এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • উনত্রিশে শ্রাবণ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ আগস্ট ২০২৬ | ৭২ বার পঠিত
  • আজ বাইশে শ্রাবণ।

    অম্বরের ঘনঘটায় প্রকৃতি কান্নাভেজা। ‘মেঘমল্লারে সারা দিনমান শুনি ঝর্ণার গান ....শুনি ঝর্ণার গান’।
    বাড়ির আর কেউ রবীন্দ্রনাথ টবিন্দ্রনাথ নিয়ে তেমন মাথা না ঘামালেও কথাকলির বছরের এই দুটো দিন — ওই বৈশাখের পঁচিশে আর এই শ্রাবণের বাইশে কেমন যেন ‘ আমার মন কেমন করে....কে জানে কাহার তরে.... কে জানে কে জানে কে জানে..... ’

    কোয়ার্টারগুলোর গা ঘেঁসে রেললাইন গেছে। মাঝরাতে যখন গাড়ি যায় হুইশল বাজিয়ে ঘরদোর কাঁপতে থাকে। অভ্যস্ত বাসিন্দারা একটানা ঘুমোয়। অনভ্যস্ত পরিজন কেউ থাকলে ঘুম চটে যায় বেশ কয়েকবার। কথাকলির যেমন কয়েকবার গেল। জামতাড়া থেকে এখানে এসেছে সপ্তাখানেক আগে।দিদির বিয়ে হয়েছে মাস চারেক আগে। দিদি কুসুমঅলি তার চেয়ে অনেকটাই বড়। প্রায় আট বছরের তফাত। কুসুমঅলির বর রৌনক বসু মোটা মাইনের চাকরি করে বলে শুনেছে কথাকলি কোন এক সফটওয়্যার কোম্পানিতে। দোহারা চেহারা। হাইট ভাল। চালাক চোখমুখ। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। সবসময়ে ফিটফাট থাকে। বত্রিশ তেত্রিশ বছর বয়েস হবে। আর কথাকলির দিদির বয়েস চব্বিশ।

    বয়সে আট বছরের ছোট হলে কি হবে কথাকলি দিদিকে তুই বলে। তিনবছর বয়েস পর্যন্ত দিদির কোলে চড়ে ঘুরেছে। মা তখন সংসারের কাজ নিয়ে দিবারাত্র ব্যস্ত।
    দিদির কোল থেকে নেমে পুরোপুরি মাটিতে দাঁড়াল সাড়ে তিন বছর বয়সে। তার কিছুদিন পরে প্রথম ভয় এল।
    ঘরে কেউ ছিল না তখন। মা দিদি কেউ না। খাটের ওপর বসে আপনমনে খেলছিল। একটা ঝুমঝুমি নিয়ে একবার বাজাচ্ছিল, একবার গালে পুরে চুষছিল। এই সময়ে শঙ্কুমামা ঘরে ঢুকল। পঁয়ত্রিশ বছর বয়েস।
    চোখ মুখে কেমন যেন ক্ষিধে মাখানো। ক্ষুদে কথাকলিকে কোলে তুলে নিয়েছিল ...... মাত্র সাড়ে তিন বছরের কথাকলি। দুহাত লোভে ভরা, ঠোঁট দুটো উত্তাপে শুকনো। কি জানি কি কারণে কথাকলি ভীষণ ভয় পেল। জীবনে সম্ভবত: প্রথম সত্যিকারের ভয়। সৌভাগ্য সঙ্গে ছিল যে, তার দিদি কুসুমঅলি নাচতে নাচতে ঘরে এসে ঢুকল। শঙ্কুমামা কথাকলিকে ধপ করে খাটে বসিয়ে দিল। দাঁত বার করে একগাল হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কথাকলি হঠাৎ চিৎকার করে কেঁদে উঠল। কুসুমঅলি কিছু বুঝল না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নাচ প্র্যাকটিস করতে লাগল ..... ‘ মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো..... দোলে মন দোলে অকারণ হরষে.... ’

    কথাকলি যখন তেরো তখন আর একবার চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিল। এবারে ছিল বন্ধুর দাদা ইমনকল্যান। আচমকা জড়িয়ে ধরেছিল অঙ্কিতাদের ফাঁকা সিঁড়িতে। ঠোঁটে ঠোঁট বসাবার চেষ্টা করেছিল।কথাকলি প্রাণপণ চেষ্টায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে পালায়। অঙ্কিতাকে এসব নিয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু তারপর থেকে অঙ্কিতাদের বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দিল। প্রায় একবছর যায়নি ওদের বাড়ি। অঙ্কিতা তার এম বি এ পড়া দাদার ধরণ সম্পর্কে ভালরকমই ওয়াকিবহাল ছিল। ব্যাপারটা সঠিক আঁচ করতে পেরেছিল। তাই কথাকলিকে ঘাঁটিয়ে আসল কথাটা বার করতে চায়নি প্রবল লজ্জা ও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হবার ভয়ে। কথাকলির দেওয়া ঠুনকো অজুহাতই মন না চাইলেও মেনে নিয়েছিল।

    এর পরেও সমগ্র পুরুষ জাতির ওপর বিশ্বাস হারায়নি কথাকলি।পুরুষ বিবমিষা এলেই তার বাবার মুখটা মনে পড়ত। বাবাও তো পুরুষ। কি সদাশিব আচার আচরণ। সংসারে থেকেও যেন এক বিবাগী সংসারী। বর্ণালী আন্টি বলে পুরুষরা সব একরকম। মেয়ের গন্ধে যেন সব নাল ঝোল গড়াচ্ছে। কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। কথাকলির কিন্তু সেরকম মনে হয় না।
    কেউ কেউ তো বলে, ‘ কল্যান হোক কল্যানী.... ’

    সেইসময়ে আবার একটা ধাক্কা খেল। সে যখন ক্লাস টেনে পড়ে অঙ্কে কাঁচা ছিল বলে সৌম্যব্রত স্যারকে রাখা হয়েছিল। বাড়িতে এসে পড়াতেন। সৌম্যব্রত স্যার একটা নাম করা স্কুলে পড়ান। তার মেয়ের বয়স বারো তের হবে। ক্লাস এইটে পড়ে। অঙ্কিতা শুনেছে সে খুব ভাল ছাত্রী। তার মা-ও স্কুল শিক্ষিকা।

    সৌম্যব্রত স্যার খুব ভাল অঙ্ক করান। তার একটা অভ্যাস হল চেয়ারে বসেই টেবিলের ওপরে তার স্মার্টফোনটা দাঁড় করিয়ে রাখা। ফোনটা খাড়া করে রাখার একটা ছোট স্ট্যান্ড স্যার সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন। কথাকলি বুঝতে পারত ভিডিও অন করা আছে। স্যার নিজেই একদিন বললেন, ‘ একটা প্রোজেক্ট চলছে আমাদের.... এডুকেশনাল কারিকুলামের ওপর। সে জন্য কিছু প্র্যাকটিক্যাল এডুকেশান ওরিয়েন্টেড ভিডিও ক্লিপিং চাই।সে জন্যই আর কি.... এগুলো পরে এডিট করে নেওয়া হবে। কমপ্লিট ভিডিওটা সুইডেনে ইন্টারন্যাশনাল সেমিনারে যাবে।’
    কথাকলির মনে প্রবল উৎসাহের তরঙ্গ উঠল। সে ফোনের ক্যামেরায় যতটা পারা যায় ধরা দিতে লাগল মহা আগ্রহে। সেটাই হল কাল।

    ডিপন্যুড নামে একটা অ্যাপ আছে সেটা জানা ছিল না কথাকলির। সৌম্যব্রত স্যারের কথাকলির অঙ্ক কষার ভিডিও রেকর্ডিং-এর উদ্দেশ্য ছিল কথাকলির জামাকাপড়ে ঢাকা কিশোরী শরীরকে ডিজিটাল কৌশলে উন্মোচিত করে ফেলা। কথাকলি স্যারের মেয়ে শ্রীজার থেকে মাত্র আড়াই বছরের বড়।
    সেদিন সৌম্যব্রত স্যার পড়াতে এসে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। মাথা নীচু করে কি যেন ভাবছিলেন এবং মাঝে মাঝে মুখ তুলে কথাকলির দিকে দেখছিলেন। কথাকলি কি করবে ভেবে না পেয়ে একটা বই খুলে পাতা নাড়াচাড়া করছিল।
    সৌম্যব্রতবাবু হঠাৎ বললেন, ‘কলি তোমায় তো এবার একটা ডিসিশান নিতে হবে।’
    কথাকলি অবাক হয়ে তার স্যারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ কি ব্যাপারে স্যার ? ’
    স্যার তার মোবাইলের কি প্যাড আঙুল দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে বললেন, ‘ না, মানে তুমি যদি আমার কথা শুনে চল তা হলে কোন চিন্তা নেই, কিন্তু অবাধ্য হলে কিন্তু একটু ঝামেলায় পড়বে।’ সৌম্যব্রতবাবু মোবাইল নাড়াচাড়া করতেই ব্যস্ত থাকলেন। কথাকলি কিছু একটা বিপদের গন্ধ পাচ্ছিল। সে অবাক চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল তার স্যারের দিকে। শুধু একটা শব্দ বেরিয়ে এল তার মুখ দিয়ে — ‘ মানে ? ’
    — ‘ না, মানে এই ছবিগুলো যদি নেটে ছড়িয়ে দিই তোমার বেঁচে থাকাটাই খুব কঠিন হয়ে যাবে এবং আমি সেটা মোটেই চাই না। আমি তোমায় সত্যিই খুব ভালবাসি। আমি চাই তুমি আমার কথা শুনে চল।’
    কথাকলি লক্ষ্য করল স্যারের চোখমুখ কেমন যেন হয়ে গেছে।তার ভয় করতে লাগল। স্যার কি বলতে চাইছে কিছুই বুঝতে পারছিল না। সে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। দরজার দিকে পা বাড়াল। পেছন থেকে স্যার জোরাল গলায় বললেন, ‘দাঁড়াও..... শোন .... ’ কথাকলি কি জানি কেন শিউরে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। সৌম্যব্রতবাবু বলতে লাগলেন, ‘ যেতে চাইলে যেও, কিন্তু এই ছবিগুলো দেখে যাও।’ তারপর আদেশের সুরে বললেন, ‘এস, এদিকে এস।’
    কথাকলি ভয়ে হোক, কৌতূহলে হোক সম্মোহিত হয়ে গেল যেন।
    সৌম্যব্রতবাবু মোবাইলে ডিপন্যুড অ্যাপ খুলে, স্ক্রল করে একের পর এক কথাকলির মরফড্ পোশাকহীন ছবি দেখাতে লাগলেন তার মেয়ের বয়সী ছাত্রী কথাকলিকে। কথাকলি শিউরে উঠে দেখল সবকটা বিবস্ত্র ছবিই তার নিজের। সে ভেবে পেল না এ কি করে হল ? ভয়ে বিস্ময়ে বিভ্রান্তিতে সে পাথর হয়ে গেল। সে কিছু শুনতে পাচ্ছিল না, বুঝতে পারছিল না, ভাবতেও পারছিল না। এত চাপ কি নিতে পারে মাত্র ষোল বছরের এক বালিকার মাথা। ধোঁয়ায় ঢাকা কোন দূর কোণ থেকে যেন ভেসে এল তার অঙ্কের স্যারের গলা— যদি আমার কথা না শোন তাহলে এগুলো ভাইরাল করে দিতে এক মিনিটও লাগবে না।

    এই প্রচন্ড ধাক্কায় বেসামাল কথাকলির ঘোর কাটাতে একটু সময় লেগেছিল, কিন্তু স্যারের কথা সে শোনেনি। ছুটে বেরিয়ে গিয়েছিল ঘর থেকে বুকের ভেতর উথলে ওঠা কান্না চেপে।
    না, মাকে এসব কথা জানাতে পারেনি কলি। বাবাকে তো নয়ই।শুধু মাথা ঠান্ডা রেখে আরুষকে একটা টেক্সট মেসেজ করেছিল দশ মিনিটের মধ্যে। ami khub bipade . Tor help chai . khub taratari call back kor.

    আরুষ তেমন কেউ কেটা নয়। একটা মোবাইল স্টোরে কাজ করে। সেটাও একটা মলের মধ্যে। গুণের মধ্যে আছে অসম্ভব সাহস আর বিশাল সাঙ্গ পাঙ্গ। কথাকলির থেকে চার বছরের বড়। কথাকলিকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসে। কিন্তু কোন চাহিদা নেই। এ কেমন ছেলে বোঝা ভার।কি করে কোথায় যেন পরিচিত হয়েছিল। বোধহয় ওই শপিং মলে।
    ‘ জেন প্রেম চিরঋণী আপনার হরষে .....’

    আজ বাইশে শ্রাবণ।
    ঝরঝর ঝরিছে বারিধারা
    হায় পথবাসী, হায় গতিহীন, হায় গৃহহারা .......
    আকাশ কাঁদছে, বাতাস কাঁদছে।

    বহুদূর থেকে ট্রেনের হর্নের শব্দ আসছে ভঁ...অ.....অ...অ। হাওড়ার দিকে ছুটে আসছে কোন দূরপাল্লার গাড়ি। নিশুত রাতের স্তব্ধতা নাড়া খেল, রাতজাগা কটা ‘ নাম না জানা পাখি ঘুমহারা ....’ গাছের ডালে কিচির মিচির করে উঠল। রেললাইনে নানা অনুভূতি, হৃদয় দোলানো হরেক স্মৃতি লেগে থাকে। রাতদুপুরে ঝমঝমাঝম ছুটন্ত রেলগাড়ির শব্দ ওঠে। দোলা খায় নিশীথবেলার বাতাস। ‘.... নিশীথে কি কয়ে গেল মনে .... কি জানি .... ‘।লাইন ঘেঁসা কোয়ার্টারের আঁধার ঘরে কেউ ঘুমিয়ে কাদা নিয়মিত অভ্যাসে। কেউ কেউ উসখুস করে নানা আবেগে, নানা ভাবনায়।

    কথাকলি এই মাঝরাতে সোজা সাপটা ঘুমের কোলে। পাশের ঘরে তার জামাইবাবু রৌনক তার দিদি কুসুমঅলির শরীরি নৌকোয় উথাল পাথাল সওয়ার। আপ্লুত জোড়া শরীরে শরীর দ্রবীভূত আকন্ঠ আদিম তাপে।রেলগাড়ি আসছে কোন দূরের মাঠ জঙ্গল কাঁপিয়ে ঝমঝম করতে করতে।
    ‘ ... ওরা তাপসিনী ধরণীর শ্যামশিখা হোমানল ... ‘

    কথাকলি দেখতে পেল অন্ধকারে চিতাবাঘের চোখ জ্বলছে অন্ধকারে। সামনে সুস্বাদু খাবারের গন্ধ। কথাকলি শুধু আতঙ্কে নয়, বিস্ময়ে পাথর হয়ে গেল। গাছ, পাহাড়, বাড়ি, নদী, অন্ধকার, রেলগাড়ি ...... না কোথাও লুকোবার জায়গা ছিল না। তপ্ত মরুভূমির নিশীথ রাতের শীতল হাওয়া চিবিয়ে খেতে লাগল কথাকলির শরীর। খাদক তার জামাইবাবু রৌনক সেন। এটা জঙ্গল নয়। মানুষের আস্তানা। জঙ্গলে আক্রান্ত হরিণ হয়ত বা পালাবার সুযোগ পায় বাঘের থাবা এড়িয়ে। মানুষের পাড়ায় তা হয় না। রৌনক শিরায় শিরায়, মাংসে মজ্জায় মিশিয়ে নিতে চাইল তার শ্যালিকাকে।অন্ধকার লোহার পাতে রেলগাড়ির চাকা ঘুরছে দুরন্ত তালে .... ঝমঝম ঝমঝম ......।

    ঘোর অন্ধকারে বেলুনের মতো ভেসে বেড়াতে লাগল শঙ্কুমামা, ইমনকল্যান আর সৌম্যব্রত স্যারের মুখ। কথাকলি তলিয়ে যেতে লাগল একটু একটু করে।

    এখানে টাউনে বিশাল মল হয়েছে একটা অনেক দিনের পুরনো সিনেমা হল ভেঙে। চারতলা মল। দিনরাত জমজমাট। অন্য সব মলের মতোই কেনাকাটার চেয়ে অলস রঙীন ঘোরাফেরাই বেশি।
    কথাকলি আগের রাতের ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল।কথা বলার মতো অবস্থায় ছিল না। সে দিদি জামাইবাবুর কথা থেকে বুঝতে পারল আজ বিকেলে ওরা মলে যাবে ঘোরাঘুরি করতে। টুকটাক কেনাকাটাও হবে হয়ত এবং ফর্মূলামাফিক একটু খাওয়াদাওয়া। কথাকলি হাতের ওপর মাথা রেখে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিল হাতের ভিতর মুখ গুঁজে। অলি দুবার জিজ্ঞেস করল, ‘ কিরে, কি হল ..... শুয়ে আছিস এভাবে ? শরীর খারাপ নাকি ? ’
    কথাকলি মুখ না তুলেই উত্তর দিল, ‘ না .... কিছু হয়নি। ঠিক আছে ... ’
    — ‘ তালে কি রাত্রে ঘুম হয়নি ? যা গরম পড়েছে .... ‘ অলি অনুসন্ধান চালায়।
    — ‘ না না ওসব কিছু না .... ঠিক আছে .... ’, কথাকলি আবার একটা জবাব দেয়।
    —- ‘ কি ঠিক আছে,ঠিক আছে বলছিস ..... ‘ কুসুমঅলি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলে, ‘ আমরা বিকেলে উত্তমাশা মার্টে যাব। এখনও যাওয়া হয়নি আমাদের।পাঁচটার মধ্যে তৈরি হয়ে নিস। আজ রবিবার। রবিবার এ মলটা আটটার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। ’
    কথাকলি মুখ না তুলেই জবাব দিল, ‘ তোরা যা। আমি যাব না।’
    — ‘সেকি রে ! কি হল ! একা একা ঘরে বসে কি করবি ? তুইও চল .... ভাল লাগবে। তোকে একা রেখে যেতে পারি ? কত আজেবাজে বদমাশ লোক আছে এদিকে ওদিকে.....’
    রৌনক এইসময়ে ঘরে ঢুকে বলল, ‘ কি হল তোর ? চল আমাদের সঙ্গে। খুব ভাল লাগবে। খুব সুন্দর লাগবে। মনের ভাবনা চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দে। বিন্দাস হয়ে যা একেবারে। তাছাড়া কোয়ার্টারে একা একা থাকা মোটেই সেফ না।’ এই সময়ে কথাকলি আর সহ্য করতে না পেরে ঝট করে মুখ তুলে রৌনকের দিকে তাকাল। আগুনে চোখে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। রৌনক নির্বিকারভাবে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। অলি তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সন্না দিয়ে ভ্রু প্লাক করছে। সে কিছুই দেখতে পেল না।
    নানারকম চিন্তা করে কথাকলি ওদের সঙ্গে মলে যাওয়া ঠিক করল। কারণ একা একা এতক্ষণ বদ্ধ ঘরে গোপন মানসিক পীড়ন সহ্য করে বসে থাকা তার পক্ষে অসম্ভব।
    উত্তমাশা এক পেল্লায় আধুনিক বাজার। চারতলা রাজসিক হর্ম্য। আলোয় ঝলমল করছে।
    আজকের দিনে স্টিরিওয় বাজছে গমগম করে ‘ .... আলোয় আলোকময় করে হে দাও হে আলোর আলো ... ’
    কলকাতার যে কোন মলকে হার মানাবে। কুসুমঅলি একটা গারমেন্ট স্টোরের বাইরে শো কেসে লেহেঙ্গা, চুড়িদার এবং আরও নানারকম পোশাক দেখতে লাগল লোলুপ চোখে। কথাকে ডেকে বলল, ‘ দেখ দেখ কলি ..... কি সুন্দর না ? ’
    দোকানের ভেতর থেকে একজন বেরিয়ে এসে বলল, ‘ ভেতরে আসুন না ম্যাডাম, আমাদের প্রচুর স্টক আছে .....’
    কুসুমঅলি বলল, ‘ কলি চল ভেতরে যাই। ডিজাইনগুলো দারুন। দেখি তো একটু। তোর জন্যে একটা সালোয়ার কুর্তি কেনার ইচ্ছে আছে।’
    অলি জোর গলায় বলে, ‘ না না আমার জন্য কিছু কিনতে হবে না। আমি কালকেই জামতাড়া চলে যাব।’
    অলি বিপনির জৌলুসে এত উত্তেজিত ছিল যে কথাকলির কথা ঠি ক কানে ঢুকল না তার। যাই হোক সে দিদির সঙ্গে দোকানের ভেতরে ঢুকল। আনমনা হয়ে রইল সারাক্ষণ। কাল রাত্রে যেটা ঘটে গেছে সেটা সত্যিই ঘটেছে, নাকি সে কোন দু:স্বপ্ন দেখেছিল তা নিয়ে বারবার ধাঁধার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
    কলির দিদির বর রৌনক স্টোরের বাইরে লবিতে রেলিং-এ হাত রেখে নীচের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটা তিনতলা। অজস্র লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেনাকাটা করছে ফুরফুরে মেজাজে। রৌনক বা কথাকলির মতো মনে একটা ভাবনার জটিল কুন্ডলী বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে না।

    সেই সেবারে জামতাড়াতে আরুষ খুব সোজা সরল রাস্তায় সৌম্যব্রত স্যারের কেসটা মিটিয়ে দিয়েছিল। একটু সুবিধে অবশ্য ছিল — আরুষের অগুন্তি জিগরি দোস্তের মধ্যে একজনের কাকা ছিল লালবাজারের সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টের মেধাবান অফিসার। অঙ্কের স্যারকে জালে তুলতে তাকে বিশেষ কঠিন কোন অঙ্ক কষতে হয়নি। শিক্ষক মশায় তার উন্মদ আবেশের মত্ততায় তার ডিজিটাল নাড়াঘাটায় নানান টেকনিক্যাল ফাঁক বিছিয়ে রেখেছিলেন। সাইবার ক্রাইম অফিসার অনুজ শ্রীবাস্তবের কাজ হাসিল করতে বিশেষ কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। সৌম্যব্রত স্যার এখন গরাদের আড়ালে মশা মারছেন। প্লেটনিক লাভ বলে কি কিছু হয় ? আরুষকে ঘাঁটলে মনে হয় — হয়। সেই .... না দেখিবে তারে, পরশিবে না গো .....। না না আরুষের ওসব জানা নেই। সে শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথের নামটুকু হয়ত শুনেছে। সে একজন মোবাইল মেকানিক মাত্র।

    পরদিন সকালেই কথাকলি বলল, ‘ আমি আজ দুপুরের ট্রেনেই চলে যাব।’
    কুসুমঅলি অবাক হয়ে বলল, ‘ কোথায় ?’
    — ‘ জামতাড়ায় ’
    — ‘ তার মানে ? হঠাৎ এ খেয়াল চাপল কেন ? এখানে কি অসুবিধে হচ্ছে তোর ? তাছাড়া আজ তো আমরা কেউই তোর সঙ্গে যেতে পারব না।’ অলি বলে।
    — ‘ দরকার নেই। আমি একাই চলে যেতে পারব।’
    — ‘ তুই যেতে পারলেও আমরা তো এভাবে ছাড়তে পারি না। কিছু হয়ে গেলে তখন..... ’
    — ‘ কিচ্ছু হবে না।চিন্তা করিসনি। হলেও তোদের কেউ দোষ দেবে না। আমি বাবাকে জানিয়েই এখান থেকে বেরোব।’ কথাকলির গলায় দৃঢ়তার সুর।
    — ‘ এ..ই শোন শোন .... তোর কি হয়েছে বল তো ? কাল থেকেই কি রকম যেন দেখছি। শোন কথা, আমার কাছে কিছু লুকোসনি। আমি তোর থেকে বয়সে অনেক বড়। না বললে বুঝব কি করে ?’
    কথা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। আস্তে আস্তে জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়ায়। রৌনক বাড়ি নেই। সে অফিসে গেছে। দোনামোনা করছিল অফিসে যাবে কি যাবে না। শেষ পর্যন্ত গেল। কাজের চাপ আছে। যেতে বাধ্য হল। সারাক্ষণ কেমন যেন অস্থির ভাব।
    কথাকলি জানলা দিয়ে বাইরের রেললাইন, দূরের কারশেড দেখতে লাগল। বাইরের দিকে চোখ রেখেই যেন আনমনে বলল, ‘ সব কথা কি আর বলা যায় ? বললেও কি কিছু করা যায় ? তাতে দুটো মানুষের মধ্যে ফাটল ধরে শুধু। নষ্ট হয় তিনটে জীবন।’
    কুসুমঅলি তার হাঁটুর বয়সী বোনের কথা শুনে হাঁ হয়ে যায়।তাড়াতাড়ি তার কাছে এগিয়ে যায়। ‘ এ..ই শোন শোন কি ব্যাপার বল তো ? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।’
    — ‘ বুঝে কি লাভ ? মিছিমিছি কষ্ট পেয়ে লাভ আছে ? এই পৃথিবীতে সবকিছু কেন আমাকেই বুঝতে হয় .... বারবার। কই আর তো কারো জীবনে এসব ঘটে না।’
    — ‘ বল বল শিগ্গীর বল। আমি আর টেনশান নিতে পারছি না ...’
    অলি উৎকন্ঠায় অস্থির হয়ে ওঠে।
    কথাকলি তার দিদির দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ তোর সৌম্যব্রত স্যারের কথা মনে আছে ?’
    — ‘হ্যাঁ হ্যাঁ ..... মনে থাকবে না কেন ? ওরকম লোকের নাম মনে আনতেও ঘেন্না লাগে। তাতে কি হল ? ‘
    — ‘ যদি তোর সংসারেও একটা সৌম্যব্রত থাকে .... তালে ?’ কথাকলি অলির দিকে তাকিয়ে থাকে।
    — ‘ তার মানে ? সে আবার কি ! ‘
    — ‘ মানে খুব সোজা। আগের লোকগুলো যেটা ঘটাতে পারেনি, এবার সরাসরি সেটাই ঘটে গেল... রুখতে পারলাম না। জোর জবরদস্তি.... তুই বোধহয় বেহুঁশ হয়ে ঘুমোচ্ছিলি স্লিপিং পিল খেয়ে। ’
    কুসুমঅলি কোন কথা বলতে পারে না। বিস্ময়ে আশংকায় পাথরের মতো শক্ত হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে কলির কঠিন ভাবলেশহীন মুখের দিকে।
    ওধারের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের গা দিয়ে দুরন্ত গতিতে শতাব্দী এক্সপ্রেস বেরিয়ে গেল হাওড়ার দিকে।
    ‘ .... গগনতল গিয়েছে মেঘে ভরি ..... বাদলজল পড়িছে ঝরিঝরি ....’

    ধাতস্থ হতে মিনিট দেড়েক সময় লাগল কুসুমঅলির। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আক্রমণই আত্মরক্ষার শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে ঠি ক করে নিল। সে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল যে, কলির কথা ঠিক ভুল যাই হোক সে তার স্বামীকেই ডিফেন্ড করবে।
    কথাকলির দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে চুলের বিনুনি খুলতে লাগল নির্বিকারভাবে।
    চুলের বিনুনি খুলতে খুলতে নির্বিকারভাবে বলল, ‘ আমাকে কি তুই এতই বোকা ভাবিস ! একহাতে কখনও তালি বাজে ? রৌনক নিজে থেকে এ কাজ করতে পারে এটা আমি নিজের চোখে দেখলেও বিশ্বাস করব না।’

    কথাকলি একাই বেরিয়ে গেল একটু পরে দুপুরের খাওয়া না খেয়েই। একটা ট্রলি ব্যাগ টানতে টানতে বেরিয়ে গেল দৃঢ়সংকল্প ভঙ্গীতে। বেরোবার সময় আট বছরের বড় দিদিকে আশীর্বাদ করার ভঙ্গীতে বলে গেল, ‘ ভাল থাকিস, সুখে থাকিস .... ’

    কুসুমঅলি রৌনককে একটা কথাও বলল না। একদম স্বাভাবিকভাবে সংসার করতে লাগল। মাঝে মাঝে বাড়িতে ফোন করে কথাকলির খবরও নিতে লাগল। বিছানাতেও রৌনকের পরিতৃপ্তির ত্রুটি রাখল না। মাত্র চারমাস বিয়ে হয়েছে। মনের মধ্যে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে অঙ্গারের টুকরো। মিলনশয্যাতেও যেন ছড়িয়ে থাকে আগুন মাখা কয়লা, কোমল নবনীত কুসুমদল নয়।
    কুসুমঅলি বিয়ের পরই জানতে পেরেছে রৌনকের রক্তচাপজনিত সমস্যা আছে। প্রথম রাতেই রৌনক তাকে এ তথ্য জানায়। অতিরিক্ত উত্তেজনা তার হৃৎপিন্ডের পক্ষে ক্ষতিকর।

    সেদিন কথাকলির প্ররোচনায় উপর্যুপরি মিলনে প্রবিষ্ট হল রৌনক। বোধহয় অতি সক্ষম পৌরুষের দার্ঢ্য প্রমাণের তাগিদে। ত্রুটিযুক্ত হৃদযন্ত্র অত চাপ নিতে পারেনি। মিলনরত অবস্থাতেই রৌনকের হৃদযন্ত্র তার প্রক্রিয়াকর্ম থেকে আচমকা অবসর গ্রহণ করে। তখন রাত্রি প্রায় শেষ হতে চলেছে। কুসুমঅলি একেবারে স্বাভাবিকভাবে বিছানা থেকে নেমে গিয়ে শরীরে পোশাক জড়াতে থাকে। সে জানে তার কাজ হয়েছে সারা।
    ‘ ডাকিছে মেঘ হাঁকিছে হাওয়া
    সময় গেলে হবে না যাওয়া
    নিবিড় নিশা নিকষ ঘন কালো ’

    বাইশে শ্রাবণ ওই আকাশপারে কোথায় উধাও হয়ে গেল .....

    যথারীতি দিনের আলো ফুটল, ঠিক যেন বাদল দিনের কদম ফুল।বাইশে শ্রাবণ হয়ে গেল উনত্রিশে।

    ঘন নিশায় ঢাকা কষ্টের কাঁটাবনে ভরা হৃদয়ের অতল গহন থেকে আলোয় ভরা পৃথিবীর দিকে একটা হাত বাড়িয়ে কুসুমঅলি বলল, ‘ দেখ কলি আমি তোর হয়ে বদলা নিলাম... ’

    **************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন