এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বাকিসব   শোনা কথা

  • পার্টস অব স্পীচ

    বোদাগু
    বাকিসব | শোনা কথা | ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩৪৪১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • রাজনৈতিক 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:58dc:6f49:8e66:5201:***:*** | ৩০ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৮747142
  • কমিশনের বদমাইশির সামারিটা ভুলবেন না।

    - 7 কোটি 66 লক্ষ লোক তালিকাতে ছিল, 2025 এর এসআইএর শুরুতে।
    - প্রথমে প্রোজেনি ম্যাপিং এ 58 লক্ষ বাদ। এবং কেউ চিঠি পেলেন না তিনি কেন বাদ। এবং দেখা গেল বাংলা থেকে ইংরেজি ট্রানস্লিটারেশন এ অনেকে বাদ পড়েছেন। এবং ASDD, অর্থাৎ absent, shiftd, dead, duplicate এর category করা নেই, এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে dead দের বিষয়ে কোনো লার্জ স্কেল ডেটা ভিত্তিক চ্যালেঞ্জ নেই।
    - তারপরে এনুমারেশন ফর্ম ভর্তি করতে হল মানুষকে যার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, প্রশাসনিক প্রিসিডেন্স ও নেই। কে সই করতে পারে, কার নাম প্রোজেনিতে দেখানো যাবে তাই নিয়ে শত কনফিউশন
    - এর পরে হিয়ারিং, তাতে কত এগোচ্ছে রেজলুশন তার কোনো হিসেব বা তালিকা কিছু নেই।
    - এর পরে লজিকাল ডিসক্রপান্সি ঘোষনা, এবং তাতে বাড়তি নেট পাঁচ লক্ষের বাদ পড়ার ঘোষণা অথচ ম্যাপিং প্রসেসে কত মানুষের সুরাহা হল তার কোনো বিধানসভা বা জেলা বা ব্লক বা বুথ ভিত্তিক হিসেব নেই।
    - এর পরে মোস্তারি বানুর মামলা নিয়ে হইচই কারণ তাতে মমতা শুনানিতে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে বলতে দেওয়া হল যদিও এও বলা হল তাঁর পক্ষে বড় উকিলরা তো আছেন। যাই হোক অর্ডার হল লজিকাল ডিসক্রিপান্সির তালিকা কারণ সহ ব্লকে ডিসপ্লে হবে। আজ অব্দি হয় নি। এবং আরো খারাপ হলো বিচারপতিদের ইম্প্রেস করতে গিয়ে হিন্দু মানুষের নামের উদাহরণ আনা হচ্ছিল যেন মুসলমানদের বাদ দেওয়ার মধ্যে অন্যায় কিছু নেই।
    - এর পরে সাপ্লিমেনটারি লিস্ট, তাতে লজিকাল ডিসক্রিপান্সি এবং ম্যাপিং ভিত্তিক ডিলিশন এক জায়গায় আনা হল, কারণ আলাদা করে না দেখিয়ে। এবং এতে ডেমোগ্রাফিক বায়াস স্পষ্ট।
    - মতুয়া, বিবাহিত বাসা বদলানো মহিলা, রাজবংশী, আদিবাসী আর নিম্নবর্গীয় শরণার্থীরা, underdocumented রা টার্গেটে ছিলেন ম্যাপিং এ। লজিকাল ডিস্ক্রিপান্সির প্রধান টার্গেট মুসলমানরা।
    - এবং গোটা প্রসেসে aggregated ডেটা টা লুকোনোর ছক।
    - এবং এর মাঝে পয়সা নিয়ে সিএএ ফর্ম বেচা, চাটুকার অফিসারদের কাজের জায়গায় আনা এসব গেছে।
  • বোদাগু | 128.185.***.*** | ৩১ মার্চ ২০২৬ ১১:২০747144
  • বোদাগু | 128.185.***.*** | ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৪:০৯747146
  • শোনা গেছিল, 23টা জেলায় 19টা ট্রাইবুনাল বসবে। জেলা পিছু একটি বা তার কম কেন তার কোনো যুক্তি ছিলনা। 
    ট্রাইবুনাল ততক্ষন করা হয়নি, যতক্ষন সাপ্লিমেন্টারি লিসট বোরোচ্ছে। এবং এখন জেলায় একটি করে থাকার ফলে এবং লিগাল হেল্প না থাকার ফলে আপিল খুব কম হবার চান্স।
    যেকটি সুপ্রীম কোর্ট অর্ডার হয়েছে তাতে কোথাও বলা নেই যে ট্রাইবুনালে সব ডিলিটেড ভোটার অন্তত একবার সুযোগ না পাওয়া অব্দি ভোট হবে না।
     
    ডিসটোপিয়া বস্তুটির জন্য কল্পনাশক্তি অপ্রয়োজনীয় হয়েছে।
  • বোদাগু | 49.205.***.*** | ৩১ মার্চ ২০২৬ ২১:৫১747147
  • #আগেভোটারপরেভোট
    #ভোটেরআগেভোটার
    #বাদপড়ারকারণ
    #স্বচ্ছতা

    কমিশনকে এবং রাজ্য সরকারকে অনেক জবাব দিতে হবে। বাঙলার মানুষকে খাদে ফেলে গণতন্ত্রের বিজ্ঞাপন চলবেনা। কোর্টকেও জানাতে হবে আপিল করার মতো সময় মানুষের হাতে থাকছে কিনা। নির্বাচন পদ্ধতিকে মানুষের কাছে পৌছতে হবে, এটা ব্যক্তিমানুষের না, রাষ্ট্রের দায়। কারণ গণতন্ত্রের বগল তাঁরা বাজিয়ে থাকেন, মানুষ বাঁচার সংগ্রামে দৈনন্দিনে ব্যস্ত।
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:1854:1772:7498:e40:***:*** | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০০747150
  • থিয়েটার অফ দ্য অ্যাবসার্ড।
    - 58 লক্ষ কমে গেল ম্যাপিং এ, রাজ্য সরকার মৃতের ডেটা বড় করে চ্যালেঞ্জ করলো না। দুটো চারটে কেস দেখালো, অথচ মৃতের ডেটা তার কাছে আছে।
    - একটা বছরে, কত কারণে লোকের নাম তালিকায় থাকে না। সুতরাং যার 2002 এর আগে নাম আছে বা 2002 এর অল্প পরের ভোটার তালিকায় নাম আছে তাদের আনম্যাপড হবার কোনো কারণ নেই, তবু করা হল, মেয়েরা শ্বশুরবাড়ী যান, তাঁদের নামে কম কাগজ থাকে এটা সরকার জানে না? মেটানোর সময় পাসপোর্ট গুরুত্ব পেলো। কটা লোকের পাসপোর্ট আছে, সরকার জানে না, ন্যাকামি হচ্ছে? হিয়ারিং এ কত কি কবে রিজলুশন হল, কোনো হিসেব নেই। হিয়ারিং এ যারা আসতে পারলেন না তাঁদের সকলকে ভুয়ো ভোটার ধরে নেওয়া হল, তাহলে কে কোথায় আছেন কার কাছে কটা ভোটার কার্ড আছে তার হিসেব কমিশন দিল না কেন? পার্মানেন্টলি শিফটেড যখন বলা হচ্ছে তার কোনো ডকুমেনটেশন দেখানো হল না, কেন?
    - এর পরে 60 লক্ষ লজিকাল ডিসক্রিপান্সি, যেটার কোনো নিয়মাবলী সরকারি ভাবে প্রকাশিত না। কোর্টে আলোচনা হল কিন্তু কোর্ট কমিশনকে কোনো অর্ডার দিল না।
    - যেসব সফ্টওয়ারে এসব কান্ড হল, তার কোনো ট্রান্সপেরেন্সি নাই। নাম, নামের বানানের অনুবাদ, বৈচিত্র পদবী ধর্ম জাতি অঞ্চল জেন্ডার নিয়ে যে রসিকতা করা হল তার পুরো exclusion rule ঐ সফ্টওয়ারে থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
    - এর পরে adjudication, ভারতবর্ষে 705 জন জজসাহেব, জীবনে যে কাজ প্রথম করছেন যেটা কোনো অলৌকিক কারণে সাড়ে তিন সপ্তাহে 47 লক্ষ লোকের adjudication করে ফেললেন। এরকম গতিতে উসেন বোল্ট লজ্জা পাবেন। পাতার পর পাতা বিভিন্ন জেলা থেকে খবর আসছে, হিন্দু নাম বা হিন্দু পুরুষের নাম থাকলে, adjudication লাগছে না, মুসলমান নাম হলেই লাগছে। কোনো affifavit চাওয়া হল না কমিশনের কাছে যে adjudication সত্যিই মানুষে করছে না যন্ত্রে করছে।
    - এর পরে ট্রাইবুনাল। 23 টা জেলায় 19 টা ট্রাইবুনাল বসতে শুরু করেছে দু তিনদিন, শুধু জেলা শহরে আর কলকাতায়, মানুষ জানেই না কিভাবে কি করবে, আজ বলা হচ্ছে 6 তারিখ সব ট্রাইবুনালের কাজ শেষ হয়ে যাবে যেখানে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টই বেরিয়েছি ভাগে ভাগে এক সপ্তাহ ধরে। যে তালিকা ছাপতে যা সময় লাগে সে তালিকা নাকি পরীক্ষা করা যাচ্ছে তার চেয়ে তাড়াতাড়ি :-)

    এ ভোটে অট্টহাস্যরত অশ্বগণই একমাত্র প্রকৃত ভারতীয় বাঙালি ভোটার হতে পারে। ড়োবিন্দ্রজির গান শুনলে দুদিনে প্রমিত হ্রেসারবে মাঠঘাটবুথ মুখরিত হওয়ার কথা।
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:1854:3648:9297:bd8:***:*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৮747152
  • 285 সিউড়ি ভিধানসভার অন্তর্গত আরালি গ্রামের ৩০ নং বুথে ৪৪০-৪৪২ জন ডিলিটেড। এটা নিয়ে আমি কদিন আগে পোস্ট করেছিলাম। আজ সেখানকার নাগরিক প্রতিবাদের ভিডিও লিংক দিলাম। ফেসবুক থেকে।
     
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:1854:cacc:a35e:a559:***:*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩১747153
  • সমাজ মাধ্যমে খবর আসছে, নির্বাচনের প্রচার করতে দেওয়া হবে না বলে দু চার জায়গায় মানুষ রেগেমেগে নোটিশ দিচ্ছেন গ্রামাঞ্চলে।
  • বোদাগু | 49.205.***.*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৪747155
  • আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বক্তব্য, পূর্ব বর্ধমানের ভোটার তালিকার অবস্থা ধরা পড়েছে।
     
  • বোদাগু | 49.205.***.*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০০747156
  • অপর্ণা ভট্টাচার্যের টাইমলাইন ফিড থেকে: 
     
     
    শত্রুকে হারাতে হলে তাকে জানতে হয়।  তার কৌশল বুঝতে হয়।  

    নির্বাচনে ভোটার - প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যা (Electors to Adult Population Ratio) খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে প্রাপ্ত জনসংখ্যার কত শতাংশ মানুষ ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হলেন। ১০০% হলো আদর্শ অনুপাত। কিন্তু সেটা সাধারণভাবে হয়না। এর কারণ প্রশাসন কখনোই ১০০% দক্ষতা নিয়ে কাজ শেষ করতে পারেনা। 

    যদি আমরা পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা দেখি তাহলে, দেখা যাবে ২০১৬ র পর ভোটারের সংখ্যা বাড়তে থাকে স্বাভাবিক হারের থেকে বেশি হারে। আমরা যদি টেকনিক্যাল গ্রুপের দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যা এবং ভোটার সংখ্যার আনুপাতিক হিসেবে দেখি তাহলে বোঝা যাবে, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২8 শেষ তিনটে নির্বাচনে ভোটার - প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যা (Electors to Adult Population Ratio) ১০০% এর বেশি ছিল।  সোজা ভাষায় ১০০ জন যদি প্রাপ্তবয়স্ক থাকে, ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন ১০১ বা ১০২ জন।  

    এটা মূলত হতে পারে - ১. মৃত বা স্থানান্তরিতদের বাদ না দেওয়ায়, অথবা ২. ভুয়ো ভোটার থাকায়। 

    নির্বাচন কমিশনের কুযুক্তির ভিত কিন্তু এই ১০০% এর বেশি অনুপাত। 

    সেটা কীভাবে হল সেটা রাজনীতির কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত আমরা সবাই অল্প বিস্তর জানি। 

    এবার আসা যাক লজিক্যাল ডিস্কিপেনসির কুযুক্তির ওপর।  ২০১১ থেকে যদি আমরা পশ্চিমবঙ্গের আসন ভিত্তিক ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির হার দেখি তাহলে দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলা এবং মধ্যবঙ্গের দুটি জেলার কিছু আসনে ভোটার বৃদ্ধির হার রাজ্যের বাকি অংশের থেকে বেশি। 

    যদি ২০১১কে বেসলাইন ধরে দেখি (এর কারণ ২০০৮ এর ডিলিমিটেশন), তাহলে গত ১৪ বছরে রাজ্যের গড় আসনভিত্তিক ভোটারের সংখ্যা ৩৬.৭% বেড়েছে। কিন্তু কয়েকটি আসনে  বেড়েছে ৫০-৭৭% । এখানে খসড়া তালিকাতে বাদ দেওয়ার সংখ্যা তুলনামূলক কম, আন ম্যাপিং ও অত্যন্ত কম।  আপাতদৃষ্টিতে যেটা নিয়ে উল্লসিত হওয়ার কারণ ছিল, সেটাই হয়ে গেল বিপদের কারণ। কুযুক্তি খাড়া করতে হলে লাইনের বাইরে যারা আছে তাদের ওপরই সবার আগে নজর পরে কিনা!

    এরপর সমস্যা আরো বাড়ল রাজ্যের অসহযোগীতায়।  মনে রাখতে হবে ১.৬৭ কোটি লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ছিলেন। ১ কোটি ৭ লক্ষ নাম শুনানির পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বাদ গেছিল ৬ লক্ষের  মতো। তাঁরাও পরে তালিকায় নাম তোলার আবেদন জানাতে পারবেন। 

    তারপর এলো জুডিশিয়াল রিভিউ। মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেন জয়  হয়ে তাঁর। যাঁরা বাকি ছিলেন তারা চলে গেলেন আন্ডার এডজুডিকেশনে। বাদ যাচ্ছে ৬০ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৪৫% মানুষের নাম।  এদের যেতে হলে ট্রাইব্যুনালে। 

    কার জয় হলো? মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচন কমিশন? মোদী - শাহ?

    আমি জানি কে হারল। প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের অধিকার। এবং ভারতীয় গণতন্ত্র।
  • বোদাগু | 49.205.***.*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০১747157
  • যুক্তিপূর্ণ লেখা, তবে আমার রেসপন্সটাও রেকর্ড করছিঃ

    অপর্ণা ভট্টাচার্য, যুক্তি দিয়ে তথ্য দিয়ে লিখেছেন। তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমার পর্যবেক্ষনগুলো হল:

    ১ - অন্য রাজ্যের রেশিও কি, আর সেটা লজিকাল ডিসক্রিপান্সি থাকা বা না থাকার কারণ কেন?
    ২ - অপর্ণার, সাবির আহমেদ এবং পূবালী রানা-র লেখাতেই আমরা দেখেছি exclusion এ মহিলা আর জাতিবর্গের কি skew আছে, এবং newslaundry বা যোগেন্দ্র যাদব-দের বিহার সংক্রান্ত লেখাতেও সেটা আছে, সেটার কারণ পপুলেশন রেশিও শুধু না। তাহলে সেটার যুক্তি কি সেটা পরিষ্কার না কারণ এ সংক্রান্ত মামলাগুলিতে কমিশন তার চার্টারের আড়ালে লুকোচ্ছে। কোর্টও তাকে লুকোতে দিচ্ছে, এর মানে তথ্যপ্রমাণ ঝুরি ঝুরি।
    ৩ - মৃত ভোটারের ডেটা যেমন অনেক বড় করে রাজ্য সরকার চ্যালেঞ্জ করতে পারতো এবং না করে অন্যায় করেছে, তেমনই যারা হিয়ারিং এ আসেন নি, অন্যত্র বসবাস করছেন, ডুপ্লিকেট কার্ড তাদের বড় করে ট্রেসেবিলিটি কমিশন আদৌ দেয় নি।
    ৪ - সবচেয়ে বড় অন্যায় হল, রাজ্য সরকার, অন্য রাজ্যের সরকার এবং কেন্দ্র সরকার এবং এজেন্সি এবং জুডিশিয়ারি সকলের কর্মীদের মধ্যে সামাজিক রক্ষনশীলতা কম এরকম আলাদা করা যায় কিনা জানি না। কোনো এভিডেন্স নেই। এবং কে কোথায় চাকরি করেন সেটা দিয়ে এসআইএর এর যুক্তিগ্রাহ্যতা বাড়ানো বা কমানোর চেষ্টাটাই, রাজ্য সরকার, কমিশন এবং কোর্ট এর সবচেয়ে বড় যৌথ বাঁদরামি।
    ৫ - আনন্দবাজার বলতে শুরু করবে কদিন বাদেই, 2002 এ 28 লক্ষ বাদ, এখনও ম্যাপিং বাদ দিয়ে আঠাশ লক্ষ বাদ অতএব রাজ্য সরকার দুটির ভূমিকা তুলনীয়। ঘটনা হল, রাজ্য কংগ্রেসের উদ্বাস্তু বিরোধী রাজনীতির যে ঐতিহ্য তার প্রকৃত উত্তরসূরী হিসেবে মমতা তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন, পরে মতুয়াদের চাম্পিয়ন হন। মাঝের বছরগুলিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি পশ্চিমবঙ্গবাসীর অস্বস্তিকর সমবেদনাকে বাঙালি মুসলমানের প্রতি জাতঘৃণায় পরিণত করা হয়েছে গোটা নয়ের দশক জুড়ে। কারণ সেটা আবার নয়ের দশকের পশ্চিম ফ্রন্টের বিদেশ নীতির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। এই কাজ করেছিল আবাপ এবং বর্তমান পত্রিকা। তারাই প্রথম ম্যাপ ছাপিয়ে বলতে থাকে কোন অনুপ্রবেশকারী এবং মুসলমানের ভোটে বামফ্রন্ট ভোটে জেতে, এবং শেষ পর্যন্ত সেটা পার্লামেন্টে কাগজ ছোঁড়াতে গিয়ে অতিনাটকীয় হয়। সুতরাং ভাষা জাতীয়তাবাদের ধ্বজাধারীদের পূর্বসূরীগণের ভূমিকা অতীব খারাপ। এবং দক্ষিনপন্থী কাগজ ও টেলিভিসন এর মূল উদ্দেশ্য হল গণবিস্মৃতি তৈরী করা।
  • বোদাগু | 49.205.***.*** | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৯747158
  • https://www.facebook.com/share/v/1D87V7kPXh/
     
    এই জালি সাংবাদিকের ফালতু কথা বলার অভ্যেসটা আর গেল না। বিচারপতিদের যে এত কম সময়ে কাজ করতে হচ্ছে সেটার দোষ কাদের, কমিশন এত দেরী করে এসআইআর শুরু করেছে কেন, ভোটার লিস্ট হবার আগে ভোট ঘোষণা করেছে কেন, কমিশন কত লোক ডিলিট হল তার সংখ্যা, কারণ কিছুই দিতে পারে না কেন। তদুপরি ঘন্টার পর ঘন্টা, 'ঘন্ট' কাজ যাতে তিরিশ লক্ষ মানুষ আজ নিজভূমে পরবাসী, এবং তার আগের আটান্ন লক্ষ নিয়ে কেউ ভাবছে না, এগুলি রসিকতা রচ্ছে? মুসলমান আর মহিলাদের, মতুয়াদের, underdocumented গরীব মানুষকে সরাসরি টার্গেট করা হচ্ছে, কাগজ জমা দিলে সময়ের অভাবে ইগনোর করা হচ্ছে, আর কেউ একটা রাস্তায় ঝামেলা করলে তাকে না ধরে, ব্যবস্থার জন্য গলা কাঁপানো হচ্ছে?  ন্যাকাষষ্ঠি সাংবাদিক। আর একেক সময় এক একটি শাসনযন্ত্রের কলাকুশলীরা অন্য আরেকটিকে দোষ দেন,  সরকারি চ্যাংড়ামির অন্ত নেই। নজরুল ইসলামের উত্তরের প্রথম বাক্যটি যথেষ্ট।
  • বোদাগু | 49.205.***.*** | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪০747160
  • সামিরুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ লেখাঃ 
     
    লেখাটি একটু দীর্ঘ। একটু সময় করে সকলকে পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইলো.........

    কিসের Logical Discrepancy? কিসের যাচাই পর্ব? যাদের নাম ডিলিট করা হচ্ছে তারা কারা? খোঁজ নিয়ে দেখুন, তারা জাত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গরীব মানুষ। গরীব মুসলমান, রাজবংশী, মতুয়া, আদিবাসী থেকে শুরু করে যারাই পিছিয়ে পড়া মানুষ তাদের একমাত্র অধিকার কেড়ে নেওয়ার খেলা। এটা নাগরিক অধিকার হরণের চক্রান্ত। হ্যাঁ বলতে পারেন এই তালিকায় নাম রয়েছে সবচেয়ে বেশি মহিলা আর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের। কেন? সেই প্রশ্নের পিছনেও রয়েছে বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আজ মালদার ঘটনা নিয়ে বড় বড় কথা বলা হচ্ছে। এজেন্সি লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একবার ওই বিক্ষোভরত মানুষগুলোর সাথে কথা বলেছেন কেউ? দেখুন তো তারা কি বিদেশি? রোহিঙ্গা? একেবারেই না। হলফ করে বলতে পারি দিল্লির জমিদারদের চেয়ে তারা অনেক আদি বাসিন্দা, অনেক বেশি ভারতীয়। 

    বাংলার সাধারণ মানুষের নাম কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার দিন আজ এসে গেছে। কোনো হিংসা নয়, গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের লড়তে হবে। 

    আজ বাংলার মাটি থেকে এক ভয়ংকর শব্দ বারবার ভেসে আসছে— “Logical Discrepancy”।

    কাগজে-কলমে এই শব্দটা দেখতে খুব ভদ্র, খুব প্রশাসনিক, খুব প্রযুক্তিগত। কিন্তু বাস্তবে এর মানে কী?
    এর মানে—
    একজন গরিব মানুষের নাম মুছে দেওয়া। একজন বৃদ্ধ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া।
    একজন মেয়ের বিয়ের পর পদবী বদলানোকে অপরাধ বানানো। একটি পরিবারের ইতিহাস, পরিচয়, সম্মান, নাগরিকত্ব—সব কিছুকে সন্দেহের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া।

    এই “Logical Discrepancy”-র ভেতরে সবচেয়ে বেশি আছে Illogicality। অর্থাৎ, যা যুক্তির নামে করা হচ্ছে, তার ভেতরেই যুক্তির চরম অভাব।

     *ঘটনা – ১* 

    দুলারী থেকে দুলী, তারপর ডিলিট
    বাবা-মা খুব ভালোবেসে মেয়ের নাম রেখেছিলেন দুলারী মুর্মু (নাম পরিবর্তিত)। বাবার নাম ফুলু মুর্মু।
    ছোটবেলা থেকে বাড়িতে সবাই তাকে ডাকত দুলী বলে। সেই সময় গ্রামে ভোটার তালিকার কাজ চলছিল। ভোট-বাবুরা এলেন নাম তুলতে।

    প্রশ্ন করলেন— “আরে, ওই ফুলুর বেটির নাম কী বটে?”। লাজুক, উঠতি বয়সের এক কিশোরী মাথা নিচু করে বলেছিল— “দুলী বটে…”
    ভোট-কাকু খাতায় লিখে নিলেন— “দুলী মুর্মু”
    সেদিন হয়তো কেউ ভাবেনি, এই সামান্য কথার ব্যবধান একদিন তার নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অস্ত্র হয়ে উঠবে।
    সময়ের সঙ্গে দুলারীর বিয়ে হল। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে “দুলী” নামটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
    সরকারি কাগজপত্রে, আধার কার্ডে, ব্যাংকে, হাসপাতালে— তার নাম হয়ে গেল দুলারী মুর্মু।
    আজ হঠাৎ করে প্রশাসন বলছে— তার নাম “মেলে না”।
    তার নাম “Logical Discrepancy”।
    তার নাম ডিলিট।
    একটা প্রশ্ন— দোষটা কার? দুলারীর?
    নাকি সেই ব্যবস্থার, যেখানে গ্রামের উচ্চারণ, ডাকনাম, অশিক্ষা, সামাজিক বাস্তবতা—কিছুই বোঝার চেষ্টা করা হয় না?
    এটাই কি যুক্তি?

    “Logical Discrepancy”
    ঘটনা – ২

    আমিনা খাতুন (নাম পরিবর্তিত)। বিয়ের আগে তার নাম ছিল এটাই।
    স্কুলে, পাড়ায়, ভোটার তালিকায়, হয়তো কোথাও “খাতুন”, কোথাও “খাতুনা”, কোথাও “আমিনা”।
    বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সে হয়ে গেল আমিনা বিবি। এটাই বাংলার বাস্তবতা। এটাই গ্রামের বাস্তবতা। এটাই বহু পরিবারের স্বাভাবিক সামাজিক রীতি। একজন মেয়ের নাম, পদবী, পরিচয়ের ভাষা—বিয়ের পর বদলায়।
    “তোমার জীবনের বাস্তবতা আমাদের ডেটাবেসের সঙ্গে মেলেনি। তাই তোমার অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে।”
    তার নাম ডিলিট।
    নেপথ্যে আবার সেই একই শব্দ—
    Logical Discrepancy।
    প্রশ্ন হচ্ছে—
    বাংলার হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ নারীর জীবনে বিয়ের পর নাম বা পদবীর পরিবর্তন হয়েছে।
    তাহলে কি তাদের সবাইকে সন্দেহভাজন করা হবে?
    তাহলে কি নারী হওয়ার সামাজিক বাস্তবতাকেই অপরাধ বানানো হবে?
    ঘটনা – ৩
    রবিচাঁদ ঠাকুর (নাম পরিবর্তিত) বহু বছর আগে এদেশে এসেছিলেন।
    পরিবার গড়েছেন। এখানেই বসতি, এখানেই জীবন, এখানেই সন্তান-সন্ততি। নাম ছিল। নথি ছিল। পরিচয় ছিল। রাষ্ট্রের কাছে তিনি ছিলেন একজন স্বীকৃত মানুষ। আজ হঠাৎ করে তাঁর নামও বাদ।
    কেন?
    উত্তর—
    Logical Discrepancy।
    এ যেন এক জাদুকরী শব্দ।
    যার আড়ালে সব অন্যায় ঢেকে দেওয়া যায়।
    যার আড়ালে প্রশ্ন বন্ধ করা যায়।
    যার আড়ালে মানুষের জীবনকে কেবল “ডেটা mismatch” বলে খারিজ করে দেওয়া যায়।
    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: এই “Logical Discrepancy” আসলে কতটা Logical?
    এই প্রশ্নটাই আজ কেউ তুলছে না। আমরা জিজ্ঞেস করতে চাই—
    • যার বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে, তার ছেলে বা মেয়ের নাম আজ ডিলিটেড— সে ট্রাইব্যুনালে যাবে কেন? কেন তাকে এই হয়রানির শিকার হতে হবে।  মনে আছে এই নির্বাচন কমিশন বলেছিল যে ২০০২ সালের নিজের অথবা বাবা মায়ের নাম থাকলে চিন্তা নেই! 
    • যে মানুষটির নিজের নাম ২০০২ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় আছে, আজ তাঁর নাম ডিলিট হলো কী করে? তিনি ট্রাইব্যুনালে যাবেন কেন?

    • যে মানুষটির পাসপোর্ট আছে, বহু বছর ধরে সরকারি স্বীকৃত পরিচয় আছে, তাঁর নাম হঠাৎ ডিলিট হলো কী করে? তিনি ট্রাইব্যুনালে যাবেন কেন?
    • যে মানুষটি মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের সার্টিফিকেট দিয়েছে, স্কুল-কলেজের নথি দিয়েছে, তার নাম ডিলিট হলো কেন? 

    • যাকে শুনানির নোটিসই দেওয়া হয়নি, তাকে হিয়ারিং-এ ডাকা হয়নি, তার নাম ডিলিট হলো কী করে? 

    • যার বাবা-মায়ের নাম accepted, কিন্তু ছেলে-মেয়ের নাম “ডিলিট”— এটা কীভাবে সম্ভব?

    • এক পরিবারের ৬ ভাইবোনের মধ্যে ২ জনের নাম উঠেছে, ৪ জনের নাম ওঠেনি, উল্টে ডিলিট— এ কেমন প্রক্রিয়া? এ কেমন যুক্তি?

    • বিয়ের পর হাজার হাজার মেয়ের পদবী বদলেছে— তাই কি তাদের গণহারে নাম কেটে দেওয়া হবে?
    • ৮০-৯০ বছরের এক বৃদ্ধ মানুষ, যিনি গত ৪০-৫০ বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছেন, যিনি হয়তো লেখাপড়া জানেন না, নামের বানানে সামান্য এদিক-ওদিক হয়েছে বলে আজ তাঁর নাম ডিলিট? তিনি ট্রাইব্যুনালে যাবেন কেন?
    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে?
    কোর্ট, কমিশন, মিডিয়া?
    এমন হাজার হাজার প্রশ্ন আছে।
    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে?
    • কোন কোর্ট?
    • কোন কমিশন আধিকারিক?
    • কোন নির্বাচন কর্তৃপক্ষ?
    • কোন সংবাদমাধ্যম?
    • কোন রাজনৈতিক নেতা?

    আমরা কি দেখেছি এই প্রশ্নগুলো সুপ্রিম কোর্টে জোরের সঙ্গে তোলা হচ্ছে?

    আমরা কি দেখেছি টেলিভিশন স্টুডিওতে এই ভুক্তভোগীদের ডেকে বসানো হচ্ছে?
    আমরা কি দেখেছি জাতীয় মিডিয়া এই ৬০ লক্ষ মানুষের কান্না নিয়ে রাতভর চিৎকার করছে?

     *"না।"* 

    যে মিডিয়া তুচ্ছ ঘটনা নিয়েও স্টুডিওতে “ডিবেট” বসায়, যারা একটি ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীর চৌদ্দ গুষ্ঠিকে টেনে আনে, তারা এই ৬০ লক্ষ মানুষের মধ্যে একজনকেও সামনে আনছে না। কেন?

    কারণ এদের কান্না “টিআরপির জন্য সুবিধাজনক” নয়।

    এদের হাহাকার “স্টুডিও-ফ্রেন্ডলি” নয়।

    এদের জীবন ক্ষমতার রাজনীতির কাছে নগণ্য। 

    "ট্রাইব্যুনাল যাবে কেন সাধারণ মানুষ?"

    সবচেয়ে নির্মম প্রশ্ন এটা।

    আজ একজন খেটে খাওয়া মানুষ, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ, যার সারা দিন রোজগার না হলে বাড়িতে হাঁড়ি চড়ে না, তাকে বলা হচ্ছে—
    “তোমার নাম ডিলিট হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যাও।”

    হ্যাঁ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বলেছেন দলীয় কর্মীরা সাহায্য করবে যেতে। গরীব মানুষকে টাকা খরচ করতে হবে না। 
    কিন্তু—
    এই ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য মানুষের যে দিনের পর দিন রোজগার বন্ধ হবে, সেই বিষয়টা কমিশন বা কোর্ট ভাববে না?

    • সুন্দরবন, উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, মুর্শিদাবাদ, মালদা, কোচবিহার, দার্জিলিং— সেখানকার গরিব মানুষ কলকাতায় এসে পড়ে থাকবেন?

    • অসুস্থ বৃদ্ধা মা, নিরক্ষর কৃষক, গৃহবধূ, আদিবাসী শ্রমিক, সংখ্যালঘু পরিবার— এরা কি কোর্ট-কাচারির ভাষা বোঝেন?

    তাহলে এই “প্রক্রিয়া” আসলে কী?

    এটা ন্যায়বিচারের পথ?

    নাকি হয়রানির ফাঁদ?

    এটা নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়—এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত।

    এই বিপুল মাত্রার নাম বাদ, এই অদ্ভুত “Logical Discrepancy”,
    এই বাছাই করা নীরবতা— এসব কিছুই নিছক কাগজের ভুল নয়।
    এটা একটি গভীর রাজনৈতিক প্রকল্প।
    আজ আরএসএস-এর ১০০ বছর পূর্তি।
    তাদের বহুদিনের স্বপ্ন— বাংলাকে ভাঙো, বাংলাকে বিভক্ত করো, বাংলার সামাজিক সংহতিকে ধ্বংস করো।
    আজ অবস্থা এমন তৈরি করেছে যে এজেন্সির অত্যাচার তো আছেই, সংসদে মুখে তালা দেওয়ার চেষ্টা করতেও কসুর করে না বিজেপি। 

    কিন্তু তারা ভুলে গেছে—
    বাংলা উত্তর প্রদেশ নয়। বাংলা বিহার নয়।
    বাংলার সমাজকে সহজে ঘৃণা, ছোঁয়াছুঁয়ি, জাতপাত, ধর্মবিদ্বেষের পরীক্ষাগার বানানো যায় না।
    বাংলার মাটি একদিকে মায়াময়, অন্যদিকে পাহাড়ের মতো শক্ত।
    এই বাংলায় যেমন লালন আছেন, তেমনই আছেন ক্ষুদিরাম, সুভাষ, মাস্টারদা, মাতঙ্গিনী, নজরুল।
    এই বাংলার মানুষ জানে— একবার সাম্প্রদায়িক আগুনে হৃদয় পুড়লে তার দাগ প্রজন্মের পর প্রজন্ম থাকে। তাই বাংলার মানুষ হিন্দু-মুসলমানের নামে, জাতের নামে, খাওয়াদাওয়ার নামে, ভাষার নামে— সহজে ভাঙে না।
    সেই কারণেই বাংলা ঘৃণার রাজনীতির জন্য উর্বর জমি নয়।
    তাই শুরু হয়েছে নতুন চক্রান্ত
    বাংলার মানুষকে সরাসরি হারানো যাচ্ছে না। তাই শুরু হয়েছে ডেটার নামে আক্রমণ।
    প্রশাসনের নামে বাছাই করা হয়রানি। ভোটার তালিকার নামে নাগরিক বাছাই।
    প্রথম ধাপে বসানো হলো অমেরুদণ্ডী প্রতিষ্ঠান। তারপর একের পর এক “প্রযুক্তিগত” শব্দ ছুড়ে দেওয়া হলো— Discrepancy, Mismatch, Verification, Objection, Deletion।
    শুনতে খুব আধুনিক। আসলে এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অধিকার হরণ।

    মহিলা, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, গরিব, রাজবংশী , মতুয়া— সবার বিরুদ্ধে এই আঘাত
    সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে তাদের উপর—
    • যারা গরিব
    • যারা নিরক্ষর
    • যারা গ্রামবাংলার মানুষ
    • যারা আদিবাসী
    • যারা সংখ্যালঘু
    • যারা কাগজপত্রের ভাষা বোঝেন না
    • যারা প্রশাসনিক দালালচক্রের সামনে অসহায়
    কারণ এদের বিরুদ্ধে যা-খুশি করা সহজ বলে মনে করা হয়।
    ভাবা হয়—
    • মিডিয়া চুপ থাকবে
    • পুলিশ চুপ করাবে
    • আদালতে প্রশ্ন কম উঠবে
    • সমাজের একাংশ তালি দেবে
    • আর রাজনৈতিক লাভের অঙ্ক মেলানো যাবে
    এই কারণেই আজ Logical Discrepancy শুধু একটি প্রশাসনিক শব্দ নয়।
    এটা হয়ে উঠেছে বাছাই করা নিপীড়নের নতুন নাম।

    তবুও আমাদের হেরে গেলে  চলবে না । আমাদের এই লড়াই জিততে হবে। হিংসা নয়, বদলে সিস্টেমের মাধ্যমেই করতে হবে সমস্যার সমাধান। যাদের নাম ডিলিট হয়েছে, তাদের সবাইকে অনুরোধ করব, আসুন আমরা ট্রাইব্যুনালে যায়। ওখানে গিয়ে জানাতেই হবে যে তোমরা ঠিক কাজ করছ না। আমি , আপনি সবাই ভারতীয়। আমাদের দেশ। কয়েকজন হিংস্র বাংলা বিরোধীদের বাপের দেশ নয়।

    সামিরুল ইসলাম
     
  • বোদাগু | 49.205.***.*** | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৪747161
  • সামিরুল তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য ছিলেন কিছুদিন আগে পর্যন্ত। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন