এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • দেশে দেশে স্কুল ঠিক করো – এবার বেলজিয়াম

    হীরেন সিংহরায়
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯১ বার পঠিত
  • স্কুল ঠিক করো – এবার ফ্রান্সে | দেশে দেশে স্কুল ঠিক করো – এবার বেলজিয়াম



    যে আগুন ছড়িয়ে গেলো

    এই হেমন্তের খোলা হাওয়ায় স্বাধীনতা সাম্য, মৈত্রীর এবং স্কুল ঠিক করার বাণী বয়ে প্রথম অগ্নি স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল ফ্রান্সে, সেটি উত্তাপ এবং অগ্নি সঞ্চার করেছে উত্তরের সীমানা পেরিয়ে বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে

    লিয়েজকে মনে রাখি খুবই ব্যক্তিগত কারণে, বলা যায় ট্রিভিয়া। ব্রাসেলস ছাড়িয়ে পুব মুখো গাড়ি চালালে মোটরওয়ের সাইন বোর্ড প্রথমে পরবর্তী যে বড়ো শহরের নাম দেখায় সেটি ডাচে লাউক বা ফ্লেমিশ লিউক ( Liuk), খানিক এগোলেই লাউক/ লিউক অদৃশ্য। দেখতে পাই Liége এবং তার পরে আসে জার্মান ভাষায় লুইটিখ ( Lütich ) একটি শহরের নাম ক্রমশ বদলে যায় আর আমার মতন উত্তর কলকাতার অজ্ঞ মানুষ পথ হারাতে থাকে।

    ইউরোপে যারা গাড়ি চালান তাঁরা আরেকটি কারণে লিয়েজকে মনে রাখেন। ব্রাসেলস থেকে ই ৪০ ধরে জার্মানি যাবার সময়ে পাহাড়ের ওপরে লিয়েজকে বাঁ পাশে রেখে মাস নদী পেরিয়ে যে মোটরওয়ে চলে যায়, প্রায় বিশ কিলোমিটার মতন সেটি একেবারে সিধে, ইউরোপের চিরাচরিত আঁকা বাকা যে পথ যায় সুদূরে তার ট্র্যাডিশন ভঙ্গ করে দিয়ে। গাড়ির স্টিয়ারিঙকে দড়ি বেঁধে রাখা যায় ! আমার এক গুরুজন গত শতাব্দীতে লিয়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ( জনপ্রিয় নাম ইউলিয়েজ ) পোস্ট ডক্টরেট করেছিলেন, ইংরেজি ভাষায়। অথচ এই ফরাসি প্রধান ওয়ালোনিয়ার লিয়েজে বেলজিয়ামের অন্য ভাষা ফ্লেমিশে পড়ানো হয় না। এ বিষয়ে সম্প্রতি লিখেছি গুরুর পাতায় - বেলজিয়াম দেশটি ধর্মে মিলিত, ভাষায় বিভক্ত। বেলজিয়ান চকোলেট তো বটেই, ব্রিটেনের চেয়ে সস্তায় বাজার এবং ট্রাইফল মেশানো কাফে লিজোয়ার সন্ধানে আমাদের ফ্রান্সের গ্রামের বাড়ি থেকে আরদেন বনানী হয়ে আড়াই ঘণ্টা দূরের এই শহরে একাধিকবার পারিবারিক ডে ট্রিপ দিয়েছি। আমার একমাত্র অসুবিধে, শহরটি অসমতল – প্রচুর ওঠা নামা আছে। মায়াকে বলি, নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন অ্যান্ড দি নি !

    ছবির মতন সেই শহর আজ খবরের শিরোনামে।


    তাঁরা রিফর্ম করেন তার পরে ডিফর্ম করেন! বেলজিয়াম প্লাকার্ড লিয়েজ


    গত দশদিনে প্যারিস থেকে মার্সেই, লিওঁ থেকে লা রশেলের প্রায় সমস্ত উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে বা লিসেতে যে দাবি নিয়ে পথে নেমেছে হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী তার স্ফুলিঙ্গ আজ আগুন লাগিয়েছে বেলজিয়ামের এই শান্ত অ্যাকাদেমিক জনপদে। লিয়েজ বিশ্ববিদ্যালয় শহর। তুলনামূলক ভাবে বলতে গেলে অক্সফোর্ড আর লিয়েজের জনসংখ্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা এবং বাই সাইকেলের সংখ্যা প্রায় এক। তবে এবারের সংগ্রাম শুরু হয়েছে স্কুল থেকে, ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে উচ্চ বিদ্যায়তনে।


    তরুণের সংগ্রাম


    ভাষাগত বিভেদের কারণে বেলজিয়ামের শিক্ষা ব্যবস্থা ইউরোপের সব দেশের চেয়ে আলাদা –এদেশে কোন ন্যাশনাল কারিকুলাম দূরের কথা, উচ্চ বা মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষতের কোন অস্তিত্ব নেই! সরকারিভাবে ফরাসি, ফ্লেমিশ ও জার্মান ভাষার সমান মান্যতা, তিনটি গোষ্ঠীর বা কমিউনিটির সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আছে নিজেদের সিলেবাস সেট করার, যদিও তৃতীয় ভাষা জার্মান বলেন অতি স্বল্প সংখ্যক মানুষ।


    তরুণ 'চুপ করো' কেটে লেখা 'বিপ্লব করো'


    স্কুল তিন ধরনের - প্রতি ভাষাগোষ্ঠীর নিজস্ব কমিউনিটি স্কুল, সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত বিভিন্ন পৌরসভা বা প্রাদেশিক পাবলিক স্কুল এবং ক্যাথলিক চার্চের অধীনে আছে সবচেয়ে বেশি স্কুল যেগুলি সম্যক সরকারি গ্রান্ট পেয়ে থাকে। ধর্মীয় স্কুলের এতো টাকা সাবসিডি পাওয়াটা উচিত কিনা এ নিয়ে এক সময় বাদ বিসম্বাদ হয়েছে কিন্তু যেহেতু একমাত্র ক্যাথলিক ধর্ম খতরে মে হ্যায় এই ধুয়ো তুলেই বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক দলগুলি এ বিষয়ে খুব শিগগির মুখ বন্ধ করেছে – বিপদজনক টেরিটরি।

    বাকি ইউরোপের মতো বেলজিয়ামে পাঁচ থেকে আঠারো বছর অবধি শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং অবৈতনিক।

    ছয় বছর বয়েস অবধি প্রি স্কুল, ফরাসি মাতারনেল
    ছয় থেকে বারো এলিমেন্তার, প্রাইমারি
    বারো থেকে আঠারো সেকেন্ডারি, অসেনেম সেকনডেয়ার


    শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়


    সাধারণত প্রাইমারি স্কুল থাকে প্রি স্কুল সংলগ্ন , যাতে তারা একই পরিবেশে বড়ো হয়, একই গেট দিয়ে বারো বছর বয়েস অবধি আসা যাওয়া করতে পারে। আমাদের দেশ বা ইংল্যান্ডের মতন কারো বাড়ির দোতালায় হ্যাপি গার্ডেন নামের কিনডার গারটেনের দোলনায় কয়েক বছর দোলার পরে দৃশ্যপটের আমূল পরিবর্তন হয় না, ছেলে মেয়েরা তাদের চেনা চেনা বাড়িতেই একতলার পরে দোতালায়। উচ্চ মাধ্যমিক বা অসেনেম সেকনডেয়ারের ক্ষেত্রে অবশ্য এ লজিক খাটে না, দেড় লক্ষ মানুষের শহরে আছে মাত্র তেরোটি স্কুল। শহর তেমন কিছু বিশাল নয় তবু এ পাড়া থেকে ওপাড়া যেতেই হয়; ভরসা পিতা মাতা পরিচালিত ফ্রি ট্যাক্সি, সাইকেল অথবা করুণাময় পৌরসভার দান, স্বল্পমূল্যের বাস পাস।

    এইখান থেকেই ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হলো।


    অগ্নিগর্ভ ব্রাসেলস


    লিয়েজ পৌরসভা আঠারো থেকে চব্বিশ বছরের কম বয়েসি সকল ছাত্র ছাত্রীকে স্কুলের বা ইউনিভারসিটির পরিচয়পত্র দেখালেই মাত্র বারো ইউরো দক্ষিণায় একটি বার্ষিক বাস ট্রাভেল কার্ড পাস ইসু করেন এমনকি ছাত্র না হলেও ; আঠারোর কম বয়েসিদের জন্য এমন সরাসরি টিকেট নেই, তবে শিক্ষা দপ্তর বাস ট্রাম কোম্পানিকে প্রভূত ভরতুকি দিয়ে থাকেন যাতে এই ছেলে মেয়েরাও বারো ইউরোতে বার্ষিক টিকেট পেতে পারে। শুধু বাস ট্রাম নয় লোকাল ট্রেনেও দিবারাত্র এটি ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় টিম স্ট্যান্ডার্ড লুইকের খেলার দিন এরাই মাঠ ভরিয়ে দেয়।

    সরকারি খাজানায় টান পড়েছে এখন; তাঁরা গত জুন মাসে এই বার্ষিক টিকেটের দাম বাড়িয়েছেন বহুগুণ - এবারে দিতে হবে ১৮০ ইউরো, মাসে এক ইউরো থেকে পনেরো ইউরো ! আগাম কোন নোটিস ছিল না, হঠাৎ ধুন্ধুরা পিটিয়ে জানানো হলো, সকলে অবগত হোন, দাম বাড়িল, দাম বাড়িল !


    সবুজ পোশাকে ট্রেড ইউনিয়নের মিছিল


    খড়ের গাদায় প্রথম আগুনের ফুলকি – এমনিতেই খানিকটা ফ্রান্সের দেখাদেখি, লিয়েজের ছাত্ররা সেই একই সিরিজের দাবি নিয়ে পথে নেমেছে - স্কুল বাড়ির, টয়লেটের, শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কার, ক্লাস রুমের সাইজ ৩৫ থেকে অন্তত ২০ তে নামিয়ে আনা এবং সব বিষয় পড়ানোর উপযুক্ত যথেষ্ট শিক্ষক, স্কুলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যের সু ব্যবস্থা, নার্স। ফ্রান্সের মতন দিনে দশ ঘণ্টা না হলেও বেলজিয়ামে পনেরো থেকে আঠারো বছরের ছেলে মেয়েরা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে সাত থেকে আট ঘণ্টা কাটাতে বাধ্য হয়। আমার চেনা দেশ ইংল্যান্ড ও জার্মানির চেয়ে এই রুটিন অনেক লম্বা, এই অতিরিক্ত সময় কাটিয়ে বেলজিয়ানরা কোনো দিগগজ হয়েছে বলেও জানা যায় না। এটিকে কমানোর দাবিও দুই দেশে শোনা গেছে। ছাত্র ছাত্রীদের দাবি এক, সব স্কুল কর্তৃপক্ষ তার সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন।

    অধিকন্তু বেলজিয়ামে উচ্চ শিক্ষার বেতন বৃদ্ধি হয়েছে সেপ্টেম্বরের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে। জার্মানি বা পোল্যান্ডের মতো বেলজিয়ামে ইউনিভারসিটি অবৈতনিক নয়। তবে মাইনের পরিমাণ নির্ভর করে ছাত্র ছাত্রীদের পারিবারিক আয়ের ওপরে, সে আয় যদি বছরে ৫২ হাজার ইউরো বা তার বেশি হয়, তাহলে পুরো ফি দিতে হবে (বেলজিয়ামে গড়পড়তা অর্ধেক নাগরিক এই আয় করে থাকেন )। ওয়ালোনিয়াতে গত জুন মাসে সেটি এক লাফে ৪৩% বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে বারশো ইউরোতে।, মাঝারি ইনকামের ক্ষেত্রে সাবসিডি মেলে, বার্ষিক খরচা অর্ধেক, প্রায় ছশো ইউরো, নিম্ন আয়ের সংসারের ছেলেমেয়ে গ্রান্ট পান, নিখরচায় অধ্যয়ন। মনে রাখতে হবে এখানে শুধু টিউশন ফির কথা হচ্ছে, আনুষঙ্গিক নিয়ে পিতামাতার ঘাড়ের বোঝাটা অনেকগুণ বেশি। হোস্টেলে থাকতে গেলে মোট খরচা দাঁড়ায় তেরো হাজার ইউরো, বাড়ি থেকে আসা যাওয়া করলে তার অর্ধেক। অন্তত অর্ধেক সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী সকাল সন্ধ্যে বার বা দোকানে কোন না কোন কাজ করে দু পয়সা রোজগার করতে পারেন, ঘণ্টা পিছু গড়ে দশ ইউরো। তবে এখন যেমন ইংল্যান্ডে দেখি – আমার মেয়ে কোন কাজ জোটাতে পারে নি - সে কাজও ক্রমশ অমিল। এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুধু ছাত্রমহল থেকে আসে নি! বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী ছেলে মেয়ের ছাব্বিশ বছর বয়েস অবধি পড়াশোনার ব্যয় পিতামাতা বহন করতে বাধ্য। বাড়ির মরগেজ, সব কিছুতেই ভি এ টি ( ভারতের জি এস টি ), ইন্সিউরেন্স, ইনকাম ট্যাক্স দেবার পরে কটা ইউরো বাঁচে। অন্যদিকে একটা সহজ হিসেব করে সরকার দেখিয়েছেন সারা বছর অধ্যাপক, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, ঝাড়ুদার, জল বিজলি নিয়ে ইউনিভারসিটির ছাত্র প্রতি সরকারের বারো হাজার ইউরো খরচা হয়, ফি বাড়িয়ে তার খানিকটা উদ্ধারের প্রচেষ্টা করছেন মাত্র।


    লিয়েজের বাস - বার্ষিক ভাড়া 1200 টাকা


    মনে পড়ে কাঁটাকলে এম এ পড়ার সময়ে আমাদের টেলিফোন অপারেটর পরিতোষদার প্রশ্রয়ে ব্যক্তিগত ফোন করছি;, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। হেসে বলেছিলেন তোমাদের বারো টাকা মাস মাইনেতে কি এই বিভাগ চলে, তার ওপর আবার বান্ধবীদের ফ্রি ফোন করা ! ষাট বছর আগের যে সরকারি ব্যবস্থা আমাদের জন্যে সেটি সম্ভব করেছিলেন বলেই এই জীবনে করে কম্মে খেলাম শুধু বি টি রোড দিয়ে যাবার সময়ে নয়, মনে মনে তাদের আজও প্রণাম করে থাকি।

    বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষার ফির পরিমাণ শুনে ইংল্যান্ড আমেরিকায় পিতা মাতারা মৃদু হাসবেন। ইংল্যান্ডে পাবলিক স্কুলের খরচা বেশি, তবে সে স্কুলে পাঠানোটা আপনার ইচ্ছে ; এন্তার ফ্রি সরকারি স্কুল আছে ; ইউনিভারসিটির ক্ষেত্রে কোন চয়েসের প্রশ্ন নেই। আমার বড়ো মেয়ের প্রথম বছর ছিল ফ্রি, তারপরে সেটা বাড়তে শুরু করে, ছেলের সময়ে তিন হাজার পাউনড, ছোট মেয়ে মায়ার সময়ে ন হাজার পাউনড বাৎসরিক ফি। কোন পরিবারের আয় কতো সেটি ব্রিটেনের মহারানি বা মহারাজের বিবেচ্য বিষয় নয়; ইউনিভারসিটির অ্যাকাউনটস অফিসের খাতায় সার রিচারড ব্র্যানসনের পুত্র ও আমার কন্যা দুজনকেই দিতে হবে একই মাইনে, সবাই সমান। পুরোপুরি সাম্যবাদ।


    ব্রাসেলস গত শুক্রবার


    অস্টারিটির বাংলা কি ? কৃচ্ছ্র সাধন ? আজকাল এই কথাটা ইউরোপের বাজারে খুব চালু। বেলজিয়ান সরকার বলছেন কসকে কোমরে বেল্ট বাঁধুন,, ফুল অস্টারিটি সিজন এখন। এতকাল মুফতের রেবড়ি খেয়ে এসেছেন এখন আপনারাও একটু উপুড় হস্ত করুন। আপামর জনতার ওপরে ট্যাক্স বাড়ালে ভোট কমবে তাই লাগান লাগিয়ে আয় বাড়ানো নয়, অন্য পন্থায় ব্যয় সঙ্কোচ করতে হচ্ছে। কাট ছাঁট। এ বছরের বাজেটে অন্তত দশ বিলিয়ন খরচা কমাতে হবে। ছাত্রদের বাস টিকিটের দাম এবং ইউনিভারসিটি টিউশন ফি বাড়িয়ে আর কতোটা হয় ? তাই খাঁড়া পড়ছে কর্মী বাহিনীর ওপরে – কাজ করতে হবে বেশি ঘণ্টা, বেনিফিট কমবে, বছর বছর বাঁধা রেটে মাইনে বাড়বে না। লিয়েজ পুলিস চিফ জানিয়েছেন দুটি শিফটের মাঝে গ্যাপ এবং ছুটি কমানো হবে অবসর গ্রহণের সীমানা বাড়ানো হতে পারে। সেটা নিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে কোন আগাম আলোচনা করেন নি। পরের সপ্তাহ থেকে বেলজিয়ান পুলিস ধর্মঘটে বসবে।


    ব্যয় সংকোচের প্রতিবাদে গ্রিক পার্লামেন্টের সামনে ছাত্রদের ক্যাম্প


    আর লিয়েজ নয়, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল ওয়ালুনিয়ার অন্যান্য শহর মস, শারলরোয়া এবং রাজধানী ব্রাসেলসে। দেশটা ফ্লেমিশ এবং ফরাসি ভাষা অনুযায়ী বিভক্ত, একমাত্র ব্রাসেলসে দু পক্ষের মুখ দেখাদেখি আছে; ওয়ালুনিয়ার লিয়েজে যে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল, ব্রাসেলসের তপ্ত বাতাসে তার শিখা লেলিহান হলো।

    দু সপ্তাহ যাবত ছাত্ররা পথ দখল করেছিল, অক্টোবরের সাত তারিখে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের তিরিশ হাজার কর্মী তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন।

    বেলজিয়ান ছাত্র আন্দোলনের দিশা, প্রতিবাদের ভাষা বদলে গেলো।


    রোমের পথে



    কাভুর স্কুল দখল - রোম


    পথ সংগ্রাম

    যজ্ঞের ঘি প্রস্তুত ছিল তাতে অগ্নিসংযোগ হল।

    ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলনে এ যাবত স্কুল অবরোধ, ডাস্টবিন পোড়ানো হয়েছে কিছু অগ্নিকাণ্ডের ফলে সম্পত্তি বিনষ্ট হয়েছে, ছ হাজার গ্রেপ্তার যার বেশির ভাগ নাবালক নাবালিকা। বাম পন্থীরা তাঁদের সঙ্গ দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা উসুল করেছেন। গত কয়েকদিনে যা দেখা গেল তাতে মনে হচ্ছে বেলজিয়ামের বিক্ষোভ আইন অমান্য বা অসহযোগ আন্দোলন বা পুরো দস্তুর ফরাসি কপি ক্যাট নয়। এটি তার চেয়ে অনেক বড়ো আকার নিয়েছে ফ্রান্সের মতন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল বা লিসের সমস্য শুধু নয়, এখানে আছে উচ্চশিক্ষার, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ব্যয় বৃদ্ধির মতন বৃহৎ অর্থনৈতিক ইসু, তার সঙ্গে ওয়ার্কার রাইটসে অহেতুক হস্তক্ষেপ ফলে ট্রেড ইউনিয়ন বাধ্য হয়েছে পথে নামতে।

    আমাদের যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ ১:০ বা ২:০ এর তুল্য নয়- সেখানে স্টেট অ্যাসেটে আগুন লাগানো হয় নি।

    স্কুলের উন্নতি, স্টাফ সমস্যা সমাধান, শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো, ইউনিভারসিটির মাইনে, বাসের ভাড়া কমানো নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেটি ঝাণ্ডা তুলে গান গাওয়া থেকে পরিণত হয়েছে যত্র তত্র অগ্নি সংযোগে , সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং পুলিসের প্রতি আক্রমণে। লিয়েজে এ কম্ম শুরু হয় অক্টোবরের এক তারিখ, সাত তারিখ নাগাদ দেখা গেল পার্ক করা ইলেকট্রিক বাইক, স্কুলের দোরগোড়ার ডাস্টবিন পোড়ানো – এমনকি , প্লাস সাঁ লামবেরের মত এলাকায় ( লিয়েজের অক্সফোর্ড স্ট্রিট ) দোকানের জানালা ভাঙ্গা শুরু হল- এককালে পত্নীর কারণে বেশ কিছু টাকা গচ্চা গেছে এসব দোকানে, প্রধান স্টেশন লিয়েজ গিয়েমায় কুলুপ পড়ল। যদিও অনমিত ফ্রান্স (France Unbowed / La France Insoumise) ও বাম নেতা জ লুক মেলাশর মতন এখানেও বেলজিয়ান কমিউনিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি সহ অতি বাম দলগুলি এই লড়াইয়ে ছাত্র ও ধর্মঘটিদের পক্ষে মাঠে নেমেছে -অন্যতম দাবি ইউক্রেনের যুদ্ধে টাকা না দিয়ে স্কুলের ব্যয় বাড়ানো হোক।

    সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়নের লোকেরা সবুজ পোষাকে মিছিলে যোগ দিয়েছেন – তাঁরা বারবার বলছেন তাদের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ কিন্তু বেশ কিছু অসামাজিক এলিমেনট মানুষ কালো পোষাক পরে এই ভিড়ে জুটে গিয়ে ধ্বংসকর্ম দ্বারা ছাত্র ও শ্রমিকদের বদনাম করছেন। সেকেন্ডারি স্কুল কর্তৃপক্ষ সম্পত্তি নষ্টের জন্য এই দুই রাজনৈতিক পার্টির কাছে ক্ষতিপূরনের দাবি জানালেন। বেলজিয়ান গৃহ মন্ত্রী বলেছেন আপন স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ছাত্রদের আন্দোলনকে বড়োরা হাইজ্যাক করে ফেলেছেন।

    পার্টি লাইন ভেঙ্গে লিয়েজের বামপন্থী মেয়র উইলি দামায়ার রুখে দাঁড়ালেন, বললেন প্রতিবাদ ও ভাঙচুর সমার্থক হতে পারে না- ৯ অক্টোবর অবধি শান্তিভঙ্গের অপরাধে দুশো গ্রেপ্তার ( ১১৪ জন নাবালক ) তার মধ্যে ৩৬ জনের ওপরে ক্রিমিনাল চার্জ। পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস তেরো বছরের একটি ছেলেকে ধরেছেন যে সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুদের স্কুল জ্বালানোর জন্য পেট্রল ক্যান নিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছিল। তিনজনের বেশি মানুষের একত্র হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। শহরের ইতিহাসে এহেন সরকারি বল প্রয়োগ এই প্রথম। এতে মেয়র দামায়ারের দলের নেতা বিশেষ ক্ষুণ্ণ হয়েছেন।

    লিয়েজ থেকে মস, শারলরোয়া হয়ে ইনকিলাব পৌঁছেছে ব্রাসেলস, দুদিন রায়ট পুলিস সঙ্গে রাস্তায় খণ্ডযুদ্ধ, কাঁদানে গ্যাস জ্ল কামান চলল অবিরাম। দু দিনে একশো জন গ্রেপ্তার। ব্রাসেলসের ঘটনার পরে এটি মোড় নিয়েছে আরেকদিকে ; অনুচ্চে শোনা যাচ্ছে এই তোলপাড়ের কারণ অন্যত্র ; লিয়েজের প্রায় চল্লিশ শতাংশ নাগরিক অন্য দেশে জন্মেছেন ! ব্রাসেলসে সেই সংখ্যা আরও বেশি।

    ইতালি এবং গ্রিসে সমব্যথী ছাত্র ছাত্রীরা সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের ছেলে মেয়েদের। জেনোয়ায় স্কুল দখলের দাবিতে পোষ্টার পড়েছে।

    গৌরি সেনেরা কি আজ দেউলে ?

    পাঁচ দশক আগে যে ইউরোপে এসেছিলাম সেখানে শিক্ষা স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সদাশয় মহানুভব সরকার। জার্মানিতে বলা হতো ভাবনার কিছু নেই, আছে ফাটার স্টাড, সরকারি পিতা। লাগে টাকা দেবে গৌরি সেন – আজ ইউরোপের দেশে দেশে গৌরি সেনেদের ঘরে টাকায় পড়েছে টান যদিও ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে সরকারি বাজেটের সাত শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হয় ( ভারতে তার অর্ধেকের কম, সুরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি ১৫%), সে টাকায় কুলোচ্ছে না; কর না বাড়িয়ে ধার বাড়ানোর প্রকল্প জোরদমে চালু। ফলত জাতীয় আয়ের চেয়ে জাতীয় ব্যয় ক্রমশ বেড়েছে। কাপড়ের অনুপাতে কোট আর কাটা যাচ্ছে না !

    লক্ষণীয় বিষয় - ইউরোপের যে চারটি দেশে শিক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির দাবি উঠেছে সেই সব দেশেই জাতীয় দেনার পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে জাতীয় আয়কে - ফ্রান্সে ১২০%, বেলজিয়ামে ১০৫%, ইতালিতে ১৪০% গ্রিসে ১৪৫ %।

    কাকতালীয় ?

    বন্ডের বাজারটা একটু দেখতে হয়।


    লিয়েজের মিষ্টি মুখ





    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    স্কুল ঠিক করো – এবার ফ্রান্সে | দেশে দেশে স্কুল ঠিক করো – এবার বেলজিয়াম
  • আলোচনা | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৫743330
  • বর্তমান ইউরোপের এক উত্তাল সময়কে তুলে ধরবার জন্যে সাধুবাদ জানাই l বাংলায় আপনিই পথিকৃৎ l একটা কথা বলুন তো দাদা, শিক্ষাক্ষেত্রে ও স্বাস্থক্ষেত্রে ব্যয় না কমিয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধের ব্যয় কমাবার কথা সবাই বলছেন কেন ? ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তো বলেই দিয়েছে যে ইউরোপ social welfare কমিয়ে আম্রিকা থেকে আরো অনেক অস্ত্র না কিনলে আম্রিকা আর রাশিয়ার হাত থেকে ইউক্রেনকে বাঁচাবেনা তখন ইউরোপের কি হবে !!!! এই ভূরাজনীতির ব্যাপারটা নিয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্র আর বামেদের মত কি ? নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটন না থাকলে ওদের কে বাঁচাবে রাশিয়ার হাত থেকে !
  • Debanjan | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৫743331
  • সবশেষে আবার বলি অসাধারণ হয়েছে দাদা l ইউরোপের এই উত্তাল সময়কে তুলে ধরতে আপনার জুড়ি নেই l
  • জয় | ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪০743342
  • হীরেনদা এখন কি ইউরোপে? সাবধানে থাকবেন দাদা। কাল প‍্যারিস মার্সেই কি বাজে রায়ট হল! দোকান লুটপাট গাড়ি বাড়ি জ্বালানো হয়েছে। দূর্বৃত্তরা আন্দোলনের সুযোগ নিচ্ছে।
    হীরেনদা লেখার সঙ্গে ছবিগুলো কি আপনার তোলা? ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে আপনি একেবারে গ্রাউন্ড রিপোর্টিং করছেন, আপনার অনবদ‍্য স্টাইলে।
     
    মনটা বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। দেশে যন্তর মন্তরে মনটা পড়ে। এদিকে লিমোজের সুপ্রাচীন টাউনহল পুড়ে ছাই। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে লিসবন মাদ্রিদে (কস্ট অফ লিভিং আর হাউজিং ক্রাইসিস নিয়ে)!
     
    অন‍্য প্রসঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের অ‍্যানাটমিটা তেমন বুঝিনা- আপনার মূল্যবান মতামত জানতে পারলে উপকৃত হব (হয়ত অন‍্যত্র)।... ইউরোপের দেশগুলো এমন (আপনি যার আঁখেদেখাহাল লিখছেন) আভ‍্যন্তরীন ঝামেলায় (জার্মানি ইউকেতে রাইট উইংদলগুলো দামামা বাজাচ্ছে) ব‍্যস্ত। আমেরিকাবাদে ন‍্যাটো নখদন্তহীন এমনিতেই। ট্রাম্প জেলেন্সকিকে যেতে বলছে। মাস্ক স্টারলিংএর স্পিডে ক‍্যাপ বসিয়েছে। ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেলের জন‍্য ডীল করছে। মিডটার্ম ইলেকশনে ট্রাম্প জেরবার। এই শীতটা কেমন যাবে? ফিঙ্গার ক্রসড
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট প্রতিক্রিয়া দিন।