এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নাটকঃ কৌন বনেগা ক্রোড়পতি (৩)

    Sagarmay Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • তৃতীয় দৃশ্য

    (কাশীনাথের বাড়ি
    পার্বতীর প্রবেশ )

    পার্বতী : পার্টি তো বেশ বড়লোক মনে হোল। মেন রোডের উপরে দু তলা বাড়ি, বাগান, সামনে গ্যারেজ। কোটি টাকার সম্পত্তি। নিজের চোখে না দেখলে ওর কথায় বিশ্বাস হত না। ওর চয়েস আছে মানতে হবে।
    ( কাশীনাথের প্রবেশ )
    কাশী : কেমন দেখলে গিন্নী। এতদিন পরে কেমন মাছ বঁড়শি দিয়ে গেঁথেছি বলো?
    পার্বতী : তোমার এলেম আছে। বলতেই হবে।
    কাশী : হু হু বাবা। এর নাম কাশীনাথ। এ মক্কেল যে সে এঁদো পকুরে ছিপ ফেলে না। ছিপ ফেললে বড় দিঘিতেই ফেলে।
    পার্বতী : তা যা বলেছো। আমি যখন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে তোমাদের পিরিতের কথা শুনছিলাম, তখন দুটো লোক রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল। আর কি বলছিল জানো?
    কাশী : কি বলছিল?
    পার্বতী : এ বাড়ির দাম কোটি টাকার নীচে হবে না।
    কাশী : ওরে বাবা! তুই এরই মধ্যে বাড়ির দামও জেনে ফেলেছিস?
    পার্বতী : কি করবো বোলো, কানে এলে তো তো আর না শুনে পারা যায় না। তার উপরে আমার সোয়ামীর পিরিতের লোকের বাড়ি বলে কথা।
    কাশী : তা বেশ বলেছিস, আমার পিরিতের লোকের বাড়ি। ঠিক ঠিক পথে এগোতে পারলে ও বাড়ি আমার হবে। রাজকন্যার সঙ্গে রাজত্ব ফ্রি।
    পার্বতী : তা হ্যাঁ গো, রাজকন্যে, রাজত্ব পেলে আমাকে তাড়িয়ে দেবে না তো? পুরুষ মানুষের মন তো। সুন্দরী মেয়ে দেখলেই ছুকছুক করা অভ্যেস।
    কাশী : ধ্যাত, তাই কখনও হয়। তুই কি শুধু আমার বৌ, তুই এখন থেকে আমার বিজনেস পার্টনার, তোকে তাড়াব কি রে। দেখ না, তোকেই ওখানে রানীর আসনে বসিয়ে দেব।
    পার্বতী : সেটা কি করে হবে?
    কাশী : প্ল্যান আছে। সময় হলে সব বলবো।
    পার্বতী : তা তুমি যে আগ বাড়িয়ে ওকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেব বলে কথা দিলে, তা দেবে কথা থেকে?
    কাশী : সেটাও তো বলেছি। শুনিস নি?
    পার্বতী : শুনেছি বলেই তো আমার ভয় করছে। তুমি যদি সত্যি সত্যিই চায়ের দোকান বেচে দাও, তাহলে আমাদের চলবে কি করে?
    কাশী : সেটাও বলেছি। চায়ের দোকানের পরিবর্তে আমাদের রেস্টুরেন্ট হবে। তাও আবার মেন রোডের উপরে। তোর ওই এঁদো গলির দু কড়ির চায়ের দোকান গেল আর থাকলো। তাতে কি আসে যায়।
    পার্বতী : না, বলছিলাম কি, এতদিন ধরে আমাদের পেটের ভাতের জোগান তো ওই দোকান থেকেই হচ্ছিল। সেটাকে একেবারে বেচে দেবে?
    কাশী : বড় দাঁও মারতে গেলে, ও সব ছোট খাটো ব্যাপার নিয়ে কান্না কাটি করলে চলবে না পারু। কিছু পেতে গেলে কিছু ছাড়তে হবে। মনটাকে শক্ত কর। গান শুনিস নি, কুছ খো কর পানা হ্যাঁয়। আমরাও চায়ের দোকান খুইয়ে, রেস্টুরেন্ট পাবো।
    পার্বতী : সে তো সিনেমাতে হয়। জীবনটা তো তোমার সিনেমা নয়।
    কাশী : তাহলে তুই তোর দোকান নিয়ে বসে থাক। আমি চললুম। টাকা আমাকে জোগাড় করতেই হবে। তুই যদি সঙ্গ না দিস, কুছ পরোয়া নেহি। আমি একাই যাবো। আমার রানির সঙ্গে আমি রাজার মতো থাকবো। আমি চলি রে।
    পার্বতী : এই দেখ রাগ করে। এতে রাগের কি আছে? আমার মন বলল তাই বললাম। তুমি না থাকলে ওই চায়ের দোকান নিয়ে আমি কি করবো?
    কাশী : এই তো লক্ষ্মী মেয়ের মতো কথা। একটা কথা মনে রাখিস পারু, এই কাশীনাথ বেঁচে থাকতে তোর কোন অসুবিধা হবে না। বাঁচলে দুজনেই রাজত্ব করবো আর মরলে দুজনেই মরবো।
    পার্বতী : দেখ কথা, তুমি মরতে যাবে কোন দুঃখে! তুমি যা করছ তাতো আমাদের সুখের জন্যই। আমি তোমার পাশে আছি। একবার ওই নিভাননী কে ম্যানেজ করতে পারলে, আমদের কোন দুঃখ থাকবে না। তবে ওকেও ফেলে দেব না। নিজের বাড়িতে নিজের মতো থাকবে। আমরা পুরো ব্যবসাটা চালাবো। তাই তো গো?
    কাশী : তুই কত দূর ভাবিস রে পারু। এই জন্যই তো তোকে এতো ভালোবাসি রে। মনে হয়, একটু আদর করি। (আদর করতে গেলে পার্বতী সরে যায়)।
    পার্বতী : ইস! বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে। এতো লোকের সামনে…। ছিঃ ছিঃ কি লজ্জা কি লজ্জা।
    কাশী : ওরে আমার লজ্জাবতি লতা।
    পার্বতী : তা নয় তো কি? তোমার মতো হ্যাংলা হবো নাকি!
    কাশী : সে তুই তো যা খুশি তাই হোস। এখন আমি চললাম।
    পার্বতী : কোথায় যাওয়া হবে শুনি।
    কাশী : আরে ওই খাঁদা ঘোষের দোকানে।
    পার্বতী : কেন, খাঁদা ঘোষের দোকানে কেন?
    কাশী : ক্যাস জোগাড় করতে।
    পার্বতী : ও তোমাকে টাকা দেবে? ও দোকান কিনবে? ওর তো নিজের দোকান আছে।
    কাশী : দোকান থাকলেই তো হবে না, সেটা চলতে হবে তো। আমদের দোকান খুললে, ওর দোকানে আর কেউ যায়? সব তো তোর দোকানে এসে ভিড় করে।
    পার্বতী : সে তো করে।
    কাশী : তাই দেখে তো খাঁদা একদিন আমাকে বললে, তোর দোকানের মতো পজিশনে একটা দোকান পেলে ভালো হতো। আমাকে আরও বলল, যদি আমরা কোনদিন আমাদের দোকান বিক্রি করি তাহলে যেন তাকে খবর দিই। সেটা মোটা দাম দিয়ে কিনবে। তাই একবার বাজিয়ে দেখে আসি। যদি পঞ্চাশ ষাট হাজার আনতে পারি, তহলে পঞ্চাশ ওখানে দিয়ে বাকিটা হাতে রাখবো। পরে কাজে লাগবে।
    পার্বতী : ওহ! পঞ্চাশ হাজার দেবে! তাহলে যাও যাও। শুভ কাজে দেরি করতে নেই। জয় মা জয় মা। তুমি তোমার সন্তানের মান রেখো মা।
    খাঁদা ঘোষের প্রবেশ
    খাঁদা : এতো মা মা করছ কেন গো বৌমা? কোন ভালো খবর আছে নিশ্চয়।
    কাশী : আরে খাঁদা দা। এতো মেঘ না চাইতেই জল।
    খাঁদা : মানে?
    কাশী : আরে দাদা আমি তো তোমার কাছেই যাচ্ছিলাম গো।
    খাঁদা : কেন রে কাশী? আমাকে আবার তোদের মনে পড়লো কেন?
    কাশী : আমারা চায়ের দোকান টা বিক্রি করে দিচ্ছি গো দাদা। টাকার খুব দরকার। আর তুমি তো জানোই, আমাদের আর কোন সম্পত্তি নেই। অগত্যা এই দোকানটাকেই বিক্রি করতে হবে। নইলে এতো চালু দোকান কেউ বিক্রি করে দাদা?
    খাঁদা : বেচবি! দোকানটা বেচবি! তা তোরা আমার কাছে বেচে দে। আমি মোটা টাকা দাম দেব, তোদের ঠকাবো না। দে তাহলে আমাকে।
    কাশী : তা কত দেবে বল?
    খাঁদা : দেখ, ওইটুকু তো ছোট দোকান। ভিতরে বসার জায়গাও নেই। তবে দোকানটা চলে ভালো। তা এক কাজ কর, তুই চল্লিশ হাজার নিস।
    কাশী : মাত্র চল্লিশ! এই তোমার মোটা দাম! না দাদা, এতো কম দামে আমি দোকান বেচতে পারবো না।
    পার্বতী : আমরা বিপদে পড়েছি বলে তুমি আমদের ঠকাবে দাদা? ওই দোকান কেউ চল্লিশে দেয়। (কাশীকে) তুমি অন্য খদ্দের দেখ গো। আমি মরে গেলেও অতো কমদামে দোকান হাতছাড়া করবো না।
    খাঁদা : আহা হা, চোটে যাচ্ছ কেন? আমি তো আমার দাম বলেছি। তোমরা তোমাদের দাম বল। পোষালে নেব নইলে নেব না।
    কাশী : ষাট চাই।
    খাঁদা : ষাট! এটা বেশি হয়ে যাচ্ছে না? এক কাজ কর। পঁয়তাল্লিশ নে। আজই টাকা দিয়ে দেব।
    কাশী : পঞ্চাশ।
    খাঁদা : ঠিক আছে। ফাইনাল। আর এক টাকাও বেশি দেব না।
    পার্বতী : আচ্ছা, আচ্ছা। তাই দিও। তবে একটা কথা আছে।
    খাঁদা : আবার কি কথা!
    পার্বতী : না না তেমন কিছু না। শুধু বলে রাখছি, আমাদের এমন অভাবের দিন তো বেশিদিন থাকবে না। তোমার যদি কোন সময় দোকান না চলে, কিম্বা অন্য কোন কারণে বেচতে চাও, তবে ওই দোকান আমাদেরকেই বেচতে হবে।
    খাঁদা : সে হবে ‘খন। আয় টাকাটা নিয়ে নিবি। জয় মা জয় মা। আজ কার মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠেছিলাম! আমি তাকে পেত পুরে মিষ্টি খাওয়াবো। জয় মা, জয় মা। (প্রস্থান)
    কাশী : দেখলি তো টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেল রে পারু। এবার চালাও পানশি বেলঘরিয়া। এবার ক্রোড়পতি আমি হবই হব।
    পার্বতী : তুমি রক্ষা করো মা, মঙ্গল করো।

    পর্দা নামে
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন