

যে আগুন ছড়িয়ে গেলো
এই হেমন্তের খোলা হাওয়ায় স্বাধীনতা সাম্য, মৈত্রীর এবং স্কুল ঠিক করার বাণী বয়ে প্রথম অগ্নি স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল ফ্রান্সে, সেটি উত্তাপ এবং অগ্নি সঞ্চার করেছে উত্তরের সীমানা পেরিয়ে বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে
লিয়েজকে মনে রাখি খুবই ব্যক্তিগত কারণে, বলা যায় ট্রিভিয়া। ব্রাসেলস ছাড়িয়ে পুব মুখো গাড়ি চালালে মোটরওয়ের সাইন বোর্ড প্রথমে পরবর্তী যে বড়ো শহরের নাম দেখায় সেটি ডাচে লাউক বা ফ্লেমিশ লিউক ( Liuk), খানিক এগোলেই লাউক/ লিউক অদৃশ্য। দেখতে পাই Liége এবং তার পরে আসে জার্মান ভাষায় লুইটিখ ( Lütich ) একটি শহরের নাম ক্রমশ বদলে যায় আর আমার মতন উত্তর কলকাতার অজ্ঞ মানুষ পথ হারাতে থাকে।
ইউরোপে যারা গাড়ি চালান তাঁরা আরেকটি কারণে লিয়েজকে মনে রাখেন। ব্রাসেলস থেকে ই ৪০ ধরে জার্মানি যাবার সময়ে পাহাড়ের ওপরে লিয়েজকে বাঁ পাশে রেখে মাস নদী পেরিয়ে যে মোটরওয়ে চলে যায়, প্রায় বিশ কিলোমিটার মতন সেটি একেবারে সিধে, ইউরোপের চিরাচরিত আঁকা বাকা যে পথ যায় সুদূরে তার ট্র্যাডিশন ভঙ্গ করে দিয়ে। গাড়ির স্টিয়ারিঙকে দড়ি বেঁধে রাখা যায় ! আমার এক গুরুজন গত শতাব্দীতে লিয়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ( জনপ্রিয় নাম ইউলিয়েজ ) পোস্ট ডক্টরেট করেছিলেন, ইংরেজি ভাষায়। অথচ এই ফরাসি প্রধান ওয়ালোনিয়ার লিয়েজে বেলজিয়ামের অন্য ভাষা ফ্লেমিশে পড়ানো হয় না। এ বিষয়ে সম্প্রতি লিখেছি গুরুর পাতায় - বেলজিয়াম দেশটি ধর্মে মিলিত, ভাষায় বিভক্ত। বেলজিয়ান চকোলেট তো বটেই, ব্রিটেনের চেয়ে সস্তায় বাজার এবং ট্রাইফল মেশানো কাফে লিজোয়ার সন্ধানে আমাদের ফ্রান্সের গ্রামের বাড়ি থেকে আরদেন বনানী হয়ে আড়াই ঘণ্টা দূরের এই শহরে একাধিকবার পারিবারিক ডে ট্রিপ দিয়েছি। আমার একমাত্র অসুবিধে, শহরটি অসমতল – প্রচুর ওঠা নামা আছে। মায়াকে বলি, নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন অ্যান্ড দি নি !
ছবির মতন সেই শহর আজ খবরের শিরোনামে।
Debanjan | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৫743330
Debanjan | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৫743331