

অলংকরণ: রমিত
১
তোমার মধ্যে একটা পায়ে চলা পথ ছিল
কতদিন হেঁটেছি একা একা।
প্রায়শই যেতে যেতে সন্ধে নামত,
আর, সারা রাজ্যের মানুষখেকোর দল
আমায় সারারাত খুবলে খুবলে খেত।
২
ও ঘরে অন্ততঃ জনা তিনেক লোক আছে
সারাক্ষণ গুজগুজ ফুসফুস, কাজকর্ম নাই।
আমি শুধু তাদের গলার আওয়াজ পাই।
এদিকে নৌকায় ফের জল ঢুকতে শুরু হল
এতটুকু শুকনো কাঠ নেই যে উনুন ধরানো যায়
সে সব সামলানো সহজ
শুধু ওই ঘরে খড়ের গাদায় ছুঁচগুলো
ওরা তিনজনে এত বছরেও গুছিয়ে রাখতে পারল না।
৩
যে গাড়িটা হুড়মুড় করে অন্ধের মতো
আমায় চাপা দিল দিনদুপুরে
আবার যেসব আচমকা মিসাইল এসে মহল্লার
চালু থিয়েটারটাকে স্থিরচিত্র বানায়।
অথবা লেখার সময় উড়ন্ত মাছির দল
আমার আর লেখার মাঝখানে থাকা
অক্ষর বদলে দিচ্ছে বারংবার —
তাই, আজকাল কিছুই লিখতে পারি না
শুধু হিজিবিজি আঁকি।
এইগুলো ছাড়া বাকিসব আপদগুলোকেই
বিজ্ঞানসম্মতভাবে ভাবে অদৃষ্ট ভেবে থাকি।
৪
ওই অচেনা ভদ্রলোকটির মতো—
অফিস-টফিস পাওনাদার, সাংসারিক সমস্যা,
অসুখ বিসুখ ও সন্তানজনিত দুর্ভাবনা সামলে
কীভাবে সপরিবার লম্বা সপ্তাহান্তে গাড়ি করে
পুরী যাওয়ার সময়ে কিশোর কুমারের গানে
গলা মেলাতে পারতাম?
যদি আমি ওই অচেনা ভদ্রলোকটি হতাম।
৫
একটা আশ্চর্য পাখির সঙ্গে দেখা হল আমার
সেও হতচকিত আমারই মতো প্রায়।
সে উড়ে পালাতে পারছিল না
আমারও ছবি তোলার কথা মনে নেই
মানচিত্র বহির্ভূত পৃথিবীতে দেখা হল আমাদের
সেখানে পাখিটির মুখোমুখি আমি
তাকিয়ে থাকছি, এখনও পৌঁছতে পারে নি সময়।
৬
সত্তর বছরের গড় আয়ুতে প্রতিটি মানুষ প্রায় পঁচিশ টন কার্বন ডাই অক্সাইড, প্রায় সম ওজনের প্রস্রাব ও সাড়ে ছয় টনের মতো মল প্রস্তুত করেন প্রায় বাধ্যতামূলক ভাবে।
অন্যান্য প্রজাতির ধ্বংশসাধন করে গোটা পৃথিবীকে গোল্লায় পাঠানোটা তার শখ।
আহ্লাদ করে একেই আমরা সভ্যতা বলে থাকি।
৭
সামান্য অসতর্ক বাদলা হাওয়া এলে
চমকে উঠে ভুলতে থাকা কাজ মনে পড়ে।
বেড়াতে যাওয়ার কথা মনে হলে
উজার হয়ে যাওয়া বনজঙ্গলের কথা হয়।
বিপর্যয়ে মৃতের তালিকা হাতড়াই
ভুলতে বসা আত্মীয়স্বজনের খোঁজে।
প্রিয় বন্ধুর ফোনে শুধু ধান্দাবাজির গন্ধ পাই।
তবু, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে
সিনেমা দেখতে গিয়েছি
ইলিশও কিনেছি অনেক টাকা খরচ করে
“কী মিষ্টি এ সকাল” গানের তালে তালে
কোঁত পেরে গেছি নিয়মিত
কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
যে যাই বলুক
আজকাল কিছুতেই আমার উৎসব পাচ্ছে না।
kk | ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩৮743026