

অলংকরণ: রমিত
সংসার আমার নখে ফোটায় রক্তলেখা। চন্দন তারপর থেকে রূপকথা। আমার তৃতীয় নয়নের নিচে সুদূর চন্দনবনের গন্ধ, নীলকুমারের পদপল্লব ওখান থেকে শোকের নির্বাণ। গান আর মন্ত্র। মন্ত্রের মতো গান। শ্লোক ভেসে গেছে অন্ধকার ব্রহ্মচারী স্রোতের ওপর কাঁঠালপাতার বুকে একফোঁটা আলো নিয়ে। আমার আলো দেখলে মনে হয় বাঁধা পড়ে যাব। বোধির মাথায় শম্বুক ছায়া দেয়। তাদের শীতল দুঃখ বোধির আয়ত চোখে হয় মহাকরুণা। শম্বুকের চোখে আলো জ্বলে সে বাঁধা পড়লে নিয়ন্ত্রণহীন। পাখির নিষ্ঠুর চঞ্চু শম্বুকের শীতল দুঃখ ছিঁড়ে খায়। মহাকরুণা নিভে আসে আয়ত চোখে। বোধির শরীর যায় নৈরঞ্জনাঘাটে। মায়ার ভিতর শম্বুক না থাকলে নির্বাণ নেই। এ মায়াকে বিরহ ও শব্দ দেবে বলে বোধি প্রাসাদ ছেড়ে বাঁধে পাতার কুটির। অশম্বুক ছন্দ খুঁজে যন্ত্রণায় নীল হলে নীলকুমার পদপল্লব রেখে যান বোধির শিরে। অলক্ষ্যে বোধির শব্দ ধরে রাখি কুচে। ভূর্জপত্রের চন্দনানুলিপ্ত রূপকথা আমাকে অর্পণ করে গেছে বোধি। সেসব আমি মুক্তো বলে জানি। কেবল আমার বীণাটির তন্ত্রী সেদিন নৈরঞ্জনাঘাটে ছিন্ন করে দিয়ে গেছে এক দেবপুরুষ। এসো, উত্তরকালের পীড়িত শাব্দিক, মারের চোখের কাজল থেকে চন্দন নিয়ে বোধিকবির শব্দে ঠেকিয়ে নির্বাণ দেব তোমায় আমি বোধির প্রেয়সী সরস্বতী।
Ranjan | ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২০743022