

অলংকরণ: রমিত
অগ্নিকুন্ডে সীতা হয়ে আমার প্রবেশ। যজ্ঞাগ্নি থেকে যাজ্ঞসেনী রূপে আমার-ই উন্মেষ। জানকী থেকে দ্রৌপদী...সর্ব রূপেই আমি বিজেতা। শারীরিক শক্তি, মানসিক শক্তি, সাহস এবং আত্মমর্যাদায় আমি অনন্যা! হরধনু তুলতে পারলেও লঙ্কা থেকে উদ্ধারের পর রঘুপতি আমার পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রজাদের সন্তুষ্ট করার জন্য গর্ভাবস্থায় আমাকে দ্বিতীয়বার বনবাসে পাঠানো হয়। রজস্বলা অবস্থায় যখন আমার বস্ত্রহরণ করা হচ্ছিল তখন পরিবারের ধর্মাত্মা, নীতিমান সদস্যগণ এই পান্ডবভার্যা দ্রৌপদী-র কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। সেদিন তাঁরা আমার অপমানের নীরব দর্শক ছিলেন। ত্রেতা, দ্বাপর, কলি সর্বযুগেই আমার চূড়ান্ত অপমান। সমাজের সমস্ত মাথারা আমার বিরুদ্ধে। আজকেও আমি লাঞ্ছিতা, ধর্ষিতা, বৈষম্যের শিকার। আচ্ছা, ধর্মের সূক্ষ অর্থগুলো কি সবই আমার বিপক্ষে? যাকে আপনারা পূজো করেন; আমি সেই ব্রহ্মার সরস্বতী, বিষ্ণুর লক্ষী এবং মহেশ্বরের দুর্গা। আমার কাঠামোর বাইরের অবয়বটা দেখে ভুল করবেন না ; আমি পুরুষ স্বভাবা যুদ্ধবাজ নারী। পাঁজরের হাড়ের মধ্যে টর্পেডো ধারণ করি। আমি দ্বিখন্ডিতা... আমার এক পার্শ্ব কোমলরূপিণী দক্ষিণা কালী আর অন্য পার্শ্ব উগ্ররূপিণী মহাকালী। আমি চিত্রাঙ্গদা। আমার সুরূপ শুধু দেখবেন না; আমার কুরূপকে -ও সম্মান করতে শিখুন। মানব শাসিত এই সমাজে কোন মানবী বা মহামানবী নয় ; নিজেকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা-ই আমার ধর্ম।