এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নাটকঃ কৌন বনেগা ক্রোড়পতি (২)

    Sagarmay Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ৫০ বার পঠিত
  • দ্বিতীয় দৃশ্য

    নিভাননীর বাড়ি।

    [ নিভাননী গান গাইছে। ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে…। চুপি চুপি কাশীনাথের প্রবেশ। দরজায় নক করতে যাবে, এমন সময় পিছু থেকে পার্বতী পাঞ্জাবি ধরে টানে। কাশীনাথ ইশারাই তাকে চুপ করে আড়ালে দাঁড়াতে বলে। পার্বতী উপরে আসতে চায়। কাশীনাথ হাত তুলে তাকে থামায়। পার্বতী রাগে গজগজ করতে করতে নীচে নেমে যায়। কাশীনাথ মন দিয়ে গান শোনে তারপর দরজায় নক করে। ]

    কাশী : নিভাদেবী, ও নিভাদেবী। নিভাননীদেবী বাড়ি আছেন নাকি?
    নিভা : ওই আমার ভ্রমর এলো মনে হচ্ছে। (দৌড়ে গিয়ে দরজা খোলে) আরে কাশীনাথ বাবু! আপনি? আসুন আসুন।
    কাশী : এই চলে এলাম আর কি। দেখতে এলাম আপনি কেমন আছেন?
    নিভা : জানেন? আমার মন বলছিল, আপনি আসবেন।
    কাশী : না এসে আর পারলাম কই। সেই যে বিয়ে বাড়িতে আলাপ হোল, তারপর থেকে শয়নে স্বপনে এখন যে শুধু আপনাকেই দেখছি। মন আমার সারাক্ষণ উসখুস উসখুস করছে, কখন আপনার দেখা পাবো। তাইতো সব কিছু ফেলে চলে এলাম।
    নিভা : বেশ করেছেন। আপনি আসছেন না দেখে আমারও খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। ভাবছিলাম আপনি কি আমাকে ভুলে গেলেন নাকি!
    কাশী : ভুলবো কি গো, যত ভাবি আপনার কথা ভাববো না তত বেশি বেশি করে ভাবনাগুলো চলে আসে।
    নিভা : আমারও তাই হচ্ছে। (গান গেয়ে ওঠে) ‘যত ভাবি ভুলে যাবো, মন মানে না মন মানে না’। (কাশীনাথও গলা মেলায়) ‘বসে আছি পথ চেয়ে, ফাগুনেরও গান গেয়ে, যত ভাবি ভুলে যাবো, মন মানে না, মন মানে না’।
    উভয়ে : বাঃ! আপনি বেশ ভালো গান গাইতে পারেন তো। (উভয়ে হেসে ওঠে)
    নিভা : দেখুন, আমরা দুজনে মনের এতো কাছাকাছি আছি তবু আপনি আপনি করে যাচ্ছি। তা আমরা তুমি বলতে পারি না?
    কাশী : বললেই হয়। আপনি আপনি কেমন যেন পরপর মনে হয়।
    নিভা : তাহলে আজ থেকে আর আপনি নয়। শুধু তুমি। (গান গেয়ে ওঠে) “আমার সারাদিন কিভাবে কেটে যায়, শুধু তুমি তুমি করে”।
    কাশী : বাবা, তুমি কত গান জানো গো। আর গলাটাও বেশ খাসা।
    নিভা : ওই একটু আধটু। ছোট বেলায় শিখে ছিলাম। তেমন কাউকে তো শোনানোর জন্য কাছে পাই নি। এখন ভগবানই জানেন, আমার গান কাউকে আদৌ কাউকে কোনদিন শোনাতে পারবো কিনা।
    কাশী : কেন পারবে না? আমি শুনবো। তুমি শোনাবে না?
    নিভা : ‘তোমায় গান শোনাবো, ওগো দুখজাগানিয়া, তোমায় গান শোনাবো’। কিন্তু তোমাকে কতক্ষণ পাবো বোলো। এইতো এসেছো, এখুনি ফুরুত করে উড়ে যাবে।
    কাশী : না না। আমি ফুরুত করে পালাবো না। আবশ্য তুমি যদি তাড়িয়ে না দাও।
    নিভা : ছিঃ ছিঃ। ও কথা মুখে এনো না। আমি তোমাকে তাড়াতে পারি। ‘তুমি যে আমার ওগো তুমি যে আমার’।
    কাশী : ওরে বাবা! এবার তো আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো মনে হচ্ছে।
    নিভা : এই টুকুতেই অজ্ঞান হয়ে গেলে চলবে? এখন তো সবে সন্ধ্যে।
    কাশী : এই সন্ধ্যাটাই ঠিক আছে। শোন নি ‘এই সুন্দর স্বর্ণা লী সন্ধ্যায় একই বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু’।
    নিভা : শুনবো না আবার। কোন বাঙালি এই গান শুনে মনে মনে গুনগুন করে নি বলতে পারবে।
    কাশী : তা ঠিক। কিন্তু একদিনে এতো ভালোবাসা সহ্য হলে হয়।
    নিভা : ও! তোমার যে আবার বৌ আছে। ওকেই তো ভয়।
    নিভা : বৌ আছে, তবে থাকবে না। কোন ভয় নেই। আমি ওকে ছেড়ে দেব।
    (নেপথ্যে পার্বতী গলা খেঁকারি দেয়)
    নিভা : ওটা কিসের শব্দ? একবার দেখে আসি তো। বাড়ির গেট খুলে কেউ ঢুকে পড়লো কি না।
    কাশী : না না। ও কিছু না। কেউ হয়তো ও দিকে যেতে যেতে একটু গলা পরিস্কার করে নিয়েছে। ঠাণ্ডা লেগেছে হয় তো।
    নিভা : তবু গেটটা বন্ধ করে দিয়ে আসি। বলা যায় না কে কখন ঢুকে পড়বে। যা দিনকাল পড়েছে।
    কাশী : না না। কেউ ঢুকবে না। এখন বসো। আমার সঙ্গে কথা বোলো। আমি যাবার সময় গেট বন্ধ করে দিয়ে যাবো।
    নিভা : আচ্ছা। তাই দিও। তা তুমি এখুনি চলে যাবে?
    কাশী : কি করবো বোলো। যেতে তো মন চায় না। মন চায় শুধু তোমাকে দেখি আর দেখি। কিন্তু ওই পিছুটান আছে না? তাড়াতাড়ি বাড়ি না ফিরলে আবার সন্দেহ করবে।
    নিভা : তা আমরা কবে থেকে পাকাপাকি ভাবে একসঙ্গে থাকতে পারবো বলতো?
    কাশী : সে হবে। আমি ও দিকটা একটু ম্যানেজ করে নিই, তারপর একটা শুভ দিন দেখে ঝুলে পরলেই হল।
    নিভা : আমি তো সেই অপেক্ষাতে বসে আছি। তোমার সঙ্গে যেদিন প্রথম আলাপ হোল, সেদিন থেকে আমার নাওয়া খাওয়া সব শিকেই উঠেছে। রুনা লাইলার সে একটা গান আছে না, বাড়ির লোকে কয় আমায় তাবিজ করেছে, পাড়াপড়শি কয় জ্বিনে ভুতে ধরেছে। কি করে বলি ওদের, কেউ আমায় ভালোবেসেছে।
    কাশী : আমার উপর নিভাননী ভর করেছে। হা হা হা।
    নিভা : আমার পাগলা প্রেমিক। (কাশীনাথের নাক টিপে দেয়। কাশীনাথ জড়িয়ে ধরতে গেলে নিভাননী দূরে সরে যায়) না না। এখনও সময় আসে নি।
    কাশী : কবে আসবে?
    নিভা : আগে তোমার এখানে থাকার একটা পাকাপাকি হিল্লে করি তারপর।
    কাশী : কি করে হিল্লে হবে?
    নিভা : সে আমি ভেবে রেখেছি। আমার বাড়ির সামনে যে গ্যারেজটা আছে, ওটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্ট বানাবো। তুমি সেই রেস্টুরেন্ট চালাবে। আর আমি কাউন্টারে বসে বসে তোমায় দেখবো। দেখবো আর দেখবো।
    কাশী : বাঃ। দারুন আইডিয়া। আর আমার বউটাকে এনে রেস্টুরেন্টের কাজে লাগিয়ে দেব। থালা ধোবে, বাসন মাজবে।
    নিভা : তাহলে সে তো কাবাবমে হাড্ডি হয়ে থাকবে। ও হবে না। ওকে তুমি বাড়িতেই রেখে আসবে।
    কাশী : তা কি করে হবে। আমার বিয়ে করা বৌ। থাকুক না একটু চোখে চোখে। ওখানে একা রেখে এলে যদি কারো নজর পড়ে। আর বিনি পয়সায় একটা কাজের লোক পাওয়া যাবে।
    নিভা : তা মন্দ হবে না। আচ্ছা, সে পরে ভাবা যাবে। এখন যে সমস্যা আছে সেটা বলি।
    কাশী : কিসের সমস্যা, আমাকে বলো। ম্যায় হু না।
    নিভা : টাকার দরকার। গ্যারেজ রং করা, সাটার লাগানো, রেস্টুরেন্ট সাজানো, ফার্নিচার কেনা। আরও অনেক খরচ আছে। কিছু টাকা আমার হাতে আছে, ওতে পুরোটা হবে না। আরও কিছু চাই।
    কাশী : টাকা! তা কত খরচ হবে?
    নিভা : লাখ খানেক তো লাগবেই। তা আমার কাছে পঞ্চাশ হাজার মতো আছে। বাকি পঞ্চাশ হাজার পেলেই হবে।
    কাশী : পঞ্চাশ হাজার! আমার কাছে তো অতো টাকা নেই। মেরেকেটে হাজার পাঁচেক হতে পারে। তারপরেও আরও পঁয়তাল্লিশ হাজার দরকার। কি করে কি হবে?
    নিভা : কত আশা করে বসে আছি, রেস্টুরেন্ট টা খুলে ফেলতে পারলে তুমি আমি মিলে চালাতাম। সারাদিন কাছাকাছি থাকতে পারতাম। কত ভালো লাগতো। তারপর একদিন না হয় জয় মা কালি বলে…
    কাশী : আহাহা, এখনি হাল ছেড়ে দিচ্ছ কেন? দাঁড়াও, এইতো বললে। একটু ভাবি। নিশ্চয় একটা রাস্তা বের হবে।
    নিভা : না…হা… । আমার মন বলছে ও আমার কপালে নেই। এহ্যা… (কাঁদে)
    কাশী : এই দেখো। এর মধ্যেই চোখে জল এসে গেল। আরে বাবা, আমি তো আছি নাকি! (নেপথ্যে পার্বতী আবার গলা খ্যাকারি দেয়) আমি বাড়ি যায় তারপর লোকজনের সঙ্গে কথা বলি, যদি কোথাও ধার পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্ট চালু হয়ে গেলে তো শুধু টাকা হি টাকা। তখন সব শোধ করে দেব।
    নিভা : ধার দেবে তোমাকে?
    কাশী : না দিলে, আমার ওই চায়ের দোকানটাই বিক্রি করে দেব। রেস্টুরেন্ট হয়ে গেলে চায়ের দোকানের আর কি দরকার! তখন তো আমি রেস্টুরেন্টের মালিক। না ভুল হয়ে গেল, আমি ম্যানেজার, তুমি মালিক।
    নিভা : তুমিও একদিন মালিক হয়ে যাবে।
    কাশী : বলছো! তাহলে তো কুছ পরোয়া নেহি। আমি সব ব্যবস্থা করে দেব। তুমি কিছু ভেব না।
    নিভা : যাক বাবা! তুমি আমাকে বাঁচালে। কি দুশ্চিন্তায় যে ছিলাম। আমার চান্দু সোনা। মান্তু সোনা। (নাক টেনে আদর করে)
    কাশী : একটা সেলফি হয়ে যাক। ক্লিক।। [সেলফি তোলে]

    পর্দা নামে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন