

অলংকরণ: রমিত
অবাধ্য যত দুঃস্বপ্নরা
অমিত চট্টোপাধ্যায়
আমি ঋতুর গায়ে চক দিয়ে সীমানা এঁকে দিলাম।
ন্যূনতম এক্তিয়ারটা সবারই খেয়াল রাখা দরকার!
বিচ্ছেদ চিহ্ন বুঝে নিয়ে ফিরে গেছে ক্লান্ত রাত।
দিনের শিফট শুরু হলেও ভোরের দেখা মেলেনি।
আমার রক্তচক্ষু, অযুত আস্ফালন ব্যর্থ হবে নাকি?
ও কি স্বীকার করে না আমার খবরদারির মহিমা!
আমি এক ফুঁয়ে গলিয়ে দিতে পারি মেরুর বরফ,
বদলে দিতে পারি ছুটতে থাকা নদীর দুর্বার গতিপথ!
অথচ তুচ্ছ অপদার্থগুলো আমার গুরুত্ব অস্বীকার করে!
আমি নাকি একটা সামান্য পাখির ডাক বদলাতে পারি না।
বন্ধ করতে পারি না ঘাসের বুকে শিশিরের দুষ্টু মজুতদারি।
আমার ভেলকি দেখানো সাদা হাত ক্রমশ নীল হয়ে ওঠে,
দুঃস্বপ্ন দেখি রক্ত নদীতে প্লাবিত, প্রাসাদের সুউচ্চ মিনার!
একটু ঘুমের জন্যে হয়তো আজ সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে পারি।
সর্বক্ষণ নজর রাখা চোখের পাতারা তবু স্থির, নিশ্চল।
বুঝতে পারি হম্বিতম্বির ঝাঁজ অনেকেই উপেক্ষা করছে।
পিঠের দগদগে চাবুকের দাগকে ভাবছে বিজয়-চিহ্ন!
মাটির গভীর থেকে মাঝে মাঝে বেয়াড়া শব্দ ভেসে আসে।
জানালায় চোখ রাখি, বার্নামের বনটা উঠে আসছে না তো!