এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • রবীন্দ্রনাথ নেই— তাই তাঁর কথাও আজ গৃধ্নুদের মুখপত্র হয়ে উঠতে পারে

    SHANKAR BHATTACHARYA লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ মার্চ ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  •  
     এই আর্টিকল #: 34503
    কবির কণ্ঠ ধার নিয়ে যারা ক্ষমতার গান গায়, তাদের লোভের নামই ‘গৃধ্নু’।
     
    যখন ক্ষমতা সত্যকে সহ্য করতে পারে না, তখন কবিতাকেও বিকৃত করে অস্ত্র বানায়।
     
    সত্যের আলো জ্বলুক, প্রশ্নের পথ খোলা থাকুক।
    —------
     
    রবীন্দ্রনাথ নেই— তাই তাঁর কথাও আজ গৃধ্নুদের মুখপত্র হয়ে উঠতে পারে
    *************************
    “যে পদ বা সংস্থাগুলি রাজনীতির বাইরে থাকার কথা, তাদেরও আক্রমণ করতে ছাড়ছে না। দেশের রাষ্ট্রপতি, দেশের নির্বাচন কমিশন, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, দেশের সেনাবাহিনী— সকলকেই আক্রমণের লক্ষ্য বানানো হচ্ছে।
     
    Rabindranath Tagore লিখেছিলেন, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।’ এই লেখা লিখছি কোনো অনুরোধ জানিয়ে নয়, বরং ধিক্কার জানিয়ে”।
     
    লেখক যেই হোন, তাঁর লেখা পড়ে শত কোটি চোখ বিস্ফারিত।
    ‘গৃধ্নু’ (বিশেষণ পদ) শব্দের অর্থ—লোভী, লোলুপ, লালায়িত বা আসক্ত। এমন এক ব্যক্তিকে বোঝায়, যে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য অস্বাভাবিক আগ্রহে লালায়িত। সাধারণত কোনো কিছুর প্রতি তীব্র লালসা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয় (যেমন: অর্থগৃধ্নু— যে অর্থের লোভে অন্ধ)।
     
    রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভে অন্ধ ‘গৃধ্নু’রা নিজেদের ছলনার অস্ত্র হিসেবে নির্লজ্জভাবে রবীন্দ্রনাথকেও টেনে আনে। মিথ্যাচারের আড়াল গড়তে তারা উদ্ধৃত করে সেই মানুষটির কথা, যিনি আজ মান-অপমানের জগতের বাইরে। তাঁর কণ্ঠে এই অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আপত্তি শোনার কোনো উপায়ও আর অবশিষ্ট নেই।
     
    প্রতিটি স্বশাসিত সংস্থার কাছে দেশের সংবিধান এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব পালন একটি আবশ্যিক শর্ত। কিন্তু স্বৈরাচারী রাজনৈতিক ইন্ধন যখন সেই সংস্থাগুলিকে গ্রাস করে, তখন তাদের স্বাধীনতা যেমন ক্ষয়ে যায়, তেমনি দেশের গণতন্ত্রও কেবল নামমাত্র হয়ে পড়ে।
     
    যে কোনো অপকৌশল নির্মাণে সহযোগিতা করতে রাজনৈতিক ক্ষমতালোভী ‘গৃধ্নু’রা তখনই আসরে নেমে পড়ে।
     
    দেশের তাবৎ পদাধিকারীদের তারা মনে করে নির্বোধ ও ক্রীতদাস— সেই মতো প্রয়োজনে আবার লিখতে পারে:
    রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।’
     
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের (৩৫তম কবিতা) “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”— এই পঙ্‌ক্তি এক নির্ভীক, স্বাধীন ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন জাতির আদর্শ চিত্র তুলে ধরে। কবি এমন এক স্বর্গরাজ্য বা স্বাধীন ভারতের প্রার্থনা করেছিলেন, যেখানে মানুষের মন ভয়, কুসংস্কার ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত; জ্ঞান অবাধ; এবং মাথা গর্বে উঁচুতে থাকে।
     
    কিন্তু ‘গৃধ্নু’রা নিজেদের সুবিধামতো স্বর্গরাজ্য, স্বাধীনতা, ন্যায়, অন্যায় এবং ঘৃণার সংজ্ঞা বানিয়ে নেয়।
     
    শিক্ষা যতই থাক— শিক্ষিতের ঝুলি থেকেও বেরিয়ে আসে দ্বিচারিতা। সে যে নগ্ন হয়ে পড়ছে, সেই লজ্জাও তার থাকে না। শিক্ষিত বদমাশ সমাজের ক্ষতি করে— কারণ সে সত্যকে আড়াল করার কৌশল জানে।
     
    আজকের পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবাদীদেরকে যক্ষপুরীর সেই স্বর্ণলোভী রাজার চেয়েও অধিকতর পাষাণ এবং অহঙ্কারী বলে দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে সেখানে ক্ষমতার দম্ভ ছাপিয়ে গেছে স্বাভাবিক প্রাণের স্পন্দন। সেখানে সংবিধানের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে একনায়কতন্ত্রের দাপট। পশ্চিমবঙ্গবাসী মানুষের প্রতিবাদের কী অভাবনীয় মুল্যায়ণ
    একজন তথাকথিত শিক্ষিতের! রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভে গৃধ্নুরা আজ বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদদেরও ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না।
    এই নিকৃষ্টতম কাজটি করতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘রক্তকরবী’ ব্যবহার করা হয়েছে। রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি প্রতীকী নাটক। এটি 1923/1924 সালে শিলং-এ রচিত হয়েছিল এবং মূলত এর নাম ছিল যক্ষপুরী। এটি In a 2016 review of a production of Raktakarabi at the Academy of Fine Arts, Kolkata, the play is called 'Tagore's finest protest against totalitarianism'.
     
    কেমন সুন্দর করে একনায়কতন্ত্রের বিভৎসতাকে ঘুরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়— এবং আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন জাতি গঠনে রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ অনুল্লেখিত থেকে যায়, গৃধ্নুর আলোচনাতেই স্থান পায় না— এ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
     
    যে বিভৎস একনায়কতন্ত্র দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করতে চায় এবং সর্বোচ্চ পদাধিকারীকেও কলের পুতুলে পরিণত করে রাখে, সেই একনায়কতন্ত্রের পক্ষে গাইতে ‘গৃধ্নু’রা যে কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে।
     
    যখন গুজরাটে প্রথম ক্ষমতায় এসেছিল, তখন নায়কদের মুখে কত সুর কত কথাই শোনা গিয়েছিল— পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও স্বকীয়তা বজায় রাখা, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা।
     
    আজ দৃশ্যপটের দিকে তাকিয়ে দেখুন— এবং হরিনাম করুন। রবীন্দ্রনাথ যেমন বাকি নেই, তেমনি ‘হরি’ও আর বাকি নেই বিকৃত ব্যবহারের হাত থেকে। ‘গৃধ্নু’রা সব পারে। ধিক্কার ও প্রতিকারের প্রাসঙ্গিকতাকেও উল্টে দিতে পারে। গদি মিডিয়া তখন তাদের সঙ্গেই থাকে।
    — শংকর ভট্টাচার্য্য ✍️ ১০/০৩/২৬
    #গণতন্ত্রসংকট #ক্ষমতারলোভ
    #বিবেকেরডাক #নৈতিকপ্রতিবাদ
    #শিক্ষিতদ্বিচারিতা #রবীন্দ্রনাথ
    #DemocracyMatters #SpeakTruth
    #PoliticalHypocrisy #InstitutionalIntegrity
    #VoiceOfConscience #WestBengal
    #SabitaEunoiaworldviews 
    —---
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন