এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  সমোস্কিতি

  • খবর্নয়

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    সমোস্কিতি | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২৬ বার পঠিত
  • বেঙ্গালুরুতে জনপ্লাবন। দিল্লি ভেসে যাবার উপক্রম। কিন্তু ভোটচুরি নিয়ে সারা দেশ ফুঁসছে, এটা তো খবর না। খবর হল, আটকানোর জন্য কী কী হচ্ছে। জনসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নজরদারি চলছে। আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ অনুযায়ী দেশের নানা প্রান্ত থেকে 'রত্ন'দের নিয়ে আসা হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষীতে তো মুড়ে দেওয়াই হয়েছে। মোদ্দা কথা সুভাষ বসু যখন এরকম 'দিল্লি চলো' বা 'আজাদি' স্লোগান তুলেছিলেন, তার থেকেও মনে হয়, একটু বেশি নিরাপত্তা, যদিও দেশে আর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্ব নেই।

    এ তো দিল্লিতে। আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরশোলা স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। যা শোনা যাচ্ছে, আরশোলাদের প্রায় পুরো নেতৃত্বই আটক। আব্দুল নামের যে ছেলেটির বাবাকে ঠেঙিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, এবার তাকে আটক করা হয়েছে। খুবই সহজবোধ্য ব্যাপার, বাবাকে ঠ্যাঙানো হয়েছে, যথেষ্ট শিক্ষা হয়নি, অতএব এবার ছেলে আটক। যতদূর শুনতে পাচ্ছি পশ্চিমবঙ্গের আরশোলাদের গোটা নেতৃত্বই নানা অজ্ঞাত জায়গায় আটক। আরশোলাদের সঙ্গে যোগাযোগ অতি ক্ষীণ বলে কনফার্ম করতে পারবনা, অবশ্য থাকলেই বা করতাম কীকরে, কিন্তু মিথ্যে হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

    পশ্চিমবঙ্গে এর মধ্যে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের উপর আক্রমণ হয়েছে। দেশজোড়া এই বিরাট কেলেঙ্কারির মধ্যে ছোটোই মনে হচ্ছে, কিন্তু আসলে কোনো আক্রমণই ছোটো না। এর আগে হয়েছিল শামীমের উপর। বিকাশবাবু বলেছেন উনি সঙ্গে রিভলভার রাখবেন। কী অবস্থা। একজন প্রথম সারির উকিল, প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন মহানাগরিককে নিজের নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে বন্দুক রাখতে হচ্ছে, এটাই মারাত্মক চিত্রটা দেখিয়ে দেয়। এতগুলো সরকার দেখে ফেললাম, আমি এ জিনিস দেখিনি। দিল্লিতে খান দুই বড় আন্দোলন দেখেছি, আন্না হাজারের, নির্ভয়া কান্ডে, পশ্চিমবঙ্গে নন্দীগ্রাম দেখেছি আরজিকর দেখেছি, সব ক্ষেত্রেই সরকার নড়বড় করেছে, কিন্তু এর ধারেকাছেও কিছু দেখিনি। দেখে শুনে পন্ডিতদের বলতে ইচ্ছে করে, আসলে বিজেপি হেবি ভালো, এখন নির্ঘাত দেশজুড়ে প্রচন্ড তৃণমূলীকরণ চলছে, তাই একটু ফ্যাসিবাদি মতো হয়ে গেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পশ্চিমবঙ্গের আরশোলারা | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫১748564
  • আব্দুল হাফিজকে চেনেন? এই সেই ছেলে, যে বাঁকুড়া থেকে সোজা চলে গিয়েছিল যন্তরমন্তরে। নিট আন্দোলনে। তারপর এলাকায় স্কুলের হাল ফেরাতে চাওয়ায় প্রাণ দিতে হয়েছিল তার বাবাকে। বাবার মৃত্যুর কোনো কিনারা হয়নি, হবে কেউ আশাও করেনা। কিন্তু খবর হল, এর মধ্যে গতকাল তাকে নিউটাউনে আটক করে পুলিশ। অপরাধ? কেউ জানেনা, পুলিশও না। একা নয়, আরও কয়েকজন আরশোলাকে তোলা হয় একই সঙ্গে। হাফিজের বর্ণনা অনুযায়ী একদল পুলিশ হঠাৎ উদয় হয়ে চড়-থাপ্পড় মারতে মারতে তাদের নিয়ে যায় ইকো পার্ক থানায়। সেখানে একদফা নির্যাতন চলে। মেয়েদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। ভিডিওয় হাফিজ দেখিয়েছে মেয়েদের পায়ে আঘাতের দাগ। একটি আঠারো বছরের মেয়ে প্যানিক অ্যাটাকের শিকার। তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় আরেকটা থানায়। শখানেক পুলিশের উপস্থিতিতে জোর করে লেখানো এবং ভিডিও করানো হয়, যে, তাদের শুধু আটক করা হয়েছে, আর কিছু করা হয়নি। এবং তেরো ঘন্টা পরে ছাড়া হয়।


    মোটের উপর, বাংলায় এক বিরাট মামারবাড়ির সূচনা হয়েছে। আগে শুধু রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ আছে এরকম লোকজনের উপর এসব হচ্ছিল। এখন, কোনো অভিযোগ নেই, কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও নেই, স্রেফ কোথাও কেউ প্রতিবাদ করে ফেলতে পারে, হয়তো যন্তরমন্তরে চলে যেতে পারে, স্রেফ এই আশঙ্কায়ই পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। নির্যাতনও করছে। যদিও সবাই জানে, প্রতিবাদ করা অপরাধ না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা অপরাধ না। অপরাধ তো না ই, বরং ওটা সাংবিধানিক অধিকার, গণতন্ত্রের স্তম্ভ। পশ্চিমবঙ্গে এমন একটা ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে, যেখানে সেই অধিকার তো রক্ষিত হচ্ছেই না, বরং কেউ কোথাও বেফাঁস কথা বলে ফেলতে পারে, এইরকম আন্দাজের উপরেই ধরপাকড় চলছে। ভেবে দেখুন, আপনি হয়তো ভাবছেন, এই মোদিতন্ত্র জিনিসটা ভালো না, শুধু ভাবছেন, কিছু করেনওনি, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের এখন অধিকার আছে, আপনাকে তুলে নিয়ে যাবার। মোদির বিরুদ্ধে ভাবছিস কেন, অ্যাঁ?


    এটা যে শুধু স্বৈরাচার তাইই নয়, মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা। শাসক দলের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত এর কোনো ব্যাখ্যা পাবেন না। একজন কার্টুন ভট্টাচার্য মাঝেমধ্যে "এগুলো আমাদের সংস্কৃতি নয়" বলে ম্যানেজ দেবার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বাকি যা আছে, তা আবর্জনা। আরএসএস বলে একটা বস্তু ছিল, যতই অপছন্দ করি, তাদের একটা আদর্শ ছিল, সেসব নিয়ে তর্কবিতর্ক করা যেত কিন্তু এখন যারা মাথায়, তারা আগে ছিল নানা দলের ধান্দাবাজ, এখন ভয়ে বা ভক্তিতে স্রেফ নন্দী-ভৃঙ্গীতে পরিণত। এদের সঙ্গে সংলাপে যাবারই কোনো মানে নেই। দরকার স্রেফ এই আবর্জনা পরিষ্কার। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, এই আবর্জনা পরিষ্কারের লড়াইয়ে ওই কুড়ি-বাইশের আব্দুল হাফিজ আমার নমস্য। তার বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক এই লড়াইয়ের প্রথম শহীদ। এসআইআর বিরোধী গণআন্দোলন প্রথম শুরু হয়েছিল মালদার কালিয়াচক আর মোথাবাড়িতে। ওই মাটি আমার পুণ্যভূমি। মোফাক্কেরুল ইসলাম এই আন্দোলনের প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া নেতা। আর ভোটচুরির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম নেতা গর্গ চট্টোপাধ্যায়।


    এই নামগুলো কোনো বিজ্ঞ জমায়েতে শুনতে পাবেন না। কিন্তু আর কিছু করতে পারি না পারি, এই নামগুলো ভুলতে দেবনা। এদের সবার চিন্তাভাবনাই আলাদা হবে, হাফিজের হয়তো তেমন দানাও বাঁধেনি, কিন্তু তাতে কিছু এসে যায়না। যখন কেউ কোত্থাও ছিলনা, এরা আওয়াজ তুলেছিল। বাংলা থেকে। নিপীড়ন ঘাড় পেতে নিয়েছিল। স্রোত যখন প্রতিকূলে, তখন যে আওয়াজ তোলে, সেই তো নেতা। অন্তিম জয়ের দিন পর্যন্ত সেটা মনে রাখব।


    পুঃ এই খবরটা একটু ছড়িয়ে দেবেন। শেষাংশটা নেহাৎই ব্যক্তিগত, ইচ্ছে হলে সেটা বাদ দিয়েই দেবেন। পশ্চিমবঙ্গের আরশোলার এখনও নিজেদের খবর ছড়ানোর জায়গায় আছে বলে মনে হয়না।

  • - | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৭748566
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন।