এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  প্রবন্ধ  ইস্পেশাল

  • বাঙালির লোকায়ত উৎসবঃ ঝুলনযাত্রা

    শারদা মন্ডল
    প্রবন্ধ | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ বার পঠিত
  • উৎসব সংখ্যা ২০২৬ | আমার উৎসব পাচ্ছে না | ডড্ডামারা এবং... | বিস্মৃত পিটক | বেরিয়ে যাওয়ার আগে নক্সা লিখে রাখি | উৎসব আমাদের | ইঁদুর অথবা | পৃথিবীর ক্লান্ত বিকেলের রোদে | ধান তোলার মরশুম | ভাঙা ডানার আকাশ | সল্টলেক | জীমূতবাহন | কবিতাগুচ্ছ | অবাধ্য যত দুঃস্বপ্নরা | পুঁজিবাদী পেরেক আর ৩য় বিশ্বের যীশু | কবিতা লিখুন খিস্তি দিয়ে, জাটেল্লির মতো | সাঁতারখোকার গল্প | কবিতাগুচ্ছ | কাগজের নৌকা | রূপান্তর | যে মাটিতে দাঁড়িয়ে | আমিই সে | তিনটি অণুগল্প | বিগলিত সায়াহ্ন | নদী বিষয়ক | আশির আমি, আশির তুমি | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু - শেষ পর্ব | ভাণ্ডান বিনতি | বাঁশি | খুলে যাও সিমসিম | মেয়েজন্ম, মেয়ে নয় শুধু... | আগুনে গড়া হাজার বছর ১ | তারকভস্কির ছাত্রজীবনের ছবি | বর্ষাপুরাণ | যে গল্পদের শোনা হয়নি | আগুনে গড়া হাজার বছর ২ | শখের কুলুঙ্গি | স্কারলেট পর্ব ১ | স্কারলেট পর্ব ২ | দুটি কবিতা | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ১ | দাদির কবর | রিকশা নিয়ে সাতসতেরো | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ২ | মনলিপি | ধুলোর রাজপথ | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ৩ | রাষ্ট্র বনাম নদী | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ৪ | পসন্দ আপনা আপনা | চিরন্তনী সাহিত্য ও প্রেমের গল্পে শরৎচন্দ্র | বিজনের সাথে দেখা | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ৫ | বাঙালির লোকায়ত উৎসবঃ ঝুলনযাত্রা

    সঙ্গের ছবিগুলি : শারদা মন্ডল



    কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর এই পার্বণে বা বাঙালির লোকউৎসবের সঙ্গে মাটির পুতুলের যোগাযোগ অত্যন্ত গভীর। জ্ঞান হওয়া ইস্তক দেখেছি বাড়িতে ঝুলন সাজানো হত, তখন তো এর ঐতিহ্য বা সময়কাল এই নিয়ে জ্ঞান ছিল না, তবে উত্তর কলকাতায় প্রতিবছরই এই ঝুলনের কিছুদিন আগে থেকে বাজারে বা পথে ঘাটে মাটির পুতুল বিক্রি বেড়ে যেত, আর আমরা দুবোন নিবেদিতা ইস্কুল থেকে ফেরার পথে মায়ের কাছে বায়না করে পুতুল কিনতাম। প্রতিবছর এইভাবে আমাদের পুতুলের সম্ভার বেড়ে যেত, তবে সব পুতুল অবশ্য বাঁচানো যেতনা, ফেরার পথে বৃষ্টি হলে, অথবা বাসের ঝাঁকুনিতে পুতুল বাড়ি আসতে আসতে হয় অভ্র ঝরে যেত নয়তো নাকের রংটা চটে যেত, অথবা কোনো হাত ভেঙে যেত। তখন বহু কষ্ট করে মাথা থেকে বুদ্ধি বের করে সেই পুতুল সারানো হত এবং পরের বার যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, তাই কত সুরক্ষিত ভাবে মাটির পুতুলকে ঘরে আনা যায়, তাই নিয়ে গবেষণা চলত নিরন্তর। এই ভাবে মাটির পুতুলের প্রতি একটা ভালোবাসা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল, আর সেই পুতুল প্রেমের এতটাই জোর যে আজ এই প্রৌঢ় বয়সেও এর মোহ কাটাতে পারি নি। বাইরের পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৌড়ে বেড়াক তবু আজও আমি বাড়িতে ঝুলন সাজাই, আর অদ্ভুত ভাবে সেই ঝুলনের একটা পোস্ট করা ছবি দেখার জন্য বহু মানুষ ফেসবুকে বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অপেক্ষা করে থাকেন, আর যাঁরা স্বচক্ষে ঝুলন এসে দেখে যান, তাঁরা আবেগে, ছেলেবেলার স্মৃতিতে উদ্বেল হয়ে ওঠেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুলন সম্পর্কে তথ্য জেনেছি কিছু কিছু।

    বৈষ্ণব প্রভাব


    আসলে এই ঝুলনযাত্রা হল বাঙালির জীবনে বৈষ্ণব প্রভাবের একটা রূপ - ঠিক যেমন তুলসীমঞ্চে প্রদীপ জ্বালানো হল হাজার হাজার বছর আগে বৌদ্ধস্তূপে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রদীপ জ্বালানোর সামাজিক স্মৃতি। এই ভাবেই আমাদের ইতিহাস সংস্কৃতির রূপ ধরে জীবনধারায় বহমান থাকে। ঝুলন যাত্রা বা ঝুলন পূর্ণিমা উপলক্ষে মূলত শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত নানাবিধ পুতুলের প্রদর্শনী চলে, প্রদর্শনীর কেন্দ্র থাকেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধারাণী – তাঁরা দোলনায় অবস্থান করেন, একপাশে পাহাড়ের মাথায় থাকেন হরপার্বতী। পাহাড় আর নদী না থাকলে ঝুলন সাজানো যায়না। এই পাহাড় হলেন স্বয়ং গিরি গোবর্ধন – শ্রীকৃষ্ণ নিজে অদেখা ইন্দ্রের বদলে যাঁকে সংরক্ষণ ও আরাধনা করতে গোপবাসীকে উপদেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁর তলায় সাধারণ গ্রামবাসীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, আর এই নদী হলেন স্বয়ং যমুনা, যার তীরে শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল এবং মন যমুনাকে বিষে নীল করেছিল যে প্রবৃত্তি রূপী – কালীয়নাগ – তাকে তিনি বশীভূত বা সংযত করেছিলেন।

    পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঝুলনে জলাশয়ও নির্মাণ করা হয়, এবং নদী ও জলাশয়ে নানারকম মাছ ও হাঁস বক জাতীয় পাখি পুতুল বসানো হয়।

    যেহেতু ঝুলন উৎসবটি হয় শ্রাবণ মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে— ঐ জলাশয় তাই ভরে ওঠা পুকুর, খাল বিলের প্রতীক - ঐ নদীতে নৌকো বা জাহাজ যেমন বসানো হয়, তেমনি জলাশয়ে বসে হাঁস, মাছ। সব মিলিয়ে বর্ষায় জল পেয়ে ভরভরন্ত ও সজীব প্রকৃতি, নতুন চাষ, বাণিজ্য— বাংলার এই চিরন্তন রূপটিই যেন প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়। জল ও সবুজ ভূমিতে উৎসবের এই উদযাপনটি আসলে বাংলায় একধরনের উর্বরতার উদযাপন আবার একই সঙ্গে আবাহনও বটে — ইংরেজিতে যাকে বলা হয়— Fertility Ritual, তাই ঝুলনের পুতুলগুলিকেও অবশ্যই Ritual Doll বলা যেতে পারে।

    *শিশুদের প্রকৃতিপাঠ ও সৃজনশীলতা*

    প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় আবহ থাকলেও ঝুলনের পুতুল প্রদর্শনী কিন্তু উচ্চ নীচ ভেদাভেদ মুক্ত। ঝুলনে কেবল দেবদেবী বা বিশেষ কোনো উচ্চবর্গীয় চরিত্রের স্থান হয় না। এতে সাধারণ সমাজের সমস্ত পেশার ও সর্বস্তরের মানুষের স্থান থাকে— যেমন সাধু, মাছ ও ফল বিক্রেতা, পূজারী পুরোহিত, কীর্তনীয়া, বাজনদার, বাউল, রাখাল, এমনকী সাম্প্রতিককালের আইসক্রিম বিক্রেতা বা ক্রেনচালক এমনকি কার্টুন চরিত্র পর্যন্ত। তবে রাজা রাণী, বর বউ এমনকি কমিকসের হিরো হিরোইন যেমন অরণ্যদেব অথবা ম্যানড্রেক নার্দা - ঝুলনে কেউই ব্রাত্য নন। আজকাল কলকাতায় যেহেতু কার্টুনের মেলা বসে - সেখানে যাঁদের নাম বললাম - খুলি গুহায় অরণ্যদেব থেকে শুরু করে মায় ফেলুদা পর্যন্ত সবার পুতুলই পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে ঝুলন পুতুলের প্রদর্শনী মূলত ছোটদের উৎসব। শিশু মনে মানুষ আর প্রকৃতির যে ভারসাম্য তার একটি চিরন্তনী রূপ যেন এই ঝুলনযাত্রায় এঁকে দেওয়া হয়। সেখানে পাহাড়, নদী, বন, পশুপাখি এমন প্রাকৃতিক উপাদান যেমন থাকে, তেমনই বাড়ি, ঘর, নানা পেশার মানুষের প্রতিকৃতি বা নানারকম action doll-এরও বিপুল উপস্থিতি থাকে। আবার সেইসঙ্গে থাকে নানারকম গাড়ি আর রাস্তা - যেমন সাঁকো, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, মোটর গাড়ি, রেলগাড়ি। যে শিশুর কাছে যে উপাদান আছে, তাই দিয়েই তারা ঝুলন সাজায়। এইভাবে তাদের যেমন বাস্তুতন্ত্রের পাঠ হয়, তেমন সৃজনশীলতারও বিকাশ ঘটে।

    অরণ্য নির্মাণ


    ঝুলনে ঘনবন তৈরি করার রীতি আছে, সেখানে যেমন সত্যিকারের মাটি, ঘাস, জীবন্ত চারাগাছ ব্যবহার করা যায়, আবার তার কৃত্রিম অনুকরণও করা যায়, কোনো বাধা নিষেধ নেই। এই অরণ্যনির্মাণ — প্রকৃতপক্ষে শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি বৃন্দাবনের অনুকরণ, অথবা পুনর্বিন্যাস। আবার সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন এ হল ঊর্বরতা উদযাপনের আর একটি প্রতীকী আচার। এই কৃত্রিম বনের মধ্যেই বাঘ, সিংহ, হরিণ, ময়ূর ইত্যাদির পুতুল রাখা হয়। বনের মধ্যেই রাস্তা বানিয়ে সেখানে কাঠুরিয়া, বাউল বা রাখালের পুতুল রাখা হয়। এইভাবেই মানুষ আর বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষের বদলে তাদের নিবিড় সহাবস্থানই ফুটিয়ে তোলা হয়।

    পুতুলের প্রকার


    আমার বাড়িতে ঝুলনের পুতুলগুলি মূলত কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি এবং কলকাতার কুমোরটুলি থেকে আনা। কৃষ্ণনগরের পুতুলগুলি মূলত একটি চওড়া পাটার ওপর নানারকম বাজার— যেমন সব্জি, মাছ বা ফল বিক্রেতার পুতুল; এমনকি পূজারত পুরোহিত, কীর্তনীয়া ও বাজনদারের দল। মুখচোখগুলি বা চেহারা পাশ্চাত্য রীতি অনুসারী বাস্তবের সমতুল— কাটা কাটা নিখুঁত নাক চোখ ও ঠোঁটের নকশা। কিছু পঞ্চতন্ত্র বা কথামালার গল্প অনুসারী পুতুল আছে - যেমন কলসিতে কাক ঠোঁটে করে নুড়ি ফেলছে বা কুয়োর দুপাশে খরগোশ আর সিংহ। কিছু আছে ঝলমলে রঙ করা পোড়ামাটির তৈরি কার্টুন বা সিনেমার চরিত্র - কোই মিল গয়া সিনেমার ‘জাদু’, বা মোটু পাতলু, ডোরেমন ইত্যাদি। আবার কুমোরটুলির পুতুলগুলি দুধরণের। একধরণ হল ব্রজধামে শ্রীকৃষ্ণের নানাবিধ লীলা— কংসের কারাগার থেকে কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে বসুদেবের নিষ্ক্রমণ, যমুনায় বাসুকী নাগের ছাতা ধরে বসুদেবের নদী পার, কালীয় দমন, পুতনাবধ, অষ্টসখী নিয়ে কৃষ্ণের নৃত্য - এমন নানাবিধ। কিছু স্টোনডাস্টের যশোদা ও কৃষ্ণের বাৎসল্য লীলার পুতুল আছে, সেগুলি মায়াপুরের।


    যীশুখৃষ্টের জন্ম, প্রাপ্তিস্থান সেন্ট পলস ক্যাথিড্র্যাল, কলকাতা



    হাওড়ায় তৈরি মহিলা মডেল





    দেওয়ালি পুতুল



    মা মনসা, হাতে সাপ, পাশে কাক বসে আছে। টেপা পুতুল



    হাতে টেপা ষষ্ঠী পুতুল


    আবার কুমোরটুলিতে action doll হিসেবে আজকাল চারটে ফিগারের বেশকিছু নতুন ধরণের পুতুল আমদানি হয়েছে— আমাদের ছোটবেলায় আইসক্রিম বিক্রেতা তার ঠেলাগাড়ি নিয়ে একাই দাঁড়িয়ে থাকতো। এখন কিন্তু বেশ অভিনবত্ব এসেছে। এইসব বিক্রেতারা আর কেউ একা নেই। যেমন, আইসক্রিম বিক্রেতা ও তিনজন ক্রেতা একসাথে, এমন ক্রেতা-বিক্রেতা পুতুলের মধ্যে ফুচকা ওলা, ভ্রাম্যমাণ দোসা সেন্টার সবই পড়ে। হুগলির জয়রামবাটি, কামারপুকুর এলাকায় বিক্রি হয় ছোট ছোট নেকড়ার পুতুল - যেমন বর - বৌ, শিব - পার্বতী, সাঁওতাল ছেলে মেয়ে - সব জোড়ায় জোড়ায়। আগে দেখেছি বর্ধমানের নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল, তা সে রাধা কৃষ্ণ, পেঁচা, যাই হোক না কেন, আকারে ছিল বড় বড়। এখন চমৎকার সব মিনিয়েচার তৈরি হচ্ছে, তার বেশ কিছু নিজের সংগ্রহে রেখেছি। পুতুলের কথা বলতে গেলে বাঁকুড়ার কথা না বললে চলেনা। পাঁচমুড়ার টেরাকোটা ঘোড়া, বিষ্ণুপুরের মাটির শাঁখ আর বিকনার ডোকরা ফিগার না হলে কী আর ঝুলন জমে? এরা হল ঝুলনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তবে ডোকরার বেশ কিছু বাছাই করা জটিল ফিগার যেমন ঢেঁকিতে চাল ভাঙছে এমন মহিলা, রথে চড়া সেনাপতি ও রাজা বিভিন্ন মেলায় সরকারি স্টলে বা দক্ষিণাপণ থেকে সংগ্রহ করা যায়, যেগুলো শিল্পীদের কাছে সরাসরি গেলে কখনও দেখিনি।


    মিরিকের প্লাই আর কাপড়ের পুতুল



    আদিত্যপুরের মাটি মুন্ডা পুতুল



    ডেলো পাহাড়ের চকমকে ছেলে



    মৃচ্ছকটিক



    নৈনিতালের মোমের পুতুল



    ডুয়ার্সের গন্ডার



    দার্জিলিং এর পড়ুয়া


    কলকাতার বিভিন্ন মেলায় ঘুরে কত যে ঐশ্বর্য খুঁজে পেয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। যেমন জয়নগর মজিলপুরের বাবু পুতুল, মা শীতলা আর দক্ষিণ রায়। এগুলি পেয়েছিলাম নন্দন চত্বরের শীতকালীন মেলায়। পূর্ব মেদিনীপুরে তৈরি অপরূপ ফিনিশিংয়ের পোড়ামাটির রান্নাবাটি পেয়েছিলাম হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের মেলায়। প্রেস ক্লাব লাগোয়া মাঠে পেলাম পোড়া মাটির চাকা ওলা গাড়ি বা মৃচ্ছকটিক। এগুলিতে ফুঁ দিলে বাঁশির মত বাজে। নিউটাউনে হস্ত শিল্প মেলায় পেয়েছি কোলাঘাটে তৈরি মোষের শিঙের পাখি কাম হুইসল। আবার ওখান থেকেই কিনেছি হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে তৈরি ছোট ছোট টেপা পুতুল - অনেকগুলি শিশু নিয়ে পা ছড়িয়ে বসা মাতৃমূর্তি, মুখগুলি সরু - মেয়েদের হাতের চাপে আঙুলে টিপে টাপে তৈরি। আরও পেয়েছি - উত্তর দিনাজপুর এলাকায় তৈরি ষষ্ঠী পুতুল - সেটিতেও দেবীর কোলে ও কাঁধে একাধিক শিশু আছে। এই গড়নটি প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার "মাতৃকা মূর্তি" বা 'মাদার গডেস'-এর কথা মনে করিয়ে দেয়, যা ধর্মের প্রাচীন ধারাকে টিকিয়ে রেখেছে। এই একই ধাঁচে মনসা মূর্তিও তৈরি হয় - সেটিও সংগ্রহে রেখেছি। মেদিনীপুরের পটুয়া গ্রামে তৈরি জো পুতুলের গড়নও একই রকম, তবে এরা সাদা, লাল হলুদ, সবুজ নানা রঙে রাঙানো। গৃহস্থের খোকা হোক বা নতুন বউয়ের কোলে ছেলে থাক এমন ইচ্ছে থেকেই তৈরি করা হয় এই পুতুল। পণ্ডিতরা বলেছেন, এ পুতুল আসলে ‘ভেনাস ফিগারাইন’। মিশর, মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া পুতুলের রূপের সাথে অদ্ভুত মিল আছে এই ‘জো’ পুতুলের।


    কলকাতার কুইল পেপারের পুতুল



    মায়াপুরের স্টোনডাস্টে তৈরি কৃষ্ণের জীবন



    বাঁশের কামাখ্যা মন্দির



    ইনি লাভা সুন্দরী



    জয়রামবাটীর কাপড়ের হরপার্বতী



    হাতে টেপা জো পুতুল



    কৃষ্ণনগরের বাজার


    সল্টলেকে সেন্ট্রাল পার্কের মেলায় পেয়েছিলাম অজস্র পাটের দড়ির পুতুল - নিখুঁত গাছ - গাছের ডালে পাখির বাসা, প্রমাণ সাইজের বাজনদার ও নর্তকী।

    শান্তিনিকেতনে পাওয়া যায় গাছের নানা অংশ দিয়ে তৈরি পাখি, ইঁদুর, নৌকো - ইত্যাদি কতরকমের কাটুম কুটুম। শিল্পগুরু অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনন্য সৃষ্টি ‘কুটুম-কাটাম’ (বা কাটুম কুটুম) আজও শান্তিনিকেতনের শিল্প সংস্কৃতি এবং স্থানীয় বাজারে সমানভাবে জীবন্ত। গাছের ফেলে দেওয়া শুকনো ডাল, শিকড়, বাঁশের গাঁট কিংবা ত্বকের স্বাভাবিক গঠনকে প্রায় অপরিবর্তিত রেখে সামান্য ছোঁয়া ও কল্পনার তুলিতে তিনি যে বিমূর্ত ও রূপক ভাস্কর্য তৈরি করতেন, তা আজও শান্তিনিকেতনের হস্তশিল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির শনিবারের হাট এবং ভুবনডাঙার স্থানীয় হস্তশিল্পের বাজারগুলোতে আজও বহু কুটির শিল্পী এই ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি নানা পশু-পাখি বা মানব অবয়বের কাঠকুটোর পুতুল পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।


    মোহনপুরের গালার পুতুল



    জয়নগর মজিলপুরের সুন্দর রায়



    ডোকরা



    পঞ্চতন্ত্র



    আরাকুর কাঠের পুতুল


    আবার শান্তিনিকেতনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ফিল্ড সার্ভেতে গিয়ে কঙ্কালীতলার কাছে আদিত্যপুর নামের একটি গ্রাম থেকে সংগ্রহ করেছিলাম কালো রঙের গোলগাল পোড়া মাটির পুতুল। সম্পূর্ণ হাতে টিপে বা বেলে তৈরি এই আদিম ঘরানার পুতুলগুলোকে অনেকেই 'টেপা পুতুল' বা 'মাটিমুণ্ডা' পুতুল বলে থাকেন। পুতুলগুলোর এই গাঢ় কালো রঙের পেছনে কোনো কৃত্রিম রঙ নেই। মাটি দিয়ে গোল গোল পুতুল বা মুখাবয়ব তৈরির পর সেগুলোকে চুল্লিতে বিচালি ও তুষের ধোঁয়া দিয়ে বাতাসহীন অবস্থায় পোড়ানো হয়। ধোঁয়ার কার্বন মাটির ছিদ্রে বসে পুতুলগুলোকে এমন নিখাদ চকচকে কালো রঙ দেয়।

    পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থেকে সংগ্রহ করেছিলাম হাতে টেপা গালার পুতুল। ওখানকার এক বাসিন্দা আমাকে প্রথম এমন পুতুলের খোঁজ দেন। পরে পড়াশোনা করে দেখলাম যে বৃন্দাবন চন্দ নামে এক শিল্পী বলেছেন, “উইয়ের ঢিবি থেকে মাটি সংগ্রহ করতে হয়। দিন তিনেক জলে ভিজিয়ে রাখতে হয় সেই মাটি। তাতে মাটি গেঁজে ওঠে। কাঁকর থাকলে সেগুলো বেরিয়ে যায়। তারপর মাটি দিয়ে পুতুল তৈরি হয়। বানানো হয়ে গেলে প্রথমে ছায়ায়, তারপর রোদে শুকোনো হয়। পরের ধাপে পোড়ানো হয় আগুনে – তার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুঁটে লাগে। এইভাবে পুতুলগুলো রং করার উপযোগী হয়ে ওঠে।” পোড়ানোর পর সেই মাটির পুতুলের ওপর রঙিন গালার (প্রাকৃতিক রজন বা লাক্ষার আস্তরণ) প্রলেপ দেওয়া হয়।

    আমার কলেজ যেহেতু হাওড়া জেলায়, তাই দেখি সেখানে নানা স্থানে নানা উপলক্ষে মেলা লেগেই থাকে। এক রাস মেলাই দু সপ্তাহ করে কতগুলো এলাকায় ঘোরে। এছাড়া, চড়কের মেলা, নীল ষষ্ঠীর মেলা, রথের মেলা, শীতের মেলা, হরিসভার মেলা - কত কী! সেখানে ইদানীং একটা ব্যাপার লক্ষ্য করছি। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির পুতুল কেমন ভাবে বানাতে হয়, সেই বিষয়ে মেয়েদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকে তালিম দেওয়া হয়েছে। তারা কৌশলটা শিখে নেবার পরে একই রকম ফিগার বানাচ্ছে, তবে একটু অন্যরকম। ঘূর্ণির পুতুলগুলো মূলত পুরুষদের অ্যাকশন ফিগার। কিন্তু এই মেয়েরা তাদের জীবনের মডেল বানাচ্ছে। মাছ কাটছে এমন মেয়ে, বা রান্না করছে এমন বৌ, তার সামনে উনুন কড়া, হাতে খুন্তি। চার[পাশে বাসন কোসন। কোন মেয়ে পুতুল চিবুক অবধি হাঁটু ভাঁজ করে দুই পায়ের ফাঁকে বঁটি রেখে আনাজ কাটছে, শাড়ির নিচের পাড় একটু উঠে রয়েছে, চারিপাশে নানারকম আনাজের ঝুড়ি - একেবারে নিখুঁত রান্নাঘরের ছবি যেন। কৃষ্ণনগরীয় ঘরানার এই রূপান্তর দেখে খুব ভালো লাগে আমার। এই একই ধরণের ঘটনা দেখেছি পুরুলিয়াতে, সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা কাঠের পুতুল বানাচ্ছে। উত্তর ভারতের কোন জায়গায় যেমন নৈনিতাল, সিমলা প্রভৃতিতে বেড়াতে গেলে কাঠের তৈরি ভিন্টেজ কার ইত্যাদি গাড়ি ঘোড়া প্রচুর বিক্রি হয়। বহুবার হাত বাড়িয়েও বিফল হয়েছি। সংগ্রহ করতে পারিনি আগুন দামের জন্য। গতবছর অযোধ্যা পাহাড়ের কাছের বাজারে দেখি ঐরকম পুতুল বিক্রি হচ্ছে, ফিনিশিং, রঙ আসলের থেকে একটু বা নিরেস কিন্তু দামে তিনভাগের এক ভাগ। কৌতূহলী হয়ে একটু জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বুঝলাম - স্থানীয় শিল্পীরা প্রশিক্ষণ পেয়ে এগুলি বানিয়েছেন। সংগ্রহের পক্ষে যথেষ্ট ভালো। নৈনিতালের বিরাট আকর্ষণ হল মোমের পুতুল আর পাইন গাছের ফল আর ডাল দিয়ে তৈরি গাছের অনুকরণে বানানো শো পিস। সাহেব মেম, শিশুর দল, অথবা কুকুর, বিড়াল, পাখি, লন্ঠন - সব ধরণের পুতুল পাওয়া যায় এখানে - অন্য জায়গার সঙ্গে তফাৎ একটাই - এগুলো আসলে সব মোমবাতি। যদিও আমি প্রাণে ধরে এগুলি কখনও জ্বালাতে পারিনি।

    সল্টলেকের মেলায় পেয়েছিলাম কলকাতায় তৈরি কুইল পেপারে তৈরি একদল ছেলেমেয়ে। এই সেটটি আমার খুব প্রিয়। গাছের শিকড় দিয়ে তৈরি রবি ঠাকুরের মুখের অবয়ব - এসব নাম না জানা শিল্পীর কত না অপরূপ সৃষ্টি সংগ্রহে আছে আমার। খুব সরু সরু কাচের পাইপে তৈরি গরুর গাড়িও ওখানেই পেয়েছিলাম।

    পুতুল বিষয়ে বলতে গেলে উত্তরবঙ্গের কথা না বললেই নয়। মিরিকে পেয়েছিলাম খুব পাতলা কাঠের প্লাইয়ের ওপর কাপড় এঁটে তৈরি পাহাড়ি নরনারী। আবার কালিম্পঙ এর ডেলো পাহাড়ে সংগ্রহ করেছি একজোড়া কাঠের ছেলে চকমকে পুঁতির পোষাক আর পাগড়ি পরা। দার্জিলিংয়ের বাজারে অজস্র পুতুল পাওয়া যায়। তবে মনাস্ট্রির বাইরে বিক্রি হয় ছোট ডেস্কে বসা নেড়ু মাথার তিব্বতি পড়ুয়া পুতুল। আজকাল পাহাড় আর ডুয়ার্স দুইই ছেয়ে গেছে ত্রিপুরার মত বাঁশের নানারকম পুতুল আর শো পিসে। এও হল সেই স্বনির্ভর গোষ্ঠী আর তাদের তালিমের ফলাফল। ডুয়ার্সের স্পেশালিটি অবশ্য পালিশ করা কাঠের গণ্ডার, হরিণ, ময়ূর ইত্যাদি পুতুল। তবে পুতুলের বিষয়ে আমার কাছে সেরা জায়গা হল লাভা। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র থেকে বড় বড় অজস্র পুতুলের সম্ভার সেখানে আছে। তিব্বতী বৌদ্ধ সংস্কৃতি ঘেঁষা পুতুল - একটু বেছে বুছে নিতে পারলে কেল্লা ফতে। এক জায়গায় অত ভ্যারাইটি উত্তর বঙ্গে আর কোথাও দেখিনি।

    এই সংগ্রহের নেশা হল বড় নেশা। সীমারেখা টানা যায়না। ঘরে এখন জায়গা অপ্রতুল। এই সম্ভারটি দিয়েই বা যাবো কাকে? কে এর মূল্য দেবে! মাঝে মাঝে বসে বসে ভাবি। মেদিনীপুরের দীপলক্ষ্মী বা দেওয়ালি পুতুল রেখেছি খান দুয়েক, কিছু ভাদু টুসু। আবার কখনও ভাবি এখনও কিন্তু বাঁকুড়ার হিঙ্গুল পুতুল একটিও আমার কাছে নেই। ওটি যোগাড় করতে হবে। দেখা যাক কতদূর কী হয়!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    উৎসব সংখ্যা ২০২৬ | আমার উৎসব পাচ্ছে না | ডড্ডামারা এবং... | বিস্মৃত পিটক | বেরিয়ে যাওয়ার আগে নক্সা লিখে রাখি | উৎসব আমাদের | ইঁদুর অথবা | পৃথিবীর ক্লান্ত বিকেলের রোদে | ধান তোলার মরশুম | ভাঙা ডানার আকাশ | সল্টলেক | জীমূতবাহন | কবিতাগুচ্ছ | অবাধ্য যত দুঃস্বপ্নরা | পুঁজিবাদী পেরেক আর ৩য় বিশ্বের যীশু | কবিতা লিখুন খিস্তি দিয়ে, জাটেল্লির মতো | সাঁতারখোকার গল্প | কবিতাগুচ্ছ | কাগজের নৌকা | রূপান্তর | যে মাটিতে দাঁড়িয়ে | আমিই সে | তিনটি অণুগল্প | বিগলিত সায়াহ্ন | নদী বিষয়ক | আশির আমি, আশির তুমি | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | মেমোরিয়াস দি ভিদ্রু - শেষ পর্ব | ভাণ্ডান বিনতি | বাঁশি | খুলে যাও সিমসিম | মেয়েজন্ম, মেয়ে নয় শুধু... | আগুনে গড়া হাজার বছর ১ | তারকভস্কির ছাত্রজীবনের ছবি | বর্ষাপুরাণ | যে গল্পদের শোনা হয়নি | আগুনে গড়া হাজার বছর ২ | শখের কুলুঙ্গি | স্কারলেট পর্ব ১ | স্কারলেট পর্ব ২ | দুটি কবিতা | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ১ | দাদির কবর | রিকশা নিয়ে সাতসতেরো | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ২ | মনলিপি | ধুলোর রাজপথ | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ৩ | রাষ্ট্র বনাম নদী | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ৪ | পসন্দ আপনা আপনা | চিরন্তনী সাহিত্য ও প্রেমের গল্পে শরৎচন্দ্র | বিজনের সাথে দেখা | বাবুই বাসার সোনার সূচ পর্ব ৫ | বাঙালির লোকায়ত উৎসবঃ ঝুলনযাত্রা
  • প্রবন্ধ | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন।