

সঙ্গের ছবিগুলি : শারদা মন্ডল
কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর এই পার্বণে বা বাঙালির লোকউৎসবের সঙ্গে মাটির পুতুলের যোগাযোগ অত্যন্ত গভীর। জ্ঞান হওয়া ইস্তক দেখেছি বাড়িতে ঝুলন সাজানো হত, তখন তো এর ঐতিহ্য বা সময়কাল এই নিয়ে জ্ঞান ছিল না, তবে উত্তর কলকাতায় প্রতিবছরই এই ঝুলনের কিছুদিন আগে থেকে বাজারে বা পথে ঘাটে মাটির পুতুল বিক্রি বেড়ে যেত, আর আমরা দুবোন নিবেদিতা ইস্কুল থেকে ফেরার পথে মায়ের কাছে বায়না করে পুতুল কিনতাম। প্রতিবছর এইভাবে আমাদের পুতুলের সম্ভার বেড়ে যেত, তবে সব পুতুল অবশ্য বাঁচানো যেতনা, ফেরার পথে বৃষ্টি হলে, অথবা বাসের ঝাঁকুনিতে পুতুল বাড়ি আসতে আসতে হয় অভ্র ঝরে যেত নয়তো নাকের রংটা চটে যেত, অথবা কোনো হাত ভেঙে যেত। তখন বহু কষ্ট করে মাথা থেকে বুদ্ধি বের করে সেই পুতুল সারানো হত এবং পরের বার যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, তাই কত সুরক্ষিত ভাবে মাটির পুতুলকে ঘরে আনা যায়, তাই নিয়ে গবেষণা চলত নিরন্তর। এই ভাবে মাটির পুতুলের প্রতি একটা ভালোবাসা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল, আর সেই পুতুল প্রেমের এতটাই জোর যে আজ এই প্রৌঢ় বয়সেও এর মোহ কাটাতে পারি নি। বাইরের পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৌড়ে বেড়াক তবু আজও আমি বাড়িতে ঝুলন সাজাই, আর অদ্ভুত ভাবে সেই ঝুলনের একটা পোস্ট করা ছবি দেখার জন্য বহু মানুষ ফেসবুকে বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অপেক্ষা করে থাকেন, আর যাঁরা স্বচক্ষে ঝুলন এসে দেখে যান, তাঁরা আবেগে, ছেলেবেলার স্মৃতিতে উদ্বেল হয়ে ওঠেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুলন সম্পর্কে তথ্য জেনেছি কিছু কিছু।