এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ভেসে যায় ভেলা এবেলা ওবেলা 

    manibarna mahanti লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ মার্চ ২০২৬ | ৭৯ বার পঠিত
  • যেই না শীত বাক্স প্যাঁটরা গোছানো শেষ করল - অমনি ন্যাকা ন্যাকা চেহারা নিয়ে 'টুউউকি' বলে উঁকি দিলেন তিনি।

    তিনি কে মানে? তেনাকে চেনেন না? আপনাদের তো মশাই নাগরিকত্ব কাটা যাবে!

    ওই যে ফাগুন, আগুন, প্রেম আর একগাদা উটকো আদিখ্যেতা! যাকে ভালোবেসে 'বসন্ত' নামে ডাকেন সবাই!

    ফাল্গুন আসার মাসখানেক আগে থেকেই 'প্রেমের কবিতা', 'প্রেমের লেখার' জন্য যেভাবে হুমকি আসা শুরু হয়, তাতে মনে হয় প্রেমটা বুঝি কোনো মিউনিসিপ্যালিটির ট্যাক্স - ভ্যালেন্টাইন ডে থেকে দোল, এই সময়ের মধ্যে প্রেম না করলে রোমিও-জুলিয়েট এসে বাড়িতে ফাইন করবে।

    শাস্ত্রে বলে "ভজন, ভোজন, খাজানা অউর ইয়ারি - ইয়ে সব পর্দে কি অধিকারি"। এখানে 'ইয়ারি' শব্দটি নারী-পুরুষের প্রেম কে ইঙ্গিত করে। আমার হৃদয়ের গহীনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা *আপাদমস্তক কনফিউজড প্রেমিকটি* পর্দার আড়ালেই থাক। সেখানে চির বসন্ত বিরাজমান।

    এই বছর একটি কড়া অবস্থান নিয়েছি।

    সাফ প্রতিজ্ঞা: বসন্ত আর প্রেম নিয়ে আর কিচ্ছু লিখবনা! বরং "গরম গরম ফুলকো লুচি আর তার সাথে নারকেল আর কিসমিস দিয়ে ঘন ছোলার ডাল অথবা রগরগে লাল কষা মাংস'' নিয়ে লিখব। এতে পেট আর মন দুইই শান্ত থাকে, হৃদয় পোড়ার কোনো চান্সই নেই।

    তবে হ্যাঁ, একজনকে 'না' বলার সাধ্যি আমার নেই, তাই কেবল তাঁরই আবদারে 'বসন্ত' নিয়ে এই সিজনে প্রথম আর শেষবারের মতো কলম ধরা। আপনারা যারা প্রেমের জোয়ারে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তারা সানন্দে চালিয়ে যান।

    আমি বরং প্রেমের 'ন্যাকামি' ছেড়ে টাইম মেশিনে ভর দিয়ে ঘুরে আসি আমার শৈশব আর কৈশোরের সেই স্মৃতি-বিজড়িত বাসন্তী দিনগুলো থেকে। দেখা যাক আমার ‘দিদি সম্পাদিকা’র জন্য ধুলোবালি মাখা কোনো হিরে-মানিক কুড়িয়ে আনতে পারি কিনা! অথবা স্মৃতির সাগরে ডুব দিয়ে দেখি তাঁর মনের মতো কোনো লেখার মশলা আমার দিদির ভাঁড়ার থেকে খুঁজে পাই কিনা।

    *************************

    *ভেসে যায় ভেলা এবেলা ওবেলা*

    *দিদির ওবেলা*

    'দখিনাবায়ু বাহী মধুকর ডিঙা' প্রকৃতির ঘাটে এসে নোঙর ফেলেছে বেশ কিছুদিন।

    ডিঙার ছাদ থেকে বসন্তের রাজকীয় এবং অহংকারী উপস্থিতিতে প্রকৃতি আজ বড় বেশি ঋদ্ধ, একটু বেশিই মুখর।

    ফাল্গুনের সেই শালুক ভেজা সকালে আমার নরম স্মৃতির বুদবুদে দোল খেলছে দোয়েল, শালিখ, চড়ুইয়ের দল। স্মৃতির সিন্দুকে রাখা এক মুঠো সুগন্ধি নিয়ে ভোরের ঘাসে ছড়িয়ে আছে রাশি রাশি বকুল - এক উদাসীন কবির অসমাপ্ত কবিতার চরণ।

    সবের মিলমিশে প্রকৃতিতে যে রঙের উৎসব শুরু হয়েছে 'কৃষ্ণচূড়ার' দল সেখানে আবির ছড়িয়ে রাঙিয়ে গেছে কখন যেন আপনমনে।

    শিমুল-পলাশের লাল আভা, আর আমের মুকুলের হলদেটে মঞ্জরিতে ঢাকা পড়ে গিয়ে দিদির উঠোনে শুধুই ফুলের আলপনা।

    এইমাত্র পানকৌড়িটা এক ডুবে সদর দুয়ারে ছড়িয়ে দিল এক আঁজলা অরুন আলোর হাসি। ঠিক সেখানেই দিদি কোলে রাখা কুলোটায় কি যেনো ঝাড়াই বাছাই করে চলেছে।

    আমাদের অন্দরমহল - রাঙা হয়েছে বসন্তোৎসবের রঙের আবেশে। রান্নাঘরও এখন স্বাদের নন্দনকানন। দিদির সাধের দরমার বাঁশের জালে কুমড়ো-ঝিঙের একান্নবর্তী অবস্থানে ফুল ফুটেছে দেদার। দিদির দুচোখে তখন রাজ্যের প্রশান্তি - এ বাগান তো কেবল গাছগাছালি নয়, এ যে তার ধৈর্যের ফসল, তার একান্ত আপন এক টুকরো স্বর্গ। সেখানে নিজের মাতৃত্বের ছায়া দেখতে পায় দিদি, ঝরা ফুলের শুভ্রতা গায়ে মেখে ডালের আড়ালে এখন কচি সজনেদের লুকোচুরি।

    কুমড়ো, ঝিঙে, সর্ষে, সজনে - হলুদে-সবুজে-সাদায় মেশা এই ফুলগুলো আমাদের মধ্যবিত্ত সাদামাটা জীবনে মায়ামাখা রঙের ছোঁয়া।

    সজনে ফুল মানেই - দিদির হাতের এক অতীন্দ্রিয় জাদুকরী ছোঁয়ায় 'ছানা মাখা শুক্তো'। ধুলি গাই এর দুধে ফুলগুলো ভিজিয়ে রেখেছে দিদি। অল্প আদাবাটা, রাঁধুনি বাটা আর কয়েক ফোঁটা গন্ধরাজলেবুর জ্যোতির্ময় সুবাসে বানানো ছানা আর বেশখানিকটা ঘি দিয়ে ভালো করে ফুল গুলোকে মেখে পদ্মপাতায় মুড়ে শুইয়ে দিল মাটির তাওয়ায়। ঢেকে দিল আরও দুটি পদ্ম পাতা। মাটির সেই তাওয়ার ওমে তৈরি হলো এক অপার্থিব ব্যঞ্জন। সুগন্ধের সেই কুহকিনী জালে ধরা পড়ে হাঁড়ি পাড়ার চির লাজুক পোয়াতি বৌ-টা বাটি নিয়ে দাঁড়ায় খিড়কি দুয়ারে। অরুচি তাড়ানোর অছিলায় পেতে চায় দিদির হাতের মায়ামাখা আশীর্বাদ।

    কাঁঠাল গাছের কচি পাতার ফাঁক গলে আমের বোলের গন্ধ মেখে দুপুর নামল পুকুর ঘাট পেরিয়ে কলতলায়।

    টানা বারান্দায় আসন পেতে পাত পড়ল সার দিয়ে, গমগম করে উঠল বামা ঝির বাঁজখাই আওয়াজ 'ভাত্ত বাড়া হেইচি, খাইবা কু আস'। লাল মুগি চালের ধোঁয়া ওঠা ভাত, সজনে ফুলের শুক্তো, কুমড়ো ফুলের পোস্ত ছড়ানো বড়া, এক টুকরো মাছের সর্ষে মাখা ঝাল, মৌরলার গামাখা টক আর - নুন, কাঁচালঙ্কা‌ এবং মলি পেঁয়াজের উপস্থিতি। মাটির দাওয়া জুড়ে রোদের আলপনায় থিতু রোদসুখ।

    আকাশের রঙ পালটায়। অস্তগামী সূর্য প্রতিদিনই নতুন এক ভোরের আশ্বাস দিয়ে ফিরে যায়।
    গোধূলি পেরিয়ে গরুর ঘণ্টার শব্দে ঘরে ফেরে দিনভর পথচলা।
    মেহগনি গাছের মগডালে চাঁদটা যেন আজ একটু বেশিই জ্বল জ্বল করছে।
    গ্রামের নির্জন পথে অলস পায়ে নেমে আসছে লালচে-বেগুনি রঙের এক পূর্ণিমর রাত। পৃথিবীটা আজ রঙের মোহে স্তব্ধ।

    বসন্তের এই রাতে, মৌমাছিদের গুঞ্জনের মতো মাটির উঠোনে মায়ের কাঁসার থালার সেই অতি পরিচিত টুংটাং শব্দে বেজে উঠল সন্ধ্যা রাগিণীর সুর। মাটির সরার গায়ে দিদির হাতের ছোঁয়া লেগে - ঘষে ঘষে তুলে আনা বালির গন্ধে লুকিয়ে আছে তাঁর হাতের মায়া মাখা উষ্ণতা। সেই ভেজা সরা শুকিয়ে, মোটা করে কাটা বেগুনের বোঁটায় - তেলের আলতো প্রলেপে তৈরি হচ্ছে চিতি পিঠা।

    হাঁড়ি থেকে ওঠা গরম ভাপ, পায়েসের সুগন্ধ আর উনুনের সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে দিদিও চেপে বসেছে আর এক টাইম মেশিনে। ধোঁয়ার পর্দায় ভেসে উঠল একে একে সাদা-কালো কিছু ছবি - বহুকাল আগের সেই ধুলো ওড়া মেঠো পথে বসন্তের অবাধ্য বাতাস ডানা মেলেছে। সেই মাতাল হাওয়ায় ভর করেই প্রথম প্রেমের একমুঠো আবির এসে আলতো করে ছুঁয়ে গেলো এক কিশোরীর নরম গাল। প্রথমবার নিজেকে চিনল দিদি, প্রথমবার নাম না জানা রক্তিম আভায় মুখ ঢাকলো আবিরমাখা দুটি হাত, প্রথমবার বেজে উঠলো বুকের মাঝে ‘লাব-ডুব’ শব্দ।

    আজকের ওই শিরা জাগা হাত দুটো আমাদের কাছে এক পরম নিশ্চিন্তির মানচিত্র। কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার লড়াকু এক জীবন রেখা।

    নতুন মটরের ঘুগনি আর দুধে ভেজানো চিতি পিঠার সঙ্গে বছরের শেষ জ্বাল দেওয়া গুড়ের পায়েসের স্বাদ - নরম বুদবুদের মতো ভেসে গেল অজানার দিকে।

    *আমার 'এ-বেলা'*

    টাইম মেশিনের সফর সেরে আজকের হোলির দিল্লির এই সকালটা গুলালের রঙে এক পশলা স্নিগ্ধতা আর এক মুঠো জীবনযুদ্ধের গল্প নিয়ে হাজির হলো।

    দিল্লির ডি. ডি. এ. ফ্ল্যাটগুলোর মধ্যে এক অদ্ভুত মায়া লুকিয়ে আছে। গ্রাউন্ড ফ্লোর নিয়ে তিনটি ফ্লোরের এই ফ্ল্যাট গুলোতে একেবারে নীচের তলার ফ্ল্যাটে এক চিলতে সবুজ বাগান যেমন আছে - ওপরের দুটি ফ্লোরেও তেমনি আছে ঢাকা বারন্দার বদলে খোলা আকাশ সহ খানিক খোলা ছাদ - ছোট্ট এক টুকরো মুক্তি।

    সেই ছাদ জুড়েই আমার বাগান। মাটির গন্ধে ভরা, ঋতুর রঙে রাঙানো। আমাদের ফ্ল্যাটটা বছরের অধিকাংশ সময় নীরব, দরজায় তালা ঝুলে থাকে, তাই বলে জানালায় ধুলো জমে না। এই ছাদ বাগানও তেমন কখনও একা হয়ে পড়ে না। তুলসী চাচীর স্নেহমাখা হাতে সেখানে প্রতি বছরই জন্ম নেয় এক একটি নতুন ঋতু।

    তুলসী চাচীর সঙ্গে এই বাড়ির সম্পর্ক আমার এই পরিবারের অংশ হওয়ার বহু আগে। এ বাড়ির ছায়ায় জড়িয়ে আছেন চাচী। প্রায় তিরিশ বছরের তাঁর নিরবিচ্ছিন্ন স্নেহ আর হাতের ছোঁয়ায় এই বন্ধ ফ্ল্যাট আর নির্জন ছাদ প্রাণবন্ত থাকে বছর ভর।

    এই ছাদ যেন এক টুকরো সবুজ স্বর্গ, যেখানে প্রকৃতির কোনো দানই বাকি নেই। সবুজ অঙ্কুরের উঁকি, কুসুম রোদে ঝকঝক করা পাতা, হালকা হাওয়ায় দুলতে থাকা লতাগুল্ম - সব মিলিয়ে ঋতুরাজ তাঁর ঝুলি উজাড় করে দিয়েছেন এখানে।

    একপাশে ইয়াব্বড়ো বড়ো টবে আম, সজনে, কলা, লাল-জবার চিরচেনা রূপ; অন্যদিকে লাউ, কুমড়ো, উচ্ছে, সীম এর লতায় জড়িয়ে আছে সজীব প্রাণ। লঙ্কার রাগী লাল-সবুজ আভার পাশে সারি সারি সাজানো লম্বা টবগুলো দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। সেখানে পরম মমতায় বেড়ে উঠছে পেঁয়াজ, রসুন, সর্ষে, জিরা, ধনে, মেথি আর পুদিনার দল। চাচীর হাতের জাদু আর যত্নে তারা যেন কথা বলে ওঠে।

    শুধু তো প্রয়োজন নয়, আছে সৌন্দর্যের বিলাসও। চারদিকে মোরোগ ঝুঁটি, দোপাটি, গাঁদা, গোলাপ সহ নানা রঙের ফুলের মেলা এই আয়োজনকে দিয়েছে পূর্ণতা।

    ছাদ-বাগান আজ দুহাত ভরে উপহার দিয়েছে। সজনে ফুল, কুমড়ো ফুলের সঙ্গে ডালা ভরে এসেছে টকটকে লাল লঙ্কা, সীম, উচ্ছে আর পেঁয়াজ কলি। প্রকৃতির এই অকৃপণ দান দেখেই রঙিন মন এক নিমেষে সজীব হয়ে গেল।

    তবে এই সবুজমাখা গল্পের সঙ্গেও বাড়ির দরজায় আজ কড়া নেড়ে গেল একটি অসাধারণ লড়াইয়ের গল্প। ময়ুরবিহার ফেজ ওয়ান-এর সকলের প্রিয় মাছওয়ালা 'হিমু'। যে ঝুড়িটা ওর বাবার কাঁধে থাকত, আজ সেটা ওর নিজের কাঁধে। কোভিড কেড়ে নিয়েছে ওর বাবা-মা দুজনকেই; কিন্তু কেড়ে নিতে পারেনি ওর বেঁচে থাকার জেদ কে।

    দরজা খুলতেই সামনে ঝুড়িটি নামালো হিমু। সে ঝুড়িতে সাজানো রয়েছে এক অসম লড়াইয়ের আখ্যান। একদিকে মৌরলা আর কুচো চিংড়ির রূপালি ঝিলিক, অন্যদিকে কাতলা, ট্যাংরা আর কই এর উদ্ধত দাপট। সব মিলিয়ে এক জীবন্ত আয়োজন। এই রুপোলি চঞ্চলতার মাঝেও সদর্পে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক সদ্য যুবকের ঘামের গল্প।

    যে বয়সে ওর খেলার মাঠে থাকার কথা, পিচকারি হাতে হোলি হ্যায় বলে তার সমবয়সীকে রঙের জলে রাঙিয়ে দেওয়ার কথা, সেই বয়সে জীবনের কঠিন বাস্তব তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সংসারের মাঝদরিয়ায়। বাবা-মায়ের স্নেহহীন পৃথিবীতে হিমু এখন নিজেই নিজের কাণ্ডারি। প্রতিটি মাছ বিক্রির নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক তরুণারুণের বেঁচে থাকার অদম্য জেদ আর এগিয়ে যাওয়ার অসীম সাহস।

    আজ দুপুরের থালাটা সাজিয়েছিলাম আমার ছেড়ে আসা শিকড়ের নস্টালজিয়ার সঙ্গে তুলসী চাচীর হাতের স্নেহ আর হিমুর চিরচেনা লড়াইয়ের মায়াবী উপাখ্যান দিয়ে। রঙিন স্মৃতির কোলাজ হয়ে আজ আমার পাতে নেমে এসেছিল এক পশলা বসন্ত। সজনে ফুলের দুধ সুক্তো, নারকেল - আমড়া আর লঙ্কাবাটা দিয়ে পুর ভরে কুমড়ো ফুলের বড়া, কমলা কাতলা, দুধ কই, কুচো চিংড়ির পেঁয়াজ কলি দিয়ে বাটি চচ্চড়ি, মিষ্টি তেঁতুল আর কামরাঙ্গার মিষ্টি চাটনি। লাল, হলুদ, কমলা, সবুজ সাদা সবকটি রঙ কে সাথী করে একমুঠো রঙিন আবেগ আর এক আকাশ ভালো লাগা নিয়ে এক রঙিন দুপুর।

    একটু অন্যভাবে ঋতুকে তুলে আনা খাবারের পাতে। এ এক প্রশান্তি। আতিশয্যের বাড়াবাড়ি নয় আছে স্মৃতি মেদুরতা। বাড়ির মানুষগুলো খেয়ে খুশি আর আমি খুশি রেঁধে।

    ঠাকুমার সেই চিতি পিঠা বানানোর হাতিয়ার বেগুন ডাঁটি, জোনাকির আলো হয়ে আজও রয়ে গেছে আমার স্বপ্নের আনাচে-কানাচে, অবিরাম ডেকে চলেছে সবেদা গাছে বসে থাকা দুধরাজ পাখিটার মতো।। আমি এখন স্বপ্ন সাজিয়ে ফেরি করি অচেনা ঘাটে, মরুভূমির বুকে বা নির্জন বন্দরে, পাহাড়ি গ্রামে। যেখানে শুধু সেই স্বাদগুলো, সেই গন্ধগুলো ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় সমুদ্রের ঢেউয়ে, পাহাড়ের সবুজে, অরণ্যের গহীনে।

    জীবনের এই সোনালী মুহূর্তগুলো বড় চঞ্চল। কখন যে এই হলুদ বনের ভিড়ে প্রাণের অতি প্রিয় সেই স্মৃতির ‘নাকছাবি’টি হারিয়ে যাবে, তার হদিস কেউ জানে না। সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই হারায়, তবুও এই মুহূর্তের বাসন্তী প্রেমটুকু চিরস্থায়ী হয়ে রয় যাক আমার আপনার সকলের অস্তিত্বের গহীনে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:4c1f:10de:45a8:b5c8:a8a6:***:*** | ১০ মার্চ ২০২৬ ২২:২৮739089
  • খুব ভালো লাগলো। আমার ওড়িশার খাবার সম্পর্কে জানার খুব আগ্রহ আছে। আপনি যদি এই নিয়ে আরো লেখেন তো উৎসাহ নিয়ে পড়বো।
  • manibarna mahanti | ১১ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৬739096
  • নিশ্চয়ই চেষ্টা করব
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন