এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদীরা

    বই পুরুষ লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৬৫ বার পঠিত
  • ঐতিহাসিক দিক থেকে অবিভক্ত বঙ্গ ও বিভক্ত পশ্চিমবঙ্গ অনেক কিছুরই সাক্ষি হয়েছে। পাল যুগের বৌদ্ধ ধর্ম থেকে শুরু করে সেন যুগের কৌলিন্য প্রথা। বিদ্যাসাগর বা রামমোহনের সমাজ সংস্কার থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথের দর্শন। বা জগদীশ চন্দ্র, সত্যেন বোসের বিজ্ঞান বা প্রফুল্ল রায়ের শিল্প ভাবনা। বা চিত্ত বসু ও সুভাষচন্দ্রের রাজনীতি। বা বিকেকানন্দের ধর্ম থেকে শুরু করে অরবিন্দের আধ্যাত্ম।

    এত মিশ্রসংস্কৃতি ও চিন্তার ফল হিসাবে একসময় পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার উত্থান অনিবার্য হয়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থা যে খুব একটা ফলপ্রসু হয়েছে, তা নয়। এমনকি বামপন্থী অ্যাজেন্ডাগুলোও যে তারা পূরণ করতে পেরেছিল, সেরকমটাও নয়। বরং তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসের তুলনায় অনেক বিষয়েই অনেক পিছিয়ে ছিল। এত ব্যর্থতার পরেও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীরা অনেক বেশি সফল ছিল। এবং এই সাংস্কৃতিক সফলতার ফল হিসাবে অনেকগুলি বিষয় পশ্চিমবঙ্গের জনমানসে উঠে এল। তার মধ্যে বিশ্বরাজনীতির প্রতি তৎকালীন বামেদের সংবেদনশীলতা ছিল প্রসংশনীয়। শুধু প্রসংশনীয়ই নয়, অনেকবেশি যৌক্তিক। কারন আমি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে যখন মানবতা ও বিজ্ঞানের কথা বলব। তখন সমগ্র বিশ্বসংসারের কথাই আমাকে বলতে হবে। কারন মানবতা ও বিজ্ঞান সমগ্র বিশ্বসংসারের জন্যই সমান ভাবে প্রযোজ্য। ধর্মীয় কার্যকলাপের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয়। কারন বিশ্বের সকল স্থানে ধর্মীয় কার্যকলাপ ও সামাজিক রীতি নীতি, খাদ্যাভ্যাস সমান বা এক নয়। কিন্তু বিজ্ঞান ও মানবতা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক ও সমান। সর্বহারা শ্রেণীর অধিকারের এই তত্ত্বের মধ্যে সকল বামপন্থীরাই যে প্রচন্ডরকমের উদার ও মানবতায় বিশ্বাসী ছিলেন, সেরকমটা নয়। কিন্তু একটি বৃহৎ মার্কসবাদী দর্শনের ছত্রছায়ায় প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মত করে জীবনচর্যা বেছে নিয়েছিলেন। সেই অর্থে দূর্গা পুজোও সেই বামপন্থী সংস্কৃতির মত করে বেড়ে উঠেছিল। তখনকার সামাজিক ভালো ও খারাপকে সঙ্গে নিয়েই। পশ্চিমবঙ্গে বামেরা ক্ষমতায় আসার পর বামেদের সাথে যা ঘটেছিল, পরাধীন ভারতে এবং স্বাধীনতার পরেও কংগ্রেসের সাথে একই জিনিস ঘটে।

    তখনকার হিন্দুত্ববাদী ও বামপন্থীরা যখন বিভিন্নভাবে অসুবিধায় পড়ত, তখন তারা কংগ্রেসের মধ্যে ঢুকে যেত। এবং কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই তারা তাদের নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কাজ করে যেত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছাড়া বাম ও তৎকালীন কংগ্রেসের মধ্যে মতাদর্শগত দিক থেকে তেমন কোন পার্থক্য ছিল না। সুতরাং বামেদের কংগ্রেসের মধ্যে মিলিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা হিন্দুত্ববাদীদের চেয়ে অনেক বেশি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের নিজস্ব অ্যাজেন্ডা পূরণের জন্য একসময় কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে তৈরি হওয়া আরএসএস কংগ্রেসের মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিল না। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের মধ্যে আরএসএস এর লোকেদের ঢুকে থাকার ব্যাপারটা খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না, তবুও হয়েছে। স্বাধীনতার এত বছর পর পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীদের সাথেও সেই একই জিনিস ঘটতে দেখা যাচ্ছে। .... তাই বলে এই নয় যে এর আগে রামের সাথে বামের জোট হয় নি। হয়েছে। কিন্তু সেটা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু বর্তমানে যা ঘটছে, সেটা হল নৈতিক স্তরে। অর্থাৎ বামপন্থীদের মধ্যে কিছু লোক একই সঙ্গে বামপন্থী ও হিন্দুত্ববাদী। বামপন্থী কারন বিজেপি তাদের অর্থনৈতিক দিক থেকে কোন সুযোগ সুবিধা দিতে পেরেছে বলে তারা মনে করে না (অর্থাৎ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন) এবং ভবিষ্যতেও দিতে পারবে বলে তারা আশা করে না। একই সাথে তারা হিন্দুত্ববাদী, কারন তারা মনে করে ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হওয়া উচিৎ এবং হিন্দুত্বের গরিমা তথা সামাজিক রীতি নীতি অটুট থাকা উচিৎ। এই দিক থেকে সামাজিক হিন্দুত্ববাদ ও অর্থনৈতিক বামপন্থার বিশেষ কোন সংঘাত নেই। অর্থাৎ একই সাথে এই দুটো অ্যাজেন্ডা বা নীতির সহাবস্থান সম্ভব।

    অর্থনৈতিক বামপন্থার গুরুত্ব: মূলগতভাবে মার্কসবাদী বামপন্থা একটি অর্থনৈতিক ধারনা। যেখানে মনে করা হয়, সমাজের সমস্ত বিভাজনের মূল হল অর্থনৈতিক বৈষম্য। যে বৈষম্যের ফলস্বরূপ বিভিন্ন সামাজিক বাধ্যবাধকতাগুলি তৈরি হয়েছে। সেই স্থানে বৈষম্য কাটিয়ে সমতা আনতে গেলে শ্রেণী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার সাথে সামাজিক বাধ্যবাধকতার উপরও আঘাত করা দরকার। যে বিষয়টি ভি আর আম্বেদকরও তুলে ধরেছিলেন। এবং হিন্দু ধর্ম ও সমাজে বর্ণ ব্যবস্থার বিলোপ সাধনের কথা বলেছিলেন। বর্ণ ও হিন্দু ধর্ম এতটাই অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত যে ধর্মের মধ্যে থেকে যদি বর্ণ ব্যবস্থাকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ধর্মের অনেক ফিচার বা বৈশিষ্টের অবলুপ্তি ঘটবে। এমন কি শ্রীমদ ভাগবৎ গীতার অনেক অংশের অবলুপ্তি ঘটাতে হবে। যেটা সেই সময় একটা Radical চিন্তা ভাবনা ছিল। এবং যেটা তখনকার হিন্দু সমাজ থেকে শুরু করে গান্ধিজীও মানেন নি। কিন্তু যদি সেই সময় এই radical চিন্তার প্রয়োগ ঘটানো যেত, তাহলে আজকের ভারতে উচ্চ-নিচ ভেদাভেদ বা শ্রেণীসংগ্রাম, অর্থনীতি বা ব্যক্তির আর্থিক অবস্থাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠত। গান্ধিজী আম্বেদকরের এই প্রস্তাবকে না মানার ফলে আম্বেদকরের সাথে গান্ধিজীর একটা পাকাপাকি বিভেদ তৈরি হয়।

    সুতরাং এটা বোঝা দরকার যে ভারতের মত দেশে বামপন্থা শুধু শ্রেণী সংগ্রাম নয়। শ্রেণী গঠন হওয়ারও একটা লড়াই। কারন আমি মনে করি কারখানায় পাশিপাশি যে দুজন শ্রমিক কাজ করছে, তাদের জাতি যাই হোক না কেন তারা দুজনে একই শ্রেণীভুক্ত, বা আম্বেদকরের ভাষায় দলিত। অর্থাৎ একটি শ্রেণী অপর একটি শ্রেণীকে দলন (মাড়ান) করছে। যাদের পায়ের তলায় দলন করা হচ্ছে তারাই দলিত। যদি কোন ব্রাহ্মণকে শূদ্ররা দলন করে, তাহলে সেখানে সেই ব্রাহ্মণ দলিত। কিন্তু সেই জায়গায় গান্ধিজী হরিজন শব্দ ব্যবহার করে। অর্থাৎ একটি বিশেষ জাতিভূক্ত মানুষ, যারা দলিত ও অস্পৃশ্য। আর এই জায়গায় আম্বেদকর ও পেরিয়ারের কথা মত জাতি ব্যবস্থাকে হিন্দু সমাজের বাইরে ছুড়ে ফেললে পুজো পার্বনসহ হিন্দু ধর্মের অনেক বৈশিষ্টেরই অবলুপ্তি ঘটবে। এখন প্রশ্ন হল, মানুষ এর জন্য প্রস্তুত কিনা?

    কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এর একটি উল্টো অবস্থা অনেক দিন ধরেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। অর্থাৎ জাতিপ্রথাকে শ্রেণী সংগ্রামের সঙ্গে না মিশিয়ে (যেখানে একজন গরীব ব্রাহ্মণও দলিত), বরং অর্থনীতি থেকে সরে এসে আদর্শগতভাবে হিন্দুত্ব ও হিন্দু ধর্ম ও সমাজের আচার আচরন, রীতি নীতি প্রাধান্য পাচ্ছে। এবং এখানে বিজেপির সাথে সাথে সিপিএম, তৃণমূলসহ অন্য বিরোধীরাও সুরে সুর মেলাচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য রাজ্যগুলিতে কিন্তু বিপরীত হাওয়া বইছে। কোন না কোন জায়গায় অর্থনীতির প্রশ্নে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এক হতে চাইছে। সফল হতে পারুক বা না পারুক, সামাজিক দিক থেকে এটা একটা ইতিবাচক ইঙ্গিত।

    এত বছর বাম শাসনের পরেও পশ্চিমবঙ্গের এই নীতিগত অবস্থানের জন্য কয়েকটি সংগঠন ও চিন্তাভাবনাকে আমার দায়ি বলে মনে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল পশ্চিমবঙ্গের সেই সব সংগঠন যারা মহারাষ্ট্রের শিবসেনাকে আদর্শ বলে মনে করে। এবং আমার মনে হয় এরা কোন না কোন ভাবে আরএসএস এর সঙ্গে যুক্ত। এরা সাংস্কৃতিক বামপন্থার থেকে পুজো বা ধর্মকেন্দ্রিক উৎসবকে বেশি প্রাধান্য দেয়। অর্থনৈতিক বামপন্থাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে না। অর্থনীতির চুঁইয়ে পড়া নীতিকেই এরা সঠিক বলে মনে করে। নক্সাল আন্দোলনকে পশ্চিমবঙ্গের অবনতির মূল কারন বলে মনে করে। নক্সালদের নৃশংসতা এবং হিংস্রতাকে আমিও সঠিক বলে মনে করি না। কিন্তু তাদের আর্থ-সামাজিক চিন্তা ভাবনাকে অস্বীকার করা যায় না। যার জন্য বর্তমান শাসক অনেক সময় আর্বান নক্সাল, দিমাগি নক্সাল বলে একটি বিশেষ চিন্তা ও চেতনাকে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ধরনের আঞ্চলিকতাবাদে বিশ্বাসী এই চিন্তা ভাবনার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের নীতি বা পলিসির সাথে আরএসএস এর নীতি বা পলিসির কোন ফারাক খুজে পাই না। এবং আরো ভয়ঙ্কর, এরা আন্তর্জাতিকতাবাদেও (internationalism) বিশ্বাসী নয়। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যেমন বাঙালির উপস্থিতিকে এরা অস্বীকার করে। একই সাথে পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে অবাঙালির উপস্থিতিকেও এরা উচিৎ নয় বলে মনে করে। এদের দর্শন অনুযায়ী কাজ হলে তার পরিনতি কী হতে পারে একটু কল্পনা করা যাক,

    যদি সকল ভাষাভাষির মানুষকে মূলগতভাবে সেই রাজ্যেই অবস্থিত করানো যায়। তাহলে অধিক বেতনের জন্য শ্রম ও শ্রমিকের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাতায়াত বন্ধ হবে। ফলে শ্রমিকের অধিক বেতনের দাবিকে সহজে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। এবং রাজ্যের মধ্যেই প্রচন্ডহারে শ্রমিক শোষণ করা যাবে। সেই শোষণের ফলে শ্রমিকরা যাতে সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে না নামতে পারে, তার জন্য আগে থেকেই একটা ভাষাভিত্তিক শত্রুতা এরা বাধিয়ে দিচ্ছে। কারন সারা ভারতের শ্রমিক যদি একসাথে আন্দোলনে নামে। তাহলে সরকার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, এই প্রবল জনশক্তির সামনে তারা একসময় হার মানতে বাধ্য হবে। কিন্তু ভাষাভাষির প্রশ্নে মানুষ যদি বিভক্ত থাকে। যেমন বাঙালিরা যদি শুধুমাত্র বাঙালির দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে বা বিহারীরা শুধুমাত্র বিহারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে। তাহলে সেইসব ছোট ছোট আন্দোলনকে রাষ্ট্রশক্তি অনেক সহজে দমন করতে পারবে। 140 কোটি লোক এক জায়গায় এলেই ওদের অসুবিধা। আরএসএস আগে ধর্মের ভিত্তিতে ভেঙেছে, তারপর জাতপাতের ভিত্তিতে, এখন অর্থনীতি, খাদ্য ও ভাষার ভিত্তিতে ভাঙতে চাইছে। কে গরু খাবে? কে নিরামিষ? -এই নিয়ে আরএসএস এর বিশেষ মাথাব্যথা নেই। সভারকর গরুর মাংস খাওয়ার পক্ষে ছিলেন। অনেক হিন্দুত্ববাদী নেতারা গরুর মাংস খায়। সুতরাং খাদ্যাভ্যাস আরএসএস এর অ্যাজেন্ডা নয়। বিভাজন ওদের অ্যাজেন্ডা। 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল'। গোবলয়ে ওরা গোমাতার কথা বলে। কিন্তু উত্তরপূর্বের গরু ওদের জন্য গোমাতা থাকে না, হয়ে যায় "মিথুন"। যাকে খাওয়া যায়। কারন গরুর মাংস ওখানে সাধারন খাবার। পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে ছুঁতমার্গ বিজেপি আসার আগে থেকেই ছিল। ওরা আঞ্চলিক অ্যাজেন্ডাটাকে গ্রহণ করেছে মাত্র।

    ..... তাহলে ভারতে ভাষাভিত্তিক সমস্যা কি নেই? অবশ্যই আছে। এবং তার সমাধান তখনই হবে যখন অর্থনৈতিক প্রশ্নে সকল ভাষাভাষির মানুষ এক জায়গায় আসবে। এই নীতি, বর্ণভেদ প্রথা থেকে শুরু করে ধর্মভেদ ও ভাষাগত ভেদাভেদের প্রশ্নে একটি উল্লেখযোগ্য সমাধানসূত্র হতে পারে। যার মূল নীতি দাড়িয়ে রয়েছে বামপন্থা ও মার্কসবাদকে কেন্দ্র করে। সুতরাং বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে নীতিগত প্রশ্নে বামেদের অনৈতিক হয়ে ওঠা। এবং ক্ষুদ্র আঞ্চলিকতাবাদ ও ধর্মীয় কার্যকলাপের প্রতি একটা প্রচ্ছন্ন সমর্থন খুবই চিন্তার বিষয়।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কৌতুহলী | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩০743487
  • বুঝলাম। তাহলে বিজেপি বিরোধী জোটটা কীভাবে হওয়া দরকার?বামপন্থীদের বাদ দিয়ে নাকি সাথে করে? আপনার কী মত? আপাতত পশ্চিমবঙ্গের সাপেক্ষেই বলুন।
  • তরমুজ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৩৪743490
  • @কৌতুহলী, বামপন্থী অ্যাজেন্ডা নিয়েই বিরোধী জোট হওয়া দরকার। শিক্ষা, স্বাথ্য, রোটি, কাপড়া, মকান, অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের বদলে চিন্তা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার গুরুত্ব, অনগ্রসর শ্রেণীর উন্নয়নের জন্য চিন্তা এবং সেই ইস্যুগুলিকে সামনের সারিতে নিয়ে আসা, কৃষি, পরিবেশ, দেশ বিক্রি, প্রশাসন। বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করার মত প্রচুর ইস্যু আছে। .... সেখানে পনেরো বছরের অপদার্থতার শাসনের জন্য যদি তৃণমূল বাদ পড়ে। তাদের বাদ দিয়েই এগোতে হবে।
  • কৌতূহলী | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:০৭743491
  • তা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। আপনি ইস্যুগুলোর কথা বললেন, কিন্তু আমি জানতে চাইছি কোন কোন রাজনৈতিক দল নিয়ে জোট হবে?কংগ্রেস, মমতা তৃণমূল, বামফ্রন্টের বাম, বাম্ফ্রন্ট বহির্ভূত বাম, আইএসএফ - কাকে কাকে জোটে দরকার। বিজেপিকে হারাতে হবে, এই ভোটের অঙ্কটা মাথায় রেখে বলবেন।
  • Dhuttor | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৪৬743495
  • @তরমুজ, খুবই আবেগপূর্ণ লেখা l তবে মানুষকে একসঙ্গে করবার জন্য যেসব আর্থিক ইস্যু আপনি বলছেন সেগুলোতে কিছুতেই মানুষকে এক করতে পারবেননা l মানুষ এক হয় ভয়ে l এক্ষেত্রে বিজেপী বিরোধী শক্তিকে একত্র করবেন কোন ভয় দেখিয়ে সেটাই ভাবতে হবে এবারে l একটা হতে পারে বাঙালীর জাতিসত্তা আজকে বিজেপির হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্তান প্রকল্পের মধ্যে বিপন্ন, এছাড়া আর সেরম কোন ইস্যু তো দেখছিনা l কি বলেন
  • তরমুজ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৪৭743496
  • যারা ঐ ইস্যুগুলিকে কেন্দ্র করে লড়তে পারবে, তারা। অবশ্যই ইন্ডি জোট।
  • Dhuttor | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৫৪743497
  • @তরমুজ "তাহলে ভারতে ভাষাভিত্তিক সমস্যা কি নেই? অবশ্যই আছে। এবং তার সমাধান তখনই হবে যখন অর্থনৈতিক প্রশ্নে সকল ভাষাভাষির মানুষ এক জায়গায় আসবে" এটা একটু গুছিয়ে ব্যাখ্যা করে বলবেন প্লিজ l বিহারী গুজরাটি মাল্লু পাঞ্জাবী মাড়োয়ারী এরা কেন বাঙালীর আর্থিক সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাবে ? আমার কিন্তু আপনার সমাধান impractical মনে হচ্ছে l
  • তরমুজ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৫৫743498
  • @ধুত্তর, এক মাসে ভোজ্য তেলের দাম পনেরো টাকা করে বেড়েছে। সেই জায়গায় আর্থিক ইস্যু যে কাজ করবে না, সেটা আমার মনে হয় না। বিরোধ করতে গেলে সরকারের প্রবল দমন ও নিপিড়ন সহ্য করতে হবে। সুতরাং ভয়ও আছে। ইভিলের উপর ডবল ইভিল চাই না। ভয় পাওয়ার জন্য যে ইভিল আছে, তারাই যথেষ্ট।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন।