এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  অপার বাংলা

  • রিকশা নিয়ে সাতসতেরো

    নাহার তৃণা
    অপার বাংলা | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১০৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • উৎসব সংখ্যা ২০২৬ | আমার উৎসব পাচ্ছে না | ডড্ডামারা এবং... | বিস্মৃত পিটক | বেরিয়ে যাওয়ার আগে নক্সা লিখে রাখি | উৎসব আমাদের | ইঁদুর অথবা | পৃথিবীর ক্লান্ত বিকেলের রোদে | ধান তোলার মরশুম | ভাঙা ডানার আকাশ | সল্টলেক | জীমূতবাহন | কবিতাগুচ্ছ | অবাধ্য যত দুঃস্বপ্নরা | পুঁজিবাদী পেরেক আর ৩য় বিশ্বের যীশু | কবিতা লিখুন খিস্তি দিয়ে, জাটেল্লির মতো | সাঁতারখোকার গল্প | কবিতাগুচ্ছ | কাগজের নৌকা | রূপান্তর | যে মাটিতে দাঁড়িয়ে | আমিই সে | তিনটি অণুগল্প | বিগলিত সায়াহ্ন | নদী বিষয়ক | আশির আমি, আশির তুমি | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু - শেষ পর্ব | ভাণ্ডান বিনতি | বাঁশি | খুলে যাও সিমসিম | মেয়েজন্ম, মেয়ে নয় শুধু... | আগুনে গড়া হাজার বছর ১ | তারকভস্কির ছাত্রজীবনের ছবি | বর্ষাপুরাণ | যে গল্পদের শোনা হয়নি | আগুনে গড়া হাজার বছর ২ | শখের কুলুঙ্গি | স্কারলেট পর্ব ১ | স্কারলেট পর্ব ২ | দুটি কবিতা | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ১ | দাদির কবর | রিকশা নিয়ে সাতসতেরো | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ২ | মনলিপি | ধুলোর রাজপথ

    অলংকরণ: রমিত



    বহুদিন আগে দেখা একটি টেলিভিশন নাটক, যার নামটি পর্যন্ত মনে নেই। এমনকি পাত্রপাত্রী কারা ছিলেন সেটাও ভুলে গেছি। কেবল তার একটুকরো সংলাপ এখনো স্মৃতির গা ঘেষে ঘন হয়ে বসে আছে। সংলাপটি ছিল প্রবাসী কোনো চরিত্রের মুখে: ‘প্রবাসে সব আছে, কেবল মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর গোলাপের সুবাস নেই।’ তখনো প্রবাসী জীবন শুরু হয়নি বলে কি না জানি না, অতটা হেলদোল হয়নি। অথচ স্মৃতি কেমন যত্ন করে তুলে রেখেছে সেটিকে! যার সত্যতা আজ হাড়েহাড়ে টের পাই। এই সংলাপের পাশে দিব্যি আমরা যে যার মতো করে বসিয়ে নিয়ে পারি, যা কিছু প্রবাসজীবনে পাই না। যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন, মা-বাবা এবং স্বদেশ ছাড়া আর কী কী অভাববোধ আমার মনে দুঃখ হয়ে দোলে? আমি নির্দ্ধিধায় বলবো: সোঁদা মাটির গন্ধ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, অমর একুশের বইমেলা ছাড়াও দেশের যে জিনিসটির জন্য আমার মন পোড়ে, সেটি হলো রিকশা!

    এদেশের রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা সারিসারি রং-বেরঙের গাড়িঘোড়ার ভিড়ে, আমার চোখ একটা সামান্য তিনচাকার যানের খোঁজে প্রায়ই হন্য হয়ে ওঠে। অথচ দেশের রাস্তায় যানজট পাকানোয় সে ভালোই পারদর্শী। যেকারণে ঢাকার অনেক রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বছর কয়েক আগে ওয়াশিংটনের রাস্তায় একটা রিকশার দেখা পেয়েছিলাম। সম্ভবত কোনো আমেরিকান সেটা চালাচ্ছিলেন। অনেকটা দূরত্বে থাকায় আর কিছু জানা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ওই সামান্য সময়ের জন্য রিকশার দেখা পেয়ে মনটা আনন্দে ভরে উঠেছিল। রিকশা ভ্রমণের কত অম্ল-মধুর স্মৃতি এসে ভিড় করেছিল সেই মুহূর্তে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের কাছে রিকশায় যাতায়াত অনেক সময়ই ব্যয় সাপেক্ষ। তবে বাসের ভিড়ভাট্টার অস্বস্তি এড়িয়ে আর সামর্থ্যে কুলালে রিকশাই ছিল গন্তব্যে পৌঁছানোর নির্ভরযোগ্য বাহন।

    রিকশা কেবল মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য নির্ভরযোগ্য বাহন নয়, একই সঙ্গে এটি যেন একটি শহরের আত্মপরিচয় বহনের এক চলন্ত ক্যানভাস। এই তিনচক্রযানটি যখন কোনো শহরের রাস্তায় ঘন্টা বাজিয়ে চলতে শুরু করে, তখন যেন গোটা শহরই তার সাওয়ারি হয়ে ওঠে। তিন চাকার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে চলতে থাকে একটা শহর। রিকশাকে স্রেফ একটি বাহন ভেবে নিলে ভুল হবে। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি শহরের সংস্কৃতি, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজারও শ্রমিকের ঘাম, স্বপ্ন এবং অবশ্যই রিকশার ক্রমবিকাশের ঠিকুজি। এই মাধ্যমের ইতিহাস এবং শিল্প হিসেবে তার বিকাশ পর্বটি বেশ আগ্রহোদ্দীপক। রিকশার ইতিহাস বহুস্তরীয়, সামান্য বিতর্কে ভরা, আর বিস্ময়করভাবে আন্তঃমহাদেশীয়। এর আবিষ্কারের পেছনে কী বির্তক রয়েছে সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে আমরা বরং জেনে নেই রিকশা শব্দের উৎপত্তি কীভাবে হলো। রিকশা মূলত একটি জাপানি শব্দ। আদি শব্দটি হলো জিনরিকিশা (jinrikisha)। শব্দটিকে ভাঙলে দাঁড়ায়: jin-মানুষ, riki-শক্তি, sha-যান। অর্থাৎ “মানবশক্তিচালিত যান”। এই শব্দটিই পরে ইংরেজিতে rickshaw হিসেবে রূপ নেয়। বাংলায় সেটি আত্তীকরণ হয়ে আমাদের কাছে “রিকশা” হিসেবে পরিচিতি পায়।

    রিকশার জন্ম নিয়ে বিতর্ক:


    রিকশার আবিষ্কার নিয়ে তিনটি দাবির হদিস পাওয়া যায়।

    ক. জনাথন গবল: সম্ভাব্য আদিরূপ

    কিছু আমেরিকান উৎসে দাবি করা হয় মার্কিন মেরিন জনাথন গবল ১৮৫৯ সালে রিকশা নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর তৈরিকৃত সেই যানটির কোনো ছবি পাওয়া যায় না। সরকারি নথিতেও নেই তার স্বপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য। এমনকি রিকশার আবিষ্কারক হিসেবে প্রধান দাবিদার জাপানের ইতিহাসেও আমেরিকান জনাথন গবলের উল্লেখ নেই। তথ্যসূত্রানুযায়ী আরো যেটি জানা যায়, জনাথন গবল মার্কিন মেরিন বাহিনীতে যোগ দেবার পর ১৮৫২ থেকে ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত কমোডর ম্যাথিউ সি. পেরির নেতৃত্বে USS Mississippi জাহাজে জাপান অভিযানে অংশ নেন। সেটি ছিল জাপানকে “খোলা দরজা” নীতিতে রাজি করানোর কূটনৈতিক-সামরিক মিশন। জাপান তখন টোকুগাওয়া শোগুনতের অধীনে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সাকোকু (বিচ্ছিন্নতা) নীতি মেনে চলছিল। সেই অভিযানের মাধ্যমে জাপান পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়। Town of Wayne–এর সরকারি ইতিহাসেও এই তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। পরে ১৮৬০ সালে, জনাথন গবল প্রথম ব্যাপ্তিস্ট মিশনারি হিসেবে স্ত্রীকে নিয়ে আবারও জাপানে যান। প্রায় এক দশক পর, ১৮৬৯ সালের দিকে, অসুস্থ স্ত্রী এলিজার চলাচলের সুবিধার জন্য জনাথন নিজেই একটি হাতে টানা ছোটো গাড়ি তৈরি করেন; যা রিকশার সম্ভাব্য আদিরূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    এখানে সালের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য গড়মিল লক্ষণীয়। Town of Wayne- এর সরকারি নথিতে ১৮৫৯ সালটিকে জনাথনের রিকশা নির্মাণের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নথিতে ১৮৬৯ সালের উল্লেখ রয়েছে। জাপানে জিনরিকিশার আবিষ্কারের সময়কাল ১৮৬৯-৭০(মতান্তরে ১৮৬০-৭০), এবং বিস্ময়করভাবে ঠিক ওই সময় জনাথন গবল তাঁর অসুস্থ স্ত্রী জন্য হাতে টানা একটি ছোটো গাড়ি তৈরি করেন। Town of Wayne-এর স্থানীয় ইতিহাসে তাঁর নির্মাণের সাল ১৮৫৯ বলা হলেও, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক নথি ১৮৬৯ সালকেই গ্রহণযোগ্য মনে করে।

    এই সময়কালগত মিল দেখায় গবলের নির্মাণটি ছিল ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ফল, এবং তা জাপানে জিনরিকিশার উদ্ভবের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল। তাঁর সেই নির্মাণের পেছনে জাপানে অবস্থান এবং ওই সময় জাপানে জিনরিকিশার প্রচলনের একটা সংযোগ রয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি, রিকশার ধারণা জাপানে ও গবলের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বিষয়টি প্রায় একই সময়ে, একই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিকশিত হয়েছিল। জনাথন গবলকে রিকশার আবিষ্কারক বলার পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাঁকে সম্ভাব্য প্রভাবক বলাই শ্রেয় বলে মনে হয়।

    খ. প্রথম ধারণার বিপরীতে আরেকটি প্রচলিত দাবি

    এই দাবি এসেছে চীনা ঐতিহাসিক নথি থেকে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, উনিশ শতকের শেষভাগে চিং সাম্রাজ্যের সামরিক কমান্ডার ও রাজনীতিবিদ লি হংঝাং তাঁর কর্মকর্তাদের দ্রুত চলাচলের জন্য একটি হালকা, টানা গাড়ি তৈরি করেছিলেন। তবে তাঁর তৈরি গাড়ি আধুনিক রিকশার মতো ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। এটি প্রেরণার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গণ্য হতে পারে, কিন্তু সরাসরি আধুনিক রিকশা আবিষ্কার নয়। মোদ্দাকথা, চীনের এই দাবিটিও নিশ্চিত নয়, তবে কিছু নথিতে এর উল্লেখ আছে।

    গ. গ্রহণযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য জাপানের পক্ষে

    রিকশার আবিষ্কারক হিসেবে জাপানের স্বপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী, নথিভিত্তিক তথ্য পাওয়া গেছে। যার ভিত্তিতে বলা যায় আধুনিক রিকশার জন্ম জাপানে ১৮৬০-৭০-এর দশকে। এছাড়া, উনিশ শতকের শেষভাগে জাপানে বসবাসকারী এবং সেইসময় অত্যন্ত প্রভাবশালী পশ্চিমা জাপানবিশারদ হিসেবে পরিচিত Basil Hall Chamberlain-এর নথিপত্রও জাপানের স্বপক্ষে যায়। ১৮৯০ সালে চেম্বারলেন ‘Things Japanese’ শিরোনামে একটি বই রচনা করেন। বইটি জাপানের মধ্যযুগ থেকে আধুনিক রূপান্তরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক নথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে জাপানে জিনরিকিশা আবিষ্কার এবং তার সময়কাল ১৮৬৭-৭০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে উল্লেখ আছে। এছাড়াও ১৯৯৮ সালে লোনলি প্ল্যানেট থেকে প্রকাশিত, Tony Wheeler-এর লেখা এবং Richard I’anson-এর ফটোগ্রাফি সম্বলিত ‘Chasing Rickshaws’ নামের বইটিতেও রিকশার আবিষ্কারকর্তা হিসেবে জাপানের নাম উল্লেখ রয়েছে।

    জিনরিকিশার আবির্ভাবের আগে টোকিওসহ বিভিন্ন শহরে ঘোড়ার গাড়ি, পালকি ইত্যাদি বাহনের চল ছিল। একটা সময় শহুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের জন্য তুলনামূলক সস্তা, দ্রুত, আর হালকা ধরনের যানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে দুই চাকার, দরজাবিহীন,চেয়ার-ধরনের কাঠামো, সামনে দুইটি দণ্ড, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ টেনে নিয়ে যাচ্ছে, জিনরিকিশা নামে পরিচিত একটি যানের আবির্ভাব ঘটে। এবং ক্রমশই তা টোকিও, ইয়োকোহামা ইত্যাদি শহরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটির নির্মাণ শৈলীতে যুক্ত ছিল নতুন বল-বিয়ারিং প্রযুক্তি, হালকা চাকা, আর কাঠ-লোহার মিশ্রণে তৈরি কাঠামো। এসবের কারণে রিকশাকে তখনকার শহুরে পরিবহনে এক ধরনের “টেকনোলজিক্যাল আপগ্রেড” হিসেবেও দেখা হয়। এই আবিষ্কারের পেছনে মূলত ছিলেন ইজুমি ইয়োসুকে, তাকায়ামা কোসুকে এবং সুজুকি তোকুজিরো। উল্লেখিত তিনজন মিলে সর্বপ্রথম দুই-চাকার, হালকা, মানুষের টানা রিকশা তৈরি করেন। মূলধারার তথ্যউপাত্ত সাধারণত এটিকে জাপানের উনিশ শতকের শেষভাগের উদ্ভাবন হিসেবে ধরে ব্যক্তি-নির্ভর কৃতিত্বের চেয়ে “সময় ও প্রেক্ষাপটের ফল” হিসেবে বেশি দেখা হয়। রিকশা আবিষ্কার কেন্দ্রিক বিতর্কে আমরা এভাবে পূর্ণচ্ছেদ টানতে পারি: এই যানটিকে ঘিরে ধারণার উৎস বহু জায়গায় জন্ম নিয়েছিল, কিন্তু আধুনিক রিকশার জন্মস্থান হলো জাপান।

    কালক্রমে এই রিকশা জাপানে খুব দ্রুতই জনপ্রিয় পরিবহন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এটি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়; কারণ এতে আরাম করে বসে জাপানের সৌন্দর্য উপভোগ করা যেত। এরপর সেটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা দেশ হয়ে ভারত এবং বাংলাদেশে পৌঁছায়।

    জাপানে ‘মানবচালিত যান’ বা জিনরিকিশা হিসেবে জন্ম নেওয়া রিকশা পরে রূপান্তরিত হয়ে সাইকেল-রিকশায় পরিণত হয়, এবং এশিয়ার বহু অঞ্চলে এখনো তা প্রকৃত অর্থেই উন্নয়নশীল বিশ্বের ট্যাক্সিক্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    সরকারি বিরোধিতা এবং দ্রুতগতির মোটরচালিত যানবাহনের সঙ্গে সড়ক দখলের প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও সাইকেল-রিকশা এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় পরিবহনব্যবস্থা।
    সাইকেল-রিকশা দূষণমুক্ত, তুলনামূলক কম খরচে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং বহু এশীয় শহরের আকার ও যানবাহন চলাচলের ধরন অনুযায়ী বেশ উপযোগী।

    আগেই উল্লেখ করেছি, Tony Wheeler এবং তাঁর ফটোগ্রাফার বন্ধু Richard I’anson রিকশা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ‘Chasing Rickshaws’ প্রকাশ করেন। এর জন্য তাঁদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বারোটি দেশ ভ্রমণ করতে হয়। আমার দৌড় বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা শহর পর্যন্ত। রিকশা ভ্রমণের এই সাতসতেরোয় পড়শি দেশে একটা ছোট্ট চক্কর দিয়ে আমরা ঢাকার পথেও খানিকটা ঘুরে বেড়াবো।

    দক্ষিণ এশিয়ায় রিকশার বিস্তার: কলকাতা থেকে ঢাকা


    জাপান থেকে রিকশা প্রথম আসে চীন, তারপর সিঙ্গাপুর-ভিয়েতনাম হয়ে কলকাতায়। জাপানে জিনরিকিশা জনপ্রিয় হওয়ার পর উনিশ শতকের শেষভাগে হাতচালিত রিকশা ভারতে প্রবেশ করে। কলকাতা ছিল এই নতুন যানটির প্রথম কেন্দ্র। সেখানে এটি ব্রিটিশ শাসনামলে আসে এবং শহরের সংকীর্ণ গলি, বাজার ও ইউরোপীয় বসতিগুলোর মধ্যে চলাচলের জন্য দ্রুতই কার্যকর বাহন হয়ে ওঠে। হাতচালিত রিকশা ভারতে আনে ব্রিটিশরা, আর কলকাতায় এর বিস্তারে ভূমিকা রাখে চীনা শরণার্থীরা, সেসময় তারা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।
    বিংশ শতকের প্রথমার্ধে হাতে টানা রিকশা ধীরে ধীরে শহরের শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অংশ হয়ে ওঠে। ১৯২০-৩০-এর দশকে কলকাতার জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ট্রাম-বাসের সীমাবদ্ধতা এবং পুরনো শহরের সরু পথঘাটের কারণে টানা রিকশা শহরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পরিবহন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। তখন থেকেই কলকাতার রিকশা শহরের বৃষ্টিভেজা গলি, বাজার এবং ঘিঞ্জি পাড়াগুলোর অপরিহার্য বাহন হিসেবে পরিচিত হতে থাকে।

    স্বাধীনতার পর ভারতের শহরগুলোতে পরিবহনের ধরন দ্রুত বদলাতে শুরু করে। সাইকেল রিকশা বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬০-৭০-এর দশকে মোটরচালিত তিনচাকার অটোরিকশা নগর পরিবহনের প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে। ভারতের তিন-চাকার মোটরচালিত অটো-রিকশার পথিকৃৎ ছিলেন শিল্পপতি নৌলমল ফিরোদিয়া। তিনিই প্রথম “অটো-রিকশা” শব্দটি ব্যবহার করেন এবং এই বাহনকে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেন। তবে রাস্তায় চলার উপযুক্ত বাহন হিসেবে সরকারি অনুমোদন পাওয়া ছিল দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, ভারতের একজন প্রধানমন্ত্রী; সম্ভবত জওহরলাল নেহেরু নিজে অটো-রিকশা চালিয়ে দেখে তবেই এর অনুমোদন দেন। অর্থাৎ, অটো-রিকশার সরকারি স্বীকৃতি ছিল প্রযুক্তিগত, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক তিন স্তরের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অর্জিত।

    তবুও কলকাতা আজও বিশ্বের একমাত্র শহর, যেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাতচালিত রিকশা সরকারি অনুমতিতে চলে। এটি শহরের ঔপনিবেশিক ইতিহাস, শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং নগর-সংস্কৃতির এক অনন্য সাক্ষ্য। এই রিকশা কলকাতার নগর-পরিচয়ের এক বিশেষ অংশ হিসেবে টিকে আছে।

    ভারত সরকার ২০১৮ সাল থেকে কোয়াড্রিসাইকেল নামে নবউদ্ভাবিত একটি যানকে আলাদা যানবাহনের শ্রেণিভুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত— উভয় ব্যবহারের জন্যই অনুমোদিত। শহুরে কম দূরত্বের যাতায়াতে এটি একটি নতুন, সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ঢাকার পথে রিকশা


    ঢাকায় রিকশা আসে ১৯৩০-৪০-এর দশকে, ব্রিটিশ আমলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে, এবং ১৯৫০-৬০-এর দশকে সাইকেল রিকশা ঢাকার প্রধান পরিবহন হয়ে ওঠে।

    ঢাকার মতো পৃথিবীর আর কোনো দেশে রিকশা পরিবহনের এত বড় অংশ দখল করে নেই। ঢাকা শুধু বাংলাদেশের রাজধানী নয়, এটা বিশ্বের সাইকেল-রিকশার রাজধানী বললেও ভুল হবে না।

    বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যাটারি রিকশার দ্রুত বিস্তারের কারণে প্যাডেল রিকশাসহ ঢাকায় মোট রিকশার সংখ্যা আনুমানিক দশ থেকে পনেরো লাখের মতো। যার অধিকাংশই অবৈধ বা নিবন্ধনহীন। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে এই বিপুল রিকশা-বাহিনী শহরের চলাচলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে চোখ রাখলে কখনো কখনো মনে হয় রিকশার ঢেউ বইছে। চাকা-ঘেঁষাঘেঁষি করে চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে প্রচুর রিকশা।

    তবুও আশ্চর্যের বিষয়, রিকশার এই বিশাল অর্থনৈতিক গুরুত্বের প্রতি সরকারি স্বীকৃতি খুবই সামান্য। সরকারের মনোভাব যেন এমন: রিকশাগুলোকে উপেক্ষা করে রাখা হলে হয়তো একসময় নিজেরাই হারিয়ে যাবে, এবং আধুনিক কোনো পরিবহনের জন্য জায়গা তৈরি করে দেবে।

    পর্যটক-গবেষকদের মতে, ঢাকার রিকশা রঙে-রূপে বিশ্বের অন্য সব জায়গাকে ছাড়িয়ে গেছে। এ অঞ্চলের রিকশা পরিণত হয়েছে এক চলমান শিল্পকর্মে। যেটি শুধু পরিবহন নয়— মানুষের আবেগ, রং, স্মৃতি, আর লোকশিল্পের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার এক অনন্য মাধ্যম। এমন উপস্থাপনা তৈরিতে দেশজ লোকশিল্পের শক্তিশালী ঐতিহ্য— পটচিত্র, নকশিকাঁথা, আলপনা ইত্যাদির বর্ণিলতা রিকশা শিল্পে নিবিড়ভাবে মিশে গেছে।

    Tony Wheeler-এর মতে, “বাংলাদেশের রিকশাগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে রঙিন, সবচেয়ে শিল্পসমৃদ্ধ।”

    কথাটি মিথ্যে নয়। একটি নতুন, পুরোপুরি সাজানো রিকশা যখন রাস্তায় নামে, তখন তার সামনে হ্যান্ডেলবারের দু’পাশে বোল্ট করা প্লাস্টিকের ফুলদানি দুলতে থাকে। রঙিন ফিতা আর টেপে মোড়ানো লোহার বার-আসনগুলো উজ্জ্বল রঙে আঁকা, ভাঁজ করা ছাউনি থাকে চমৎকার সূচিশিল্পে সজ্জিত, আর পুরো রিকশার গায়ে ঝকমকে ক্রোমের পাত, পেরেকের নকশা আর রঙিন চিত্রকর্ম।

    তবে রিকশার পেছনের ছোট্ট প্যানেলটিই পুরো জিনিসটার আসল সৌন্দর্য। এটি যেন পুরোপুরি সাজসজ্জার জন্যই তৈরি। পেছনের অ্যাক্সেল(চাকা ঘোরানোর লোহার দণ্ড), এবং চেসিস(পুরো কাঠামো) ঢেকে রাখে, আর পিছন থেকে আসা রিকশাওয়ালা ও যাত্রীদের জন্য হয়ে ওঠে এক চলমান ছবি-গ্যালারি। বিদেশি গবেষক-পর্যটকের চোখেও সেটি “The moving folk art gallery of Bangladesh” হিসেবেই বুঝি ধরা দেয়।

    উল্লেখিত প্যানেলগুলোতে আঁকা হয় নানান নকশা ও চিত্র। যেহেতু রিকশা তৈরির কাজ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোটো ছোটো ওয়ার্কশপে হয়, তাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আলাদা আলাদা বিশেষায়িত নকশার ধারা।

    পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিলের আশেপাশের অনেক রিকশায় দেখা যায় তাস খেলতে থাকা বাঘের ছবি। সবচেয়ে জনপ্রিয় থিম অবশ্যই বলিউড। মেদবহুল নায়িকাদের দুই পাশে রেখে লম্বা চুল, দাড়িওয়ালা নায়করা পিছন থেকে তাকিয়ে থাকে হুমকির ভঙ্গিতে। ঠিক সিনেমার পোস্টারের মতো। এই তারকাদের চেহারার গঠন বাস্তবের চেয়ে আকারে বড়সড়, আর রঙে দ্বিগুণ উজ্জ্বল।

    ঢাকার রিকশাশিল্পের উচ্চকিত রঙের ব্যবহার, তার গল্প, প্রকাশের ভঙ্গিমা শুধু শহরের রাস্তাকেই বদলায়নি, বদলেছে রিকশাকে দেখারও দৃষ্টি। রিকশার মালিকরা যতই কৃপণ বলে পরিচিত হোক, একটি উন্নত রিকশা প্রস্তুতের খরচের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিল্পকর্মের পেছনে বিনিয়োগে কাপর্ণ্য করে না। সাধারণ মিস্ত্রিরা কাঠামো জোড়া লাগায়, ছাউনি আর আসন বানায়, রঙ করে। কিন্তু পেছনের অলংকৃত প্যানেল আঁকার জন্য একজন শিল্পীকে ডাকা হয়। যার তুলির টানে রিকশা হয়ে ওঠে চলমান ক্যানভাস।

    শিল্পকর্মের বর্ণিল উচ্ছ্বাস বহুবার দমন-পীড়নের মুখে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের চোখে রিকশা শিল্পের বেপরোয়া প্রকাশভঙ্গিকে কখনো অতিরিক্ত, অশোভন, কিংবা শহুরে নৈতিকতার জন্য হুমকি বলে মনে হয়েছে। আশ্চর্যভাবে, দমনের এই ইতিহাস ঢাকার একার নয়। টোকিওর রাস্তায় যখন প্রথম জিনরিকিশা দেখা দেয়, তখনও কিছু রিকশায় আঁকা শিল্পকে উত্তেজক বা অশ্লীল চিত্র হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। শিল্পের স্বাধীনতা আর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের টানাপোড়েন; কতটুকু দেখানো যাবে কিংবা যাবে না, দুই দেশকে কী অদ্ভুতভাবে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। দুই দেশের রিকশার রূপ আলাদা, কিন্তু শিল্পকে নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রবণতা একই সুরে উচ্চারিত।

    অসংখ্য রিকশা আর দৈনন্দিন জীবনে তাদের বিশাল ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও, ঢাকার রিকশাগুলোকে নিয়ে কোনো উদযাপন নেই বললেই চলে। একজন আগ্রহী রিকশা-স্মারক সংগ্রাহকের জন্য এখানে তেমন কিছুই নেই-না রিকশার পোস্টকার্ড, না খুববেশি রিকশা-খেলনা। এদিকটাতে সরকারি-বেসরকারি নজরদারি দেওয়া হলে একটি অর্থকরী প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    রিকশার শহর ঢাকায় যে রিকশাগুলো দেখা যায় সেগুলো উপমহাদেশের প্রচলিত মানক নকশা অনুসরণ করে। এর সামনের অংশে থাকে সাধারণ সাইকেলের তৈরি স্টিয়ারিং ও চাকা, আর পেছনে থাকে যাত্রীবাহী সাব-ফ্রেম, যেখানে বসার আসন ও দুইটি পেছনের চাকা যুক্ত থাকে।

    এই যানটি যাদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে তারা রিকশাওয়ালা নামে পরিচিত। কখনও কখনও তাদের মামা,মামু, কাকা ইত্যাদি নামেও সম্বোধন করা হয়। এই রিকশাওয়ালারা হলেন শহরের নীরব ইতিহাস বয়ে চলা জনগোষ্ঠী। তাদের অধিকাংশের রুটিরুজি বাধা থাকে মালিকের দয়ার ওপর। মালিক সদয় হলে রুটিনবাধা জীবন কিছুটা হলেও স্বস্তির হয়। চেনা-অচেনা গলি-বাঁক পেরনোর সময় যাত্রীদের গল্প শোনা, নিজের গল্প বলার মাধ্যমে চালক আরোহীর মাঝে ক্ষণিকের যে সম্পর্কটি তৈরি হয়, তার ভেতর লুকিয়ে থাকে চিরন্তন মানবিকতা। এই মানুষগুলোর শ্রমে, তাদের চালিত যানের মধ্য দিয়ে কেবল শহর ঢাকা নয়– রিকশা বান্ধব প্রতিটি শহর সচল থাকে।

    রিকশা দৈনন্দিন বিপুল মানুষের নির্ভরযোগ্য বাহন হওয়ার পাশাপাশি— বৃষ্টির দিনে তার ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়ার স্মৃতি, রাতের ফাঁকা রাস্তায় ঘণ্টার শব্দের রোমান্টিকতা, কিংবা প্রথম প্রেমের যাত্রা ইত্যাদি অজস্র গল্পের নীরব কারিগর। শিল্প-সাহিত্যে রিকশা ঘিরে গান, চলচ্চিত্র, বই কিংবা নানা প্রবন্ধে যার প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। রিকশা নিয়ে কয়েকটি চলচ্চিত্রের মধ্যে রিকশা গার্ল(২০২১, বাংলাদেশ), দ্য রিকশা ম্যান(১৯৬০, জাপান), এম্পায়ার অফ প্যাসান(১৯৬৯, জাপান), আমেরিকান রিকশা(১৯৭৯, যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি), কাজি(২০২১, জার্মানি) ইত্যাদি রয়েছে।

    লেখাজোখার মধ্যে রয়েছে: Rickshaw Coolie, Reluctant Heroes((1880-1940-James Francis Warren), Rickshaw: The Novel Lo-t'o Hsiang Tzu(Lao She), Reluctant Heroes: Rickshaw Pullers in Hong Kong and Canton, (1874-1954-Chi Ming Fung), Rickshaw Ragtime: Calcutta Remembered by Jug Suraiya(1993),Chasing Rickshaws(Tony Wheeler & Richard I’Anson), Cityscapes of East Asia: A History of Rickshaw Pulling,The History of the Rickshaw: Exploitation or Tradition?(Emily Geens), SPECIAL SECTION ON RICKSHAWS–Berghahn Journals ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য।

    রিকশা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যাতায়তের প্রয়োজনের সঙ্গেই কেবল যুক্ত নয়। আমাদের গল্পে, গানে, সিনেমায়, প্রেমে, সবখানেই আছে। এই বাহনটির সঙ্গে আমাদের অনুভূতির তুমুল সহবাস। এই বিশেষ বাহনের ইতিবৃত্তের সঙ্গে জড়িত অযুতনিযুত মানুষের শ্রম, শিল্পীর কল্পনা, শহরের স্মৃতি, আর সংস্কৃতির বিবর্তনের গল্প। জাপানে জন্ম নেওয়া যানটি বাংলাদেশে এসে হয়ে উঠেছে এক রঙিন শিল্প, এক চলমান ক্যানভাস, শহরের আত্মপরিচয়ের প্রতিনিধি। রিকশা সময়ের, মানুষের, আর স্মৃতির অনন্ত যাত্রার এক পরম সারথী।


    ঋণস্বীকার:
    1.Chasing Rickshaws by Tony Wheeler, Richard I’anson
    2.The Invention of the Rickshaw: A Brief History by Ruthie
    3. এবং অন্যান্য।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    উৎসব সংখ্যা ২০২৬ | আমার উৎসব পাচ্ছে না | ডড্ডামারা এবং... | বিস্মৃত পিটক | বেরিয়ে যাওয়ার আগে নক্সা লিখে রাখি | উৎসব আমাদের | ইঁদুর অথবা | পৃথিবীর ক্লান্ত বিকেলের রোদে | ধান তোলার মরশুম | ভাঙা ডানার আকাশ | সল্টলেক | জীমূতবাহন | কবিতাগুচ্ছ | অবাধ্য যত দুঃস্বপ্নরা | পুঁজিবাদী পেরেক আর ৩য় বিশ্বের যীশু | কবিতা লিখুন খিস্তি দিয়ে, জাটেল্লির মতো | সাঁতারখোকার গল্প | কবিতাগুচ্ছ | কাগজের নৌকা | রূপান্তর | যে মাটিতে দাঁড়িয়ে | আমিই সে | তিনটি অণুগল্প | বিগলিত সায়াহ্ন | নদী বিষয়ক | আশির আমি, আশির তুমি | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু - শেষ পর্ব | ভাণ্ডান বিনতি | বাঁশি | খুলে যাও সিমসিম | মেয়েজন্ম, মেয়ে নয় শুধু... | আগুনে গড়া হাজার বছর ১ | তারকভস্কির ছাত্রজীবনের ছবি | বর্ষাপুরাণ | যে গল্পদের শোনা হয়নি | আগুনে গড়া হাজার বছর ২ | শখের কুলুঙ্গি | স্কারলেট পর্ব ১ | স্কারলেট পর্ব ২ | দুটি কবিতা | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ১ | দাদির কবর | রিকশা নিয়ে সাতসতেরো | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ২ | মনলিপি | ধুলোর রাজপথ
  • অপার বাংলা | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১০৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৫০743456
  • এই লেখাটা খুবই ইন্টারেস্টিং লাগলো আমার। চমৎকার ইনফর্মেটিভ।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৫743465
  • খুব ভালো লাগলো। কবে স্কটিশ চার্চ কলেজে চন্দ্রনাথদার ক্লাসে পড়া মেইজি রেসটোরেশন কমোডর পেরির জাপান আবরন উন্মোচন মনে পড়ল কিন্তু জিন রিকশার বিষয়ে জানতাম না। সবই কেমন যেন আধখানা জেনেছি। ইনদোনেশিয়ায় দেখেছি তবে এখন মোটরাউজড। যেমন আংকর ভাটেও। ইউরোপে ডেনমার্কে যেমন। তবে আমার দেখা সেরা রিকশা ঢাকার চল্লিশ বছর আগে পূর্বানী হোটেলের ( পুরনো লোকেরা এখনো বলেন পূর্বানীর ভাপা ইলিশের কোন তুলনা নেই) সামনে প্রথম ঢাকার রিকশা চড়া। ঢাকার রিকশ স্টেট অফ দি আর্ট - মার্ক শাগাল থেমে যেতেন হয়তো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন।