

গতকাল সার্বিয়ার নির্বাচনে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্দার ভুচিচের সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি হার স্বীকার করলো যে দলের কাছে সেটি কোন দল নয়, তার কোন দশ তলা পার্টি অফিস, কোন মুখপাত্র অথবা নেতা নেই। তার নাম স্টুডেন্ট লিস্ট (স্টুডেন্টসকা লিস্তা); তার চেয়েও বড়ো কথা সারা দেশের আড়াইশ পার্লামেন্টারি কেন্দ্রে কোন স্টুডেন্ট ভোটে দাঁড়াননি। প্রার্থীরা এসেছেন অ্যাকাদেমিক, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আইনের জগত থেকে, যাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি; এঁদের মধ্যে যাকে প্রধান বলে মনে করা হচ্ছে সেই ইলিয়া স্রাদানোভিচ বাহান্ন বছরের একজন কার্ডিওলজিস্ট।

ইলিয়া স্রাদানোভিচ
মাত্র তেইশ বছর বয়েসে বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পরীক্ষায় পাস করেই ভুচিচ অতি দক্ষিণপন্থী সার্বিয়ান র্যাডিকাল পার্টিতে যোগ দেন – ইতিমধ্যে তিনি ব্রাইটনে ইংরেজি শিখেছেন, লন্ডনে ব্যবসা করেছেন – এমনকি বসনিয়ার কসাই রাতকো ম্লাদিচের সঙ্গে দাবা খেলেছেন! দলে তাঁর উন্নতি দুর্বার - দলের সেক্রেটারি হলেন। আঠাশ বছরে বয়েসে মারকো মারানোভিচের সরকারে মিনিস্টার অফ ইনফরমেশন হয়েই নানান ভাবে সাংবাদিক প্রেস ও আইনজ্ঞদের প্রতিবাদকে ঠেকাতে জন্য প্রতিবন্ধ সৃষ্টি করলেন। সব প্রতিবাদকে দেশদ্রোহিতা বলে চিহ্নিত করা হল, এর পিছনে তিনি বিদেশি পুঁজির কালো হাত দেখতে পেলেন। তাঁর এই অসামান্য কর্মযজ্ঞটি স্মিত মুখে যিনি দেখে যাচ্ছিলেন তিনি সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট, স্লবোদান মিলোসেভিচ-কমিউনিস্ট ইউগোস্লাভিয়ার পতনের পরে যিনি যেন তেন প্রকারেণ দেশটাকে দখলে রাখার চেষ্টা করেন। বসনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়াকে জব্দ করার জন্য সার্বিয়ান সৈন্য পাঠান, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের নৃশংসতা এবং সারায়েভোর অবরোধ ইউরোপীয় ইতিহাসের পাতায় একটি কালো অধ্যায়। শেষ পর্যন্ত সার্বিয়ান সরকার তাঁকে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের হাতে তুলে দেয়। বিচারাধীন অবস্থায় সেলের ভেতরে তাঁর মৃত্যু হয়।
যদিও ভুচিচকে সারায়েভোর অবরোধের সময়ে (১৪২৫ দিন, ইউরোপের হয়তো পৃথিবীর ইতিহাসে দীর্ঘতম) বসনিয়ায় বন্দুক হাতে দেখা গেছে কিন্তু তাতে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা থামেনি। মিলোসেভিচের পতনের পরে ভুচিচ যে প্রোগ্রেসিভ পার্টি স্থাপনা করলেন সেটি তার নামের সঙ্গে বিশেষ মেলে না কিন্তু অচিরেই সার্বিয়ান সোশিয়ালিস্ট পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করে সে দল ক্ষমতায় এলো – ভুচিচ ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার, শনৈ শনৈ অগ্রসর; ২০১৪ সালে পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী, ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট। দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং স্বাধীন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার জন্য তাঁর নাম বিশেষ খ্যাত হলো, হাঙ্গেরির দক্ষিণ পন্থী নেতা ভিক্টর অরবান এবং সার্বিয়ার আলেকজান্দার ভুচিচ দুজনেই ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ স্নেহ ভাজন হলেন।
২০১৮ সাল থেকে সার্বিয়াতে প্রতিবাদ প্রখর হলো – তার চেয়ে বহুগুণ কঠোর হল সরকারের শাসন, পুলিসি বর্বরতা, অকারণে জেলে ভরা, কিছু অনুগত মিডিয়া বাদে বাকিদের পিছনে সরকারি তদন্ত কমিটি বা নকলি চার্জে আদালতে হাজির করা শুরু হল, বিনা বিচারে আটক, সামাজিক মিডিয়াতে যে কোন প্রতিবাদী কণ্ঠের বিরুদ্ধে কালিমা লেপন (স্মিয়ার ক্যাম্পেন) চলতে থাকল, লৌহ হস্তে দমন, দেশজোড়া দুর্নীতি। পথেঘাটে চালু হল – আমাদের দেশে আইনের শাসন চলে না, চলে শাসকের আইন। ফ্রিডম হাউসের সংজ্ঞা অনুযায়ী সার্বিয়ান সরকারকে ‘পার্টলি ফ্রি’ ঘোষণা করা হয় ২০১৯ সালে। ২০২২ সালে ভুচিচ পুনরায় নির্বাচিত হলেন। পুতিন এবং অরবান তাঁকে অজস্র শুভকামনা জানাতে বিলম্ব করেননি।
নোভি সাদ
কখন কোন অজ্ঞাত কারণে আমার কন্যা মায়া সিরিলিক এবং সার্বিয়ান শেখা শুরু করেছে; ফলে সুইচ অন না করেই বাড়িতে রেডিও বেলগ্রেডের প্রধান খবর শোনা যায়। তিন বছর আগে তার পাল্লায় পড়ে বেলগ্রেড যাওয়া হল আবার, তবে তার দাবিতে যোগ হল নোভি সাদ। পুরনো ইউগোস্লাভিয়ার সঙ্গে যারা পরিচিত তাঁরা জানেন সে দেশে ছিল ছটি অটোনোমাস রিপাবলিক (সার্বিয়া ক্রোয়েশিয়া স্লোভেনিয়া মনটে নিগ্রো মাসিদোনিয়া বসনিয়া/হারজেগোভিনা) এবং দুটি স্বয়ং শাসিত অঞ্চল নিয়ে (কসোভো, ভয়ভোদিনা)। এবারের যাত্রায় যাওয়া দানিউবের ওপরে ভয়ভোদিনার সদর শহর নোভি সাদ– মায়া বললে সেখানে নাকি রবীন্দ্রনাথের পায়ের চিহ্ন আছে! অধিকন্তু আইনস্টাইনের প্রথম পত্নী মিলেভা মিলেচ এখানে স্কুলের পাঠ শেষ করেন (তার জন্ম পুব দিকে, আধ ঘণ্টা দূরত্বে টিটেল শহরে), যাকে সার্বিয়ানরা আপেক্ষিক তত্ত্বের আসল অনুপ্রেরণা মনে করেন।

নোভি সাদ

নোভি সাদ মিউজিয়াম

জাতীয় থিয়েটারের সামনে রবীন্দ্রনাথের ও মিলেভার স্মারক আছে

মিলেভা আইনস্টাইন

রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন, ১৯২৬ সালে
বেলগ্রেড থেকে ট্রেন ধরে আধ ঘণ্টায় পৌছুলাম যে স্টেশনে, জানতাম না মাত্র এক বছর পরে সেখান থেকে শুরু হবে এমন এক ছাত্র আন্দোলন যা ঘটাবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন।
২০২৪ সালের পয়লা নভেম্বর সকালবেলা নোভি সাদ স্টেশনের ওপরের চালটি ভেঙ্গে পড়লে ষোলো জন মানুষে প্রাণ হারান- এতদিন যে অসন্তোষের আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলছিল, এই চাল বা ক্যানোপি বানানোর কনট্রাক্টরের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভুচিচের নিবিড় সম্পর্কটি জানা গেলে জন রোষের আগুনটি বিশাল আকার ধারণ করে।


নোভি সাদ স্টেশন যেমন দেখেছি

১ নভেম্বর ২০২৪
অপরাধীর সাজা চাই - এতদিন ছাত্ররা মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করে পথ চত্বর অধিকার করেছে। এবার পথ হল তাদের সাথি- আর ফেরা নয়।
পুলিশি বর্বরতা, জল কামান, কাঁদানে গ্যাস, জেলের হুমকি, দেশদ্রোহী বিদেশি অর্থপুষ্ট অপবাদ, রেজিম চেঞ্জের পশ্চিমি প্রয়াস, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূর করে দেবার হুমকি সত্ত্বেও দু বছরে তারা একদিনও পথের দখল ছাড়ে নি পালা করে পাহারা দিয়েছে। দেয়ালে দেয়ালে স্লোগান
সার্বিয়া কি মাফিয়া?
হাওয়া দাও (পুম্পাই)
আমাদের শক্তি অদম্য
আমরা কী চাই? সামাজিক মূল্যবোধের পুনর্জন্ম

রিপাবলিক স্কোয়ার বেলগ্রেড
যদিও ক্রমশ ছাত্র আন্দোলন নিয়েছে অগ্নিগর্ভ আকার, ছাত্ররা সরকারি সম্পত্তি তে অগ্নি সংযোগ করেনি। জানিয়েছে তারা স্থিতাবস্থা মেনে নেবে না। টেলিভিশনে দেখেছি রিপাবলিক স্কোয়ার ভরে গেছে; সেই বিশাল জন সমুদ্র দেখে মনে পড়েছে তেরেজিয়া স্ট্রিটের ওপরে আমাদের সাময়িক আবাসের জানলা থেকে সেটি চোখে পড়তো। এখন তার রূপ একেবারে আলাদা। যদিও গুলি চালানো বাদে ভুচিচের পুলিস, প্যারা মিলিটারি, সাদা পোষাকের গুন্ডা বাহিনী পাঠিয়ে দুর্বিনীত ছাত্র ছাত্রীদের তাদের গুরুগৃহে অথবা কারাগৃহে পাঠানোর সর্ব প্রকার চেষ্টা চালিয়েছে। সেটি সফল হয়নি তারা স্বাধীনতার যাত্রাগান থামায়নি। লাঠি বা অস্ত্র নয়, খালি হাতে শুধু সার্বিয়ার লাল নীল সাদা পতাকা তুলেছে।
নিকোলা পাসিচ স্কোয়ারে তাঁর অফিস যাবার পথে নিত্যিদিনের বিঘ্ন দেখে একদিন বিরক্ত হয়ে ভুচিচ বললেন, ঠিক আছে, আমার প্রেসিডেন্সি আরও দু’বছর বাকি তবু আমি নির্বাচন ডাকছি। সার্বিয়ার মানুষ ভোট দিয়ে জানাক দেশ কে চালাবে, আমি ও আমার পার্টি নাকি ঐ অরাজক সন্ত্রাসী ছাত্র ছাত্রী।
সেপ্টেম্বর মাসের নয় তারিখে ভুচিচ আকস্মিক নির্বাচনের দিন ঘোষণা করলেন – রবিবার অক্টোবর ২৫ তারিখে সারা দেশে ভোট (এদেশে ই ভি এম নেই, ব্যালট পেপারে ভোট)। পাশার দানটি ভুচিচ জেনে শুনেই দিলেন। প্রথমত সময় মাত্র ছ সপ্তাহ, সার্বিয়ার বিরোধী দলগুলির ঐক্য বা সংহতি এমনিতেই নেই আর এই স্বল্প সময়ে জোট পাকানোর সুযোগ কম। তারা নিজেদের মধ্যেই গদি নিয়ে খেয়োখেয়ি করতে ব্যস্ত হবে, একে অপরের ভোট ভাঙ্গাবে। সেই সব নেতাদের টি ভি ডিবেটে সামনা সামনি আক্রমণ করার ক্ষমতা তাঁর আছে।
তিনি কল্পনা করতে পারেননি তাঁর প্রতিপক্ষের নেতার কোন নাম বা চেহারা থাকবে না। কার সঙ্গে ডুয়েল লড়তে হবে কার যুক্তি উড়িয়ে দিতে হবে তাই যদি না জানেন তবে তো ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে গাত্রে হবে ব্যথা। বিরোধী দলের নাম স্টুডেন্ট লিস্ট কিন্তু সে লিস্টে কোন স্টুডেন্ট নেই! মুখপাত্রের কোন নাম নেই। ভুচিচের তাঁবেদার মিডিয়া যখনই তাদের টি ভি ডিবেটে ডাকে, প্রত্যেক বার নতুন নতুন চেহারা দেখা দেয়, তারা এসেই সুচিন্তিত অ্যাজেন্ডার বারোটা বাজিয়ে দেয়। আজ যদি বেলগ্রেড ইউনিভার্সিটির মেরিন বায়োলজির দু’জন এলেন তো দু’দিন বাদে নোভি সাদের ইতিহাসের দুজন রিসার্চ স্টুডেন্ট! নতুন নতুন অ্যাংগল! এই জেড জেনারেশনের পাল্লায় পড়ে ঝানু টি ভি অ্যাংকররা হিমসিম খেয়ে যান। এঁদের কোনো ছকে ফেলা যায় না তীক্ষ্ণ আক্রমণে বিদ্ধ করা দূর অস্ত। বিপর্যস্ত টি ভি কর্তারা ভুচিচকে জানালেন দয়া করে ক্যামেরার সামনে এঁদের মুখোমুখি হবেন না। নেতা কে জিজ্ঞেস করলে এরা বেড়ালের ছবি তুলে ধরে। তাতে লেখা ‘আমি এই প্রোটেস্টের আয়োজক’।

আমি এই প্রোটেসটের আয়োজক
এদের ম্যানিফেস্টোতে আছে
• সকল আদালত এবং সরকারি তদন্ত এজেন্সিকে সরকারের প্রভাবমুক্ত করতে হবে
• স্বজন পোষণ নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য লোকের নিয়োজন, কর্ম ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা
• পয়লা নভেম্বর ২০২৪ সালের নোভি সাদ স্টেশনের চাল ভেঙ্গে পড়ার জন্য দায়ী লোকেদের খুঁজে শাস্তি দেবার জন্য পুলিস ফোর্স স্থির করা, কেবল কমিটি বানিয়ে তাল ঠোকা নয়
• ছাত্র আন্দোলনের সময়ে অত্যাচারী পুলিস প্যারা মিলিটারি সিভিল পোষাকের গুন্ডাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে
• বশংবদ সার্বিয়ান মিডিয়ার পূর্ণ সংস্কার, সরকারি প্রভাব থেকে পাবলিক ব্রডকাস্টারদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা
• যে কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পার্টি পদাধিকারীদের নির্বাসন
• বিনামূল্যে পাঠ্য পুস্তক বিতরণ
• সুলভ গৃহ বণ্টন, হাউসিং
• প্রতি গ্রামে অন্তত একজন ডাক্তার
কোনো ছাত্র নির্বাচনে দাঁড়ায়নি, তাদের লেখা পড়া আছে। তারা বলেছে আমাদের কাজ গণতন্ত্রের হত্যাকারী ডিক্টেটোরিয়াল দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে ঝাড়ে বংশে উচ্ছেদ করা। সেটা করে গেলাম। আমাদের লিস্টে আছেন যোগ্য শিক্ষিত মানুষরা। এঁরা আপামর সার্বিয়ান জনতার সম্যক প্রতিনিধিত্ব করবেন।

ই ভি এম নয় কাগজের ব্যালট
ভোটে কারচুপির আশঙ্কায় দেশের ৮২১০টি ভোট কেন্দ্রে দুজন ছাত্র বা ছাত্রী উপস্থিত থেকেছেন।
রবিবার সন্ধ্যেয় তার দলের হার স্বীকার করার পরে ভুচিচ বললেন, বন্ধুগণ আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, জনগণের রায় মেনে নিলাম। কিন্তু আমার একটা কথা মনে রাখবেন - যারা নির্বাচিত হলেন দু’বছরের মধ্যেই তাঁরা সার্বিয়ার চূড়ান্ত সর্বনাশ করবেন।
ফলাফল
৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন সার্বিয়ার রেকর্ড। মিউনিক, লন্ডন লস এঞ্জেলস সহ বহু শহরে ভোট দিলেন।
মোট আসন সংখ্যা ২৫০
স্টুডেন্ট লিস্ট ১৪০
সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি (ভুচিচ) ১০৩
ভয়ভোদিনা হাঙ্গেরিয়ান ৩
আলবানিয়ান ২
সাঞ্জাক ( বসনিয়া ) ২
পুনশ্চ:
সার্বিয়া এবং রোমানিয়াতে সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষিত আছে। তাই যে স্বল্প সংখ্যক হাঙ্গেরিয়ান, আলবানিয়ান ও বসনিয়ান এ দেশে বাস করেন তাঁদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ আছে।
ট্রিভিয়া – সার্বিয়ান স্লবোদান, চেক স্লভদা দুটোরই মানে স্বাধীনতা
নোভি সাদ এবং বেলগ্রেড আরেকদিন হবে – তবিলদারের জন্য তোলা রইল