ? কোথায় উঠেছেন ? ‘
    — ‘ হ্যাঁ কলকাতা থেকে এসেছি কালকে। ‘ আর্সি জবাব দেয়।
    — ‘ ও আচ্ছা আচ্ছা .... কোথায় উঠেছেন ? ‘
    — ‘দিনান্ত বাংলোয়’।
    — ‘ দিনান্ত ? মানে অবধূত দত্তগুপ্তর বাংলো ? ‘
    আর্সিয়ানা বলে, ‘ হ্যাঁ .... মানে প্রনবেশবাবু.... ‘
    — ‘ হ্যাঁ হ্যাঁ .... বুঝতে পেরেছি। প্রনবেশবাবুর রেফারেন্সে... অবধূত দত্তগুপ্তর নাতি ....ওনার নাম শুনেছি। কিন্তু এখনও চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। উনি তো এখানে আসেনই না।’
    একটু থেমে ভদ্রলোক বললেন, ‘ আমার নাম রূপায়ণ আচার্য।আমি এখানকার সান অফ দি সয়েল বলতে পারেন। এখানে একটা হোটেল চালাই আমি। ফুড অ্যান্ড লজিং দুটোই আছে। এই কার্ডটা রাখতে পারেন। যদি কখনও দরকার পড়ে .... ‘।
    আর্সি কার্ডটা নিয়ে নিজের বুক পকেটে রাখল। সঙ্গে সঙ্গে শরীর শিরশির করে করে উঠল। মনে হল বুকের কাছে কার হাত যেন চলে ফিরে বেড়াচ্ছে। আর্সিয়ানা কার্ডটা তাড়াতাড়ি পকেট থেকে বার করে আনল।অনুভূতিটা সম্পূর্ণ গোপন রাখল।প্রকাশ করল না। সৌমিনি এসে দাঁড়িয়েছে হাতে একগাদা কাঞ্চন ফুল নিয়ে। রূপায়ণবাবু আর্সিয়ানার চোখমুখ দেখে যেন কিছু আন্দাজ করতে পারলেন।বললেন, ‘ ঠিক আছে ম্যাডাম।দরকার হলে আমাকে কল দেবেন। আর হ্যাঁ, একটু সাবধানে ঘোরাফেরা করবেন। দুটো হাতি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এখানে চলে এসেছে। এখনও ওদের জঙ্গলে ফেরানো যায়নি।
    কয়েক মাস আগে শিমূলতলায় গিয়ে যেসব অদ্ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা এখনও ভোলেনি আর্সিয়ানা। সে একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর। রক্তমাংসের রহস্য এবং অপরাধের সত্যানুসন্ধানী। আধিদৈবিক কান্ড সামলানোর গুনীন বা ওঝা তো নয়।
    সে যাই হোক, আর্সিয়ানা তার স্বাভাবিক সপ্রতিভতা বজায় রাখল। বলল, ‘ অলরাইট মিস্টার আচার্য। আরও তিন চারদিন এখানে থাকব। আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হতেই পারে।’
    — ‘ হ্যাঁ নিশ্চয়ই। এখানকার স্পটগুলো ভিজিট করতে চাইলে বলবেন। আমার গাড়ি আছে। চার্জ একদম মডারেট। ‘
    — ‘ ওকে ওকে। দরকার হলে কনট্যাক্ট করব ..... চল সৌমি এবার ব্যাক করি আমরা।’
    আর্সি কার্ডটা তার হ্যান্ডব্যাগে রাখল।
    আর্সি সারা রাস্তা চুপচাপ হেঁটে এল। বিশেষ কথাবার্তা বলল না। সৌমিনি একাই বকবক করছিল।
    দীনান্তে ফেরার পরও চুপচাপ রইল। কি যেন চিন্তা করছিল।
    সৌমিনি সবকিছুই একটু দেরিতে খেয়াল করে।সে এবার বলে উঠল, ‘ কিরে ..... একদম চুপচাপ হয়ে গেলি যে ! শরীর ঠিক নেই না কি ? ‘
    এর উত্তরে আর্সিয়ানা বলল, ‘ ওই যে একটা কথা আছে না, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, সেটাই আর কি .....’
    — ‘ মানে ? ‘
    — ‘ মানে, এখানে একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি।আমাদের একটু কশাস থাকতে হবে। ‘
    — ‘ কিরকম কিরকম ! ‘ আগ্রহে উত্তেজনায় সৌমিনির চোখের তারা কাঁপতে থাকে।
    — ‘ ধীরে বৎস ধীরে .... ক্রমশ প্রকাশ্য .... ‘
    আর্সিয়ানা তার হ্যান্ডব্যাগ থেকে রূপায়ণ আচার্য্যর ভিজিটিং কার্ডটা বার করে টেবিলের ওপর রাখল। রেখে বলল, ‘ মিস্ট্রি লাইজ দেয়ারইন।’
    — ‘ ইজ ইট ? হাও ? কি এটা ? ‘
    সৌমিনি ঝুঁকে পড়ে প্রবল উত্তেজনায়।
    — ‘ কিছুই না। জাস্ট এ ভিজিটিং কার্ড। এখনই কিছু বলা যাবে না। তোকে বলে রাখছি, যতক্ষণ আমি না বলছি তুই এটা টাচ করিস না’
    — ‘ সে ঠিক আছে। কিন্তু মিস্ট্রিটা কি সেটা তো বল....’
    — ‘ ওয়েট ওয়েট মাই চাম..... ওই যে বললাম ক্রমশ প্রকাশ্য। ‘

    বেলা একটা নাগাদ আর্সিয়ানা বাথরুমে ঢুকল চান করতে। এ বাংলোয় লেডিজ বাথরুম আলাদা। ঘর সংলগ্ন নয়। কেন তা কে জানে। শাওয়ারের নীচে দাঁড়িয়ে জল খুলে দেওয়া মাত্র রূপায়ণ আচার্যের ভিজিটিং কার্ড বুক পকেটে রাখার প্রতিক্রিয়াটা ফিরে এল। মনে হচ্ছে সারা শরীরে কে যেন হাত বুলিয়ে চলেছে। আর্সি তাড়াতাড়ি শাওয়ার বন্ধ করে দিল। কিমোনো জড়িয়ে নিল শরীরে। কিন্তু ঝট করে বেরিয়ে এল না।সে একজন সত্যানুসন্ধানী। যদিও অতিপ্রাকৃত বা সুপারন্যাচারাল ব্যাপার অনুসন্ধান করা তার কাজের আওতার মধ্যে পড়ে না, তবু রহস্যের ভীতিজনক আবর্তে পড়েও সেটা অনুন্মোচিত রেখে পালিয়ে যাওয়া তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না। আর্সিয়ানা বাথরুমের ওপর নীচ, চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগল। শ্বাস টেনে টেনে দেখতে লাগল কোন গন্ধ পাওয়া যায় কিনা। কোন কিছুই পাওয়া গেল না। ওপরের দিকে একটা কাঁচের স্কাইলাইট রয়েছে। একটা ভেন্টিলেটরও আছে। অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ল না। আর্সিয়ানা বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল।বাইরে একটা পাততুয়ো আছে।ওখান থেকে জল তুলে চান করে নিল। আর্সিয়ানা জীবনে এই প্রথম কুয়োর জলে চান করল। সারা শরীর স্নিগ্ধ শীতলতায় জুড়িয়ে গেল। তার চিন্তা হতে লাগল সৌমিনিকে নিয়ে। বাথরুমে ঢুকলে তারও তো একই অবস্থা হতে পারে। তারপর ভাবল, সৌমিনির সঙ্গে একই কান্ড ঘটে কিনা সেটাও তো দেখার দরকার।
    ভিজে জামাকাপড়ে ঘরে ঢুকতে সৌমিনি অবাক হয়ে তাকায় আর্সির দিকে। আর্সিয়ানা তৈরি ছিল। বলল, ‘ এই..... একটু ইচ্ছে হল কুয়োর জলে চান করার..... তাই ..... কোনদিন করিনি ....তুই আবার করতে যাস না যেন ‘
    — ‘না না, আমার অত শখ নেই বাবা। আমি বাথরুমে চললুম।’
    আর্সিয়ানা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কিন্তু এও চিন্তা করল, জেনেশুনে সৌমিনিকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া ঠিক না। বলল, ‘ হ্যাঁ শোন সৌমি..... আমি তখন দেখলাম বাথরুমের দরজার লকটা গোলমেলে আছে। লাগালে আর খোলা যায় না। আমি অনেক কষ্টে তখন ..... তুই লকটা লাগাস না। ডোন্ট ওয়ারি, আমি বাইরে থাকব।
    আর্সিয়ানা মনে মনে ভেবে রেখেছে কিছু আঁচ পাওয়া মাত্র দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়বে সৌমিনিকে রেসকিউ করার জন্য।

    সৌমিনি বাথরুমে চান করতে ঢুকল। আর্সিয়ানা বাইরে ঘোরাঘুরি করতে লাগল। কোন অস্বাভাবিক কিছু ঘটল না। মিনিট কুড়ি পরে সৌমিনি বেরিয়ে এল একটা হাউসকোট পরে।বেরিয়ে, আর্সির দিকে তাকিয়ে গাল ছড়িয়ে হাসল যেভাবে অল্প পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা হলে লোকে হাসে। তারপর ঘরের দিকে গেল একা একাই। আর্সিয়ানার বুক ধক করে উঠল। হাঁটার ভঙ্গী ঠিক রূপায়ণ আচার্যের মতো প্যান্টের দু পকেটে হাত ঢুকিয়ে— যদিও সে এখন প্যান্ট পরে নেই।

    আর্সি একটু পরে ঘরে এসে ঢুকল। ঢুকে দেখল সৌমিনি একটা আর্মচেয়ারে হেলান দিয়ে পায়ের ওপর পা তুলে বসে সিগারেট টানছে। তার সিগারেটের প্যাকেট খোলা।সম্পূর্ণ অভাবনীয় এবং অপ্রত্যাশিত দৃশ্য। আর্সিয়ানার মনে হল ব্যাপারটা সেই শিমূলতলা কান্ডের মতো রোমহর্ষক অতিপ্রাকৃত দিকে বাঁক নিতে চলেছে। মাথা ঠান্ডা রাখলেও তার বেশ বিভ্রান্ত লাগতে লাগল। তার মনে হল, সৌমিনিকে এক্ষুণি এই ট্রান্স থেকে বার করে আনার দরকার। সৌমিনি ওপর দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে সিগারেট টেনে যাচ্ছে। সে যেন এই জগতে নেই। কিংবা বলা যায় এটা সৌমিনি নয়, অন্য কেউ। মাঝে মাঝে চোখ বুজে ফেলছে। মুখে নানারকম অস্বস্তির কুঞ্চন দেখা যাচ্ছে। ভয়ানক আশ্চর্যের ব্যাপার ! অার্সির বুকের ভিতর উথালপাথাল ঝড় বইছে। অথচ ঘরের বাইরে থেকে লোকজনের ব্যস্ত চলাফেরা এবং গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। আর্সি ভাবল,এটা তো কোন হন্টেড হাউস না ! রূপায়ণ আচার্য আর্সির মনের চিন্তা জুড়ে বসল।
    আর্সিয়ানা সৌমিনির পেছন দিকে গিয়ে কানের নীচে ঘাড়ের দুপাশে দুটো বিশেষ জায়গায় আঙুল দিয়ে টিপে ধরল। অবশ দেহে সৌমিনির মাথা ঢলে পড়ল একপাশে। দুচোখ বোজা অতল ঘুমে। জ্বলন্ত সিগারেটটা আঙুল থেকে ছাড়িয়ে অ্যাশট্রেতে গুঁজে দিল আর্সিয়ানা। সৌমিনিকে অনেক কষ্টে টেনে এনে বিছানায় ফেলল আর্সি। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, তার আর কোন একলা সফরে সৌমিনিকে সঙ্গী করবে না। বারবার বেচারার ওপর স্পুকি অ্যাটাক হচ্ছে।
    প্রায় দু ঘন্টা বাদে চোখ মেলল সৌমিনি। ধড়মড় করে উঠে বসল, ‘ ও মাই গড ..... ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। কটা বাজে দেখতো.... ‘
    আর্সি কোন কথা না বলে সৌমিনির দিকে তাকিয়ে রইল।

    টেবিলের ওপর রূপায়ণবাবুর ভিজিটিং কার্ডটা পড়ে আছে।

    এই সময়ে ঘরের কলিং বেল বেজে উঠল।আর্সিয়ানা দরজা খুলে দেখল সতীন্দর তিওয়ারি দাঁড়িয়ে আছে।
    — ‘ ম্যাডাম লাঞ্চ অর্ডার করবেন নাকি ?’
    আর্সিয়ানা একটু ভেবে বলল, ‘না: ডাইনিং-এ গিয়েই খাব।’
    — ‘ আচ্ছা ঠিক আছে। ম্যাডাম আপনারা একটু সাবধানে ঘোরাফেরা করবেন। হাতি দুটোকে আখুনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তালাশ চলছে। .... কই বাত নেহি আপনারা চলে আসুন নীচে। মিল স্টার্ট হয়ে গেছে।’ সতীন্দর তিওয়ারি চলে গেল।

    বিকেলে দিনের আলো থাকতে থাকতেই সৌমিনিকে নিয়ে সেই কালীমন্দিরের দিকে হাঁটতে লাগল আর্সি। রূপায়ণবাবুর কার্ডটা হ্যান্ডব্যাগের ভেতরে নিয়েছে।সৌমিনিকে বলল, ‘ কাল তো সকালে গিয়েছিলাম। চল বিকেলবেলাটা এনজয় করি। জায়গাটা এত সুন্দর ..... ‘
    আর্সিয়ানার উদ্দেশ্য, রূপায়ণ আচার্যের দেখা পাওয়া। ধোঁয়াটে রহস্যের উৎস মনে হচ্ছে লোকটাকে। সৌভাগ্যক্রমে কোন খোঁজাখুঁজি করতে হল না। রূপায়ণবাবু কালীমন্দিরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন।কপালে লম্বা করে কাটা সিঁদুরের টিপ। লাল ধুতি আর হলুদ পাঞ্জাবি। কে একজন বলল, আজ খুব ভাল দিন— কৌশিকি আমাবস্যা। মাহাত্ম্য আছে .....।
    রূপায়ণবাবু আর্সিদের দেখে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন। একটা তামার থালা থেকে দুটো প্যাঁড়া আর একটু জবাফুল ওদের দুজনের হাতে দিলেন।বললেন, ‘ খুব ভাল সময়ে এসে পড়েছেন। আজ খুব শুভ দিন। ভেতরে গিয়ে বারান্দায় বসুন। পুজো অবশ্য শুরু হবে রাত বারোটার পর। ততক্ষণ অবশ্য আপনাদের থাকতে বলব না। আর কিছু না, ওই হাতি দুটোকে তো এখনও ট্রেস করা যায়নি।
    আর্সিয়ানা ইচ্ছে করেই বলল, ‘ আপনার হোটেলটা এখান থেকে কত দূরে ?’
    — ‘ কাছেই..... এই হাফ কিলোমিটার হবে।’
    — ‘ তাহলে তো আমরা পুজো টুজো দেখে রাতটা আপনার হোটেলে কাটিয়ে যেতে পারি। ওখানে তো মিলও পাওয়া যাবে বলছেন... ‘
    — ও শিওর শিওর...... ওয়েলকাম উইথ প্লেজার.... এখান থেকে অটো ধরে চলে যাবেন। ম্যাক্সিমাম পাঁচ মিনিট লাগবে— লজ বিশাখা। ’
    — ‘ আপনি একটু ফোন করে বলে রাখবেন ওখানে .....’
    — ‘ ফোন করার কোন দরকার হবে না। আপনি লজে গিয়ে রিসেপশানে আমার নাম করবেন ... ব্যস্। ’ রূপায়ণ আচার্য বললেন।
    রাত দশটা নাগাদ অটোরিক্শা ধরে আর্সিয়ানারা বিশাখা লজে পৌঁছল। রাত বারোটা পর্যন্ত পুজো দেখবার শখ বা কৌতূহল কোনটাই ওদের নেই।রূপায়ণবাবুই আর্সিদের অটোয় তুলে দিলেন। বললেন, ‘ আপনারা গিয়ে রেস্ট করুন। আমার কথা চিন্তা করবেন না।’ পৌঁছতে মিনিট চারেক লাগল। অটোওয়ালাটা হয়ত রূপায়ণবাবুর বাঁধা লোক। আর্সিয়ানারা গাড়ি থেকে নামা মাত্র পলকের মধ্যে উধাও হয়ে গেল অন্ধকারে।
    লজ একদম শুনশান। এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ল সবাই ! আর্সি ভাবল, লজে কোন বোর্ডার নেই নাকি ! লোহার গেট ঠেলে আর্সিয়ানারা ভিতরে ঢুকল। একটা ছোট উঠোন। তারপর বারান্দা। বারান্দায় উঠে রিসেপশন। চারদিক অন্ধকার। ফাঁকা জায়গা— একটানা ঝিঁঝিঁ ডাকছে।শুধু রিসেপশনে আলো জ্বলছে। রিসেপশনের কাউন্টারে গিয়ে আর্সিয়ানা বলতে যাচ্ছিল— মিস্টার রূপায়ণ আচার্য আমাদের পাঠিয়েছেন। কাউন্টারের পিছনে চেয়ারে এক ভদ্রলোক বসে আছেন। আর্সিয়ানা এবং সৌমিনি চমকে উঠে তিন পা পেছিয়ে গেল। একটা হলুদ পাঞ্জাবি লাল ধুতি পরে ওখানে বসে আছে রূপায়ণ আচার্য। কপালে লাল তিলক।আর্সির দিকে তাকিয়ে দাঁত বার করে অমায়িকভাবে হাসল। বলল, ‘ ভয় পাবেন না ম্যাডাম। এ জায়গাটা এরকমই। এখানে তো কেউ থাকে না। আমি একাই থাকি। লোকে বলে বেঁচে থাকতে আমি লম্পট স্বভাবের ছিলাম।ওই কথায় বলে না..... স্বভাব যায় না মলে। তাই দিনান্তের লেডিজ বাথরুমেও আমি ঘোরাফেরা করি। ..... সৌমিনি ম্যাডামকে আমার ভীষণ পছন্দ।’
    সৌমিনি প্রবল ভয়ে আর্সিয়ানাকে আঁকড়ে ধরল। আর্সিয়ানা এ রকম পরিস্থিতিতে কখনও পড়েনি। ভাবল, এরকম কিছু আন্দাজ করা উচিৎ ছিল। সৌমিকে এখানে নিয়ে আসা উচিৎ হয় নি।
    রূপায়ণ চেয়ারের দুটো হাতলে হাত রেখে একটু কুঁজো হয়ে একইভাবে বসে আছে।
    আর্সিয়ানা সৌমিনিকে নিয়ে পিছোতে পিছোতে উঠোনে নেমে গেছে। কোনরকমে লোহার গেট পর্যন্ত পৌঁছল। রাস্তায় দু একটা আলো জ্বললেও ঘোর অন্ধকারে ছেয়ে আছে আশপাশ। আর্সি গেটটা খুলে ফেলে রাস্তায় নেমে এল। দুজনে মিলে দিশাহারা হয়ে ছুটতে শুরু করল। ছুটতে ছুটতে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল রাস্তায়। অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়াল আবার।দাঁড়িয়ে সামনে তাকিয়ে দেখল পাশাপাশি দুটো ছাইরঙা বিশাল পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে একজোড়া দাঁতাল।
    ( শেষাংশ পরের পর্বে )
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে প্রতিক্রিয়া দিন