

ছবি: ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক
নিয়মভঙ্গ পর্যন্ত সব নিয়মমতো চলেছিল। কেউই হলুদ হাওয়াই শার্ট বা লাল বেনারসি পরে চলে আসেনি, হা হা হাসেনি, কলকাতার অফবিট বনেদি বাড়ির শ্রাদ্ধের রিল বানায়নি। বেগুনি ব্যাপারটা যে ঠাণ্ডা হলে খাদ্য পেরিয়ে অখাদ্যের রাজ্যে যাত্রা করে পাশের লোকের সঙ্গে চর্চার ইচ্ছে চেগে থাকলেও চেপে দিয়েছে। ঐকমত্যে পৌঁছেছে, ভালোই হয়েছে একদিক থেকে। কষ্ট পাচ্ছিল। যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক।
দরকার পড়লেই ফোন কোরো। বিপদের সময় নিজের লোকই তো পাশে থাকে। সকাল থেকে নিশ্চয় পেটে কিছু পড়েনি?
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নাটক চলছে। রোল বদলায়। সব রোলের সব সংলাপ সবার মুখস্থ বলে অসুবিধে হয় না। আফটার অল, স্বাভাবিকত্ব রক্ষা একটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ প্রযোজিত ও পরিবেশিত একটি পূর্বনির্ধারিত পারফরম্যান্স। একসময় যৌবনদৃপ্ত ঔদ্ধত্যে এইসব পারফরম্যান্সকে মনে মনে নিচু চোখে দেখতেন সমর দত্ত। যখন নিজেকে মনে মনে বাকিদের থেকে বেটার মনে করতেন। পঞ্চাশ পেরিয়ে বুঝেছেন একটা মাছি যতটা অন্য মাছির মতো তার থেকেও বেশি তিনি তাঁর সহমানবদের মতো। কাজেই অস্বস্তির কান মুলে অভিনয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।
কঠিন। তেরোদিন ধরে বডি ল্যাংগোয়েজে বিষাদের বাটখারা ঝুলিয়ে ঘোরা। সে ভারবহনের ক্রমবর্ধমান ক্লেশ এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্লেশমুক্ত হওয়ার আসন্ন আনন্দের টানটান দড়িতে হাঁটার স্ট্রেসেই সম্ভবতঃ দিনের অপ্রত্যাশিততম ঘটনাটা সমর দত্তের স্মৃতিতে চাপা পড়ে গেল। ভেসে উঠল যখন এই সব মুহূর্তরা সাধারণতঃ ভেসে ওঠে। রাত তিনটে সতেরোয়।
অনেক কারণে তিনটে সতেরোয় ঘুম ভাঙে। বাথরুম পায়, গরম লাগে, কুকুর ডাকে, মাতাল চেঁচায়। সাতটা বোমা পরপর ফাটে, অন্তে তুবড়ির ঝিরঝির শুনে বোঝা যায় উদযাপন। সে রাতে ঘুম ভেঙে এই সব চেনা কোনও অনুঘটক সমর দত্ত চিহ্নিত করতে পারলেন না। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় কড়িকাঠের ছকে ড্যাম্পের কাটাকুটি দেখতে দেখতে, এক দুই তিন গুনতে গুনতে, পনেরোতে পৌঁছে ঘটনাটা ঘটল। পাঁচহাজার পঞ্চান্নবার চর্বিত শোকের ধাক্কাধাক্কি থেকে উজ্জ্বল একাকীত্বে সরে দাঁড়াল তিনটে বাংলা শব্দ, একটা ইংরিজি শব্দ, একটা কমা, একটা দাঁড়ি, একটা মুচকি হাসি।
অভিনন্দন, লাস্ট দত্ত স্ট্যান্ডিং।