এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নাটক ঃ কৌন বনেগা ক্রোড়পতি (৪)

    Sagarmay Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ৬৮ বার পঠিত
  • চতুর্থ দৃশ্য

    নিভাননীর বাড়ি

    [ নেপথ্যে খুট খাট শব্দ হচ্ছে। কাঠমিস্ত্রি কাজ করছে। দু একটা কথা কানে আসছে। ঠিক করে কাঠটা ধর, ওরে ফেভিকলের টিনটা কোথায় রাখলি, একটা কাজও যদি ঠিক ঠাক হয়, আরে বাবা সানমাইকটা ঠিক মতো লাগা। কাশীনাথ ও নিভাননীও মাঝে মাঝে নির্দেশ দিচ্ছে। এটা কর ওটা কর, এ দিকটা ঠিক হচ্ছে না, ক্যাস বাক্সটা এখানে থাকবে, এখানে কম্পুটার বসবে, আরে দোকানের নামের ব্যানারটা ঠিক ভাবে লাগা ইত্যাদি। পর্দা উঠলে দেখা যায় নিভাননী রেস্টুরেন্ট এর ব্যানার ঝুলছে। ]

    ( হাসতে হাসতে নিভাননী ও কাশীনাথের প্রবেশ )

    কাশী : (ব্যানারটা দেখিয়ে) দেখ, দেখ ব্যানারটা কি সুন্দর হয়েছে। আর লেখগুলোও কি সুন্দর জ্বলজ্বল করছে। নিভাননী রেস্টুরেন্ট। আহা, কি চমৎকার নাম! যেমন মালকিন তার তেমনি সুন্দর ব্যানার।
    নিভা : সত্যি, নক্সাকাটা কাঁচের দরজা, দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলেই সারি সারি চেয়ার টেবিল। দুটো এসি, ঝকঝকে টাইলস বসানো দেওয়াল, দেওয়ালে ফুল আর পাখির ছবি। সুন্দর সুন্দর বাসনপত্র। আহাহা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।
    কাশী : কার রেস্টুরেন্ট দেখতে হবে তো। উচ্চ রুচি আর বাঙালির সংস্কৃতির মেল্বন্ধন। লোকে একবার দেখলেই ফিদা হয়ে প্রেমে পরে যাবে।
    নিভা : যেমন তুমি। একদিন হঠাৎ করে বিয়ে বাড়িতে এক ঝলক দেখা হয়ে গেল, কিছু কথা হয়ে গেল। ব্যস, মনে ধরে গেল।
    কাশী : আর এমন ধরা ধরল, যে মনটা পর্যন্ত নিয়ে নিল।
    নিভা : মন শুধু আমিই নিয়েছি না! তুমি আমার মন নাওনি?
    কাশী : তোমার মতো বড় ঘরের মেয়ের মন নেওয়ার ক্ষমতা কি আমার মতো চুনো পুঁটীর আছে? তুমি দয়া করে দিয়েছ তাই। নইলে তো আমি প্রেম ভিখারি, দ্বারা দ্বারে ঘুরি।
    নিভা : তুমিও তো আমাকে কম কিছু দাও নি। নিজের বিয়ে করা বৌকে ছেড়ে এক কোথায় আমার সঙ্গ দিয়েছে। আমার টাকার সংকুলান হয় নি বলে তুমি তোমার অন্ন সংস্থানের একমাত্র চায়ের দোকান, সেটাও অবলীলায় বিক্রি করে দিয়েছো।
    কাশী : আরে বাব! তোমার জন্য আমি করবো না তো কার জন্য করবো। তোমার কাছে আমি যা পেয়েছি, আর ভবিষ্যতে যা পাবো, সেটাও তো কম কিছু নয়।
    নিভা : আমার আর দেওয়ার কি ক্ষমতা আছে?
    কাশী : কেন আমাকে ভালোবাসে কাছে টেনে নিয়েছো, তোমার রেস্টুরেন্টের ম্যানাজার করবে বলেছো, আর কি চায়।
    নিভা : আর কিছু চাও না?
    কাশী : আর…, আর কি চাইবো?
    নিভা : বোকা ছেলে। ঠিকঠিক চাইতেও জানে না। আচ্ছা, সে আমি না চাইতেই দেব।
    কাশী : আচ্ছা, তাই দিও। এখন তো আমার পাওয়ার সময়। এতদিন কপালে পাথর চাপা ছিল, তোমার ছোঁয়ায় সেটা সরে গেছে। আর আমার কপাল খুলে গেছে।
    নিভা : আরও খুলবে। আর একটুখানি সবুর করো। দেখবে তোমার জন্য কি অপেক্ষা করছে। তুমি ভাবতেও পারবে না।
    কাশী : কিছু বললে?
    নিভা : না না। তেমন কিছু না। শুধু ভাবছিলাম তোমার বৌ তোমাকে যে আমার কাছে আসতে বাধা দিলনা, তুমি তার দোকান বেচে টাকার জোগান দিলে, তা সে তো একদিনও এলো না। আসলে একবার তাকে দেখতাম, সে কেমন মেয়ে! নিজের স্বামী অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘর বাঁধতে যাচ্ছে, তাকে না আটকে, তার সঙ্গে সমানে তাল দিয়ে যাচ্ছে!
    কাশী : ও ওই রকমেরই। ওর নিজের জন্য কোন ভাবনা নেই। আমি যাতে ভালো থাকি, আমার যাতে কোন অসুবিধা নাহয়, তা হোলেই হোল। বলে আমার সুখই নাকি তার সুখ।
    নিভা : অনেক কপাল করে অমন বৌ পেয়েছো। তা তাকে ছেড়ে আমার কাছে থাকতে পারবে তো?
    কাশী : তুমি যদি অভয় দাও তাহলে একটা কথা বলি।
    নিভা : বলো।
    কাশী : তোমাকে আগেও বলেছি। ওকে এ বাড়িতেই রাখবো বলে কথা দিয়েছি। ওই দাসী বাঁদির মতোই থাকবে। আমার এতো দিনের বিয়ে করা বৌ, তাকে তো একেবারে ত্যাগ করতে পারি না।
    নিভা : সে আবার পরে ঝামেলা পাকাবে না তো?
    কাশী : না না। ও সে রকম মেয়ে নয়। আমি যা বলবো তাই শুনবে। তুমি বললে তোমার কোথাও শুনবে।
    নিভা : তা হলে ঠিক আছে। আমারও একটা কাজের লোক তো দরকার হবে।
    কাশী : হবে সেটা জানি তো। তাই তো ওকে আসতে বলেছি। পুজোর জোগাড় যন্ত্র করে পুজোর ডালা সঙ্গে নিয়ে এখুনি এসে পড়বে।
    নিভা : সে একা আসতে পারবে? আগে কথনও এখানে আসে নি তো তাই বলছি।
    কাশী : না না অসুবিধা হবে না। সে তো এর আগে এসে সব দেখে…থুরি, এখানে এসে সব দেখবে বলে বাইনা ধরেছিল। আমি ওকে সব বুঝিয়ে দিয়েছি। কোন অসুবিধা হবে না। ওই ওই তো ও আসছে মনে হচ্ছে।
    ( পার্বতীর প্রবেশ )
    পার্বতী : দিদি, ও দিদি বাড়ি আছো নাকি? এই দেখ আমি পার্বতী এসেছি গো, পার্বতী। তোমার পিরিতের নাগরের বৌ। তা একবার ভিতরে আসতে বলো। পুজোর ডালা নিয়ে আমি কি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি?
    কাশী : আয়, আয় পারু আয়। দে দে আমাকে দে। মাথার বোঝাটা নামিয়ে রাখ তো দেখি। দে দে। (পার্বতীর মাথা থেকে ঝুড়িটা নামিয়ে নিয়ে রাখে)
    পার্বতী (কোমড়ে কাপড় জড়িয়ে নিয়ে চারিদিক চেয়ে দেখে) বাবা! এতো হেব্বি রেস্টুরেন্ট বানিয়েছো দেখছি। এখানে দোকান যা জমবে না। শালা একদম ফাটাফাটি সেল হবে। তোমার চয়েস আছে মানতে হবে। তা ইনিই কিসেই আমার ভাগ্যবতী দিদি?
    কাশী : হ্যাঁরে। তোকে তো ছবি দেখিয়ে ছিলাম নাকি?
    পার্বতী : ছবি দেখা আর নিজের চোখে দেখা এক হোল নাকি? দেখনি নায়িকাদের ছবিতে দেখতে কেমন পেলব লাগে, আর সামনা সামনি দেখবে তো মুখে এতো এতো ব্রনর দাগ।
    নিভা : বাবা! এ বনের ময়না তো বেশ কথা বলে!
    পার্বতী শুধু কথা বলে না গো, কাজেও করে দেখায়। কই দেখি দেখি তোমার হাতটা দেখি। (জোর করে হাতটা টেনে নিয়ে) ও বাবা, এতো একদম তুলুতুলু। এদিয়ে রেস্টুরেন্টের কাজ হবে না। ঠিক আছে আমিই সব সামলে নেব। তুমি শুধু খদ্দেরের কাছ থেকে টাকা নেবে। ক্যাসে বসবে।
    কাশী : এই তুই থাম তো। পুজোর জিনিস সব গুছিয়ে এনেছিস তো?
    পার্বতী দেখে নিলেই তো হয়। ঝুড়িতে সব আছে। আসার সময় মন্দিরে পুজ দিয়ে নারকেল এনেছি। ফাটিয়ে উদ্বোধন কোর্টে হবে।
    নিভা : তুমি একটু বসো। এতো দূর থেকে এলে।
    পার্বতী আমার বসলে হবে না গো। তোমরা নারকেল ফাটিয়ে পুজো শুরু করো দিখিনি। তার পর ঠাকুরমশায় পুজোয় বসবে। পুজো হয়ে গেলে রান্না বসাবো। এই নাও (ঝুড়ি থেকে একটা নারকেন নিয়ে নিভাননীর হাতে দেয়) ফাটাও। তোমার বাড়ি, তোমার রেস্টুরেন্ট তুমিই ফাটাও। সবায় বোলো জয় মাতাজি। জোরসে বল জয় মাতাজি।
    (নিভাননী নারকেল ফাটাতে গেলে রকেট দ্রুত মঞ্চে আসে)
    রকেট : আরে করছো কি? থামো থামো।
    কাশী : এই ভাই, কে তুমি? এখানে কেন এসেছো?
    রকেট : আমি কে, কেন এসেছি, সব ফাইশালা এখুনি হয়ে যাবে।
    কাশী : মানে?
    রকেট : কথাগুলো আমি বলবো, না তুমি বলবে মা জননী আমার।
    কাশী ও পার্বতী : মা! মা জননী মানে?
    রকেট : মানে খুব সোজা। উনি, আপনাদের সামনে যে ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছে, উনি আমার মা। আমাকে চিন্তে পারছো না মা?
    নিভা : কে তুমি?
    রকেট : লে হালুয়া! গর্ভধারিণী মা তার একমাত্র ছেলেকে চিনতে পারছে না! হয় রে কলিকাল। প্রমান দিতে হবে?
    কাশী : নিশ্চয়।
    রকেট : এই তুই থাম তো। দেব এক রদ্দা। শালা মারবো ঘাড়ে, পড়বি ভাগাড়ে। এই দেখো মা আমার হাতে কাঁটা দাগ। এই কাটা দাগ দেখে, সবাই আমাকে কাটা রকেট বলে। এই দেখ আরও আছে, পিঠে জরুল।
    নিভা : দেখি দেখি, হ্যাঁ তাইতো। এইতো এইতো সেই দাগ! তুই রকেট! তুই আমার হারানো ছেলে। এতো দিন কোথায় ছিলিস বাবা? এত দিনে তোর মাকে মনে পড়লো বাবা?
    রকেট : মা, মাগো। (নিভাননীকে জড়িয়ে ধরে)
    নিভা : এতো দিন মাকে ভুলে থাকতে হয় বাবা! তোকে ছাড়া আমার যে কিভাবে দিন কেটেছে! আর ছেড়ে যাবি না তো?
    রকেট : না মা। তুমি দেখ, আর আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। তোমার কাছেই থাকবো।
    নিভা : বাবা আমার! সোনা মানিক আমার!
    কাশী : একি কথা নিভাননী? তুমি তো বলেছিলে তোমার কেউ নেই। তুমি একা। তোমার স্বামী তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে। তার কোন খোঁজ নেই।
    নিভা : হ্যাঁ, বলেছিলাম তো। এখনও বলছি।
    পার্বতী তাহলে এখন আবার ছেলে এল কোথা থেকে?
    নিভা : ছেলেকে তো ওর বাবা সঙ্গে করে নিয়ে গেছিল। এখন যদি সে ফিরে আসে,আমি কি করবো? আমি তো আর তাকে তাড়িয়ে দিতে পারবো না। হাজার হলেও আমি তো ওর মা। গর্ভধারিণী মা।
    পার্বতী : (ভেংচি কেটে) গর্ভধারিণী মা না ছাই। এতদিন ছেলেকে মনে ছিল না। যেই আমরা টাকা পয়সা দিয়ে, নোংরা গ্যারেজটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রেস্টুরেন্ট বানালাম, অমনি ছেলে চলে এলো।
    কাশী : ও সব ঠকবাজী অন্য কারো সাথে করো। আমার সঙ্গে ওসব করে পার পাবে না।
    রকেট : এই তুই কি করবি রে ?
    কাশী : কি করবো? ও পার্বতী বলো না আমি কি করবো?
    পার্বতী গলায় কলসি বেঁধে গঙ্গায় ডুবে মরগে। ভালো করে খোঁজ খবর না নিয়ে ডাকাতের সঙ্গে পীরিত করতে গেলে। এবার বোঝো ঠ্যালা। হায় হায় রে আমার অমন সাধের চায়ের দোকানটা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে গেল ওই ঠগের পাল্লায় পড়ে। এবার আমার কি হবে গো…। এবার আমি কোথায় যাবো?
    কাশী : কাঁদিস না পারু কাঁদিস না। এবার আমি কোর্টে যাবো। আমার সঙ্গে ভাওতাবাজি!
    নিভা : ও বাবা রকেট, দেখ না ওরা আমাকে কেমন ভয় দেখাচ্ছে। তুই একটা কিছু কর বাবা।
    রকেট : এই যে কাকু, ভাগো এখান থেকে। নইলে আমি তোমাদেরকে পুলিশে দেব। সুযোগ বুঝে অসহায় মেয়েমানুষকে ঠকানো! আমিও কেস করে দেব। জেলে পুরে ছাড়বো। কেউ বাঁচাতে পারবে না।
    কাশী : ও পারু, আমাকে উল্টে ভয় দেখাচ্ছে যে। কিছু একটা কর।
    পার্বতী তাই তো। কি করা যায় মাথায় তো কিছু আসছে না। আমাদের আর কোটিপতি হওয়া হোল না গো।
    কাশী : আর কোটিপতি! এখন বাবা মায়ের দেওয়া প্রাণটা হাতে করে নিয়ে ফিরে যেতে পারলে বাঁচি।
    নিভা : তাই কর। প্রানের ভয় থাকলে, এখুনি কেটে পর। আমার রকেট আবার খুব রাগী। রেগে গেলে কি করবে তার ঠিক নেই। রেগে গেলে ওর মাথার ঠিক থাকে না।
    কাশী : তা হলে আমার এতগুলো টাকা।
    রকেট : টাকা! কিসের টাকা! কে নিয়েছে? কোন সাক্ষী প্রমান, কিছু আছে?
    কাশী : না, তা নেই। আমি নিজেই তো সব উজার করে দিয়েছি। তার বিনিময়ে যে ঘাড় ধাক্কা পাবো, তা ভাবিনি।
    পার্বতী আর ভেবে কাজ নেই। বোঝা গেছে। আমরা সত্যি সত্যি ঠগের পাল্লায় পড়েছি। তোমার রাজকন্যাও গেল, আমার দোকানও গেল। হায় হায় রে কি কুক্ষণে যে তোমার সঙ্গে ওর দেখা হোল!
    কাশী : আর ও মুখ আমি দেখবো না। চল চল আমারা চলে যায়। এখানে আমার আর এক মুহূর্তও থাকতে ইচ্ছে করছে না।
    পার্বতী আমার ওই পুজোর ডালা-
    কাশী : ওখানেই পড়ে থাক। ভগবান যখন আমাদের পুজো নিল না, তখন ওই ডালা নিয়ে কি করবি? চল আমারা চলে যায়। উপরওয়ালা কিছু না কিছু ব্যবস্থা করবে।
    পার্বতী তাই চলো। এই যে ভালো মানুষের মেয়ে, তুমি আমাদের সঙ্গে যা করলে, তাতে তোমার ভালো হবে না। আমার মেহনতের পয়সা তোমার হজম হবে না। তোমারও যাবে। হায় হায় রে আমার একুল ওকুল দু’কুলই গেল গো- আমাদের কোটিপতি হওয়ার সাধ মিটল না।
    (কাশীনাথের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়)
    রকেট : যা যা। শালাদের ক্রোড়পতি হবার সখ হয়েছিল! চুলকে যা ঘা করেছিস, এখন মলম লাগাগে যা। কি গো মা জননী, তোমার আপদ বিদেয় করে দিয়েছি।
    নিভা : ওহ! কি খেলাটাই না দেখালি বাবা রকেট। এসব তোর দ্বারাই সম্ভব।
    রকেট : হু হু বাবা! এ ছেলেকে সবাই এমনি এমনি কাটা রকেট বলে না। যখন সোঁ করে উড়বো তখন কেউ ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। সোজা গিয়ে টার্গেটে আঘাত করবো।
    নিভাননী সে তো আমি জানি। তাই তো বিপদে পড়লে তকেই ডাকি। আর তুই এসে আমাকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করিস। এই নে তোর কন্টাক্টের দশ হাজার টাকা এতে আছে । এটা নিয়ে বিদেয় হ তো। আমি ঘর দোর টা গুছিয়ে নিই। চারিদিক যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে গেছে।
    রকেট : দশ দিচ্ছ! (টাকা হাতে নিয়ে পকেটে পোড়ে) আচ্ছা, এইটা নিয়ে কতবার আমি তোমার ছেলে সাজলাম?
    নিভাননী তিনবার। তবে আগের দু জনের কাছ থেকে অনেক টাকা ঝেরেছিলাম। একজনের টাকায় বাড়ি দুতলা করেছি। আর একজনের টাকায় এই গ্যারেজ বানিয়েছি। সেই তুলনায় এরা তো চুনোপুঁটি। আগের দুবার তোকে কিন্তু আমি বিশ হাজার করে দিয়েছিলাম।
    রকেট : আমি তা নিয়ে ভাবছি না।
    নিভা : তবে তুই কি ভাবছিস?
    রকেট : ভাবছি, তুমি তো বেশ ভালোই প্রেমের ফাঁদ পেতে ব্যবসা করছো। আর আমাকে পাপের ভাগীদার বানাচ্ছো।
    নিভা : তুইও তো টাকার ভাগ পাচ্ছিস।
    রকেট : তা পাচ্ছি। তবে তাতে মন উঠছে না। এবার অন্য খেলা হবে। বড় খেলা।
    নিভা : অন্য খেলা, বড় খেলা! তুইও কি আমার মতো ব্যবসা ফাঁদবি নাকি? তা মন্দ হবে না। তোর যা চেহারা, কত মেয়ে যে তোর প্রেমে পড়বে!
    রকেট : না না। আমার ভাবনায় অন্য খেলা আছে। ওই ছুঁচো মেরে আমি হাত গন্ধ করতে পারবো না।
    নিভা : তাহলে কি করবি?
    রকেট : আচ্ছা, এ পর্যন্ত কতজন জানে আমি তোমার ছেলে?
    নিভা : ওই তো আগের দুই ভদ্রলোক, আর এরা দুজন।
    রকেট : মানে চারজন। এই চারজন জানে আমি তোমার ছেলে, মানে একেবারে পেটের ছেলে। তোমার স্বামী ছেলেকে নিয়ে চলে গেছিল। তার খবর নেই, শুধুমাত্র ছেলে হঠাৎ করে ফিরে এসেছে তার মায়ের কাছে।
    নিভা : (একটু ভয় পেয়ে) হ্যাঁ, তা তুই এসব কথা বলছিস কেন?
    রকেট : এবার আমি সত্যি সত্যি তোমার ছেলে হয়ে যাবো।
    নিভা : মানে?
    রকেট : ওরা, মানে তোমার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া লোকগুলো সাক্ষী দেবে, বলবে আমি তোমার হারিয়ে যাওয়া ছেলে। আর তোমার কথার রেকর্ড তো আমার মোবাইলে ধরা আছে। ব্যাস, কোর্টে গেলে কোর্টও বলবে আমিই তোমার ছেলে।
    নিভা : আমি যদি না মানি?
    রকেট : না মানলে এটা প্রমান হয়ে যাবে যে ওই লোকগুলোকে তুমি চিট করেছো। ব্যস, চিটিং বাজির কেস, চারশো বিশ ধারা। একেবারে সো…জা শ্রীঘরে। আর রকেট এ ঘরে।
    নিভা : রকেট!
    রকেট : তখন তোমার এই ঠকের ধনের একমাত্র মালিক হব আমি। এই কাটা রকেট। কাটা রকেট বনেগা ক্রোড়পতি। হা হা হা।
    নিভা : রকেট! এ আমার কি হোল রে…(কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়ে)।
    রকেট : কাঁদো কাঁদো। পরকে কাঁদালে, নিজেকেও কাঁদতে হয়। শঠে শাঠ্যং।

    পর্দা নামে

    সমাপ্ত
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন