এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  ইস্পেশাল

  • ইঁদুর অথবা

    রঞ্জন রায়
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ বার পঠিত
  • পথ নাটিকা

    অলংকরণ: রমিত



    ১মঃ নমস্কার! আরে, এত্ত দর্শক, উরিত্তারা! এ যে শালা জ্যাকপট!

    মাপ করবেন। সেই কোভিডের সময় থেকে অনেকদিন কেউ আমাদের নাটক দেখতে আসে না তো, তাই আপনাদের, মানে এত সব জ্ঞানীগুণী, মানে বিদ্বজ্জন, মানে কি যেন বলে— সাহিবান, মেহেরবান, কদরদান! ধ্যাৎ ! সুশীল সমাজ!

    হ্যাঁ, সুশীল সমাজের লোকজন যেচে আমাদের নাটক দেখতে এসেছেন এতে আমরা কৃতজ্ঞ, অভিভূত, আমোদিত, আহ্লাদিত এবং আনন্দিত, এই আর কি!
    নাটক কা নাম ? হ্যাঁ, হ্যাঁ, বলছি বলছি। আমাদের আজকের নাটক ইঁদুর।

    - ইঁদুর?

    ১মঃ হ্যাঁ, ইঁদুর। মানে মুষিক, চুহা, মুসুয়া।

    রাগ করবেন না। কাল সন্ধ্যেতে পোস্টার সাঁটিয়েছিলাম ‘রোমিও জুলিয়েট’। আমার দল ভাল করে রিহার্সাল দিয়েছে। কিন্তু আজ ভোরবেলা স্বপ্নে দেখলাম আমি ইঁদুর হয়ে গেছি। আর কে না জানে ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়।

    - অ! তোমার মনে হল তুমি ইঁদুর আর অমনি স্ক্রিপ্ট বদলে দিলে?

    - বেশ করেছ, কিন্তু পেছনে হাত দিয়ে দেখলে?

    - ১মঃ কী দেখব?

    - দেখবে তোমার লেজ বেরিয়েছে কিনা। আরে ইঁদুর হয়ে গেলে লেজ গজাবে না?

    ১মঃ শালা! আমার নাটক যখন শেষ হবে দেখবি সবার পেছনে লেজ বেরিয়েছে; তোর, আমার, তোর গার্লফ্রেন্ড। সব্বার।

    - এঃ বিষ নেই, তায় কুলোপানা চক্কর!

    কোথায় রোমিও জুলিয়েট! লাভ জিহাদ, তলোয়ারবাজি, রাস্তায় ক্যাচাল, বিষ খাওয়া-- তার বদলে এখন হবে ইঁদুরের কিচকিচ আর দৌড়োদৌড়ি। এ তো শালা মহাঢপ! আমি বাড়ি যাব, তার আগে টিকিটের পয়সা ফেরত চাই।

    ১মঃ কিন্তু এ নাটকে তো টিকিট নেই। আমাদের নাটক কেউ টিকিট কেটে দেখে না। তবে নাটকের শেষে আমরা দর্শকদের সামনে গামছা বিছিয়ে দিই। ভাল লাগলে যার যেমন মনে হয় দেবেন, নইলে দেবেন না।

    - ফালতু রেলা নেবে না। টিকিট নাও নি তো কী হয়েছে? আমাদের সময়ের দাম নেই? আমরা মানুষের নাটক দেখতে এসেছি, ইঁদুর-বেড়ালের গপ্পো নয়। চলুন তো সবাই। চলুন বাড়ি গিয়ে সিরিয়াল দেখি। ‘চাঁদ-সদাগর’ আর ‘সিঁদুর নিও না মুছে’ ; দুটোই ঝক্কাস!

    ১মঃ এক মিনিট! আপনি মানুষের নাটক দেখতে চান? নিজেদের কথা শুনতে চান?

    - (ভেঙিয়ে) তা কেন, ইঁদুর-বেড়ালের প্রেম মান অভিমান এই সব দেখব; তাই তো?

    ১মঃ ভুল বুঝছেন; আপনারা এই নাটকটাই দেখবেন, কারণ আপনি আমি সবাই ইঁদুর।

    - দেখ হে ছোকরা, বাড়াবাড়ি কর না। তুমি ইঁদুর হতে পার, আমি না। আমি একজন সরকারি কর্মচারি। রীতিমত পরীক্ষা দিয়ে ঢুকেছি; এখন প্রমোশন পেয়ে অফিসার। তোমার মত বাপের অন্ন ধ্বংস করা বখাটে বেকার নই।

    ১মঃ-সত্যি কথাটা স্বীকার করতে লজ্জা পাচ্ছেন কেন? বলছি আপনিও একজন ইঁদুর। আপনার সময়ে পরীক্ষা ক্যানসেল হত না? রেজাল্টে গণ্ডগোল? পার্টিকে তেল না দিয়ে এমনি এমনিই চাকরি পেয়েছিলেন?

    - আচ্ছা-আ-আ!

    বেশ, প্রমাণ কর; নইলে আমি কোর্টে যাব। মানহানির মামলা করব। সরকারি আধিকারিককে সর্বসমক্ষে ইঁদুর বলিয়া গালি দিয়া অপমান করা। এই এত্তজন সাক্ষী। কী হল? সব ফুস হয়ে গেল। চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা?

    - ১মঃ নেব। বুকে হাত দিয়ে বলুন তো আপনি অফিসে ইঁদুর দৌড়ে সামিল হন নি? বসের কাছে কলিগদের নামে চুকলি করেন নি? বসের জন্মদিনে গিফট পাঠান নি? ওঁর মেয়েকে শহরের নামি স্কুলে ভর্তি করতে জ্যাক লাগান নি? ওঁর স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাবার সময় প্লেনের টিকিট কেটে দেন নি?

    সন্নাটা! সন্নাটা।

    ১মঃ আমি জানি এবার আপনারা সবাই আমাদের নাটক দেখবেন। খোলা মনে দেখুন। কোন চাপ নেবেন না।

    ২য়ঃ হেব্বি দিয়েছ গুরু, ব্যাপক। ডারউইন সাহেবের এইসি কী ত্যায়সি করে দিলে। বাঁদর থেকে মানুষ; আবার মানুষ থেকে ইঁদুর।

    ৩য়ঃ ( ফিসফিস করে) কিন্তু স্ক্রিপ্ট কই? রিহার্সাল হয় নি, এবার ঝোলালে পাবলিক উদোম ক্যালাবে।

    ১মঃ (ফিসফিস করে) চাপ নিস না। আমরা আমাদের নিজেদের কথা বলব। (পাবলিককে) এক মিনিট।
    [ওরা তিনজন দর্শকদের দিকে পিছন ফিরে খেলার মাঠে ম্যাচে নামার আগের মত গোল হয়ে জড়াজড়ি করে ফিসফিস করে; কুড়ি সেকেন্ড। তারপর দর্শকদের দিকে ফিরে বলেঃ]

    ১মঃ ধন্যবাদ! এবার আমাদের নাটক শুরু হচ্ছে—“ইঁদুর” অথবা মুষিক বা মুসুয়া। যার যে নাম পছন্দ। মহাকবি বলে গেছেন—নামে কী বা আসে যায়!
    প্রথমে কোরাসের গান। (৩য়কে) নে; শুরু কর।

    ৩য়ঃ রাষ্ট্রগীত ইয়া রাষ্ট্রগান?

    ১মঃ আরে ওসব নাটকের শেষে। এখন নাটকের প্রস্তাবনা- পর রাষ্ট্রভাষা মেঁ; অব খুশ? লে, চালু হো জা।

    ৩য় সামনে এসে হাত জোড় করে শুরু করে। ও প্রথম লাইন গায়; বাকি দুজন দ্বিতীয় লাইন। এইভাবে চলতে থাকে।

    কোরাসঃ
    “ কহত কবীরা সুনো ভাই সাধো, ঘোর কলযুগ আয়া হ্যায়।
    জব নাটক দেখনা ছোড়কে লোগোঁ ঘর মেঁ টিভি লায়া হ্যায়। ।
    চালিয়ে টিভি হমার বিবি, রান্না করতে ভোলে,
    বাচ্চা দুটো গাইছে দেখ –ওলে, ওলে, ওলে!
    বাচ্চাদের আর দোষ কী বলুন, আমিই তো মদহোশ,
    নেটফ্লিক্সে ফিলিম দেখে জাগে আমার জোশ।
    কহত কবীরা--------।।
    ইসীলিয়ে তো আপকে সামনে খেল রহে ইয়ে নাটক।
    খুলেঁ বন্ধ অকল কে তালে, খুলে দিমাগ কা ফাটক।
    ইস নাটক মেঁ আপ কে লিয়ে হ্যায় ভরপুর মনোরঞ্জন,
    নয়ে দামাদ কো জ্যায়সে শাসু পরসে রোচক ব্যঞ্জন।
    কহত কবীরা---।।
    নাটক দেখে খারাপ লাগলে দেবেন কষে গালি,
    শালী আখির হোতী হী হ্যায়—আধী ঘরওয়ালি।
    অব ইস নাটক কো দেখ হী লৌগে তো ক্যা বিগড়েগী আপকা?
    চিত ভী মেরী, পট ভী মেরী, আন্টা* মেরা বাপ কা!!
    [ তিনজনে স্টেজের উপর ঘুরে ঘুরে ওই একটি লাইন বারবার বলতে থাকেঃ চিত ভী মেরী, পট ভী মেরী, আন্টা মেরা বাপ কা!! বলতে বলতে হটাৎ ঘুরে গিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে—সাবধান!]

    ১মঃ আরে এই হলে একগাদা ইঁদুর দৌড়ে চলে গেল, ওই যে লুকিয়ে পড়ল।

    ২য়ঃ খুব সাবধান। ওই ইঁদুর থেকে প্লেগ ছড়াচ্ছে—টাইটানিক না বিউবোনিক? না আরও কি কি!

    [* টস করলে কয়েন যদি হেড বা টেল না হয়ে খাড়া দাঁড়িয়ে পড়ে তাকে হিন্দিতে বলে আন্টা।]

    ১মঃ প্রথমে গুজরাত, তারপরে মহারাষ্ট্র – লাতুরের ঘটনা ভুলে গেলেন! একবার যদি প্লেগ হয় তাহলে--

    ২য়ঃ বগলের লসিকা গ্রন্থি ফুলিয়া উঠিবে, প্রচণ্ড মাথার যন্ত্রণা, গা বমি বমি ও জ্বর। ক্রমশঃ গাত্রতাপ বাড়িবে, জলপিপাসা বৃদ্ধি পাইবে, রোগী প্রলাপ বকিবে। তারপর ক্রমশঃ মৃত্যুর কোলে ঢলিয়া পড়িবে। ইহার লাক্ষণিক চিকিৎসা হয়, দেহের উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ দরকার।

    ১মঃ কিন্তু ইঁদুর থেকে রোগ ছড়াচ্ছে, মরা ইঁদুর দেখলেই মিউনিসিপ্যালিটিতে খবর দেবেন।

    ৩য়ঃ ফালতু আতংক মত ফ্যায়লাইয়ে ভাইজি। হমারি নগরপালিকা বহোত সক্রিয় হ্যায়। স্বচ্ছ ভারত যোজনা কে তহত শহর মেঁ সাফ সাফাই অতি উত্তম। কোই প্লেগ-বেগ কা চক্কর নহীঁ হ্যায়।

    ২য়ঃ গতকাল হইতে শহরের অলিগলিতে মরা ইঁদুর দেখা যাইতেছে। কে বা কাহারা ঘরের ভিতর ইঁদুর মারিয়া রাস্তায় ফেলিতেছে। ইহা বিপদজনক।

    ১মঃ কী মুশকিল! আমি তো এই হলের মধ্যেই ইঁদুরের চলাফেরা ফিসফাস দাঁত কিচকিচ দেখতে পাচ্ছি। এরা কি দলে দলে রাস্তাঘাট আস্তাকুঁড় থেকে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে? লক্ষণ ভাল মনে হচ্ছে না।

    ২য়ঃ আরে ওই যে! (একজন মহিলাকে) সরে দাঁড়ান তো, শিগগির সরে যান। এই এত্ত বড় মেঠো ইঁদুর! আপনার দু’পায়ের নীচে লুকিয়েছে!
    [ব্যাপক হট্টগোল আর চেঁচামেচির মাঝখানে ৩য় স্টেজের উপর ধপ করে পড়ে যায়। ]

    আরে কী হল?

    ১মঃ (দৌড়ে গিয়ে ওর মাথা কোলে তুলে নিয়ে মাটিতে বসে পড়ে।) এ কী ! জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। এমন করছিস কেন?

    ৩য়ঃ ভাইয়া, বহোত সর দুখ রহা হ্যায় অউর গলা সুখ রহা হ্যায়। পানি! থোড়া পানি!

    ১মঃ (দ্বিতীয়কে) যা না! শীগগির, যেখান থেকে হোক, নিয়ে আয়, খাবার জল। (৩য়কে) ভয় পাস না। (নিজের মনে) উফ্‌ গা তো বেশ গরম! বাড়ি ফিরে থার্মোমিটার দিয়ে দেখতে হবে।

    ৩য়ঃ ভাইয়া, মুঝে ডর লগ রহা হ্যায়। হম গাঁও লৌট জায়েঙ্গে। মম্মীজি কে হাথ কে কাড়া পিয়েঙ্গে। হমে ঘর লে চলো।(কাশতে থাকে, মুখ থেকে রক্তের ছিটে বেরোয়)।

    ২য়ঃ আরে, এ তো রক্ত ! বমিতে রক্তের দলা। তার মানে – তাহলে তো—তার মানে--। (হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে) তাড়াতাড়ি ! তাড়াতাড়ি কর! হাসপাতাল নিয়ে চল। অ্যাম্বুলেন্স ডাকো।

    ১মঃ (হাঁটু গেড়ে ওর পাশে বসে) ভয় পাস না ভাই, তোর কিচ্ছু হবে না। আমি আছি।

    ২য়ঃ (১মকে) আমরা একই পাড়ার। ওকে সঙ্গে করে এনেছি। হথবন্দ আইটি আই থেকে মেশিনিস্ট পাশ করেছে। একটা ইন্টারভিউ কল পেয়েছে, পরশু। ওর মাকে বলে এসেছিলাম। আমার সঙ্গে ফিরবে। এখন এই অবস্থায় তো— হঠাৎ করে এত জ্বর, মাথাব্যথা।

    ৩য় আচমকা পেট চেপে ওয়াক তুলে বমি করতে থাকে। ২য়া লাফিয়ে উঠে রওনা দেয়।

    ২য়ঃ যাচ্ছি, যাচ্ছি। এক্ষুণি জল নিয়ে আসছি। (বেরিয়ে যায়)।

    [১মএর কোলে ৩য়; ১ম একবার দর্শকদের দিকে তাকায়, একবার উইংসের দিকে। ওর চেহারায় আতংক।]

    ১ম( স্বগতঃ) জল আনতে কতক্ষণ লাগে? শালা সেই যে গ্যাছে তো গ্যাছেই। একঘন্টা হয়ে গেল কোন পাত্তা নেই।

    ৩য়( বিড়বিড় করে) পানি! থোড়ি সী পানি!

    ১মঃ আসছে, তোর গাঁওবালে ভাইয়া জল নিয়ে আসছে। একটু ধৈর্য্য ধর বাপ! শালা কি কেটে পড়ল নাকি? ভয় পেয়েছে? কিসের ভয়? হুঁঃ যত্তোসব।

    ৩য় ( বিড়বিড় করে) পানি! খুব পানি। বহোত পানি।

    ১মঃ কী? কী বলছিস? না, না; ভয় পাওয়ার মত কিছু হয় নি। দেখ, তোর ভাইয়া পানি নিয়ে এল বলে। ডাক্তারও আসবে। দুই খুরাক দাওয়াই, ব্যস্‌; কাল নাগাদ গাঁয়ে ফিরে যাবি। দেখে নিস।

    ৩য়ঃ নহীঁ নহীঁ। মুঝে গাঁও নহীঁ লৌটনা হ্যায়। ওখানে কিচ্ছু নেই। পানি! পানি! এক ঘুঁট পানি। এক চুমুক জল দাও, দোহাই তোমাদের।

    ১মঃ এ তো বড় জ্বালা! বলছি তো, তোর ভাইয়া জল নিয়ে আসছে। থোড়া ধীরজ রাখো ভাই।

    ৩য়ঃ (প্রলাপ) চুহে, চুহে। চুহে অউর চুহিয়া। পর বিল্লি কৌন? চুহা হোগা, তো বিল্লি ভি হোগী। চুহা-বিল্লি খেল শুরু হোগা। খেলা হবে। সবাই দেখবে ইঁদুর বেড়াল খেলা।
    আও আও! চুহে আও, চুহিয়া আও। আও মেরে বিরাদরিকে। আও, গম ভুলাতে আও; অব খুশি মনাতে আও। সব নাচতে গাতে আও, ব্যান্ড-বাজা কে সাথ আও।
    আও খাল বিল অউর নালে সে, আও বন্দ গোদাম কে তালে সে। আও রসোই ঘর কে কোনে সে, আও খেত-খমার-কারখানে সে।
    এস, এস আমার নিজের লোকজন, আমার জাতের। কোন ভয় নেই। আর লুকিয়ে থাকতে হবে না। দিন বদলেছে। সবাই গর্ত থেকে পিলপিল করে বেরিয়ে এস। জরা নাচকে দিখাও! সোহাগ চাঁদবদনী ধনী, নাচত দেখি!

    ১মঃ কহাঁ মর গয়া ইসকা গাঁওবালে ভাইয়া? জল নিয়ে কখন ফিরবে? আর টেট্রাসাইক্লিন কোথায়? প্লেগের ম্যাজিক দাওয়াই? এবার আমার ভয় করছে।

    ৩য়ঃ পানি ! পানি! বহোত পানি! বাঢ় কী পানি। পানি ঘুস রহে বিলোঁ মেঁ। বন্যার জল! সব গর্তে ঢুকছে। ডুবে যাচ্ছে! ডুবে যাচ্ছে! মাঠঘাট খেতখামার ঘরবাড়ি সব। বরবাদ হো জায়েঙ্গে হমারে বিরাদরি। বেচারে চুহে! কহাঁ জায়েঙ্গে। মরেঙ্গে, সব মরেঙ্গে!
    (ছটফটাতে থাকে) ভাইয়া, ভাইয়া! বচা লো। বেচারে চুহে অউর চুহিয়া কো বচা লো! ভাইয়া ! বচা লো মুঝে, ভাইয়া—য়া-য়া! (খিঁচুনির সাথে শক্ত হয়ে যায়)।

    [ ১ম বিস্ফারিত চোখে ওকে দেখতে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে ভূতগ্রস্তের মত উঠে দাঁড়ায়। তারপর কোমরের উত্তরীয়টি খুলে মৃতদেহটি ঢেকে দেয়। ]

    ১ম (বিড়বিড় করে) জ্বর, মাথাব্যথা, বমি আর চলে যাওয়া। বিউবনিক না নিউমোনিক প্লেগ, কী যেন? এই শহরে প্লেগের প্রথম শিকার। এরপর আমার নম্বর। আমি চলে যাচ্ছি। হ্যাঁ, এখান থেকে যাচ্ছি। আমাকে গাল দেবেন? তা’ দিন। হ্যাঁ, আমি একে এখানে এইভাবে রেখে চলে যাচ্ছি। আমি বাঁচতে চাই।
    খারাপ লাগছে? জানি আপনাদের খুব খারাপ লাগছে। আমার নাটকের দলের মৃতসাথীকে ছেড়ে দিয়ে পালাচ্ছি। আমাকে খুব নীচ স্বার্থপর ভাবছেন, তাই তো?
    আমারই কি ভাল লাগছে ? কিন্তু কী করি বলুন তো? আর কী করতে পারতাম! ওর পাড়াতুতো দাদা ঢপ দিয়ে পালিয়ে গেল। আর আমি? ওর সঙ্গে মাত্র রিহার্সালের সময় আলাপ হয়েছে।
    (চলে যেতে যেতে ফিরে এসে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বলে) অমন করে তাকিয়ে আছেন কেন? আরে, এটা একটা লাশ, প্লেগের মড়া। কোন মানুষ নয়। কেন? প্লেগের মড়া মাটিতে শুইয়ে চলে যাওয়া কি কোন অপরাধ? তাহলে আমার দিকে আঙুল তুলছেন কেন? এর শেষ কাজ? শ্মশান ক্রিয়া? কে করবে? আমি? কেন করব? ও আমার দলে নাটক করত, কিন্তু অন্য জাতের। নীচু জাতের মড়া ছুঁয়ে নিজের পাপের ঘড়া আরও --।
    ও! বাজে কথা বলছি? কী বলছেন ? আমার উচিত ছিল প্লেগের মড়া কোলে নিয়ে অপেক্ষা করা যতক্ষণ কেউ না কেউ আসে? তা আমাকে এসব ফান্ডা না দিয়ে নিজে করে দেখান না ! আপনি আচরি ধর্ম!
    আরে আমার বৌ আছে, দুটো ছোট ছোট বাচ্চা আছে। আমি সমাজসেবা মানবহিত এর চক্করে ফেঁসে প্লেগ হয়ে টেঁসে গেলে ওদের কে দেখবে? আপনি? আপনারা? আরে কী দেখবেন, কত দেখবেন সব আমার জানা আছে। অল্পবয়েসি বিধবা, বীমা কোম্পানির টাকা। হুঁঃ!
    হাসপাতালের অবস্থা তো দেখেছেন? অক্সিজেন সিলিণ্ডার কম পড়ছে। ওখানে কি একটা দুটো মরে পড়ে থাকা ইঁদুর পাওয়া যাবে না? বাজার থেকে টেট্রাসাইক্লিন আর সেপট্রান গায়েব।
    আমি চললেম, ও রইল এই সাদা চাদরের নীচে; যাদের শখ আছে তারা-- যতক্ষণ কেউ না আসে-- এই মড়ার সঙ্গে বসে আলাপ চালিয়ে যান। নইলে ভালয় ভালয় কেটে পড়ুন।

    [খানিকক্ষণ পরে স্টেজে নীল আলোর বৃত্তে মৃতদেহটি ধীরে ধীরে মুখের চাদর সরিয়ে উঠে বসে। ধীর লয়ে ওর মাথা নড়ে, ঘাড় ঘোরে এদিক ওদিক। তারপর আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়িয়ে মাপা পদক্ষেপে দর্শকদের দিকে এগিয়ে এসে ফ্যাকাশে হাসি হাসে।]

    ৩য়ঃ ভাগ গয়ে; সব শালে ভাগ গয়ে। মেরে গাঁওবালে ভাইয়া, মেরা নাটক কে ডায়রেক্টর; সব হারামখোর। পরিবার থেকেও কেউ আসেনি। কেউ খবর নেয় নি। কিন্তু ওরা বোকা, ভাবছে পালিয়ে বেঁচে যাবে।
    আরে আমাকে মেরে ওরা বাঁচবে? বাঁচে কখনও? ভাইকে মেরে ভাই, পড়শিকে মেরে পড়শি? এককে মেরে অন্যে?
    কিন্তু ওরা কি আর মানুষ রয়েছে? সব ইঁদুর হয়ে গেছে। লেজ তুলে নিজের নিজের গর্তে ঢুকে গেছে। তবু বাঁচতে পারবে না। এখন আমার পালা।
    মরার পর আমি এখন প্লেগের ব্যাকটেরিয়া, একাধারে ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস আর প্যারচুরেলা পেস্টিস—নিউমোনিক ও বিউবোনিক প্লেগ। আমার নিঃশ্বাসে বিষ, আলিঙ্গনে মৃত্যু। প্রথমে জ্বর হবে, কাশি হবে। ফের বগলের গ্রন্থি ফুলে উঠবে। তারপর মুখ থুবড়ে মরে যাওয়া। কেউ বাঁচবে না। আমি এখন ঈশ্বর—এক থেকে বহু হয়ে ছড়িয়ে পড়ছি। চার দিকে ধ্বংসের উৎসব।
    এস আমার কমরেডস্‌! আঘাত হানো! আঘাত হানো যত গর্তে সেঁদিয়ে থাকা, মুখ লুকিয়ে থাকা কাপুরুষ মানুষ জাতের উপর! এবার মনুষ্য রাজ খতম হয়ে মুষিক রাজ কায়েম হবে।
    এস প্রিয় ইঁদুরের দল। এসো মুষিক বাহিনীর রেজিমেন্টস্‌! রোডেন্টস্‌ কম্যান্ডোর যোদ্ধারা! সাদা-কালো-ধূসর ইঁদুরের গেরিলা বাহিনী।
    এস নালা-নর্দমা থেকে, ফুটপাথের কোনা থেকে। এস খেত খামার আর বালু ভরা মাঠ থেকে। এস মজুতদারের গুদাম থেকে! এস ঝুগগি-ঝুপড়ি ময়দান থেকে। বেরিয়ে এস পঞ্চায়েতের দফতর থেকে, এস ব্যাংকের লকার থেকে। এস নাচতে নাচতে, এস গাইতে গাইতে।
    চারো অউর হমারী মুষিকবাহিনী কা হামলা শুরু হো গয়া। একের পর এক। দেখুন, দেখুন-ঈশানকোণ; হমারী ফৌজ বহাদুরি সে লড় রহে হ্যায়। অগ্নিকোণ মেঁ মনুষ্য ফৌজ হমারী গুরিল্লাবাহিনী কে সামনে হথিয়ার ডাল দিয়ে। মানবসমাজ কা অন্তিম ক্ষণ সন্নিকট। শেষ যুদ্ধ শুরু আজ কমরেড!
    আও, হল্লা বোলো! অব আখরী হামলা বোলো! গাও-- শেষ যুদ্ধ শুরু আজ কমরেডস্‌!
    অন্য তিনজন দুই হাত মুখের সামনে নাকের উপর ধরে ইঁদুরের মুখ বানিয়ে উবু হয়ে বসে হাঁটু মুড়ে নাচতে নাচতে বৃত্তের এক দিক দিয়ে ঢুকে আর এক দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩য় এক হাত শূন্যে তুলে এক একবার একেকদিকে দেখায় এবং ফ্রিজ হয়ে যায়। শেষে চিৎকার করেঃ মনুষ্যরাজ খতম করো; মুষিকরাজ কায়েম করো!

    বেজে ওঠে তুরী ভেরী নাগাড়া। মুখোস পরা কয়েকটি ইঁদুর কিলবিলিয়ে এসে নাচতে থাকে। নাচের মাঝখানে ৩য় আকাশে মুঠো করা হাত তুলে ধরে ঘোষণা করেঃ
    প্রথম হামলা সফল! শহরগুলো জনমানব শূন্য। লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালিয়েছে সবাই। মানুষের ফৌজ আমার মুষিক সেনার মোকাবিলা করতে ব্যর্থ। সবাই আমার সংগে বলঃ
    রাজ করেগা চুহা, আগে রহা না কোঈ! মনুষ্যরাজ খতম কর! মুষিকরাজ কায়েম কর! গর্ব সে কহো হম চুহে হ্যাঁয়!

    ২য় দৃশ্য


    বৃত্তের অন্য কোণ থেকে দ্বিতীয় অভিনেতা টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠকের ভূমিকায় মাঝখানে এসে দাঁড়ায়। দুই হাতে একটা আয়তাকার ভঙ্গি করে তার পেছন থেকে খবর পড়েঃ

    “আমাদের চ্যানেলের স্থানীয় সংবাদদাতার পাঠানো খবর অনুসারে প্লেগ মহামারীতে মৃতের সংখ্যা আজ ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। শেষে সমাচারের মুখ্য অংশ আর একবার পড়ছি।
    - সুরাত শহর থেকে দু’লক্ষ লোকের পলায়ন।
    - রাজধানী দিল্লির সমস্ত স্কুল ও কলেজ আগামী সূচনা পর্যন্ত অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ থাকবে।
    - মধ্যপ্রদেশের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল।
    - বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আজ ---
    চ্যানেল বদলে যায়।

    “নমস্কার! আজ কা ‘জান হ্যায়, জহান হ্যায়’ কার্যক্রম মেঁ অভী দেখিয়ে এক পরিচর্যা—“প্লেগ ঔর উসকে কারণ”।

    ১মঃ ইয়ে প্লেগ কা বলা হ্যায় জী? এইসী বীমারী কিঁউ হোতী হ্যায়? এটা কীরকম মহামারী? কেন হয় বলুন তো?

    ২মঃ পাপ! দেশ মেঁ সমাজ মেঁ পাপ অধিক হোনে সে।

    ৩য়ঃ পাপ! কীসের পাপ? কে করেছে পাপ?

    ২য়ঃ তুমি আমি সবাই পাপী, ভ্যালা রে মোর বাপ!
    কোলড্রিংক আর পাস্তা খেয়ে বেড়ে যাচ্ছে পিলে,
    জাতের খেয়াল কেউ করে না, বাঁধন হচ্ছে ঢিলে।
    উঠতি বয়েস, ছেলেমেয়ে একসাথে সব পড়ে,
    মোবাইল কিনতে চেয়ে ছেলে বাপের সংগে লড়ে।
    মাঝের আঙুল দেখায় ওরা নানান ছুতো নাতায়,
    সরকার সব ছোটজাতকে চড়িয়ে রাখে মাথায়।।

    ৩য়ঃ এসব কথা দাও কাটিয়ে, কথার কী যে ছিরি!
    বদলেছে দিন, চলবে না আর তোমার পুরুতগিরি।

    ২য়ঃ বেশ তো দাদা, তবে তুমিই বুঝিয়ে বল দিকি,
    ভাল লাগলে জুটতে অনেক আধূলি ও সিকি।

    ৩য়ঃ প্লেগ নামক মহামারী? বড় কঠিন মামলা,
    আমীরদের উপর এটা গরীবদের হামলা।

    ১মঃ তুমি তো দেখছি বাপু সরেশ আরেক কাঠি,
    বুঝিয়ে বল, নইলে তোমার ভিটেমাটি চাটি।

    ৩য়ঃ মানছি--প্লেগের বীজ তো বাড়ে ইঁদুর জাতকে পেয়ে,
    ছড়িয়ে পড়ে আবর্জনায়, নোংরা নালা বেয়ে।
    গরীব পাড়ায় ঝুপড়ি আর জঞ্জালের পাহাড়,
    বেড়েই চলে, কী আর করা! মুষিককুলের আহার।
    গরীবগুর্বো লোকের মাঝে প্লেগ- বীজাণুর ঠেক,
    (তবে) কেষ্টপুরের খাল ভাসলে বাঁচবে কি সল্টলেক?
    একটু ভেবে দেখুন! মশাই, একটু ভেবে দেখুন!
    আকাশ ছেয়ে পালে পালে উড়ছে কত শকুন।

    প্রথমঃ একটা কথা বুঝতে চাইছি, আমরা সবাই আতুর,
    প্লেগের জন্যে দায়ী নাকি মহারাষ্ট্রের লাতুর।

    ৩য়ঃ ভুমিকম্পে কাঁপল মাটি, উঠল লাতুর কেঁপে।
    পাতাল থেকে দলে দলে এল ইঁদুর ঝেঁপে।
    ওদের মধ্যে তিনটে ছিল অনুপ্রবেশকারী,
    চুপকে চুপকে ছড়িয়ে দিল প্লেগের মহামারী।

    ১মঃ সে তো বুঝলাম। এবার বলুন –বাঁচতে কী কী করা?
    মন্দিরেতে মাথা কোটা? নাকি ইঁদুর হয়ে মরা?

    ৩য়ঃ সিদ্ধিদাতা গণেশের থান মাড়োয়ারির গদি,
    তাঁর বাহনের পছন্দ যে নোংরা জলের নদি।
    ভাল উপায় বলছি দেখুন-- ঘাবড়ে গেলে চলবে?
    নাকে কান্না বন্ধ করুন, ওষুধে ফল ফলবে।

    ২য়ঃ এসব কথা শুনতে ভাল, কাজে অষ্টরম্ভা,
    দেখুন কাদের ফুলছে পকেট, নাচছে রাম্বা সাম্বা।

    ৩য় দৃশ্য


    কারা যেন দরুজায় ঠক ঠক করছে।

    ৪র্থঃ দরজা খুলুন। আগে খুলুন, তারপর বলছি।

    ২য়ঃ আরে আপনি? আমি ভাবলাম--। সে যাকগে, ভেতরে আসুন। ব্যাপার কী বলুন তো? এত রাত্তিরে? আর আপনার সংগে এত্ত লোক!

    ৪র্থঃ বলছি, আগে বলুন—আপনার ঘরে সুরাত থেকে কোন লোক এসেছে?

    ২য়ঃ না তো! কবেকার কথা?

    ৫মঃ ঝুঠ মত বোলিয়ে বাবুমশায়। আমাদের কাছে পাক্কা খবর—আজ বিকেলে আহমেদাবাদ এক্সপ্রেসে আপনার জামাই আসে নি?

    ২য়ঃ আপকা খবর গলত। দামাদ নহী’, হামারা ছোটা ভাই আয়া। বিকালে নহীঁ, দু’পহর কো। আর উসকা ঘর সুরাত মেঁ নহীঁ। ভাবনগর মেঁ। ভাবনগর জানতা হ্যায় না? জাহাঁ রণজিৎ সিং, দিলীপ সিং—রণজী ট্রফি--।

    ১মঃ আপনি মেয়ে জামাইকে বাঁচাতে মিথ্যে কথা বলছেন মশায়। আমরা জানতে পেরেছি জামাইয়ের জ্বর হয়েছে আর খুব কাশছে। যে অটো করে ও এখানে এসেছে সেই অটোওলা জানিয়েছে। আর ঘর যেখানে হোক, ও এখন সোজা সুরাত থেকেই আসছে।

    ২য়ঃ ওর শুধু জ্বর হয়েছে, কোন প্লেগ-টেগ না।

    ১মঃ একই কথা, ওর প্লেগ হয়েছে। খামোখা কথা ঘোরাবেন না। এখানে আমাদের কন্ডোতে থাকা চলবে না। ওকে ওর বাড়ি পাঠিয়ে দিন।

    ২য়ঃ (বাঙালি উচ্চারণে হিন্দিতে চেঁচায়) হম ঝুঠ কাহে কো বোলেগা? না চুরি কিয়া না ডাকাতি! না কিসী কা উধার খায়া! বুখার হুয়া, ডাক্তার বুলায়া। চিকিতসা করায়গা। আপলোগো কা কাহে খুজলি হো রহা? কোথায় চুলকোচ্ছে?

    ৫মঃ আবে ও বাঙ্গালি! তরিকে সে বাত কর। জুবান পর লাগাম দে। বহুত বোলতা হ্যায় তু। উস আদমী কো ঘর সে নিকাল-বাহর কর। নহীঁ তো?

    ২য়ঃ (ভয় পেয়েছে) নহীঁ তো কেয়া করে গা? হামকো মারে গা?

    ১মঃ নইলে শ্বশুর-জামাই দুজনকেই পাড়া ছাড়া করে দেব।

    ৪র্থ দৃশ্য


    ৩য়ঃ (দূরদর্শনে খবর পড়ছে) সরকারের আধিকারিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে প্লেগ মহামারী এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। তাই সমস্ত স্কুল কলেজ আগামী মাসের এক তারিখ থেকে খুলে যাবে।
    আজ প্লেগের সংক্রামক রোগী সন্দেহে যাদের রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাদের কয়েকজনকে স্বাস্থ্যদপ্তর ছেড়ে দেবার আদেশ দিয়েছে।
    দেখুন আমাদের সংবাদদাতার সংগে তাদের কয়েকজনের সাক্ষাৎকার।

    ১মঃ আপনি কবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন?

    ২য়ঃ বারো দিন আগের কথা। খুব জ্বর হয়েছিল আর রক্তবমি। বাড়ির লোক হাসপাতালে নিয়ে গেল। দশদিন চিকিৎসার পর ডাক্তার সাহেব বললেন আমার টিবি হয়েছে। এর চিকিৎসা ঘরে থেকেই সম্ভব। তারপর ছুটি দিলেন।

    ১মঃ আর আপনি ?

    ৩য়ঃ ভর্তি হয়ে তিন দিন হাসপাতালে ছিলাম। রক্তপরীক্ষায় ধরা পড়ল - ম্যালেরিয়া। ছেড়ে দিল।

    ১মঃ এবার তৃতীয়জন। বলুন, চুপ করে আছেন কেন? দর্শকদের বলুন কেন হাসপাতালে গিয়েছিলেন আর এখন ছাড়া পেয়ে কেমন লাগছে।

    ৪র্থঃ আমি হাসপাতালে যাইনি।

    ১মঃ মানে? কী বলতে চান?

    ৪র্থঃ আমায় জোর জবরদস্তি করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ১মঃ সেকী? কে আপনার সংগে জুলুম করেছে? বলুন, দর্শকদের বলুন।

    ৪র্থঃ আমার বৌ।
    হাই টেম্পারেচার। উরুতে টিউমার বা ফোঁড়ার মত বেরোল। ব্যস, গিন্নি আমার শালাকে খবর দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে দিল।

    ১মঃ পরীক্ষায় কী পাওয়া গেল? প্লেগ? বিউবোনিক না নিউমোনিক? লুকোবেন না। দর্শকদের বলুন।

    ৪র্থ (মাথা নাড়ে) রিপোর্ট পেয়ে আমাকে ছেড়ে দিল।

    ১মঃ কেন ছেড়ে দিল? কী হয়েছিল আপনার? অসুখটা কী?

    ৪র্থঃ কম বয়েসে খারাপ পাড়ায় যাওয়ার অসুখ। এখন বৌ আর শালা মিলে গলাধাক্কা দিয়েছে। রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। বড্ড খিদে পেয়েছে।

    ৫ম দৃশ্য


    (প্রথম অভিনেতা গাঁয়ে সরকারি ঘোষণার ভঙ্গিতে একটা কাগজ দেখে কথা বলে। দ্বিতীয় অভিনেতা প্রত্যেক বাক্য বা বাক্যাংশের পর ঢ্যাঁড়া পেটানোর আওয়াজ করে।)
    ১মঃ শোনো! শোনো! সরকার বাহাদুরের তাজা ঘোষণা! ডুম ডুম ডুডুম। আজ থেকে-- ডুম ডুম-- আমাদের পঞ্চায়েত-- ডুম ডুম-- প্লেগ-মুক্ত-- ডুম ডুম-- ঘোষণা করা হয়েছে।
    স্কুল কলেজ -- ডুম ডুম—দাওয়া দোকান, দারু দোকান-- ডুম ডুম কাল থেকে খুলে যাচ্ছে। নাগরিকদের আনন্দ করার জন্যে-- ডুম ডুম—মনোরঞ্জনের জন্যে -- ডুম ডুম—শৌচালয়, স্নানঘর, ঘন্টাঘর, সিনেমা ঘর, ডুম ডুম ডুডুম লালবাতি ঘর –সব চব্বিশ ঘন্টা খোলা থাকবে। ডুম ডুম ডুডুম, ডুম ডুম ডুডুম।

    ২য়ঃ এখন শুনছেন আজ সন্ধ্যে ছ’টার খবর। আজ মুষিক বাহিনীর সর্বোচ্চ অধিনায়ক নিহত হওয়ায় ওদের সাম্প্রতিক কালের বিদ্রোহ শেষ। মুষিক বাহিনী ছত্রভঙ্গ; অধিকাংশ আত্মসমর্পণ করেছে। আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও প্রযুক্তির সামনে প্লেগ বিদ্রোহ পরাজিত। মার্জার দলের মধ্যস্থতায় ওদের সংগে একটি অস্থায়ী শান্তিচুক্তি হওয়ায় পঞ্চায়েত এলাকায় ওদের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।

    আগামী মাস থেকে পঞ্চায়েত ও মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় নির্বাচন শুরু হবে। মুষিক বিদ্রোহ দমনের পর এটি প্রথম সার্বজনিক গণতন্ত্রের উৎসব। সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত নাগরিক বন্ধুদের আহ্বান করা হচ্ছে এই নির্বাচনে অধিক সংখ্যায় অংশগ্রহণ করতে।

    (রাস্তার মোড়ে নির্বাচনী পথসভা)

    ১মঃ আমার প্রিয় দেশভক্ত ভাইবোনেরা! সময় হয়েছে। বদলা নেবার সময় হয়েছে।
    কালো শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ এসেছে। এতদিন আপনারা যে অত্যাচার, অনাচার, ভ্রষ্টাচার, কদাচার, দূরাচার দেখেছেন, নীরবে সহ্য করেছেন, -- এবার তার হিসেব নেবার সময় হয়েছে। শেষের সেই দিন এসেছে। আপনারা মনস্থির করুন। ভোট দিন আমাদের চিহ্নে। আমাদের ধরতী, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের বনস্পতি, আমাদের প্রজাপতি বিপন্ন। আপনারা দলে দলে এসে ভোট দিয়ে এদের বাঁচান। ( দর্শকদের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়ায়)।

    ২য়ঃ মিত্রগণ! এইমাত্র আপনারা ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে কথায় ভরা স্বাস্থ্যের জন্যে হানিকারক এক ভাষণ শুনলেন। আমার শুধু আশা নয়, ভরসা আছে যে আপনারা এরকম নোংরা বক্তৃতা কান বন্ধ করে শুনেছেন। কারণ ওর কথাগুলো প্লেগের মতই ক্ষতিকর।
    প্লেগের মোকাবিলা করতে আপনারা নাকে কাপড় বেঁধেছিলেন। কিন্তু এমন বক্তৃতার ছোঁয়াচ থেকে রক্ষা পেতে কানে তুলো গোঁজা ছাড়া উপায় নেই। প্লেগের সময় আপনারা পাড়ায় পাড়ায় নোংরা সাফ করেছেন, জঞ্জাল জমা হতে দেন নি। এবার ঝেঁটিয়ে সাফ করুন আমাদের ভেতরের জঞ্জাল। ভোট দিন আমাদের, শুধু আমাদের। (হাততালি)
    কারণ স্পষ্ট। আমাদের সরকার ছিল—তাই আপনারা বেঁচে আছেন, প্লেগের মহামারীর শিকার হন নি। অন্যদলের সরকার হলে কীভাবে প্লেগের প্রতিরোধ করা যেত, কতখানি যেত—এসব শুধু মুষিকবাহন গণপতি বাপ্পাই জানেন।

    (৪র্থ দৌড়ে এসে মাঝখানে দাঁড়ায়)

    ৪র্থঃ মিথ্যে! ডাহা মিথ্যে! সাতসকালে দাঁত না মেজে এত মিথ্যে কথা? একদম চুপ করুন—দুজনেই!

    ১মঃ তোমার আবার কী হোল ? কোথায় চুলকোচ্ছে? ওই শালা একটা পাঁইটের দামও--? যেতে দাও, যেতে দাও! তুমি আমাদের শিবিরে চলে এস। সারাদিন আমাদের জন্যে প্রচার করে রোজ সন্ধ্যেবেলা একটা আদ্ধি নিয়ে যাও। আমি ওর মত কঞ্জুস নই।

    ২য়ঃ হুঁঃ, মদ গিলিয়ে ভলান্টিয়ার জোগাড়! নিজে তো পিঁপড়ের পোঁদ টিপে চিনি বের করে খায় আর আমাকে বলে কঞ্জুস? তুমি এস আমার অফিসে।
    এসব দেশি হরিণছাপ, শেরছাপ গোছের শস্তা কারবার নয়, সোজা বিলিতি বোতল। কী, রাজি তো?

    ৪র্থঃ না।

    ২য়ঃ না! সেকী? কেন? আচ্ছা, তোমার হাতে কত ভোট?

    ১মঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ। বল বল। ওকে নয়, আমার কানে কানে।

    ৪র্থঃ দশ হাজার।

    ১ম ও ২য় (একসঙ্গে)ঃ দশ হাজার?

    ৪র্থঃ হ্যাঁ গো বাবুমশাইয়েরা -- দশ হাজার। আমার গাঁয়ের চারশো ঘর। আশপাশের আরও দশটা গ্রাম। সব মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার ভোট। আমরা এক জাতের। কোন অজাত কুজাতকে এলাকায় ঢুকতে দিইনে। আমি চাইলে সবাইকে পালটে দিতে পারি।

    ১মঃ (স্বগতঃ) মনে হয় একটু বেশিই দর হাঁকছে। বাড়িয়ে বলছে। তবু—সামনে ইলেকশন, কাউকে চটানো উচিৎ নয়। বেশ, বল—আমার জন্যে কাজ করবে?

    ৪র্থঃ না!

    ২য়ঃ (লাফিয়ে ওঠে)ঃ হ্যাঁ হ্যাঁ। তুমি আমার দলের। সেবার তোমাকে কর্মীসভায় দেখেছিলাম না? আলাপ হয়েছিল? মনে পড়ছে?

    ৪র্থঃ ডাহা মিথ্যে। কখনও আলাপ হয় নি। আমরা আপনাদের কাউকেই ভোট দেব না।

    ১ম ও ২য়ঃ (একসঙ্গে) কেন বল দিকি! তুমি কী চাও? সমস্যাটা কী?

    ৪র্থঃ আপনারা আমাদের জন্যে কী কী করবেন বলুন। বলে ফেলুন। হ্যাঁ সবার সামনে।

    ১মঃ এস বাবা! পথে এস। এতক্ষণ ল্যাজে খেলাচ্ছিলে?

    ২য়ঃ হ্যাঁ ভাই, ঝেড়ে কাশো। লজ্জা কর না।

    ৪র্থ (মুচকি হেসে দর্শকদের দিকে ফিরে, নীচু গলায়)ঃ পিসিমা বলতেন না? “এতই তোর বুদ্ধি হলে, আজ কেন তোর ক্যাঁতা বগলে”?

    ১মঃ কী বললে?

    ৪র্থঃ কিছু না। পিসিমার একটা কথা মনে পড়ে গেল। আপনারা আপনাদের কাজ করুন। কী কী করতে পারেন তার ফিরিস্তি দিন। যার লিস্টি যত লম্বা, তার কপালে তত ভোট। আহা, রাষ্ট্রভাষায় বলুন।

    ১মঃ হম নৌকরি দিলায়েঙ্গে।
    ২য়ঃ হম ছোকরি দিলায়েঙ্গে।
    ১মঃ দেশজুড়ে করব বিকাশ।
    ২য়ঃ দেশদ্রোহীর হবে বিনাশ।
    ১মঃ আমদানি করব বিদেশি গুড়িয়া।
    ২য়ঃ রপ্তানি করব দেশি বুড়িয়া!
    ১মঃ লোকের মাথা ঘুরিয়ে দেব।
    ২য়ঃ কথার ফানুস উড়িয়ে দেব।
    ১মঃ ডাকাতের বাঁচা হবে কঠিন।
    ২য়ঃ চোরের কাজ হবে রুটিন।
    ১মঃ কিসানের ঋণ করব মাফ।
    ২য়ঃ কিসান আমার ধর্মবাপ!
    ১মঃ নিভতে দেব না তন্দুর।
    ২য়ঃ মুছতে দেব না সিন্দুর।
    ১মঃ কালোবাজারির হবে ফাঁসি।
    ২য়ঃ কালোটাকার মা-মাসি।

    ৪র্থঃ ব্যস্‌ ব্যস্‌! বুঝে গেছি। খামোকা এত গলা ফাটাচ্ছেন।

    ১মঃ খামোকা! দশ হাজার ভোট বলে কথা। দশ হাজার ভোট ফালতু?

    ২য়ঃ কী যে বল ছোকরা! এরজন্যে আমি দিনরাত এক করে---।

    ৪র্থঃ আরে এত কিছু করতে হবে না। আপনারা শুধু একটা কাজ করে দেখান, ছোট্ট একটা কাজ, ব্যস্‌।

    ১ম ও ২য়ঃ (একসঙ্গে) কী কাজ? কত ছোট? আরে বলে তো দেখ। এক চুটকিতে—

    ৪র্থঃ ইঁদুর! ওদের খতম করুন। মুষিকবংশ শেষ করে দেখান।

    ১ম ও ২য় স্ট্যাচু হয়ে যায়। চোখের পলক পড়ছে না। ৪র্থ ওদের এক এক করে খুঁটিয়ে দেখে।

    ৪র্থঃ কী হল? বাক্যি হরে গেছে? একটা ছোট্ট কাজ করতে বলেছি, তাতেই?

    ১মঃ এই তোমার ছোট কাজ? এর থেকে আকাশের তারা ছিঁড়ে আনা সহজ।

    ২য়ঃ দেখ ভাই। চুহা হল সিদ্ধিদাতা লম্বোদর গণেশের বাহন। ওকে মারলে পাপ লাগবে না? তাহলে গণেশজী কোথায় বসবেন? বছর বছর রোদে জলে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে থাকবেন?

    ১মঃ না না, কোন অন্ধবিশ্বাসের কথা না। আমি বিজ্ঞান আর পরিবেশ রক্ষার জন্য বলছি। ইকোলজি বোঝ? ক্রনোলজি বোঝ? ইঁদুর থাকবে। ওকে থাকতেই হবে।

    ২য়ঃ হাঁ হাঁ। বিলকুল সহী। চুহা নহীঁ তো বিল্লি নহীঁ। বিল্লি নহীঁ তো কুত্তা নহীঁ। অউর কুত্তা নহীঁ তো মেমসাহাব নহীঁ।

    ১মঃ অউর মেমসাহাব নহীঁ তো সাহাব নহীঁ।

    ৪র্থঃ আপনারা জানেন যে কীসব বলছেন?

    দুজনেঃ খুব ভাল করে। মানুষ থাকলে ইঁদুরও থাকবে। মিলেমিশে, সহ-অবস্থান।

    ১মঃ চৌরঙ্গী থাকলে কিনু গোয়ালার গলিও থাকবে। নিউ টাউন হলে ওল্ড টাউনও থাকবে। বাঙ্গুর হলে কেষ্টপুরও থাকবে, হাত ধরাধরি করে।

    ২য়ঃ সহমত। নইলে তিরিশ তলার কালো জল কোথা দিয়ে বেরোবে? জল নিকাশী নালা চাই না?

    ১মঃ ঝকঝকে লিভিংরুম বেডরুম থাকলে কি বাথরুম কমোড বাদ পড়ে যায়?

    ২য়ঃ আজকাল ঈসব বেডরুমে এটাচড্‌ হোতা। এহি প্রগতি হ্যায়।

    ৪র্থঃ (দর্শকদের) কিছু বুঝলেন? ভাল করে তাকিয়ে দেখুন। দুজনের কথাবার্তায় আর চেহারায় কী মিল! ছুঁচলো দাঁত, কুতকুতে চোখ, ঝাঁটা গোঁফ, ছোট ছোট পা। ইঁদুরেরা হারে নি, আমরা হেরেছি। ভেতরে ভেতরে মুষিকেরা ভোল বদলে ক্ষমতা দখল করেছে।

    আরে আরে! পচা ডিম আর টম্যাটো! এসব কী মশাই! আরে নাটক ভাল না লাগলে বাড়ি যান, আমাদের যত ইচ্ছে গাল পাড়ুন। তবে নিজের পেছনে হাত দিয়ে দেখুন—একটা ছোট্ট লেজ বেরিয়েছে কিনা।

    কোরাসঃ
    দিন দুপুরে চাঁদের উদয় রাত পোহানো হল ভার।
    হোল পুণ্যিমেতে অমাবস্যা তেরো পহর অন্ধকার।
    এসে বৃন্দাবনে বলে গেল বামী বোষ্টুমি।
    একাদশীর দিনেতে হবে জন্ম অষ্টমী।
    আর ভাদ্দর মাসের সাতই পৌষে চড়ক পুজোর দিন এবার।

    (শেষ)


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ইস্পেশাল | ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন।