ঢাংকর গোম্পা

ঢাংকর গোম্পা ও গ্রাম
দেমুল থেকে নেমে আসার সময় দুতিন পাক নেমে গ্রামের রক্ষাকর্তা অবতারের স্তুপের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়াই আমরা। এখানকার মানুষজন সকলেই শাক্য সেক্টের। তাশি জানায় প্রতি গ্রামের একজন রক্ষাকর্তা দেবতা থাকেন, বুদ্ধের অবতার। স্তুপের সামনে নীচে অনেক কটা আইবেক্স আর ভরালের শিং। ভরাল বা ব্লু শিপের বয়স যত বাড়ে মাথার শিংও তত বাড়ে আর ক্রমশ বেঁকে যেতে থাকে। এরপরে একসময় শিঙের ভারে এরা আর মাথা তুলতে পারে না, খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে বসে বসে মরে যায়।

দেমুলের রক্ষাকর্তার চোর্তেন

আইবেক্সের মাথা
তাশি বলে যে সব ভরালের এই গ্রামে বা আশেপাশে এরকম স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাদের শিং আর যে সব ভরাল আর আইবেক্স দেবতার কাছে বলি দেওয়া হয় তাদের শিং এখানে রাখা হয় যাতে ভুত প্রেতের উৎপাত না হয়। আগেও লিখেছি বোধহয় তিব্বতী বজ্রযান বৌদ্ধধর্ম ভুতপ্রেত তন্ত্র মন্ত্রে বিশ্বাসী। এই স্তুপের সামনে থেকে বাঁ দিকে আঙুল দেখিয়ে তাশি লালুং গ্রাম চেনায়। হাজার বছরের পুরোন গোম্পা আর রহস্যময় পর্বত নিয়ে লালুঙ আরেক জাদুমাখা গ্রাম। অঞ্জলী গিয়ে দুদিন থেকে এসেছে।
এবারে তো হল না, পরে আসবো। দেমুলের মতই কাজা থেকে বাস আসে বিকেল ৫.১৫ তে আর পরেরদিন সকাল ৭.৩০ এ ফেরত যায়। এভাবেই এই গ্রামগুলোর মানুষ কাজায় যায় পড়াশোনা করতে বা কাজ করতে। পড়াশোনা বলতে অবশ্য স্কুল পর্যন্ত। কলেজ যেতে হলে সিমলা বা কুলু। দেমুলের কাছ থেকে লালুং দেখা গেলেও গাড়িতে যেতে হলে দুই ঘন্টার বেশী লাগবে। গ্রামের লোকেরা অবশ্য অনেকসময়ই পাহাড়ি চড়াই উৎরাই বেয়ে হেঁটেই যাতায়াত করেন।

ফিরোজা রঙের ঘাঘরা পরে স্পিতি নদী চলেছে নাচতে নাচতে
আমাদের গন্তব্য ঢাংকর, যেতে সময় লাগবে দেড় কি দুই ঘন্টা। সঙ্গে পাশে পাশে চলে নীল সবুজ স্পিতি নদী। সমুদ্রতল থেকে ১২৭৭৪ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত ঢাংকর গোম্পা স্পিতি আর পিন নদীর সঙ্গমের পাশে একটা ১০০০ ফিট খাড়াই পাথরের ধারে দ্বাদশ শতকে তৈরী দুর্গ কাম গোম্পা। ঢাং বা ধাং মানে পাহাড়ের খাড়াই ঢাল আর কর মানে দুর্গ। স্পিতির কী গোম্পা বা লাদাখের থিকসে বা লিকিরের মত ঢাংকরও দুর্গ -গোম্পা হিসেবে তৈরী হয়েছিল।

চন্দ্রপৃষ্ঠ নয়, ঢাংকরের আগে
ঢাংকর গোম্পা গেলুগ সেক্টের অন্তর্গত। দ্বাদশ শতকে মূল কাঠামো তৈরী হলেও সপ্তদশ শতাব্দীতে দুর্গ হিসেবে একে শক্তপোক্ত করে গড়ে তোলা হয়। ব্রিটিশরা এসে দখল করার আগে অবধি এটি স্পিতির রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হত। পুরোন ঢাংকর গোম্পার লাগোয়া ঢাংকর গ্রাম। একটু নীচের দিকে স্পিতি নদীর পাশে সিচিলিং গ্রামে নতুন গোম্পা গড়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে 'ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড' ঢাংকর গোম্পাকে বিশ্বের একশোটা সর্বোচ্চ বিপন্ন স্থাপত্যের অন্তর্গত বলে ঘোষণা করে। সেই সময় থেকে একটা এঞ্জিও এই গোম্পা সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঢাংকর গোম্পার তোরণ
গাড়ি একেবারে পুরোন গোম্পার দরজা অবধি পৌঁছায়। দুপাশে ছোটখাট জিনিষপত্র নিয়ে বসা সাময়িক দোকান, খানকয়েক পাকাপোক্ত খাবার দোকানও। আমরা পৌঁছালাম সোয়া বারোটা নাগাদ। পুরোন গোম্পা পাহাড়ের খাড়াই ঢালের কিনারে তৈরী হওয়ায় ওঠার পথ সঙ্কীর্ণ। দোতলায় উঠতে উঠতেই শুনতে পাচ্ছি ঊপরে কোথাও সমবেত মন্ত্রপাঠ হচ্ছে, সাথে বাজছে তিব্বতী ড্রাম। দোতলার পর থেকে প্রায়ান্ধকার সিঁড়ি আরো সঙ্কীর্ণ, আরো খাড়াই আর তেল পিছলানো মসৃণ। পাঁচশো বছরের বেশী পুরোন যে কোন স্থাপত্যেই যা দেখা যায় আর কি।

পুরোন গোম্পায় ঢোকার পথ
এসব ক্ষেত্রে আমি যা করি ওঠার সময় চার হাতপায়ে হামাগুড়ি দিয়ে উঠে যাই আর নামার সময় বসে বসে নেমে আসি। সেইভাবেই তিনতলায় উঠে দেখলাম বাঁ দিকে একটা সরু প্যাসেজ একটু এগিয়ে একটা খোলা দরজা বা জানলায় শেষ হয়েছে। জানলার মুখে পৌঁছে দেখি একটু নীচে একটা খোলা ছাদ আর তার কার্ণিশের ওপারে মস্ত উপত্যকা দূরে রুক্ষ বাদামী পর্বতের দেওয়াল। এক সায়েব ট্রাইপড আর ক্যামেরা নিয়ে জানলা টপকে লাফিয়ে নেমে গেল। বুঝলাম এই সেই দুর্দান্ত ভিউপয়েন্ট।

স্পিতি নদী আর পিন নদীর সঙ্গম - পুরোন গোম্পার পেছন থেকে
স্পিতি আর পিন নদীর সঙ্গম এইখান থেকে সবচেয়ে ভাল দেখা যায়। অনেকেই এই পয়েন্টটার কথা জানে না তাই আর ছাদে নামে না। আর সিঁড়ির ধাপ করা থাকলেও খুব লম্বা না হলে অল্প একটু লাফিয়ে নামতে হয়। এহহে এটার কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল একদম। তাই গোম্পার ভিতরে ছবি তোলা যাবে না বলে ক্যামেরা গাড়িতে রেখে এসেছি। এখন আবার অতটা নেমে গিয়ে আনতে ইচ্ছে করছে না। দুদ্দুর।
যাকগে মোবাইলেই কদ্দুর কি হয় দেখি। ওঠার সময় কোনমতে হাঁচড় পাঁচড় করে ওঠার চেষ্টা করছি দেখে আরেক সায়েব খপাৎ করে হাত ধরে এক হ্যাঁচকায় টেনে তুলে দিয়ে বুড়ো আঙুল উঁচু করে দেখিয়ে চলে গেলেন।

স্পিতি- পিন সঙ্গমএবারে একদম উপরের তলায় পৌঁছে দেখি ওবাবা রীতিমত প্রশস্ত প্রাঙ্গন, একদিকে মূল মন্দির। সেখানেই ড্রাম বাজিয়ে সমবেত মন্ত্রপাঠ হচ্ছে। দরজা বন্ধ, সেখানে এখন পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ। এখানে চতুর্মুখ ভৈরোচনা বুদ্ধের মস্তবড় মূর্তি আছে, আছে অতি পুরোন জীর্ণ থাঙ্কা ও আরো নানা ছোট বড় নানা জিনিষ নিয়ে ছোট একটা মিউজিয়ামও। কিন্তু নাহ সেসব কিছুই আজ দেখা যাবে না। এই উপাসনা কতক্ষণ চলবে জিজ্ঞাসা করে শুনি আজ সারাদিনই।
পুরোন গোম্পা নীচের চত্বর থেকেট্রিপ অ্যাডভাইজারে পড়েছিলাম এই মিউজিয়াম অনেকসময়ই বন্ধ থাকে। ঠিক সেটাই হল। গোম্পা যেহেতু পাহাড়ের গায়ে ক্ষুদে কেটে বানানো, তাই এই প্রাঙ্গণের পাশে একটু এদিক ওদিক গেলেই কিছু গুহা পাওয়া যায়। সেগুলোয় লোকে গিয়ে বসে ধ্যান করতে পারে। এক মেমসায়েব সেই নীচের তোরণ থেকেই 'মেডিটেশান কেভ' খুঁজতে খুঁজতে এসে অবশেষে খুঁজে পেয়ে ঢুকে গেলেন। এবারে নামার পালা। বসে বসে দুটো তলা নেমে দেখি এক বাঙালি পরিবার মহা চিন্তিত।
সিঁড়ি যেখানে সবচেয়ে ভাল অবস্থায়এক ভদ্রমহিলা হাঁউ মাউ করে বলছেন আমি উঠতেই পারবো না তোমরা যাও, এখানে বসছি আমি। সেখানে তো বসার জায়গা নেই, খুবই অপ্রশস্ত পথ, আর সিঁড়িতে বসে থাকা অসম্ভব। আমি বসে বসে নামছি তাতেই পাশ দিয়ে অন্যরা ওঠানামা করতে পারছেন না। একটা করে বাঁকে পৌঁছে দেওয়ালের সাথে সেঁটে দাঁড়িয়ে সাইড দিচ্ছি। এক ভদ্রলোক বলছেন তাহলে আমিই থাকছি এখানে ওর সাথে তোমরা যাও। একটি মেয়ে মহিলার হাত চেপে ধরে বলছে আরে পড়বে না আমি ধরে ওঠাচ্ছি। মহিলা উঁহুহুহু হাঁটু গেল আমার এত খাড়াই আমি পারবো না রে।
খাড়াই সিঁড়ি চড়তে চড়তে এক গবাক্ষ দিয়ে বাইরে তাকালে... ওঁকে বললাম আমার মত করে হামাগুড়ি দিয়ে চড়তে আর বসে বসে নামতে। এদ্দুর এসেছেন, এত পুরোন গোম্পা, না দেখেই চলে যাবেন। উনি আশা নিরাশা মিশিয়ে বললেন আমি পারবো!? ৫৪ বছর বয়স হল আমার। আমি একগাল হেসে - আমার তো ষাট, আমি পারলাম তো। আপনি একটু চেষ্টা করে দেখুন। আর দাঁড়ানো যাবে না, সামনে পেছনে লোক জমে যাচ্ছে। নীচে চলে এসে গেটের পাশের ছোট চত্বরে ঘুরে ফিরে ছবি টবি তুলে একটা চা কফির দোকানের সামনের চেয়ারে বসি। দোকানের ছেলেটা গাদা গাদা বাসন মাজছে ধুচ্ছে। বলল একঘন্টা লাগবে কফি টফি বানাতে।

এরমধ্যে আরো এক বাঙালি গ্রুপ এসে গপ্প জুড়লেন। পরে বুঝলাম এঁরাও ওই সিঁড়ির গ্রুপেরই অংশ। দুটো না তিনটে টেম্পো ট্রাভেলার ভর্তি করে এসেছেন। একথা সেকথায় আমি একলা ঘুরছি শুনে বেজায় অবাক। কাজায় ভলান্টিয়ারিঙের কথা শুনে ওঁদের মুখের হাঁ আর বন্ধই হয় না। ভদ্রমহিলারা জিজ্ঞাসা করলেন আপনার সাথে একটা ছবি তুলতে পারি? আইব্বাস, আমি তো ফিলিং লাইক সেলিব্রিটি।

তো তাঁরা ছবি তুললেন, ফোন নম্বর নিলেন, ছবি পাঠাবেন, যোগাযোগ রাখবেন বলে।
সেসব কিছুই অবশ্য করেন নি। কথায় কথায় এর পরে আদি কৈলাশ যাবো শুনে আর ট্যুর অপারেটারের নাম শুনে যে ভদ্রমহিলা ছবি তুলতে সবচেয়ে উৎসাহী ছিলেন, মহা চটে গেলেন। কী ব্যপার? না ওই ট্যুর অপারেটার নাকি ওঁদের অক্টোবরে নিয়ে যেতে চান নি বলেছেন মে জুনে যেতে। কেন আমাকে নিয়েছেন কিন্তু ওঁদের নেন নি? কেন কেন? যাচ্চলে! সে আমি কী করে জানবো? এর মধ্যে সেই সিঁড়ির ওঁরাও নেমে এলেন। ভদ্রমহিলা বেজায় খুশী হয়ে জানালেন আমার বুদ্ধিটা খুবই কাজে লেগেছে।
ইনি আবার আমার বেগুনী চুল দেখে বিস্মিত। ইনিও ছবি তুলবেন বেগুনীচুলের সাথে। নীচে এসে হাল্কা গরমভাব লাগায় টুপি খুলে হাতে নিয়ে ঘুরছিলাম। ফিলিং সেলিব্রিটির ওভারডোজ এক্কেরে। অত:পর আমরা সবাই মিলে চললাম পার্কিং লাগোয়া বড়সড় ক্যাফেটায় কফি খেতে। এঁরা কল্পা ছিটকুল টাবো হয়ে ঢাংকর এসেছেন। এখান থেকে কাজা যাবেন, দুই রাত থাকবেন। কোথায় কী দেখা যায় জেনেটেনে নিলেন বটে কিন্তু সাথে গজগজ করলেন ট্যুর অপারেটার সব কিছু দেখাচ্ছে না। তা সেসব ওরা দেখায়ও না, ওইজন্যই তো আমি যতটা পারি সোলো ঘুরি।
নীচে নদীর কাছে ধ্যানগুহা - উপরে ডানদিকে পুরোন গোম্পাএঁরা কিছুতেই আমায় কফির দাম দিতে দিলেন না। এঁদের শারথীরা এসে হেঁকেডেকে সবাইকে নিয়ে গেল। আমি ধীরেসুস্থে বেরিয়ে তাশিকে খুঁজে নতুন গোম্পার দিকে এগোলাম। ওঁদের নতুন গোম্পায় নিতে রাজী নয় উদ্যোক্তারা। পুরোন গোম্পা যেমন পর্যটকে, লামায়, দোকানপাটে জমজমাট নতুন গোম্পা সেরকম নয়। একেবারেই চুপচাপ শান্ত নিরিবিলি আধুনিক স্থাপত্যের গোম্পা। মস্ত পার্কিং, প্রায় খালি। এর সামনের রাস্তা দিয়ে দুশো কি তিনশো মিটার হেঁটে গেলেই ঢাংকর লেকে যাবার ট্রেকিং রুট শুরু হয়। কিছু বাইকার আর একটা গাড়ি পার্কিঙে আছে।
নতুন গোম্পালেকযাত্রীরা এখানে গাড়ি রেখে লেকের দিকে যান। ঢাংকর লেকের রাস্তাটা জায়গায় জায়গায় খুব খাড়া শুনেছি। অঞ্জলী বলে দিয়েছিল খুব সকাল সকাল ব্যাগে বিস্কুট, লজেন্স আর জল নিয়ে খুব ধীরে ধীরে ওঠা শুরু করতে। মোটামুটি ৫-৬ ঘন্টা ধরে ওই ৫ কিমি উঠলে অসুবিধে হবে না। দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম দুপুর দেড়টায় এই জার্নিটা শুরু করা বোধহয় খুব একটা বুদ্ধির কাজ হবে না। এর মধ্যে আরেকটা জিমনি চেপে ৪টে অল্পবয়সী ছেলে এসে কোত্থেক এক লামাকে খুঁজে বের করে এনে লেকের রাস্তা জিজ্ঞাসা করায় উনি বারণ করলেন যেতে।
পাহাড়ের খাড়াই কিনারে ঝুলে পুরোন গোম্পাঢাংকর লেক ১৩৫৭৮ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এক অপরূপ সুন্দর গ্লেশিয়াল লেক। লেকের কাছাকাছি আবহাওয়া অনেকসময়ই দ্রুত খুব ঠান্ডা হয়ে যায়, জোরালো হাওয়া বয়, এছাড়া অক্সিজেন লেভেলও কম তাই এটাকে মডারেট ট্যু টাফ ট্রেক ধরা হয়। এমনিতে রেগুলার ট্রেকারদের দেড় ঘন্টা লাগে যেতে, নামতে ৪৫ মিনিট। কাজেই দুপুর দেড়টা এমন কিছু বেলা নয়। তবে লামাজির বক্তব্য হল লেকে এখন প্রায় জল নেই, একদম তলার দিকে অল্প কিছুটা আছে। তার চেয়ে মে জুন মাসে এসে গেলে লেককে তার পূর্ণ মহিমায় দেখা যাবে। আমার এটা বেশ মনে ধরল। যাবো না এখন।
নতুন গোম্পার মূল মন্দির বন্ধ ছিল। আমি প্রাঙ্গণে নদীর দিকে গিয়ে পুরোন গোম্পার ছবি তুলছিলাম। এখান থেকেও পিন আর স্পিতির সঙ্গম দেখা যায় তবে অনেকটা দূরে আর পুরো বাঁকটা দেখা যায়ও না। ইতোমধ্যে তাশি গিয়ে খুঁজেপেতে একজনকে ধরে আনল। তিনি দরজা খুলে আমাদের ঢুকতে দিলেন। আবার যাতে চুপিচুপি ছবি না তুলি তাই সঙ্গে সঙ্গে ঘুরলেন। তিনিও বললেন ঢাংকর লেকের জল কমে যাবার কথা। নতুন গোম্পায় শিক্ষার্থী লামারাই থাকেন মূলত। এখানেই তাঁদের শিক্ষা হয় আর উৎসব, বড় পুজো, কোন বড় লামা এলে তাঁর থেকে 'পরবচন' (উপদেশ ও শাস্ত্রব্যাখ্যা) শোনা ইত্যাদি পুরোন গোম্পায় হয়।
ওসেল রুমে ফিরতে ফিরতে বিকেল পাঁচটা। তাশির সাথে চন্দ্রতাল যাওয়া নিয়ে কথা বলি। আগেরদিন কাজা ট্যাক্সি ইউনিয়ানের সাথে কথা বলেছিলাম। সিজন প্রায় শেষ, এখন চন্দ্রতাল গিয়ে দিনের দিন ফিরতে ওরা ৪ X ৪ গাড়ির জন্য দশ হাজার চাইছে। সিজনে তেরো চোদ্দ হয়। তাশি বলে ও'ও দশই নেবে। যাবো পরশু, ওর সাথে গেলে যেন কালই দুপুরের মধ্যে জানিয়ে দিই। তাহলে ও আর অন্য বুকিং নেবে না। বৈশালি, তাশিজিরা বলেছিল গাটুক ভাইকেও চন্দ্রতালের গাড়ির কথা জিজ্ঞাসা করতে। তাশিকে বলি দুপুরের আগেই জানাবো।
কাল যাবো টাবো গোম্পা, HRTCর বাসে চেপে। হিমালয়ান অজন্তা বলে টাবোকে। দেখা যাক কালকের দিন আরো কী অপ্রত্যাশিত বিস্ময় নিয়ে আসে।

স্পিতি নদী - পিন- স্পিতি সঙ্গমের আগের বাঁকে
(চলবে)
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।