এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • কাজার ডায়েরি - ১১

    দ লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৩৩৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ০ | ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১
    ২৯/০৯ - ৩০/০৯



    তাশিজির ভালবাসার উপহার অ্যামোনাইট ফসিল

    ২৯ তারিখও গেল বেশ ঢিলেঢালাভাবেই। সকাল থেকে খদ্দের কম। এদিকে সারা রাত ভোল্টেজ অত্যন্ত কম থাকায় তাশিদের রুমের গিজারেও জল গরম হয় নি। আমাদের রুমের গিজার তো আর ঠিক হয়ই নি। অন্য রুমগুলো সব ভরে গেছে পর্যটকে ফলে তাদের বাথরুম ব্যবহার সম্ভব নয়। বেশ কটি বাঙালি পরিবার এসেছেন দেখলাম। প্রাতরাশে পরোটা, কিন্তু এঁরা কেউই ওই মোটাসোটা পরোটা খেতে চাইছেন না।

    একজন বাচ্চার জন্য লুচি বানিয়ে দিতে বলছেন কিন্তু রবিভাইয়া 'লুচি' ব্যপারটা বুঝে উঠতে পারছেন না। আমার বোঁচা নাক বলল দেখছ কি বসে বসে যাও যাও গলাও ওখানে। অতএব দুজনের ফাঁকে গলিয়ে দিলাম নাকখানা। বাচ্চার জন্য দুধ কর্নফ্লেক্স আর ওঁদের জন্য পাতলা পরোটার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় ওঁরাও বেশ খুশী হয়ে আমার সম্পর্কে তত্ত্বতালাশ শুরু করলেন। 'ভলান্টিয়ারিঙ' এর কথা শুনে ভারী অবাক হলেন, কোনোদিন নাকি শোনেন নি এরকম কিছু হয়।

    ওই মোটাসোটা আলুর পরোটা আমারো খুব একটা ভাল লাগে না। আমি আর তাশি ক্যাফেতে গিয়ে চীজ এগ অলিভ ক্রেপ ( নাকি ক্রেপে?) বানিয়ে খেলাম, সাথে কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে বানানো কফি। এক ভদ্রলোক এলেন, তাঁর স্ত্রী পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্কি ফুল করার লাইনে দাঁড়িয়ে। তিনি হাঁটতে হাঁটতে মার্কেটে যেতে গিয়ে মার্কেটের শুরুতেই আমাদের ক্যাফেটা পেয়ে ঢুকে পড়েছেন। কাজার পরে স্পিতির বাকী অংশে আর কোন পেট্রোল পাম্প নেই।

    স্পিতিভ্যালি ট্রিপের যাবতীয় গাড়ি সে মানালির দিক থেকেই আসুক কি কল্পার দিক থেকে, কাজায় এসে ট্যাঙ্ক ফুল করতেই হয়। অনেকে আবার সঙ্গে আলাদা ক্যানেও কিছু নিয়ে নেন। কমিক, হিকিম, লালুং ইত্যাদি গ্রামগুলোতে কিছু লোকের কাছে পেট্রোল ডিজেল পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু সেসব বেশ খারাপ কোয়ালিটির, অনেক কিছু মেশানো থাকে। কোন সারথীই নিজের গাড়িতে সহজে ওইসব ঢালতে চান না। ফলে কাজার একমাত্র পেট্রোল পাম্পে প্রায় সবসময়ই লম্বা লাইন থাকে।

    আগন্তুক ভদ্রলোক স্ত্রীর সাথে ফোন করে কথা বলে পিৎজা আর মোমো অর্ডার করলেন। এই দুটো ক্যাফেতে বানানো হয় না। বিলালভাই বানিয়ে এনে দেন, কাছেই তাঁর দোকান থেকে। গতকাল চীজ এসে গেছে মানালি থেকে তাই আজ পিৎজার অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। ভদ্রমহিলা এলেন প্রায় ৪৫ মিনিট বাদে। দুজনে পালা করে ড্রাইভ করছেন, চন্দ্রতাল যাবার ইচ্ছে পরেরদিন। বললাম ওখানকার টেন্টগুলো খুলে নেওয়া হচ্ছে আস্তে আস্তে কাজেই রাতে থাকার পরিকল্পনা থাকলে কালকেই চলে যেতে। ৪ তারিখ থেকে আর সম্ভব হবে না।

    ওঁদের আরো কিছু জিজ্ঞাস্য ছিল সেসব জেনে আরো একটা পিৎজা আর একপ্লেট মোমো খেয়ে দুজনে গেলেন। ক্যাফেতে লাগোয়া নিজস্ব বাথরুম নেই। নদীর দিকে খানিকটা নেমে সামনের কন্সট্রাকশান সাইটের গা ঘেঁষে দুটো বাথরুম তালা দেওয়া। তারই একটার চাবি সল ক্যাফেতে থাকে। লোকে বাথরুম যেতে চাইলে চাবির সাথে সাথে পথনির্দেশও দিতে হয়। তাশিজি ডাবল চকোলেট বিস্কিট বানাচ্ছেন, তারই প্রাণমাতানো গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে ভেতরের খোলা ছাদে রোদ্দুরে পিঠ দিয়ে বসে বই পড়লাম অনেকক্ষণ।

    ইগার ভাই একটা কবিতার বই লিখেছেন, ইগা ফোনে তাঁকে বলে ক্যাফেতে কয়েকটা রেখে দেবে কেউ যদি কেনে। ভাইয়ের সাথে আরো নানা সুখ দু:খের কথা হয় ওর। ইকোস্ফিয়ার ওকে দিনে ৮০০/- টাকা হিসেবে পে করে। এদিকে ও ডেজিগনেটেড শেফ নয় অথচ সল ক্যাফে বা ব্ল্যাক পি ক্যাফেতে অনেক সময়ই অর্ডারি খাবার ও বানায়। মেয়েটার এখনই বিয়ে করার ইচ্ছে নেই। গ্রাজুয়েশান করল সবে, ম্যানেজমেন্ট পড়ার ইচ্ছে। ভাইকেও বলছিল বাড়িতে ওর হয়ে একটু বোঝাতে।

    ৩০শে দিনটা ভারী ব্যস্ত। বৈশালি এখনো জানায় নি ১ তারিখ ওসেল রুমে থাকলে পে করতে হবে কিনা। এদিকে আরেকজন ভলান্টিয়ার দুপুরে এসে পৌঁছাবেন তার জন্য রুমের চাবি চেয়ে নিয়ে গেল ইগা। আমি ফোন করি সেই ট্যাক্সিওলা সোনম ছোকরাকে। তার অল্টোখানা চলে গেছে কোথায়, তাই সে তার ভাইয়ার জিমনি গাড়ি ব্যবস্থা করে দেয়। দেমুল আর ঢাংকর গোম্পা দেখে আসতে লাগবে ৪৫০০/। অল্টো হলে কিছুটা কম হত। তবে চন্দ্রতাল যেতে জিমনি জাতীয় কোন ৪ X ৪ গাড়িই লাগবে, তাই ওকেই একেবারে হ্যাঁ বলে দিলাম।

    এরপরের কাজ হোমস্টে খোঁজা। অ্যালেক্স যেখানে আছে সেখানে ফোন করে জানা গেল ৫ তারিখ অবধি ওদের ফুল বুকড। ডেজোয়ারেও তাই। তাশিজি আর তাশি ওদের দেমুলের পরিচিতদের দুটো হোমস্টের সন্ধান জানাল। বাসস্ট্যান্ডের কাছেই তবে ঘরের লাগোয়া বাথরুম নয় কমন বাথরুম। নাহ চলবে না। লাঞ্চের জন্য বেরোবার সময় বলে এলাম বিকেলে আর আসবো না। সবাইকে বাই বাই বলে, ছবিটবি তুলে বেরোলাম।

    বাসস্ট্যান্ডের কাছেই আইবেক্স হোমস্টে, বেশ রাস্তার উপরেই। কিন্তু সেখানেও ২ থেকে ৫ তারিখ অবধি সব বুকড। এইবারে আমার খেয়াল হয় আরে ২রা অক্টোবর ছুটি, লম্বা সপ্তাহান্তে প্রচুর লোক বেড়াতে আসছে নিশ্চয়ই। খেয়াল করে আগেই বুক করা উচিৎ ছিল। আইবেক্সের আশেপাশের আরো কটা হোমস্টের ফোন নম্বরের ছবি তুলে ওসেল রুমে ফিরি। ফিরে দেখি গাটুক ভাই বাথরুমের গিজার বদলাচ্ছেন। দেখে রাগবো না হাসবো ভেবে পেলাম না।

    ১৫ দিন তা না না না করে কাটিয়ে এখন বদলাচ্ছেন। মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করে বলি দাঁড়াও বাছা আমারো গুগল রিভিউ আছে। ইতোমধ্যে নতুন ভলান্টিয়ার এসেই যায়। আমেদাবাদের মেয়ে রসিকা, ডেন্টিস্ট, ইকোস্ফিয়ারের ক্লিনিকের জন্য এসেছে। স্বপ্না নামে আরেকজন ডেন্টিস্ট আছে, কাংড়ার মেয়ে। স্বপ্না অবশ্য গত ৩ বছর ধরে এখানেই আসছে ৪ মাসের জন্য। রসিকা এই প্রথম। মন্যিয়া মুখ মচকে বলল হাঁ ডেন্টিস্টকা কদর হাম সে থোড়া জাদাই লাগতা হ্যায়।

    গাটুক ভাই যতক্ষণে গিজার বদলাচ্ছেন আমি ততক্ষণে গোটা তিনেক হোমস্টেতে ফোন করে ফেললাম। দেখলাম ইয়ুলগাল হোমস্টেতে ২ আর ৩ ঘর আছে। তাদের ওপরের ফ্লিরগুলো আবার লোহার ঘোরানো সিঁড়ি দিয়ে চড়তে হয়। ওতে চড়ে তো যাই কিন্তু নামতে খুব সমস্যা হয় আমার। তা তাদের গ্রাউন্ড ফ্লোরেও ঘর আছে, সেটার ভাড়া একটু কম, ১২০০/ প্রতিদিন, কারণ ঘর থেকে পাহাড় দেখা যায় না। আমার জন্য ওটাই সবচেয়ে সুবিধে হবে। বললাম বিকেলে গিয়ে দেখে আসবো।

    রসিকা মানালি থেকে কাজা এসেছে ট্যাক্সিতে। রাস্তায় নাকি বেশ কবার বমি করেছে। বেচারি খুবই কাহিল তাই হাত মুখ ধুয়েই শুয়ে পড়ল। আমিও বেরোলাম সোয়া ৫টা নাগাদ। প্রথমেই ইয়ুলগাল। ঘর দেখে তক্ষুণি মালকিন আন্টিজির হাতে ৫০০/- নোট ধরিয়ে বুক করে নিলাম। যাঁর সাথে ফোনে কথা বলেছিলাম তিনি ওঁর ছেলে, এখন সেইঞ্জ গেছেন কোন কাজে। ৩০ আর ১ ওঁদের বুকিং আছে, ২ দুপুরে আমি এসে যেতে পারি।

    সেসব সেরে কাজা মার্কেটে একটু ঘোরাঘুরি করছি, কিছু কেনার নেই এমনিই দেখছি দোকানগুলো। ভীড় বাড়ছে দ্রুত। একটা করে টেম্পো ট্র‍্যাভেলার এসে দাঁড়াচ্ছে আর উগরে দিচ্ছে ১০-১২ জন ট্যুরিস্ট। কদিন ঝিমিয়ে থাকা মার্কেট চনমনিয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই মন্যিয়ার ফোন, ক্যাফেতে প্রচুর লোক এসে গেছেন আমি যদি যেতে পারি তো খুব ভাল হয়। তা গেলাম। এদিকে বৈশালি হোয়াপ করেছে ক্যাফের নতুন ভলান্টিয়ারও এসে গেছে, আমি যাবার সময় যেন সঙ্গে।করে নিয়ে যাই।

    মার্কেটের টি জাংশানে এসে নতুন ভলান্টিয়ারের খোঁজ নিতে গিয়ে শুনলাম সে নিজে নিজেই ম্যাপ অন করে চলে গেছে। ক্যাফে পৌঁছে দেখি সত্যিই প্রচুর লোক। মন্যিয়া আর অ্যালেক্স মিলে সামলাতে পারছে না। নতুন ছেলেটি কৃষ্ণা, জয়পুরের ছেলে, মন্যিয়ার বয়সীই। আরেকজন ভলান্টিয়ার ইউকের নাগরিক, এসে পৌঁছেছেন, তবে দীর্ঘ পথশ্রমে ক্লান্ত আর একেবারেই অ্যাক্লেমেটাইজড নন তাই বিশ্রাম করছেন ওসেল রুমে।

    তারপরে সে যা নরক গুলজার হল না, কি বলব। কৃষ্ণাকে বিলিং অ্যাপ বোঝাতে গিয়ে আমাতে মন্যিয়াতে মিলে এমন ভয় দেখালাম যে বেচারা বলে কী দিলে আরেকটা দিন... জাস্ট একটা দিন তোমরা থেকে যাবে? আমি নির্বিকার মুখে - সওয়ালই নেহি হ্যায়, আমি তো কাল ভোর সাড়ে ছটায় বেরোব। মন্যিয়া ফিকফিক করে হাসতে হাসতে বলে আমি সাড়ে সাতটার বাসে। এক খদ্দেরের হট চকোলেটের গ্লাসে মাছি পড়েছে, তিনি ক্ষেপে কাঁই। তাঁকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে কৃষ্ণার হাতে গ্লাসটা ধরিয়ে রান্নাঘরে পাঠালাম।

    তাশিজির সাথে কৃষ্ণার আলাপ করানো হয় নি। উনি ভাবলেন খদ্দেরকেই রান্নাঘরে পাঠিয়েছি আমরা। উনিও চটে কাঁই হয়ে গেলেন। এদিকে আমাদের প্রাণে তখন ফুর্তির তুফান উঠেছে। আমাতে মন্যিয়াতে অ্যালেক্সেতে মিলে প্ল্যান করলাম আমরা নিজেরাই নিজেদের ফেয়ারওয়েল দেবো, আর কেউ দিক না দিক। এদিকে খদ্দেরদের টিশার্ট, পোস্টকার্ড আর ফ্রিজ ম্যাগনেট কেনার ধুম লেগেছে। তাশি জুনিয়ার যোগান দিতে দিতে ক্লান্ত।

    এরই মধ্যে এক গোদামত আলফা মেল টাইপ পুং মন্যিয়াকে এমন উত্ত্যক্ত করেছে যে সে আর কাউন্টারে যেতেই চাইছে না। গেলেই লোকটেকে থাপ্পড় মেরে দেবে এই ভয়ে মেজাজ সামলাতে রান্নাঘরে ঢুকে বসে রইল। আমি এগোতেই সে লোক প্রায় আমাকে ঠেলে আমাদের স্টোররুমে ঢুকে পড়ার উপক্রম। সাথে প্রশ্ন সল স্যানউইচ উইত এগ বেশী টেস্টি না উইদাউট এগ বেশি টেস্টি সিস্টার? শুনেই তো মাথায় আগুন ধরে গেল।

    তবে ২৬ বছর কর্পোরেটে রগড়ানোর ফলে মনের ভাব ঝট করে মুখে প্রকাশ পায় না। নির্বিকার মুখে কোন কথা না বলে ডানহাতের তর্জনী তুলে ক্যাফের সিটিং এরিয়ার দিকে দেখালাম। সে মাল তাতেও না দমে একই প্রশ্ন আবার শুরু করতে এবারেও মুখে কিছু না বলে আঙুল নাচিয়ে নাচিয়ে সিটিং এরিয়ার দিকে যেতে নির্দেশ দিলাম। লোকটা পুরো চুপসে গিয়ে চুপচাপ চলে গেল। তারপরে আর কিছু করে নি। এরা একটা ৬ জনের দল এসেছিল। এইই লিডার মনে হয়।

    একে থামানোর পরে বাকী দলটা যা অর্ডার করেছিল হইহই করে খেয়েদেয়ে বিল মিটিয়ে গেল। এই বেয়াড়া লোকটাকে অ্যালেক্সও ঠিক হ্যান্ডল করতে পারে নি। এ চুপ করায় সকলেই খুশী, এমনকি কি কিছু খদ্দেরও আলাদা করে ধন্যবাদ জানিয়ে গেলেন। বিশেষ করে দুটি অল্পবয়সী মেয়ে একেবারে হাত ধরে বারেবারে ধন্যবাদ দিল। নিজেদের ফেয়ারওয়েল দেবার জন্য রুমে ফিরে ইগাকে ফোন করে ব্ল্যাক পী থেকে কিছু খাবার দাবার অর্ডার করে পরেরদিনের গোছগাছ করতে বসি। ব্ল্যাক পীও ইকোস্ফিয়ার পরিচালিত ক্যাফে কাম রেস্টুরেন্ট। এই বছরই চালু হয়েছে।

    রাতে নরবুজিকে হিসেব বুঝিয়ে শুরু হল আমাদের খাওয়া দাওয়া। মন্যিয়া ম্যাঙ্গো ভদকা এনেছিল। ইগা দিল ওর বাড়ি থেকে আনা স্পেশ্যালি বানানো ছাঙ। মন্যিয়ার এত ভাল লাগল যে ও পুরো বোতলটাই নিয়ে নিল। আমার অবশ্য ছাঙ বস্তুটা অতি অখাইদ্য লাগল। তাশিজির খুবই ইচ্ছে ম্যাঙ্গো ভদকা টেস্ট করে দেখার কিন্তু 'পতিকে সামনে হাম দারু নেহী পিতে না।' তা নরবুজিকে বাইরে বসিয়ে ওসেল রুমের রান্নাঘরে তাশিজি আর ইগাকে দিয়ে এলাম।

    এইসব হইহই চলতে চলতেই বৈশালি, ঈশিতা আর অনুভব এলো সত্যিকারের ফেয়ারওয়েলের জিনিষপত্র নিয়ে। নরবুজি আমাদের দুজনকে সাদা খাতা ( সিল্কের স্টোল) পরিয়ে অভিবাদন জানিয়ে আমাকে একটা ইকোস্ফিয়ারের কাপ আর মন্যিয়াকে টিশার্ট উপহার দিলেন। সার্টিফিকেট পরে হোয়াটস্যাপে পাঠাবেন। কিছু প্রশংসার আদান প্রদান হল। রাত বাড়তে লাগল, ঘুম পেতে লাগল। এক অন্যরকম কাজের চমৎকার অভিজ্ঞতা, কিছু দীর্ঘকালীন স্মৃতি আর কিছু অসমবয়সী বন্ধুত্ব নিয়ে শেষ হল আমার স্বেচ্ছাসেবার কাল।



    আমার পাশে পরপর নরবুজি বৈশালি মন্যিয়া তাশিজি

    আগামী কাল থেকে আবার আমি এক একাকী পর্যটক। ক্যাফের খদ্দেররা, সহকর্মিণীরা, বন্ধুবান্ধব, পরিচিত অনেকেই জানতে চেয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবা সম্পর্কে কোথায় কীভাবে খবর পেলাম, কেন ক্যাফেই বাছলাম ইত্যাদি জানতে চেয়ে। এখানে একটু লিখে রাখি। বছরে অন্তত একবার হিমালয়ে না যেতে পারলে আমার মাথার মধ্যে কিলবিল করে, শরীর আনচান কর, মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে থাকে। রোজগারবিহীন আমি বেড়াতে গেলে আর কদিনই বা থাকতে পারি!

    কোথাও যদি কাজের বিনিময়ে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে হোটেল বা হোমস্টেতে থাকার চেয়ে অনেক বেশীদিন প্রায় বিনা খরচে থাকা যাবে। সেই ভাবনা থেকেই গুগলে সার্চ করেছিলাম ভলান্টিয়ারিং ইন হিমালয়া স্ট্রিং দিয়ে। তাতেই প্রচুর খবর পেয়ে যাই। সবচেয়ে বেশী অপশান আসে বিভিন্ন স্কুলে বাচ্চাদের বা একটু বড়দের ইংরিজি অঙ্ক শেখানোর আর ছবি তুলে রিল বানিয়ে ইন্সটায় হোমস্টে প্রোমোট করানোর। এই দ্বিতীয় কাজটা আমি পারিও না আর শেখার ইচ্ছেও নেই।

    পড়ানোর মত ধৈর্য্যও আমার বিশেষ নেই। কোন কথা দুবারের বেশী তিনবার বলতে গেলেই আমার গলা চড়ে যায়। বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য আমি একেবারেই ফিট নই। সেই থেকেই মনে হল লোককে ধরে এনে কাজ করিয়েছি দীর্ঘকাল। সেই সূত্রেই এই অধৈর্য্য বেশ সারজল পেয়ে পুষ্ট হয়েছে। দেখি না টেবিলের।উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে লোকের হুকুম শুনতে, বিরক্তি সহ্য করতে কেমন লাগে? কতটা অধৈর্য্য হই? তাতেই ইকোস্ফিয়ারের ক্যাফে চালানোটা পছন্দ করে ওদের ফর্ম ফিলাপ করি।

    ইকোস্ফিয়ার একেবারে থাকা খাওয়া ফ্রি করে নি। পনেরোদিনের স্বেচ্ছাসেবার জন্য ৯ হাজার টাকা নিয়েছিল। আমি ছিলাম সতেরো দিন। ওই দিনপ্রতি ৬০০/- টাকার কিছু কম আর কি। ইকোস্ফিয়ারের আরেকটা কাজ, দেমুল গ্রামে আর্টিফিশিয়াল গ্লেসিয়ার বানানো, ওইটাতে যোগ দিতেও খুবই আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু ওটার জন্য এক তো চার্জ অনেকটাই বেশী ছিল আর দ্বিতীয়ত ওটা মোটামুটি ঘোষণার দু'একদিনের মধ্যেই ভর্তি হয়ে গেছিল। বিদেশীরা নাকি এই প্রোগ্রামটায় বেশী উৎসাহ দেখায় আর ঝপাঝপ বুক করে ফেলে।

    তো সব মিলিয়ে ক্যাফেতে কাজ করাই সবদিক দিয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছিল। ১৫ দিনের স্লট পছন্দ করেছিলাম, পরে মনে হয়েছে একমাস নিলেও হত। কাজার ধীরগতির জীবন, সম্ভ্রান্ত বৌদ্ধ পরিবারের জীবনচর্যার দু'একটা দিক খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হল। তার একটা হল নরবুজি তাশিজির সবচেয়ে ছোট ছেলেকে গোম্পায় দান করেছেন লামা হবার জন্য। বছির আটেকের বাচ্চাটা লামার পোষাক পরে দৌড়ে বেড়ায়, ছটফট করে মোবাইলে গেম খেলার জন্য।

    সপ্তাহে একদিন গোম্পা থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি আসে, সেদিনই ক্যাফেময় দৌড়ে বেড়ায়। তাশিজির চার ছেলে। বড়জন একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে। মেজ সেজ স্থানীয় হিন্দি মিডিয়ামে আর ছোটটিকে গোম্পায় দান করেছেন। তাশি জুনিয়ারের সাথে কথায় জানতে পারি সম্ভ্রান্ত ধনী পরিবারে একাধিক পুত্র সন্তান হলে একজনকে গোম্পায় দান করার প্রথা। এই ছেলেটিকে সারা জীবন লামা হয়েই থাকতে হবে। একমাত্র এর উপরের ভাইরা সকলেই যদি মারা যায় বা কোন কারণে সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয় তবেই এ বিয়ে করতে পারবে, সংসারে ফিরতে পারবে।

    লাদাখেও এরকম এরকম প্রথা আছে, তবে সেখানে নিয়ম সামান্য একটু আলাদা। এই বাচ্চার ঠিক ঊপরের ভাই তাঞ্জিন ঠিল্লা, রোজ সন্ধেবেলা ক্যাফের স্টোররুমে বসে স্কুলের হোমওয়ার্ক করে। সময় সুযোগমত আমরা টুকটাক দেখিয়ে দিই। এই বাচ্চাটার ওসব পড়াশোনার বালাই নেই। ওর পড়াশোনা সব গোম্পাতেই হয়। ধর্মহীন নাস্তিক আমার এই জ্ঞান হবার আগে, ভালমন্দ কিছু বুঝে ওঠার আগে একটা প্রাণচঞ্চল বাচ্চাকে ধর্মগুরু হবার পথে ঠেলে দেওয়া দেখে বড় মন খারাপ লাগে, অস্বস্তি হয়। অবশ্য জীবন আর কোথায়ই বা তেমন ফেয়ার! আর কখনো কাজায় আসবো কিনা জানি না, এদের সক্কলের কথা মনে থেকে যাবে।

    (চলবে)



     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    ০ | ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১
  • ভ্রমণ | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৩৩৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩৩743428
  • একাকী ভ্রমণের গল্পও আশা করি পড়তে পাবো। এই ভলান্টিয়ারিংয়ের গল্প তো খুবই ভালো লাগলো। এই ধরণের অভিজ্ঞতার কথা খুব বেশি পড়িনি। একজন ছেলেকে লামা হবার জন্য গোম্পায় দিয়ে দেওয়া এই রেওয়াজটার কথা সেই নবনীতা দেবসেনের 'ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে'তেও ছিলো না? এতেই নাকি বাবা মায়ের পুণ্য?
  • দ | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২১:১০743431
  • হ্যাঁ এই কাজার ডায়েরিতেই কাজা থেকে ঘোরা জায়গাগুলোর কথা লিখবো। তারপরে উত্তররাখন্ড আলাদা সিরিজ।
     
    ঠিক ঠিক ট্রাকবাহনেতে ছিল। কিন্তু সে তো বহুদিন আগে। এতদিনে উঠে যাওয়া উচিত ছিল মনে হয়। লাদাখে যেমন শুনেছিলাম ট্যুরিজমের বাড় বাড়ন্তের ফলে অনেক পরিবার ছেলে দিতে রাজী হত না, অনেকে গ্রাম ছেড়ে লেহ শহরে চলে যেত। তখন গেলুগ সেক্টের প্রধান লামা নিয়ম করে যে লামা হলেও চাইলে বিয়ে সংসার করতেই পারে, দরকারমত লামাগিরি করতে হয়। থাঙজুক ফার্মে এরকম দুই তিনজন পার্টটাইম লামাকে দেখিয়েছিল সারথী কর্মা।
  • অরিন | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:৫০743433
  • ভারী সুন্দর লেখা। একদিকে রিটেল, অন‍্যদিকে ঘুরে বেড়ানো এর মধ‍্যে অভিনবত্ব আছে বৈকি!
  • দ | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪৩743452
  • অরিন,
    ধন্যবাদ।
    এবারে ছবিগুলো মনে হচ্ছে ঠিকঠাক তুলতে পেরেছি। আবারো ধন্যবাদ।
  • অরিন | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩০743471
  • ছবিগুলো সত্যি সুন্দর হয়েছে full ব্লিড ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে। ধন্যবাদ আমার তরফ থেকে আপনারও প্রাপ্য, এই যে আমার লেখা nostr client টাকে ব্যবহার করছেন। ভারী ভালো লাগলো।
  • Amit Chatterjee | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১১743473
  • যাঁরা শারীরিক সমস্যাকে উপেক্ষা করে, বয়সকে শুধুমাত্র সংখ্যা ভেবে কাজার মতো জায়গার প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা আর নানান দেশের পর্যটকদের হাজারো ঝক্কি হাসতে হাসতে সামলে অচেনা পরিবেশে পনেরো দিন থেকে মাস পেরিয়ে ভলান্টিয়ারিং-এর দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাঁদেরকে এই পেটরোগা-দুবলা-ভেতো বাঙালির তরফ থেকে হাজার কুর্নিশ। এই পর্বটি পড়ে খুব বেশিমাত্রায় আনন্দ এবং দুঃখ দুই অনুভব করলাম। এই যে এক অচেনা জায়গায় গিয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ, নানান বন্ধু পাওয়া এবং এক ব্যতিক্রমী ফেয়ারওয়েল, খুবই ভালো লেগেছে। তেমনি পরিবারের কনিষ্ঠ পুত্রটিকে জবরদস্তি লামা হতে পাঠানো প্রথাটি খুবই দুঃখ দিয়েছে। এক অবোধ শিশুকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কঠিন কৃচ্ছসাধন করতে পাঠানোটা অপরাধের পর্যায় পড়ে। লেখাটা পড়তে পড়তে বিভিন্ন চরিত্রদের যেন চোখের সামনে দেখতে পেতাম। লেখাটা ঝরঝরে করে এগোতে এগোতে কখন যে ফুস করে শেষ হয়ে যেত টের পেতাম না। দেখা যাক পরবর্তী যাত্রাপথে আরও কাদের কথা জানতে পারি। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
  • জয় | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:০৬743476
  • দ
    আপনার লেখা গোগ্রাসে গিলি। মুগ্ধতা আর চিনচিনে ঈর্ষা নিয়ে। ঝরঝরে কোথাও তীক্ষ্ণ। অকপট সবসময়ই। কতবার সোজা পৌঁছে গেছি কাজায়। আবার মনে হয়েছে এই তো ড্রয়িং রুমে গল্প করছেন।
    আরো ঘুরুন- আরো লিখুন।
     
    আব্দার- একটু সময় হলে "ইগো-বধ" নিয়ে আরেকটু লিখবেন প্লিজ?
     
    ধর্মটা তো মানুষ নিজের সঙ্গে গালগল্প। কয়েক হাজার বছরের কনস্ট্রাক্ট। অসহায় মানুষ। যা ব‍্যাখ‍্যা করতে পারেনি তা গালগল্প আর কল্পনা দিয়ে ভরানো। ধর্মের প্রয়োজন আশা করি চলে যাবে একদিন। কত হাজার বছর লাগবে? কত শিশু লামা/ কত হনার কিলিং/ কত রায়ট-ট্রেন পোড়ানো/ কত ক্রুসেড/ কত গাজা ধ্বংসের পরে?
  • দ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১২743484
  • অমিতবাবু,
    অনেকসময় গরীব পরিবারেও একটা ছেলে খেতে পাবে বাড়িতে একটা পেট কমবে বলেও লামা হতে দিয়ে দিত। তবে সেইটা ট্যুরিজমের প্রসারের সাথে কমে কমে একেবারেই বিলুপ্তপ্রায়। সে একরকম ভালই।
    পরের বছর ভাবছি অন্য কোন কাজে স্বেচ্ছাসেবা দেবো।
     
    জয়,
    ছোটবেলায় মানে আমি যখন নাস্তিক হলাম তখন ভাবতাম বুড়ো হতে হতে সমাজে ধর্ম ব্যপারটা একেবারেই ইনসিগনিফিক্যান্ট হয়ে যাবে। কিন্তু হল ঠিক উল্টোটা।
     
    ইগোবধ আর হল কই। অতই সহজ হলে তো হতই। ওই যে গোদা লোকটিকে যেভাবে সীটে ফেরত পাঠালাম সে তো অত্যন্তই রুড। তাশিজি বা তাশি জুনিয়ার শান্তভাবে বোঝাতেন যে ওর রুচি যেমন, ডিম যদি ভালবাসে তাহলে উইত এগ ভাল লাগবে। এটা একটা উদাহরণ। কোথাও কেউ বাউন্ডারি পেরোলেই ভেতরের ব্যাড অ্যাস বুডঢিটা ফ্যাঁশ করে বেরিয়ে আসে। এবার বাউন্ডারি মানে আমারি মনের সেট করা বাউন্ডারি। সেও তো খুব ইউনিভার্সাল কিছু নয়।
    ধৈর্য্য বেড়েছে অনেক। হাসিমুখে উত্তর দেওয়া, খুচখাচ গল্প করা এসব পেরেছি। এমনিতে স্বভাবে আমি অ্যাম্বিভার্ট, পছন্দের লোকজন ছাড়া খুব বেশী কথাবার্তা বলতে পারি না। কাজেই এগুলো আমার জন্য দুচারপা এগোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন।