1️প্রথম যে ডকুমেন্ট টা দেখতে পাচ্ছো, এটাকে বলে ফর্ম-২০, যা ভোট গণনার সময় রিটার্নিং অফিসার প্রতিটা বুথের EVM থেকে ভোট-কাউন্ট গুলো এই ফর্মে তোলে। এবং প্রতিটা রাউন্ড গণনায় এগুলো যোগ করে শেষের ফর্ম-২০তেই টোটাল ভোট লেখা হয়।
▪ডকুমেন্টটা দেখো, ১৬৪ নং বুথ (যার নাম মুসলমান পাড়া-১) সেখানে—
বিজেপি (পীযুষ কানোরিয়া) পেয়েছে ৬৩৭টা ভোট, আর
সিপিএম (সপ্তর্ষি দেব) ১টা ভোট,
তৃণমূল (তাপস চ্যাটার্জি) ৫টা ভোট
এবং ওই একই মুসলমান পাড়া-২ তে ১৬৫নং বুথ, সেটায় দেখো—
বিজেপি (পীযুষ কানোরিয়া) পেয়েছে ৩৬টা ভোট, আর
সিপিএম (সপ্তর্ষি দেব) ২৯৯টা ভোট,
তৃণমূল (তাপস চ্যাটার্জি) ২৯০টা ভোট
এরপর তোমরা নেক্সট পেজ গুলো দেখো, ভোটার লিস্ট নিজেরাই চেক করো, মুসলমানপাড়ার ভোটার লিস্ট, প্রায় ৯০% মুসলিম, আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন বাদ দিয়ে হিসাব করো, তাও ৮৮% মুসলিম পাবে।
সেখানে এটা তোমরা ভেবে নাও, প্রায় ৯০% মুসলিম বুথে বিজেপি ৯৭% ভোট কিভাবে পেলো? আরও স্পেসিফিক ভাবে বললে, হিন্দু+অন্যান্য ৭৯জন, অথচ বিজেপি ভোট পেয়েছে ৬৩৭টা!!
পারলে ওখানে গিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞেস করে আসো, তারা কাকে ভোট দিয়েছে, ৪৮% বলবে সিপিএমে, আর ৪৮% বলবে তৃণমূলে, বাকি ৪% বলবে অন্যান্য দলগুলোকে। (এটা অলরেডি সার্ভে করে দেখা হয়ে গেছে)
কিছুই না, জাস্ট ওই ১৬৪ নং বুথ (মুসলমান পাড়া-১) এ আবার ভোট করাও লাইভ টেলিকাস্ট, ব্যালট পেপারে, দেখো বিজেপি ৬৩৭, টিএমসি ৫, সিপিএম-১ পায় কিনা, দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আসল চিত্র সাফ হয়ে যাবে। একটা ভাত টিপলেই বাকি ভাত গুলো কেমন হয়েছে, বোঝা যাবে।
সুতরাং আবারও প্রশ্ন থেকেই যাবে— যে আদালত বলতে পারে যে "Under Adjudication" হিসেবে এখনও ঝুলে থাকা ২৭ লাখ ভোটারকে ছাড়াই ইলেকশন করে নাও, সেই আদালত এইসব অভিযোগ কেন শুনবে? অবশ্যই এরকম প্রচুর প্রচুর উদাহরণ পেন্ডিং হয়ে পড়ে আছে আদালতে, এবং মজার ব্যাপার হলো, ইলেকশনের রেজাল্টের ৪৫ দিনের মধ্যে এই অভিযোগ গুলো করতে হয়, এবং ৪৫ দিন পূরণ হওয়ার আগেই তো ৪৫০০ ইভিএম, (ব্যালট সহ, কনট্রোল ইউনিট সহ, ভিভিপ্যাট সহ) আগুনে সু*ই*সাইড করে নিলো।
তাহলে এবার ভেবে নাও এরকম কত কিছু হয়েছে! আমি বলছি না যে আগে বুথ দখল করে ছাপ্পা হয়নি! সেসব অভিযোগ প্রচুর উঠতো। এবারে কিন্তু ছাপ্পার কোনো অভিযোগ ওঠেনি, খুব সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে নাকি চারিদিকে।
▪️তাহলে এই নাম্বারগুলো ঠিক কোথায় পালটি মারলো? সবার অগাধ বিশ্বাস ইভিএমে। প্রশ্ন তুললে বলবে, > যখন জিতে যাও, তখন ইভিএমে প্রব্লেম থাকে না, হারলেই প্রব্লেম! কেরালায় ইভিএমে বিজেপি জিতলো না কেন, ইত্যাদি!!
দেখো, এগুলো একটু ভাবলেই উত্তর পাওয়া যাবে। সর্বত্র একসাথে ট্যাকেল করা সমস্যার! ধীরে ধীরে, ধাপে ধাপে, একেকটা রাজ্য ট্যাকেল করা সহজ, একসাথে চারিদিকে ফোকাস করলে সব জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে।
▪️হতেই পারে যে ইভিএমের দোষ নেই, বা হতে পারে দোষ আছে। ধরে নিলাম দোষ নেই, তাহলে উপরিউক্ত ঘটনাগুলো/ওই অবাক করা ভোটের হিসাব কিভাবে সম্ভব? সেটা রিটার্নিং অফিসার ভালো জানবে, অথবা উনি যদি না জানেন, তাহলে কেউ রেজাল্টের আগে জমা রাখা EVM-এ ম্যানুয়ালি কিছু নাম্বার অদল-বদল করে থাকতে পারে, যা তদন্তের জন্য ওই EVM গুলো প্রয়োজন, ওই বুথের সিসিটিভি প্রয়োজন, VVPAT পেপার স্লিপ প্রয়োজন!!
কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘণ্টি বাধবে কে? পশ্চিমবঙ্গ এমন একটা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এখানে শুধুমাত্র নিউজ মিডিয়ার ব্রেনওয়াশের মাধ্যমে রাতারাতি মানুষের রাজনৈতিক পছন্দ পালটে যায়, মানুষ ছাড়ো, নেতাগুলোই সুযোগ বুঝে এদিক ওদিক লাফ মারে। যেখানে ৫ দিন আগে ভোট হলে তৃণমূল ৪৩-৪৫% ভোট পাওয়ার কথা, ক্ষমতার চাকা ঘুরলে পরদিন আবার ভোট হলে সেখানেই তারা ১% ভোট পাবে, অথচ সেখানে সিপিএমও ২০-৩০% পার করে যায়! সুতরাং আসল সত্যিটা সামনে এলে পুরো রাজনৈতিক চেহারা বদলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের।
শেষে এটাই বলবো, রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে, পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে, কিন্তু সেসবের উর্ধ্বে জনগণের রায়'কে, ভোটকে "এডিট" করা হলে তোমার অধিকারে হস্তক্ষেপ সেটা। আজ তোমার পছন্দের দল জিতে গেছে বলে তুমি এসব দেখেও ইগনোর করতেই পারো, কিন্তু আগামীতে হেরে গেলে তুমি তখন হন্যে হয়ে খুঁজবে যে তোমার ভোটের সাথে স্ক্যাম হলো না তো? তখন তোমার পক্ষে প্রতিবাদ করার লোক খুঁজে পাবে না। এখন সুখের হাসি নিয়ে এই পোষ্টের তথ্যের বিরুদ্ধে কিছু না পেয়ে তুমি আমায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে পারো, আমায় তো কাল একজন চটি-চাটা'ও বললো অথচ আজ অবধি ঘাসফুলের পক্ষে একটাও সমর্থন পোষ্ট সে খুঁজে বের করতে পারবে না। অথচ তাদের টাইমলাইনে একটা দলের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রচুর পোষ্ট পাওয়া যাবে, সেটা নিয়ে "অমুক-চাটা" বললে গায়ে লেগে যাবে তখন! কোনো দলের প্রতি অগাধ বিশ্বাস, অন্ধ সহানুভূতি থাকলেই প্রব্লেম। এসবের উর্ধ্বে থাকো, তোমার গায়ে জ্বালা হবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা! তারা নিরপেক্ষ কাজ করলে তুমি জনগণের আসল রায়কে বুঝতে পারবে, হোক সেটা তোমার পছন্দের, বা অপছন্দের। কিন্তু যখনই বিচার ও নির্বাচন নিরপেক্ষতা হারাবে, সেটা সবার জন্য বিপদজনক। আজ তোমার জন্য লাভজনক হলেও, পরে তোমার জন্য বিপদজনক হতে পারে, পরে ক্ষমতার অদলবদল হলে। তখন তুমিও চিৎকার করবে যে, তোমার দল কিভাবে শুন্য ভোট পেলো তোমার বুথে, যেখানে তুমি নিজে ভোট দিয়ে এসেছো!! কিন্তু কেউ তোমার পাশে দাঁড়াবে না। কারণ তুমি নিরপেক্ষতার বদলে পক্ষপাতিত্বের হয়ে সহানুভূতিশীল ছিলে।
▪️সুতরাং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বাইরে বেরিয়ে সবসময় "সিস্টেমের স্বচ্ছতার" আবেদন জারি রাখতে হবে! তবেই তোমার আগামী প্রজন্ম স্বচ্ছ সিস্টেম পাবে।
জাহি ইকবাল