এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নাটকঃ কৌন বনেগা ক্রোড়পতি (১)

    Sagarmay Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ৫৪ বার পঠিত
  • কৌন বনেগা ক্রোড়পতি
    একাঙ্ক নাটক
    রচনা – সাগরময় মণ্ডল

    [ লেখকের কথাঃ সে দিন হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে রাস্তার মোড়ের কাছে একটা চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। একটা কথা কানে এলো। একজন লোক অন্য একজনকে দেখিয়ে তার বন্ধুকে বলছে যে লোকটাকে দেখ। ও আর ওর বৌ মিলে একটা চায়ের দোকান চালায়। টাকা পয়সা বেশ ভালোই কামায়। তবে ওর প্লাস পয়েন্ট হোল ওর এক প্রেমিকা আছে। সে কোটি টাকার মালিক। টাকার কথা এবং প্রেমের কথা দুটোই ওর বৌ জানে। তাই ওকে মানা করে না। অন্য মহিলার সঙ্গে প্রেম করছে, অথচ স্ত্রী কিছু বলছে না, এটা শোনার পর থেকেই কথাটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করলো। এতো সমানে সমানে প্রেম নয়। যদিও প্রেম কোন নিয়ম মানে না। কোথায় আছে পীরিতে মজিলে মন, কিবা হাড়ী, কিবা ডোম। এই বিসম প্রেমের পরিণতি কি হতে পারে কল্পনা করে, এই নাটকটা লিখে ফেললাম। আশা করি নাট্যপ্রেমীদের ভালো লাগবে। যদি কেউ নাটক মঞ্চস্থ করতে উৎসাহ বোধ করেন, তাহলে কমেন্টে জানালে খুব আনন্দিত হব। ]

    পাত্রপাত্রী

    কাশীনাথ : চা দোকানের মালিক
    পার্বতী : কাশিনাথের স্ত্রী
    নিভাননী : জনৈকা সম্ভ্রান্ত মহিলা
    রকেট : জনৈক যুবক
    খাঁদা : কাশীনাথের প্রতিবেশী

    ………………………………………………………………………

    প্রথম দৃশ্য

    [কাশীনাথের চায়ের দোকান। কাউন্টারে চায়ের কেটলি, বিস্কুটের কৌটো, কাপপ্লেট আর একটা তেলেভাজার ঝুড়ি সাজানো আছে। একটা কাঠের বেঞ্চে কয়েকটা এঁটো চায়ের ভাঁড় পড়ে আছে। পার্বতী একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে মোবাইল ঘাঁটছে। পাট ভাঙা পাজামা পাঞ্জাবি পড়ে কাশীনাথ মঞ্চে আসে।]

    কাশী : কিরে পারু, এবেলার চায়ের ঝামেলা মিটল? বাঃ বাঃ! খদ্দের সব চলে গেছে। (তেলেভাজার ঝুড়ি খুলে দেখে) বাঃ, বাঃ ! চপ, বেগুনী সিঙ্গারা সব বিক্রি হয়ে গেছে! কৌটোর বিস্কুটও শেষ! বেশ, বেশ। তাহলে আজ বিক্রি বাটা বেশ ভালোই হয়েছে। (পার্বতী কোন উত্তর করে না দেখে) না আসলে আমিতো বেশি সময় দিতে পারি না, তাই বলছিলাম। তুই একার হাতে সব করছিস। না মানে, এবার আমি সময় দেব। আরও কয়েকটা নতুন আইটেম করবো, তাহলে দেখবি বিক্রিবাটা আরও বেড়ে গেছে। খুব ভালো হবে বল।
    পার্বতী : (কাশীনাথের দিকে এক ঝলক দেখে নিয়ে) এই দুপুরবেলা নাগর সেজে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি।
    কাশী : কোথায় আর যাবো, তুই তো সবই জানিস।
    পার্বতী : না জানি না। কোথায় যাচ্ছ সেটা সবার সামনে বলে যাও।
    কাশী : এই দেখ দেখিনি। তুই সব জেনেও সবার সামনে গোপন কথা প্রকাশ করতে বলছিস?
    পার্বতী : হ্যাঁ বলছি। সবাইকে জানাও, বুড়ো বয়সে তোমার ভীমরতি ধরেছে।
    কাশী : ছিঃ, ছিঃ, পারু, তুই এমন কথা বলতে পারলি? তোকে তো বলেছি নিভাননি দেবী আমাকে পছন্দ করে। মাঝে মাঝে মনের কথা বলে ফেলে। একা বিধবা মানুষ, ছেলেপুলে নেই। কথা বলারও কেউ নেই। আমার সঙ্গে দুটো কথা বলে যদি শান্তি পায়, তাহলে তোর আপত্তি কোথায় বলতো?
    পার্বতী : আপত্তি তো ওই শান্তিতে। নিভাননির শান্তি মানে আমার অশান্তি। সেটা বোঝ না? ঘরে বিয়ে করা বৌকে রেখে অন্য মেয়ের সঙ্গে পীরিত করতে যাবে, আর আমি উলু দিয়ে তাকে বরণ করে নেব। ওসব হবে নি।
    কাশী : হবে হবে। খুব হবে। শুধু তুই কেন, তোর মরা বাপ মাও ওই নিভাননিকে উলু দিয়ে বরণ করে ঘরে তুলবে।
    পার্বতী : তার মানে?
    কাশী : কাছে আয় বলছি।
    পার্বতী : কাছে, যেতে পারবনি। যা বলার ওখান থেকেই বল, আমি তোমার মতো কানে কম শুনিনা।
    কাশী : তা তুই যখন কাছে আসবিনে, অগত্যা আমাকেই তোর কাছে যেতে হবে। কথায় আছে না, মোহম্মদ যদি পর্বতের কাছে না যায়, তবে পর্বতকেই মোহম্মদের কাছে যেতে হয়।
    পার্বতী : দেখ ও সব ন্যাকামি আমার সহ্য হয় না। যা বলার দশজনের সামনে জোরে জোরে বলো।
    কাশী : তাহলে বলি? অভয় দিচ্ছিস যখন। তবে রাগ করিস না যেন।
    পার্বতী : বলে ফেল। বেশি ভ্যান্তারা করার দরকার নেই।
    কাশী : নিভাননি কে আমি ভালোবাসি। সেও আমাকে খুব ভালোবাসে। যাকে বলে মনে প্রানে ভালোবাসা। আমার মনে এখন ভালোবাসার প্রদীপ জ্বলছে রে।
    পার্বতী : (ভেংচি কেটে) নিভাননিকে আমি ভালোবাসি। ওই নিভাননির ভালোবাসার পিদিম আমি নিভিয়ে দেব। আমার নাম পার্বতী, সেটা ভুলে যেও নি।
    কাশী : আমার কথা শুনলে তুইও ভালবাসবি।
    পার্বতী : আমার বয়েই গেছে ওই পোড়ারমুখীকে ভালবাসতে। বৌয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ওই কথাগুলো বলতে তোমার লজ্জা করে না।
    কাশী : না করে না।
    পার্বতী : তা কি দেখলে ওই মরদখাকির মধ্যে?
    কাশী : টাকা। বুঝলি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
    পার্বতী : কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
    কাশী : শুধু কি টাকা। সঙ্গে গ্যারেজওায়ালা দু তলা বাড়ি। তাও আবার বড় রাস্তার উপরে। কোটি টাকা দাম।
    পার্বতী : বলো কি গো। এতো সম্পত্তি ওই নিভাননীর! তুমি নিজের চোখে দেখেছো?
    কাশী : তাহলে আর বলছি কি। একবার নিভাননীকে ফাঁসাতে পারলে মালামাল হয়ে যাবো। তখন আর চায়ের দোকানের ভরসায় বসে থাকতে হবে না।
    পার্বতী : তাহলে আমার কি হবে? তুমি ছাড়া আমার যে তিনকুলে আর কেউ নাই।
    কাশী : আরে তুইও থাকবি আমার কাছে।
    পার্বতী : কি করে থাকবো? তুমি যদি আবার ওই হারামজাদিকে বিয়ে করে বসো, তখন আমার কি হবে?
    কাশী : কি আর হবে? দাসি বাঁদি হয়ে থাকবি। ঘরের কাজ করবি। ফাই ফরমাস খাটবি। তোকে নিশ্চয় তাড়িয়ে দেব না।
    পার্বতী : কি বললে? দাসি বাঁদি হয়ে থাকবো? আর তোমরা দুজনে কুজনে কুজনে প্রেম করবে? মেরে মুখ ভেঙে দেব না।
    কাশী : তোর ওই সবেতেই রাগের কথা। শোন, আমি প্রথমে গিয়ে ভালো ভালো কথা বলে ওকে পটাবো। তারপর বিয়ে করবো। বিয়ে করলে ওর সব সম্পত্তির আমি মালিক হবো। পায়ের উপর পা তুলে কোপ্তা কাবাব বিরিয়ানি খাবো।
    পার্বতী : তারপর?
    কাশী : তারপর সুযোগ বুঝে সম্পত্তির কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়ে তার ঘারের উপর চেপে বসবো। তুইও সঙ্গে থাকবি, নইলে আমার একার বুদ্ধিতে কুলবে না। তোকে আমার সেক্রেটারি করে নেব।
    পার্বতী : সত্যি! আমি পারবো?
    কাশী : পারতেই হবে। এভাবে গরীব হয়ে বাঁচতে আর ভালো লাগে না রে। শুধু অভাব আর অভাব। পাপ পুন্যির কথা সিকেয় তুলে, এবার কিছু করতেই হবে। দাঁড়া, শুধু একবার সূচ হয়ে ঢুকি, তারপর দেখিয়ে দেব, কি ভাবে ফাল হয়ে বেরোতে হয়।
    পার্বতী : তাহলে চলো, আর দেরি করে লাভ নাই। আমিও যায় তোমার সঙ্গে। পতির পুন্যে সতীর পুন্য করে আসি।
    কাশী : ধ্যাত। তোর কোন কাণ্ড জ্ঞান নাই। তুই থাকলে আমি নিভাননীর সঙ্গে প্রেম করবো কি ভাবে? বৌয়ের সামনে কি অন্য মেয়ের সঙ্গে প্রেম করা যায়। আগে আমি ব্যাপারটা জমিয়ে আসি, তারপর তোকে নিয়ে যাবো।
    পার্বতী : উহুহু, সেটি হবে নি। আমি তোমাকে একলাটি ছাড়বো নি। তোমাকে বিশ্বাস নেই, তুমি কি করতে কি করে বসবে।
    কাশী : আচ্ছা মুশকিল তো। আমি তোর সামনে অন্য মেয়ের সঙ্গে প্রেম করতে পারবো না।
    পার্বতী : পারবে, খুব পারবে। পুরুষ মানুষকে আমার জানা আছে। যতখানি পারবে ততখানি করবে। বাড়াবাড়ি করলে পিরীতি ঘুচিয়ে দেব।
    কাশী : তাহলে তুই পিছু ছাড়বি না?
    পার্বতী : না। তবে তোমার সুবিধার জন্য আমি একটা কাজ করতে পারি।
    কাশী : কি কাজ?
    পার্বতী : আমি তোমাদের সামনে যাবো না। আড়ালে থাকবো, কিন্তু দেখবো আমি সব। সেটা মনে রেখে পীরিত করতে পারলে করবে, নইলে ওই টাকা সম্পত্তির আমার দরকার নাই।
    কাশী : কিছুতেই যখন শুনবি না, তখন চল। তবে ব্যাপারটা কেঁচিয়ে দিলে আমি কিন্তু তোকে ছাড়বো না।
    পার্বতী : সে দেখা যাবে, কে কাকে ছাড়ে। আগে কোটিপতি তো হও।
    কাশী : নিশ্চয়। আমিই হব কোটিপতি। ম্যায় বনুঙ্গা ক্রোড়পতি।

    পর্দা নামে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন