

ছবি: রমিত
আমরা জানি সার্থক শিল্পী দেশ কালের গণ্ডি ছাড়িয়ে যান। আর এও জানি সব মহৎ সাহিত্য কীর্তির পটভূমিকা কোন এক সত্যি দেশ, কোন এক কালের এক টুকরো অংশ। তার চরিত্রগুলো কোনো এক দেশের কোনো কালের গণ্ডিতে বাঁধা। তবে কি করে এমন সাহিত্য সৃষ্টি হল যাকে আমরা বলি চিরন্তনী। অথচ, আমরা যে কাব্য উপন্যাসকে মহৎ বলি, যে গুলোকে চিরন্তনী ও সর্বকালের বলি, তাদের স্রষ্টা যে সব কবি ও লেখক তাঁরা কিন্তু তাঁদের সৃষ্টির, কাব্য উপন্যাসের, পটভূমিকা তৈরী করেছিলেন তাঁদেরই কালের। কালিদাস বা শেক্সপীয়রের পৃথিবী আজকের পৃথিবীর সঙ্গে মেলে না। ডিকেন্সের লন্ডন বা টলস্টয়ের রাশিয়া আজকের লন্ডন-রাশিয়া থেকে অনেক দূরে। তাহলে কেন এঁদের লেখা কালজয়ী চিরন্তনী হয়ে ওঠে? আসলে বোধহয় সব সার্থক লেখকই সর্বাগ্রে এবং সবশেষে মানুষের কথাই বলেছেন, বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিক্রমায়, বিভিন্ন কালের পটভূমিকায়। সেই মানুষ যে মানুষের হাসি-কান্না-দ্বেষ-হিংসা-লোভ-প্রেম আজকের মানুষের বা সর্বকালের মানুষের সামিল। মানুষের দুর্বলতা মানুষের নীচতা এবং মানুষের মহত্ব – এমনভাবে এই সব সার্থক কবি সাহিত্যিকরা আঁকেন যা আমরা বার বার পর্যটন করি, বার বার নতুন করে আবিষ্কার করি। সার্থক লেখকের সৃষ্টি তাৎক্ষণিকতার সীমানা ছাড়িয়ে সর্বকালের সকল দেশের মানুষের আপন হয়ে যায়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের সৃজনী নিয়ে দু একটি মন্তব্য করতে চাই- শরৎ-সাহিত্যের সঙ্গে আধুনিক যুগের কোন মিল আছে কিনা এবং তাঁর সাহিত্য কালজয়ী হয়েছে কিনা। আমি আগে বলেছি যে শিল্প যদি সার্থক হয় তবে তাকে দেশকালের বেড়া দিয়ে বন্দী করে রাখা যায় না। আমরা যে গল্প-উপন্যসগুলোকে সর্বকালীন বলি সেগুলি জরিপ করলে দেখা যাবে তাদের মুখ্য বিষয় ও পটভূমিকা যুদ্ধ, ধর্ম, শ্রেণীভেদ, সামাজিক অবিচার ও বৈষম্য, এবং লোভ, প্রেম ও হিংসা। শরৎসাহিত্যে কোন ব্যাপক যুদ্ধের পটভূমিকা নেই বটে তবে জোরালো দেশপ্রেমিকতা তার স্থান নিয়েছে। কুসংস্কার, সামাজিক অনাচার শরৎচন্দ্র যে ভাবে তুলে ধরেছেন তা সে যুগের বঙ্গদেশের হলেও আজকের যুগেও একটু বৃহত্তর ও আধুনিক পটভূমিকাতেও বুঝি সেই একই রূপে প্রযোজ্য। শরৎচন্দ্র অনেক লিখেছেন, তাঁর কিছু অসারাধারণ গল্প উপন্যাস নিঃসন্দেহে কালোর্ত্তীণ হয়েছে। সেই সব প্রকাশনের তালিকা ও আলোচনা আমার আজকের বক্তব্য নয়।
এবার যে কথাটা বলার জন্য এত গৌরচন্দ্রিকা সেই কথাটা বলি। আমি মনে করি, যে গল্পবিষয় শরৎচন্দ্রকে দেশকালের ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়েছে তা ওঁর প্রেমের গল্প। এ শিল্পে তাঁর দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকার্য, শরৎ প্রভিতার অন্য এক শিখর। শুধু দেবদাস নয়, শুধু শরৎচন্দ্র নন, প্রায় সব বিখ্যাত প্রেমের গল্পই ট্রাজেডি --- শেক্সপীয়র, রবীন্দ্রনাথও ব্যতিক্রম নন।
শরৎচন্দ্রের প্রেমের গল্প উপন্যাস অনেক এবং একটির সঙ্গে আর একটির মিল নেই। প্রত্যকটি অসাধারণ এবং অনবদ্য। শরৎচন্দ্রের অল্পপরিচিত প্রথম জীবনের লেখা একটা প্রেমের গল্প আমার প্রিয়। এটা কিন্তু ট্রাজেডি নয়। এটি মিলনান্ত।
গল্পটির নাম ‘কোরেল’, ভৌগোলিক অবস্থান ইংল্যান্ড। ১৩৮২ সালে শারদীয়া ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। * গল্পটির নায়ক নায়িকা লিও ও মেরি। একই গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে মানুষ হয়। বড় হয়ে লিও লেখক হয়। মেরি গভীরভাবে ভালবাসে লিওকে। হঠাৎ কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয় দুজনের। ফলে চার্লস নামে এক সাধারণ যুবক মেরির সঙ্গী হয়। আমি পুরো গল্পটা বলছি না। শরৎচন্দ্রের প্রেমের গল্প পৃথিবীর সাহিত্যে প্রথম সারির। এ গল্প সম্ভবতঃ সকল শরৎ-ভক্তদের পরিচিত নয়। ‘শরৎ সাহিত্য সমগ্রে’ এই গল্প ‘অজ্ঞাত রচনা’ অংশে স্থান পেয়েছে। অথচ এটি একটি নিটোল প্রেমের গল্প এবং অতি উচ্চমানের। শরৎচন্দ্র কেমন নিপুণ হাতে কথা দিয়ে ছবি আঁকতেন এই গল্প তাঁর সেই শিল্পের অন্যতম উদাহরণ। তাই এর থেকে তেমন দুটো অংশ পাঠকের সামনে তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না।
‘কোরেল’ গল্পের অংশ ঃ
... ... “ মেরি চার্লসকে হঠাৎ বলিল ‘তুমি আমার একটি উপকার করিতে পারিবে?’
চার্লস কহিল, ‘কি উপকার?’
মেরি একটু থামিয়া বলিল, ‘ তবে শোন, তোমাকে বুঝাইয়া বলি, আমার বুকের মাঝখানে একটা ছোট্ট, অতি ক্ষুদ্র কাঁটা ফুটিয়াছে। বাহির হইতে দেখা যায় না, বড় ভিতরে প্রবেশ করিয়া সর্বদা খচখচ করিতেছে --- এক বিন্দুও সুখ পাই না। তুমি তুলিয়া দিতে পারিবে?’
চার্লস ভাবিল কি রকম ! বলিল ‘কেমন করিয়া কবে ফুটিল?’
মেরি মুখ টিপিয়া ঈষৎ হাসিয়া বলিল, ‘তাও শুনিবে? তবে শোন, কিন্তু বোধহয় বুঝিতে পারিবে না। ছেলেবেলায় একটা গোলাপফুল লইয়া খেলা করিতাম, তাতে একটা কাঁটা ছিল, দেখিতে পাই নাই। তারপর মনে হয় কোনদিন বুঝি ঘুমের ঘোরে বুকে চাপিয়া ধরিয়া ছিলাম --- কাঁটাটি ফুটিয়া গিয়াছে। ফুল শুকাইয়া ঝরিয়া গিয়াছে --- এখন কাঁটাটি বাহির করিয়া ফেলিতে চাই। তুমি পারিবে?’
চার্লস কিছুই বুঝিল না। মন-রাখাগোছ কহিল। কহিল ‘বোধহয় পারিব, কিন্তু কাঁটা খুব ছোট ত?’
‘হ্যাঁ, খুব ছোট কিন্তু সাবধান, অনেকখানি বুকের রক্ত মাংস না কাটিলে আর বাহির হইবে না। হয়ত বা প্রাণে বাঁচিব না। সাবধানে তুলিবে ত?’
চার্লস ভয় পাইল। কহিল, ‘তবে ডাক্তার ডাকাও।‘
মেরি হাসিল। কহিল, ‘ডাক্তার ডাকিতে লজ্জা বোধ হইবে, বুকের মাঝে কিনা --- তাই।‘
চার্লস চিন্তা করিয়া কহিল, ‘আমি বোধহয় পারিব না।‘
মেরি ভ্রুকুঞ্চিত করিল--- ‘যদি পারিবে না তবে মনে মনে লুকাইয়া আমাকে কামনা কর কেন?’
চার্লস শুকাইয়া উঠিল। কিন্তু পরক্ষণেই এদিক-ওদিক চাহিয়া দেখিল ঘরে অপর কেহ নাই ; একটু সাহস হইল, বলিল, ‘তোমাকে দেবতা কামনা করে, আমি তো মনুষ্যমাত্র।‘
মেরি অন্যমনস্কভাবে কহিল, ‘কিন্তু একজন আমাকে কামনা করে না। সে বোধহয় দেবতারও উচ্চে।‘
তাহার পর তাহার অন্য ভাবোদয় হইল। অমনি কটাক্ষে চার্লসের পানে চাহিয়া বলিল, ‘দেখ সে কাঁটাটি যদি একবার হাতে পাই, তাহলে এমনি করিয়া পদাঘাত করি --- একফোঁটা কাঁটা নিমেষে পরমাণু হইয়া যায়, কিন্তু হাতে পাই না, বুকের ভিতর লুকাইয়া বসিয়া আছে। ‘
চার্লস বিস্মিত হইয়া চাহিয়া রহিল। মনে হইতেছে – বুঝি ঠিক কাঁটার কথা নহে, কিন্তু ভাল পরিষ্কার হইতেছে না। সাত পাঁচ ভাবিয়া কহিল, ‘ডাক্তার দেখাইলে হানি কি?’
মেরি প্রথমে হাসিয়া ফেলিল কিন্তু পরক্ষণেই মলিন হইয়া মৃদুকন্ঠে বলিল, আমার যেমন পোড়া কপাল, তাই তোমাদের সঙ্গে কথা বলি --- সোনার পাত্র ছাড়িয়া মাটির পাত্র লইয়াছি। তৃপ্তি হইবে কেন?’
চার্লসের রাগ হইল কিন্তু ভয়ে ভয়ে চুপ করিয়া লইল। “
গল্পের এই অংশটা আমাকে অভিভূত করেছিল। এমন তুলনা, এমন ব্যাঙ্গ উপহাস, এমন
‘innuendo’, প্রচ্ছন্ন কটাক্ষ ও শ্লেষ, ব্যর্থ প্রেমের লুকানো বেদনার অভিব্যাক্তি, আমাকে মুগ্ধ করেছিল। শরত সাহিত্য প্রতিভার এক আশ্চর্য নিদর্শন।
... ... এই লেখাটা কিছুদিন আগে লিখেছিলাম। এবং নিবন্ধটি এখানেই শেষ করেছিলাম। আজ নতুন করে আবার লিখতে বসে মনে হল --- প্রেমের গল্পে শরৎচন্দ্রের শিল্প দক্ষতার অন্য বলয়টা না তুলে ধরলে এ-লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে --- সেটা এক অন্য চিত্রকল্প --- যা সুন্দর, শান্ত, মনোরম। তা শরৎচন্দ্রের অন্য রূপ, যেখানে তিনি নারী জাতির সহজাত কমনীয় গুণগুলো বিকশিত করেছেন --- করুণা, স্নেহ, মমতা, ভালবাসা, প্রিয়তমকে সর্বস্ব দিয়ে, এমন কি জীবন পণ করে আঁকড়ে রাখা। তাঁর সৃজনে প্রেম সেই মহত্বে আসন নিয়েছে।
আমার মন্তব্যের সমর্থনে এই গল্পের শেষের দিকের একটি ছোট্ট অংশ নীচে তুলে দিলাম।
… … “ তার পর পাঁচটা বাজিল, ঘড়ির পানে চাহিয়া লিও বলিল, ‘তবে যাই --- আমার সময় হইয়াছে। ‘
চলিয়া যায় দেখিয়া রুদ্ধকণ্ঠে বহু ক্লেশে মেরি কহিল, -- ‘একটি কথা বলিয়া যাও ‘---
লিও ফিরিয়া আসিয়া কহিল, ‘কি কথা?’
‘এত টাকা কোথায় পাইলে?’
লিও মৃদু হাসিল। ‘এ কথা কেন এখন জিজ্ঞাসা কর? আমার কোন কথা তুমি জান না?’
‘কি জানি? অমন গান গাহিতে জান তাহা কি কখন বলিয়াছিলে?’
লিও এবার যতার্থই হাসিয়া ফেলিল, --- কৈ, তুমি তো কখন জিজ্ঞাসা কর নাই? জিজ্ঞাসা করিলে কত গান শুনাইয়া দিতে পারিতাম, এতদিনে হয়ত তুমিও আমার মত শিখিতে পারিতে।‘
মেরি কহিল, ‘সে কথা নয়, টাকা কোথায় পাইলে বল? ‘
‘কোথায় আর পাইব? পিতা যাহা রাখিয়া গিয়াছিলেন, তাঁহার কার্যে তাহাই ব্যয় করিলাম। বাড়ি, ঘর, ফুলবাগান, আমার একরাশি পুস্তক ---- যাহা কিছু ছিল প্রায় সমস্তই বিক্রয় করিয়া তাঁহার ঋণ পরিশোধ করিয়াছি।‘
মেরি কঠিন দৃষ্টিতে মুখপানে চাহিয়া বলিল, ‘বেচিয়াছ?’
‘সব।’
‘থাকিবে কোথায়? খাইবে কি?
আপাততঃ লন্ডনে যাইতেছি --- সেখানে কোন কার্য খুঁজিয়া লইব। আশা আছে সমস্ত দিন উপবাস করিতে হইবে না। ‘
‘লন্ডনে কোথায় থাকিবে?’
‘দিন কতক বোধহয় হসপিটালে থাকিব, তাহার পর যাহা হয় করিব।’
‘সেখানে কেন?’
‘সেখানে কিছুদিন কাটাইতে হইবে বলিয়া অনুমান করিতেছি। আজ চার দিন হইতে জ্বর হইয়াছে, কিছুতেই সারিতেছে না--- সদ্য লন্ডনে গিয়া যে ভাল থাকিব এ আশা করি না, টাকাকড়িও সঙ্গে অধিক নাই--- সে অবস্থায় আর কোথায় যাইব বল?’
মেরি শিহরিয়া উঠিল। ‘অ্যাঁ – আজ চার দিন জ্বর সারে নাই?
‘কৈ আর সারিয়াছে?’
এক দণ্ডে মেরির সমস্ত মুখের ভাব পরিবর্তন হইয়া গেল। কাতরতা, বিষাদ, নিরাশা, লজ্জা, অভিমান সে-মুখে আর কিছুই রহিল না। শুধু বিশ্বব্যাপী প্রবল স্নেহ ও দিগন্তবিস্তৃত বিপুল শঙ্কা। প্রথমে সে হাত দিয়া লিওর কপোল স্পর্শ করিয়া শরীরের উত্তাপ দেখিল, --- ভাল বুঝিতে পারিল না। তাহার পর দুই হস্তে লিওর মুখ নিচু করিয়া নিজের কপোল তাহার কপোলে সংলগ্ন করিয়া উত্তাপের স্তর অনুভব করিল, তাহার পর বিনা বাক্যব্যয়ে হাত ধরিয়া টানিয়া লইয়া চলিল। দৃপ্ত চক্ষে অমানুষিক আভা।
লিও সভয়ে বিলিল, ‘ কোথা যাও?’
‘যেখানে ইচ্ছা, কোন কথা জিজ্ঞাসা করিও না।‘
লিও ভাবিল, এ কি !
মেরি বরাবর তাহাকে টানিয়া লইয়া একেবারে উপরে উঠিল, তাহার পর আপনার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিল। অট্টালিকার মধ্যে এই কক্ষটাই সর্বাপেক্ষা সুন্দর ও সজ্জিত। এক পার্শ্বে একটা প্রকাণ্ড দুর্মূল্য পালঙ্ক সজ্জিত ছিল, মেরি তাহার উপর লিওকে টানিয়া লইয়া বসাইয়া দিল। বালিশগুলি একত্র করিয়া বলিল, ‘চুপ করিয়া এখানে শুইয়া থাক ---’।
চক্ষু ও মুখের ভাব দেখিয়া লিও পূর্বেই কিছু ভীত হইয়াছিল, এবার নিতান্ত ভয়ের সহিত বলিল --- ‘ আমাকে যে আজ যাইতে হইবে। সময় উত্তীর্ণ হইতেছে। ‘
মেরি সে কথা শুনিতে পাইল বলিয়া বোধহয় না। আপনার মনে একটি বহুমূল্য শাল আনিয়া তাহার বক্ষ পর্যন্ত ঢাকিয়া দিয়া বলিল, --- ‘ লিও, এ সময়ে আমার সহিত কলহ করিলে চলিবে না। তুমি মনে করিয়াছ, ঋণ পরিশোধ করিয়াছ? কিছুই কর নাই ! --- আজ নয়, ভাল হও, তাহার পর এ কথা বুঝাইয়া দিব। তোমার যখন শরীর অসুস্থ তখন ও শরীরে আমারই সর্বময় অধিকার, আবার যখন ভাল হইবে তখন যাহা ইচ্ছা করিও ---’
লিও স্তম্ভিত হইয়া গেল। এ কি কথা! ক্লিষ্ট শরীর মন্ত্রমুগ্ধবৎ ঢলিয়া আসিতেছিল, অর্ধমুদ্রিত চক্ষে লিও জোর করিয়া কহিল, ‘ছাড়িয়া দাও, --- আমি লন্ডন যাইব। ‘
মেরি তাহার মুখের উপর মুখ রাখিয়া বলিল, ‘ লন্ডনের কথা ছাড়িয়া দাও,--- আমাকে জিজ্ঞাসা না করিয়া শয্যার নীচে নামিলে, আমি এই ছাদ হইতে নীচে লাফাইয়া পড়িব। আমার মন এখন পাগলের মত হইয়া আছে, --- অবাধ্য হইলেই প্রাণ বিসর্জন দিব।‘
লিও ধীরে ধীরে বলিল, ‘তবে আর কি করিয়া যাইব।’
তাহার পর পার্শ্ব পরিবর্তন করিয়া ঘুমাইয়া পড়িল।
*শরৎ সাহিত্য সমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৭৫ - ২১৮৮। আনন্দ পাবলিশার্স। সাল ১৩৯৩।
এই ‘কোরেল’ গল্পটি ইংল্যান্ডের পটভূমিকায় লেখা শরৎচন্দ্রের প্রথম দিকের একটি রচনা। পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র এই গল্পটি বর্মার পটভূমিকায় স্থাপন করে এবং সামান্য অদল বদল করে ‘ছবি’ গল্পটি লেখেন।